সরাইল উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সরাইল
উপজেলা
সরাইল বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
সরাইল
সরাইল
বাংলাদেশে সরাইল উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৭′ উত্তর ৯১°৮′ পূর্ব / ২৪.১১৭° উত্তর ৯১.১৩৩° পূর্ব / 24.117; 91.133স্থানাঙ্ক: ২৪°৭′ উত্তর ৯১°৮′ পূর্ব / ২৪.১১৭° উত্তর ৯১.১৩৩° পূর্ব / 24.117; 91.133 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
আয়তন
 • মোট২১৫.২৮ কিমি (৮৩.১২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,৭১,১০১
 • জনঘনত্ব১৩০০/কিমি (৩৩০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৪০.৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

সরাইল উপজেলা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা। আয়তন: ২২৭.২২ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৪°০০´ থেকে ২৪°১১´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫৯´ থেকে ৯১°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে নাসিরনগর উপজেলা, দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর উপজেলা, পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর ও নাসিরনগর উপজেলা, পশ্চিমে ভৈরব ও বাজিতপুর উপজেলা। জনসংখ্যা ২৭১১০১; পুরুষ ১৩৬২৪০, মহিলা ১৩৪৮৬১। মুসলিম ২৪৭০৩১, হিন্দু ২৩৯৮৮, বৌদ্ধ ১৬ এবং অন্যান্য ৬৬। জলাশয় মেঘনা, তিতাস, বগদিয়া ও ভৈরব নদী এবং আকাশী বিল ও শাপলা বিল উল্লেখযোগ্য। প্রশাসন সরাইল উপজেলা গঠিত হয় ১৯৯০ সালে।

সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তির আকাশি বিল

পরিচ্ছেদসমূহ

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান : সরাইল উপজেলা ২৪°০০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হতে ১২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এর উত্তরে - নাসিরনগর উপজেলা ও মেঘনা নদী, পশ্চিমে - আশুগঞ্জ উপজেলা, মেঘনা নদী, কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও বাজিতপুর উপজেলা, পূর্বে-নাসিরনগর ও বিজয়নগর উপজেলা এবং দক্ষিণে - ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা। এর আয়তন ২১৫.২৮ বর্গ কিঃমিঃ। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঘনা,তিতাস ও লাহুর নদী। সরাইল উপজেলা সদরের আয়তন ১৪.০৩ বর্গ কিলোমিটার। এটি ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।[২]

নামকরণ ও ইতিহাস[সম্পাদনা]

সর অর্থ সরোবর বা হূদ। এটাকে ব্যাখ্যা করলে বুঝায় বিশাল জলাশয় অার অাইল শব্দের অর্থ বাঁধ বা উচুভূমি। অর্থাৎ প্রাচীনকালে এ এলাকা ছিল বিশাল জলরাশিতে ভরা এক জলমগ্ন স্হান। কালের বিবর্তনে এখানে ধীরে ধীরে বেশ কিছু চর পড়তে থাকে যা দুর থেকে জমির অাইল বা বাধেঁর মত দেখাত। এতে করে বিশাল জলাশয়ের সরঃ জেগে উঠা অাইলে বা ভূখন্ডে জনপদ গড়ে উঠতে থাকে অার তাই অর্থাৎ বিশাল জলরাশিতে জেগে উঠা ভূখন্ডে সরঃ + অাইল = সরাইল নামে পরিচিতি পায়। ওই বিশাল জলরাশিকে কালীধর সায়র বা কালীদহ সাগর বলে গবেষকরা চিহিূত করেছেন,যা প্রাচীনকাল থেকে এ এলাকার বিভিন্ন অ্রঞ্চলে কবি গান ও পুঁথি পাঠ অাসরের গাওয়া বন্দনা- গীতির শুরুতেই উল্লেখ পাওয়া যায়। অন্য একটি মতে,সরাইখানা শব্দের অর্থ ক্ষণস্হায়ী বসবাস। ফার্সী ঈল শব্দের অর্থ বিদ্রোহী বন্ধু। সরাইখানার সরাই ও ঈল শব্দ মিলে (সরাই+ঈল) সরাইল শব্দের উৎপত্তি। অর্থাৎ বিদ্রোহী বন্ধুর বাসস্হান। ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফখরূদ্দিন মোবারক শাহ, বাহরাম খানের শিলহদর( বর্মরক্ষক) অর্থাৎ দেহরক্ষী হিসেবে বিদ্রোহী হয়ে তিনি যে স্হানে সামরিক প্রস্ততির জন্য ক্ষণস্হায়ী রাজধানী স্হাপন করেছিলেন সেই স্হানটি দিল্লীর সুলতান ও সভাসদগন এবং স্থপতিগন কর্তৃক সরাই+ঈল = সরাইল নামে অাখ্যায়িত হয়েছিল। দিল্লী থেকে প্রচারিত হতে হতে এটাই কালের অাবর্তে পরবর্তী শাসন অামলে সরাইল নামে পরিচিত ও গৃহীত হয়েছিল। মোঘল অামলে(১৩৩৮-১৫২৬) প্রায় দুইশত বৎসর এ নামটি সরাইল পরগণা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে অাছে। বারো ভুঁইয়া দের অন্যতম ঈসা খাঁর জন্ম ১৫২৯ সালে সরাইল পরগণায়। ইসা খাঁর দাদা রাজপুত বংশীয় 'ভাগিরথ' অযোধ্যা হতে বাংলায় এসে বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৫৩৩-৩৮) অধীনে দেওয়ান এর চাকরি লাভ করেন। তার পুত্র কালিদাস গজদানী পিতার মৃত্যুর পর দেওয়ানি লাভ করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সোলায়মান খাঁ নাম গ্রহণ করেন। সোলায়মান খাঁ সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের কন্যা সায়েদা মোমেনা খাতুনকে বিয়ে করে সরাইল পরগনা ও পূর্ব মোমেনশাহীর জমিদারি লাভ করেন। সুলতান গিয়াসুদ্দিন মাহমুদের মৃত্যুর পর সোলায়মান খাঁ নিজেকে সুলতানের উত্তরাধিকারি হিসেবে ঘোষণা দেন এবং সম্রাট শের শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি স্বাধীনভাবে তার জমিদারি পরিচালনা শুরু করেন এবং তার জমিদারির প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল সরাইল। ১৫৪৫ সালে শের শাহের মৃত্যুর পর তার পুত্র ইসলাম শাহ দিল্লীর সিংহাসন লাভ করেন এবং সোলায়মান খাঁকে তার আনুগত্য মেনে নিতে বলেন। সোলায়মান খাঁ তা প্রত্যাখ্যান করলে ইসলাম শাহ তার দুই সেনাপতি তাজ খান কররানী ও দারিয়া খান কে যুদ্ধের জন্য পাঠান। যুদ্ধে সোলায়মান খাঁর পরাজয় হয় ও তিনি মৃত্যুবরন করেন। তার দুই পুত্র ইসা ও ইসমাইল কে বন্দি করে দাস হিসেবে ইরানি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। তারপর তাজ খান কররানী অধিকৃত এলাকার দখল লাভ করেন ও ইসা খাঁর চাচা কুতুব খানকে তার আদালতে নিয়োগ দেন। তিনি ইসা ও ইসমাইল কে ইরানি বণিকদের কাছ থেকে মুক্ত করেন। তারপর ইসা খাঁ তার চাচা কুতুব খানের সাহায্যে সরাইলের জমিদারী দখল করেন। ১৫৬৫ সালে তাজ খান কররানীর মৃত্যুর পর আফগান শাসকদের সাথে মিলে মোগল দের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৫৮০ সালের দিকে তিনি তার প্রশাসনিক কেন্দ্র সরাইল থেকে স্থানান্তর করে সোনারগাঁতে নেন।[৩][৪] প্রাচীনকালে এটি ভাটি (জলাবদ্ধ নিম্ন ভাগ) অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৮৩০ সালের পূর্বে সরাইল পরগণা ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৩০ সালে সরাইল পরগনা ময়মনসিংহ হতে বিচ্ছিন্ন করে ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৫] ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্তে পরগনার পরিবর্তে জেলা ও মহকুমা ব্যাবস্থার প্রচলন করে। যার কারণে সরাইল পরগনা ভেঙ্গে দেয়া হয়। ১৮৬০ ত্রিপুরা জেলা ভেঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার সৃষ্টি করার পর সরাইল পরগনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার সাথে যুক্ত করা হয়।[৬]

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ[সম্পাদনা]

হাটখোলা জামে মসজিদ (সপ্তদশ শতাব্দী), সরাইল শাহী জামে মসজিদ (মুগল আমল), আরিফাইলের সাগরদীঘি মসজিদ (ষোড়শ শতাব্দী), জোড়া কবর (জাতীয় জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে), বারিউরার হাতিরপুল জামে মসজিদ (মুগল আমল), হাবলিপাড়ার ইদারা (মুগল আমল)।

উপজেলার ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

ইতিহাস, এতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই সরাইল। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে সরাইলের কৃষ্টি, কালচার, শিক্ষা ও সংস্কৃতি উপমহাদেশের উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। আরিফাইলের মসজিদ, হাটখোলা বা আরফান নেছার মসজিদ এবং হাতিরপুল ইত্যাদি সরাইলের ঐতিহ্যবাহী স্থান। দেশের প্রসিদ্ধ আচিল বা হাঁসলি মোরগ  এবং দেশসেরা গ্রে-হাউন্ড কুকুর সরাইলের ঐতিহ্যবাহী প্রাণী ।

আরিফাইল মসজিদ: সরাইলের আরিফাইলের মসজিদটি এবং সংলগ্ন জোড় কবরটি মেঘল স্থাপত্যের অপূর্ব নির্দশন। মসজিদটি সম্পর্কে এলাকায় বিভিন্ন রকম গল্প-গুজব চালু আছে। তবে মসজিদটির নির্মাণকাল এবং নির্মাতাদের ব্যাপারে কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। এটি সরাইল বাজার থেকে আনুমানিক দেড় মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। ৩ গম্বুজ ও ১৬মিনার বিশিষ্ট মসজিদটির দৈর্ঘ- ৭০ফুট এবং প্রস্থে-২০ফুট। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তরের অধীন মসজিদটি প্রত্ন সম্পদ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।

হাতিরপুল: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বারিউড়া নামক স্থানে ইটের তৈরি উঁচু পুলটির নাম হাতির পুল। এটি ১৬৫০খ্রি. দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তরের অধীন পুলটি প্রত্ন সম্পদ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।

আড়িফাইল মসজিদ[সম্পাদনা]

আড়িফাইল মসজিদ বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য যার অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার আরিফাইল গ্রামে। এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। স্থানীয়ভাবে এটি 'আইড়ল মসজিদ' নামে পরিচিত। মসজিদটি সরাইল উপজেলা সদরের আরিফাইল গ্রামে সাগরদিঘীর পাশে অবস্থিত। সদর হতে এর দূরত্ব অর্ধ কিলোমিটার। মসজিদটি নির্মিত হয় ১৬৬২ সালে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুসারে দরবেশ শাহ আরিফ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং তার নামানুসারে এই মসজিদের নামকরণ করা হয়। মসজিদটির আয়তন ৮০x৩০ ফুট এবং দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট । মসজিদটির মোট প্রবেশপথ ৫ টি , যার তিনটি হল পূর্বদিকে এবং বাকিদুটি যথাক্রমে উত্তর ও পূর্বদিকে । মসজিদের চার কোনায় রয়েছে চারটি বুরুজ । এটিতে মোট তিনটি গম্বুজ রয়েছে । গম্বুজগুলোর নিচে মসজিদের অভভন্তরভাগে তিনটি বে রয়েছে যা ভিতরের অংশকে তিন ভাগে ভাগ করেছে । গম্বুজগুলোতে পদ্মফুল অঙ্কিত রয়েছে । মসজিদের দেয়ালের বাইরের দিকটা চারকোণা খোপ দিয়ে সজ্জিত । এটি সংরক্ষনের জন্য টাইলস ও চুনকাম করা হয়েছে । তবে পূর্বের কাঠামো এখনও টিকে আছে । মসজিদের পাশে একটি মাজার রয়েছে ।

সরাইলের হাউন্ড কুকুর[সম্পাদনা]

দেখতে এরা সাধারণ কুকুর থেকে কিছুটা আলাদা। মুখটা অনেকটা শেয়ালের মতো। লম্বা কান। সাদা, কালো, লালসহ বিভিন্ন রঙের এসব কুকুর একসময় ব্যবহার করা হতো শিকারের কাজে। শিয়াল, বনবিড়াল, বাঘডাস শিকারে এরা বেজায় পারদর্শী। তাছাড়া চোর-ডাকাতরা একটু বেশিই ভয় পায় এই কুকুরকে। তাই সরাইলের এসব বিখ্যাত গ্রে-হাউন্ড কুকুরের দামটাও বেশি। বাচ্চা কুকুর ২০-২৫ হাজার আর বড় কুকুরের দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এই জাতের কুকুরের পরিচিতি উপমহাদেশ জুড়ে। দেশ-বিদেশ থেকে এখানে কুকুর কিনতে আসেন মানুষ। রীতিমতো দুধ-ভাত আর মাছ-মাংস খাইয়ে বড় করা হয় এদের। একসময় এ অঞ্চলের বিভিন্ন বাড়িতে কেউ শখের বশে আবার কেউ আভিজাত্যের জন্য পালন করত এই বিখ্যাত কুকুর। কিন্তু কালের আবর্তে আজ সবই অতীত। বর্তমানে উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় মাত্র একটি পরিবার এই কুকুর পালন ধরে রেখেছে। টাইগার, মধু, পপি, কালী, লালী, টমি, কালাসহ বিভিন্ন নামে ডাকা হয় তাদের। জন্মের কিছুদিন পরই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এ নাম দেওয়া হয় তাদের। বর্তমানে তার বাড়িতে ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি কুকুর আছে। ৫টি ছোট বাচ্চার জন্য তার প্রয়োজন হয় ২ কেজি দুধ। তাছাড়া ভালো দাম পেতে মাংসসহ উন্নত খাবারও দিতে হয়। ৩ থেকে ৫ মাসের একটি বাচ্চা কুকুর ২০-২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর বড় ও সুশ্রী কুকুরের দাম উঠে ৬০-৬৫ হাজার টাকা । কীভাবে এই কুকুর সরাইলে এল তার সঠিক ইতিহাস জানা কাউকে খুঁজে পাওয়া গেল না। বহুকাল আগে এক দেওয়ান সাহেব হাতি নিয়ে সরাইল পরগনা থেকে কলকাতা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একটি কুকুর মনে ধরে তার। অনেক বলার পরও মালিক দেওয়ান সাহেবকে কুকুরটি দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে হাতির বিনিময়ে মালিকের কাছ থেকে কুকুরটি নিয়ে আসেন ওই দেওয়ান। সেই কুকুর হাত বদলে একসময় তার দাদা গঙ্গাচরণ রবিদাসের কাছে চলে আসে। আর শিয়ালের সাথে মিলনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে বর্তমান এই জাতের কুকুর। আবার অনেকে বলে থাকেন বাঘের সাথে মিলনের ফলে শিকারি প্রকৃতির এই গ্রে হাউন্ড কুকুরের উৎপত্তি।

সরাইলের আসিল মোরগ[সম্পাদনা]

আসিল অর্থাৎ আসল বা খাঁটি। এটি বাংলাদেশের একটি পুরাতন ও বিশুদ্ধ জাতের মুরগি। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল থানায় এ জাতের মুরগি প্রচুর পাওয়া যেত।

আসিলের মূল বৈশিষ্ট্যঃ[সম্পাদনা]

১. এদের দেহের গঠন বলিষ্ঠ ও দৃঢ়, গলা ও পা দুটো লম্বা।

২. এদের মাথা বেশ চওড়া এবং মাথায় মটর ঝুঁটি থাকে।

৩. দেহে পালক কম থাকে ও পালকের রং সাধারণত লাল হয়।

৪. ঠোঁট বেশ বড় ও মজবুত।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী ।

আসিলের উপযোগীতাঃ[সম্পাদনা]

এরা বেশ বড় হয়। এ জাতের মোরগ বেশ শক্তিশালী ও ভালো লড়াই করতে পারে। তাই অনেকে শখ করে এদের পালন করে থাকে। মাংস উৎপাদনের জন্য খুব শ্রেয় এবং এদের মাংস খুব সুস্বাদু। যেখানে উন্নত খাবার, ঔষধ দিয়ে ব্রয়লার মুরগিকে আমরা মাংস উৎপাদনে কাজে লাগাই, সেখানে স্বাভাবিক খাবার দিলে ১১০-১২০ দিনে একটি আসিল মোরগ ও মুরগীর ওজন যথাক্রমে ৩.৫ - ৪.০ এবং ২.৩- ৩.০ কেজি হয়।

#কিন্তু দুখের বিষয়, বর্তমানে আমাদের দেশিয় এই জাতটির সংখ্যা ভীষণ ভাবে কমে গিয়ে বিলুপ্তির পথে। কম পাওয়া যায় বলে বাজার মুল্যও প্রচুর। আমরা একটু সচেতন ও আগ্রহী হলে এই জাতটিকে টিকিয়ে রাখতে পারি। পাশাপাশি পরিবারের মাংসের চাহিদা পূরণে হতে পরে উত্কৃষ্ট এই আসিল ।

হাতিরপুল[সম্পাদনা]

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন সরাইল উপজেলার বারিউড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১০০গজ পূর্বদিকে রাস্তার বামপাশে হাতিরপুলটি অবস্থিত। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর থেকে পুলটিকে সংস্খার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে । দেওয়ান শাহবাজ আলী সরাইলের দেওয়ানী লাভের পর বর্তমান শাহবাজপুরে তার কাঁচারী নির্মাণ করেন । কার্যোপলক্ষে সরাইলের বাড়ী এবং শাহবাজপুরে যাতায়াতের জন্য সরাইল থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করেন । রাস্তাটি ১৬৫০খ্রি. নির্মিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয় । উক্ত রাস্তাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় কুট্টাপাড়ার মোড় হতে শাহবাজপুর পর্যন্ত এখনো টিকে আছে । পরিত্যক্ত এ রাস্তাটিকে স্থানীয়রা জাঙ্গাল বলে ডাকে । উক্ত জাঙ্গালটির উপরে পুলটি অবস্থিত। কথিত আছে দেওয়ানরা হাতির পিঠে করে চলাচল করতো এবং পুলটির গোড়ায় হাতি নিয়ে বিশ্রাম নেয়া হতো বলে এটিকে হাতির পুল নামে অভিহিত করা হয় । হাতির পুলের নিচ দিয়ে নৌকা চলাচল করে । পড়ন্ত বিকেলে এলাকার সৌন্দর্য পিপাষু জনসাধারণ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার উৎসাহী দর্শকরাও বিকেলের খানিকটা সময় এখানে কাটিয়ে যান ।

কিভাবে যাওয়া যায়:[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিশ্বরোড মোড় এসে সিএনজি যোগে সরাসরি আসা যায়। উপজেলা চত্বর থেকে সিএনজি যোগে যাওয়া যায়।

প্রশাসনিক বিন্যাস[সম্পাদনা]

সরাইল উপজেলা গঠিত হয় ১৯৯০ সালে। এই উপজেলাটি ৯টি ইউনিয়ন ও ৭৬ টি মৌজা আর ১৪৬ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। এর নির্বাচনী এলাকা - ২৪৪ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া - ২)। এর ইউনিয়নসমূহ -

  • সরাইল সদর ইউনিয়ন
  • অরুয়াইল ইউনিয়ন
  • পাকশিমূল ইউনিয়ন
  • চুন্টা ইউনিয়ন
  • কালীকচ্ছ ইউনিয়ন
  • পানিশ্বর ইউনিয়ন
  • নোয়াগাঁও ইউনিয়ন
  • শাহবাজপুর ইউনিয়ন
  • শাহজাদাপুর ইউনিয়ন

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানকার মোট লোকসংখ্যা ২,৭১,১০১ জন। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১,১৪৬ জন।

সরাইল উপজেলার ভাষা ও সংষ্কৃতি[সম্পাদনা]

বাংলার পূর্ব দক্ষিণে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য মন্ডিত এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনের মূলে রয়েছেভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান । ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পার্বত্যাঞ্চলের মধ্যবর্তী এ উপজেলা নরসিংদী, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের সাথে ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত। এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন কথ্য ভাষায় মহাপ্রাণধ্বনি অনেকাংশে অনুপস্থিত, অর্থাৎ ভাষা সহজীকরণের প্রবণতা রয়েছে। উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সাথে সন্নিহিত কুমিল্লা এবং ঢাকার ভাষার অনেকটা সাযুজ্য রয়েছে। মেঘনা নদীর গতিপ্রকৃতি এবং তিতাস নদীর পললে পললে গড়ে ওঠা এ উপজেলার মানুষের আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এই এলাকার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে এর সৃষ্ঠি। এই এলাকায় প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন সভ্যতার বাহক হিসেবে দোদীপ্যমান। সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে এ উপজেলার কৃষ্টি-কালচার, শিক্ষা-সংস্কৃতি উপমহাদেশে উল্লেখযেগ্য স্থান দখল করে আছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম দেওয়ান মাহবুব আলী (কুতুব মিয়া), এ.কে.এম হেদায়েতুল হক সিএসপি, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, প্রথিতযশা সাংবাদিক মরহুম আহমেদুর রহমান মজনু, অন্যতম শহীদ বুদ্ধিজিবী সৈয়দ আকবর হোসেন বকুল মিয়া এ উপজেলারই কৃতি সন্তান।

যেসব সরকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা এ উপজেলায় কাজ করছে সেগুলো হলোঃ

   * উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী, সরাইল।

   * সরকারী গণ গ্রন্থাগার, সরাইল।

মুক্তিযুদ্ধে সরাইল উপজেলা[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলার বিটঘর এলাকায় পাকবাহিনী প্রায় ৭০ জন লোককে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের ৫ মে মুক্তিযোদ্ধারা শাহবাজপুর পাকসেনা ক্যাম্প আক্রমণ করলে ৯ জন পাকসেনা নিহত হয় এবং এতে একজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। তাছাড়া কালীকচ্ছ বাজারের উত্তরে মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা দলের মাইন বিস্ফোরণে দুটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে পাকবাহিনীর কয়েকজন অফিসার ও সরাইলের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নিহত হন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ৩; স্মৃতিস্তম্ভ ৪ (বিটঘর গ্রাম, সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন, সরাইল ডিগ্রি কলেজ মাঠ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শেখ মেজবাহউদ্দিন স্মৃতিস্তম্ভ); স্মৃতিসৌধ ৪ (অাঁখিতারা, নোয়াগাঁও, কালীকচ্ছ-বারিউড়া সড়ক, শাহবাজপুর ইউপি অফিস সংলগ্ন)। উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা গ্রামের মোহাম্মদ ফুল মিয়া, মোঃ সায়েদ আলী, মহররম আলী ও মোঃ ইদ্রিস মিয়াদের বাড়িকে “মুক্তিযোদ্ধাদের মামার বাড়ি” বলা হতো। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বেড়তলা গ্রামের এবাড়ির অবদান ছিল অস্মিরণীয়। এবাড়ির মোহাম্মদ ফুল মিয়া, মোঃ সায়েদ আলী, মহররম আলী ও মোঃ ইদ্রিস মিয়া মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন।

বিটঘর গণহত্যা[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর উত্তর ইউনিয়নের একটি গ্রাম বিটঘর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বেরোড থেকে বেড়তলা হয়ে আনুমানিক ৭ কিলোমিটার উত্তরে, আশুগঞ্জ বেড়তলা হয়ে ১২ কিলোমিটার পূর্বে, মেঘনা নদী থেকে সোজাসুজি ২ কিলোমিটার পূর্বে এ অজপাড়া গাঁয়ের অবস্থান। বিটঘর গ্রামের পশ্চিম পাশ ঘেঁষে উত্তর-দক্ষিণে ‘ছোট খাল’ নামে পরিচিত একটি খাল রয়েছে। এই ছোট খালের পূর্বপাশে একসঙ্গে ৬১ জন, মালিহাতার ৪ জন, বুধলের ১ জন, শান্তিনগরের ২ জন, সিতাহরণের ১ জন, নাইলার ১১ জন শহীদসহ মোট ৮০ জন পাকিস্তানীদের হাতে শহীদ হন। বিটঘর গ্রামে আক্রমণকারী বেশিরভাগ ছিল পাকিস্তানি সৈনিক। এছাড়া তাদের সহযোগিতা করেছে ওই অঞ্চলের কয়েকজন রাজাকার নামধারী বেঈমান দেশবিরোধী অমানুষ। যাদের মধ্যে পনেরো রাজাকারের নাম প্রকাশ করা হয়েছে সরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ইউনিট কমান্ডার ইসমত আলীর সহযোগিতায়। গণহত্যার সময় নির্যাতিতের কেউ কেউ এখনো বেঁচে আছেন। জীবিত ছিলেন ৩৪ জন।

৩১ অক্টোবর, ১৯৭১। সকালবেলা সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশুগঞ্জ থেকে দুই শতাধিক সৈনিক বিটঘর গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে। রাজাকাররা পথ দেখিয়ে পাকিস্তানী বাহিনীকে সেখানে নিয়ে আসে। পাকিস্তানী সৈনিক ও রাজাকাররা ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীকে ছোট খালের পূর্ব পাশে জড়ো করে। তারপর বহুলোককে এক সঙ্গে লাইনে দাঁড় করিয়ে পর্যায়ক্রমে গুলি করতে থাকে। লাইনে থেকে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে ঘটনাচক্রে বেঁচে যান মন্তাজ উদ্দিন, আশকর আলী ও সফর আলী। এ ঘটনায় গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই একাধিক লোক নিহত হয়েছেন। নির্যাতিত হয়েছেন গ্রামের আরও অনেক নারী-পুরুষ।

পাক হানাদার বাহিনী সরাইল থেকে হেঁটে এবং জাফর নদী দিয়ে নৌকায় আমাদের গ্রামে প্রবেশ করেন। তারপর তারা লোকজনকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে ধরে নিয়ে ছোট খালের পাড়ে হত্যা করেছে। লাশ খালের পানিতে ফেলে দিয়েছে। বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মানুষ হত্যা করেছে।

তারা গ্রামের পুরুষ লোক যাকেই পেয়েছে তাকেই ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। বিটঘর গ্রামের ছেলামত আলীকে পাকিস্তানীরা চড় মেলে ফেলে দেয়। তারপর বুট-জুতা দিয়ে লাথি মারে। তার চোখের সামনে তিন ভাইকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে হত্যা করেছে। হত্যা করা হয়েছে ছেলামত আলীর পাঁচ মামাকে। এই ছেলামত আলীর বাড়ির সামনে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর যখন তার তিন ভাইয়ের লাশ তুলে দাফনের বন্দোবস্ত করা হয় ঠিক তখনই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, পাকিস্তানী বাহিনী আবার এসেছে। সেই সময় অন্য সবাই লাশ ফেলে পালিয়ে যায় জীবন বাঁচাতে। সবাই মিলে লুকায় পাশের ধানক্ষেতে। পরবর্তী সময়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় সেই তিনজনকে এক কবরে দাফন করা হয়।

পানিস্বর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য বিটঘর গ্রোমের মোঃ আজিজুল হক জানান, বিটঘর গণহত্যার আগের দিন শুনতে পেলাম আমাদের গ্রামের পাশের গ্রাম দুর্গাপুর মোল্লা বাড়ির পাশে একজন পাকিস্তানী সৈনিককে হত্যা করা হয়েছে। ভুল তথ্যের কারণে পাকিস্তানী বাহিনী দুর্গাপুর মোল্লাবাড়িতে না গিয়ে বিটঘর মোল্লাবাড়িতে আক্রমণ করে। পরে এই আক্রমণ সব গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানী বাহিনী প্রথমেই মাওলানা রহিম উদ্দিনের বাড়িতে আক্রমণ চালায়। রহিম উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমানকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর নূর বক্সের বাড়ি থেকে ইউনূস মিয়াকে ধরে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসে। আমাদের বাড়িতে এসে আমার পিতা আবদুল জব্বার, আমার চাচা শামসুদ্দিন ও সিরাজ আলীকে ধরে নিয়ে আবুবকর মেম্বারের বাড়িতে যায়। আবুবকর মেম্বারকে ধরে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় তাঁর ৪ বছর বয়সের মেয়ে সৈনিকদের পায়ে ধরে পিতাকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করতে থাকে। পাকিস্তানী সৈনিকেরা তখন তাদের লাথি মেরে ফেলে দিয়ে তাদের পিতা ও অন্যদের নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।

ভারি অস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বিটঘর গ্রামে আক্রমণ করেছিল। ঐ আক্রমণে শহীদ ৮০জনের মধ্যে এক মায়ের চার সন্তান রয়েছেন। চার সন্তানকে হারিয়ে তাদের মা খালেক ডাক্তারের স্ত্রী পাগল হয়ে যান। আমৃত্যু তিনি পাগলের মতো চার সন্তানের কবর আঁকড়ে ধরে বিলাপ করেছেন।

বিটঘর গণহত্যা নিয়ে ‘১৯৭১ গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একটি গণহত্যা নিরঘণ্টা প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটি রচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি, কবি ও সংগঠক জয়দুল হোসেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের মামার বাড়ি[সম্পাদনা]

সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা গ্রামের মোহাম্মদ ফুল মিয়া, মোঃ ইদ্রিস মিয়া, মোঃ সায়েদ আলী ও মহররম আলীদের বাড়িকে “মুক্তিযোদ্ধাদের মামার বাড়ি” বলা হত। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই “মুক্তিযোদ্ধাদের মামার বাড়ি” তে আশ্রয় নিতো। “মুক্তিযোদ্ধাদের মামার বাড়ি” টি ‍মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতেন। এই বাড়ির মোহাম্মদ ফুল মিয়া, মোঃ ইদ্রিস মিয়া, মোঃ সায়েদ আলী ও মহররম আলী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াতে সহযোগিতা করতো। মাঝে মধ্যে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বিভিন্ন অপারেশনে অংশগ্রহণ করতো। এই বাড়ির মহিলারা মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের চাল-ডাল দিয়ে পাক করে সব সময় খাওয়াতো।

সরাইল উপজেলার খেলাধুলা ও বিনোদন[সম্পাদনা]

প্রাচীনকাল থেকেই সরাইল উপজেলা  জনেগাষ্ঠী ক্রীড়ামোদী। এখানে প্রতিবছরই বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এখানকার জনপ্রিয় খেলার মধ্যে বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিপত্য দেখা গেলেও অন্যান্য খেলাও পিছিয়ে নেই। দেবিদ্বারে বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ রয়েছে। এর মধ্যে কুট্টাপাড়া খেলার মাঠ এবং সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ-উপজেলা  প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।  প্রতি বছর এ স্টেডিয়ামে নিম্নলিখিত ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ঃ

(ক)গোল্ডকাপ ফুটবল

(খ) প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ

(গ) ১ম বিভাগ ফুটবল লীগ

এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও সরকারি কর্মসূচিতে সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী “হাঁসলি মোরগের লড়াই” প্রতিযোগিতা, কাবাডি, লাঠি খেলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানকার শিক্ষার হার ৪০.৯%। অত্র এলাকার সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, যা ১৮৭১ সালে সরাইল এস্টেটের জমিদার রাজা রায় বাহাদুর অন্নদা প্রসাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ১৯৪৪ সালে প্রফুল্ল চক্রবর্তী কর্তৃক স্থাপিত কালীকচ্ছ পাঠশালা (উচ্চ বিদ্যালয়), ১৯৭০ সালে স্থাপিত সরাইল কলেজ ও ১৯৫৩ সালে স্থাপিত সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।[৭] এখানে রয়েছে -

  • সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় - ৮১টি
  • বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় - ৪৩টি
  • মহাবিদ্যালয় - ২ টি (সরাইল ডিগ্রি কলেজ ও আব্দুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ)
  • কিন্ডারগার্টেন - ০৮টি
  • এবতেদায়ী মাদ্রাসা - ০৪টি
  • দাখিল মাদ্রাসা - ০২টি
  • উচ্চ বিদ্যালয় - ১৫টি

প্রশাসনে সরাইলের গর্বিত সন্তানেরা[সম্পাদনা]

পানিশ্বর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুস সালাম সরকারের উপসচিব হিসেবে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। জনাব ফরহাদ রহমান (মাক্কী) সরকারের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সরকারী চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেছেন। তিনি মাদারীপুর জেলার জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। জনাবা সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বর্তমানে সরকারের উপসচিব হিসেবে নরসিংদী জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম গন পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। জনাব মোহাম্মদ শওকত আলী বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব। তিনি বর্তমানে জাপানে পিএইচডি করছেন। তিনি পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ ফুল মিয়া। যিনি ১৯৭১ সালে মহান ‍মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জনাব মোহাম্মদ শওকত আলী সাহেবদের বাড়িকে “মুক্তিযোদ্ধাদের মামার বাড়ি” বলা হয়। কারণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বাড়িকে ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতেন।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

স্বাস্থ্য সেবাদানের জন্য রয়েছেঃ

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র - ১টি
  • পশু চিকিৎসা কেন্দ্র - ১টি
  • দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র - টি
  • কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র - ১টি

কৃষি[সম্পাদনা]

এখানকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষক।

  • প্রধান ফসলঃ ধান, গম, পাট, সরিষা, আলু ও নানা রকম শাক-সবজি।
  • লুপ্ত বা লুপ্ত প্রায় শস্যাদিঃ কাউন, আউশ ও আমন ধান, পাট ও আড়হর ডাল।
  • প্রধান ফলঃ কলা, কাঁঠাল, আম, জাম।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

এ উপজেলার প্রায় ৬৮% লোক কৃষিজীবি, ৭% লোক মৎস্যজীবি এবং বাকি ২৫% বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে আছেন। এ অঞ্চলে প্রবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

  • কুটির শিল্প - মৃৎ শিল্প, সূচী-শিল্প।
  • রপ্তানি পণ্য - শাক-সবজি

এখানকার কলকারখানার মধ্যে রয়েছে - ময়দাকল, বরফকল, ইটভাটা, ওয়েল্ডিং কারখানা প্রভৃতি।

প্রাকৃতিক সম্পদ[সম্পাদনা]

সরাইলের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস। ২০১৬ সালের ১৮ই জুলাই বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) এর অধীনে সরাইলের কুট্টাপাড়া এলাকায় তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের ২৪ নং কূপের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। আগামী বছরে এ কূপের খনন কাজ শেষ হলে দৈনিক ২০-২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে।[৮]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

  • সড়ক পথ : পাকা ও আধাপাকা - ১১৫.৫ কিলোমিটার। দুটি গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে রোড সরাইলকে অন্যান্য জেলার সাথে যুক্ত করেছে, এর একটি হল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, যা এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক এর অংশ এবং অন্যটি হল কুমিল্লা সিলেট মহাসড়ক। এ দুটি মহাসড়ক সরাইলের বিশ্বরোডে এসে মিলিত হয়েছে।[৯][১০]
  • নৌপথ - নৌপথে যোগাযোগের জন্য এখানে রয়েছে মেঘনা ও তিতাস নদী এবং আকাশি বিল ও শাপলা বিল। নৌপথের দৈর্ঘ্য - ১৪ নটিক্যাল মাইল

পত্র-পত্রিকা[সম্পাদনা]

সরাইলের স্থানীয় পত্রিকা সমূহ -

  • সাপ্তাহিক পরগণা
  • সরাইল বার্তা
  • পাক্ষিক বাতায়ন
  • শ্বাশত সরাইল (ত্রৈমাসিক)
  • সরাইল যুগে যুগে

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • ঈসা খান - বারো ভুঁইয়া দের অন্যতম ঈসা খাঁর জন্ম ১৫২৯ সালে সরাইল পরগনায়।
  • উল্লাসকর দত্ত (১৮৮৫-১৯৬৫) - সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়নের বাঘবাড়িতে জন্ম। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী, ক্ষুদিরাম বসু এর সহযোগী
  • অশোক নন্দী - সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়নে জন্ম। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী।[১১]
  • দ্বিজ কালিদাস - লেখক,কলকাতার বেথুন স্কুলের প্রধান শিক্ষক,কৃষিবিদ,ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি উল্লাসকর দত্তের পিতা ও সাধক আনন্দ স্বামীর জামাতা।[১২]
  • দেওয়ান মাহবুব আলী (কুতুব মিয়া) - মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক [১৩][১৪]
  • সৈয়দ আকবর হোসেন (বকুল মিয়া) (১৯৩৫-১৯৭১) - শহীদ বুদ্ধিজিবী [১৫]
  • রবীন্দ্র মোহন নাগ - ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক [১৬]
  • শেখ আবু হামেদ (১৯২৮-২০১৪) - ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ইতিহাসবিদ। ১৯২৮ সালের ১৮ই মে সরাইলের নোয়াগাও ইউনিয়নের আঁখিতারা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।[১৭] ১৯৫৩ সালে সরাইল কালচারাল এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন সরাইল কলেজ, সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরাইল থানা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা।[৭]
  • ডক্টর অবিনাশ চন্দ্র সেন - অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রী প্রাপ্ত,দানবীর
  • নুরুল আমিন - পাকিস্তানের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের একমাত্র উপরাষ্ট্রপতি
  • তাহেরউদ্দিন ঠাকুর - সাবেক তথ্য ও বেতার প্রতিমন্ত্রী [১৮]
  • পায়েল ঠাকুর - ইতালীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা [১৯]
  • হাবিবুর রহমান মিলন (১৯৩৯-২০১৫) - ২০১২ সালের একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক।[২০]
  • আহমেদুর রহমান (১৯৩৩-১৯৬৫)- সরাইলের উচালিয়াপাড়াতে জন্ম। ইত্তেফাকের খ্যাতিমান সাংবাদিক, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলনের বড় ভাই, ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যেদের একজন। ১৯৬৫ সালের ২০ মে কায়রোতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত।[২১][২২]
  • আহমদ রফিক - কবি ও গবেষক।
  • আনন্দ চন্দ্র নন্দী - সঙ্গীতজ্ঞ ও সাধক। সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নে জন্ম। আনন্দস্বামী নামে সুপরিচিত।
  • মহেন্দ্রচন্দ্র নন্দী (১৮৫৩-১৯৩২)- একাধারে প্রখ্যাত ডাক্তার,শিল্প উদ্যোক্তা ও সাধক। সাধক আনন্দ চন্দ্র নন্দীর পুত্র।[২৩][২৪][২৫]
  • নরেন্দ্রচন্দ্র দত্ত (১৮৭৮-১৯৬২) - কালিকচ্ছ ইউনিয়নে জন্ম। প্রখ্যাত ব্যাংকার,ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা।[২৬]
  • সুধীর দাস - কবি। কালিকচ্ছ ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামে জন্ম।[২৭]
  • অমিতাভ নন্দী (-২০১৪) - কালিকচ্ছ ইউনিয়নে জন্ম। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) সিপিএম এর নেতা।
  • পবিত্র কর - কালিকচ্ছ ইউনিয়নে জন্ম। ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার।[২৮]
  • প্রভাত চন্দ্র সেন - চিত্রশিল্পি। কালিকচ্ছ ইউনিয়নে জন্ম।[২৯]

মুক্তিযুদ্ধে সরাইল[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৫ মে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে শাহবাজপুর পাকসেনা ক্যাম্পে ৯ জন পাকসেনা নিহত হয়। সরাইলের কালীকচ্ছ বাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের মাইন বিস্ফোরণে দুটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে পাকবাহিনীর কয়েকজন অফিসার ও সরাইলের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নিহত হন। ১৯৭১ সালে সরাইল উপজেলার বিটঘরে ৭০ জন লোক পাকবাহিনীর হাতে নিহত হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে এখানে ৩ টি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে - বিটঘর স্মৃতিস্তম্ভ, সরাইল ডিগ্রি কলেজ মাঠের স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শেখ মেজবাহউদ্দিন স্মৃতিস্তম্ভ। তাছাড়া স্মৃতিসৌধ রয়েছে ৪ টি - অাঁখিতারা স্মৃতিসৌধ, নোয়াগাঁও স্মৃতিসৌধ, কালীকচ্ছ-বারিউড়া সড়ক স্মৃতিসৌধ, শাহবাজপুর ইউপি অফিস স্মৃতিসৌধ।[৩০]

দর্শনীয় এবং উল্লেখযোগ্য স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

আড়িফাইল মসজিদ
হাতিরপুল
পড়ন্ত বিকেলে সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তি
  • আড়িফাইল মসজিদ - সরাইল উপজেলা সদরের প্রায় ১ কি.মি. পশ্চিমে দক্ষিণ আরিফাইল গ্রামে অবস্থিত। এটি ১৬৬২ খ্রিস্টাব্দে মুঘল আমলে নির্মিত হয়। দরবেশ শাহ আরিফ কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয় বলে ধারণা করা হয়। মসজিদটি আয়তাকার এবং এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ২৪.৩৮ মি x ৯.৩০ মি। মসজিদটি ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্বিক অধিদপ্তরের অধীন এই মসজিদটি প্রত্ন সম্পদ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। এটির স্থাপত্যশৈলী অনন্য। মসজিদের পাশেই রয়েছে জোড়া কবর। এর পাশে সাগরদিঘী নামে একটি বিশাল পুকুর রয়েছে।[৩১][৩২]
  • হাতিরপুল - সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন বারিউড়া নামক স্থানে অবস্থিত। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত। দেওয়ান শাহবাজ আলী সরাইলের দেওয়ান থাকা অবস্থায় ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে এটি নির্মাণ করেন বলে ধারণা করা হয়। দেওয়ানরা হাতির পিঠে করে চলাচল করতো এবং পুলটির গোড়ায় হাতি নিয়ে বিশ্রাম নেয়া হতো বলে এটিকে হাতির পুল নামে অভিহিত করা হয়।
  • সরাইল শাহী জামে মসজিদ - ১৬৭০ খ্রিস্টাব্দে মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত। সরাইল বিকাল বাজারে অবস্থিত।
  • হাটখোলা মসজিদ (আরফান নেছার মসজিদ) - সরাইল উপজেলা চত্বরের নিকটে অবস্থিত। সরাইলের দেওয়ান নূর মোহাম্মদের স্ত্রী আরফান নেছা কর্তৃক ১৬৬২ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। ভিন্নমত রয়েছে যে মজলিশ শাহরাজের পুত্র নূর মোহাম্মদ কর্তৃক ১০৭৩ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মিত হয় বলে জানা যায়।
  • অরুয়াইল নদীঘাট - সরাইলের অরুয়াইল ইউনিয়নে অবস্থিত। নৌকা তৈরির জন্য বিখ্যাত।
  • ধরন্তী - সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়ন অবস্থিত। সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়ক যাওয়ার পথে অবস্থিত। ঈদের সময় ব্যাপক লোকসমাগম হয়। বর্ষাকালে সড়কের দুই পাশের বিল পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে এবং আশেপাশের এলাকার পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। পর্যটকদের কাছে 'মিনি কক্সবাজার' নামে পরিচিত। বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ছয়মাস পানিতে পরিপূর্ণ থাকে এই হাওর। বাকি সময় ধান চাষ করা হয়।[৩৩][৩৪]
  • আয়েত উল্লাহ শাহ এর মাজার - এটি সরাইলের পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামে অবস্থিত।
  • শ্রী শ্রী কালাচাঁদ বাবাজীর মন্দির - সরাইলের পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামে অবস্থিত।
  • মুক্তিযোদ্ধে নিহত ৭১ জন শহীদের নামে নির্মিত স্মৃতিসৌধ - সরাইলের পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামে অবস্থিত।
  • কালিকচ্ছ দয়াময় আনন্দধাম - সরাইলের কালীকচ্ছ ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • দেওয়ান শাহবাজ এর ঐতিহাসিক কুপ - সরাইলের শাহবাজপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • সেন বাড়ি - সরাইলের চূন্টা ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির - সরাইলের চুন্টা ইউনিয়নে অবস্থিত।
  • বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর - ১৯৭৮ সালের ৩০ এপ্রিল কালীকচ্ছ ইউনিয়নে তৎকালীন বিডিআর ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারি এখানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর উদ্ভোধন করা হয়।[৩৫][৩৬][৩৭]
  • ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন অর্কিড প্রজেক্ট - শাহবাজপুরে অবস্থিত।[৩৮][৩৯]

উল্লেখযোগ্য প্রাণী[সম্পাদনা]

  • গ্রে-হাউন্ড কুকুর - সরাইলের গ্রে-হাউন্ড কুকুর এক ধরণের শিকারি জাতের কুকুর। স্থানীয়ভাবে হাউন্ড কুকুর নামেও পরিচিত,তাছাড়া দেশব্যাপী 'সরাইলের কুকুর' নামেও সুপরিচিত। শিকারি বৈশিষ্ঠ্যের জন্য এই কুকুর দেশে-বিদেশে বিখ্যাত। সরাইল গ্রে-হাউন্ডের লেজ নিচের দিকে ঝুলে এবং লেজটি চিকন হয়। গ্রে-হাউন্ড জাতের কুকুরের কান ও লেজ লম্বা হয়। এদের মুখটা লম্বাটে ধরণের হয় ও গায়ে ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। অন্যান্য প্রজাতির কুকুরের মত এটা আহ্লাদি নয়। এই কুকুর অত্যন্ত হিংস্র, এর নজর তীক্ষ ও দ্র্রুত দৌড়াতে পারে। এই জাতের পুরুষ কুকুরের উচ্চতা হয় ২৫-২৮ ইঞ্চি এবং ওজন ২৩-৩৩ কেজি আর নারী কুকুরের উচ্চতা হয় ২৩-২৬ ইঞ্চি এবং ওজন ১৮-২৮ কেজি। প্রতি ঘন্টায় এই কুকুর প্রায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়াতে পারে। এই কুকুর গড়ে ৮-১৪ বছর বাঁচে। এই কুকুরের রং দুই ধরনের হয় বাদামী-সাদা ও সাদা-কালো। ধারণা করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের বণিকদের সাথে আনা আরবি জাতের কুকুর, যেমন সাইট হাউন্ড,সালুকি,আফগানি হাউন্ড এর সাথে ব্রিটিশদের গ্রে হাউন্ড এর সংমিশ্রণে এক জাতের কুকুরের উৎপত্তি হয় এবং সরাইলের এক দেওয়ান এজাতের কুকুর নিয়ে আসেন, তারপর বুনো জাতের কুকুরের সাথে মিলনে সরাইল হাউন্ডের উৎপত্তি [৪০]। এর উৎপত্তি নিয়ে আরও কয়েকটি কিংবদন্তি রয়েছে, যেমন - সরাইলের এক দেওয়ান হাতি নিয়ে সরাইল পরগনা থেকে ভারতের কলকাতা যাচ্ছিলেন। পথে একটি কুকুর দেখে তার অনেক পছন্দ হয়, কিন্তু কুকুরের মালিক (মতান্তরে ইংরেজ) এটি কিছুতেই বিক্রি করতে চাননি। তারপর দেওয়ান নিজের হাতির বিনিময়ে মালিকের কাছ থেকে কুকুরটি কিনে নেন। পরে কুকুরটি শিয়ালের সঙ্গে মিলন করে, যার ফলে সৃষ্টি বর্তমান এই জাতের কুকুরের। তাছাড়া আরও জনশ্রুতি আছে যে, সরাইলের এক দেওয়ান হাতি নিয়ে শিকারের জন্য বনে যান। সঙ্গে ছিল তার মাদী কুকুর। তারপর কুকুরটি বনে হারিয়ে যায়। কুকুরটি বনে বাঘের সঙ্গে মিলন করে এবং বাঘের সঙ্গে মিলনের ফলেই এই গ্রে-হাউন্ড কুকুরের উৎপত্তি [৪১]। গবেষকদের মতে এরাবিয়ান শিকারি কুকুর,ইংরেজ গ্রে-হাউন্ড ও দেশি বন্য কুকুরের মিশ্রণে এই জাতের কুকুরের উৎপত্তি [৪২]

বর্তমানে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চৌরাগোদা গ্রামের তপন পাল রবিদাস ও তার পরিবার এই জাতের কুকুর লালন পালন করেন এবং বিক্রি করেন। সমগ্র ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় শুধুমাত্র তাদের পরিবারেই এ জাতের কুকুরের সংরক্ষন ও প্রজনন করা হয়। বর্তমানে কুকুরের বাচ্চা ২০-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় [৪৩]। তপন পাল রবিদাসের ভাষ্যমতে, শত বছর আগে তৎকালীন জমিদার দেওয়ান মনোয়ার আলি তার দাদা কালি চরন রবি দাসকে দুটি হাউন্ড কুকুর দিয়েছিলেন [৪৪]

অন্যান্য কুকুরের তুলনায় এই জাতের কুকুর শিকারের জন্য ঘ্রানশক্তির বদলে দৃষ্টিশক্তি বেশি ব্যবহার করে। জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর দুটি সরাইল হাউন্ড ছিল [৪৫][৪৬]। র‌্যাব ও পুলিশের ডগ স্কোয়াডে এই কুকুর যোগ করা হয়েছে [৪৭][৪৮]

সংরক্ষন - ডঃ শাহজাহান ঠাকুর নামে একজন গবেষক ২০০১ সালে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সরাইলের কুকুর প্রজনন ও সংরক্ষনের চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হতে পারেননি। ২০০৬ সালে ঢাকার ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী নামক একজন পশুপ্রেমিক এই জাতের কুকুর সংরক্ষনের জন্য ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দা সরাইল হাউন্ড প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিও সফলতা লাভ করতে পারেননি। ২০০৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য এড: মো: জিয়াউল হক মৃধা এই কুকুরের সংরক্ষনের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠান এবং সংসদে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয় নি। পরবর্তীতে র‌্যাব-৯ এর মেজর মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ট্রেনিং এর জন্য ৪ টি কুকুর সংগ্রহ করেন। উন্নত জাতের কুকুরের বংশ সংরক্ষণ, প্রজনন ও চিকিৎসাসেবার জন্য ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত 'বাংলাদেশ কেনেল ক্লাব' বর্তমানে এই জাতের কুকুরের বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষনের চেষ্টা করছে [৪০][৪৯]

  • হাচলি/হাঁসলি/আসলি/আসিল মোরগ -

সরাইল মোরগ লড়াইয়ের জন্য বিখ্যাত। এই মোরগ লড়াইয়ে ব্যবহার করা হয় 'হাচলি মোরগ' যা শক্তিশালী দৈহিক গঠনের জন্য বিখ্যাত। এটি 'আসলি' বা আসিল নামেও উচ্চারন করা হয়। 'আসিল' শব্দের অর্থ আসল। 'আসিল মোরগ লড়াই' এর অর্থ 'আসল মোরগ লড়াই'।[৫০] কিংবদন্তি অনুসারে সরাইলের দেওয়ানরা ৪০০ বছর আগে ইরান থেকে এই জাতের মোরগ এনেছিল। আবার অনেকের মতে মুঘল আমলে ভারতের রায় বেরেলি থেকে এ জাতের মোরগ আনা হয় [৫১][৫২]। ‘সরাইল মিতালী শৌখিন আসিল মোরগ সংস্থা’ নামে একটি সংগঠন সরাইলে মোরগ লড়াইয়ের আয়োজন করে থাকে।[৫৩]

বিবিধ[সম্পাদনা]

এনজিও ব্রাক, আশা, গ্রামীন ব্যাংক সক্রিয় এনজিওদের মধ্যে অন্যতম।

হাট-বাজার ও মেলা[সম্পাদনা]

সরাইলের আলিনগর গ্রামের বৈশাখী মেলা

সরাইলের প্রধান বাজারগুলি হল -

  • সরাইল প্রাতঃ (সকাল) বাজার
  • সরাইল বিকাল বাজার
  • সরাইল গরু বাজার
  • পানিশ্বর বাজার
  • অরুয়াইল বাজার
  • কালিকচ্ছ বাজার
  • শাহবাজপুর বাজার
  • দেওড়া বাজার
মেলা
  • সরাইল প্রাত বাজার মেলা (প্রতিবছর সাববাড়ির সম্মুখে অনুষ্ঠিত হয়)
  • সরাইল বিকাল বাজার মেলা
  • আলীনগর মেলা
  • বাঘাচাঁন মিয়ার মেলা - শাহবাজপুর

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে সরাইল"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জুন, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "সরাইল উপজেলা"বাংলাপিডিয়া। মো. আজাদ উদ্দিন ঠাকুর। সংগ্রহের তারিখ ০৭ অক্টোবর ২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  3. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৯ 
  4. "Isa Khan - Banglapedia"en.banglapedia.org 
  5. http://bn.banglapedia.org/index.php?title=ব্রাহ্মণবাড়ীয়া_জেলা
  6. Ittefaq, The Daily। "সঙ্গীতের তীর্থভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া :: দৈনিক ইত্তেফাক"archive.ittefaq.com.bd 
  7. Bhorerkagoj। "জন্মবার্ষিকী : স্বাধীনতা সংগ্রামী শিক্ষাব্রতী শেখ আবু হামেদ"www.bhorerkagoj.net 
  8. "চার মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস"বাংলা ট্রিবিউন। Dhaka, Bangladesh। July 18,2016। সংগ্রহের তারিখ 7 October,2016  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  9. "রোড মাস্টার প্ল্যান" (PDF)। বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সংগ্রহের তারিখ ০৭ অক্টোবর ২০১৬  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  10. সড়ক ও জনপথ বিভাগ
  11. "জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেন্স বধের পরিকল্পনাকারী বিপ্লবী অখিলচন্দ্র নন্দী সম্পর্কে কিছু তথ্য"। সংগ্রহের তারিখ 24 Oct,2016  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  12. জীবনী কোষ (ভারতীয় ঐতিহাসিক), চতুর্থ খণ্ড। কলিকাতা। 1939। পৃষ্ঠা 107।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য);
  13. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ১২ আগস্ট ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৯ 
  14. Bhorerkagoj। "সরাইলের জন্য একটু ভালোবাসা"www.bhorerkagoj.net 
  15. http://www.prothomalo.com/opinion/article/478030/সৈয়দ-আকবর-হোসেন
  16. http://weeklyamod-bd.com/মুক্তিযুদ্ধে-ত্রিপুরার-ক/
  17. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৮ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৯ 
  18. http://www.mzamin.com/details-archive2016.php?mzamin=12871
  19. http://www.prothomalo.com/bangladesh/article/2282/ইতালির-ছবিতে-বাংলার-নায়ক
  20. "সাংবাদিক হাবিবুর রহমান মিলন আর নেই - bdnews24.com"bangla.bdnews24.com  line feed character in |শিরোনাম= at position 37 (সাহায্য)
  21. http://www.comillarkagoj.com/details.php?id=26249
  22. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৪ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৯ 
  23. প্রবাসী(দ্বিতীয় খণ্ড)। কলকাতা। 1932। পৃষ্ঠা ১২৭।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য);
  24. জীবনী কোষ (ভারতীয় ঐতিহাসিক), প্রথম খণ্ড। কলিকাতা। 1936। পৃষ্ঠা ১৭২।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য);
  25. "সঙ্গীত সাধক মনোমোহন ও তাঁর গুরুকুল"। সংগ্রহের তারিখ 22 Oct,2016  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  26. Sengupta, Subhodh Chandra; Basu, Anjali, সম্পাদকগণ (জানুয়ারি ২০০২)। "নরেন্দ্রচন্দ্র দত্ত" [Narendra Chandra Dutta]। Samsad Bangali Charitabhidhan (Bibliographical Dictionary) (Bengali ভাষায়)। Volume 1 (4th সংস্করণ)। Kolkata: Shishu Sahitya Samsad। পৃষ্ঠা 247–248। আইএসবিএন 81-85626-65-0 
  27. "কবি সূধীর দাস আর নেই"। সংগ্রহের তারিখ 24 Oct,2016  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  28. "ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে এগিয়ে যাবে"। 25 Aug,2014। সংগ্রহের তারিখ 24 Oct,2016  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  29. "Cultural diplomacy can strengthen India-Bangladesh relation, says MP Ziaul Haque"। Dhaka,Bangladesh। 26 March,2016। সংগ্রহের তারিখ 24 Oct,2016  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  30. http://bn.banglapedia.org/index.php?title=সরাইল_উপজেলা
  31. http://sarail.brahmanbaria.gov.bd/tourist_spot-দর্শনীয়-স্থান[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  32. "Arifil Mosque - Banglapedia"en.banglapedia.org 
  33. Ittefaq, The Daily। "'মিনি কক্সবাজার'-এ দর্শনার্থীদের ভিড় :: দৈনিক ইত্তেফাক"archive.ittefaq.com.bd 
  34. http://www.banglatribune.com/lifestyle/news/121167/ব্রাহ্মণবাড়িয়া-প্রতিনিধি
  35. "Border Guard Bangladesh- - বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-"www.bgb.gov.bd 
  36. http://sarail.brahmanbaria.gov.bd/node/1159722/বিজিবি[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  37. http://www.prothomalo.com/bangladesh/article/933424/গরু-আসা-বন্ধ-হলে-সীমান্তে-হত্যা-বন্ধ-হবে-বিজিবি
  38. (ECDS), Epsilon Consulting & Development Services। "Camellia Duncan Foundation Orchid Project - Duncan Brothers (Bangladesh) Limited"www.duncanbd.com 
  39. http://www.prothomalo.com/economy/article/990988/দেশেই-অর্কিডের-বাণিজ্যিক-চাষ
  40. "PRIDE OF BRAHMANBARIA"। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩। 
  41. "The Daily Janakantha"oldsite.dailyjanakantha.com 
  42. "Sarail Hound leads to possible extinction"www.observerbd.com 
  43. http://www.kalerkantho.com/print-edition/obak-prithibi/2014/05/16/84761
  44. "Sarail Hound leads to possible extinction"www.observerbd.com 
  45. "The Last Sarail?"। ২৯ অক্টোবর ২০১১। 
  46. http://dailynotunvor.com/?p=43168[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  47. http://www.kalerkantho.com/print-edition/news/2014/05/15/84475
  48. http://archive.samakal.net/print_edition/details.php?news=17&view=archiev&y=2011&m=11&d=17&action=main&menu_type=&option=single&news_id=209342&pub_no=874&type=n[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  49. http://www.bonikbarta.com/2014-08-30/news/details/12045.html[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  50. Kantho, Kaler। "ক্রিকেটে আশার আলো - কালের কণ্ঠ" 
  51. "Aslee Morog, born to fight"। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩। 
  52. http://www.bonikbarta.com/2015-11-03/news/details/54227.html[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  53. "- Kaler Kantho"www.kalerkantho.com 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • বিল্লাহ, শাহ মুহাম্মদ মুতাসিম, মুক্তিযুদ্ধে সরাইল থানা, ঢাকা: পারিজাত প্রকাশনী 
  • ঠাকুর, শাজাহান, সরাইল পরগনার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা, ঢাকা: সাহিত্য বিলাস 
  • আবু হামেদ, শেখ, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও তিতাস পাড়ের স্মৃতি 
  • তফসির, তৌফিক আহমেদ, সরাইলের ইতিবৃত্ত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া