সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম
সিটি কলেজ | |
![]() | |
প্রাক্তন নামসমূহ | চট্টগ্রাম নাইট কলেজ (১৯৫৪-১৯৬০) |
|---|---|
| নীতিবাক্য | প্রবেশ কর জ্ঞানের সন্ধানে ছড়িয়ে পড়ো দেশের খেদমতে |
| ধরন | সরকারি |
| স্থাপিত | ১৯৫৪ |
| প্রতিষ্ঠাতা | আসহাব উদ্দীন আহমদ, জনাব আলী উকিল, বাদশা মিয়া চৌধুরী |
| অধিভুক্তি | মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম (কলেজ কোড: ৩০৫০) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (কলেজ কোড: ৪৩০৪) |
| ইআইআইএন | ১০৪৩০১ |
| অধ্যক্ষ | প্রফেসর আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন |
| উপাধ্যক্ষ | প্রফেসর জসিম উদ্দিন আহমেদ |
| শিক্ষার্থী | ২২০০০[১] |
| অবস্থান | ২২°১৯′৫৬″ উত্তর ৯১°৪৯′৫৪″ পূর্ব / ২২.৩৩২৩২৯° উত্তর ৯১.৮৩১৬০৬° পূর্ব |
| সংক্ষিপ্ত নাম | সিটি কলেজ |
| ক্রীড়া | ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল |
| ওয়েবসাইট | gccc |
![]() | |
সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম হলো চট্টগ্রামের আইস ফ্যাক্টরি রোডে অবস্থিত একটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম নাইট কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে জাতীয়করণ করা হয়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৯৫৪ সালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ চট্টগ্রাম কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক আসহাব উদ্দিন যুক্তফ্রন্টের এমএলএ নির্বাচিত হন। এ উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিখ্যাত শিল্পপতি বদিউল ছালাম নিজ বাসভবনে তাঁর সম্মানে একটি চা পার্টির আয়োজন করেন। এই চা পার্টিতে অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পিছিয়ে পড়া সাধারণ মানুষের শিক্ষার উন্নতির জন্য আসহাব উদ্দিন উপস্থিত সকলের সামনে চট্টগ্রাম শহরে একটি নাইট কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। সকলেই এই প্রস্তাবে একমত হন। সেই সভায় কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য নয় সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। কলেজের নাম চট্টগ্রাম নাইট কলেজ নির্ধারণ করা হয়। সিটি কলেজের যাত্রা মূলত এখান থেকেই শুরু হয়।
১৯৫৪ সালে চট্টগ্রাম পৌর মিলনায়তনে অ্যাডহক কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জনাব আলী অ্যাডহক কমিটি ভেঙে দেন। আহমদ মাস্টারকে সভাপতি এবং বিখ্যাত সমাজসেবী বাদশা মিয়া চৌধুরীকে সম্পাদক করে একটি পূর্ণাঙ্গ কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৫৪ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম পৌর উচ্চ বিদ্যালয় ভবনে চট্টগ্রাম নাইট কলেজের অস্থায়ী অফিস খোলা হয়। চট্টগ্রাম কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক বাবু যোগেশ চন্দ্র সিনহাকে কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয় এবং ছাত্র ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়।
১৮ আগস্ট তৎকালীন কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কর্তৃপক্ষ ৩০ জুন কলেজ ক্যাম্পাস এখান থেকে ভিক্টোরিয়া ইসলামিয়া হোস্টেল (বর্তমানে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি) ভবনে স্থানান্তরিত করে। ১৯৫৭ সালের ১ জুলাই কলেজটিতে দিবা শাখা খোলা হয়। ফলস্বরূপ কলেজের নাম পরিবর্তন করতে হয়। ১৯৬২ সালের ১ জুলাই কলেজ পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে কলেজের নাম 'সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম' রাখেন। একই বছর কলেজ ক্যাম্পাসটি পূর্বোক্ত স্থান থেকে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়।
অ্যাকাডেমিক গঠন
[সম্পাদনা]বর্তমানে উক্ত কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি (পাস),অনার্স, মাস্টার্স সহ সকল কোর্সে প্রায় ১৬,০০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
- একাডেমিক কোর্সসমূহ
স্নাতক পর্যায়ে পাঠদানের পাঠ্যবিষয়/ ডিপার্টমেন্ট
[সম্পাদনা]- বিজ্ঞান বিষয়ক পাঠ্যবিষয় সমূহ
- সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক বিষয় সমূহ
- মানববিদ্যা বিষয়ক পাঠ্যবিষয় সমূহ
- দর্শন
- বাংলা
- ইংরেজি
- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
- আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ
- ব্যবসা শিক্ষা বিষয়ক পাঠ্যবিষয় সমূহ
অবস্থান
[সম্পাদনা]এটি চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্র সদরঘাট থানার অন্তর্গত নিউ মার্কেট মোড় নিকটবর্তী আইস ফ্যাক্টরী রোডে অবস্থিত। এর বিপরীতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন অবস্থিত।[২]
অবকাঠামো
[সম্পাদনা]বর্তমানে উক্ত কলেজের মূল ক্যাম্পাসের আয়তন ২.০৬ একর। দশ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন সহ কলেজের সর্বমোট ভবনের সংখ্যা ৬টি। পাশাপাশি কলেজ ক্যাম্পাসে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ত্রিতল জামে মসজিদ। এছাড়াও একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবনের দশম তলায় রয়েছে সুবিশাল পাঠাগার।
বিশিষ্ট শিক্ষক
[সম্পাদনা]- অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতার,প্রাক্তন চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম, প্রাক্তন অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম।
- রেজাউল করিম, চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম, প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক, সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম।
- খোন্দকার মোঃ সাদেকুর রহমান কাজল, প্রাক্তন প্রভাষক, অর্থনীতি বিভাগ, সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম।
- শাহেদ আহমেদ, প্রাক্তন প্রভাষক, অর্থনীতি বিভাগ, সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম, পরীক্ষক ও নিরীক্ষক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর।
উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী
[সম্পাদনা]- শাহজাহান চৌধুরী - বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য।
- এম. এ. হান্নান - স্বাধীনতা পদক বিজয়ী রাজনীতিবিদ।
- এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী - বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র।
- দীপক বড়ুয়া -বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি পদক ২০১৮ বিজয়ী শিশুসাহিত্যিক।[৩]
সহ-শিক্ষা কার্যক্রম
[সম্পাদনা]- বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর
- বাংলাদেশ স্কাউটস
- বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি
- বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন
ক্যারিয়ার কনসালটেন্ট প্লাটফর্ম
[সম্পাদনা]- ক্যারিয়ার ক্লাব - সরকারি সিটি কলেজ চট্টগ্রাম
গ্রন্থাগার
[সম্পাদনা]একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবনের দশ তলায় উক্ত কলেজের সুবিশাল গ্রন্থাগার রয়েছে। গ্রন্থাগারে আধুনিক সুবিধাসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থীর পড়ার ব্যবস্থা আছে।
উৎসব
[সম্পাদনা]- বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব - প্রতি বছর বসন্তকালে উক্ত কলেজের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে বসন্ত উৎসব নামক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, এই অনুষ্ঠান উক্ত কলেজের সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে আনন্দ মুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ সরকারি সিটি কলেজের অফশিয়াল ওয়েবসাইট[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑
- ↑ রাশেদ রউফ (১৭ নভেম্বর ২০২০)। "দীপক বড়ুয়া : সাহিত্য-সাধনায় নিবেদিতপ্রাণ, সমাজ অভিমুখী লেখক"। শৈলীTV। চট্টগ্রাম , বাংলাদেশ। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২০।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- কলেজের ওয়ে বসাইট: www.gccc.gov.bd ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে
- চট্টগ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম জেলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মহাবিদ্যালয়
- ১৯৫৪-এ প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- ১৯৫৪-এ পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত
- বাংলাদেশের সরকারি মহাবিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম জেলার মহাবিদ্যালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের অধিভুক্ত মহাবিদ্যালয়
- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকেন্দ্র
- বিএনসিসি-এর কর্ণফুলী রেজিমেন্টের ইউনিট

