সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
| ধরন | সরকারি মহাবিদ্যালয় |
|---|---|
| স্থাপিত | ১৯৪৪ |
| অধিভুক্তি | জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট |
| ইআইআইএন | ১৩০০৫১ |
| অধ্যক্ষ | প্রফেসর মোঃ শামসুল আলম |
| শিক্ষার্থী | ৮,৬২৭ |
| স্নাতক | ৬,৪৬০ |
| স্নাতকোত্তর | ৩২৮ |
অন্যান্য শিক্ষার্থী | ১,৮৪১ |
| ঠিকানা | হাসন নগর , , ৩০০০ , বাংলাদেশ |
| শিক্ষাঙ্গন | জেলা সদর পৌর এলাকা, ৩১.৫০ একর (১২.৭৫ হেক্টর) |
| ভাষা | বাংলা |
| ওয়েবসাইট | sugc |
![]() | |
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার একটি সরকারি মহাবিদ্যালয় । এটি জেলা সদরের হাসন নগর এলাকায় অবস্থিত এবং ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।[১] বর্তমানে এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় শিক্ষা প্রদান করা হয়। এছাড়া, স্নাতক (পাস) কোর্স, স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে।[২] ২০২৫ সালের তথ্যমতে এখানে ৮,৬২৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন সুনামগঞ্জ মহকুমার সাবডিভিশনাল অফিসার (এসডিও) উচ্চশিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে একটি কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং স্থানীয়ভাবে চাঁদা সংগ্রহ শুরু হয়। প্রথমে প্রায় পঁচিশ হাজার টাকা সংগ্রহ করে কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদনের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবেদন করা হয়। প্রতিষ্ঠার সময় কলেজের ক্লাস সুনামগঞ্জ টাউন হলে পরিচালিত হতো, যা পরবর্তীতে উত্তর দিকে সম্প্রসারণ করে ব্যবহার করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন ছাতক নিবাসী প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী।
প্রতিষ্ঠাকালে এটি তৎকালীন আসামের প্রথম বেসরকারি বিজ্ঞান কলেজ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সহায়তায় ১৯৪৪ সালে আই.এসসি কোর্স চালু করা হয়। ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলেজটির একাডেমিক তত্ত্বাবধান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে। ভারত ভাগের পর এই দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ন্যস্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার নিয়ন্ত্রণ ঢাকা বোর্ডের অধীনে, ১৯৬২ সালে কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে এবং ১৯৯৯ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের দায়িত্ব সেখানে স্থানান্তরিত হয়। ডিগ্রি পর্যায়ের একাডেমিক দায়িত্ব প্রথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল; ১৯৯১–৯২ শিক্ষাবর্ষে তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরিত হয়।
১৯৬০ সালে কলেজটি বর্তমান ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। এর আগে ১৯৫৯ সালে পুকুর খননসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। ১৯৬০ সালের ১৪ মার্চ টিনশেড একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করা হয় এবং ১৯৬১ সালের ২৮ আগস্ট নতুন ভবনে ক্লাস শুরু হয়। ১৯৬২ সালে পুরাতন বিজ্ঞান ভবনের ভিত্তিকাজ শুরু হয়ে ১৯৬৩ সালে সেখানে একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়। পরবর্তীকালে ১৯৬৭ সালে পূর্বাংশে টিনশেড ভবন নির্মাণ হয় এবং একই বছরে বি.এসসি ও বি.কম কোর্স চালু করা হয়।
কলেজটি ১৯৮০ সালের ৩ মার্চ জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের সময় কলেজ গভর্নিং বডি কর্তৃক ১৪ মে ১৯৮০ তারিখে সম্পাদিত ৮৫৮৫/১৯৮০ নম্বর দানকৃত দলিলের মাধ্যমে ২৫.৬৫ একর ভূমি কলেজের নামে নিবন্ধিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯২–৯৩ সালে পুরাতন বিজ্ঞান ভবনের পেছনে একটি দ্বিতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়, যা পরবর্তীতে অনার্স ভবনে রূপান্তরিত হয়। ১৯৯৩–৯৪ শিক্ষাবর্ষে নতুন দ্বিতল বিজ্ঞান ভবন নির্মিত হয় এবং ১৯৯৪–৯৫ সালে কলেজের উত্তর-পূর্ব কোণে প্রস্তাবিত স্টাফ কোয়ার্টারের পার্শ্বে একটি নতুন পুকুর খনন করা হয়। ১৯৯৫–৯৬ শিক্ষাবর্ষে দুটি শ্রেণিকক্ষকে স্থায়ী মঞ্চসহ প্রায় ছয় শত আসনবিশিষ্ট মিনি অডিটোরিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়। একই সময়ে কলেজ গেট নির্মাণ এবং পুকুরের দক্ষিণ পাশে টিনশেড ঘরে ক্যান্টিন স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়।
উপলব্ধ কোর্স
[সম্পাদনা]উচ্চ মাধ্যমিক
[সম্পাদনা]- বিজ্ঞান
- মানবিক
- ব্যবসা শিক্ষা
স্নাতক (পাস)
[সম্পাদনা]- বিএ (পাস)
- বিবিএস (পাস)
- বিএসএস (পাস)
- বি.এসসি (পাস)
- বিএসএস (পাস)
- সার্টিফিকেট কোর্স
স্নাতক (সম্মান)
[সম্পাদনা]- বাংলা
- দর্শন
- ইতিহাস
- হিসাব বিজ্ঞান
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান
- অর্থনীতি
- ইংরেজি
- ব্যবস্থাপনা
- উদ্ভিদ বিজ্ঞান
- গণিত
স্নাতকোত্তর (শেষ পর্ব)
[সম্পাদনা]- বাংলা
- ইতিহাস
- দর্শন
- হিসাব বিজ্ঞান
শিক্ষার্থী
[সম্পাদনা]২০২৫ সালের বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১৮৪১ জন, স্নাতক (পাশ) স্তরে ২,৩২৩ জন, স্নাতক (সম্মান) স্তরে ৪,১৩৫ জন এবং স্নাতকোত্তর স্তরে ৩২৮ জন মিলে মোট ৮,৬২৭ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করছে।
ফলাফল ও র্যাংকিং
[সম্পাদনা]২০০৯ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণ করেছে ১৫,১০১ জন, পাস করেছে ১২,৭৩৭ জন, ফেল করেছে ২,৩৬৪ জন, এ+ পেয়েছে ৭৮৬ জন, শতকরা পাস করেছে ৮৪.৩৫%, শতকরা এ+ পেয়েছে ৫.২০ %।[৩]
২০১৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ র্যাংকিংয়ে সিলেট অঞ্চলের সেরা কলেজের মধ্যে একটি হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[৪]
সুযোগ সুবিধা
[সম্পাদনা]গ্রন্থাগার
[সম্পাদনা]২০০৪ সালে ১৩ ডিসেম্বর নবনির্মিত তিন তলা ভবনকে প্রশাসনিক ভবনে রূপান্তরিত করে নীচতলায় গ্রন্থাগার স্থানান্তরিত হয়েছে। এটি একটি সমৃদ্ধ কলেজ লাইব্রেরী যাতে বই, সাময়িকী সংখ্যা এগার হাজারের উর্ধ্বে। ছাত্র-ছাত্রীদের বসে বই পড়ার সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
কম্পিউটার ল্যাব
[সম্পাদনা]সার্বক্ষনিক ইন্টারনেট সুবিধা সংবলিত একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাবরেটরী স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি কলেজের জন্য একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে।
হোস্টেল
[সম্পাদনা]প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজে দুটি ছাত্রাবাস ছিল। একটির নাম মুসলিম হোস্টেল এবং অপরটির নাম হিন্দু হোস্টেল। ২০১১ সালের ১৫ অক্টোবর কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মিত একমাত্র ছাত্রীনিবাসটি উদ্বোধন করা হয়।
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
[সম্পাদনা]- আব্দুল হক, রাজনীতিবিদ।
- গুলজার আহমদ চৌধুরী, ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ সদস্য।
- জগৎজ্যোতি দাস, বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত শহীদ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা।
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]- মুরারিচাঁদ কলেজ
- ময়মনসিংহ সরকারি কলেজ
- মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ
- দিগেন্দ্র বর্মন সরকারি কলেজ, বিশ্বম্ভরপুর সুনামগঞ্জ
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ"। sunamganj.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ জুলাই ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "SUNAMGANJ GOVT. COLLEGE"। nu.ac.bd। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Sunamgonj Govt College - Sohopathi | সহপাঠী"। Sohopathi | সহপাঠী (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৫।
- ↑ "র্যাংকিংয়ে সেরা ৭৬ কলেজকে পুরস্কৃত করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়"। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস। সংগ্রহের তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৫।
