সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ লোগো.jpg
অবস্থান
কলেজ রোড, চকবাজার

,
স্থানাঙ্ক২২°২১′১১″ উত্তর ৯১°৫০′০৮″ পূর্ব / ২২.৩৫২৯৪৩° উত্তর ৯১.৮৩৫৫১৮° পূর্ব / 22.352943; 91.835518স্থানাঙ্ক: ২২°২১′১১″ উত্তর ৯১°৫০′০৮″ পূর্ব / ২২.৩৫২৯৪৩° উত্তর ৯১.৮৩৫৫১৮° পূর্ব / 22.352943; 91.835518
তথ্য
ধরনসরকারি
নীতিবাক্যজ্ঞানই আলো
প্রতিষ্ঠাকাল১৮৭৪
প্রতিষ্ঠাতামীর আব্দুর রশীদ
বিদ্যালয় জেলাচট্টগ্রাম
অধ্যক্ষপ্রফেসর অঞ্জন কুমার নন্দী [১]
শিক্ষার্থী সংখ্যা১০,০০০
ভাষার মাধ্যমবাংলা
শিক্ষায়তন৩১ একর
ক্যাম্পাসের ধরনশহর
রঙহলুদ, সবুজ, লাল এবং বেগুনি                 
ক্রীড়াফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল
অন্তর্ভুক্তিজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষা বোর্ডচট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড
যোগাযোগ নং০৩১-৬১৪৬৯০
ফ্যাক্স০৩১-৬২৫৪৮৫
ওয়েবসাইট

হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম শহরের কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম কলেজের ঠিক উল্টো দিকে এটির অবস্থান। কলেজটি একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। এই কলেজের পর্তুগিজ ভবন নগরীর অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা। মহসিন কলেজ চট্টগ্রামের নামকরা কলেজগুলোর মধ্যে একটি। এ কলেজে উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। নয়নাভিরাম ও মনোমুগধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা এই কলেজ বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে দানবীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন এর "মহসিন ফান্ড" এর অর্থায়নে একটি মাদ্রাসা ( চট্টগ্রাম মাদ্রাসা) হিসেবে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত করা হয়।তখন থেকেই এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে "চট্টগ্রাম মাদ্রাসা"কে "চট্টগ্রাম ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ" নামকরণ করে এর কার্যক্রম উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত উন্নীত করা হয় এবং পরে ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে জুলাই "চট্টগ্রাম ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ" ও "চট্টগ্রাম সরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ"কে একত্রিত করে "হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ" নামে নামকরণ করা হয়।[২] ১৯৭৯-৮০ শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রী(পাস) কোর্স, ৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক(সম্মান) কোর্স, ৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স প্রথম পর্ব, এবং ৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স শেষ পর্ব প্রবর্তন করা হয়।

অনুষদ ও বিভাগসমূহ[সম্পাদনা]

বর্তমানে এ কলেজে "উচ্চমাধ্যমিক", "স্নাতক (সম্মান)", "স্নাতক (পাস)", "মাস্টার্স প্রথম পর্ব" এবং "মাস্টার্স শেষ পর্ব" পর্যন্ত পাঠদান করা হয়ে থাকে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা , কলা ও সামাজবিজ্ঞান অনুষদে প্রায় ১৫ টি বিষয় পড়ানো হয়।

কলা অনুষদ[সম্পাদনা]

  • বাংলা বিভাগ
  • ইংরেজি বিভাগ
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
  • ইসলামি শিক্ষা বিভাগ
  • দর্শন

সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • অর্থনীতি বিভাগ
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ
  • গণিত বিভাগ
  • পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
  • রসায়ন বিভাগ
  • উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ
  • প্রাণিবিদ্যা বিভাগ

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ[সম্পাদনা]

  • হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
  • ব্যবস্থাপনা বিভাগ

কলেজ ভবন[সম্পাদনা]

  • কলা ভবন
  • বিজ্ঞান ভবন ১
  • বিজ্ঞান ভবন ২
  • নতুন একাডেমিক ভবন ১
  • নতুন একাডেমিক ভবন ২
  • ছাত্রী মিলনায়তন
  • হোষ্টেল
  • নতুন হোষ্টেল
  • প্রশাসনিক ভবন
  • ব্যবসায় শিক্ষা ভবন
  • মসজিদ
  • প্রাচীন পর্তুগিজ ভবন

কলেজ ক্যাম্পাস[সম্পাদনা]

কলেজ ক্যাম্পাসটির আকার প্রায় ৩০ একর (১,৩০,০০০ বর্গমিটার)। ক্যাম্পাস জুড়ে আটটি ভবন রয়েছে। কলেজের ফটকের দক্ষিণে একটি খেলার মাঠ আছে।

কলেজ ক্যাম্পাসে পর্তুগিজদের দ্বারা নির্মিত একটি প্রাচীন ভবন রয়েছে। এই ভবনটি প্রায় এক শতাব্দী পুরানো। একে দারুল আদালত বলা হয়। ব্রিটিশ ঐপনিবেশিক শাসনামলে এটি চট্টগ্রামের প্রথম আদালত ছিল। স্থানীয়রা একে পর্তুগিজ ভবন বলে ডাকে। কেউ কেউ বলেন যে ভবনটি ১৬শ শতাব্দীতে পর্তুগিজ জলদস্যুরা দুর্গ হিসাবে ব্যবহার করত। মহসিন কলেজ (তত্কালীন মাদ্রাসা) ১৮৭৯ সালে ৩০,০০০ টাকায় ভবনসহ পাহাড়টি কিনেছিল।

কলেজের প্রশাসনিক ভবনের পশ্চিমে দুটি ছাত্রাবাস আছে। বাণিজ্য বিভাগের ভবনের দক্ষিণে আরও একটি ছাত্রাবাস আছে। বাণিজ্য ভবনের দক্ষিণে অধ্যক্ষের বাড়ি এবং পাহাড়ের শীর্ষে একটি মসজিদ আছে।

ছাত্র ছাত্রীদের আবাসন[সম্পাদনা]

কলেজে 'হাজী মুহাম্মদ মহসিন মুসলিম ছাত্রাবাস' ও 'নতুন হোস্টেল' নামে দুইটি ছাত্রাবাস আছে। আবাসন ও ছাত্রাবাস কমিটির তত্ত্বাবধানে ছাত্রাবাসগুলো পরিচালিত হয়। এছাড়াও ছাত্রদের জন্য ২০ শয্যা বিশিষ্ট ডরমেটরী রয়েছে। এছাড়াও কলেজে ছাত্রীদের জন্য ছাত্রীনিবাস নির্মাণাধীন।

মাঠ[সম্পাদনা]

কলেজের অভ্যন্তরেই বিশাল আকৃতির ঐতিহাসিক মহসিন কলেজ এর মাঠ অবস্থিত।

পাঠাগার[সম্পাদনা]

সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের গ্রন্থাগার বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থাগারের একটি। এই গ্রন্থাগারে বিশ হাজারেরও বেশি বই আছে।[২]

অন্যান্য সুযোগ সুবিধাসমূহ[সম্পাদনা]

  • কলেজে পর্তুগিজ ভবন সংলগ্ন হিলটপে সুরম্য মসজিদ রয়েছে।
  • ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথক মিলনায়তন রয়েছে।
  • কলেজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সেনা ও নৌ শাখায় যোগদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
  • রোভার স্কাউট ও যুব রেড ক্রিসেন্টের কার্যক্রম চালু আছে। আগ্রহী ছার-ছাত্রীরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারে।

সংগঠন[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]