তারেক মাসুদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
তারেক মাসুদ
নীল রঙের শার্ট পরিহিত প্রোফাইল চিত্র
সিলেটে তারেক মাসুদ, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১০
জন্ম
আবু তারেক মাসুদ[১]

(১৯৫৬-১২-০৬)৬ ডিসেম্বর ১৯৫৬
মৃত্যু১৩ আগস্ট ২০১১(2011-08-13) (বয়স ৫৪)
মৃত্যুর কারণসড়ক দুর্ঘটনা
সমাধিনূরপুর, ভাঙ্গা উপজেলা, ফরিদপুর
জাতীয়তাবাংলাদেশি
অন্যান্য নামআ তা মাসুদ
নাগরিকত্ববাংলাদেশ
শিক্ষাস্নাতকোত্তর
মাতৃশিক্ষায়তনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশা
  • চলচ্চিত্র পরিচালক
  • প্রযোজক
  • চিত্রনাট্যকার
  • লেখক
  • গীতিকার
কর্মজীবন১৯৯৫–২০১১
উল্লেখযোগ্য কর্ম
মাটির ময়না
আদি নিবাসফরিদপুর জেলা
আন্দোলনচলচ্চিত্র আন্দোলন
দাম্পত্য সঙ্গীক্যাথরিন মাসুদ
সন্তাননিষাদ বিংহাম পুত্রা মাসুদ
পুরস্কারপূর্ণ তালিকা
ওয়েবসাইটtarequemasud.org
স্বাক্ষর
তারেক মাসুদের স্বাক্ষর.svg

আবু তারেক মাসুদ[১] (যিনি তারেক মাসুদ নামেই পরিচিত) (ডিসেম্বর ৬, ১৯৫৬ - আগস্ট ১৩, ২০১১)[২][৩] ছিলেন একজন বাংলাদেশি স্বাধীন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, লেখক এবং গীতিকার। মাটির ময়না (২০০২) তার প্রথম ফিচার চলচ্চিত্র যার জন্য তিনি ২০০২-এর কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন এবং এটি প্রথম বাংলাদেশি বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে একাডেমি পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশী নিবেদন করা হয়েছিল।[৪][৫]

তারেক মাসুদের পরিচালিত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সোনার বেড়ি (১৯৮৫)[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এবং সর্বশেষ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র রানওয়ে (২০১০)।[৬] চলচ্চিত্রে তার অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে।[৭][৮] ২০১৩ সালে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়ান/প্যাসিফিক/আমেরিকান ইন্সটিটিউট এবং দক্ষিণ এশিয়া সলিডারিটি ইনিশিয়েটিভ তার চলচ্চিত্রের প্রথম উত্তর আমেরিকান 'ফিরে দেখা' অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।[৯]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

মাসুদ ১৯৫৬ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম নুরুন নাহার মাসুদ ও বাবার নাম মশিউর রহমান মাসুদ। ভাঙ্গা ঈদগা মাদ্রাসায় প্রথম পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তীতে ঢাকার লালবাগের একটি মাদ্রাসা থেকে মৌলানা পাস করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার মাদ্রাসা শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। যুদ্ধের পর তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাইভেটে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেন এবং প্রথম বিভাগে পাশ করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এরপর আইএ পাশ করেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে। গ্র্যাজুয়েশনের জন্য প্রথমে নটর ডেম কলেজে ভর্তি হলেও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।[৬] জীবনের প্রথম প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করতে গিয়ে তার আর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা হয়ে ওঠেনি।[১০]

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় তাকে বেশিরভাগ সময়েই ঢাকা আর্ট কলেজে (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) কাটাতে দেখা যেত। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন থেকেই লেখক শিবির, বাম আন্দোলন এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। চলচ্চিত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় মোরশেদুল ইসলাম, তানভীর মোকাম্মেল, শামীম আখতারদের সাথে।[৬]

চলচ্চিত্র জীবন[সম্পাদনা]

১৯৮২ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ থেকে ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স শেষ করে তিনি তার প্রথম প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। এটি নির্মাণ করতে লেগেছিল সাত বছর। ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আদম সুরত প্রামাণ্যচিত্রটি ছিল প্রখ্যাত বাংলাদেশী শিল্পী এস এম সুলতানের জীবনের উপর।[১১][১২][১৩] এরপর থেকে তিনি বেশ কিছু ডকুমেন্টারি, অ্যানিমেশন এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ১৯৯৬ সালে নির্মাণ করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একটি ভ্রাম্যমাণ গানের দলকে নিয়ে মুক্তির গান। ১৯৭১ সালে মার্কিন নির্মাতা লিয়ার লেভিনের ক্যামেরাবন্দী ফুটেজের সাথে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংরক্ষণাগার থেকে নেয়া ফুটেজ জুড়ে দিয়ে এই ছবিটি নির্মাণ করা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটির জন্য তিনি ১৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০২ সালে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মাটির ময়না মুক্তি পায়। ছবিটি তার শৈশবে মাদ্রাসা জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত। ছবিটি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং মাসুদ দেশে-বিদেশে বিশেষ প্রশংসা অর্জন করে। চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং "একটি দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের হৃদয়স্পর্শী ও স্বচ্ছ উপস্থাপনা"র জন্য মাসুদ ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট লাভ করেন। এই ছবির জন্য তিনি ২৭তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া মারাকেচ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে ক্যাথরিন মাসুদের সাথে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের পুরস্কার লাভ করেন ও গোল্ডেন স্টারের মনোনয়ন লাভ করেন এবং কেরালা চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন ক্রো ফিজেন্ট পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন। এছাড়া ছবিটি বাংলাদেশ থেকে সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে একাডেমি পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশী নিবেদন করা হয়েছিল। এটি বাংলাদেশ থেকে অস্কারের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র শাখায় নিবেদন করা দ্বিতীয় বাংলাদেশী চলচ্চিত্র (প্রথমটি জাগো হুয়া সাভেরা) এবং প্রথম বাংলাদেশী বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র।[১৪]

তার পরবর্তী চলচ্চিত্র অন্তর্যাত্রা (২০০৬) দুটি প্রজন্মকে তুলে ধরেছে, যারা বাংলাদেশ থেকে লন্ডন চলে যায় এবং পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসে। ২০১০ সালে তিনি দেশে ছড়িয়ে পরা জঙ্গিবাদ ও এর প্রভাব নিয়ে নির্মাণ করেন রানওয়ে। এতে দেখানো হয় এক যুবককে ইসলামী শিক্ষার আড়ালে জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ করার গল্প। ছবিটির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার লাভ করেন। মাসুদের শেষ অসম্পূর্ণ কাজ কাগজের ফুল। ছবিটি ভারত বিভাগের গল্প নিয়ে। এটি মাটির ময়নার পূর্ববর্তী পর্ব।[১৪]

বাংলাদেশের বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সংগঠন শর্ট ফিল্ম ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। ১৯৮৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের কো-অডিঁনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেয়ার পাশাপাশি কয়েকটি সাময়িকী ও পত্রিকায় চলচ্চিত্র বিষয়ে লেখালেখি করতেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ একজন মার্কিন নাগরিক। ক্যাথরিন এবং তারেক মিলে ঢাকায় একটি চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন যার নাম অডিওভিশন। চলচ্চিত্র নির্মাণ ছাড়া তারেক মাসুদের আগ্রহের বিষয় ছিল লোকসঙ্গীত এবং লোকজ ধারা। এই দম্পতির 'বিংহাম পুত্রা মাসুদ নিশাদ' নামে এক ছেলে আছে। তারেক মাসুদের ভাগিনেয় ভাই নজরুলগীতি শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল। তারেক মাসুদের চাচাত বোন তাহমিনা রাব্বানি শাম্মি ও ছোটো ভাই হচ্ছেন নাহিদ মাসুদ।

চলচ্চিত্রের তালিকা[সম্পাদনা]

নং নাম ক্যামেরা দৈর্ঘ্য মুক্তির সন পরিচালক নির্মাতা বিষয়
আদম সুরত ১৬ এমএম ৫৪ মিনিট ১৯৮৯ তারেক মাসুদ বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জীবন ও শিল্পকলার উপর তথ্যচিত্র
সে ৩৫ এমএম ১০ মিনিট ১৯৯৩ তারেক মাসুদ, শামীম আখতার একটি নারী ও পুরুষের বেদনাদায়ক পুণর্মিলন
ইউনিসন ইউম্যাটিক ভিডিও ৪ মিনিট ১৯৯৪ মানবজাতির ঐক্যের উপর এনিমেশন চলচ্চিত্র
মুক্তির গান ৩৫এমএম ৭৮ মিনিট ১৯৯৬ তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একটি ভ্রাম্যমাণ গানের দলের উপর পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র
ভয়েসেস অফ চিলড্রেন বেটাক্যাম এসপি ৩০ মিনিট ১৯৯৭ তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ ইউনিসেফ, অডিওভিশন বাংলাদেশের কর্মজীবী শিশুদের উপর প্রামাণ্যচিত্র
ইন দ্য নেইম অফ সেফ্‌টি ডিভিক্যাম ২৫ মিনিট ১৯৯৮ তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ টিভিই লন্ডন, অডিওভিশন বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের উপর ডকুমেন্টারি
মুক্তির কথা বেটাক্যাম এসপি ৮২ মিনিট ১৯৯৯ তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাধারণ গ্রামীণ জনগণের অভিজ্ঞতা
নারীর কথা বেটাক্যাম এসপি ২৫ মিনিট ২০০০ তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ যুদ্ধে বেঁচে থাকা নারীদের অভিজ্ঞতার উপর ডকুমেন্টারি
আ কাইন্ড অফ চাইল্ডহুড বেটাক্যাম এসপি ৫০ মিনিট ২০০২ তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ জিঙ্গু ফিল্ম্‌স, অডিওভিশন ঢাকার কর্মজীবী শিশুদের জীবন সংগ্রামের উপর ডকুমেন্টারি
১০ মাটির ময়না ৩৫এমএম ৯৮ মিনিট ২০০২ তারেক মাসুদ ক্যাথরিন মাসুদ ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানের মাদ্রাসায় পরিচালকের বাল্য জীবনের অভিজ্ঞতার উপর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
১১ অন্তর্যাত্রা ২০০৬ তারেক মাসুদ লন্ডনপ্রবাসী এক সিলেটি পরিবারের গল্পের মাধ্যমে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ
১২ রানওয়ে ৯০ মিনিট ২০১০ তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ জিঙ্গু ফিল্ম্‌স, অডিওভিশন বাংলাদেশের ২০০৫-০৬ সালে চলমান ইস্যু নিয়ে চলচ্চিত্র যেখানে ধর্মভিত্তিক জঙ্গিবাদ ছাড়াও তৈরী-পোশাক শিল্পের নারীশ্রমিক, ক্ষুদ্রঋণনির্ভর এনজিও কার্যক্রম এবং বিদেশে অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনার মতো বিষয় নিয়ে।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

মাইক্রোবাস ধ্বংসাবশেষ, মিশুক মুনীর ও তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট কাগজের ফুল নামক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের লোকেশন দেখার জন্য তারেক মাসুদ তার সহকর্মীদের নিয়ে মানিকগঞ্জের সালজানা গ্রামে যান। লোকেশন নির্বাচন শেষে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে তারেক মাসুদ তার গাড়িবহর নিয়ে রওনা দেন। পথে ঘিওরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলেই তারেক মাসুদ এবং তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরের মৃত্যু হয়। তারেকের সাথে কাজ করা ওয়াসিম, সেট ডিজাইনার জামাল হোসেন, ও মাইক্রোবাসের চালক মোস্তাফিজও এই দুর্ঘটনায় মারা যান। আহত হন ক্যাথরিন মাসুদ, চিত্রশিল্পী ঢালী আল মামুন, ও তার স্ত্রী চিত্রশিল্পী দিলারা বেগম জলি।[১৫][১৬][১৭][১৮][১৯]

অভ্যর্থনা[সম্পাদনা]

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের উপর ভিত্তি করে নির্মিত তারেক মাসুদের প্রামাণ্যচিত্র আদম সুরত।

চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমালোচনামূলক, দর্শক এবং বাণিজ্যিক অভ্যর্থনা।

চলচ্চিত্র রটেন টম্যাটোস মেটাক্রিটিক আইএমডিবি বাজেট বক্স অফিস
আদম সুরত প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় ৮.৫ প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয়
মুক্তির গান ৫০% প্রযোজ্য নয় ৮.৩ প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয়
মুক্তির কথা প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় ৯.০ প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয়
মাটির ময়না ৮৯% ৭৫ ৮.৫ প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয়
অন্তর্যাত্রা ৬৩% প্রযোজ্য নয় ৬.৮ প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয়
রানওয়ে প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় ৮.০ প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয়

তার ৬২ তম জন্মদিনে গুগল ডুডল সম্মননা প্রদান করে।[২০]

প্রকাশিত বই[সম্পাদনা]

তারেক মাসুদের মৃত্যুর পর ২০১২ সালে বিভিন্ন সময়ে লেখা তার চলচ্চিত্র সম্পর্কিত প্রবন্ধগুলোকে একত্র করে একটি বই প্রকাশিত হয় "চলচ্চিত্রযাত্রা" নামে। বইটিতে ভূমিকা লিখেছেন তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ। লেখক হবার একটা টান সবসময়ই তার মাঝে ছিল। তিনি বলেছিলেন

চলচ্চিত্রকার না হলে লেখক হওয়ার চেষ্টা করতাম।

পুরস্কার ও মনোনয়ন[সম্পাদনা]

পুরস্কার বছর পুরস্কারের বিভাগ মনোনীত চলচ্চিত্র ফলাফল
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ১৯৯৬ শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র মুক্তির গান বিজয়ী
২০০৩ শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার মাটির ময়না বিজয়ী
ফিল্ম সাউথ এশিয়া ১৯৯৭ বিশেষ পুরস্কার মুক্তির গান বিজয়ী
কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০০২ ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট মাটির ময়না বিজয়ী
মারাকেচ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০০২ শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য মাটির ময়না বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র মনোনীত
থ্রি কন্টিনেন্টস উৎসব ২০০২ শ্রেষ্ঠ বর্ণনামূলক প্রামাণ্যচিত্র মুক্তির কথা বিজয়ী
বাচসাস পুরস্কার ২০০৩ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র মাটির ময়না বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ পরিচালক বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিজয়ী
চ্যানেল আই চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০৩ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র মাটির ময়না বিজয়ী
ভারতীয় আন্তর্জাতিক ভিডিও উৎসব ২০০৩ জুরি পুরস্কার আ কাইন্ড অব চাইল্ডহুড বিজয়ী
কারা চলচ্চিত্র উৎসব ২০০৩ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র মাটির ময়না বিজয়ী
কেরালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০০৩ গোল্ডেন ক্রো ফিজেন্ট মাটির ময়না মনোনীত
ডিরেক্টরস গিল্ড অব গ্রেট ব্রিটেন ২০০৪ শ্রেষ্ঠ বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের পরিচালক মাটির ময়না মনোনীত
ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব বাংলাদেশ ২০০৬ শ্রেষ্ঠ পরিচালক অন্তর্যাত্রা বিজয়ী
সিনেফান ফেস্টিভ্যাল অব এশিয়ান অ্যান্ড আরব সিনেমা ২০০৬ বিশেষ পুরস্কার অন্তর্যাত্রা বিজয়ী
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০১০ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (সমালোচক পুরস্কার) রানওয়ে বিজয়ী

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. তারেক মাসুদ (ডিসেম্বর ২০১৩)। "ভূমিকা"। চলচ্চিত্রলেখা: চিত্রনাট্য ও গান (ডিসেম্বর ২০১৩ সংস্করণ)। কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫: প্রথমা প্রকাশন। পৃষ্ঠা ১০। আইএসবিএন 978-984-90659-1-3 
  2. হারিষ পান্ড্য (আগস্ট ২৬, ২০১১)। "Tareque Masud, Bangladeshi Filmmaker, Is Dead at 54"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসনিউ ইয়র্ক। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ২৬, ২০১৫ 
  3. খালিদ, সাদিয়া (৭ ডিসেম্বর ২০১৩)। "Catherine Masud – Celebrating Her Cinema Feriwala's 57th Birthday" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৭ 
  4. জেমি রাসেল (৩ জুলাই ২০০৩)। "The Clay Bird (Matir Moina) (2003)" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি। সংগ্রহের তারিখ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ 
  5. "FESTIVALS: 2002 Cannes Film Festival Directors Fortnight Lineup"Indie Wire (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৭ 
  6. মাসুদ, ক্যাথরিন, সম্পাদক (জুন ২০১২)। তারেক মাসুদ: জীবন ও স্বপ্ন। কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫: প্রথমা প্রকাশন। পৃষ্ঠা ২৫–২৬, ৩১, ৩৫, ১১৩। আইএসবিএন 978-984-33-3891-4 
  7. একুশে পদকপ্রাপ্ত সুধীবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠান (PDF)সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পৃষ্ঠা ২। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৫ 
  8. "একুশে পদকের জন্য ১৫ জন নির্বাচিত"দৈনিক প্রথম আলো। ২০১২-০২-১০। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-১২ 
  9. "Tareque Masud: Journey Interrupted"tarequemasud.org (ইংরেজি ভাষায়)। tarequemasud.org। এপ্রিল ২০১৩। ২০ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ২৬, ২০১৫ 
  10. আউয়াল, সাজেদুল। "তারেক মাসুদ তাঁর লোকচলচ্চিত্র"কালি ও কলম। ১১ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০২০ 
  11. মাসুদ, তারেক (ফেব্রুয়ারি ২০১২)। চলচ্চিত্রযাত্রা। কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫: প্রথমা প্রকাশন। পৃষ্ঠা ১১–১৭। আইএসবিএন 978-984-33-3886-0 
  12. নাসরুল্লাহ, শরীফ (১০ আগস্ট ২০১৭)। "চলচ্চিত্র–প্রাণ এক পরিচালক"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০২০ 
  13. "ফুল হয়ে ফুটে আছেন তারেক মাসুদ"বাংলা ট্রিবিউন। ১৩ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০১৭ 
  14. রহমান, পাভেল (১৩ আগস্ট ২০১৬)। "আদম সুরত থেকে রানওয়ে : অসমাপ্ত কাগজের ফুল"। দ্য রিপোর্ট। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১৭ 
  15. ইসলাম, নজরুল; রায়, অরূপ (১৪ আগস্ট ২০১১)। "এভাবে যেতে হবে কেন?"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০২০ 
  16. প্রতিবেদক, নিজস্ব (১৩ আগস্ট ২০১১)। "তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ নিহত ৫"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০২০ 
  17. "Crash victims' bodies arrive, probe begins | Bangladesh" (ইংরেজি ভাষায়)। bdnews24.com। ১৩ আগস্ট ২০১১। ২৫ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  18. "সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ ৫ জন"। Banglanews24.com। ১৩ আগস্ট ২০১১। ১৬ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  19. প্রকাশকঃ দৈনিক মানবজমিন, ১৪ আগস্ট ২০১১ বিবর্ণ থেকে গেল তারেক মাসুদের ‘কাগজের ফুল’ লেখকঃসাইফ চন্দন, সংগৃহীত হয়েছেঃ ২৬ আগস্ট, ২০১১
  20. "Tareque Masud's 62nd Birthday"www.google.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১২-০৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]