নাসিরাবাদ কলেজ

স্থানাঙ্ক: ২৪°৪৫′১৪″ উত্তর ৯০°২৪′১১″ পূর্ব / ২৪.৭৫৩৮৮৯° উত্তর ৯০.৪০৩০৫৩° পূর্ব / 24.753889; 90.403053
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নাসিরাবাদ কলেজ
নীতিবাক্যজ্ঞানার্জন করো
ধরনবেসরকারী কলেজ
স্থাপিত১ জুলাই ১৯৪৮
প্রাতিষ্ঠানিক অধিভুক্তি
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
অধ্যক্ষআহমেদ শফিক
অবস্থান,
২২০০
,
২৪°৪৫′১৪″ উত্তর ৯০°২৪′১১″ পূর্ব / ২৪.৭৫৩৮৮৯° উত্তর ৯০.৪০৩০৫৩° পূর্ব / 24.753889; 90.403053
শিক্ষাঙ্গননগর, ৯.৬১ একর
ভাষাবাংলা
ওয়েবসাইটncmym.edu.bd
নাসিরাবাদ কলেজ লোগো.jpg

নাসিরাবাদ কলেজ ময়মনসিংহ বিভাগের একটি ঐতিহ্যবাহী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি দেশের সবথেকে বড় বেসরকারী ও পুরোনো কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই কলেজটি ময়মনসিংহ সদরে অবস্থিত।এই কলেজেতেই শিক্ষগতা করেছেন যতীন সরকার,গোলাম সামদানি কোরায়াশী এর মতো দেশ বরেণ্য শিক্ষকবৃন্দ।এই কলেজ ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে নামকরা একটি নাম।ময়মনসিংহের ছাত্ররাজনীতিতে উক্ত কলেজ গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছে।যদিও এখনকার পরিস্থিতিতে ছাত্ররাজনীতি এই কলেজে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নাসিরাবাদ কলেজ অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে ময়মনসিংহের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত কলেজ। ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে এটি মূলত একটি পুরোনো ধারার মাদ্রাসা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে নবধারার মাদ্রাসায় পরিণত হয়। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে এটি ইসলামী মাধ্যমিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে সাধারাণ মাধ্যমিক কলেজে রুপান্তরিত করা হয়। অবশেষে কলেজটিকে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে ডিগ্রি (স্নাতক) কলেজে অধিভূক্ত করা হয় এবং ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে অনার্স (সম্মান) কলেজ হিসেবে উন্নীত করা হয়।[১]

বর্তমান চিত্র[সম্পাদনা]

বর্তমানে কলেজটিতে ৪টি বিষয়ে স্নাতক (ডিগ্রি - পাস) এবং ১০টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান/অনার্স) কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম রয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক কোর্সসমূহ[সম্পাদনা]

উচ্চ মাধ্যমিক কোর্স[সম্পাদনা]

  • বিজ্ঞান
  • মানবিক
  • ব্যবসায় শিক্ষা

স্নাতক (পাস) কোর্স[সম্পাদনা]

  • বি.এ.
  • বি.এস.এস.
  • বি.এস.সি.
  • বি.বি.এস.

স্নাতক (সম্মান) কোর্স[সম্পাদনা]

  • বাংলা
  • ইসালামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  • সামাজিক কর্ম
  • অর্থনীতি
  • বিপণন
  • অ্যাকাউন্টিং
  • ব্যবস্থাপনা
  • মনোবিজ্ঞান
  • গণিত

কৃতি শিক্ষক[সম্পাদনা]

  • যতীন সরকার(১৮ আগস্ট ১৯৩৬ - বর্তমান) তিনি বাংলাদেশের একজন প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ ও লেখক।১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৮ আগস্ট অধ্যাপক যতীন সরকারের জন্ম হয় নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার

চন্দপাড়া গ্রামে।

১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের ১ আগস্ট তিনি ময়মনসিংহ শহরের নাসিরাবাদ কলেজে বাংলা বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগদান করেন এবং অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ২০০২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ কলেজে বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি তাঁর লেখনীও সচল রাখেন। বাংলাদেশের একজন প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ ও লেখক হিসেবে তিনি তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহে গভীরমননশীলতা ও মুক্তচিন্তাকে উপস্থাপন করেন। ।

২০১০ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষায় অবদানের জন্য তাঁকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করা হয়। তাঁর এ অর্জন নাসিরাবাদ কলেজ পরিবারকে বিপুলভাবে গৌরবান্বিত করেছে।

  • গোলাম সামদানী কোরায়শী(৫ এপ্রিল ১৯২৯ - ১১ অক্টোবর ১৯৯১) তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গবেষক ও অনুবাদক।গোলাম সামদানী কোরায়শীর জন্ম ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ৫ এপ্রিল বর্তমান নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ার

কাউরাট গ্রামে। তাঁর পূর্বপুরুষের বাড়ি ছিল ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার বীর আহাম্মদপেুরে। তিনি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লার সম্পাদনা সহকারী, পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান প্রকল্প ও পান্ডুলিপি সংকলন বিভাগ, বাংলা একাডেমীতে (১৯৬১-৬৮) কাজ করেন।

১৯৬৮ সালের ৩ আগস্ট তিনি নাসিরাবাদ কলেজ, ময়মনসিংহের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ১৯৯১ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্য চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি মৌলিক রচনার পাশাপাশি অনুবাদ ও সম্পাদনাও করেছেন প্রচুর। তাঁর বিশাল সাহিত্যকর্মে নানা বিষয়ের উপস্থাপনা লক্ষ করবার মতো।

১৯৯১ সালের ১১ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর ২৬ বছর পর ২০১৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তাঁর এ অর্জনে নাসিরাবাদ কলেজ পরিবার গৌরবান্বিত।

  • মুহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশের যে ক’জন শিক্ষানুরাগী শিক্ষাক্ষেত্রে অমূল্য অবদানের জন্য অমর হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে মরহুম আলহাজ রিয়াজ উদ্দিন আহমাদ (জন্ম : ১৯০৬ খ্রি., মৃত্যু : ১৯৯১ খ্রি.) অন্যতম। তিনি ১৯০৬ সালে বর্তমান কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানাধীন বাশগাড়ি গ্রামের ততকালিন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার মুনশি বাড়িতে জন্মগ্রহন করেন। আধুনিক বিজ্ঞান মনষ্ক যুগ-সচেতন মানুষ হিসেবে শিক্ষায় অগ্রগতি সাধনের লক্ষ্যে তিনি ১৯৪৮ সালে ময়মনসিংহ শহরে নাসিরাবাদ হাই মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তিনি এ মাদ্রাসাটিকে ইসলামিক ইন্টামিডিয়েট কলেজ এবং পরে সাধারণ ইন্টামিডিয়েট ও পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজে রূপান্তর করেন। এ কলেজে অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ৯.৬১ একর জমি ক্রয় করে তিনি স্থাপন করেছিলেন কলেজের ভৌত অবকাঠামো। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি কলেজটিকে দাঁড় করিয়েছিলেন শক্ত ভিত্তির উপর। ছাত্র-শিক্ষক, শিক্ষক-কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সৌজন্যের সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি লাভ করেছিলেন সকলের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা। মরহুম রিয়াজ উদ্দিন আহমাদের কর্মজীবন শিক্ষাবিস্তারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। নাসিরাবাদ কলেজ, প্রতিষ্ঠা ছাড়াও তিনি মুমিনুন্নিসা মহিলা কলেজ’ ময়মনসিংহ মহিলা কলেজ’ ও ’মূক-বধির বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন। মহান শিক্ষাবিদ আলহাজ রিয়াজ উদ্দিন আহমাদ ১৯৯১ সালের ১৫ জানুয়ারি মৃত্যু বরণ করলেও তিনি তাঁর কর্মের মাঝে বেঁচে আছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘নাসিরাবাদ কলেজ’ আজ অনার্স পর্যায়ের উন্নীত হয়ে শিক্ষাবিস্তারে আলোকবর্তিকা হাতে দেদীপ্যমান।

অন্যন্য তথ্য[সম্পাদনা]

নাসিরাবাদ কলেজ এর ই.আই.আই.এন (EIIN) কোড নাম্বার হলো ১১১৯১২। কলেজের মোট জমির পরিমাণ হলো ৯.৬১ একর। এর মধ্যে ৩.৪৮ একর জুড়ে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক ভবন, খেলার মাঠের জন্য ২.৪৭ একর এবং ০.৪৫ একর জমিতে ছাত্রদের জন্য রয়েছে হোস্টেল ভবন।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "নাসিরাবাদ কলেজ"। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৮, ২০১৯ 
  2. "Nasirabad College"। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২৮, ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]