রাঙ্গুনিয়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রাঙ্গুনিয়া
উপজেলা
রাঙ্গুনিয়া কলেজ সড়ক
রাঙ্গুনিয়া কলেজ সড়ক
রাঙ্গুনিয়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
রাঙ্গুনিয়া
রাঙ্গুনিয়া
বাংলাদেশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°২৭′৫৪″ উত্তর ৯২°৫′১২″ পূর্ব / ২২.৪৬৫০০° উত্তর ৯২.০৮৬৬৭° পূর্ব / 22.46500; 92.08667স্থানাঙ্ক: ২২°২৭′৫৪″ উত্তর ৯২°৫′১২″ পূর্ব / ২২.৪৬৫০০° উত্তর ৯২.০৮৬৬৭° পূর্ব / 22.46500; 92.08667 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাচট্টগ্রাম জেলা
প্রতিষ্ঠাকাল২৪ জানুয়ারি, ১৯৬২
সংসদীয় আসন২৮৪ চট্টগ্রাম-৭
সরকার
 • সংসদ সদস্যহাছান মাহমুদ (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)
 • উপজেলা চেয়ারম্যানখলিলুর রহমান চৌধুরী
আয়তন
 • মোট৩৬১.৫৪ বর্গকিমি (১৩৯.৫৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট৩,৩৯,০০৪
 • ক্রম৯ম
 • জনঘনত্ব৯৪০/বর্গকিমি (২,৪০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৪৮.৯২%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৪৩৬০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
২০ ১৫ ৭০
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

রাঙ্গুনিয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এ উপজেলাটি আয়তনের দিক থেকে চট্টগ্রাম জেলার ষষ্ঠ বৃহত্তম এবং জনসংখ্যার দিক থেকে নবম জনবহুল উপজেলা।[১]

পটভূমি[সম্পাদনা]

১৭৫৭ সাল থেকে চাকমা রাজন্যবর্গ সুখদেব রায়, শেরদৌলত খাঁ, জানবক্স খাঁ, টব্বর খাঁ, জব্বর খাঁ, ধরম বক্স খাঁ, রানী কালীন্দি, হরিশচন্দ্র রায় প্রমুখ এ অঞ্চলে রাজত্ব করেছেন। ১৮৭৪ সালে চাকমা রাজা হরিশচন্দ্র রাজধানী রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর হতে রাঙ্গামাটিতে স্থানান্তরিত করেন।[২]

কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে নবনির্মিত শহীদ মিনার

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া ১নং সেক্টরের আওতাধীন ছিল। এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-জুন) এবং ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম (জুন-ফেব্রুয়ারি)। ১৯৭১ সালে উপজেলার রানীরহাট, রোয়াজারহাট ও রাঙ্গুনিয়ায় পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ হয়। পাকবাহিনী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। ১৫ ডিসেম্বর রাঙ্গুনিয়া শত্রুমুক্ত হয়। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ২টি বধ্যভূমি এবং ৪টি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভগুলো যথাক্রমে রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ, রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ইছাখালী উপজেলা সদর এবং বেতাগী ইউনিয়নস্থ কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে।[২][৩]

রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি কবে কীভাবে হল এ সম্পর্কে কৌতুহলের শেষ নেই। বলা হয়ে থাকে, আরাকানী রাজশক্তি মোগল রাজশক্তির সাথে যুদ্ধে পরাজিত হলে আরাকানী মগেরা তাদের অর্জিত ধন সম্পদ পরিত্যাগ করে এ অঞ্চল ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং এর থেকে অঞ্চলের নাম হয় রাইন্যারাইন্যা একটি মগী শব্দ, যার অর্থ হল পরিত্যক্ত। পরবর্তীতে রাইন্যা শব্দ থেকে রইন্যা তথা রাঙ্গুনিয়া শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।

আরেকটি মত হচ্ছে, এককালে এ অঞ্চলের লোকজন অধিক সংখ্যায় বার্মার রেঙ্গুন শহরে চলে যেত এবং এজন্য এ অঞ্চলকে রেঙ্গুন্যা বলা হত, আর এ থেকেই রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি।

আসলে এই দুইটি মতই ঐতিহাসিকভাবে ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক জনাব হামিদুল্লাহ খাঁ কর্তৃক ফার্সি ভাষায় রচিত চট্টগ্রামের প্রাচীন ইতিহাস আহাদিসুল খাওয়ানিন, যা ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং বর্তমানে এক কপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তাতে রাঙ্গুনিয়াকে রঙ্গীনা নামে উল্লেখ করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও গবেষক মরহুম সৈয়দ আহমদুল হক রচিত প্রবন্ধ 'বিচিত্রা'য় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফার্সি ভাষায় রঙ্গীনা শব্দের অর্থ হল রঙে রঞ্জিত অর্থাৎ সৌন্দর্য্য। তার মতে, রাঙ্গুনিয়ার মত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত মনোরম স্থান দক্ষিণ এশিয়ায় আর নেই। চিরহরিৎ অনুচ্চ শৈল শিখর ও কর্ণফুলি নদী বিধৌত এ অঞ্চল সুলতানী আমলে পরিচিত ছিল রঙ্গীনা নামে। পরবর্তীতে এই রঙ্গীনা শব্দ থেকেই রইন্যা বা রাঙ্গুনিয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে।[৪]

ভূগোল[সম্পাদনা]

১৯৭৩ সালের উপজেলা মানচিত্র

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আয়তন ৩৬১.৫৪ বর্গ কিলোমিটার (৮৯,৩৩৮ একর)।[১] চট্টগ্রাম জেলার সর্ব-পূর্বে ২২°১৮´ থেকে ২২°৩৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৮´ থেকে ৯২°০৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অবস্থান।[২]

এ উপজেলার দক্ষিণে চন্দনাইশ উপজেলা, দক্ষিণ-পশ্চিমে পটিয়া উপজেলাবোয়ালখালী উপজেলা, পশ্চিমে রাউজান উপজেলারাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা, উত্তরে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা, পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলারাজস্থলী উপজেলা এবং দক্ষিণ-পূর্বে বান্দরবান জেলার বান্দরবান সদর উপজেলা অবস্থিত।

প্রশাসন[সম্পাদনা]

১৯৬২ সালের ২৪ জানুয়ারি রাউজান উপজেলার তৎকালিন ৭টি ইউনিয়ন (রাজানগর, হোসনাবাদ, রাঙ্গুনিয়া, মরিয়মনগর, পারুয়া, পোমরা ও বেতাগী) এবং পটিয়া উপজেলার তৎকালিন ৩টি ইউনিয়ন (সরফভাটা, শিলক ও পদুয়া) সর্বমোট ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা গঠিত হয়।[৫] পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে স্থানীয় জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় গণদাবীর প্রেক্ষিতে মরিয়মনগর ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ১১নং চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন গঠন করা হয়।[৬] ১৯৮৩ সালে তৎকালিন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে পৃথক পৃথক উপজেলা গঠন করলে রাঙ্গুনিয়া থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।[২] ১৯৮৯ সালে শিলক ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ১২নং কোদালা ইউনিয়ন গঠন করা হয়।[৭] ২০০০ সালের ৪ জুলাই উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, মরিয়মনগর, পারুয়া ও পোমরা ইউনিয়নের অংশ নিয়ে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা ঘোষণা করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)।[২] সর্বশেষ ২০০৩ সালে বৃহত্তর রাজানগর ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ১৩নং ইসলামপুর ইউনিয়ন ও ১৪নং দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়ন এবং বৃহত্তর হোসনাবাদ ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ১৫নং লালানগর ইউনিয়ন গঠন করা হয়।[৮][৯][১০]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আওতাধীন ছিল। তবে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর বৈঠকে ৪টি ইউনিয়নকে নিয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা গঠনের অনুমোদন দেয়া হয়।[১১]

বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার আওতাধীন ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন।[১২]

পৌরসভা:
ইউনিয়নসমূহ:

এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার আওতাধীন ৪টি ইউনিয়ন।[১৩]

ইউনিয়নসমূহ:

আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন পদুয়া (৩৯.২৫ বর্গ কিলোমিটার) ও সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন মরিয়মনগর (২.২৭ বর্গ কিলোমিটার) এবং জনসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে সবচেয়ে জনবহুল ইউনিয়ন মরিয়মনগর (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৮,২১৯ জন)।[১]

সংসদীয় আসন[সম্পাদনা]

সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[১৪] সংসদ সদস্য[১৫][১৬][১৭][১৮][১৯] রাজনৈতিক দল
২৮৪ চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
জাতীয় নির্বাচন অনুযায়ী সংসদ সদস্যগণের তালিকা[২০]
ক্রম নং নির্বাচন সন নির্বাচনকালীন আসন নং নির্বাচিত সংসদ সদস্য রাজনৈতিক দল
১ম ১৯৭৩ ২৯০ চট্টগ্রাম-১০ আবুল কাসেম বাংলাদেশ জাতীয় পরিষদের প্রথম নির্বাচিত সংসদ সদস্য
২য় ১৯৭৯ ২৮৭ চট্টগ্রাম-৭ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুসলিম লীগ
৩য় ১৯৮৬ ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী জাতীয় পার্টি
৪র্থ ১৯৮৮ ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ নজরুল ইসলাম জাতীয় পার্টি
৫ম ১৯৯১ ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ মোঃ ইউসুফ বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)
৬ষ্ঠ ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ নুরুল আলম স্বতন্ত্র
৭ম ১৯৯৬ (জুন) ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
৮ম ২০০১ ২৮৫ চট্টগ্রাম-৭ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
৯ম ২০০৮ ২৮৩ চট্টগ্রাম-৬ হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
১০ম ২০১৪ ২৮৪ চট্টগ্রাম-৭ হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
১১শ ২০১৮ ২৮৪ চট্টগ্রাম-৭ হাছান মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন[সম্পাদনা]

ক্রম নং পদবী নাম
০১ উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান চৌধুরী[২১]
০২ ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম[২২]
০৩ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম[২২] (২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯-এ মৃত্যু)[২৩]
আয়েশা আক্তার (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত)[২৩]
০৪ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুর রহমান[২৪]
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে জনপ্রতিনিধিদের তালিকা
ক্রম নং পদবী নাম সময়কাল
০১ থানা উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জহির আহমদ চৌধুরী ১৯৭৩-১৯৭৬
০২ মুহাম্মদ সৈয়দুল হক ১৯৭৭-১৯৮৩
০৩ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী মুহাম্মদ নুরুল আলম ১৯৮৫-১৯৮৯
০৪ মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ১৯৯০-১৯৯২ (বিলুপ্ত)
০৫ আবু আহমেদ হাসনাত ২০০৮-২০১৪
০৬ মুহাম্মদ আলী শাহ্‌ ২০১৪-২০১৯
০৭ খলিলুর রহমান চৌধুরী ২০১৯-বর্তমান

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩,৩৯,০০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৬৮,৪১২ জন এবং নারী ১,৭০,৫৯২ জন। মোট পরিবার ৬৭,৭৯২টি।[১] জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ৯৩৮ জন।[২৫]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ধর্মবিশ্বাস (২০১১)

  ইসলাম ধর্ম (৮২.৭০০৮%)
  হিন্দু ধর্ম (১২.৫৭৩৯%)
  বৌদ্ধ ধর্ম (৪.৬০৭৯%)
  খ্রিস্ট ধর্ম (০.০৯৭৯%)
  অন্যান্য (০.০১৯৫%)

ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ উপজেলার ২,৮০,৩৫৯ জন ইসলাম, ৪২,৬২৬ জন হিন্দু, ১৫,৬২১ জন বৌদ্ধ, ৩৩২ জন খ্রিস্ট এবং ৬৬ জন অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। এ উপজেলায় চাকমামারমা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।[২]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাক্ষরতার হার ৪৮.৯২% (পুরুষ ৪৮.৭৪% এবং নারী ৪৯.০৯%)।[১]

১৯৬৩ সালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে হাজী মাওলানা আহমেদ, জনাব ওয়াকিল আহমেদ তালুকদার, বাবু ডাঃ বিনয় ভূষণ দে এবং বাবু সন্তোষ ভূষণ দাশের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় উপজেলার সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ। ১৯৬৩ সালের জুলাই মাসে এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান শুরু হয় এবং ১৯৬৫ সালে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনে ডিগ্রী কলেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে এ কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানব্যবস্থাপনা বিষয়দ্বয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু আছে। ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট রাঙ্গুনিয়া কলেজকে সরকারিকরণ করা হয়।[২৬][২৭] এছাড়া উপজেলার আরও ৭টি কলেজে স্নাতক পর্যায়ে পাঠদান করা হয়। সেগুলো হলো- দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া পদুয়া ডিগ্রী কলেজ (১৯৮১), উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রী কলেজ (১৯৮৩), রাজানগর রানীরহাট ডিগ্রী কলেজ (১৯৮৫), এম শাহ আলম চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ (১৯৮৭), রাঙ্গুনিয়া হাসিনা জামাল ডিগ্রী কলেজ (১৯৯৫) এবং সৈয়দা সেলিমা কাদের চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ (১৯৯৮)। রাঙ্গুনিয়ায় বর্তমানে দুইটি মহিলা কলেজ রয়েছে, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দুইটি কলেজেই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান করা হয়। কলেজ দুটি হলো- দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক বালিকা মহাবিদ্যালয় এবং রাঙ্গুনিয়া মহিলা কলেজ।[২৮]

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রাঙ্গুনিয়া আলমশাহপাড়া কামিল মাদ্রাসায় উপজেলার একমাত্র কামিল (মাস্টার্স সমমান) মাদ্রাসা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করে আসছে। ২০১৯ সালের ৩ আগস্ট উপজেলার দ্বিতীয় কামিল মাদ্রাসা হিসেবে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে কামিল (হাদিস) বিভাগে পাঠদানের জন্য ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অনুমোদনপত্র হস্তান্তর করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়[২৯] এছাড়া বর্তমানে ফাযিল (স্নাতক সমমান) পর্যন্ত পাঠদান করছে ৪টি মাদ্রাসা; যথাক্রমে- পোমরা জামেউল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা (১৯৩০), জামেয়া নঈমিয়া তৈয়্যবিয়া ফাযিল মাদ্রাসা (১৯৭৪), মাদ্রাসা-এ তৈয়্যবিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (১৯৭৭) এবং রানীরহাট আল আমিন হামেদিয়া ফাযিল মাদ্রাসা। আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যায় পর্যন্ত পাঠদান করা হয় শুধুমাত্র ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মরিয়মনগর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় এবং ১টি বালিকা মাদ্রাসা সহ এ উপজেলায় মোট দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে ৯টি।[২৮]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মোট মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪৩টি। উপজেলার প্রথম মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয় আরও ৫টি বিদ্যালয়; যথা- রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৬), রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৭), পোমরা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৮), উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪২) এবং দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৫)।[২] উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পোমরা বঙ্গবন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়[৩০] এবং একমাত্র সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।[৩১] এছাড়া এ উপজেলায় রয়েছে আরও ৪টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি কওমী মাদ্রাসা, ২০টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও ৫৪টি কিন্ডারগার্টেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশের অন্য সব অঞ্চলের মতোই। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রধানত পাঁচটি ধাপ রয়েছে: প্রাথমিক (১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী), নিম্ন মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ৮ম শ্রেণী), মাধ্যমিক (৯ম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী), উচ্চ মাধ্যমিক (১১শ শ্রেণী থেকে ১২শ শ্রেণী) এবং উচ্চ শিক্ষা (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)। প্রাথমিক শিক্ষা সাধারণত ৫ বছর মেয়াদী হয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়, ৩ বছর মেয়াদী নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), ২ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক শিক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) এবং ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে পর্যায়ক্রমে স্নাতক বা স্নাতক সম্মান এবং স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রী অর্জন করা যায়। চট্টগ্রাম জেলার অন্যান্য উপজেলার মতো রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে থাকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এবং স্নাতক পর্যায়ের কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।

মূলত বাংলা ভাষায় পাঠদান করা হয়, তবে ইংরেজি ভাষায় পাঠদানও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অনেক মুসলমান পরিবার তাদের সন্তানদের বিশেষায়িত ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন মাদ্রাসাতে প্রেরণ করে থাকে। মাদ্রাসাগুলোতেও প্রায় একই ধরনের ধাপ উত্তীর্ণ হতে হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ বছর মেয়াদী ইবতেদায়ী শিক্ষা ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা, ৩ বছর মেয়াদী নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি), ২ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক শিক্ষা দাখিল এবং ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত আলিম পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়। আলিম শিক্ষা শেষে পর্যায়ক্রমে ফাযিল (স্নাতক সমমান) এবং কামিল (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রী অর্জন করা যায়। দাখিল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বাংলাদেশ মাদ্‌রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং ফাযিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

গুমাই বিল

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অর্থনীতি প্রধানত কৃষি নির্ভর। কথায় আছে- আঁতত কাঁচি, কোঁরত দা, ভাত হাইতু চাইলি রইন্যা যা। এই ভাতের ভাণ্ডার হচ্ছে গুমাই বিল। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে রাঙ্গুনিয়ার নিশ্চিন্তাপুর পাহাড়ের পাদদেশে চন্দ্রঘোনা কদমতলী, মরিয়মনগর, হোসনাবাদ, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, লালানগর ইউনিয়ন এবং পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার প্রায় তিন হাজার হেক্টর আয়তনের গুমাই বিল চট্টগ্রামের শস্যভাণ্ডার নামে খ্যাত। বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিলগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। প্রবাদ আছে গুমাই বিলে এক মৌসুমের উৎপাদিত মোট ধান দিয়ে সারা দেশের আড়াই দিনের খাদ্য চাহিদা মেটানো যায়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গুমাই বিলে হেক্টরপ্রতি গড়ে চার থেকে সাড়ে চার টন ধান পাওয়া যায়। এ বিলে চাষ করে প্রায় সাত হাজার কৃষক। ধান কাটার মৌসুমে নেত্রকোনা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, রংপুর এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষিশ্রমিকেরা গুমাই বিলে ধান কাটার জন্য এসে জড়ো হয়। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র মতে, গুমাই বিলসহ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রি-৪৯, ব্রি-৫১, ব্রি-৫২, ব্রি-৭৫, পাইজাম, বিআর-১১, বিআর-২২, বিআর-২৩ জাতের ধানের চাষ বেশি হয়। তন্মধ্যে পাইজামের মতো সরু চালের ফলন ভালো হওয়ায় নতুন জাতের ব্রি-৪৯ এর দিকে বেশি ঝুঁকেছে কৃষকরা। ব্রি-৭৫ জাতের ধানের চাল সুগন্ধি ও আগাম কেটে ফেলতে পারায় এ জাতের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।[৩২]

রাঙ্গুনিয়ার একটি কাকরোল ক্ষেত

ধান ছাড়াও এ উপজেলায় তামাক, আলু, বেগুন, মরিচ, টমেটো, শিম, করলা, কাকরোল, পিঁয়াজ, রসুন, পান এবং বিভিন্ন প্রকারের শাকসবজির চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের বাগান, গবাদি পশু পালন এবং মৎস্য চাষের মাধ্যমেও এ উপজেলার অর্থনীতিতে অবদান রাখছে অনেকে।[২]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় রয়েছে ৩টি চা বাগান। উপজেলার কোদালা ইউনিয়নে গড়ে উঠা চা বাগানটি দেশের প্রথম চা বাগান এবং শীর্ষ চা বাগানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এলাকায় জনশ্রতি রয়েছে, ব্রিটিশরা কর্ণফুলি নদী দিয়ে আসা যাওয়ার সময় কোদালা এলাকায় বিস্তীর্ণ জায়গা দেখে চা বাগান করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। আর সেই থেকে প্রায় ৪,২০০ একর এলাকা জুড়ে কোদালা চা বাগান গড়ে উঠে। ১৮৯৪ সালে চা বাগানটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৬ সালে তৎকালিন সরকার ব্যক্তি মালিকানায় লিজ দিয়ে চা বাগানগুলো ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে প্লান্টাস বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কোদালা চা বাগান পরিচালনা করে এসেছে। লোকসানের কবলে পড়ায় ১৯৯৩ সালে প্লান্টাস বাংলাদেশ থেকে আনোয়ার গ্রুপ চা বাগানটি লিজ নিয়ে নেয়। আনোয়ার গ্রুপও লাভের মুখ দেখতে না পাওয়ায় ২০০৪ সালের ৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্র্যাক কোদালা চা বাগানের লিজ নেয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আওতায় সরকার থেকে আড়াই হাজার একর জায়গা চা বাগানের জন্য লিজ গ্রহণ করে ব্র্যাক। প্রতি বছর গড়ে এ বাগান থেকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়, যা সারাদেশে ১৬২টি চা বাগানের মধ্যে বর্তমানে তৃতীয়। ব্র্যাক চা ও রাবার বাগানের পাশাপাশি নানা প্রজাতির গাছের চারা নবনায়ন করছে এখানে। পাশাপাশি আম, আগর, নিম ও মুলি বাঁশের চাষও করা হয়েছে এই বাগানে। দেশের চা শিল্পে কোদালা চা বাগানের চা গুণগত মান ও শীর্ষ চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে।[৩৩]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়ন এবং রাঙ্গামাটি জেলাধীন কাপ্তাই উপজেলার ওয়াজ্ঞা ইউনিয়নের প্রায় ৩,০০০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠা আগুনিয়া চা বাগানে কাজ করে প্রায় দেড় হাজার কর্মচারী। এ বাগানের উৎপাদিত ক্লোন চা পাতা বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় দেশে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত এ বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিল ব্রিটিশ পরিবারের হাতে। ব্রিটিশরা বাংলাদেশ ত্যাগ করলে ১৯৫২ সালে বাগানটি নিলাম হয়ে যায়। ১৯৫৪ সালে এটির তদারকির দায়িত্ব নেন লালানগর ইউনিয়ন নিবাসী মীর সোলতানুল হক। তিনি সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে আবার চা পাতা উৎপাদনের কাজ চালু করেন। তিনিই বাগানের নাম রাখেন আগুনিয়া চা বাগান[৩৪] এছাড়াও উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নে রয়েছে ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগান। প্রায় ৪ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ব্যক্তি মালিকানাধীন এ চা বাগানে ৭৯০ জন কর্মচারী কাজ করে। বাগানটির মালিক কাজী নুরুল আলম।[৩৫] ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগানের পাশে আছে বিশাল রাবার বাগান, এ বাগান থেকে প্রতিদিন কাঁচা রাবার উৎপাদন হয়। এছাড়া উপজেলার কর্ণফুলি নদী তীরবর্তী সরফভাটা ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার একর পিএফ জমিতে হচ্ছে রাবার বাগান। ১০ম জাতীয় সংসদের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির ১৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।[৩৬]

পাহাড়ী বাঁশ রাঙ্গুনিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে দীর্ঘ সময় ধরে। বাঁশ দিয়ে সোফা, দোলনা, মোড়া, চেয়ার, র‌্যাক, বাঁশের ঝুড়ি, কুলা, খাড়াং, চালুন, তলুইসহ মানুষের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র তৈরি করে উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার লোক জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এমনকি ঘরবাড়ি ও দালানকোটা নির্মাণেও বাঁশের জুড়ি নেই। শিক্ষার প্রধান উপকরণ কাগজ তৈরি হয় বাঁশ থেকে। আর এই বাঁশ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ইছামতি রেঞ্জের ইছামতি বনবিটের কাউখালী, ঠাণ্ডাছড়ি, বগাবিলী ও রাজানগরের পাহাড়ি এলাকা, দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া ও খুরুশিয়া রেঞ্জের পদুয়া, খুরুশিয়া, দুধ পুকুরিয়া, কমলাছড়ি, দশ মাইল, নারিশ্চা, পোমরা ও কোদালা বনবিটের পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে বাঁশ উৎপাদিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থান, উপযোগী জলবায়ু ও আবহাওয়ার কারণে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় প্রাকৃতিক নিয়মে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ উৎপন্ন হয়। উৎপাদিত বাঁশগুলোর মধ্যে বাইজ্জা, মিতিংগা, কালিছড়ি, বড়াক, শীল বড়াক ও মুলিবাঁশ উল্লেখযোগ্য।[৩৭]

এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অর্থনীতি সচল রাখার ক্ষেত্রে বেশ প্রভাব রয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো বৈদেশিক রেমিট্যান্সমধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের কারণে অবস্থান করছে উপজেলার অসংখ্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ সংগ্রহ হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে তথ্য পাওয়া গেছে।[৩৮]

হাট-বাজার ও বিপণন কেন্দ্র[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রধান দুইটি বিপণন কেন্দ্র হলো পৌরসভাস্থ রোয়াজারহাট এবং চন্দ্রঘোনাস্থ লিচুবাগান ও দোভাষী বাজার। এখানে কাপড়চোপড়, প্রসাধনী সহ সকল প্রকার পণ্য সামগ্রী পাওয়া যায়। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং অন্যান্য জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য এ উপজেলার উল্লেখযোগ্য হাট-বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে ইছাখালী বাজার, উত্তর রাঙ্গুনিয়া রাজারহাট, উদালবুনিয়া হাট, কোদালা হাট, ক্ষেত্রবাজার, গোচরা বাজার, দোভাষী বাজার, ধামাইরহাট, পদুয়া রাজারহাট, ব্যুহচক্র হাট, মোগলের হাট, রানীরহাট, রামগতির হাট, রোয়াজারহাট, শান্তি নিকেতন বাজার এবং শান্তিরহাট। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম্য বাজারসমূহে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যায়।[৩৯]

ব্যাংক[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম জীবনীশক্তি হলো ব্যাংক এবং এই ব্যাংকগুলো দেশের মুদ্রাবাজারকে রাখে গতিশীল ও বৈদেশিক বাণিজ্যকে করে পরিশীলিত। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবস্থিত ব্যাংকসমূহের তালিকা নিচে উল্লেখ করা হলো:

ক্রম নং ব্যাংকের ধরন ব্যাংকের নাম শাখা ব্যাংকিং পদ্ধতি ঠিকানা
০১ রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক ইছাখালী শাখা[৪০] সাধারণ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর
০২ জনতা ব্যাংক পোমরা শাখা[৪১] মমতাজ মার্কেট, গোচরা চৌমুহনী
০৩ রূপালী ব্যাংক লিচুবাগান শাখা[৪২] হাজী আলম মার্কেট, দোভাষীবাজার, চন্দ্রঘোনা
০৪ সোনালী ব্যাংক মরিয়মনগর শাখা[৪৩] মরিয়মনগর
০৫ রাঙ্গুনিয়া শাখা[৪৩] রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর
০৬ রোয়াজারহাট শাখা[৪৩] রোয়াজারহাট, রাঙ্গুনিয়া
০৭ ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক রাঙ্গুনিয়া শাখা[৪৪] সাধারণ হাজী ফয়েজ মার্কেট (২য় তলা), মরিয়মনগর চৌমুহনী
০৮ সরফভাটা শাখা[৪৪] আসমা ভবন (১ম তলা), সরফভাটা
০৯ এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক সরফভাটা শাখা[৪৫] হামিদ শরীফ কমপ্লেক্স, সরফভাটা
১০ ওয়ান ব্যাংক দোভাষীবাজার শাখা[৪৬] তৈয়্যবিয়া মাদ্রাসা মার্কেট, দোভাষীবাজার, চন্দ্রঘোনা
১১ রানীরহাট শাখা[৪৬] ফেরদৌস শপিং কমপ্লেক্স, রানীরহাট, রাজানগর
১২ ন্যাশনাল ব্যাংক রাঙ্গুনিয়া শাখা[৪৭] খাজা গাউছিয়া মার্কেট, রোয়াজারহাট
১৩ পূবালী ব্যাংক রাঙ্গুনিয়া শাখা[৪৮] রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর
১৪ রানীরহাট শাখা[৪৯] আমেনা সুপার মার্কেট, রানীরহাট, রাজানগর
১৫ প্রিমিয়ার ব্যাংক শান্তিরহাট শাখা[৫০] গাউছিয়া কবির মার্কেট (১ম তলা), শান্তিরহাট, পোমরা
১৬ বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ধামাইরহাট শাখা[৫১] উত্তর রাঙ্গুনিয়া স্কুল মার্কেট, ধামাইরহাট, উত্তর রাঙ্গুনিয়া
১৭ ব্যাংক এশিয়া লিচুবাগান শাখা[৫২] আল-ইমারাত কমপ্লেক্স, ফেরিঘাট রোড, লিচুবাগান, চন্দ্রঘোনা
১৮ ইউনিয়ন ব্যাংক লিচুবাগান শাখা[৫৩] ইসলামী শরিয়াহ্ ভিত্তিক আল-ইমারাত কমপ্লেক্স, ফেরিঘাট রোড, লিচুবাগান, চন্দ্রঘোনা
১৯ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ রাঙ্গুনিয়া শাখা[৫৪] লিচুবাগান, চন্দ্রঘোনা
২০ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক দোভাষীবাজার শাখা[৫৫] হাজী আলম কমপ্লেক্স (২য় তলা), দোভাষীবাজার, চন্দ্রঘোনা
২১ রানীরহাট এসএমই/কৃষি শাখা[৫৫] আমিরুজ্জামান সওদাগর মার্কেট, রানীরহাট, রাজানগর
২২ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক রাঙ্গুনিয়া শাখা[৫৬] হাফেজ চৌধুরী টাওয়ার, গোচরা চৌমুহনী
২৩ রোয়াজারহাট শাখা[৫৬] এ. ফরিদা শপিং কমপ্লেক্স, রোয়াজারহাট
২৪ বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আলমশাহপাড়া মাদ্রাসা শাখা[৫৭] সাধারণ আলমশাহপাড়া মাদ্রাসা, লালানগর
২৫ পোমরা শাখা[৫৭] গোচরা চৌমুহনী
২৬ রাঙ্গুনিয়া কলেজ শাখা[৫৭] রাঙ্গুনিয়া কলেজ
২৭ রাঙ্গুনিয়া শাখা[৫৭] রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর

শিল্প[সম্পাদনা]

কর্ণফুলি জুট মিলস লিমিটেড এবং ফোরাত কর্ণফুলি কার্পেট ফ্যাক্টরি বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের অধীনস্থ ২৬টি পাটকলের মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধীনে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার দুইটি রাষ্ট্রায়ত্ত ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। পাটকল দুটি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দক্ষিণ নোয়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত। ১৯৬৩ সালে দাউদ শিল্পগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠানদ্বয় স্থাপন করে এবং ১৯৭২ সালে এটিকে জাতীয়করণ করা হয়। লোকসানের অজুহাতে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে এটি বন্ধ করে দেয়ার পর ২০০৮ সালে বেসরকারি খাতে এবং ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি সরকারিভাবে মিলটি পুনরায় চালু করা হয়। এই বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানদ্বয় একসাথে কে.এফ.ডি. শিল্প কমপ্লেক্স নামে পরিচিত এবং বর্তমানে এ শিল্প কমপ্লেক্সে প্রায় আটশত শ্রমিক কর্মরত রয়েছে, যাদের মধ্যে তিন শতাধিক নারী শ্রমিক। এখান থেকে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার পাটজাত সুতা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।[৫৮][৫৯]

এছাড়াও ১৯৬৫ সালে তৎকালিন পাকিস্তানের ভাওয়ানি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে রাঙ্গুনিয়ার ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর ভাওয়ানি গ্রুপ বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিলে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার অধিগ্রহণ করে। এরপর ১৯৭৮ সালে ইস্টার্ন কেমিক্যালকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করে তৎকালিন সরকার। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার নোয়াগাঁও এলাকায় ১০.১ একর ভুমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশে নিজস্ব আরো ১৫ একর পাহাড়ি জমি রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ২৪ ও ১৯ শতাংশের পৃথক দুটি প্লট আছে ইস্টার্ন কেমিক্যালের। প্লট দুটিতে ১৯ ও ২৯ তলা টাওয়ার নির্মাণ করছে একটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। দেশে একসময় একমাত্র ফরমালিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেমিক্যালে গত বিশ বছর ধরে বন্ধ রেখেছে ফরমালিন উৎপাদন ইউনিট। বিদেশ থেকে মিথানল আমদানি করে উন্নত মানের ফরমালিন উৎপাদন করা হতো এখানে। ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজস করে মিথানল আমদানি বন্ধ করে ফরমালিন উৎপাদন বন্ধ করে বিভিন্ন কোম্পানী দেদারছে ফরমালিন আমদানি করে ব্যবসাটি তাদের আয়ত্তে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে প্যারা ফরমালিন আমদানি করে ইউরিয়া ফর্মালডিহাইড এডহেসিভ গ্লো, ইউরিয়া ফর্মালডিহাইভ কম্পাউন্ড পাউডার ইউনিট দুটি কোন রকমে চালু রাখা হয়েছিল। অথচ এই শিল্প প্রতিষ্ঠানে একসময় কম খরচে ফরমালিন উৎপাদন করা হতো। এখন অধিক মূল্যে আমদানি করে ইউনিট দুটো চালু রেখেছিল কোন রকমে। ফলে ক্রমান্বয়ে এটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। অবশেষে ২০১৮ সালের ৩০ জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে বেসরকারিভাবে লিজ দিয়ে লাভজনক এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির জমিতে কন্টেইনার ডিপো করার চেষ্টা চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।[৬০]

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদরে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এছাড়া ২টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ১৫টি ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। উপজেলার লিচুবাগান, মরিয়মনগর চৌমুহনী, গোচরা চৌমুহনী এবং শান্তিরহাট এলাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। শান্তিরহাটে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশাপাশি একটি ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে। এছাড়াও গোচরা চৌমুহনীতে রয়েছে সূর্যের হাসি চিহ্নিত স্বাস্থ্য ক্লিনিক।[৬১]

রাঙ্গুনিয়া মডার্ন ব্লাড ডোনেশন ক্লাবের লোগো

রাঙ্গুনিয়ায় রাঙ্গুনিয়া মডার্ন ব্লাড ডোনেশন ক্লাব নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে, যেটি ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে স্বেচ্ছায় সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে। রক্তের অভাবে যেন কাউকে মৃত্যুবরণ করতে না হয় সেই উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা রক্তের যোগান দিয়ে থাকে। আর্তের মুখে হাসি ফোটানো যদি হয় মানবতা, তবে তার সেবক হলো প্রতিটা রক্তদাতা -এ স্লোগান নিয়ে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে পোস্টের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদান করার পাশাপাশি যুবসমাজকে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। গর্ভবতী মা, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগী, ব্লাড ক্যান্সার, কিডনি রোগী ও দুর্ঘটনার শিকার মানুষজনের পাশে জরুরি ভিত্তিতে পাশে এসে দাঁড়ায় এ সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়াও সংগঠনটির পক্ষ থেকে রক্তদানের পাশাপাশি জনসচেতনতার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, নানা ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও থ্যালাসেমিয়া সচেতনমূলক কর্মসূচী পালন করা হয় এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চালায় সংগঠনের সদস্যরা। বর্তমানে দেশের বাইরেও জনসেবামূলক এসব কাজ করে যাচ্ছে রাঙ্গুনিয়া মডার্ন ব্লাড ডোনেশন ক্লাবের প্রবাসী পরিষদ।[৬২]

যোগাযোগ[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক

১৯৫৫ সালের আগে কাপ্তাই সড়ক নির্মাণ হওয়ার পূর্বে রাঙ্গুনিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক ছিল, তখন নদী পথই ছিল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। জেলা সদরে যাতায়াত ব্যবস্থায় দুর্ভোগ পোহাতে হত বলে এখনো লোকমুখে বলতে শোনা যায় রইন্যা দি শরত যন। কাপ্তাই সড়ক নির্মাণ হওয়ার পর রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা সড়ক পথে। জেলা সদর থেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর ও উপজেলার বেশির ভাগ অঞ্চলে যোগাযোগের প্রধান সড়ক কাপ্তাই সড়ক, রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় যার দৈর্ঘ্য ২৬ কিলোমিটার। এছাড়া চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক এ উপজেলার উত্তরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলো অতিক্রম করেছে এবং রাঙ্গামাটি-চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়ক উপজেলার পূর্বাঞ্চল অতিক্রম করেছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের দৈর্ঘ্য সাড়ে ৮ কিলোমিটার এবং রাঙ্গামাটি-চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়ক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার যে অংশ অতিক্রম করেছে তা কাপ্তাই সড়ক নামেই পরিচিত। চন্দ্রঘোনা এলাকায় কর্ণফুলি নদীর উপর ফেরিঘাটের মাধ্যমে এ সড়কটিকে সংযুক্ত করেছে। এছাড়া উপজেলা সদরের সাথে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ৪ ইউনিয়ন সহ বোয়ালখালী উপজেলা ও বান্দরবান সদর উপজেলার সাথে যোগাযোগ সহজতর করেছে দ্বিতীয় কর্ণফুলি সেতু বা গোডাউন ব্রিজ। উপজেলার অন্যান্য প্রধান সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে মরিয়মনগর-রানীরহাট সড়ক, পারুয়া ডিসি সড়ক, রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী সংযোগ সড়ক, হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, পদুয়া কালিন্দিরাণী সড়ক। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়ক রয়েছে। কাপ্তাই ও রাঙ্গামাটি সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অন্যান্য সড়কসমূহের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম সিএনজি চালিত অটোরিক্সা।[৬৩]

কর্ণফুলি নদী

এছাড়াও নদীপথে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। নৌপথে ভ্রমণপিয়াসুরা চট্টগ্রাম শহরের সদরঘাট বা কালুরঘাট এলাকা থেকে লঞ্চ, স্টীমার বা স্পীডবোট যোগে এ উপজেলার চিত্তাকর্ষক স্থানগুলো উপভোগ করতে পারেন।

জীব বৈচিত্র্য[সম্পাদনা]

শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্কের লেক ভিউ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা বন বিটের সবুজ বনানী ঘিরে স্থাপিত হয়েছে দেশের একমাত্র পক্ষিশালা ও বিনোদন কেন্দ্র শেখ রাসেল পক্ষিশালা ও ইকোপার্ক। প্রাকৃতিক এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, গবেষণা এবং বিনোদন এই বিষয়সমূহ মাথায় রেখে উপজেলার বিস্তৃত পাহাড় রাশিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে এই এভিয়ারি এন্ড রিক্রিয়েশন পার্ক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে নামকরণ করা এ পার্কটি আয়তনে এশিয়ার বৃহৎ পাখি সংগ্রহশালা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ময়ূরের নাচ

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পার্কে আরও দেশি ও বিদেশি পাখি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশের বিরল ও বিপন্নপ্রায় পাখি সংরক্ষণ করার বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। চলমান এ প্রকল্পের নতুন নতুন পাখি সংগ্রহসহ পার্কে পাখির উপযোগী বাগান তৈরি ও পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে চিত্তবিনোদনমূলক ভৌত অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এখানে অতিথি পাখির অভয়ারণ্য সৃষ্টি হবে এবং পর্যটন পরিবেশ সৃষ্টির পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এই পার্কে বাবুই, দোয়েল, শ্যামা, শালিক, ঈগল, শকুন, বুলবুলি, পেঁচা, হলদে পাখি, টুনটুনি, টিয়া, ঘুঘু, মাছরাঙা, সাদা বকের মতো বিলুপ্তপ্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেশি প্রজাতির পাখির পাশাপাশি এই পক্ষিশালায় যুক্ত হয়েছে আফ্রিকার পলিক্যান, সোয়ান, রিং ন্যাক, ইলেকট্রাস প্যারট, ম্যাকাওসহ বিভিন্ন বিদেশি পাখি। এছাড়া প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে আরও নতুন নতুন পাখি সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জুড়াতে একেবারে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে শেখ রাসেল এভিয়ারি এন্ড ইকোপার্ক।

শেখ রাসেল এভিয়ারি পার্কের মনোরম দৃশ্য

এ পার্কে নতুন করে ক্যাবল কার সংযোজন করার পর থেকে চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। পার্কের উপরে যেমন দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ, নিচে দৃষ্টিনন্দন লেক আর সবুজ অরণ্য। ঠিক এই দুয়ের মাঝখানে ভূমি থেকে প্রায় ২০০ ফুট উচ্চতায় বসে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া যায়। বাতাসের ওপর ভেসে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এই পার্কে। এই পার্কে ভেষজ ও অন্যান্য প্রায় ৭১ হাজার নানা প্রজাতির গাছ ও ৩০ হাজার সৌন্দর্য্যবর্ধক গাছ রোপণ করা হয়েছে। পার্কের চারপাশে এক ধরনের বিশেষ নেট দিয়ে পুরো ৫২০ একর পাহাড়ি ভূমি ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে রয়েছে রেস্টহাউস, ঝুলন্ত সেতু, আধুনিক রেস্তোরাঁ, লেক, হেলানো বেঞ্চ, ওয়াচ টাওয়ার এবং শিশুদের সময় কাটানোর বিনোদনের ব্যবস্থা। এ ছাড়াও রয়েছে হরিণ বিচরণক্ষেত্র ও কুমির প্রজনন ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণিজগৎ সম্পর্কে গবেষণায় সহায়তার জন্য রয়েছে গবেষণা কেন্দ্র।[৬৪]

বন বিভাগ সূত্র মতে, রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাইয়ে বন্য প্রাণী শিকারীরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইনকে তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া হয়ে নির্বিচারে জঙ্গলের প্রাণী মেরে ফেলাতে বন্য পশুপাখি দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে এবং বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।[৬৫] উপজেলার কোদালা, পদুয়া ও জঙ্গল সরফভাটার পাহাড়ি অঞ্চলে বন্যহাতির আবাস রয়েছে। বর্ষা ও শীত মৌসুমে বনে খাবারের অভাবে হাতি বারবার লোকালয়ে আক্রমণ করে। লোকালয়ে হাতির তাণ্ডবে স্থানীয়রা ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করছে এবং প্রায়শই জান-মাল হারাচ্ছে।[৬৬][৬৭]

এছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সীমান্তে অবস্থিত দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য। এই বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যটি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন খুরুশিয়া ও দোহাজারী রেঞ্জের অন্তর্গত। রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ও চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত এ অভয়ারণ্যটি খুরুশিয়া ও দোহাজারী রেঞ্জের দুধ পুকুরিয়া, শিলছড়ি, ধোপাছড়ি এবং মংলা ফরেস্ট ব্লকের ৪৭১৬.৫৭ হেক্টর জায়গা নিয়ে গঠিত। এই অভয়ারণ্যের বিশেষ আকর্ষণ হলো পায়ে হেঁটে প্রকৃতি ভ্রমণ, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক ছড়া, বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি, আদিবাসী পল্লী, বুনো অর্কিড, শতবর্ষী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, নিবিড় বাঁশ বন, ঘন সবুজ ছায়াঘেরা পাহাড়ি বন, আদিবাসীদের জুম চাষ আর ঘন বেত বাগান।[৬৮]

ভাষা ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

চাঁটগাঁইয়া ভাষা বা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাই রাঙ্গুনিয়া অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা। তবে অঞ্চল ও ধর্মভেদে চট্টগ্রামের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের ভাষার সাথে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও এ উপজেলায় বসবাসরত উপজাতিরা তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে।

রাঙ্গুনিয়ার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। একসময় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুঁথিপাঠ ছিল প্রধান সংস্কৃতি, সমগ্র ভারতবর্ষে যার খ্যাতি ছিল। এছাড়া চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান, কবিগান, ভাণ্ডারী গান, মারফতী, পালা, কীর্তন, নাটক, নৃত্যসহ সংস্কৃতির সকল শাখার উর্বর ক্ষেত্র রাঙ্গুনিয়া। বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, সামাজিক উৎসব, মেলা বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হয়।

রাঙ্গুনিয়া শিল্পকলা একাডেমী, রাঙ্গুনিয়ার সাংস্কৃতিতে বেশ অবদান রেখে চলেছে এবং এর কার্যক্রম দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে।[৬৯]

খেলাধুলা ও বিনোদন[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল থেকেই রাঙ্গুনিয়ার জনগোষ্ঠী ক্রীড়ামোদী। বলিখেলা রাঙ্গুনিয়ার একসময়কার জনপ্রিয় খেলা ছিল। বর্তমানে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি জনপ্রিয় খেলা। রাঙ্গুনিয়ার অনেক খেলোয়াড় জাতীয় দলসহ দেশের প্রসিদ্ধ ক্লাবসমূহে কৃতিত্বের সাথে অংশগ্রহণ করছে। রাঙ্গুনিয়ায় মৌসুমী টুর্নামেন্টে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়সহ ঢাকার মাঠের বিদেশী ফুটবলাররা নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, আরমান আজিজ, সাখাওয়াত হোসেন রনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে কৃতিত্বের সাথে খেলেছেন।

জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন ধর্মীয়-সামাজিক অনুষ্ঠানাদি উপলক্ষে নাটক, যাত্রা, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্য, কীর্তন, কবিগান, ভাণ্ডারী, অ’লা গান, পাল্টাগান প্রভৃতি রাঙ্গুনিয়াবাসীর বিনোদনের প্রধান উপকরণ।

এখানে প্রতিবছরই বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এখানকার জনপ্রিয় খেলার মধ্যে বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিপত্য দেখা গেলেও অন্যান্য খেলাও পিছিয়ে নেই। রাঙ্গুনিয়ায় বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া কলেজ মাঠ, রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, জাকির হোসেন স্টেডিয়াম উল্লেখযোগ্য।[৭০]

নদ-নদী[সম্পাদনা]

কর্ণফুলি নদী

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রধান নদী কর্ণফুলিভারতের মিজোরাম প্রদেশের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলা দিয়ে কর্ণফুলি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বরকলের পর রাঙ্গামাটি সদরকাপ্তাই উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চন্দ্রঘোনা হয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় প্রবেশ করে এ নদী উপজেলার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হয়।

ইছামতি নদী

এছাড়াও রাঙ্গুনিয়ার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ইছামতি নদী। রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবহমান এ নদী রাঙ্গুনিয়ার উত্তরাঞ্চলের ইউনিয়নগুলো অতিক্রম করে রোয়াজারহাটের নিকটবর্তী কর্ণফুলি নদীর সাথে মিশেছে। এ উপজেলায় শিলক খাল সহ আরো অসংখ্য ছোটোখাটো খাল রয়েছে।[২][৭১]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • আগুনিয়া চা বাগান –– উপজেলার লালানগর ইউনিয়নে অবস্থিত এ চা বাগানটি ক্লোন চা পাতার জন্য বিখ্যাত।[৩৪]
বেতাগী আরব আমিরাত প্রকল্প থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য
  • আরব আমিরাত প্রকল্প –– বেতাগী ইউনিয়নে অবস্থিত এ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের টানে দর্শনার্থীরা এখানে ছুটে আসে, এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের অর্থায়নে এখানে বিশ্বমানের হেলথ সিটি করার পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার।[৭২]
শীতকালে কর্ণফুলি নদীতে ভাটার সময় জেগে উঠা চর
  • কর্ণফুলি নদী –– রাঙ্গুনিয়া পৌর এলাকা এ নদীর তীরে অবস্থিত, নৌপথে ভ্রমণপিয়াসুরা এ নদীতে প্রায়শঃ ভ্রমণ করে থাকে।[৭৩]
  • কোদালা চা বাগান –– উপজেলার কোদালা ইউনিয়নে অবস্থিত এ চা বাগানটি দেশের প্রথম চা বাগান।[৩৩]
কাপ্তাই সড়ক থেকে গুমাই বিল
  • গুমাই বিল –– বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিল।[৩২]
  • চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট –– কর্ণফুলি নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন রাঙ্গামাটি-চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়কের সংযোগ মাধ্যম উপজেলার চন্দ্রঘোনা এলাকায় অবস্থিত এ ফেরিঘাট, তবে সেখানে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।[৭৪][৭৫]
  • চাকমা রাজবাড়ি –– রাজানগর ইউনিয়নের রাজাভুবন এলাকায় সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত চাকমা রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ।[৭৬]
  • ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগান –– উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নে অবস্থিত এ চা বাগানটিতে চা বাগান ও রাবার বাগান উভয়ের সৌন্দর্য্য একসাথে উপভোগ করা যায়।[৩৫]
  • ঢালকাটা জগদ্ধাত্রী মন্দির –– জগদ্ধাত্রী হিন্দু শক্তি দেবী, এটি দেবী দুর্গার অপর রূপ, মন্দিরটি পদুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত।[৭৭]
  • দুধপুকুরিয়া-ধোপাছড়ি বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য –– রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম এই ৩ জেলার সীমানায় অবস্থিত মনোমুগ্ধকর অভয়ারণ্য।[৬৮]
  • দ্বিতীয় কর্ণফুলি সেতু –– উপজেলা সদরের সাথে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নের সংযোগ সেতু। এটি গোডাউন ব্রিজ নামে অধিক পরিচিত।[৭৮]
  • ধর্মচক্র বিহার –– পৌরসভার সৈয়দবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ১৭২০ সালে নবাব আলীবর্দী খানের শাসনামলে নির্মিত বৌদ্ধ বিহার।[৭৯]
  • পাগলা মামার দরগাহ –– মরিয়মনগর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দবাড়ী এলাকায় অবস্থিত উনিশ শতকের এ দরগাহটি আধ্যাত্মিক সাধক শাহ মুজিবুল্লাহ (রহ.)'র, কথিত আছে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনার ফলে পাগল হয়ে গেলে পাগলা মামা নামে পরিচিতি লাভ করেন।[২]
  • পারুয়া রাবার ড্যাম –– ইছামতি নদীর উপর নির্মিত এই বাঁধটি উত্তর রাঙ্গুনিয়ার ৫টি ইউনিয়নের চাষাবাদ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করেছে।[৮০]
  • বাচা বাবার মাজার –– পৌরসভার বাচাশাহ নগর এলাকায় অবস্থিত দরগাহটি সুফি সাধক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন (রহ.)'র, তিনি বাচা বাবা নামে ভক্তদের কাছে অধিক পরিচিত এবং মাজারটি কাউখালী দরবার শরীফ নামেও পরিচিত।[২][৮১]
  • বেতাগী বড়ুয়াপাড়া –– ৫ম শতকের কালো পাথরের বুদ্ধমূর্তি সংরক্ষিত আছে এখানে, এটি সাগর বুদ্ধ নামে পরিচিত।[৮২]
  • রাহাতিয়া দরবার শরীফ –– পৌরসভার পূর্ব সৈয়দবাড়ী এলাকায় অবস্থিত এ দরবারটি সুফি সাধক রাহাতুল্লাহ নক্সবন্দী (রহ.)'র নামে পরিচিত, এখানে ওনার পুত্রদ্বয় নুরুচ্ছাফা নঈমী (রহ.) ও বিসমিল্লাহ শাহ (রহ.)'র মাজারও রয়েছে, ওনারাও সুফি সাধক ছিলেন।[৮৩]
  • শিলক ও পদুয়া রাবার ড্যাম প্রকল্প –– প্রকল্প দু'টির ফলে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের এই দুই ইউনিয়নের শত শত হেক্টর অনাবাদী জমি চাষের আওতায় এসেছে।[৮৪]
শেখ রাসেল পক্ষিশালা ও ইকোপার্ক
  • শেখ রাসেল পক্ষিশালা ও ইকোপার্ক –– দেশের একমাত্র পক্ষিশালা এবং এখানে রয়েছে দেশের একমাত্র ক্যাবল কার।[৬৪]
  • সুখবিলাস –– আঠারো শতকের চাকমা রাজা সুখদেব রায়ের রাজধানী পদুয়ার এ অঞ্চলে নির্মিত বিলাসবহুল রাজবাড়ি নির্মাণ করে রাজার নামে নামকরণ করা হয় সুখবিলাস, এখনো সেই রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।[৮৫]

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • আবুল কাসেম –– স্বাধীন বাংলাদেশে রাঙ্গুনিয়ার ১ম সংসদ সদস্য।[৮৬]
  • আলী আহমদ চৌধুরী –– ভাষা সৈনিক।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
  • এ এ রেজাউল করিম চৌধুরী –– শিক্ষাবিদ।[৮৭]
  • ওয়াকিল আহমদ তালুকদার –– শিক্ষানুরাগী।[২৬]
  • খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী –– সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি।[৮৮]
  • খান বাহাদুর ছিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী –– জমিদার এবং ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক খান বাহাদুর খেতাবপ্রাপ্ত সমাজকর্মী।[৮৯]
  • খোদা বক্স চৌধুরী –– সাবেক মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি)।[৯০]
  • গুণালঙ্কার মহাস্থবির –– বৌদ্ধ ভিক্ষু ও লেখক।[৯১]
  • জাকির হোসাইন –– পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর।[৯২]
  • জ্ঞানদা রঞ্জন বিশ্বাস –– শিক্ষাবিদ।[৯৩]
  • নুরুচ্ছাফা নঈমী –– সুফি সাধক।[৯৪]
  • বজলুর রহমান –– সুফি সাধক, তিনি মুহাজিরে মক্কী নামে পরিচিত।[৯৫]
  • মাহমুদ শাহ কোরেশী –– সাবেক মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমী।[৯৬]
  • মোহাম্মদ নুরুল আলম –– সাবেক অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক।[৯৭]
  • শুদ্ধানন্দ মহাথের –– বৌদ্ধ শাস্ত্রবিদ এবং একুশে পদক প্রাপ্ত সমাজকর্মী।[৯৮]
  • সৈয়দ আহমদুল হক –– মরমী গবেষক, তিনি বাংলার রুমি নামে পরিচিত।[৯৯]
  • সৈয়দ ছালেকুর রহমান –– সুফি সাধক, তিনি রাহে ভাণ্ডারী বা দুলহায়ে হযরত নামে বেশি পরিচিত।[১০০]
  • হাছান মাহমুদ –– রাজনীতিবিদ।[১০১]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ইউনিয়ন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত জাতীয় তথ্য" (PDF)web.archive.org। Wayback Machine। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  2. "রাঙ্গুনিয়া উপজেলা - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৭ 
  3. "বেতাগীতে নবনির্মিত শহীদ মিনারে ফুল দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা"swadinbangla71.com। স্বাধীন বাংলা ৭১। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  4. সৈয়দ আহমদুল হক। প্রবন্ধ: বিচিত্রা। পৃষ্ঠা ২২২। 
  5. "রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পটভূমি"rangunia.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  6. "চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের ইতিহাস"chandraghonaup.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০১৯ 
  7. "কোদালা ইউনিয়নের ইতিহাস"kodalaup.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  8. "ইসলামপুর ইউনিয়নের ইতিহাস"islampurup.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  9. "দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ইতিহাস"southrajanagarup.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  10. "লালানগর ইউনিয়নের ইতিহাস"lalanagarup.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  11. "পদ্মাসেতুর এপার-ওপারসহ নতুন ৭ থানা, বিশ্বনাথ পৌরসভা"banglanews24.com। বাংলানিউজ২৪.কম। ২১ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৯ 
  12. "ইউনিয়নসমূহ - রাঙ্গুনিয়া উপজেলা"rangunia.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৭ 
  13. "কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় হচ্ছে নতুন থানা"dainikazadi.net। দৈনিক আজাদী। ২২ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০১৯ 
  14. "নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ - প্রধান পাতা"www.ecs.org.bd 
  15. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (PDF)ecs.gov.bdবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  16. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  17. "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"প্রথম আলো। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  18. "জয় পেলেন যারা"দৈনিক আমাদের সময়। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  19. "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  20. "বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ"www.parliament.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৭ 
  21. "উপজেলা চেয়ারম্যান - রাঙ্গুনিয়া উপজেলা"rangunia.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  22. "রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন"cvoice24.com। সিভয়েজ২৪। ২৪ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  23. "রাঙ্গুনিয়ায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে আয়েশা"cplusbd.net। সিপ্লাস। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  24. "উপজেলা নির্বাহী অফিসার - রাঙ্গুনিয়া উপজেলা"rangunia.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  25. "চট্টগ্রাম জেলার তথ্য উপাত্ত" (PDF)web.archive.org। Wayback Machine। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  26. রাঙ্গুনিয়া কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট
  27. "সরকারি হলো চট্টগ্রামের ১০ কলেজ"banglanews24.com। বাংলা নিউজ ২৪। ১২ আগস্ট ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  28. "রাঙ্গুনিয়া উপজেলা"edu.review.net.bd। ৩ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  29. "রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কামিল অনুমোদনপত্র হস্তান্তর"dailypurbodesh.com। দৈনিক পূর্বদেশ। ৩ আগস্ট ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  30. "আরও ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি হচ্ছে"bangladeshtoday.net। দি বাংলাদেশ টুডে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  31. "রাঙ্গুনিয়ার নিশ্চিন্তাপুরে নতুন স্কুল পেয়ে খুশি এলাকাবাসী"dailysangram.com। দৈনিক সংগ্রাম। ২৪ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  32. জিগারুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি (২১ নভেম্বর ২০১৮)। "গুমাই বিলের কৃষকের মুখে হাসি"kalerkantho.com। দৈনিক কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  33. মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি (১৪ জানুয়ারি ২০১৯)। "কোদালা চা বাগানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৭৫ কেজি"bangla.tourtoday.com। দৈনিক পূর্বদেশ। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  34. "আগুনিয়া চা বাগান"rangunia.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  35. "ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগান"rajanagarup.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  36. "রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় ২ হাজার একর জমিতে হবে 'রাবার বাগান'"cplusbd.net। সিপ্লাস নিউজ ডেস্ক। ৮ মে ২০১৮। ১০ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  37. "রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি বাঁশে বাঁচে ৩০ হাজার মানুষ"greennewsbd.com। গ্রীন নিউজ। ২২ জুন ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  38. "রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড"bhorerkagoj.com। ভোরের কাগজ। ২৪ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  39. "হাট-বাজার - রাঙ্গুনিয়া উপজেলা"rangunia.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  40. "অগ্রণী ব্যাংক, ইছাখালী শাখা"agranibank.org। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  41. "জনতা ব্যাংক, পোমরা শাখা"jb.com.bd। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  42. "রূপালী ব্যাংক, লিচুবাগান শাখা"rupalibank.org। রূপালী ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  43. "সোনালী ব্যাংক - শাখাসমূহ"sonalibank.com.bd। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  44. "ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক - শাখাসমূহ"ucb.com.bd। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  45. "এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক - শাখাসমূহ"nrbglobalbank.com। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  46. "ওয়ান ব্যাংক - শাখাসমূহ"onebank.com.bd। ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  47. "ন্যাশনাল ব্যাংক, রাঙ্গুনিয়া শাখা"nblbd.com। ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  48. Pubali Bank Limited, Rangunia Branch, Chittagong Rangunia, Bangladesh +880 1714-082207 https://g.co/kgs/4CZ3bc
  49. Pubali Bank Limited Amena Super Market,, Chittagong - Rangamati Road, Ranir Haat, Bangladesh +880 31-637078 https://g.co/kgs/kXSMLc
  50. "প্রিমিয়ার ব্যাংক - শাখাসমূহ"premierbankltd.com। প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  51. "বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক - শাখাসমূহ"bcblbd.com। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  52. "ব্যাংক এশিয়া - শাখাসমূহ"bankasia-bd.com। ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  53. "ইউনিয়ন ব্যাংক - শাখাসমূহ"unionbank.com.bd। ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  54. "ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, রাঙ্গুনিয়া শাখা"islamibankbd.com। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  55. "ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক - শাখাসমূহ"fsiblbd.com। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  56. "সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক - শাখাসমূহ"siblbd.com। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  57. "বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক - শাখাসমূহ"krishibank.org.bd। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  58. "রাঙ্গুনিয়ার দুটি পাটকল ফের চালুর সিদ্ধান্ত"banglanews24.com। বাংলা নিউজ ২৪। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  59. "জনবল সংকটে চট্টগ্রামের ১০ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল"jugantor.com। যুগান্তর। ৬ মার্চ ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  60. নুরুল আবছার চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি (২৬ ডিসেম্বর ২০১৬)। "সম্ভাবনাময়ী রাঙ্গুনিয়ায় গড়ে উঠছে না শিল্প প্রতিষ্ঠান"dailyinqilab.com। দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২০ 
  61. "এক নজরে রাঙ্গুনিয়া"rangunia.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  62. "সড়কে জীবাণুনাশক স্প্রে করছে রাঙ্গুনিয়া মডার্ন ব্লাড ডোনেশন ক্লাব"cplusbd.net। ভোরের বার্তা। ২৬ মার্চ ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ৮ এপ্রিল ২০২০ 
  63. সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর
  64. "পাখির অভয়ারণ্য হবে শেখ রাসেল ইকোপার্ক"bd-pratidin.com। বাংলাদেশ প্রতিদিন। ১১ আগস্ট ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  65. "রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাইয়ে বন্য শিকারীরা বেপরোয়া জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে"dailysangram.com। দৈনিক সংগ্রাম। ৩ ডিসেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  66. "দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় বন্য হাতির উৎপাতে নির্ঘুম কাটাচ্ছে শত শত পরিবার"dailysangram.com। দৈনিক সংগ্রাম। ৩০ অক্টোবর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  67. "রাঙ্গুনিয়ায় হাতির আক্রমণে বৃদ্ধ নিহত"dailypurbodesh.com। দৈনিক পূর্বদেশ। ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  68. "দুধ পুকুরিয়া"bforest.gov.bd। বন অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  69. "ভাষা ও সংস্কৃতি - রাঙ্গুনিয়া উপজেলা"rangunia.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জুন ২০১৭ 
  70. "খেলাধুলা ও বিনোদন - রাঙ্গুনিয়া উপজেলা"rangunia.chittagong.gov.bd। জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  71. মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের নদী"। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি (প্রথম সংস্করণ)। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃষ্ঠা ২৮১-২৮৩। আইএসবিএন 984-70120-0436-4 
  72. "বিশ্বমানের হেলথ সিটি করার পরিকল্পনা, রাঙ্গুনিয়ায় আমিরাত রাষ্ট্রদূতের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন"jugantor.com। যুগান্তর। ২৩ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  73. লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য (২৯ এপ্রিল ২০১৭)। "চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর ইতিকথা"dailysangram.com। দৈনিক সংগ্রাম। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  74. "রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে সেতু হয়নি ৩৫ বছরেও"ctgpratidin.com। চট্টগ্রাম প্রতিদিন। ২৬ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২০ 
  75. "চন্দ্রঘোনা রাইখালী সেতুর অনুমোদন দিলেন প্রধানমন্ত্রী!"ctgtimes.com। সিটিজি টাইমস। ২৬ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০২০ 
  76. "রাঙ্গুনিয়া রাজানগরের চাকমা রাজবাড়িটি কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে"dailysangram.com। দৈনিক সংগ্রাম। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  77. ঢালকাটা সার্ব্বজনীন শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী মন্দির Unnamed Road, Bangladesh +880 1733-110044 https://g.co/kgs/jcFdz3
  78. Karnaphuli Bridge Karnaphuli River, Bangladesh https://g.co/kgs/Ugh1GP
  79. ভিক্ষু সুনীথানন্দ। বাংলাদেশের বৌদ্ধ বিহার ও ভিক্ষু জীবন 
  80. মাসুদ নাসির (১৩ জানুয়ারি ২০১৬)। "বদলে গেছে রাঙ্গুনিয়ার পাঁচ ইউনিয়ন"samakal.com। সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  81. "রাঙ্গুনিয়ায় হজরত বাচা শাহ (রহ.) ওরস আজ"alokitobangladesh.com। আলোকিত বাংলাদেশ। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  82. সলিল বিহারী বড়ুয়া (২০ অক্টোবর ২০১৩)। বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের প্রবেশ ও প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কার্যে প্রাপ্ত বুদ্ধমূর্তি। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  83. "রাহাতিয়া দরবারের তরিক্বত জলসা ও প্রকাশনা উৎসব"dainikazadi.net। দৈনিক আজাদী। ৬ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  84. নুরুল আবছার চৌধুরী (৩ এপ্রিল ২০১৮)। "রাঙ্গুনিয়ায় রাবার ড্যামে শ' শ' হেক্টর জমি চাষের আওতায়"dailyinqilab.com। দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  85. তারাচরণ চাকমা। "জুম্মবির অতীত কথা ও স্মৃতি"জুম জার্নাল। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  86. "১ম জাতীয় সংসদ সদস্য তালিকা"parliament.gov.bd। জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  87. "রেজাউল করিম চৌধুরী: তাঁর রচনা ও অনুবাদ সাহিত্য"reportonline24.com। রিপোর্ট অনলাইন ২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  88. "হঠাৎ ছুটি, দিনভর আলোচনায় প্রধান বিচারপতি"samakal.com। সমকাল। ৪ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০২০ 
  89. "Khan Bahadur Siddik Ahamed Chowdhury Foundation"facebook.com। ফেসবুক। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০২০ 
  90. "২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, আসামিদের কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ"prothomalo.com। প্রথম আলো। ১০ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  91. "বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভা - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  92. "হোসাইন, জাকির - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  93. "শ্রী জ্ঞানদা রঞ্জন বিশ্বাস - জ্ঞান বাবু"facebook.com। ফেসবুক। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০২০ 
  94. "নুরুচ্ছাফা নঈমী"facebook.com। ফেসবুক পোস্ট। ৭ এপ্রিল ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২০ 
  95. "আল্লামা হাফেজ বজলুর রহমানের ওরশ আজ"dainikpurbokone.net। দৈনিক পূর্বকোণ। ৮ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  96. "বিদেশে অমর একুশে"dailyinqilab.com। দৈনিক ইনকিলাব। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০২০ 
  97. "শেখ হাসিনাকে সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক ৮৮ পুলিশ কর্মকর্তা"rtvonline.com। আরটিভি অনলাইন। ২০ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  98. "15 personalities receive Ekushey Padak"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  99. "সৈয়দ আহমদুল হকের রচনা ও চিন্তা চেতনার ধারা"bhorerkagoj.com। ভোরের কাগজ। ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  100. "ছালেকুর রহমান রাহে ভাণ্ডারী"facebook.com। ফেসবুক পোস্ট। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২০ 
  101. "জনাব মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ"parliament.gov.bd। জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]