রাঙ্গুনিয়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা
রাঙ্গুনিয়া
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা
Location in Bangladesh
স্থানাঙ্ক: ২২°২৮′ উত্তর ৯২°৫′ পূর্ব / ২২.৪৬৭° উত্তর ৯২.০৮৩° পূর্ব / 22.467; 92.083স্থানাঙ্ক: ২২°২৮′ উত্তর ৯২°৫′ পূর্ব / ২২.৪৬৭° উত্তর ৯২.০৮৩° পূর্ব / 22.467; 92.083
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা চট্টগ্রাম জেলা
আয়তন
 • মোট ৩৫১.৯৫ কিমি (১৩৫.৮৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (1991)
 • মোট ২,৬৩,২১৭
 • ঘনত্ব ৭৪৮/কিমি (১৯৪০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চল BST (ইউটিসি+6)
ওয়েবসাইট Official Map of Rangunia
অন্য ব্যবহারের জন্য, দেখুন রাঙ্গুনিয়া (দ্ব্যর্থতা নিরসন)

রাঙ্গুনিয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণে পটিয়া উপজেলা, চন্দনাইশ উপজেলাবান্দরবান জেলার বান্দরবান সদর, পশ্চিমে বোয়ালখালী উপজেলারাউজান উপজেলা, উত্তরে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা ও পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলারাজস্থলী উপজেলা অবস্থিত।

আয়তন[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আয়তন ৩৫১.৯৫ বর্গ কিলোমিটার (১৩৫.৮৯ বর্গ মাইল)।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। (প্রায়)

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে।

ইউনিয়ন: (আয়তনসহ)

  • রাজানগর ( ৩০ বর্গ কিলোমিটার)
  • হোসনাবাদ (২৬ বর্গ কিলোমিটার)
  • রাঙ্গুনিয়া (১০ বর্গ কিলোমিটার)
  • মরিয়মনগর (১০ বর্গ কিলোমিটার)
  • পারুয়া (৩০ বর্গ কিলোমিটার)
  • পোমরা (২২ বর্গ কিলোমিটার)
  • বেতাগী (১৭ বর্গ কিলোমিটার)
  • সরফভাটা (২৮ বর্গ কিলোমিটার)
  • শিলক (২৩ বর্গ কিলোমিটার)
  • পদুয়া (৬৫ বর্গ কিলোমিটার)
  • চন্দ্রঘোনা কদমতলী (১১ বর্গ কিলোমিটার)
  • কোদালা (২১ বর্গ কিলোমিটার)
  • ইসলামপুর (১৫ বর্গ কিলোমিটার)
  • দক্ষিণ রাজানগর (২৯ বর্গ কিলোমিটার)
  • লালানগর (১৪ বর্গ কিলোমিটার)

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়ার অতীত ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। চাকমা রাজা ও রোসাং রাজাদের আদিবাস ছিলো এইখানে। মুসলমান শাসকগণও রাঙ্গুনিয়া শাসন করেছেন।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার ৬৫.১৯%।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  • রাঙ্গুনিয়ায় ৯টি কলেজ।
  • ৩৮টি উচ্চ বিদ্যালয়।
  • ১টি কামিল মাদ্রাসা।
  • ১৮টি আলিম ও ফাজিল মাদ্রাসা।
  • ৭৮টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
  • ১৯টি বেসরকারী রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিখ্যাত কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:-

  • রাঙ্গুনিয়া কলেজ
  • রাঙ্গুনিয়া মহিলা কলেজ
  • উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রী কলেজ
  • সৈয়দা সেলিমা কাদের চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ
  • শাহ আলম ডিগ্রী কলেজ
  • আলমশাহ্‌পাড়া কামিল মাদ্রাসা
  • মাদ্রাসা-এ তৈয়্যবিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া (ফাযিল)
  • রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা
  • পোমরা জামেউল উলুম সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসা
  • রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
  • দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
  • উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
  • রাঙ্গুনিয়া মজুমদারখিল উচ্চ বিদ্যালয়
  • খিলমোগল উচ্চ বিদ্যালয়
  • চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
  • মরিয়মনগর উচ্চ বিদ্যালয়
  • বেগম ইকবাল জাকির হোসেন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়
  • পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়
  • রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়
  • কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়

পত্রিকাসমূহ[সম্পাদনা]

  • পাক্ষিক রাঙ্গুনিয়া
  • রূপালী রাঙ্গুনিয়া
  • আশার আলো
  • রাঙ্গুনিয়া সংবাদ

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশজুড়ে বিশাল গুমাই বিলের মাঠের অবস্থান। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গুমাই বিলে আবাদ করা আড়াই হাজার হেক্টর জমি থেকে ২ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন ধান পাওয়া যায়। এ বিলে চাষ করেন প্রায় সাত হাজার কৃষক। গুমাই বিল থেকে দেশের জনগোষ্ঠীর আড়াই দিনের খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম। ধান কাটার এ মৌসুমে নেত্রকোনা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, রংপুর, সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষিশ্রমিকেরা এখানে এসে জড়ো হন। গুমাই বিলে তারা ধান কাটেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ২টি চা-বাগান, কর্ণফুলী জুট মিল/ফোরাত কার্পেট মিল আছে। কর্ণফুলী জুট মিল থেকে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার সুতা রফতানি হয় বিভিন্ন দেশে।

কোদালা চা-বাগান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত। বাংলাদেশের 'কোদালা' চা বাগানের জন্য জমি বরাদ্দ করা হয় ১৮২৮ সালে। কোদালায় ১৮২৮ সালে চা বাগান গড়ে উঠেছিল। এটি দেশের প্রথম চা বাগান। কোদালায় উৎপাদিত চা বিদেশে রফতানী করা হয়।

আগুনিয়া চা-বাগান উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়ার পূর্ব সীমান্তে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সংলগ্ন আগুনিয়া চা বাগানের অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিন এখানে আসছেন পর্যটক। অন্যদিকে বাগানের উৎপাদিত ক্লোন চা পাতা বিদেশে রফতানি হওয়ায় দেশে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিল ব্রিটিশ পরিবারের হাতে। ব্রিটিশরা বাংলাদেশ ত্যাগ করলে ১৯৫২ সালে বাগানটি নিলাম হয়ে যায়। ১৯৫৪ সালে এটির তদারকির দায়িত্ব নেন লালানগর ইউনিয়নের সমাজসেবক মীর সোলতানুল হক। তিনি সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে আবার চা পাতা উৎপাদনের কাজ চালু করেন। বাগানের নাম পরিবর্তন করে রাখেন 'আগুনিয়া চা বাগান'।

চা-বাগানের পাশে আছে বিশাল রাবার বাগান, প্রতিদিন কাঁচা রাবার উৎপাদন হয়।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, আর সকল ধরণের শাক-সবজ্বি উৎপদিত হয়।

প্রাকৃতিক দৃশ্য[সম্পাদনা]

এশিয়ার ২য় বৃহত্তম ক্যাবল কার রাঙ্গুনিয়ায় তৈরি করা হয়েছে। শেখ রাসেল এভিয়ারি এন্ড ইকো পার্ক এ প্রতিদিন বিভিন্না জায়গা থেকে পর্যটক আসেন। বৃক্ষাচ্ছাদিত সবুজ পাহাড়ি বনে উড়ছে হাজার হাজার পাখি । পাখিদের কলতানে মুখরিত পুরো বন। মাথার সিঁথির মতো বুনো পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিনোদন পিয়াসী মানুষ। পুরো এলাকা ভরে যাচ্ছে সবুজে । এ পার্ককে ঘিরে এলাকাটিতে গড়ে উঠছে সম্ভাবনাময় বিনোদন কেন্দ্র। ঘটছে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আগমন ।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য:

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স - ০১ টি
  • বেসরকারী হাসপাতাল - ৫ টি
  • ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র - ০৭ টি

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য:

  1. মসজিদ - ৩৫৯টি
  2. মন্দির - ৪২টি
  3. প্যাগোডা - ৪১টি
  4. গীর্জা - ৩টি
  5. তীর্থস্থান - ১টি

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]