বিষয়বস্তুতে চলুন

হাসান মশহুদ চৌধুরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হাসান মশহুদ চৌধুরী

এডব্লিউসি, পিএসসি
জন্ম৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮
সিলেট
আনুগত্য বাংলাদেশ
সেবা/শাখাপাকিস্তান পাকিস্তান সেনাবাহিনী
বাংলাদেশ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
কার্যকাল১৯৬৯ - ২০০৫
পদমর্যাদা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
ইউনিটফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্ট
নেতৃত্বসমূহ১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট
৮১ পদাতিক ব্রিগেড
৪৪ পদাতিক ব্রিগেড
২০৩ পদাতিক ব্রিগেড
১১ পদাতিক ডিভিশন
ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ
সেনাবাহিনী প্রধান

লেঃ জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী (জন্মঃ ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮) ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১তম সেনাপ্রধান। তিনি ১৬ জুন ২০০২ থেকে ১৫ জুন ২০০৫ পর্যন্ত সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জেনারেল এম হারুন-অর-রশিদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।[১][২][৩][৪][৫][৬] তিনি সামরিক চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর মন্ত্রী পদমর্যাদায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জন্ম এবং শিক্ষা

[সম্পাদনা]

হাসান মশহুদ চৌধুরীর জন্ম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেট জেলার জেলা শহরে ১৯৪৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, তার পৈতৃক নিবাস গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের কানিশাইল গ্রামে। পড়াশোনা করেছেন সিলেটের গভর্নমেন্ট হাই স্কুল এবং নটর ডেম কলেজ, ঢাকাতে।

সামরিক জীবন

[সম্পাদনা]

মশহুদ ১৯৬৭ সালের ১৮ই মে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ৪০তম লং কোর্সে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন; প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৬৯ সালের ১৯শে এপ্রিল ১৮তম ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্টে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন পান, তিনি ১৯৬৯ সালের নভেম্বরে লেফটেন্যান্ট এবং '৭০ সালের আগস্টে ক্যাপ্টেন পদবীতে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এবং শেষ হওয়ার পরে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন, অন্যান্য বাঙালি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তৎকালীন ক্যাপ্টেন মশহুদকেও অন্তরীন রাখা হয়। মশহুদ ১৯৭২ সাল জুড়ে এবং '৭৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন এবং মুক্তি পেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে চলে আসেন, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন, তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭২ পদাতিক ব্রিগেডের ১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (ব্যাটেলিয়ন)-এর ডি কোম্পানিতে নিয়োগ দেওয়া হয়, ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি এখানে যোগ দেন, ব্যাটেলিয়নটি তখন সৈয়দপুর সেনানিবাসে ছিলো। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে তিনি ঢাকার ৪৬ পদাতিক ব্রিগেডে ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে নিয়োগ পান, এর পূর্বে তিনি যশোর সেনানিবাসে ছিলেন; '৭৭ সালের মার্চে তিনি ১৭ ইস্ট বেঙ্গলের স্থানাপন্ন অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ পান, এই ইউনিট তখন জয়দেবপুরে; এরপর তাকে ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল স্টাফ অফিসার - ১ (জিএসও -১) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়; তিনি ১৯৭৯ সালে মিরপুরস্থ স্টাফ কলেজে স্টাফ কোর্স করার জন্য আসেন, স্টাফ কোর্স শেষ করার পর তিনি ঐ কলেজেই স্বল্প সময়ের জন্য ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮১ সালের শেষের দিকে তিনি ১৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের (তখন আলীকদম সেনানিবাস, ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের অধীন, ২৪ পদাতিক ডিভিশন) অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ পান; এরপর '৮২ সালের জুলাই মাসে তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে জিএসও (জেনারেল স্টাফ অফিসার) - ১ (প্রশিক্ষণ) হিসেবে নিয়োগ পান; '৮৪ সালের আগস্টে তিনি ৩৫ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক হন। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি ঢাকার সাভারে একটি ব্রিগেডের (৮১ পদাতিক ব্রিগেড) স্থানাপন্ন কমান্ডার হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স বা পিএসএফ (বর্তমানে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ) এ পরিচালক হিসেবে কাজ পান এবং ১৯৮৮ সালে তিনি কুমিল্লার ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের ৪৪ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮৯ সালের মে মাসে তিনি স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিক্স এর কমান্ড্যান্ট নিযুক্ত হন; ১৯৯১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের 'ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি ওয়ার কলেজ'-এ ওয়ার কোর্স করতে যান, এর আগে ১৯৯০ সালে তিনি উপসাগরীয় যুদ্ধে বাংলাদেশী কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি ২৪ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে খাগড়াছড়িতে একটি ব্রিগেডের (২০৩ পদাতিক ব্রিগেড) কমান্ডার হন, এরপর তিনি মিরপুর স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৯৫-১৯৯৬) এবং ১৯৯৬ সালের জুন মাসে তিনি ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) নিযুক্ত হন; এরপর তিনি সেনাসদরে সিজিএস (চীফ অব জেনারেল স্টাফ) (১৯৯৭-২০০০), ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট (২০০০) এবং ২০০১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, সেনাপ্রধান হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন। তাকে লেঃ জেনারেল এবং সেনাপ্রধান করা হয় ২০০২ সালের ১৬ই জুন, এ-দিন লেঃ জেনারেল এম হারুন-অর-রশিদ অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে গমন করেন।[৭]

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

মশহুদের স্ত্রীর নাম জরনীগার যাকে তিনি ১৯৭৭ সালের ৪ আগস্ট বিয়ে করেন, তাদের দুই পুত্র সন্তান আছে। মশহুদ নানা রঙের দিনগুলি নামের একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ লিখেছেন।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "Up close with Hasan Mashhud Chowdhury"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৯।
  2. ↑ "১/১১ এর খলনায়করা কে কোথায়"। বাংলাদেশ প্রতিদিন। ৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৯।
  3. ↑ "New army chief appointed | GulfNews.com"। web.archive.org। ২০ জুন ২০১৫। ২০ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৯।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক)
  4. ↑ "March 2005 Banner Archives"। web.archive.org। ১৫ ডিসেম্বর ২০১২। ১৫ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৯।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক)
  5. ↑ "National Defence CollegeHall of Fame (Ex Commandant) | Categories(Profile) |"। web.archive.org। ৯ জানুয়ারি ২০১৫। ৯ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৯।{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক)
  6. ↑ "দ্য ডেইলি স্টার Web Edition Vol. 5 Num 972"। দ্য ডেইলি স্টার। ৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৯।
  7. ↑ "Hall of Fame (Ex Commandant)"। National Defence College। ৯ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৫।
পূর্বসূরী
জেনারেল এম হারুন-অর-রশিদ
সেনাবাহিনী প্রধান
১৬ জুন ২০০২ - ১৫ জুন ২০০৫
উত্তরসূরী
জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমেদ