বিষয়বস্তুতে চলুন

আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান কলেজ
ধরনবিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
স্থাপিত২৭ জানুয়ারী ১৯৯৫ খ্রি:
শিক্ষার্থী১৬৮০ জন।
অবস্থান

অবস্থান

[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার লোহাগাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত।[] ১৯৯৫ সালে প্রায় তিন একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয় আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান কলেজ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে বরেণ্য শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী  আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান সওদাগর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলার পীর-আউলিয়ার পূণ্যভূমি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা একটি উপজেলার নাম লোহাগাড়া। এ উপজেলার মাঝখানে চলে গেছে অর্থনৈতিক মহাসড়ক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার। উপজেলাটির প্রাণকেন্দ্রের সওদাগর পাড়ায় দেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান মোস্তফা গ্রুপ অব ইণ্ডাষ্ট্রিজ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দেশ বরেণ্য শিল্পপতি আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান সওদাগর এর জন্মভূমি। এই গুণীজন শিল্প বিস্তারের পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারেও অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মানুষের নিকট শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে তিনি উপজেলা সদরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। উপজেলা সদরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে একক অর্থায়নে ১৯৯৫ সালের ২৭ জানুয়ারীতে আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। কলেজের জন্য প্রায় তিন একর জমি দানপত্র করেন। অত্র কলেজের প্রতিষ্ঠাতাকালীন শিক্ষক গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইলিয়াছ সম্পাদিত  "আলোকিত ব্যাক্তিত্ব আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান" গ্রন্থ থেকে জানা যায়, শিল্পপতি আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান সওদাগর ও তাঁর সহধর্মিনী মহিয়সী নারী মোস্তফা বেগম-এই দুই জনের নামের সমন্বয়ে আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজের নামকরণ হয়। প্রথমে উপজেলা সদর তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বটতলী মোটর স্টেশনে কলেজ চালু করার পরিকল্পনা করা হয়। এখানের মোস্তফা মার্কেটের ভিতরে সাময়িকভাবে ক্লাস রুম তৈরী করা হয়। পরে অস্থায়ীভাবে লোহাগাড়া উপজেলা সদরের শাহপীর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি দ্বিতল ভবনে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামান্য উত্তরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে ঐ সময়ের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করে শাহপীর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শিফট করা হয়। এই দৃষ্টি নন্দন ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিএনপি সরকারের মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পিছনে প্রতিষ্ঠাতা মহোদয়ের ৫ম সুযোগ্য সন্তান আলহাজ্ব শফিক উদ্দিনের ভূমিকা ছিল অনন্য। কলেজটি ১৯৯৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৫-"৯৬ ইং শিক্ষাবর্ষে একাদশ ম্রেণিতে মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৯৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর দ্বাদশ ম্রেণি খোলাসহ উচ্চ মাধ্যমিক ম্রেণির একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৭ সালে অত্র কলেজে প্রতিষ্ঠিত হয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্র। ১৯৯৭-"৯৮ ইং শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি(পাস) কোর্সে বি.এ, বি,এস,এস ও বি,কম চালুর মাধ্যমে কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়। ২০০০-২০০১ ইং শিক্ষাবর্ষ থেকে বি-এসসি (পাস) কোর্স চালুকরণের মধ্য দিয়ে কলেজটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়। ১৯৯৯ সালে স্থাপিত হয় ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষা কেন্দ্র। ১৯৯৮ সালের জানুয়ারীতে কলেজটি এম.পি.ও. ভূক্তি লাভ করে। ২০১২-২০১৩ ইং শিক্ষাবর্ষ থেকে হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স কোর্স ও ২০১৬-২০১৭ ইং শিক্ষাবর্ষ থেকে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। বর্তমানে কলেজে পাচঁতলা বিশিষ্ট ২টি দৃষ্টি নন্দন ও সরকার কর্তৃক প্রদত্ত একটি দৃষ্টি নন্দন ভবন রয়েছে। উভয় ভবনে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবনগুলোতে শিক্ষা পরিবেশ উপযোগি শ্রেণি কক্ষের পাশাপাশি সু-রক্ষিত অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, শিক্ষক মিলানয়তন, অফিস কক্ষ, ছাত্রী মিলনায়তন, সুপরিসর বিজ্ঞান ল্যাব, সমৃদ্ধ কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ আইসিটি শ্রেণি কক্ষ, সমৃদ্ধ লাইব্রেরী ও শিক্ষক ডরমেটরী রয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কলেজটি রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত এবং শিক্ষা-বান্ধব পরিবেশ বিদ্যমান। প্রতিষ্ঠানটির একটি দক্ষ কলেজ গভর্ণিং বডি দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে কলেজ গর্ভর্নিং বডির মান্যবর সভাপতি প্রতিষ্ঠাতার সুযোগ্য সন্তান আলহাজ্ব শফিক উদ্দিন

শিক্ষকবৃন্দ

[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠাতাকালীন অধ্যক্ষ দিদারুল আলম। প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকরা হলেন মাঈন উদ্দিন আহমদ, শোভন কৃঞ্চ চৌধুরী, জহির উদ্দিন, সেতার উদ্দিন আহমেদ, প্রদীপ কুমার নাথ, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, আহমদ কবির, মো: সালাহ উদ্দিন ও মো: আহছানুল্লাহ। এছাড়া আরও ২৫ জন অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী এ প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করেন।

শিক্ষা কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

এটি একটি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এ প্রতিষ্ঠানে সহ-শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে স্নাতক (পাস) কোর্সের পাশাপাশি এ কলেজে অনার্স কোর্সও চালু রয়েছে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "লোহাগাড়া উপজেলা"www.lohagara.chittagong.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২২[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

২। আলোকিত ব্যাক্তিত্ব আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান-লেখক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইলিয়াছ ৩। লোহাগাড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য- লেখক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইলিয়াছ

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]