মুজিব বর্ষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুজিব বর্ষ
মুজিব বর্ষ.jpg
মুজিব বর্ষের লোগো
পালনকারীবাংলাদেশ
ধরনজাতীয়
তারিখ২০২০-২১
সম্পর্কিতশেখ মুজিবুর রহমান

মুজিব বর্ষ হলো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিক পালনের জন্য ঘোষিত বর্ষ। বাংলাদেশ সরকার ২০২০-২১ সালকে (১৭ই মার্চ ২০২০ থেকে ১৭ই মার্চ ২০২১ পর্যন্ত) মুজিব বর্ষ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়।[১][২] ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এ বর্ষ উদ্‌যাপন করার কথা থাকলেও, করোনাভাইরাসের কারণে গ্রহণ করা কর্মসূচিগুলো নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে করতে না পারায় মুজিববর্ষের মেয়াদ প্রায় ৯ মাস বাড়িয়ে সময়কাল ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।[৩][৪][৫][৬][৭] বাংলাদেশের জাতির পিতা এবং বঙ্গবন্ধু খ্যাত নেতা অবিভক্ত ভারতের পূর্ববঙ্গে (বর্তমানে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে) ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। আবার ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতার অর্ধ-শত বার্ষিকীতে পদার্পণ করবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায় ঘোষিত বর্ষটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুজিব বর্ষের লোগোর নকশা করেন সব্যসাচী হাজরা।

মুজিববর্ষের থিম সং

তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, তুমি হৃদয়ের বাতিঘর আকাশে-বাতাসে বজ্রকন্ঠ, তোমার কন্ঠস্বর।

কর্মসূচি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারের পাশাপাশি প্রতি বছরের মতই তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস এবং জেল হত্যা দিবসও পালিত হবে। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে।[৮][৯]

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ১ মার্চকে বিমা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব এবং বাংলাদেশে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ৮ মার্চ বাংলাদেশ সরকার এবং জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি জনস্বার্থে ও জনকল্যাণে ১৭ মার্চের পূর্ব ঘোষিত অনুষ্ঠান ছোট পরিসরে করার ঘোষণা দেয়।[১০] একইসাথে আমন্ত্রিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সফরও বাতিল করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়।[১১]

শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট লিমিটেডের কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বগুড়া জেলার শেরপুরে ১০০ বিঘা বা ১,১৯,৪৩০.২৭৩ বর্গমিটার (১২,৮৫,৫৩৬.৭৬ ফু) আকৃতির জমিতে “শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু” নামে একটি ম্যুরাল তৈরি করেন। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই মার্চ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ম্যুরালটিকে “বৃহত্তম শস্যচিত্র” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[১২][১৩][১৪]

বৈশ্বিক উদ্‌যাপন[সম্পাদনা]

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কোর ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সাথে যৌথভাবে মুজিব বর্ষ পালনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।[১৫][১৬] ২০১৯ সালের ১২-২৭ নভেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ২৫ নভেম্বরে ইউনেস্কোর সকল সদস্যের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সময় বৃদ্ধি[সম্পাদনা]

করোনাভাইরাসের কারণে গ্রহণ করা কর্মসূচিগুলো নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে করতে না পারায় মুজিববর্ষের মেয়াদ প্রায় ৯ মাস বাড়ানো হয়েছে। এ সময়কাল ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। সোমবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এ তথ্য দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরে প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়কে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে। মুজিববর্ষ উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচিগুলো কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির কারণে নির্ধারিত সময়ে যথযাথভাবে করা সম্ভব হয়নি। সে কারণে সরকার মুজিববর্ষের সময়কাল ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত ঘোষণা করা হল। কিন্তু সেই বছরের অর্থাৎ ২০২০ সালের ৮ই মার্চ দেশে করোনা মহামারী দেখা দিলে ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত টানা ৬৬ দিন দেশে সাধারণ ছুটি পালিত হয়। যে কারণে এই সময়ের মধ্যে মুজিববর্ষের জন্য গৃহীত নানা কর্মসূচি পালন করা যায়নি।[১৭]

মুজিব বর্ষের আয়োজন[সম্পাদনা]

মুজিব বর্ষ উপলক্ষের নিম্নলিখিত আয়োজন করা হয়:

  • ১০ দিন ব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠান মালা
  • মুজিব বর্ষের ওয়েবসাইট চালু
  • মুজিব বর্ষের ডাকটিকিট প্রকাশ
  • ১০০ দিনব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতা
  • গৃহহীন দের মাঝে বিনামূল্যে ঘর বিতরণ
  • রাষ্ট্রায়ত্ব ফোন টেলিটকের শতবর্ষ নামে বিশেষ মোবাইল প্যাকেজ বিনামূল্যে প্রদান
  • মুজিব বর্ষে দেশীয় যোগাযোগ অ্যাপ আলাপ চালু হয়

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "২০২০-২১ সালকে মুজিববর্ষ ঘোষণা"somoynews.tv 
  2. "২০২০-২১ সাল হবে মুজিববর্ষ : প্রধানমন্ত্রী"যুগান্তর। ৭ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২০ 
  3. "নম্বর: ০৪.০০.০০০০.৫১২.২৩.০০৮.২০.৬০১।--সরকার মুজিববর্ষের সময়কাল ১৭ই মার্চ ২০২০ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত ঘোষণা করল" (PDF)সরকারি গেজেট। ১৪ ডিসেম্বর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ 
  4. "মুজিব বর্ষের সময় বাড়ল"প্রথম আলো। ১৬ ডিসেম্বর ২০২০স। 
  5. "সময় বাড়লো মুজিববর্ষের"ঢাকা ট্রিবিউন। ১৬ ডিসেম্বর ২০২০। 
  6. "মুজিববর্ষে যত আয়োজন"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১০ জানুয়ারী ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারী ২০২০ 
  7. "মুজিব বর্ষে বছরব্যাপী আয়োজনে যা থাকছে"বণিক বার্তা অনলাইন। ১০ জানুয়ারী ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারী ২০২০ 
  8. তথ্য মন্ত্রণালয়
  9. তথ্য কমিশন
  10. "১৭ মার্চ মুজিব বর্ষের মূল অনুষ্ঠান হচ্ছে না, অনুষ্ঠানে কাটছাঁট"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০২০ 
  11. "আসছেন না বিদেশিরা"ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০২০ 
  12. "Largest crop field mosaic (image)"গিনেস বিশ্ব রেকর্ড। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২১ 
  13. "Bangabandhu crop-field mosaic breaks Guinness World Records"। ঢাকা ট্রিবিউন। ১৬ মার্চ ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২১ 
  14. "গিনেস বুকে 'শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু'"। ইত্তেফাক। ১৬ মার্চ ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২১ 
  15. "Proposals by Member States for the celebration of birthdays in 2020-2021 with which UNESCO could be associated"unesdoc.unesco.org (ইংরেজি ভাষায়)। ইউনেস্কো ডিজিটাল গ্রন্থাগার। পৃষ্ঠা ৩। 
  16. "বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে 'মুজিববর্ষ' উদ্‌যাপন করবে ইউনেস্কো"ঢাকা ট্রিবিউন। ২৭ নভেম্বর ২০১৯। 
  17. "সময় বাড়লো মুজিববর্ষের"ঢাকা ট্রিবিউন। ১৫ ডিসেম্বর ২০২০। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]