রাঙ্গুনিয়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাঙ্গুনিয়া
উপজেলা
রাঙ্গুনিয়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
রাঙ্গুনিয়া
রাঙ্গুনিয়া
বাংলাদেশে অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°২৮′ উত্তর ৯২°৫′ পূর্ব / ২২.৪৬৭° উত্তর ৯২.০৮৩° পূর্ব / 22.467; 92.083স্থানাঙ্ক: ২২°২৮′ উত্তর ৯২°৫′ পূর্ব / ২২.৪৬৭° উত্তর ৯২.০৮৩° পূর্ব / 22.467; 92.083
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম
জেলা চট্টগ্রাম
আয়তন
 • মোট ৩৪৭.৭২ কিমি (১৩৪.২৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা [১]
 • মোট ৩,৭০,০০০
 • ঘনত্ব ৯৭৮/কিমি (২৫৩০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট [১]
অন্য ব্যবহারের জন্য, দেখুন রাঙ্গুনিয়া (দ্ব্যর্থতা নিরসন)

রাঙ্গুনিয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলার সর্ব-পূর্বে অবস্থিত রাঙ্গুনিয়া উপজেলা। ২২°১৮´ থেকে ২২°৩৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৮´ থেকে ৯২°০৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে এ উপজেলার অবস্থান।

এ উপজেলার দক্ষিণে পটিয়া উপজেলা, চন্দনাইশ উপজেলাবান্দরবান জেলার বান্দরবান সদর উপজেলা, পশ্চিমে বোয়ালখালী উপজেলারাউজান উপজেলা, উত্তরে রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলা ও পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলারাজস্থলী উপজেলা অবস্থিত।

আয়তন[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আয়তন ৩৪৭.৭২ বর্গ কিলোমিটার (১৩৪.২৬ বর্গ মাইল)।

পটভূমি[সম্পাদনা]

১৯৬২ সালের ২৪ জানুয়ারি পটিয়া ও রাউজানের কিছু অংশ নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থানা গঠিত হয়। রাঙ্গুনিয়া থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে। ২০০০ সালের ৪ঠা জুলাই রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বর্তমান জনসংখ্যা আনুমানিক প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজার। ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লক্ষ ৪০ হাজার। এর মধ্য পুরুষ ১,৩৯০২৮ জন এবং মহিলা ২,০০৯৭২ জন। এ উপজেলার জনসংখ্যার মধ্যে ৭৮% মুসলিম, ১৫% হিন্দু, ৬% বৌদ্ধ এবং ১% খ্রিস্টান রয়েছে। এ উপজেলায় বিভিন্ন উপজাতি বিশেষতঃ চাকমা, মারমা গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, তারাও মূলত বৌদ্ধ ধর্মানুসারী। ভোটারের সংখ্যা ২,৪০,৭১৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ১,২৪,২৬৩ জন ও মহিলা ১,১৬,৪৫২ জন।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়ন

  • পৌরসভা মেয়র: শাহজাহান সিকদার
  • উপজেলা চেয়ারম্যান: মোহাম্মদ আলী শাহ
  • ভাইস চেয়ারম্যান: আকতার হোসেন
  • মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান: রেহেনা বেগম
  • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা: মোহাম্মদ কামাল হোসেন

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৭৫৭ সাল থেকে চাকমা রাজন্যবর্গ শুকদেব রায়, শেরদৌলত খাঁ, জানবক্স খাঁ, টব্বর খাঁ, জব্বর খাঁ, ধরম বক্স খাঁ, রাণী কালীন্দি, হরিশ্চন্দ্র রায় প্রমুখ এ অঞ্চলে রাজত্ব করেছেন। ১৮৭৪ সালে চাকমা রাজা হরিশ্চন্দ্র রাজধানী রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর হতে রাঙ্গামাটিতে স্থানান্তরিত করেন।

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শিক্ষিতের হার ৭০.৭৫%। এ উপজেলায় ৯টি কলেজ, ৪০টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি কামিল মাদ্রাসা, ২৪টি অন্যান্য মাদ্রাসা ও ১৭৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

কলেজ[সম্পাদনা]

মাদ্রাসা[সম্পাদনা]

  • আলমশাহপাড়া আলিয়া মাদ্রাসা, লালানগর
  • মাদ্রাসা-এ তৈয়্যবিয়া অদুদিয়া সুন্নিয়া (ফাযিল), চন্দ্রঘোনা
  • রাঙ্গুনিয়া নুরুল উলুম সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসা, মরিয়মনগর
  • পোমরা জামেউল উলুম সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসা, পোমরা
  • রাণীরহাট আলআমিন হামেদিয়া সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসা, রাজানগর
  • জামেয়া নঈমীয়া তৈয়্যবিয়া মাদ্রাসা, পোমরা
  • বেতাগী রহমানিয়া জামেউল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা, বেতাগী
  • মির্জা তৈয়্যবিয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসা, হোছনাবাদ
  • ইসলামপুর তৈয়্যবিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা, ইসলামপুর
  • নাপিত পুকুরিয়া নুরীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা, পদুয়া
  • দক্ষিণ শিলক তৈয়্যবিয়া নুরীয়া ছত্তারিয়া মাদ্রাসা, শিলক
  • হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) মাদ্রাসা, সরফভাটা
  • উত্তর পদুয়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, পদুয়া
  • সুখ বিলাস মেশিনারী সেন্টার মাদ্রাসা, পদুয়া
  • রাজার হাট সিদ্দিকে আকবর মাদ্রাসা, পদুয়া
  • নাপিত পুকুরিয়া ফকির শাহ মাদ্রাসা, পদুয়া
  • ছৈয়দনগর কাদেরিয়া মাদ্রাসা, পারুয়া
  • শাহ মজিদিয়া ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ইসলামপুর
  • হযরত মাওলানা ছাদেক শাহ (রহ.) মাদ্রাসা, ইসলামপুর
  • ব্রহ্মোত্তর খানজুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া
  • কোদালা আজিজিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা, কোদালা
  • শিলক মিনাগাজীর টিলা মুতিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা, শিলক
  • খাদিজাতুল কোবরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা, লালানগর
  • ফাতেমা তুজ জোহরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা, কোদালা
  • দেওয়ানবাজার রহমানিয়া বালিকা মাদ্রাসা, দক্ষিণ রাজানগর

মাধ্যমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  • আলহাজ্ব আবুল বশর চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়
  • ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়
  • উত্তর পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয়
  • উত্তর পারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়
  • উত্তর পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়
  • উত্তর রাঙ্গুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
  • কাউখালী আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়
  • কোদালা উচ্চ বিদ্যালয়
  • খুরশিয়া দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয়
  • ঘাটচেক উচ্চ বিদ্যালয়
  • চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
  • দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়
  • দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া শিলক উচ্চ বিদ্যালয়
  • দক্ষিণ শিলক এম শাহ আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়
  • পদুয়া শ্যামলিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পশ্চিম শিলক বেদৌরা আলম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়
  • পশ্চিম সরফভাটা মীরেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়
  • পূর্ব সরফভাটা আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়
  • পোমরা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পোমরা বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়
  • পোমরা শহীদ জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়
  • বগাবিলি উচ্চ বিদ্যালয়
  • বেগম ইকবাল জাকির হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • মজুমদারখীল উচ্চ বিদ্যালয়
  • মরিয়মনগর উচ্চ বিদ্যালয়
  • মরিয়মনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • রফিকাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
  • রাঙ্গুনিয়া খিলমোগল রসিক উচ্চ বিদ্যালয়
  • রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়
  • রাজানগর আরএবিএম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
  • রোটারি বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়
  • শিলক হামিদ শরীফ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়
  • সাবেক রাঙ্গুনিয়া ইন্দ্রকুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • সাহাব্দীনগর উচ্চ বিদ্যালয়
  • সুখ বিলাশ উচ্চ বিদ্যালয়
  • সোনারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়
  • হরিহর উচ্চ বিদ্যালয়
  • হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়

ভাষা ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাই রাঙ্গুনিয়া অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা। তবে অঞ্চল ও ধর্মভেদে চট্টগ্রামের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের ভাষার সাথে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও এ উপজেলায় বসবাসরত উপজাতিরা তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে।

রাঙ্গুনিয়ার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুথিপাঠ ছিল প্রধান সংস্কৃতি, সমগ্র ভারতবর্ষে যার খ্যাতি ছিল। এছাড়া চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান, কবিগান, ভাণ্ডারী গান, মারফতী, পালা, কীর্তন, যাত্রা, নাটক, নৃত্যসহ সংস্কৃতির সকল শাখার উর্বর ক্ষেত্র রাঙ্গুনিয়া। বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, সামাজিক উৎসব, ঈদ-পূজা-পার্বণ-মেলা বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হয়।

রাঙ্গুনিয়া শিল্পকলা একাডেমী, রাঙ্গুনিয়ার সাংস্কৃতিতে বেশ অবদান রেখে চলেছে এবং এর কার্যক্রম দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে ।

খেলাধুলা ও বিনোদন[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল থেকেই রাংগুনিয়ার জনগোষ্ঠী ক্রীড়ামোদী। বলিখেলা রাংগুনিয়ার একসময়কার জনপ্রিয় খেলা ছিল। বর্তমানে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি জনপ্রিয় খেলা। রাংগুনিয়ার অনেক খেলোয়াড় জাতীয় দলসহ দেশের প্রসিদ্ধ ক্লাবসমূহে কৃতিত্বের সাথে অংশগ্রহণ করছে। রাঙ্গুনিয়ায় মৌসুমী টুর্নামেন্টে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়সহ ঢাকার মাঠের বিদেশী ফুটবলাররা নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন।

জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন ধর্মীয়-সামাজিক অনুষ্ঠানাদি উপলক্ষে নাটক, যাত্রা, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্য, কীর্তন, কবিগান, ভাণ্ডারী, অ’লা গান, পাল্টাগান প্রভৃতি রাঙ্গুনিয়াবাসীর বিনোদনের প্রধান উপকরণ।

এখানে প্রতিবছরই বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এখানকার জনপ্রিয় খেলার মধ্যে বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিপত্য দেখা গেলেও অন্যান্য খেলাও পিছিয়ে নেই। রাঙ্গুনিয়ায় বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছে। এর মধ্যে রাংগুনিয়া কলেজের মাঠ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। আরো রয়েছে ঐতিহাসিক জাকির হোসেন স্টেডিয়াম।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা সড়ক পথে। এছাড়াও নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলার প্রধান সড়ক কাপ্তাই সড়ক, যা চট্টগ্রাম শহর থেকে উপজেলার পোমরা ইউনিয়ন, পৌরসভা, মরিয়মনগর ইউনিয়ন, চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ও হোছনাবাদ ইউনিয়ন অতিক্রম করে কাপ্তাই পর্যন্ত গিয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কাপ্তাই সড়কের দৈর্ঘ্য ২৬ কিলোমিটার। উপজেলার অন্যতম প্রধান সড়কগুলো হল রোয়াজারহাট-রাণীরহাট সংযোগ সড়ক, মরিয়মনগর-রাণীরহাট সংযোগ সড়ক, গোডাউন-পদুয়া সড়ক, গোডাউন-বোয়ালখালী সংযোগ সড়ক। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের আভ্যন্তরীণ সড়ক রয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাপ্তাই সড়কে সব ধরণের যানবাহন চলাচল করে। অন্যান্য সড়কসমূহের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম সিএনজি চালিত অটোরিক্সা।

পত্রিকাসমূহ[সম্পাদনা]

  • পাক্ষিক রাঙ্গুনিয়া খবর
  • রূপালী রাঙ্গুনিয়া
  • আশার আলো
  • রাঙ্গুনিয়া সংবাদ
  • Rangunianews24.com

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৪৬৬টি মসজিদ, ৬৭টি মন্দির ও ৭২টি প্যাগোডা রয়েছে।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১টি সরকারী হাসপাতাল, ইউনিয়নভিত্তিক ১৫টি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক রয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশজুড়ে বিশাল গুমাই বিলের মাঠের অবস্থান। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গুমাই বিলে আবাদ করা আড়াই হাজার হেক্টর জমি থেকে ২ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন ধান পাওয়া যায়। এ বিলে চাষ করেন প্রায় সাত হাজার কৃষক। গুমাই বিল থেকে দেশের জনগোষ্ঠীর আড়াই দিনের খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম। ধান কাটার এ মৌসুমে নেত্রকোনা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ, রংপুর, সাতকানিয়া, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষিশ্রমিকেরা এখানে এসে জড়ো হন। গুমাই বিলে তারা ধান কাটেন।

রাঙ্গুনিয়ায় ৩টি চা-বাগান, কর্ণফুলী জুট মিল/ফোরাত কার্পেট মিল আছে। কর্ণফুলী জুট মিল থেকে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার সুতা রফতানি হয় বিভিন্ন দেশে।

কোদালা চা-বাগান দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত। বাংলাদেশের 'কোদালা' চা বাগানের জন্য জমি বরাদ্দ করা হয় ১৮২৮ সালে। কোদালায় ১৮২৮ সালে চা বাগান গড়ে উঠেছিল। এটি দেশের প্রথম চা বাগান। কোদালায় উৎপাদিত চা বিদেশে রফতানী করা হয়।

আগুনিয়া চা-বাগান উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়ার পূর্ব সীমান্তে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সংলগ্ন আগুনিয়া চা বাগানের অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিন এখানে আসছেন পর্যটক। অন্যদিকে বাগানের উৎপাদিত ক্লোন চা পাতা বিদেশে রফতানি হওয়ায় দেশে আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত বাগান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব ছিল ব্রিটিশ পরিবারের হাতে। ব্রিটিশরা বাংলাদেশ ত্যাগ করলে ১৯৫২ সালে বাগানটি নিলাম হয়ে যায়। ১৯৫৪ সালে এটির তদারকির দায়িত্ব নেন লালানগর ইউনিয়নের সমাজসেবক মীর সোলতানুল হক। তিনি সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে আবার চা পাতা উৎপাদনের কাজ চালু করেন। বাগানের নাম পরিবর্তন করে রাখেন 'আগুনিয়া চা বাগান'। এছাড়াও রয়েছে 'ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগান'।

চা-বাগানের পাশে আছে বিশাল রাবার বাগান, প্রতিদিন কাঁচা রাবার উৎপাদন হয়।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, আর সকল ধরণের শাক-সবজি উৎপাদিত হয়।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • শেখ রাসেল অ্যাভিয়েরি পার্ক

এশিয়ার ২য় বৃহত্তম ক্যাবল কার রাঙ্গুনিয়ায় তৈরি করা হয়েছে। শেখ রাসেল অ্যাভিয়েরি পার্কে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটক আসেন। বৃক্ষাচ্ছাদিত সবুজ পাহাড়ি বনে উড়ছে হাজার হাজার পাখি । পাখিদের কলতানে মুখরিত পুরো বন। মাথার সিঁথির মতো বুনো পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিনোদন পিয়াসী মানুষ। পুরো এলাকা ভরে যাচ্ছে সবুজে । এ পার্ককে ঘিরে এলাকাটিতে গড়ে উঠছে সম্ভাবনাময় বিনোদন কেন্দ্র। ঘটছে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আগমন।

  • চা বাগান
    • আগুনিয়া চা বাগান: লালানগর ইউনিয়নে অবস্থিত।
    • কোদালা চা বাগান: কোদালা ইউনিয়নে অবস্থিত।
    • ঠাণ্ডাছড়ি চা বাগান: রাজানগর ইউনিয়নে অবস্থিত।

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ[সম্পাদনা]

  • সুখবিলাস রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ (আঠারো শতক)
  • রানীর পুকুর (রাজারহাট)
  • পাগলা মামার দরগা (উনিশ শতক)
  • ধর্মচক্র বিহার (১৭৫০)
  • জগৎদাত্রী মন্দির
  • শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ মন্দির (শান্তিনিকেতন)
  • শিব চতুর্দশী মন্দির (পারুয়া)
  • কৃষ্ণ মন্দির (মজুমদারখীল)
  • সাগরদিঘী (রাজানগর)
  • মহামুনি বৌদ্ধ বিহার
  • সীমাঘর

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ২৯টি হাট/বাজার রয়েছে। রোয়াজার হাট, রাণীর হাট, রাজার হাট, গোচরা বাজার, শান্তির হাট, ধামাইর হাট উল্লেখযোগ্য।

নদীনালা[সম্পাদনা]

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রধান নদী কর্ণফুলি। এছাড়াও রাঙ্গুনিয়ার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ইছামতি নদী। আরো অসংখ্য ছোটখাট খাল রয়েছে এ উপজেলায়।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে রানীরহাট, রোয়াজারহাট ও রাঙ্গুনিয়ায় পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ হয়। পাকবাহিনী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়।

  • মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন
    • বধ্যভূমি - ২
    • স্মৃতিস্তম্ভ - ৩ (রাঙ্গুনিয়া কলেজ, রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ইছাখালী)।

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]