প্রমোদ মানকিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রমোদ মানকিন
In Moscow.jpg
২০১২ সালে মস্কো সফরের সময়
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৫ সেপ্টেম্বর ২০১২ – ১১ মে ২০১৬
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৮ জুলাই ১৯৩৮
রামনগর, দুর্গাপুর উপজেলা, নেত্রকোনা, বাংলাদেশ
মৃত্যু১১ মে ২০১৬
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

প্রমোদ মানকিন ছিলেন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তিনি খ্রিস্টান ও গারো সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি সম্প্রদায়ের বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়া মানবাধিকার কমিশনের সদস্য, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ঘাতক- দালাল নির্মূল কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

প্রমোদ মানকিনের জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৮ এপ্রিল নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাকালজোড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে এক গারো পরিবারে। তার বাবা প্রয়াত মেঘা তজু এবং মা হৃদয় শিসিলিয়া মানকিন। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম।

তিনি দোহার- নবাবগঞ্জে অবস্থিত বান্দুরা হলিক্রস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং আল্যামনাই এসোসিয়েশনের সম্মানিত সদস্য ছিলেন। ১৯৬৩ সালে নটরডেম কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড করা প্রমোদের কর্মজীবনের শুরু স্কুল শিক্ষক হিসেবে। ১৯৮২ সালে তিনি আইনের ডিগ্রি নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন প্রমোদ মানকিন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন প্রমোদ মানকিন। মেঘালয় শিববাড়ি শরণার্থী শিবিরে ৫০ হাজার বাংলাদেশির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

শিক্ষকতা থেকে আইনজীবী এবং তারপর এনজিওতে কাজ করেন প্রমোদ মানকিন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন। তিনি হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও হালুয়াঘাটের গোবরাকুড়া আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮ সালে হালুয়াঘাট থেকে এবং ২০১৪ সালে হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথমে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

তিনি বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ছিলেন, পরে তিনি বাংলাদেশ সমবায় ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং হালুয়াঘাট কারিগরি ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার সমন্বয় কাউন্সিল (সিসিএইচআরবি) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ছিলেন তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রমোদ মানকিন সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপ ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিরও সদস্য ছিলেন।

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৪ সালে গারো নেতা জোয়াকিম আশাক্রার মেয়ে মমতা আরেংয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তাঁদের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।সন্তানদের মধ্যে সবাই এখন নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। তার সন্তানদের মধ্যে জুয়েল আরেং বর্তমানে ময়মনসিংহ-১ আসনে বাবার আদর্শ ধারণ করে নিষ্ঠার সাথে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন৷

মৃত্যু[সম্পাদনা]

তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারজনিত রোগে ভোগছিলেন এবং ২০১৬ সালের ১১ মে ভারতের মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয় ।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "প্রমোদ মানকিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত"এনটিভি অনলাইন। ১৩ মে ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮