নেত্রকোণা সরকারি কলেজ
| নীতিবাক্য | জ্ঞানই শক্তির উৎস |
|---|---|
| ধরন | সরকারি কলেজ |
| স্থাপিত | ১৯৪৯ |
| ইআইআইএন | ১১৩১৯৪ |
| অধ্যক্ষ | প্রফেসর মোঃ আবু তাহের খান [১] |
| অবস্থান | , |
| শিক্ষাঙ্গন | ৯.৬৫ একর |
| অধিভুক্তি | জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ |
| ওয়েবসাইট | ngc |
![]() | |
নেত্রকোণা সরকারি কলেজ বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার একটি সরকারি কলেজ। এই কলেজটি ‘নেত্রকোণা কলেজ’ নামেও পরিচিত।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]দেশবিভাগের পূর্বকালে নেত্রকোনা জেলায় আধুনিক শিক্ষার সূচনা হলেও ব্রিটিশ শাসন আমলে এখানে কোন কলেজ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। ফলে বিদ্যমান স্কুলগুলো থেকে প্রতিবছর অসংখ্য মেধাবী, প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রী বেরিয়ে এলেও শুধু বিত্তবান পরিবারের সন্তানেরাই ময়মনসিংহ, ঢাকা বা কলকাতায় গিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেত। আর এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হত অসংখ্য গরীব মেধাবী ছাত্রছাত্রী। এ অবস্থায় এলাকার তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। দেশ বিভাগোত্তর কালে নেত্রকোণা মহকুমার প্রশাসক জনাব গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ সিএসপি এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন জনাব আছান আলী এমএলএ, জনাব আকবর আলী এমএলএ, এ. কে . ফজলুল হক, প্রফুল চৌধুরী, ডাঃ ছমির উদ্দিন ও বীরেন্দ্র দত্ত চৌধুরী (সন্দেশ বাবু)। উদ্যোক্তাদের প্রথম সভাতেই তৎকালীন রৌহার জমিদার বীরেন্দ্র দত্ত চৌধুরী (সন্দেশ বাবু) সাতপাইয়ের যে স্থানে কলেজটির অবস্থান, সে জমিটুকু কলেজের জন্য দান করেন। পরবর্তীকালে নিজস্ব ভূমিতে কলেজের অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ শুরু হলে আরো কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি কলেজের জন্য ভুমি দান করেন। এ ছাড়া নির্মাণকাজে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন নেত্রকোণা অঞ্চলের কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ। সর্বাত্মক সরকারী সহযোগিতা প্রদান করেন মহকুমা প্রশাসক জনাব গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ সিএসপি। পরবর্তীতে জনাব খানে আলম খান মহকুমা প্রশাসক হিসাবে নেত্রকোণায় যোগদান করলে তার নিরলস প্রচেষ্টায় কলেজের উত্তরোত্তর বিকাশ ঘটে।[৩]
১৯৪৯ সালে উদ্যোক্তাদের প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐ বছরই ছাত্র ভর্তি শুরু হয়। কলেজটির নামকরণ করা হয় 'নেত্রকোণা কলেজ'। কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জনাব প্রিয়ভূষন বণিক। কলেজর প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হত দত্ত হাই স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে। ক্লাস অনুষ্ঠিত হত স্থানীয় আঞ্জুমান হাইস্কুল ও ইউ.সি. পাবলিক হলে। পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালে বর্তমান স্থানে নিজস্ব গৃহে কলেজ স্থানান্তরিত হয়। অধ্যক্ষ সহ ৭ জন শিক্ষক, ১ জন কেরানি, ৩ জন পিয়ন ও স্বল্প সংখ্যক ছাত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করে নেত্রকোণা কলেজ।[৪]
১৯৬০ সাল পর্যন্ত ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে মানবিক ও বাণিজ্য শাখা ছাড়া অন্য কোন শাখা ছিল না। ১৯৬০-৬১ সালে বিজ্ঞান শাখা খোলা হয়। ১৯৬৩ সালের শেষের দিকে কলেজটিকে ডিগ্রী কলেজে উন্নীত করা হয়। ১৯৬৫ সালে বি.কম এবং ১৯৬৮ সালে বি.এস.সি কোর্স খোলা হয়। ১৯৮০ সালে কলেজটিকে সরকারীকরণ করা হয়। নাম করণ করা হয় ‘নেত্রকোণা সরকারি কলেজ’।[৩]
পাঠদান
[সম্পাদনা]নেত্রকোণা কলেজ সরকারিকরণের পর প্রথম অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জনাব তছদ্দক আহমাদ (টি. আহমাদ)। ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে বাংলা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয় এবং ১৯৯৪-৯৫ সালে চালু করা হয় মাস্টার্স কোর্স। অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করার ক্ষেত্রে তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আতাহার আলী দেওয়ান, প্রফেসর মজিবুর রহমান এবং প্রফেসর জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া’র ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমানে কলেজে ১০টি বিষয়ে অনার্স ও ৯টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। প্রায় আট হাজার ছাত্রছাত্রী ও ৬৯ শিক্ষক নিয়ে কলেজের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাধীনতাযুদ্ধ সহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে এ কলেজের সুযোগ ছাত্র-শিক্ষকগণের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা।[৩]
অনুষদ সমূহ
[সম্পাদনা]ডিগ্রী (পাস)
- বি. এ.
- বি. এস. এস.
- বি. এসসি.
- বি. বি. এস.
স্নাতক (সম্মান)
- বাংলা
- ইংরেজি
- ইতিহাস
- ইসলামের ইতিহাস
- দর্শন
- সামাজিক বিজ্ঞান
- অর্থনীতি
- হিসাববিজ্ঞান
- ব্যবস্থাপনা
- রসায়ন
- জীববিজ্ঞান
- উদ্ভিদ বিজ্ঞান
- প্রাণীবিজ্ঞান
- গণিত
স্নাতকোত্তর
- বাংলা
- ইতিহাস
- ইসলামের ইতিহাস
- দর্শন
- রাষ্ট্র বিজ্ঞান
- অর্থনীতি
- হিসাববিজ্ঞান
- ব্যবস্থাপনা
- রসায়ন
- উদ্ভিদ বিজ্ঞান
- প্রাণিবিজ্ঞান
- গণিত
উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী
[সম্পাদনা]নেত্রকোণায় অবস্থিত সরকারি কলেজের বিভিন্ন সময়ের শিক্ষার্থী, যারা স্বীয় ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিয়ে উল্লেখযোগ্যতা অর্জন করেছেন তাঁদের ভেতরে রয়েছেন:
- আব্দুল খালেক (নেত্রকোণার রাজনীতিবিদ): ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং নেত্রকোণা মহুকুমা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নেত্রকোণা সরকারি কলেজের প্রথম জিএস ছিলেন তিনি।
- আশরাফ আলী খান খসরু: রাজনীতিবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী।
- আশরাফ উদ্দিন খান: রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য।
- হেলাল হাফিজ, একুশে পদক বিজয়ী কবি
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ NETRAKONA GOVT. COLLEGE - 4801[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] এনইউ ইনফো
- ↑ নেত্রকোণা জেলা বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
- 1 2 3 নেত্রকোণা সরকারী কলেজ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
- ↑ "২১৩ শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক!"। দৈনিক প্রথম আলো। ৪ আগস্ট ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮।
