আলু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
আলু
Patates.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: উদ্ভিদ
বিভাগ: সপুষ্পক উদ্ভিদ
শ্রেণী: ম্যাগ্নোলিসিডা
উপশ্রেণী: অ্যাস্টেরিডা
বর্গ: সোলানালেস
পরিবার: সোলানাসিয়া
গণ: সোলানাম
প্রজাতি: এস. টিউবারোসাম
দ্বিপদী নাম
সোলানাম টিউবারোসাম
L.
প্রতিশব্দ
  • Solanum andigenum Juz. & Bukasov
  • Solanum apurimacense Vargas
  • Solanum aquinas Bukasov
  • Solanum chiloense Berthault
  • Solanum chilotanum Hawkes
  • Solanum cultum Berthault
  • Solanum diemii Brücher
  • Solanum estradae L.E. López
  • Solanum fonckii Phil.
  • Solanum herrerae Juz.
  • Solanum kesselbrenneri Juz. & Bukasov
  • Solanum leptostigma Juz. & Buk.
  • Solanum molinae Juz.
  • Solanum oceanicum Brücher
  • Solanum ochoanum Lechn.
  • Solanum sanmartiniense Brucher
  • Solanum subandigena Hawkes
  • Solanum tascalense Brucher
  • Solanum zykinii Lechn.

আলু বহুল প্রচলিত উদ্ভিজ্জ্জ খাদ্য। এটি কন্দজাতীয় (tuber) এক প্রকারের সবজি, যা মাটির নিচে জন্মে। এর আদি উৎস ভারত, এশিয়া মহাদেশ, সেখান থেকে ১৬শ শতকে এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।[১] উচ্চ পুষ্টিমান এবং সহজে ফলানো ও সংরক্ষণ করা যায় বলে এটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রচলিত সবজিগুলো মধ্যে অন্যতম। এটি পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম খাদ্যশস্য, এর আগে রয়েছে যথাক্রমে ভুট্টা, গম এবং চাল[২]

পৃথিবীর খাদ্য হিসেবে সর্বপ্রথম আলুর নির্দশন ভারতের বাংলায় দেখা যায়। পালযুগের কবি সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতে বারাহী কন্দের উল্লেখ আছে। এই বারাহী কন্দ হল উচ্চমানের আলু, রতিকান্ত্র ত্রিপাঠী জানাচ্ছেন "প্রাচীন বাংলার শিলা ও তাম্রলিপিতে সমাজ ও সংস্কৃতি" বইটিতে।

আলু একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। আলু'র বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum(সোলানাম টিউবারোসাম)। এতে একদিকে যেমনি ভাতের মতো শর্করা আছে তেমনি সবজির মতো ফাইবার বা তন্তু, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ্জ প্রোটিন আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে শর্করা আছে ১৯ গ্রাম, খাবার আঁশ ২.২ গ্রাম, উদ্ভিদ প্রোটিন ২ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫২ গ্রাম যার মধ্যে পটাশিয়াম লবণই ০.৪২ গ্রাম, এবং ভিটামিন ০.০২ গ্রাম। অপরদিকে ১০০ গ্রাম চালে ৮০ গ্রাম শর্করা, খাবার আঁশ ১.৩ গ্রাম, উদ্ভিজ্জ্জ প্রোটিন ৭.১৩ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.২৮ গ্রাম এবং ভিটামিন আছে মাত্র ০.০০২ গ্রাম। তাই আলুর মধ্যে ভাতের তুলনায় শর্করা কম থাকলেও অন্যান্য উপাদান বেশি আছে। প্রয়োজনীয় খাদ্যপ্রাণ বেশি থাকায় এটি একটি সুষম খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সারা বিশ্বে খাদ্য হিসাবে ভূমিকা[সম্পাদনা]

সারা বিশ্বে আলু উৎপাদন

জাতিসংঘ এফএও-এর রিপোর্ট মতে সারা পৃথিবীতে আলু উৎপাদন ২০১৩ সালে ছিল ৩৬৮ মিলিয়ন টন। একজন ব্যক্তি প্রতিবছর প্রায় ৩৩ কেজি আলু খায়।[৩]

দেশ মিলিয়ন মেট্রিকটন
 গণচীন ৮৮.৯
 ভারত ৪৫.৩
 রাশিয়া ৩০.২
 ইউক্রেন ২২.৩
 যুক্তরাষ্ট্র ১৯.৮
 জার্মানি ৯.৭
 বাংলাদেশ ৮.৬
 ফ্রান্স
 নেদারল্যান্ডস ৬.৮
 পোল্যান্ড ৬.৩
পুরো দুনিয়া ৩৬৮.১
আলু গাছে আলু ফুল
রাসেট আলু
আলু চাষ হচ্ছে ওয়াশিংটনে
আলুর ক্ষেত মেইন

আলু একটি বহুবর্ষজীবী টিউবেরাস ফসল যা সোলানেসিয়া গোত্রের অন্তর্গত। আসলে এর খাওয়ার উপযোগী টিউবারের কারণেই এটির আলু নামকরণ। আলুর ইংরেজি শব্দ পটেটো এসেছে স্প্যানিশ পাতাতা থেকে। রেয়াল আকাদেমিয়া এস্পানিওলা'র (স্প্যানিশ রয়েল একাডেমি) তথ্য অণুযায়ী এই স্পেনীয় শব্দটি তাইনো শব্দ বাতাতা (মিষ্টি আলু) এবং কেচুয়া শব্দ পাপা (আলু) থেকে উদ্ভূত।[৪] পাতাতা বলতে প্রথমদিকে মুলত সাধারণ আলু অপেক্ষা মিষ্টি আলুকেই বেশি বোঝানো হত, যদিও এই দুই ধরনের আলুর মধ্যে বাস্তবে কোনও মিল নেই। দুই ধরনের আলুর এই নামসংকট অনেকদিন চলেছে। ষোড়শ শতাব্দীতেও ইংরেজ উদ্ভিদবিদ জন জেরার্ড যে আলুকে বোঝাতে “বাস্টার্ড পটেটো” এবং “ভার্জিনিয়া পটেটো” নামক দুইটি শব্দ ব্যবহার করেন তা এই নামবিভ্রাট থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই। কিন্তু তিনিও মিষ্টি আলুকে সাধারণ আলু বলেই অভিহিত করেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] যাইহোক, বর্তমানে আলু ও মিষ্টি আলু নিয়ে এই নামবিভ্রাট সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।

আলুর উৎপত্তি ইতিহাস[সম্পাদনা]

আন্দেস পার্বত্যাঞ্চলের আশেপাশের এলাকা আলুর বেশ কিছু সংখ্যক প্রজাতির স্বাভাবিক উৎসস্থল। ৪০০ বছরেরও কিছু বেশি পূর্বে ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমদিকে স্পেনীয়রা যখন আন্দেস পর্বত এলাকায় পৌঁছয়, তখনই তা প্রথম ইউরোপীয়দের গোচরে আসে; তাদের হাত ধরেই পরবর্তীকালে তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ধান, গম এবং ভুট্টার পর আজ এটি পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম ফসল। এর নির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থল হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলের নাম উল্লেখ করা হলেও সম্প্রতি একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে আলুর উৎপত্তিস্থল দক্ষিণ পেরু। পেরুর ইনকা সভ্যতায় চাষের জমিকে আলু বলা হতো ।সেখান থেকেই বাংলা আলু কথাটা এসেছে । যাইহোক, পেরুতে ৭০০০-১০০০০ বছরের পুরনো Solanum brevicaule complex প্রজাতির আলুর অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়েছে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৮৪৫ সালে যদিও oomycete Phytophthora infestans, ছত্রাক দ্বারা আলুর লেট ব্লাইট রোগ দেখা যায় যা পশ্চিম আয়ারল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে, তারপরও আলুর উৎপাদন থেমে থাকে নি । বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে প্রতিটি মানুষ বছরে গড়ে ৩৩ কে.জি আলু ভক্ষণ করে থাকে এবং এককভাবে চীন এবং ভারত সর্বাধিক আলু উৎপাদন করে থাকে। তবে বিশ্বের সমস্ত অঞ্চলেই বর্তমানে কমবেশি আলু জন্মে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Basalt-Firth Since 1900"mocavo.com। ১৯৭২। পৃষ্ঠা 10। 
  2. "International Year of the Potato 2008 – The potato" (PDF)। United Nations Food and Agricultural Organisation। ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০১১ 
  3. "FAOSTAT"। faostat.fao.org। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৫ 
  4. "Patata". Diccionario de la lengua española. Octubre de 2014. সংগৃহীত ৪৫ জুলাই, ২০১৫।