২০২০ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাংলাদেশে ২০১৯–২০ করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী
রোগকোভিড-১৯
ভাইরাসের প্রজাতিসার্স-কোভ-২
প্রথম সংক্রমণের ঘটনাঢাকা
আগমনের তারিখ৭ মার্চ ২০২০
(৩ সপ্তাহ ও ৫ দিন)
উৎপত্তিউহান, হুপেই, চীন
নিশ্চিত ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তি৫৬ (সরকারি )
_ (বেসরকারি)
বর্তমান ব্যাধিগ্রস্ত ব্যক্তি২৪ (সরকারি)
-- (বেসরকারি)
সুস্থ হয়েছে২৬
মৃতের সংখ্যা
[১](সরকারি)
_ (বেসরকারি)
প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট
corona.gov.bd

২০১৯-২০ করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীটির প্রথম ঘটনা বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারী ২০২০ সালে হয়েছিল যেটি চীন থেকে শুরু হয়েছে। ২ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে সর্বমোট ১,৯০৬ জনের; গত (১ এপ্রিল দুপুর ১২ টা - ২ এপ্রিল দুপুর ১২ টা) ২৪ ঘন্টায়, ১৪১ জনের এবং এবং আক্রান্ত পাওয়া গেছে ২ জন। এখন পর্যন্ত পরীক্ষায় আক্রান্ত পাওয়া গেছে মোট ৫৬ জনের; এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ী চলে গেছেন ২৬ জন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৪ জন। দেশে মোট মৃত্যু ৬ জনের এবং গত ২৪ ঘন্টায় ০ জন। (সূত্র: আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর)

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম পরীক্ষা করাকেই, দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম পাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (২৯ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে সর্বোমোট পরীক্ষা করা হয়েছে ১০৮৫ টি যা ভারতে ২৭,৬৮৮ টি এবং পাকিস্তানে ১৪,৩৩৬ টি)। [২]

এই ব্যাধিটির সাধারণ উপসর্গ হিসেবে জ্বর, সর্দি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে মাংসপেশীর ব্যথা, বারবার থুতু সৃষ্টি এবং গলায় ব্যথা দেখা যেতে পারে।[৩][৪] বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপসর্গগুলো নমনীয় আকারে দেখা যায়,[৫] কিন্তু কিছু গুরুতর ক্ষেত্রে ফুসুফুস প্রদাহ (নিউমোনিয়া) এবং বিভিন্ন অঙ্গের বিকলতাও দেখা যায়।[৬][৭] সংক্রমিত হবার পরে এই ব্যাধিতে মৃত্যুর হার গড়ে ৩.৪%, যেখানে ২০ বছরের নিচের রোগীদের মৃত্যুর হার ০.২% এবং ৮০ বছরের উর্ধ্বে রোগীদের প্রায় ১৫%।[৮][৯][১০]

বাংলাদেশ সরকার জনগনকে ঘরে অবরুদ্ধ থেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন। নিজে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখতে এটা মেনে চলা খুবই জরুরী দরকার

ঘটনাক্রম[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ঘটনা  ()
     মৃত্যু        সুস্থ হয়েছে        সক্রিয় ঘটনা
তারিখ
ঘটনার সংখ্যা
মৃত্যুর সংখ্যা
২০২০-০৩-০৭
(প্র.না.)
২০২০-০৩-০৮
(+২০০%)
২০২০-০৩-০৯
(=)
২০২০-০৩-১৬
(+১০০%)
২০২০-০৩-১৭
(+৩৩%)
২০২০-০৩-১৮
(=) (+)
২০২০-০৩-১৯
১১(+৩৮%) (=)
২০২০-০৩-২০
১৪(+২৭%) (=)
২০২০-০৩-২১
২৪(+৭১%) (+১)
২০২০-০৩-২২
২৭(+১৪%) (=)
২০২০-০৩-২৩
৩৩(+২২%) (+১)
২০২০-০৩-২৪
৩৯(+১৮%) (+১)
২০২০-০৩-২৫
৪৪(+১৩%) (+১)
২০২০-০৩-২৬
৪৪(+০%)
২০২০-০৩-২৭
৪৮(+৯%)
উৎস: [১১]

৭ মার্চ, আইইডিসিআর বাংলাদেশে প্রথম করোনভাইরাস শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে। রোগীদের মধ্যে দুজন পুরুষ প্রবাসী বাংলাদেশী ছিলেন যারা সবে ইতালি থেকে ফিরে এসেছিলেন এবং একজন মহিলা আত্মীয় ছিলেন, যিনি তাদের একজনের সংস্পর্শে এসে সংক্রামিত হন।

৮ মার্চ, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিন জন ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, তাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে।[১২] তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। এর আগে আইইডিসিআর এই বলে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, দেশের জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে, করোনভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ, এবং একই সাথে প্রতিষ্ঠানটি ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা ঘোষণা করে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে, বাংলাদেশ সরকার এর আগে বাংলাদেশে প্রবেশের সমস্ত বন্দরগুলিতে তাপীয় পর্দা (থার্মাল স্ক্রিনার) স্থাপন করে এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলিতে স্থল ও বিমান ভ্রমণ স্থগিত করে। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় যে অন্যান্য দেশ থেকে আসা প্রায় একশত প্রবাসীকে নিজগৃহে সঙ্গনিরোধ (হোম কোয়ারান্টিন) অবস্থায় রাখা হয়েছে।

১০ মার্চ, আইইডিসিআর-এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্ত তিনজন ছাড়া বাংলাদেশে নতুন কোন আক্রান্ত ব্যক্তি নেই।[১৩]

১১ মার্চ, আইইডিসিআর-এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ১০ মার্চের পরীক্ষায় আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুই জন সুস্থ হয়েছেন এবং তাদের ছাড়পত্র প্রদান করা হবে।[১৪]

১২ মার্চ, দুইজন করোনভাইরাস রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে, পরীক্ষা করে তাঁদের শরীরে কোভিড-১৯ পাওয়া যায়নি। ডাব্লুএইচও প্রোটোকল ব্যবহার করে তাদের পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং পরপর দুটি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে তারা আর সংক্রামিত নন। ফলস্বরূপ, আইইডিসিআর ছাড়পত্র দিয়ে তাদের বাড়িতে যেতে অনুমতি দেয়া।

১৪ মার্চ, আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, পুনরায় আরো ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।[১৫]

১৬ মার্চ, ৩১ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১৮ মার্চ হতে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষিত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর স্থগিত করা হয়।[১৬][১৭][১৮] আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, পুনরায় আরো ৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।[১৯]

১৭ মার্চ, আইইডিসিআর এর পরিচালক সেব্রিনা ফ্লোরা জানান নতুন করে আরও ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।[২০]

১৮ মার্চ, ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় আরও ৪ জন, এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ তে পৌছায়।[২১][২২] আইইডিসিআর কর্তৃক বলা হয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর প্রথম মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বয়স ছিল ৭০ বছর। মারা যাওয়া ব্যক্তি বিদেশ থেকে আসা ও সংক্রমিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।[২৩]

১৯ মার্চ, বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় আরও ৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা মোট ১৭ জনে পৌঁছায়। নতুন করে যে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন, তারা ইতালিফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।[২৪] ঐদিন বিকালে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা লক ডাউন তথা ওষুধ, কাঁচামাল, মুদি দোকান বাদে সব দোকানপাট ও গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।[২৫][২৬] ঢাকা থেকে রাজশাহী এবং রাজশাহী থেকে ঢাকার সকল বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।[২৭] সচিবালয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রস্তুতি বিষয় জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান করোনাভাইরাসের কারণে সঙ্গনিরোধ (কোয়ারেন্টিন) ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকাজে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে তুরাগতীরের মাঠ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।[২৮] বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে সকল প্রকার ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।[২৯]

২০ মার্চ, বাংলাদেশে নতুন করে তিনজন আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা সংবাদ সম্মেলনে জানান এদের সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রবাসীর সংস্পর্শে ছিলেন।[৩০]

২১ মার্চ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২য় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরো ৪ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪।[৩১] এদিন মধ্যরাত থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ১০ রুটের সব ধরণের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়ে।[৩২]

২২ মার্চ, নতুন করে আরো ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। আগের তিনজনসহ মোট পাঁচজন সুস্থতা লাভ করে।[৩৩] পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।[৩৪][৩৫] বিকালে এক ঘোষণায় দোকান মালিক সমিতি ২৫শে মার্চ থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সব বিপণিবিতান বন্ধ ঘোষণা করে।[৩৬]

২৩ মার্চ, নতুন করে আরও ৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত এবং ১ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩ এ।[৩৭] মন্ত্রিপরিষদের ঘোষণায় ২৯শে মার্চ থেকে ২রা এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষিত হয়। সাপ্তাহিক ছুটি সহ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কাঁচাবাজার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হাসপাতালসহ জরুরি সেবা বিভাগ বাদে সকল সরকারি অফিস বন্ধ হয়। একই সাথে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়।[৩৮]

২৪ মার্চ, নতুন ৬ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তার মধ্যে একজন ছিলেন বিদেশী প্রত্যাবাসী। ৭০ বছর বয়সী একজন কোভিড-১৯-এ মারা যান।[৩৯]

২৫ মার্চ, নতুন কোনো আক্রান্তের ঘটনা ঘটেনি, নতুন একজন মৃত্যুবরণ করেন।[৪০]

২৬ মার্চ, নতুন ৫ জন আক্রান্ত হন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৪৪-এ পৌঁছায়। এর মধ্যে ১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।[৪১]

২৭ মার্চ, নতুন আরো ৪ জন আক্রান্ত হন। করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮-এ পৌঁছালো। এর মধ্যে ২ জন চিকিৎসক।[৪২]

২৮ মার্চ, নতুন করে ০ জন আক্রান্ত হন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা এখনো ৪৮ জন। এর মধ্যে ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।[৪৩]

২৯ মার্চ, নতুন কোনো আক্রান্তের ঘটনা ঘটেনি, এমনকি কোনো রোগী সুস্থ বা মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়নি।[৪৪]

৩০ মার্চ, নতুন ১ জন আক্রান্ত হন। করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন, যার মধ্যে ১৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং এর মধ্যে ৩ জন ষাটোর্ধ ব্যাক্তিও আছেন।[৪৫]

৩১ মার্চ, নতুন করে আরও ২ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫১ জনে। সুস্থ হয়েছেন আরও ৬ জন, মোট সুস্থের সংখ্যা এখন ২৫ জন।[৪৬]

১ এপ্রিল, নতুন করে আরও ৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত এবং ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৪-এ। এছাড়াও আইসোলেশনে রয়েছেন ৭৩ জন।[৪৭]

২ এপ্রিল, আরোও ২ জনের দেহে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫৬ জন। নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য না আসায় বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের মোট সংখ্যা আগের মতোই ৬ জনে রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।[৪৮]

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

কোভিড-১৯ পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহ[সম্পাদনা]

২ এপ্রিল বিকাল ৫ ঘটিকা পর্যন্ত সন্দেহজনক কোভিড-১৯ রোগীর ২৫৫ টি নমুনা দেশের ৩৯ টি জেলা থেকে মেডিকেল টেকনোলজিষ্টগণ পিসিআর টেস্টের জন্য সংগ্রহ করেছেন।

২ এপ্রিল', সন্ধ্যা ৭ ঘটিকা পর্যন্ত ঢাকা মহাননগরীর ৯ টি এবং ঢাকার বাইরে ৫টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ঢাকা মহাননগরীর বাইরে ৪০ টি জেলার সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২৬৭ ট নমুনা সংগৃহীত হয়েছে। সন্ধ্যা ৭ ঘটিকা পর্যন্ত আইইডিসিয়ার এর ১০০ টি সহ সর্বোমোট ৪৬৭ টি নমুনা সংগৃহীত হয়েছে। [২ এপ্রিলের জরুরী সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে]

২ এপ্রিলের, তথ্যানুযায়ী দেশে ১১ টি প্রতিষ্ঠানে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৭ টি ঢাকার মধ্যে এবং ৪ টি ঢাকার বাইরে। ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলো হল:

১. আইইডিসিআর (IEDCR) (গত ২৪ ঘন্টা): ১১৮ জন

২. আইপিএইচ (IPH) (গত ২৪ ঘন্টা): ০ জন

৩. আইসিডিডিআরবি (ICDDRB),(গত ২৪ ঘন্টা): ৩ জন

৪. ইন্সটিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ (ideSHi)(অলাভজনক),(গত ২৪ ঘন্টা):__ জন

৫. বিআইটিআইডি (BITID),(গত ২৪ ঘন্টা): ৮ জন

৬. আর্মড ফোর্সেস ইন্সটিটিউট অব প্যাথলজি, (গত ২৪ ঘন্টা): ৪ জন

৭. শিশু হাসপাতাল (গত ২৪ ঘন্টা): ৪ জন

৮. বিএসএমএমইউ (BSMMU) (গত ২৪ ঘন্টা): ৪ জন [২ এপ্রিলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুসারে](১ এপ্রিল দুপুর ১২- ২ এপ্রিল দুপুর ১২)

ঢাকার বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হচ্ছে:

৯. বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিকাল মেডিসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিস হাসপাতাল, চট্টগ্রাম (গত ২৪ ঘন্টা): _ জন

১০. রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (গত ২৪ ঘন্টা): _ জন

১১. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে(গত ২৪ ঘন্টা): _ জন

১২. রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (গত ২৪ ঘন্টা): _ জন

ঢাকার বাইরের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগীদের বিনামূল্যে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হচ্ছে। অধ্যক্ষগণ জনগণকে নমুনা পাঠানোর অনুরোধও জানিয়েছেন। আইইডিসিআর এর পরিচালক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সন্দেহভাজন রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিকটস্থ ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

ঢাকার বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা করার জন্য প্রস্তুত আছে:

  • ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডেসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার, মহাখালী, ঢাকা
  • ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
  • কক্সবাজার মেডিকেল কলেক, কক্সবাজার

২৯ মার্চের, তথ্যানুযায়ী দেশে ৭ টি স্থানে করোনা টেস্ট করানো হচ্ছে এবং সিঘ্রই ১১ টি প্রতিষ্ঠানে কোভিড-১৯ স্ক্রিনিং শুরু করা হবে। ২৯ মার্চ 'আইইডিসিআর' এর নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রি জাহিদ মালিক বলেন যেঃ আইইডিসিআর (IEDCR), আইপিএইচ (IPH), ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন, আইসিডিডিআরবি (ICDDRB), শিশু হাসপাতাল, চিলড্রেন হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও Idesh নামের একটি বিজ্ঞানভিত্তিক অলাভজনক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই PCR (পলিমারেজ চেইন রিএকশন) টেস্ট করার জন্য প্রস্তুত আছে এবং এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

ঢাকার বাইরে প্রতিটি বিভাগে PCR পরীক্ষা সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং চট্টগ্রাম বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিকাল মেডিসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিস হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রংপুর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে PCR মেশিন বসানোর কাজ প্রায় শেষ এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অন্য বিভাগগুলোতেও করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা শুরু হবে।

তিনি আরও বলেছেন, ‘এ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে তিন লাখ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের এ মুহূর্তে প্রায় ৫০০ ভেন্টিলেটর হাতে আছে। এ ছাড়া আরো সাড়ে ৪০০ আসবে, বর্তমানে আমাদের হাতে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার কিট আছে ৪৫ হাজার।’

‘আপনারা এটা জেনে খুশি হবেন, আমাদের হাতে আড়াইশ ভেন্টিলেটর চলে এসেছে। তা আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে হস্তান্তর করেছি। এবং আমাদের ইমপোর্টেও প্রায় সাড়ে ৩০০ ভেন্টিলেটর আছে। অনেক বড় বড় দেশেও এতগুলো ভেন্টিলেটর থাকে না। আমরা এর আগে প্রস্তুতি নিয়েছি বিধায় বাংলাদেশ ভালো আছে।’

এরপর তিনি বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান।[৪৯]

ঢাকা শিশু হাসপাতাল এর পরীক্ষা কার্যক্রম Child Health Research Foundation এর সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে।

চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ (BITID) এ ২৮ মার্চ পর্যন্ত মোট ৮ জন ব্যক্তির পরিক্ষা করা হয় এবং নতুন কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি। [৫০]

এছাড়াও খুলনা ও সিলেট (এম এ জি ওসমানী) এর সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিঘ্রই (PCR) মেশিন স্থাপন করা হবে। [২৫, ২৬, ২৭ মার্চ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এর তথ্যানুসারে][৫১]

২৮ মার্চ, জানানো হয়েছিলো যে রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের আরও ৬ মেডিক্যাল কলেজে পিসিআর মেশিন পাঠানো হয়েছে।[৫২]

২৭ মার্চে রংপুর মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে (PCR) মেশিন স্থাপন করা হয় এবং এর অধ্যক্ষ আশা করছেন ২৮ তারিখ থেকেই কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা যাবে। [৫৩] এছাড়াও এর আট উপজেলাতে হটলাইন সেবা চালু করেছে জেলা প্রশাসন।[৫৪]

২১ তারিখে বলা হয়েছিল ১৬ টি (PCR) মেশিন ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবংং ৭ টি মেশিন CMSD তে রয়েছে। [৫৫]

৩১ মার্চের তথ্যানুসারে, দেশে কোভিড–১৯ রোগের পরীক্ষার পরিসর ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে,বারবার অনুরোধের পরও 'আইইডিসিআর' পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারছে না অন্যদিকে আবার প্রভাবশালীরা পরীক্ষার জন্য প্রভাবশালীরা পরীক্ষার জন্য 'আইইডিসিআর' কে চাপ দিচ্ছে এমন তথ্যও গণমাধ্যমে এসেছে।

'আইইডিসিআর' ২৮ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত কোভিড–১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষার খবর প্রকাশ করে এবং সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কতটি নমুনার পরীক্ষা করেছে তা জনায়। প্রতিদিনের সংবাদ সম্মেলনে মোট সংখ্যাটি তারা প্রকাশ করে এবং এই হিসাবটি তারা প্রতি সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমেও পাঠায় (করোনা ইনফো ওয়েবসাইটে পাবেন)। তবে ৩১ মার্চের তাদের দেওয়া হিসাবে কিছু গরমিল দেখা যায় (৬৩টি নমুনা বেশি পরীক্ষা দেখানো হয়েছিলো)।

আইইডিসিআরের একটি সূত্র থেকে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি জানা গেছে। 'আইইডিসিআর' নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিলে তখন নিয়ে প্রশিক্ষিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে আনেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ২৪ জনের একটি দল ঢাকায় কাজ করেন যারা দুই পালায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি বা হাসপাতালে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে আনেন। যে কেউ চাইলেই আইইডিসিআরে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করাতে পারেন না।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ এ (বিআইটিআইডি) চার দিন আগে পরীক্ষা শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

কক্সবাজারেও একটি ল্যাবরেটরি আছে 'আইইডিসিআর' এর তবে গতকাল পর্যন্ত সেখানে কোনো পরীক্ষা শুরু হয়নি। একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন যে তাকে নমুনা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে তবে কোন ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী দেওয়া হয়নি। জানা যায়, দেশে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিটেরও সংকট আছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রি দাবী করেন যে, লোকজন তেমন একটা এগিয়ে আসছে না বলে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে পরীক্ষা খুব কম হচ্ছে। তিনি এখানকার জনগণকে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার বা ফোন করার আহ্বান জানান।

এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটা এগিয়ে আছে। এর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, এছাড়াও পরীক্ষার জন্য যারা যোগাযোগ করছে, তাদেরও নমুনাও সংগ্রহ করা হচ্ছে।[৫৬]

তারা দাবী করছেন যে মাত্র ৪ ঘন্টায় তারা কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল দিতে সক্ষম। এখানে প্রথমে চিকিৎসকেরা রোগীর সঙ্গে কথা বলবেন এবং লক্ষণ বিচার করবেন। যদি সন্দেহ হয় ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত তাহলেই কেবলমাত্র তারা পরীক্ষা করবেন। রোগীর নমুনা সংগ্রহের পর চার ঘণ্টার মধ্যে ফল জানানো হবে অর্থাৎ দিনে দিনেই ব্যক্তি জানতে পারবেন যে তিনি করোনায় আক্রান্ত কি না।

এখানে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিনামূল্যেই রোগীদের পরীক্ষা করা হবে। এখানে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে আসা ব্যক্তির মুখের লালা বা নাকের সোয়াব সংগ্রহ করা হয়।

এর উপাচার্য বলেন, ‘যারা সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা ফিভার ক্লিনিক নামে আলাদা বিভাগ চালু করেছি। যে কেউ আমাদের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে পারবেন। আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হবে, তাদের পরীক্ষা করা হবে।’

পরীক্ষাপদ্ধতীঃ করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য দুটি মেশিন (যন্ত্র) ব্যবহার করা হয় যার একটির নাম এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিন এবং অপরটি রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন।

প্রথমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মুখের লালা কিংবা নাকের সোয়াব নমুনা হিসিবে সংগ্রহ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ল্যাব টেকনোলোজিস্ট। এরপর ওই নমুনা নিয়ে আসা হয় ল্যাবরেটরির করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের 'এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু' মেশিনে। নমুনাগুলো প্রথমে ইনঅ্যাক্টিভেশন করা হয়। এই মেশিনে নমুনা আসার পর বিভিন্ন রিএজেন্টের মাধ্যমে তা প্রসেসিং করা হয়। এরপর বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে প্রস্তুত করা নমুনা নিয়ে আসা হয় রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিনে। নমুনাগুলো প্রসেসিং করার পর করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের কিটসের মাধ্যমে রাইবো নিউক্লিক এসিড (RNA) বের করে আনা হয়। এরপর RNA কোষের নমুনা ল্যাবরেটরিতে রাখা আরেকটি এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে রাখা হয়। সংযুক্ত করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদি। এরপর বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে প্রস্তুত করা নমুনা নিয়ে আসা হয় রিয়েল টাইম পিসিআর (PCR) মেশিনে। এই মেশিনের সঙ্গে কম্পিউটার সংযুক্ত রয়েছে। কম্পিউটারে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের সফটওয়্যার চালু করার পর যদি নমুনা কোষে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি থাকে, তখন তা কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে ওঠে। তখন করোনা ভাইরাস পজিটিভ দেখায়। আর যদি নমুনা কোষে করোনা ভাইরাস না পাওয়া যায়, তখন করোনা ভাইরাস নেগেটিভ লেখা ভেসে ওঠে কম্পিউটার পর্দায়।

এখানকার ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বলেন, ‘একজন ব্যক্তির কোষের আরএনএ তে করোনা ভাইরাস থাকলেই তিনি করোনা ভাইরাস পজিটিভ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। ল্যাবরেটরির পিসিআর মেশিনের যুক্ত কম্পিউটার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওই ব্যক্তির করোনা ভাইরাস পজিটিভ। আমাদের হাসপাতালে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার ল্যাবরেটরিতে যে কিট ব্যবহার করা হয় তা চায়নার একটি কোম্পানির। কোম্পানির নাম সানশিউর বায়োটেক লিমিটেড। এই কোম্পানির কিট ব্যবহার করে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হচ্ছে।’

‘করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের ল্যাবরেটরিতে বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। যখন ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস রিস্ক লেবেল যখন দুই এর ওপরে হয় তখন বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনটি ব্যবহার করা হয়। ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের চার ধরনের রিস্ক লেবেল রয়েছে। রিস্ক এক, রিস্ক দুই, রিস্ক তিন, রিস্ক চার। করোনা ভাইরাস রিস্ক দুই এর ওপরে। যে কারণে বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই মেশিন ছাড়া কোনোভাবে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে থাকা ব্যক্তির নমুনা আইসোলেশন কিংবা প্রসেসিং করা সম্ভব নয়।’

‘যে পদ্ধতিতে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হচ্ছে, সেটি হলো পিসিআর পদ্ধতিতে মলিকুলার টেস্ট। এটা রক্তের পরীক্ষা নয়। যে কোনো ব্যক্তি আমাদের হাসপাতালে এসে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা করতে পারবেন।’[৫৭]

কোভিড-১৯ চিকিৎসা কেন্দ্রসমূহ[সম্পাদনা]

২ এপ্রিলের, তথ্যানুযায়ী দেশে ১১ টি প্রতিষ্ঠানে কোভিড-১৯ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং এর সবগুলোই ঢাকাতে অবস্থিত। কোভিড-১৯ এর জন্য সুনির্ধারিত (ডেডিকেটেড) করা সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালগুলো হল:

১. কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল,মন্ডল বাড়ী রোড,৬ নম্বর সেক্টর, উত্তরা, ৩১৯,ঈশা খাঁ রোড,ঢাকা-১২৩০; যোগাযোগ: 01999-956290

২. বাংলাদেশ রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল, কমলাপুর আউটার সার্কুলার রোড, কমলাপুর; যোগাযোগ: +8802-55007420

৩. মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, নয়া বাজার, ইংলিশ রোড, মতিঝিল, ঢাকা-১১০০; যোগাযোগ: 02-57390860, 02-7390066

৪. আমিনবাজার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, আমিনবাজার সাভার; যোগাযোগ: 01700000000, 01712290100

৫. জিনজিরা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

৬. সাজিদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, ১২৫,জুরাইন মেডিকেল রোড,জুরাইন, ঢাকা-১২০৪; যোগাযোগ: 01777-771625

৭.ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ, যোগাযোগ: 01819220180

8. শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল

৫. জাতীয় বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল

৬. মিরপুর মেটারনিটি হাসপাতাল, মিরপুর রোড, বড়বাগ, রোড-২; যোগাযোগ: 02-9002012

৭. কামরাঙ্গিরচর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, লালবাগ, ঢাকা; যোগাযোগ: 01726321189

(সংক্রামক রোগ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল)

বেসরকারী হাসপাতাল: (সাজিদা ফাউন্ডেশন, রিজেন্ট হাসপাতাল (উত্তরা,মিরপুর), ইউনাইটেড হাসপাতাল (মুন্সিগঞ্জ), আকিজ গ্রুপ)

২৭ মার্চ থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষায় পরিবর্তন এনেছে আইইডিসিআর। এখন বিদেশ ফেরতদের সংস্পর্শে আসাদেরও নমুনা পরীক্ষা করছে তারা। এক্ষেত্রে যাদের ৬০-এর বেশি বয়স এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভুগছেন তাদের মধ্যে লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা গেলে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়াও যেসব নিউমোনিয়া রোগীর ডায়াগনোসিস করা হয়নি এবং যাদেরকে বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে যেতে হয় এমন মানুষদেরর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে, তাদেরও নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এছাড়াও প্রতি জেলায় হটলাইন নাম্বার চালু করা হয়েছে যাতে জেলায় যারা গিয়েছেন তাদের মধ্যেও লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে যাতে নমুনা সংগ্রহ করে অতি দ্রুত বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো যায়। 'আইইডিসিআর' পরীক্ষার ভিত্তিতে দেখতে চায় দেশের কোথাও কোনও সংক্রমণ রয়েছে কিনা।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বেশ কিছু কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রথমে আইইডিসিআর এ খোলার পর পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরেও একটি সমন্বিত কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে বলে আইইডিসিআর পরিচালক দাবী করেন।

তিনি আরও বলেছেন ‘হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর নমুনা হাসপাতালগুলোতেই সংগ্রহ করা হবে এবং তারাই আমাদের কাছে পাঠাবে, যাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আইইডিসিআর কর্মীদের নমুনা সংগ্রহ করতে বিলম্ব না হয়।’

‘নম্বর বাড়ানোর পাশাপাশি দুটি হান্টিং নম্বর করা হয়েছে। তা হলো—১৯৪৪৩৩৩২২ এবং ১০৬৫৫। এই দুই নম্বরে যোগাযোগ করলে আমাদের লোক সেখানে চলে যাবে।’[৫৮]

উল্লেখ্য পূর্বের হটলাইন নাম্বারগুলো (১২ টি) দেশের মোবাইল ফোন অপরাটররা (বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, টেলিটক ও রবি) টোল ফ্রি করে দিয়েছিলো । যাতে প্রতিটি নম্বরে চেষ্টা না করতে হয় তাই এই 'হান্টিং নম্বর'। যখনি যে কোনো লাইন খোলা থাকবে তখন কল সেখানে চলে যাবে।[৫৯]

২৮ মার্চের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, এখন থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএইউ) সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা হবে এবং ৭ -১০ দিনের মধ্যেই দেশের সব কটি বিভাগে পরীক্ষার ব্যবস্থা হবে। এছাড়াও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুয়েত মৈত্রীতে ১৬টি ভেন্টিলেটর, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে ৮টি ভেন্টিলেটর ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যা বাড়ানো হয়েছে।[৬০]

দেশের ৬৪টি জেলা এবং ১০০ উপজেলায় সকল ধরনের ল্যাবরেটরি, ট্রেনিং টেকনিশিয়ান, ইপিআই টেকনিশিয়ান, এমটি ল্যাব, রেডিওগ্রাফারদের কিভবে পিসিআর মেশিন ব্যবহার করতে হয় সে সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে খুব সিঘ্রই।

সব বিভাগে পিসিআর মেশিন বসানোর পদক্ষেপ গ্রহণ নেয়া হয়েছে এবং ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই এগুলোতে কোভিক-১৯ টেস্ট শুরু করা সম্ভব হবে বলে তারা দাবী করেছে।

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অতিরিক্ত ১৬টি ভেন্টিলেটর মেশিন বসানো হয়েছে এবং শেখ রাসেল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস রিসার্চ অ্যান্ড হাসপাতালে আটটি ভেন্টিলেটর বসানোর কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই এটি ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে কোভিক-১৯-এর জন্য সম্পূর্ণরুপে নির্ধারিত করা হয়েছে। সেখানে আইসিইউ শয্যা বসানোর কাজ চলছে।[৬১]

২৯ মার্চ, জানানো হয়, কোভিড-১৯ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও হাসপাতাল সংক্রমণরোধ এবং নিয়ন্ত্রনের জন্য ইতিমধ্যেই ৭১০ জন চিকিৎসক ও ৪৩ জন নার্সকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা থেকে ২ জন চিকিৎসক অর্থাৎ আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসারগণ ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল , শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধী ইইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, সাজিদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, মিরপুর পরিবার পরিকল্পনা হাসপাতাল (লালকুঠি) এবং রিজেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সগণ এই লপ্রশিক্ষন গ্রহণ করেছেন। তা ছাড়া দেশের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল টেকনোলজিষ্টদের কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এখন থেকে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিষ্টগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান এবং ইপিআই সার্ভিলেন্স টিমের মাধ্যমে - সন্দেহজনক কোভিড-১৯ রোগীর বাড়ী থেকে নমুনা সংগ্রহ করবেন এবং নমুনাগুলো পিসিআর টেস্ট সেবা প্রদানকারী নিকটস্থ বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল / আইপিএইচ এ প্রেরণ করবেন। জনগণকে সন্দেহজনক কোভিড-১৯ সংংক্রমনের বিষয়ে স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩), ৩৩৩, আইডিসিআর এর হটলাইনসমূহ (০১৯৪৪৩৩৩২২২২, ০১৬৫৫) এবং স্থানীয় হাসপাতালসমূহে কল করে অবহিত করতে অনুরোধ জানানো হয়। কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে না আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কেননা এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ১১২৭ জন চিকিৎসক এই সেবা (মোবাইল চিকিৎসা সেবা "উবার ডাক্তার") প্রদানে যুক্ত হয়েছেন এবং ৭২২৭ জন চিকিৎসক এ সেবা প্রদানের জন্য নিবন্ধনকৃত হয়ে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছেন।

ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) মজুদ ও সরবরাহ[সম্পাদনা]

মোট সংগ্রহ: ৪,১৩,৩৬০ টি

মোট বিতরণ: ৩,৫৭,২৫০ টি

মোট মজুদ: ৫৬,১১০ টি

দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩,৫৭,২৫০ টি (তিন লাখ ছাপান্ন হাজার দুইশত পঞ্চাশ টি) ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) সরবরাহ করা হয়েছে। [২ এপ্রিল সকাল ৮ ঘটিকা পর্যন্ত সর্বশেষ আহরন ও বিতরন অনুযায়ী] [৬২]

এক্সামিনেশন অ্যান্ড সার্জিক্যাল গ্লোভস (বড়, মধ্যম ও ছোট)- সর্বোমোট অধিগ্রহণঃঃ ৩৭২৮০০, সর্বোমোট সরবরাহঃঃ ২৯৭৮৩০, বর্তমানে মজুদঃ ৭৪৯৭০

আই প্রোটেক্টর সেফটি গগলস- সর্বোমোট অধিগ্রহণঃঃ ৩৪০৪০, সর্বোমোট সরবরাহঃঃ ১৭৫৩৫, বর্তমানে মজুদঃ ১৬৫০৫

গাউন - সর্বোমোট অধিগ্রহণঃঃ ১৬০০০, সর্বোমোট সরবরাহঃঃ ১২৬৬০, বর্তমানে মজুদঃ ৩৩৪০

কম্বো সার্জিক্যাল প্রোটেকশন ড্রেস- সর্বোমোট অধিগ্রহণঃঃ ৮৪০, সর্বোমোট সরবরাহঃঃ ৫০০, বর্তমানে মজুদঃ ৩৪০

প্রোটেকটিভ কভার অল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ফেস মাস্ক- সর্বোমোট অধিগ্রহণঃঃ ২৫১০২, সর্বোমোট সরবরাহঃঃ ১৯০০০, বর্তমানে মজুদঃ ৬১০২ [২৩ মার্চ এর রাত্রি ১০ টা পর্যন্ত সর্বশেষ আহরন ও বিতরন অনুযায়ী] (সূত্র: সিএমএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) [৬৩]

পিসিআর (PCR) কিটস মজুদ ও সরবরাহ[সম্পাদনা]

মোট সংগ্রহ: ৯২,০০০ টি

মোট বিতরণ: ২১,০০০ টি

মোট মজুদ: ৭১,০০০ টি

দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩,৩৪,২৭০ টি (তিন লাখ চৌত্রিশ হাজার দুইশত সত্তুর টি) পিসিআর (PCR) কিটস সরবরাহ করা হয়েছে। [৩১ মার্চ সকাল ৮ ঘটিকা পর্যন্ত সর্বশেষ আহরন ও বিতরন অনুযায়ী] (সূত্র: সিএমএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর)

১ এপ্রিলের তথ্যানুসারে, ৫০ হাজার মেডিকেল গ্রেড মানসম্পন্ন ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) দেবে গ্রামীণফোন। চিকিৎসক ও নার্সদেরকে এই সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক পোশাক, এন৯৫ মাস্ক, গ্লাভস ও গগলস এবং ১০ হাজার পিসিআর টেস্টিং কিটও দেবে তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্বাচিত হাসপাতালসমূহে তারা এগুলো পৌঁছে দেবে।[৬৪]

কোভিড-১৯ সন্দেহে অন্তরণ[সম্পাদনা]

২ এপ্রিল পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত সন্দেহে অন্তরণ (আইসোলেশন) করা হয়েছিল ৩৭৩ জন, ছাড়প্রাপ্ত হয়েছে ২৯৫ জন এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছে ৭৮ জন। [২ এপ্রিল এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এর তথ্যানুসারে](১ এপ্রিল দুপুর ১২ - ২ এপ্রিল দুপুর ১২)[৬৫]

এদিকে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) জানিয়েছে ছুটি ঘোষণার পর যেই ১ কোটি ১০ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ঢাকা ছেড়েছেন তার মধ্যে '৪ লাখ ৮০ হাজার জন বিদেশ ফেরত' ব্যক্তিও আছেন।[৬৬]

বিভাগপ্রতি রোগ-অন্তরণ (আইসোলেশন) করা শয্যা[সম্পাদনা]

ঢাকা - ১০৫৩ টি

চট্টগ্রাম - ১,১৪৭ টি

বরিশাল - ৫৬২ টি

খুলনা - ৬৫৪ টি

ময়মনসিংহ - ৪০৮ টি

সিলেট - ৭৯৭ টি

রাজশাহী - ৬৭৯ টি

রংপুর - ৪৪৯ টি (সূত্র: ১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিসটেম (এমআইএস), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর)[৬৭]

২৭ মার্চের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গনিরোধ (কোয়ারেন্টাইন) সেবা দেয়ার জন্য সারাদেশে ৩২৩ টি প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করা হয়েছে যার মাধ্যমে ১৮,৯২৩ জনকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে।

সেবা প্রদান করার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১১২৩ জন চিকিৎসক, ১৫৭৫ জন নার্স ও অন্যান্য ১২৮৪ জনসহ সর্বোমোট ৩৯৮২ জন সেবাদানকারী প্রস্তুত রয়েছেন।

রোগ-অন্তরণ (আইসোলেশন) করা সর্বোমোট শয্যা: ৪৫৩৯ টি।

ঢাকা শহরের কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, রিজেন্ট হাসপাতাল, উত্তরা; রিজেন্ট হাসপাতাল,মিরপুর ও সাজেদা ফাউন্ডেশন যাত্রাবাড়ী - এই ৫ টি হাসপাতালে ২৯ টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ১৬ টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৫ টি Dialysis শয্যা প্রস্তুত আছে। [২৭ মার্চ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এর তথ্যানুসারে] [৬৮]

বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল চিকিৎসা ও রোগ-অন্তরণের (আইসোলেশনের) জন্য পুরোপুরি তৈরি আছে বলা হয়েছে।

সেচ্ছাসেবী[সম্পাদনা]

সেচ্ছাসেবী হিসেবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সংক্রান্ত তথ্য ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে নিবন্ধনকৃত চিকিৎসক সংখ্যা:

মোট নিবন্ধনকৃত: ২১,৯০৪ জন।

কোভিড-১৯ বিষয়ক অনলাইন কোর্স সম্পন্ন করেছেন: ১২,০৪৮ জন

হটলাইন সিস্টেমে চিকিৎসাসেবা ও তথ্য প্রদানে যুক্ত হয়েছেন: ১,৭৭০ জন [২ এপ্রিল এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এর তথ্যানুসারে](২ এপ্রিল সকাল ৮ ঘটিকা পর্যন্ত)

ব্যবস্থাপনা, সংক্রমণ ও প্রশিক্ষণ[সম্পাদনা]

যারা কোভিড-১৯ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা,হাসপাতাল সংক্রমণ ও নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন:

চিকিৎসক: ১,১২৩ জন

সেবিকা: ১,৫৭৫ জন

মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট: ১,২৮৪ (১ এপ্রিল সকাল ৮ ঘটিকা পর্যন্ত) [১ এপ্রিল এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুসারে]

১ এপ্রিলের, নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভাইরোলজিষ্ট, ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরী, আইপিএইচ, ডাঃ খন্দকার মাহবুবা জামিল জানান, কোন মৃত ব্যক্তির নাক-মুখ নিঃসৃত পদার্থে ২-৪ ঘন্টা পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর জীবাণু জীবিত থাকে। তবে ভাইরাস আক্রান্ত হলে মৃত ব্যক্তির নাক-মুখের ভিতর জীবিত বা মৃত ভাইরাস থাকলে তা পিসিআর পরীক্ষায় পজিটিভ আসবে।

বিদেশাগত যাত্রী স্ক্রিনিং পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

২ এপ্রিল পর্যন্ত সর্বোমোট বিদেশাগত স্ক্রিনকৃত যাত্রীসংখ্যা হল: ৬,৬৬,৯৩১ (ছয় লাখ ছেষট্টি হাজার নয়শত একত্রিশ) জন।

২ এপ্রিল এসেছে: ৪০১ জন

১ এপ্রিল এসেছে: ৩১৩ জন

৩১ মার্চ এসেছে: ৪৬৩ জন

৩০ মার্চ এসেছে: জন

২৯ মার্চ এসেছে: জন

২৮ মার্চ এসেছে: জন

২৭ মার্চ এসেছে: ৪৪৬ জন

২৬ মার্চ এসেছে: ৭৩৬ জন

২৫ মার্চ এসেছে: ১,১৩২ জন

২৪ মার্চ এসেছে: ৩,০০৮ জন

২৩ মার্চ এসেছে: ১,০০৯ জন

২২ মার্চ এসেছে: ৬,৫০২ জন

২১ মার্চ এসেছে: ৬,৯৬৮ জন (সমপরিমান যাত্রি?)

২০ মার্চ এসেছে: ৬,৯৬৮ জন (সমপরিমান যাত্রি?)

বিদেশি ও অন্যান্য সাহায্য[সম্পাদনা]

২৬ মার্চ, চীন প্রদান করেছে ১০ হাজার টেস্ট কিট, প্রথম সারির ডাক্তারদের জন্য ১০ হাজার ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম, ১ হাজার হ্যান্ডহেল্ড থার্মোমিটার (ইনফ্রারেড) ও ১৫ হাজার এন ৯৫ মাস্ক।

উল্লেখ্য, পূর্বে বাংলাদেশ; চীন সরকারকে ৫ লাখ মাস্ক, ১০ লাখ গ্লোভস,১ লাখ হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ১ লাখ ৫০ হাজার ক্যাপ ও ৮ হাজার গাউন প্রদান করেছিল। [৬৯]

'জ্যাক মা ফাউন্ডেশন' (আলি বাবা) ২৭ মার্চ, ৩০ হাজার টেস্ট কিট এবং ২৯ মার্চ, ২,৭০,০০০ ফেস মাস্ক ও ৩০ হাজার এন ৯৫ মাস্ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কে প্রদান করেছে।

এছাড়াও ২৫ মার্চ, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়কে ৫০০০ টি ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম প্রদান করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে ১ লাখ পরিমান তৈরীর কার্যাদেশ পেয়ে চট্টগ্রাম ইপিজেড এর পোষাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেড, ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম তৈরীর কাজ শুরু করেছে এবং ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১৩০০ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে ৫৮ হাজার ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম বানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সরবরাহ করেছে।

এগুলো উন্নতমানের পানি ও বায়ুরোধী রপ্তানীযোগ্য মানের ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম এবং বুয়েট, আইডিসিআর ছাড়াও বেশ কয়েকটি মন্ত্রনালয় কতৃক প্রাপ্ত গুণগত মানের সনদ তাদের আছে। আমেরিকার ক্রেতা প্রতিষ্ঠান 'উডব্রিজ' এর জন্য গত ৫ বছর ধরে তারা ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম তৈরি করে আসছে যারা নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য এই ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করে থাকে। প্রতিমাসে ৩ থেকে ৪ লাখ ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম অর্ডার তারা সাধারণত পেয়ে থাকে।

এর নির্বাহী পরিচালক জানান যে, তাদের বর্তমান মজুদকৃত কাঁচামাল দিয়ে আরও দেড় লাখ ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম তৈরি করা সম্ভব। [৭০]

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৫ মার্চ, অনুমোদন দেওয়ার পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে কয়েক লাখ ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম তৈরির কাজ চলছে ৫ টি কারখানায় এবং আরও কয়েকটি কারখানা সুরক্ষা পোশাক তৈরি শুরু করবে ১ সপ্তাহের মধ্যেই।

বিজিএমই, অরুণাচল ট্রাস্ট, বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই প্রতিষ্ঠান ৫ টি যৌথভাবে এ পদক্ষেপটি নিয়েছে। পাঁচটি গার্মেন্টস উর্মি গ্রুপ, স্নো টেক্স, আমান গ্রুপ, ডেকো গ্রুপ এবং স্মার্টেক্স গ্রুপ বুধবার থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু করেছে এবং কমপক্ষে পাঁচ লাখ সুরক্ষা পোশাক তৈরি করবে তারা আর অনেক হাসপাতাল ও ব্যাংক ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ক্রয়াদেশ দিয়ে রেখেছে তাদেরকে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম ইপিজেডে 'মোস্তফা গ্রুপ' উন্নত ধরনের মাস্ক তৈরি করছে এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে ১০ লাখ মাস্কের ক্রয়াদেশ পেয়েছে।

'ওয়ালটন' ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ও সেনিটাইজার তৈরি করে বিনামূল্যে বিতরণ করতে শুরু করতে যাচ্ছে। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং অ্যাম্বুলেন্সের গাড়ি চালকদের জন্যই মূলত এই ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামগুলো তৈরি হবে।

সরকারথেকে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী তিন মাসের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকতে পারে ১০ লাখ, একইসাথে এ মাসেই বিভিন্ন দেশ থেকে আরও এক লাখ ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম দেশে আসবে।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, তারা করোনা'র সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই সরকারকে এক লাখ ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম দিয়েছিল এবং ২৮ তারিখ নাগাদ আরও ৫০ হাজার ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম দিতে পারবে।[৭১]

পিপিই সরবরাহ ও বন্টন অব্যবস্থাপনা[সম্পাদনা]

২৯ মার্চ পর্যন্ত বেশ কিছু গণমাধ্যমে পিপিই সরবরাহ ও বন্টনে অব্যবস্থাপনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদেরকে পিপিই ছাড়াই কর্তব্য পালন করতে হচ্ছে বলে একাধিক উৎসে দাবী করেছেন এবং চিকিৎসাসেবা দিতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন বলে একাধিক উৎসে জানা গেছে।

এব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলছেন, ‘পিপিই এসেছে, আসছে এবং আসতেই থাকবে। চিন্তিত হবার কিছু নেই’। তবে অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন আসলে এমূহূর্তে দেশ 'পিপিই আছে, পিপিই নেই!' এমন একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে।

৮ মার্চ, 'আইইডিসিআর' প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্তের কথা জানানোর পর থেকেই চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের জন্য পিপিই’র দাবি তুলেছেলিন এবং কিছু জায়গায় পিপিই না থাকায় চিকিৎসাসেবা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা সিভিল সার্জন কতৃক নিজ দায়িত্বে পিপিই সংগ্রহ করতে বা বানিয়ে নেয়ার অনুরোধে নোটিশ জারিও করা হয়েছিলো বলে জানা গেছে। সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এ হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যদেকে নিজ দায়িত্বে পিপিই কেনার নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেন।

এ ব্যপারে তথ্যের প্রাপ্যতা বা গোটা ব্যাপারটা পরিষ্কার নয় কেন সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আবার পিপিই নিয়ে মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর কাছাকাছি সময়ে বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী। ২০ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য ১০ লাখ পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সংগ্রহ করা হবে। তাতে করে কোনও সেবাকেন্দ্রে পিপিইর কোনও অভাব হবে না। তবে এ ঘোষণার ৩ দিন পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকদের পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্টের এখন এত প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা গেছে, সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপো (CMSD) তে গত ২৩ মার্চ পর্যন্ত তিন লাখ ৫০ হাজারের মতো পিপিই সংগ্রহ করার পর ২ লাখ ৮৫ হাজারের মতো বিতরণ করা হয়েছে এবং মজুত আছে ৬৫ হাজারের মতো, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অপরদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক জানিয়েছেন যে এপ্রিল থেকে আমাগী তিন মাস পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখে পিপিই আর মাস্ক প্রয়োজন হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসক বা নার্সরা যে পিপিই পরবেন, সেটিকে হতে হবে যে'কোন তরল (বমি, রক্ত, কেমিক্যাল) প্রতিরোধী তবে তাতে নিঃশ্বাস নেওয়ার উপায় থাকতে হবে। আর এসমস্ত পিপিই কে ওয়ানটাইম ইউজ হতে হয় অর্থাৎ একবার ব্যবহারের পরই সেটি আর পরা যাবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বিশেষজ্ঞ ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল বলেছেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, এসব পিপিইর কাপড় হতে হবে নির্ধারিত। কিন্তু তা যদি না হয় তাহলে এর উদ্দেশ্য সফল হবে না, বরং তাতে আরও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে।’

চট্টগ্রাম বিভাগের এক চিকিৎসক জানান যে এ বিভাগের জন্য হিসাব করে এক মাসের জন্য ৭৮ হাজার পিপিই চাওয়া হয়েছে তবে এখন পর্যন্ত তাদের হাতে আছে মাত্র ২ হাজার ৯০০ টি। ২৮ মার্চ মোটে সাড়ে তিনশ’ পিপিই দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন যে ১০০টি উপজেলায় ৩ টি সরবরাহ করা হলেও এ সংখ্যা যথেষ্ট নয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি সূত্রে জানা গেছে বিভিন্ন সময়ে অনুদান থেকে যেসমস্ত পিপিই এসেছে সেগুলোর গুণগত মান খুবই নিম্নমানের। কোনগুলোর গগলসের প্লাস্টিক খুলে গেছে আবার কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উপযুক্ত চিকিৎসক কতৃক সেবা দেয়ার উপযুক্ত নয়। মানসম্মত নয় বলে অনেকগুলো আবার তালাবদ্ধ করেও রাখা হয়েছে।[৭২]

বিভিন্ন খাতে প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

বিদেশে বাংলাদেশী নাগরিক[সম্পাদনা]

১ এপ্রিলের তথ্যানুসারে তখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রে ৬০ জন বাংলাদেশী নাগরিক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।[৭৩]

২ এপ্রিলের তথ্যানুসারে তখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রে ৮৬ জন বাংলাদেশী নাগরিক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।[৭৪]

সরকার[সম্পাদনা]

২৭ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, কোভিড-১৯ চিকিৎসায় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ চলছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) র‌্যাপিড রেসপন্স টিমের সদস্যরা এবং আইইডিসিআরের কর্মীরা রোগ শনাক্ত করেন তবে তাদের জনবল কম বলে নমুনা সংগ্রহের জন্য সব জায়গায় কর্মী পাঠাতে পারছে না।

এর মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন,সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) কাজে লাগানো হবে যারা সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যাপারে তথ্য দিতে উপজেলা হাসপাতালে যোগাযোগ করবে তখন উপজেলা থেকে কর্মী গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে। নমুনা দেওয়ার জন্য কেউ হাসপাতালে যাবে না। সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যাপারে সিএইচসিপিরা উপজেলা হাসপাতালে যোগাযোগ করবে। উপজেলা থেকে কর্মী গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে।

জনবল সম্পর্কে তিনি বলেন, ৬৪ জেলা পর্যায়ের এবং ১০০টি উপজেলার কর্মীদের ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইপিআইয়ের মাঠকর্মীদের নমুনা সংগ্রহের কাজে লাগানো হবে।

যদিও চিকিৎসার কাজে নির্দিষ্ট রাজধানীর আটটি হাসপাতালের ২ টি ব্যতিত সবগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারেনি তবে একাজে জেলা শহরের সদর হাসপাতালগুলোকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।

সরকার দাবি করছে, সরকারের সব মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাস মোকাবিলার কাজে যুক্ত হয়েছে এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে যার প্রথম সভা হয়েছিল ৩ মার্চে কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে ১৮ মার্চে। [৭৫]

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি নির্দেশনা পেয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের মহাপরিচালক ঢাকাসহ প্রত্যেকটা বিভাগের পরিচালক এবং সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশনা দিয়েছেন যেন

২ এপ্রিলের তথ্যানুসারে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আইইডিসিআরের এমআইএস শাখার পরিচালককে সেদিনের মধ্যেই প্রত্যেকটি উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন। প্রত্যেকটি উপজেলা থেকে কমপক্ষে ২ টি করে অন্তত ১ হাজার নমুনা সংগ্রহ করে পরদিনের মধ্যেই পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা ও নীতিমালা[সম্পাদনা]

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রণীত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে তার আলোকে দেশের প্রেক্ষাপটে রোগতত্ত্ববিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ অভিজ্ঞ সবার মতামতের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি গাইডলাইন (১৮ টি) প্রণয়ন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বর্তমানে এই দিকনির্দেশনা অনুসরণ করেই দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রণীত গাইডলাইনগুলো হলো:

এই নির্দেশনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইট এবং 'করোনা ইনফো' তে।

হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর ব্যবস্থাপনা[সম্পাদনা]

Government Seal of Bangladesh.svg
হাসপাতালের প্রবেশমুখে স্বাস্থ্য কর্মী দ্বারা সম্ভাব্য কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ (জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট) সহ রোগী শনাক্ত
* সম্ভাব্য কোভিড-১৯ রোগীকে আলাদা বিশেষ কোভিড-১৯ বর্হিবিভাগ/ জরুরী বিভাগ কক্ষে স্থানান্তর
  • রোগীদের মাস্ক দেয়া হবে এবং রোগীর তাপমাত্রা পরিমাপ করা হবে
* চিকিৎসক রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং রোগীর ভ্রমন ইতিহাস বা অন্য দেশ থেকে আশা মানুষের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস লিপিবদ্ধ করবেন।
  • কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ সমূহ থাকলে ( জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, ডাইরিয়া, বমি), সেই সাথে ভ্রমণ ইতিহাস বা সংস্পর্শ ইতিহাস থাকলে রোগের আদর্শ সংজ্ঞা অনুসারে সন্দেহজনক কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত করবেন।
সন্দেহজনক কোভিড-১৯ রোগীকে আইসোলেশন ওয়ার্ড বা কেবিনে পাঠানো হবে।সন্দেহজনক কোভিড-১৯ রোগী না হলে রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান এবং ভ্রমণ ইতিহাস বা অন্য দেশ থেকে আসা মানুষের বা কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসার ইতিহাস থাকলে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন
রোগীর কাছ হতে কোভিড-১৯ এর RT-PCR পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হবে।*কোভিড-১৯ প্রমানিত না হলে এবং রোগীর অন্য জটিল সমস্যা না থাকলে হোম কোয়ারেন্টাইন করা ১৪ দিনের জন্য
  • অন্যান্য জটিল সমস্যা থাকলে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে আইসোলেশন কেবিনে স্থানান্তর করা হবে।
* কোভিড-১৯ প্রমানিত হলে চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হবে।
  • মৃদু উপসর্গ বিশিষ্ট কোভিড-১৯ রোগের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়না। জ্বরের বা অন্য উপসর্গের সাধারণ চিকিৎসা দেয়া হয়।
  • কোভিড-১৯ এর সাথে অন্য রোগ থাকলে (যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি) বিশেষ সাবধাণতা অবলম্বন করা হবে
  • অন্যান্য পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে যেমন- রক্ত পরীক্ষা, এক্সরে, সিটি স্ক্যান ইত্যাদি। উক্ত হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে অথবা নিউমোনিয়া বা অন্য জটিলতা সৃষ্টি হলে প্রয়োজনে উচ্চতর হাসপাতালে বা আইসিইউ তে স্থানান্তর।
* নিউমোনিয়া, সেপটিক শক বা অন্য জটিলতার চিকিৎসা প্রচলিত প্রটোকল অনুযায়ী করা হবে হবে।
* পরপর ২ দিন জ্বরের ঔষধ ছাড়াই জ্বর না থাকলে এবং পর পর দুই দিন কোভিড-১৯ এর RT-PCR পরীক্ষা নেগেটিভ হলে রোগকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়ার ছাড়পত্র দেয়া হবে।


পরিসংখ্যান ও লেখচিত্র[সম্পাদনা]

আইইডিসিআর কতৃক ঘোষীত বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু [৭৬]
গত ২৪ ঘন্টায় টীকা
তারিখ Total Tested till 2020-01-21 সর্বোমোট আক্রান্ত সর্বোমোট মৃত্যু সর্বোমোট সুস্থ হয়েছেন নতুন পরীক্ষা করা হয়েছে নতুন আক্রান্ত নতুন মৃত্যু নতুন সুস্থ হয়েছেন
2020-03-07 ১১১[৭৭]
2020-03-11 ১৪২[৭৮]
2020-03-12 ১৬৩[৭৯]
2020-02-13 ১৮৭[৮০]
2020-03-14 ২১১[৮১]
2020-03-15 ২৩১[৮২]
2020-03-16 ২৪১[৮৩]
2020-03-17 ২৭৭[৮৪] ১০
2020-03-18 ৩৫১[৮৫] ১৪ ১০ পুরুষ ৩ জন ইতালি ও কুয়েত ফেরত এবং ১ জন মহিলা ছিলেন যিনি ছিলেন একজন বিদেশ ফেরত পরিবারের সদস্য
2020-03-19 ৩৯৭ ১৭ ৪৬ পুরুষ ২ জন ইতালি ফেরত এবং সেই মহিলা একজনের পরিবারের সদস্য
2020-03-20 ৪৩৩ ২০ ৩৬
2020-03-21 ৪৩৩*

(Check Note)

২৪ ৩৬*

(টীকা দেখুন)

সম্প্রদায় বাহীত হয়ে প্রথম সংক্রমন [৮৬] * ২০ ও ২১ তারিখের (২ দিনেরই) সরকারী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একই হিসাবের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ২ দিনই সর্বোমোট পরীক্ষা '৪৩৩' ২৪ ঘন্টায় পরীক্ষা '৩৬' এসেছে। এটা সাম্ভব্য টাইপিং ত্রুটি।
2020-03-22 ৫৬৪ ২৭ ২৭ নতুন একজন চিকিৎসক সংক্রমিত হয়েছেন যিনি ২০ মার্চ মারা যাওয়া রোগীর চিকিৎসা করেছিলেন

[৮৭]

2020-03-23 ৬২০ ৩৩ ৫৬ নতুন সংক্রমনের ধরন: ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ; ২৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী , ২ জন ভারত ও বাহরাইন ফেরত। নতুন মৃত্যুটি সম্প্রদায় বাহীত।
2020-03-24 ৭১২ ৩৯ ৯২ নতুন আক্রান্তের মধে রয়েছে সৌদি ফেরত এবং ৪ জন স্থানীয় নাগরিক (মহামারী সংযোগ)। সেই মহিলার মৃত্যু সম্প্রদায় বাহীত ছিল।
2020-03-25 ৭৯৪ ৩৯ ৮২
2020-03-26 ৯২০ ৪৪ ১১ ১২৬
2020-03-27 ১০২৬ ৪৮ ১১ ১০৬
2020-03-28 ১০৭৬ ৪৮ ১৫ ৪৭


করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯-এর (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়[সম্পাদনা]

ফেস মাস্ক ব্যবহার করা সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়
হংকং এর সচেতন জনগণ নিজে ও অন্যদেরকে নিরাপদ রাখতে ফেসমাস্ক পরে আছেন
ঢাকার একজন রিক্সাচালক ফেসমাস্ক ব্যবহার করছেন

করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ (কোভিড-১৯) তথা করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলি নিচে তুলে ধরা হল। এখানে স্মরণীয় যে, করোনাভাইরাস মানুষ-থেকে-মানুষে প্রধানত দুই প্রক্রিয়াতে ছড়াতে পারে। সংক্রমণের প্রথম প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে ঘটে। প্রথম ধাপ: করোনাভাইরাস-সংক্রমিত ব্যক্তি ঘরের বাইরে গিয়ে মুখ না ঢেকে হাঁচি-কাশি দিলে করোনাভাইরাস তার আশেপাশের (১-২ মিটার পরিধির মধ্যে) বাতাসে কয়েক ঘন্টা ভাসমান থাকতে পারে। দ্বিতীয় ধাপ: সেই করোনাভাইরাস কণাযুক্ত বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করলে অন্য ব্যক্তিদের ফুসফুসেও শ্বাসনালী দিয়ে করোনাভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটিও কয়েক ধাপে ঘটে। প্রথম ধাপ: করোনাভাইরাস-সংক্রমিত ব্যক্তি যদি কাশি শিষ্টাচার না মানেন, তাহলে তার হাতে বা ব্যবহৃত বস্তুতে করোনাভাইরাস লেগে থাকবে। দ্বিতীয় ধাপ: এখন যদি উক্ত ব্যক্তি তার পরিবেশের কোথাও যেকোনও বস্তুর পৃষ্ঠতলে সেই করোনাভাইরাসযুক্ত হাত দিয়ে স্পর্শ করেন, তাহলে সেই পৃষ্ঠতলে করোনাভাইরাস পরবর্তী একাধিক দিন লেগে থাকতে পারে। তৃতীয় ধাপ: এখন যদি অন্য কোনও ব্যক্তি সেই করোনাভাইরাসযুক্ত পৃষ্ঠ হাত দিয়ে স্পর্শ করে, তাহলে ঐ নতুন ব্যক্তির হাতে করোনাভাইরাস লেগে যাবে। চতুর্থ ধাপ : হাতে লাগলেই করোনাভাইরাস দেহের ভেতরে বা ফুসফুসে সংক্রমিত হতে পারে না, তাই এখন নতুন ব্যক্তিটি যদি তার সদ্য-করোনাভাইরাসযুক্ত হাতটি দিয়ে নাকে, মুখে বা চোখে স্পর্শ, কেবল তখনই করোনাভাইরাস ঐসব এলাকার উন্মুক্ত শ্লেষ্মাঝিল্লী দিয়ে দেহের ভিতরে প্রবেশ করবে ও প্রথমে গলায় ও পরে ফুসফুসে বংশবিস্তার করা শুরু করবে। এজন্য উপরে লিখিত করোনাভাইরাস ছড়ানোর দুইটি প্রক্রিয়ার শুরুতেই এবং কিংবা ছড়ানোর প্রতিটি অন্তর্বতী ধাপেই যদি করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করা যায়, তাহলে সফলভাবে এই ভাইরাস ও রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য নিচের পরামর্শগুলি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা সকলের আবশ্যিক কর্তব্য।

  • সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা: করোনাভাইরাস কোনও লক্ষণ-উপসর্গ ছাড়াই দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যেকোনও ব্যক্তির দেহে তার অজান্তেই বিদ্যমান থাকতে পারে। এরকম করোনাভাইরাস বহনকারী ব্যক্তি যদি কোনও কারণে হাঁচি বা কাশি দেন, তাহলে তার আশেপাশের বাতাসে ৩ থেকে ৬ ফুট দূরত্বের মধ্যে করোনাভাইরাসবাহী জলীয় কণা বাতাসে ভাসতে শুরু করে এবং ঐ পরিধির মধ্যে অবস্থিত অন্য যেকোনও ব্যক্তির দেহে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে জনসমাগম বেশি আছে, এরকম এলাকা অতি-আবশ্যক প্রয়োজন না হলে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে যাতে বাতাসে ভাসমান সম্ভাব্য করোনাভাইরাস কণা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ না করতে পারে।
  • হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্তকরণ:

পরিবেশে অবস্থিত বিভিন্ন বস্তুতে করোনাভাইরাস লেগে থাকতে পারে, তাই এগুলি কেউ হাত দিয়ে স্পর্শ করলে তার হাতেও করোনাভাইরাস লেগে যেতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে করোনাভাইরাস কাঠ, প্লাস্টিক বা ধাতুর তৈরী বস্তুর পৃষ্ঠে গড়ে চার থেকে পাঁচ দিন লেগে থাকতে পারে। মানুষকে জীবনযাপনের প্রয়োজনে এগুলিকে প্রতিনিয়তই হাত দিয়ে স্পর্শ করতে হয়। তাই এগুলি স্পর্শ করার পরে হাত ভাল করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরী। নিম্নলিখিত হাত স্পর্শ করার ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে।

    • অন্য কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত বস্তু যা হাত দিয়ে ঘনঘন স্পর্শ করা হয়, যেমন মোবাইল ফোন (মুঠোফোন), ল্যাপটপ, ইত্যাদি নিজ হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
    • বহুসংখ্যক ব্যক্তি স্পর্শ করে এমন যন্ত্র, যেমন এটিএম যন্ত্র (নগদ টাকা প্রদানকারী যন্ত্র) ও অন্য কোনও যন্ত্রের (যেমন দোকানের বা অন্য কোনও স্থানের ল্যাপটপ, কম্পিউটারের মনিটর) বোতাম, চাবি, কিবোর্ড ও হাতল হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
    • নিজ বাসগৃহের বাইরের যেকোনও আসবাবপত্র (চেয়ার, টেবিল, ইত্যাদি) হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
    • নিজ বাসগৃহের বাইরের যেকোনও কামরা বা যানবাহনের দরজার হাতল হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
    • কাগজের টাকা, ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, ইত্যাদি এবং এগুলি যেখানে রাখা হয়, যেমন ওয়ালেট বা পার্স ইত্যাদির অভ্যন্তরভাগ হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
    • রেস্তোরাঁ বা অন্য যেকোনও খাবার বিক্রয়কারী দোকানের থালা-বাসন-বাটি-পাত্র বা বোতল-গেলাস হাত দিয়ে স্পর্শ করা। এইসব তৈজসপত্র বহু ব্যক্তি স্পর্শ করেন এবং এগুলিকে সবসময় সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে কি না, তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
    • ঘরের বাইরে যেকোনও স্থানের হাত মোছার তোয়ালে বা রুমাল যা একাধিক ব্যক্তি স্পর্শ করে, সেগুলিকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা।
    • ঘরের বাইরে রাস্তায় বা অন্যত্র কারও সাথে করমর্দন করা (হাত মেলানো) বা কোলাকুলি করা বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা।

উপরোক্ত ক্ষেত্রগুলিতে হাত দিয়ে স্পর্শের পরে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং যত ঘনঘন সম্ভব হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। নিম্নলিখিত হাত ধোয়ার পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে:

    • প্রথমে হাত পরিষ্কার পানিতে ভাল করে ভিজিয়ে নিতে হবে।
    • এর পর হাতে বিশেষ জীবাণুমুক্তকারক সাবান (সম্ভব না হলে সাধারণ সাবান) প্রয়োগ করতে হবে ও ফেনা তুলে পুরো হাত ঘষতে হবে।
    • হাতের প্রতিটি আঙুলে যেন সাবান লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে, এজন্য এক হাতের আঙুলের ফাঁকে আরেক হাতের আঙুল ঢুকিয়ে ঘষে কচলাতে হবে।
    • দুই হাতের বুড়ো আঙুল সাবান দিয়ে ঘষা নিশ্চিত করতে হবে।
    • এক হাতের তালুর সাথে আরেক হাতুর তালু ঘষতে হবে এবং এক হাতের তালু দিয়ে আরেক হাতের পিঠও সম্পূর্ণ ঘষতে হবে।
    • প্রতিটি নখের নিচেও ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।
    • ঘড়ি, আংটি বা অন্য যেকোন হাতে পরিধেয় বস্তু খুলে সেগুলির নিচে অবস্থিত পৃষ্ঠও পরিষ্কার করতে হবে।
    • কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে ফেনা তুলে ভাল করে হাত ঘষতে হবে।
    • পাত্রে রাখা স্থির পানিতে নয়, বরং পড়ন্ত পরিষ্কার পানির ধারাতে হাত রেখে ভাল করে হাত ধুয়ে সম্পূর্ণ সাবানমুক্ত করতে হবে।
    • হাত ধোয়ার পরে তোয়ালে কিংবা রুমাল নয়, বরং একবার ব্যবহার্য কাগজের রুমাল দিয়ে সম্পূর্ণরূপে হাত শুকিয়ে নিতে হবে, কেননা গবেষণায় দেখা গেছে যে ভেজা হাতে ভাইরাস ১০০ গুণ বেশী বংশবিস্তার করে। একাধিক ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে দিয়ে হাত শুকানো যাবে না, এবং একই তোয়ালে দিয়ে বারবার হাত শুকানো যাবে না, তাই একবার-ব্যবহার্য কাগজের রুমাল ব্যতীত অন্য যেকোনও ধরনের তোয়ালে বা রুমাল ব্যবহার করা উচিত নয়।
    • হাত শুকানোর কাগজের রুমালটি দিয়ে ধরেই পানির কল বন্ধ করতে হবে এবং শৌচাগারের দরজার হাতল খুলতে হবে। পানির কল ও শৌচাগারের দরজার হাতলে ভাইরাস লেগে থাকতে পারে।এরপর কাগজের রুমালটি ঢাকনাযুক্ত বর্জ্যপাত্রে ফেলে দিতে হবে।
    • যেহেতু দিনে বহুবার হাত ধুতে হবে, তাই ত্বকের জন্য কোমল সাবান ব্যবহার করা শ্রেয়।
    • সাবান-পানির ব্যবস্থা না থাকলে কমপক্ষে ৬০% অ্যালকোহলযুক্ত বিশেষ হাত জীবাণুমুক্তকারক দ্রবণ (হ্যান্ড স্যানিটাইজার) দিয়ে হাত কচলে ধুতে হবে। তবে সুযোগ পেলেই নোংরা হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া সবচেয়ে বেশী উত্তম।

কখন হাত ধুতে হবে, তা জানার জন্য নিচের নির্দেশনাগুলি মনে রাখা জরুরি:

    • নাক ঝাড়ার পরে, কাশি বা হাঁচি দেবার পরে হাত ধোবেন।
    • যেকোনও জনসমাগমস্থল যার মধ্যে গণপরিবহন, বাজার কিংবা উপাসনাকেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত, সেগুলিতে পরিদর্শন করার পরেই হাত ধোবেন।
    • বাসা থেকে কর্মস্থলে পৌঁছাবার পর হাত ধোবেন।
    • কর্মস্থল থেকে বাসায় পৌঁছাবার পর হাত ধোবেন।
    • ঘরের বাইরের যেকোনও বস্তুর পৃষ্ঠতল হাত দিয়ে স্পর্শ করার পরে হাত ধোবেন। (উপরে হাত স্পর্শ করার ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি দেখুন)
    • যেকোনও রোগীর সেবা করার আগে, সেবা করার সময়ে বা তার পরে হাত ধোবেন।
    • খাবার আগে ও পরে হাত ধোবেন।
    • শৌচকার্য করার পরে হাত ধোবেন।
    • বর্জ্যপদার্থ ধরার পরে হাত ধোবেন।
    • পোষা প্রাণী বা অন্য যে কোনও প্রাণীকে স্পর্শ করার পরে হাত ধোবেন।
    • বাচ্চাদের ডায়পার (বিশেষ জাঙ্গিয়া) ধরার পরে বা বাচ্চাদের শৌচকার্যে সাহায্য করার পরে হাত ধোবেন।
    • হাত যদি দেখতে নোংরা মনে হয়, তাহলে সাথে সাথে হাত ধোবেন।
    • হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেন এক রোগী থেকে আরেক রোগী বা অন্য যেকোনও ব্যক্তির দেহে যেন করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে না পারে, সেজন্য সেখানে কর্মরত সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে নিম্নের ৫টি মুহূর্তে অবশ্যই হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে : রোগীকে স্পর্শ করার আগে, পরিষ্কারকরণ বা জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি প্রয়োগের আগে, রোগীর দেহজ রস বা তরল গায়ে লাগার সম্ভাবনা থাকলে ঠিক তার পরপর, রোগীকে স্পর্শ করার পর এবং রোগীর আশেপাশের পরিবেশ স্পর্শ করার পর।
  • হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করার সুব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ:
    • রেস্তোরাঁ, চা ও কফিঘর, দোকানপাট, বাজার, বিপণিবিতান, শপিং মল, ইত্যাদি সমস্ত স্থানে হাঁচি-কাশিতে মুখ ঢাকার জন্য ও ভেজা হাত শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে কাগজের রুমাল বা টিস্যু পেপারের ব্যবস্থা করতে হবে। হাত জীবাণুমুক্তকারক দ্রবণ (হ্যান্ড স্যানিটাইজারের) এবং/কিংবা সাবান-পানিতে হাত ধোবার ব্যবস্থা করতে হবে। ব্যবহারের পর কাগজের রুমাল ফেলে দেবার জন্য (খোলা নয়, বরং) ঢাকনাযুক্ত বর্জ্যপাত্র বা বিনের ব্যবস্থা করতে হবে।
    • সম্ভব হলে ঘরের বাইরে যাতায়াত বা ভ্রমণের সময় সর্বদা হাত জীবাণুমুক্তকারকের বোতল ও কাগজের রুমাল (টিস্যু পেপার) সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে।
  • নাক, মুখ ও চোখ হাত দিয়ে স্পর্শ না করা: করোনাভাইরাস কেবলমাত্র নাক, মুখ, চোখের উন্মুক্ত শ্লেষ্মাঝিল্লী দিয়ে দেহে প্রবেশ করতে পারে। পরিবেশে উপস্থিত করোনাভাইরাস স্পর্শের মাধ্যমে হাতে লেগে থাকতে পারে। তাই আধোয়া জীবাণুযুক্ত হাতে কখনোই নাক, মুখ, চোখ স্পর্শ করা যাবে না। যদি একান্তই নাকে মুখে চোখে হাত দিতে হয়, তাহলে অবশ্যই হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে তা করতে হবে, কিংবা কাগজের রুমাল ব্যবহার করে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করতে হবে। এজন্য সবসময় হাতের কাছে সাবান-পানি বা অ্যালোকোহলভিত্তিক হস্ত জীবাণুমুক্তকারক কিংবা কাগজের রুমালের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মটি মেনে চলা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। নাক, মুখ ও চোখে হাত দেওয়া খুবই সাধারণ ও স্বাভাবিক একটি ঘটনা এবং বহুদিনের অভ্যাসের বশে প্রায় সবাই কারণে-অকারণে এ কাজটি করে থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে মানুষ ঘণ্টায় ২০ বারেরও বেশি মুখের বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে স্পর্শ করে। কিন্তু নিজদেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হলে এই অভ্যাসের ব্যাপারে অনেক বেশী সচেতন হতে হবে। অনেকে মানসিক চাপের কারণে, গভীর চিন্তা করার সময়, অন্য কোনও অজ্ঞাত মানসিক কারণে কিংবা চুলকানির জন্য নাকে, মুখে, চোখে হাত দিয়ে থাকেন। তাই প্রথমে প্রতিটি ব্যক্তিকে নিজেকে বেশ কিছু সময় ধরে নিয়মিত আত্ম-পর্যবেক্ষণ করে দেখতে হবে কোন্‌ কোন্‌ সময়ে বা কারণে সে নিজের নাক, চোখ বা মুখে হাত দিচ্ছে। কারণগুলি চিহ্নিত করার পর এবং এগুলি সম্বন্ধে সচেতন হবার পরে একে একে এগুলিকে দূর করার চেষ্টা করতে হবে এবং নাকে,মুখে, চোখে হাত দেয়ার মাত্রা যথাসর্বোচ্চ সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে।
  • পরিবেশ পরিষ্কার করে করোনাভাইরাস মুক্তকরণ:
    • গৃহ ও কার্যালয়ে যেসব বস্তু অনেক বহিরাগত মানুষ হাত দিয়ে স্পর্শ করে, যেমন দরজার হাতল, কম্পিউটারের কিবোর্ড ও মনিটরের পর্দা, ল্যাপটপ কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, বা অন্য কোনও বহুল ব্যবহৃত আসবাব, ইত্যাদি নিয়মিতভাবে কিছু সময় পরপর জীবাণুনিরোধক স্প্রে বা দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
    • বাইরে থেকে আসার পর পরিধেয় পোষাক ও অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত কাপড় যেমন-বিছানার চাদর, ইত্যাদি নিয়মিত ধুতে হবে।
  • করোনাভাইরাস-বহনকারী সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে করণীয়
    • যে ব্যক্তির জ্বর, সর্দি, কাশি ও হাঁচি হচ্ছে, তার থেকে ন্যূনতম ৩ থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, যাতে বাতাসে ভাসমান ভাইরাস কণা শ্বাসগ্রহণের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ না করে।
    • রাস্তায় ও যত্রতত্র থুতু ফেলা যাবে না, কেননা থুতু থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে।
    • হাঁচি-কাশি দেওয়া ব্যক্তিকে অবশ্যই কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় অস্থায়ী কাগজের রুমাল বা টিস্যুপেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে এবং সেই কাগজের রুমাল সাথে সাথে বর্জ্যে ফেলে দিতে হবে। খালি হাত দিয়ে কাশি-হাঁচি ঢাকা যাবে না, কেন না এর ফলে হাতে জীবাণু লেগে যায় (হাত দিয়ে হাঁচি-কাশি ঢাকলে সাথে সাথে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে)। কাগজের রুমাল না থাকলে কনুইয়ের ভাঁজে বা কাপড়ের হাতার উপরের অংশে মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিতে হবে।
    • পরিচিত কারও করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ দেখা গেলে সাথে সাথে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা জরুরী ফোনে যোগাযোগ করতে হবে যাতে তাকে দ্রুত পরীক্ষা করা যায় এবং প্রয়োজনে সঙ্গনিরোধ (কোয়ারেন্টাইন) করে রাখা যায়।
মোবাইলের পর্দার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো
গণপরিবহনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানো
যানবাহনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানো
গাড়ির হাতলের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানো
টাকার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানো
এটিএম বুথের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানো
লিফটের বোতামের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানো
লিফট ধরার হাতলের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানো
ট্রলির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানো
পলিথিন ব্যাগের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানো
  • বিবিধ:
যেভাবে ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (PPE) পরবেন
    • রাস্তায় বা অন্যত্র অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকৃত ও পরিবেশনকৃত খাবার খাওয়া পরিহার করতে হবে, কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুতকৃত ও অস্বাস্থ্যকর থালা-বাসন-বাটি-পাত্র বা গেলাসে পরিবেশনকৃত খাবার ও পানীয়ের মাধ্যমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।
    • রাস্তায় চলাফেরার পথের ধারে উপস্থিত উন্মুক্ত বর্জ্য কিংবা হাসপাতাল ও অন্যত্র উপস্থিত চিকিৎসা বর্জ্যের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।
    • হাসপাতালে ও অন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে অবশ্যই বিশেষ চিকিৎসা মুখোশ ও হাতমোজা পরিধান করতে হবে, যাতে ভাইরাস এক রোগী থেকে আরেক রোগীতে না ছড়ায়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; dhakatribune-26march নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. "Covid-19 pandemic: Testing remains low despite having enough kits in stock"Dhaka Tribune। ২০২০-০৩-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ 
  3. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; CDC2020Sym নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  4. "Q&A on coronaviruses (COVID-19)"World Health Organization (WHO)। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২০ 
  5. Wang V (৫ মার্চ ২০২০)। "Most Coronavirus Cases Are Mild. That's Good and Bad News."The New York Times 
  6. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Hui14Jan2020 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  7. "Q&A on coronaviruses"World Health Organization (WHO)। ২০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২০ 
  8. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; WHO46 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  9. "Wuhan Coronavirus Death Rate"www.worldometers.info। ৩১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  10. "Report 4: Severity of 2019-novel coronavirus (nCoV)" (PDF)। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  11. "তিন জন নতুন করে আক্রান্ত, পুরনোদের মধ্যে দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি যাবেন"। বিবিসি বাংলা। ২২ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  12. "বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত, সতর্ক থাকার নির্দেশনা"বিবিসি বাংলা। ৮ মার্চ ২০২০। ১০ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০২০ 
  13. সংবাদদাতা, সিনিয়র (১১ মার্চ ২০২০)। "নতুন কোন করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি বাংলাদেশে নেই, প্রথম তিন 'স্থির'"বিডি নিউজ ২৪ (ইংরেজি ভাষায়)। ১১ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  14. "করোনাভাইরাস: সুস্থ হয়েছেন দুজন, দ্বিতীয় পরীক্ষার পর ছাড়পত্র"বিবিসি বাংলা। ১১ মার্চ ২০২০। ১১ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০২০ 
  15. "আরও ২ জন করোনায় আক্রান্ত: আইইডিসিআর"। প্রথম আলো। ১৪ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০২০ 
  16. "৩১ মার্চ পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ"। এবিনিউজ২৪। ১৬ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২০ 
  17. "ঢাবি বন্ধ ঘোষণা"। আজকের পত্রিকা। ১৬ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২০ 
  18. "ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর স্থগিত"। দৈনিক ইনকিলাব। ১৬ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  19. "আরও ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত"। bdnews24। ১৬ মার্চ ২০২০। ১৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২০ 
  20. "আরও ২ করোনা রোগী শনাক্ত"। দ্য ডেইলি স্টার। ১৭ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২০ 
  21. "গাজীপুরের কোয়ারেন্টিনে রাখা একজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত"। প্রথম আলো। ১৮ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  22. "করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু, আক্রান্ত বেড়ে ১৪"। bdnews24। ১৮ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  23. "করোনায় বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু: আইইডিসিআর"। প্রথম আলো। ১৮ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০২০ 
  24. "দেশে আরও ৩ জন করোনায় আক্রান্ত"। প্রথম আলো। ১৯ মার্চ ২০২০। ১৯ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২০ 
  25. "মাদারীপুরের শিবচর লকডাউন"। যুগান্তর। ১৯ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২০ 
  26. "সংক্রমণের কারণে 'লকডাউন' করা হলো মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা"। বিবিসি বাংলা। ১৯ মার্চ ২০২০। ১৯ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২০ 
  27. "করোনাভাইরাস: রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার সব বাস বন্ধ"। যুগান্তর। ১৯ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২০ 
  28. "কোয়ারেন্টিন-চিকিৎসার প্রস্তুতির জন্য বিশ্ব ইজতেমা মাঠ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর"। প্রথম আলো। ১৯ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২০ 
  29. "ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ"। প্রথম আলো। ১৯ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মার্চ ২০২০ 
  30. "বাংলাদেশে আক্রান্ত আরো ৩ জন, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক"। বিবিসি বাংলা। ২০ মার্চ ২০২০। ২০ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২০ 
  31. "করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে দ্বিতীয় মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৪"। bdnews24। ২১ মার্চ ২০২০। ২১ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২০ 
  32. "শনিবার মধ্যরাত থেকে ১০ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল বন্ধ"। বিবিসি বাংলা। ২১ মার্চ ২০২০। ২১ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২০ 
  33. "তিন জন নতুন করে আক্রান্ত, পুরনোদের মধ্যে দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি যাবেন"। বিবিসি বাংলা। ২২ মার্চ ২০২০। ২২ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  34. "বাংলাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা স্থগিত"। বিবিসি বাংলা। ২২ মার্চ ২০২০। ২২ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  35. "এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষা স্থগিত"। প্রথম আলো। ২২ মার্চ ২০২০। ২২ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  36. "২৫শে মার্চ থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের সব বিপণিবিতান বন্ধ, দোকান মালিক সমিতি"। বিবিসি বাংলা। ২২ মার্চ ২০২০। ২৩ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০ 
  37. "করোনাভাইরাস: আক্রান্ত বেড়ে ৩৩, মৃত্যু ৩ জনের"। bdnews24। ২৩ মার্চ ২০২০। ২৩ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  38. "সেনা মোতায়েন, চৌঠা এপ্রিল সব সরকারি অফিস বন্ধ"। বিবিসি বাংলা। ২৩ মার্চ ২০২০। ২৩ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মার্চ ২০২০ 
  39. "করোনাভাইরাস: আক্রান্ত বেড়ে ৩৯, মৃত্যু ৪ জনের"। bdnews24। ২৪ মার্চ ২০২০। ২৪ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২০ 
  40. "1 more person dies of coronavirus, death toll now 5 in Bangladesh: IEDCR" (ইংরেজি ভাষায়)। ডেইলি স্টার। ২৫ মার্চ ২০২০। ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ মার্চ ২০২০ 
  41. "নতুন পাঁচ রোগীর চারজনের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছর"। প্রথম আলো। ২৬ মার্চ ২০২০। ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০২০ 
  42. "দেশে আরও চারজন করোনায় আক্রান্ত: আইইডিসিআর"প্রথম আলো। ২০২০-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৭ 
  43. "২৮ মার্চের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (আফিস ডকুমেন্ট)"গুগল ডক 
  44. "করোনায় নতুন কেউ শনাক্ত হয়নি: আইইডিসিআর"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ 
  45. "নতুন করে ১ জন আক্রান্ত মোট আক্রান্ত ৪৯"। ৩০ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  46. "দেশে নতুন ২ জন করোনায় আক্রান্ত"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মার্চ ২০২০ 
  47. "বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত আরও ৩ ব্যক্তি"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০২০ 
  48. "করোনাভাইরাস: দেশে আক্রান্ত বেড়ে ৫৬"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০২০ 
  49. "দেশের ৭টি সেন্টারে করোনা টেস্ট করানো হচ্ছে"Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৯ 
  50. "গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ শনাক্ত হয়নি"The Daily Star Bangla। ২০২০-০৩-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৮ 
  51. "২৫ মার্চ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (করোনা)" (PDF)। ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  52. ব্যুরো, রাজশাহী। "এলো করোনা পরীক্ষার পিসিআর মেশিন"DailyInqilabOnline (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৩-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৮ 
  53. "করোনা পরীক্ষায় নতুন যন্ত্র এল রংপুর মেডিকেলে"প্রথম আলো। ২০২০-০৩-২৭। ২০২০-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৭ 
  54. "রংপুরে করোনা চিকিৎসা পরামর্শে হটলাইন চালু"Khola Kagoj BD (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৭ 
  55. "২১ মার্চের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (করোনা)" (PDF)। ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  56. "দেশে করোনা পরীক্ষার পরিসর বাড়ছে"প্রথম আলো। ২০২০-০৩-৩১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩১ 
  57. "বিএসএমএমইউয়ে করোনা পরীক্ষার ফল মাত্র ৪ ঘণ্টায়"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩১ 
  58. "করোনার নমুনা পরীক্ষায় পরিবর্তন এনেছে আইইডিসিআর | Purboposhchimbd"Purboposchim। ২০২০-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৭ 
  59. "নতুন দুই হান্টিং হটলাইন আইইডিসিআরের"টেক শহর (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ ঘন্টা আগে। ২০২০-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ 2020-03-27  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  60. "করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্ত নেই, মৃত্যুও নেই"প্রথম আলো। ২০২০-০৩-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৮ 
  61. "গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ শনাক্ত হয়নি"The Daily Star Bangla। ২০২০-০৩-২৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৮ 
  62. "২৫ মার্চ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (করোনা)" (PDF)। ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  63. "২৪ মার্চ এর সংংবাদ বিজ্ঞপ্তি (করোনা)" (PDF)। ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  64. "৫০ হাজার মানসম্পন্ন পিপিই ও ১০ হাজার কিট দেবে জিপি"প্রথম আলো। ২০২০-০৪-০১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০২ 
  65. "২৫ মার্চ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (করোনা)" (PDF)। ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  66. "ঢাকা ছেড়েছে ১ কোটি ১০ লাখ মোবাইল ব্যবহারকারী, ৫ লাখ বিদেশফেরত"প্রথম আলো। ২০২০-০৩-২৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৮ 
  67. "কোভিড-১৯"103.247.238.81। ২০২০-০৩-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৫ 
  68. "২৪ মার্চ এর সংংবাদ বিজ্ঞপ্তি (করোনা)" (PDF)। ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  69. "চীন থেকে এল কিট ও মাস্ক"প্রথম আলো। ২০২০-০৩-২৬। ২০২০-০৩-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৬ 
  70. "চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে আরও আট হাজার পিপিই ঢাকায় | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। ২০২০-০৩-২৬। ২০২০-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৭ 
  71. রোমেল, সাজেদ (২০২০-০৩-২৭)। "করোনা: রপ্তানি বাণিজ্যে বিকল্প পথের সন্ধানে"risingbd.com। ২০২০-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৭ 
  72. "পিপিই আছে, পিপিই নেই! | banglatribune.com"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৯ 
  73. "করোনায় বিদেশে মারা গেছেন ৬০ জন বাংলাদেশি"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০১ 
  74. "করোনায় বিদেশে ৮৬ বাংলাদেশির মৃত্যু"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০২ 
  75. "বিলম্বে হলেও করোনা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার"প্রথম আলো। ২০২০-০৩-২৭। ২০২০-০৩-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-২৭ 
  76. "Corona Info Press Release"Corona Info 
  77. newsupload (২০২০-০৩-০৭)। "দেশে যেকোনো সময় শনাক্ত হতে পারে করোনা: আইইডিসিআর"মত ও পথ। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ 
  78. Correspondent, Staff; bdnews24.com। "Two Bangladeshi patients recover from coronavirus infection, no new cases detected: IEDCR"bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ 
  79. "Coronavirus: 10 people in isolation, 4 quarantined in Bangladesh"Dhaka Tribune 
  80. "করোনায় নতুন আক্রান্ত নেই, সুস্থ হয়ে ১ জন বাড়ি ফিরেছেন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ 
  81. "No coronavirus patients in Bangladesh now"Dhaka Tribune 
  82. Khokon, Sahidul Hasan (১৫ মার্চ ২০২০)। "Coronavirus outbreak: 5 confirmed cases in Bangladesh, 2,314 in quarantined, 10 in isolation"India Today (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ 
  83. আরও ৩ করোনা রোগী শনাক্ত ; দুজন শিশু, একজন নারী | COVID19, Jamuna TV, সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ – YouTube-এর মাধ্যমে 
  84. "2 more coronavirus cases confirmed in Bangladesh"Dhaka Tribune। ২০২০-০৩-১৭। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-৩০ 
  85. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; thedailystar.net নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  86. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; :6 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  87. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; :5 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]