বিষয়বস্তুতে চলুন

বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(বৃন্দাবন সরকারি কলেজ থেকে পুনর্নির্দেশিত)
বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ
নীতিবাক্যজ্ঞানেই শক্তি
ধরনসরকারি
স্থাপিত১৯৩১; ৯৫ বছর আগে (1931)
অধিভুক্তিজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
ইআইআইএন১২৯৪৪৭ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
অধ্যক্ষপ্রফেসর এ কে এম মাসুদুল হক্
শিক্ষায়তনিক ব্যক্তিবর্গ
৫৪
শিক্ষার্থী১৪,২৮৬
স্নাতক১০,৬৭৮
স্নাতকোত্তর১০১৬
অন্যান্য শিক্ষার্থী
২,৫৯২
ঠিকানা
রাজনগর
, ,
৭৯০৩
,
শিক্ষাঙ্গনজেলা সদর পৌর এলাকা, ৬.২৩ একর (২.৫২ হেক্টর)
ভাষাবাংলা
ওয়েবসাইটbc.gov.bd
মানচিত্র

বৃন্দাবন সরকারি কলেজ হলো বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার একটি সরকারি মহাবিদ্যালয়। এটি হবিগঞ্জ সদরের কেন্দ্রে রাজনগরে অবস্থিত এবং ১ জুলাই, ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।[] বর্তমানে এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় শিক্ষা প্রদান করা হয়। এছাড়া, স্নাতক (পাস) কোর্স, ১৪টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখানে মোট ১৪,২৮৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
বৃন্দাবন চন্দ্র দাস

সিলেট বিভাগের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং পুরোনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৩১ সালের মাঝামাঝি সময়ে হবিগঞ্জ কলেজ নাম নিয়ে। কলকাতার রিপন কলেজের দর্শনের অধ্যাপক মিঃ বিপিন বিহারী দে প্রথম অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজটি প্রতিষ্ঠার বছরখানেকের মধ্যেই আর্থিক সমস্যার কারণে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে পার্শ্ববর্তী বানিয়াচং থানার বিথঙ্গল গ্রামের দানশীল ব্যবসায়ী বাবু বৃন্দাবন চন্দ্র দাস এককালীন দশ হাজার টাকা দান করেন। কলেজের পরিচালনা কমিটি তার নামানুসারে নাম রাখেন বৃন্দাবন কলেজ

ব্রিটিশ শাসনামলে শুরু হওয়া কলেজটি প্রথমে কেবলমাত্র উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক বিভাগে পাঠদান করলেও ১৯৩৯-৪০ শিক্ষাবর্ষে বিএ (পাস) এবং ১৯৪০-৪১ শিক্ষাবর্ষে কয়েকটি বিষয়ে বিএ (অনার্স) কোর্স চালু করে। ১৯৭৯ সালের ৭ মে, তৎকালীন সরকার কলেজটি জাতীয়করণ করেন এবং নাম হয় বৃন্দাবন সরকারি কলেজ। ১৯৯৮ সালে কলেজটি অনার্স কোর্স পাঠদানের পুনঃঅনুমতি পায়। বর্তমানে বৃন্দাবন সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সকল বিভাগ, স্নাতক (পাস), বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণি বিদ্যা, গণিত, হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে। ২০০৩ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

[সম্পাদনা]

৬.১০ একর জায়গার মধ্যে কলেজ ক্যাম্পাসটিতে রয়েছে একাডেমীক ভবন, বিভিন্ন ধরনের গাছপালা, পুকুর এবং অন্যান্য অবকাঠামো। এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভবন রয়েছে। কলেজের মতোই এই ভবনগুলোও অনেক পুরনো। তাছাড়া ক্যাম্পাসে একটি গ্রন্থাগার, ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি শহীদ মিনার, একটি মসজিদ এবং একটি জিমনেসিয়ামও আছে।

শিক্ষা কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট, স্নাতক পাশ ও সম্মান এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান করা হয়। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে।

উপলব্ধ কোর্স

[সম্পাদনা]

উচ্চ মাধ্যমিক

[সম্পাদনা]
  • বিজ্ঞান
  • মানবিক
  • বানিজ্য

স্নাতক (পাস)

[সম্পাদনা]
  • বিএ (পাস)
  • বিএসএস (পাস)
  • বি.এসসি. (পাস)
  • বিবিএস (পাস)
  • সিসি

স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর

[সম্পাদনা]
  • বাংলা
  • ইংরেজি
  • ইতিহাস
  • ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • দর্শন
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  • অর্থনীতি
  • হিসাববিজ্ঞান
  • ব্যবস্থাপনা
  • পদার্থবিদ্যা
  • রসায়ন
  • উদ্ভিদবিদ্যা
  • প্রাণিবিদ্যা
  • গণিত

শিক্ষার্থী

[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে ২৫৯২ জন, স্নাতক (পাশ) কোর্সে ৪২২৮ জন, স্নাতক (সম্মান) কোর্সে ৬৪৫০ জন, স্নাতকোত্তর কোর্সে ১০১৬ জন মিলে মোট ১৪২৮৬ জন শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ করছে।

ফলাফল

[সম্পাদনা]

২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণ করেছে ১৯,৯১৩ জন, পাস করেছে ১৭,৭৮৯ জন, ফেল করেছে ২,১২৫ জন, এ+ পেয়েছে ২,১০৪ জন, শতকরা পাস করেছে ৮৯.৩৩%, শতকরা এ+ পেয়েছে ১০.৫৭ %।[]

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "History"বৃন্দাবন সরকারি কলেজ। ৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৭
  2. "Brindaban Govt College Habiganj - Sohopathi | সহপাঠী"Sohopathi | সহপাঠী (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  3. "Former social welfare minister Enamul Hoque Mostofa Shaheed dies aged 78"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৭

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]