ক্যাথলিক গির্জা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পোপ ফ্রান্সিস, রোমান ক্যাথলিক গির্জা ধারার খ্রিস্টধর্মের বর্তমান নেতা

ক্যাথলিক গির্জা বা রোমান ক্যাথলিক গির্জা সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী খ্রিস্ট ধর্মের বৃহত্তম গির্জা বা স্বতন্ত্র শাখা।[১] ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রায় ১৩০ কোটি লোক রোমান ক্যাথলিক গির্জার দীক্ষায় দীক্ষিত হিসেবে পরিগণিত হন।[২] রোমান ক্যাথলিক গির্জা "বিশ্বের প্রাচীনতম নিরবচ্ছিন্নভাবে অদ্যাবধি সচল আন্তর্জাতিক সংস্থা" হিসেবে পরিচিত।[৩] যিশু ও তার বারো শিষ্য (Twelve Apostles) প্রবর্তিত প্রথম ও অবিভক্ত খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে শুরু করে নিরবচ্ছিন্ন প্রেরিত-পুরুষ পরম্পরার (Apostolic Succession) মাধ্যমে এই গির্জা এখন পর্যন্ত টিকে আছে। গির্জাটির সর্বোচ্চ নেতা হলেন রোমের বিশপ, যাকে পোপ উপাধি দেওয়া হয়। গির্জাটির কেন্দ্রীয় প্রশাসন, যার নাম "পবিত্র পোপরাজ্য", ইতালির রোম শহরের মাঝখানে একটি সম্পূর্ণ বিদেশী রাষ্ট্রবেষ্টিত এলাকা ভ্যাটিকান শহরে অবস্থিত।

ক্যাথলিক শব্দটি গ্রিক কাতোলিকোস (καθολικός) থেকে এসেছে, যার অর্থ সর্বজনীন। খ্রিস্টধর্মের ইতিহাসের প্রথম দিকে এই অর্থে ব্যবহৃত হলেও ৪র্থ শতকে এসে ক্যাথলিক বলতে রোমের পোপের অনুসারীদের বোঝানো শুরু হয়।

নিকাইয়ার ধর্মীয় মতবাদটি ক্যাথলিক ধর্মতত্ত্বের ভিত্তি। ক্যাথলিক গির্জা দাবী করে যে এটি যিশুখ্রিস্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত অদ্বিতীয়, পবিত্র, সর্বজনীন (ক্যাথলিক) ও আদিপ্রচারকদের (যিশুর ১২ শিষ্য) গির্জা।[৪][৫][note ১] এটি আরও দীক্ষা দেয় যে, ক্যাথলিক বিশপেরা হলেন যিশুখ্রিস্টের শিষ্যদের উত্তরসূরী প্রচারক। তারা আরও বলেন যে পোপ হলেন সন্তু পলের উত্তরসূরী এবং যিশুখ্রিস্ট নিজে সন্তু পলকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্পণ করেছিলেন।[৮] ক্যাথলিক গির্জা দাবী করে যে এটি আদি খ্রিস্টধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে, তাদের বিশ্বাস অভ্রান্ত এবং পবিত্র ঐতিহ্যের মাধ্যমে এটি পরম্পরাক্রমে অদ্যাবধি চলে এসেছে।[৯]

ক্যাথলিক গির্জার সাতটি প্রধান অনুষ্ঠান আছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি হল যিশুর শেষ নৈশভোজ উদযাপন অনুষ্ঠান। বহু মানুষের উপস্থিতিতে স্ত্রোত্রপাঠের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করা হয়।[১০] একজন পুরোহিত ওয়াইন ও রুটি উৎসর্গ করেন, যেগুলি যথাক্রমে যিশুর রক্ত ও দেহের প্রতিনিধিত্বমূলক।

ক্যাথলিক গির্জা পশ্চিমা সভ্যতার ইতিহাস ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।[১১] এটি পশ্চিমা দর্শন, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও শিল্পকলার উপর প্রভাব ফেলেছে। ১০৫৪ সালে রোমের পোপের কর্তৃত্ব নিয়ে বিতর্কের ফলে পূর্বী গির্জাটি আলাদা হয়ে যায়। ১৬শ শতকে খ্রিস্টধর্ম সংস্কার আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে প্রতিবাদী ঘরানার খ্রিস্টানরা ক্যাথলিক গির্জা পরিত্যাগ করেন। ২০শ শতক থেকে বেশির ভাগ ক্যাথলিক খ্রিস্টান দক্ষিণ গোলার্ধে বাস করছে, যার কারণ ইউরোপে ধর্মনিরপেক্ষতার উত্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে খ্রিস্টানদের উৎপীড়ন বৃদ্ধি।

২০শ শতকের শেষে ও ২১শ শতকের প্রারম্ভে এসে ক্যাথলিক গির্জা যৌনতা সংক্রান্ত মতবাদ, নারী পুরোহিত নিয়োগে অসম্মতি এবং ধর্মীয় নেতাদের যৌন অসদাচরণের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া, ইত্যাদি নিয়ে নিন্দিত হয়েছে।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. While the Catholic Church considers itself to be the authentic continuation of the Christian community founded by Jesus Christ, it teaches that other Christian churches and communities can be in an imperfect communion with the Catholic Church.[৬] [৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ধর্মের প্রধান ভাগসমূহ"adherents.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৭-১৯ 
  2. "Presentazione dell'Annuario Pontificio 2018 e dell' "Annuarium Statisticum Ecclesiae" 2016" (ইতালীয় ভাষায়)। Sala Stampa della Santa Sede। ১৩ জুন ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০১৮ 
  3. Mark A. Noll. THE NEW SHAPE OF WORLD CHRISTIANITY (Downers Grove, IL: IVP Academic, 2009), 191.
  4. "Vatican congregation reaffirms truth, oneness of Catholic Church"। Catholic News Service। ১০ জুলাই ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১২ 
  5. Bokenkotter, Thomas (২০০৪)। A Concise History of the Catholic Church। New York: Doubleday। পৃষ্ঠা 7। আইএসবিএন 9780307423481 
  6. "Responses to Some Questions regarding Certain Aspects of the Doctrine of the Church"। Vatican.va। ১৩ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। It is possible, according to Catholic doctrine, to affirm correctly that the Church of Christ is present and operative in the churches and ecclesial Communities not yet fully in communion with the Catholic Church, on account of the elements of sanctification and truth that are present in them. 
  7. "Declaration on the Unicity and Salvific Universality of Jesus Christ and the Church Dominus Iesus § 17"। Vatican.va। Therefore, there exists a single Church of Christ, which subsists in the Catholic Church, governed by the Successor of Peter and by the Bishops in communion with him. The Churches which, while not existing in perfect Koinonia with the Catholic Church, remain united to her by means of the closest bonds, that is, by apostolic succession and a valid Eucharist, are true particular Churches. Therefore, the Church of Christ is present and operative also in these Churches, even though they lack full communion with the Catholic Church, since they do not accept the Catholic doctrine of the Primacy, which, according to the will of God, the Bishop of Rome objectively has and exercises over the entire Church. … 'The Christian faithful are therefore not permitted to imagine that the Church of Christ is nothing more than a collection—divided, yet in some way one—of Churches and ecclesial communities; nor are they free to hold that today the Church of Christ nowhere really exists, and must be considered only as a goal which all Churches and ecclesial communities must strive to reach.' 
  8. Holy Bible: টেমপ্লেট:Bibleverse-nb
  9. টেমপ্লেট:CCC
  10. CCC, 1322–27, Vatican.va: "the Eucharist is the sum and summary of our faith"
  11. O'Collins, p. v (preface).

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]