বিষয়বস্তুতে চলুন

সরকারি ব্রজমোহন কলেজ

স্থানাঙ্ক: ২২°৪২′৪৪″ উত্তর ৯০°২১′২৩″ পূর্ব / ২২.৭১২১° উত্তর ৯০.৩৫৬৫° পূর্ব / 22.7121; 90.3565
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ব্রজমোহন কলেজ থেকে পুনর্নির্দেশিত)
ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল
বি.এম. কলেজে, বরিশাল
নীতিবাক্যসত্য, প্রেম ও পবিত্রতা
ধরনসরকারি কলেজ
স্থাপিত১৮৮৯
প্রতিষ্ঠাতামহাত্মা অশ্বিনীকুমার দত্ত
ইআইআইএন১০০৮৭৫
অধ্যক্ষপ্রফেসর ড. শেখ মো: তাজুল ইসলাম
শিক্ষায়তনিক ব্যক্তিবর্গ
১৮০
প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ
১১০
শিক্ষার্থী২৭০০০ (প্রায়)
অবস্থান,
শিক্ষাঙ্গনশহরে ৬০ একর (২,৪০,০০০ বর্গমিটার)
সংক্ষিপ্ত নামবি. এম. কলেজ
অধিভুক্তিবাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
ওয়েবসাইটbmcollege.gov.bd
মানচিত্র

ব্রজমোহন কলেজ বা বি.এম কলেজে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাংশে বরিশাল শহরে অবস্থিত। ১৮৮৯ সালে প্রখ্যাত সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী অশ্বিনীকুমার দত্ত কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন কলেজটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত ছিল। সেসময়ে এ কলেজের মান এতই উন্নত ছিল যে অনেকে একে দক্ষিণ বাংলার অক্সফোর্ড বলে আখ্যায়িত করেন।[] ১৯৬৫ সালে কলেজটির জাতীয়করণ করা হয় ও বর্তমানে কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত। কলেজটিতে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ২২টি বিষয়ে ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ২২টি বিষয়ে পাঠদান করে থাকে।

ব্রজমোহন কলেজ, প্রধান ভবন

১৮২৯ সালে বরিশাল জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষার ক্ষেত্রে যে নবজাগরণ শুরু হয় তারই ধারাবাহিকতায় বরিশালের তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বাবু রমেশচন্দ্র দত্তের অনুরোধে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুন অশ্বিনীকুমার দত্ত তাঁর বাবা ব্রজমোহন দত্তের নামে সত্য, প্রেম, পবিত্রতার মহান আদর্শে ১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বি এম স্কুল ক্যাম্পাসে ব্রজমোহন কলেজ স্থাপন করেন।

ব্রজমোহন কলেজ ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে অশ্বিনী ভবনে শুরু হয়। ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে বিএম কলেজ ও বিএম স্কুল বর্তমান বিএম স্কুল ভবনে স্থানান্তরিত হয়।

১৯৬৪ সালে ব্রজমোহন কলেজে পুনরায় অর্থনীতিতে অনার্স কোর্স খোলা হয়। ১৯৬৫ সালের ১ জুলাই কলেজটি প্রাদেশিকীকরণ অর্থাৎ সরকারিকরণ করা হয়। ১৯৭২ সালের ১৮ আগস্ট বিএম কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ঘোষণা করা হয়। ১৯৭২ সালে (১৯৭১-৭২ শিক্ষাবর্ষে) সরকারি ব্রজমোহন কলেজে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যা এই সাতটি বিষয়ে অনার্স এবং বাংলা, অর্থনীতি, ইতিহাস ও রসায়ন এই চারটি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স খোলা হয়। ১৯৭৫ সালে ইতিহাসে অনার্স কোর্স চালু করা হয়। ১৯৮৯ সালে ইংরেজি ও মৃত্তিকাবিজ্ঞানে মাস্ট্রার্স ১ম পর্ব এবং ১৯০০ সালে ইংরেজি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, গণিত, মৃত্তিকা বিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান-এই সাতটি বিষয়ে অনার্স আর গণিতের মাস্টার্স ১ম পর্ব এবং ১৯৯০ সালে ইংরেজি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, গণিত, মৃত্তিকা বিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান-এই সাতটি বিষয়ে অনার্স আর গণিতের মাস্টার্স ১ম পর্ব পাঠ্যক্রম চালু করা হয। ১৯৮৯ সালের ১৪ জুন ব্রজমোহন কলেজের শতবর্ষ পূর্ণ হয় এবং ১৯৯২ সালের ২৫, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর কলেজের শতবর্ষপূর্তি উৎসব উদযাপিত হয়। ১৯৯৩ সালে সমাজকল্যাণে এবং ১৯৯৪ সালে ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি, দর্শন, সমাজ বিজ্ঞান প্রাণিবিজ্ঞান ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানে মাস্টার্স পাঠ্যক্রম চালু করা হয়। ১৯৯৫ সালে সমাজকল্যাণে এবং দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে ইসলামি শিক্ষায় মাস্টার্স কোর্সে খোলা হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১০ই জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য এর একক প্রচেষ্টায় মাত্র ১১ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অনার্স কোর্স চালু করা এবং ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। প্রফেসর বিপ্লব কুমার ভট্টাচার্য ২০১৬ সালে অধ্যক্ষ প্রফেসর স. ম. ইমানুল হাকিম এর নেতৃত্বে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণী বিজ্ঞান শাখা পুনরায় চালু করেন।

শিক্ষাঙ্গন

[উৎস সম্পাদনা]

কলেজে ছাত্রদের জন্য ৪টি [ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক (মুসলিম) হল, মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত (ডিগ্রি) হল, কবি জীবনানন্দ দাশ (হিন্দু) হল, সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাস) এবং মেয়েদের জন্য ৩টি হোস্টেল বনমালী গাঙ্গুলী মহিলা হোস্টেল, দেবেন্দ্র ভবন ছাত্রীনিবাস, নৃপেন্দ্র ভবন ছাত্রীনিবাস রয়েছে। কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে মোট বইয়ের সংখ্যা ৪০,০০০। এখানে প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি ভবন, মুক্তমঞ্চ, শহীদ মিনার[] ৪টি বিজ্ঞান ভবন, ১টি উচ্চ মাধ্যমিক ভবন, ১টি বাণিজ্য ভবন, ৪টি কলা ভবন, ১টি পরীক্ষা ভবন, বাকসু ভবন, অডিটোরিয়াম, কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশাপাশি ২ টি মসজিদ ও মন্দির রয়েছে ও ২টি খেলার মাঠ রয়েছে। দুই প্রান্তে দুটি ও মাঝে ১ টি দিঘি কলেজের সৌন্দর্যকে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর। এছাড়াও কলেজ প্রাঙ্গনে প্রথিতযশা কবি জীবনানন্দ দাসের নামে একটি ক্যাফে রয়েছে যেটি ক্যাফে জীবনানন্দ নামে পরিচিত।এছাড়া ডিবেটিং ক্লাব, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, বাঁধন, রোভার, বিএনসিসি শাখা রয়েছে।

শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম

[উৎস সম্পাদনা]
  • বাংলাদেশ রোভার স্কাউট
  • বাংলাদেশ জাতীয় ক্যাডেট কোর (সুন্দরবন রেজিমেন্ট)
  • উত্তরণ সাংস্কৃতিক সংগঠন
  • সংস্কৃতি পরিষদ
  • ব্রজমোহন থিয়েটার
  • বাঁধন (ব্লাড ডোনেশন)
  • সন্ধানী (ব্লাড ডোনেশন)
  • ব্রজমোহন কলেজ চলচ্চিত্র সংসদ
  • ব্রজমোহন কলেজ বিতর্ক ক্লাব (বিএমসিডিসি)

অনার্স প্রোগ্রামসমূহ

[উৎস সম্পাদনা]
বছরবিষয়সমূহ
১৯৬৪অর্থনীতি
১৯৭১–৭২বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা
১৯৭৫ইতিহাস
১৯৯০ইংরেজি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, গণিত, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান
২০১৪পরিসংখ্যান

মাস্টার্স প্রোগ্রামসমূহ

[উৎস সম্পাদনা]
বছরবিষয়সমূহ
১৯৭১–৭২বাংলা, অর্থনীতি, ইতিহাস, রসায়ন
১৯৮৯ইংরেজি, মৃত্তিকাবিজ্ঞান (১ম পর্ব)
১৯৯০গণিত (১ম পর্ব)
১৯৯৩সমাজকল্যাণ
১৯৯৪ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান
১৯৯৫সমাজকল্যাণ
২০০৫–০৬ইসলামি শিক্ষা
২০২৬পরিসংখ্যান

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

[উৎস সম্পাদনা]

চিত্রশালা

[উৎস সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[উৎস সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[উৎস সম্পাদনা]
  1. 1 2 "বিএম কলেজ - আমাদের বরিশাল"। ১৬ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১৫

বহিঃসংযোগ

[উৎস সম্পাদনা]