শমসের মবিন চৌধুরী
শমসের মবিন চৌধুরী | |
|---|---|
| জন্ম | ১৯৫০ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| পরিচিতির কারণ | মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিক, সেনা অফিসার ও রাজনীতিবিদ |
| উপাধি | বীর বিক্রম |
| রাজনৈতিক দল | তৃণমূল বিএনপি |
| দাম্পত্য সঙ্গী | শাহেদা ইয়াসমিন |
| পিতা-মাতা |
|
শমসের মবিন চৌধুরী (জন্ম: ১৯৫০) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিক, সেনা অফিসার ও রাজনীতিবিদ। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে। [১] বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন।[২]
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
[সম্পাদনা]শমসের মবিন চৌধুরী ১৯৫০ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম শেহেরু। তার বাবার নাম আবদুল মবিন চৌধুরী এবং মায়ের নাম তাহমেদুন নাহার। চার ভাইয়ের মধ্যে শমসের মবিন তৃতীয়। তার স্ত্রীর নাম শাহেদা ইয়াসমিন। এই দম্পতীর দুই ছেলে।
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]১৯৭১ সালে শমসের মবিন চৌধুরী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রতিরোধ যুদ্ধকালে চট্টগ্রামের কালুরঘাটের যুদ্ধে তিনি আহত হন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে বন্দী করে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে শমসের মবিন পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। দুই বছর সেই দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৭ সালে তিনি অবসরে যান।
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা]শমসের মবিন চৌধুরী ২০০৮ সালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
২০০৯ সালে বিএনপির কাউন্সিল হলে তাকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়।
২০১৫ সালের শুরুর দিকে বিএনপি ও শরিকদের টানা অবরোধ-হরতালের মধ্যে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। ওই ২০১৫ সালের মে মাসে জামিনে মুক্তি পেলেও এরপর আর তাকে রাজনীতিতে সক্রিয় হননি।
অবসর ভেঙে ২০১৮ সালে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগদান করেন এবং সিলেট-৬ আসন থেকে তিনি নির্বাচন করেন।[৩][২]
পরে বিকল্পধারা বাংলাদেশে থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নাজমুল হুদার গড়া দল তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান দিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। ২০২৪ সালের সালের নির্বাচনে তার নেতৃত্বে তৃণমূল বিএনপি অংশ নিয়েছিল। তবে তিনিসহ কেউ জয়ী হতে পারেনি।
২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকারের কাছে এক পত্রে অবসরে যাওয়ার কথা জানান।[৪]
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
[সম্পাদনা]১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শমসের মবিন চৌধুরীসহ সেনাসদস্যদের ব্যারিকেড পরিষ্কার করার দায়িত্ব দেয়া হয়। রাত ১২টায় চট্টগ্রাম ষোলশহর ক্যান্টনমেন্টের গেটে গিয়ে গুলির আওয়াজ শুনতে পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি গাড়িতে উঠে ষোলশহরে এইট বেঙ্গলে যান। সেখানে গিয়ে শুনতে পান সকল পশ্চিম পাকিস্তানি অফিসারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৬ মার্চ ভোরে কালুরঘাটের একটু দূরে পৌঁছান তিনি এবং শপথ গ্রহণ করেন। ১১ এপ্রিল সকাল আটটার সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী কালুরঘাটে ভীষণ আর্টিলারি ফায়ার শুরু করে। এ সময়ে শমসের মবিন চৌধুরী এবং হারুন (বীর উত্তম) অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে নিজেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক ঘেরাও অবস্থায় পান। সঙ্গে থাকা অন্য সদস্যরা সবাই পুলের অপর পারে চলে যেতে সক্ষম হয়। শমসের মবিন চৌধুরী ট্রেঞ্চ থেকে বের হয়ে চারদিকে চাইনিজ স্টেনগান দিয়ে গুলি ছুড়তে থাকেন। হঠাৎ একটা গুলি এসে লাগে তার কোমরে। তারপর শমসের মবিন চৌধুরীকে ঢাকায় পাঠানো হয়। নভেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট আনা হয় এবং বলা হয় কোর্ট মার্শাল করা হবে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর তারিখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। তিনি মুক্ত হয়ে যান। শমসের মবিন চৌধুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কর্মরত থাকাকালে তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। পর্যায়ক্রমে পররাষ্ট্রসচিব পদে উন্নীত হন এবং পরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেন। তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। [৫]
পুরস্কার ও সম্মাননা
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না"| তারিখ: ১০-১১-২০১২"। ২৭ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১৪।
- 1 2 "তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের, মহাসচিব তৈমূর"। দৈনিক আজকের পত্রিকা। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
- ↑ "আবার রাজনীতিতে ফিরলেন শমসের মবিন"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০১৮।
- ↑ bdnews24.com। "অবসরের ঘোষণা শমসের মবিন চৌধুরীর"। অবসরের ঘোষণা শমসের মবিন চৌধুরীর (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২৫।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ একাত্তরের বীরযোদ্ধা, খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা (দ্বিতীয় খন্ড)। প্রথমা প্রকাশন। মার্চ ২০১৩। পৃ. ১৪২। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯০২৫৩৭৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|coauthors=(সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক)
- বীর বিক্রম
- জীবিত ব্যক্তি
- সিলেট জেলার রাজনীতিবিদ
- রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত
- জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত
- ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত
- শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার
- বাংলাদেশী কূটনীতিবিদ
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত
- ১৯৫০-এ জন্ম
- নটর ডেম কলেজ, ঢাকার প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- মুক্তিবাহিনীর কর্মকর্তা
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক রাজনীতিবিদ
- বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক রাজনীতিবিদ
- তৃণমূল বিএনপির রাজনীতিবিদ
- চট্টগ্রাম জেলার ব্যক্তি
- পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার
- সিলেট জেলার ব্যক্তি