আশুগঞ্জ উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
আশুগঞ্জ
উপজেলা
আশুগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
আশুগঞ্জ
আশুগঞ্জ
বাংলাদেশে আশুগঞ্জ উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°২′১১.৮″ উত্তর ৯১°০′১৮.০″ পূর্ব / ২৪.০৩৬৬১১° উত্তর ৯১.০০৫০০০° পূর্ব / 24.036611; 91.005000স্থানাঙ্ক: ২৪°২′১১.৮″ উত্তর ৯১°০′১৮.০″ পূর্ব / ২৪.০৩৬৬১১° উত্তর ৯১.০০৫০০০° পূর্ব / 24.036611; 91.005000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জিলা
আয়তন
 • মোট ৬৭.৫৯ কিমি (২৬.১০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ১,৮০,৬৫৪
 • ঘনত্ব ২৭০০/কিমি (৬৯০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৭৫%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট www.ashuganj.brahmanbaria.gov.bd

আশুগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ শহর। এটি মেঘনা নদীর বদ্বীপ। এর ঊর্ধ্বতা হল ১০ মিটার (৩৬ ফুট)। শহরটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অতি পরিচিত। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহওম বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র হলো আশুগঞ্জ। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত আশুগঞ্জ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। ঢাকা থেকে ৯০ কিলোমিটার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর থেকে ২৪ কিলোমিটার দুরত্বের মাঝামাঝি স্থানে এ উপজেলার অবস্থান।

আশুগঞ্জ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী, নদীবন্দর ও বাণিজ্য শহর। জাতীয় অর্থনীতিতে আশুগঞ্জ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে দেশের বেশ কয়েকটি উল্লে­খযোগ্য স্থাপনা তথা শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভারী শিল্প ছাড়াও আশুগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্য শহর হিসেবে দেশে-বিদেশে ব্যাপক পরিচিত। বৃটিশ শাসনামলে পাটের বড় বাজার হিসেবে আশুগন্জের পরিচিতি ছিল। তখন ইংরেজদের পাট ক্রয় কেন্দ্র আশুগন্জ ছিল বিধায় তাদের পদচারণায় মুখরিত ছিল আশুগঞ্জ। আশুগন্জের পাট সেসময় ইংল্যান্ডের শিল্পনগরী ডান্ডিতে রপ্তানি হতো। বর্তমানে ধান ও চাউলের ব্যবসার জন্য আশুগঞ্জ ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। পাশাপাশি লালপুরের শুটকি শিল্প দেশের ব্যবসা- বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিয়েছে। আশুগঞ্জে ছোট-বড় চার শতাধিক চাতাল ও অটো রাইস মিল রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই আশুগন্জে ধান-চাউলের এ বিশাল বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প ‘‘আশুগঞ্জ সবুজ প্রকল্প’’ এখানে অবস্থিত। ভারতীয় ট্রানজিটের নৌবন্দর হিসেবে আশুগন্জকে ব্যবহারের জন্য ভারতীয় উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আশুগঞ্জের গুরুত্ব আরো অনেক বৃদ্ধি পাবে।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান :আশুগঞ্জ উপজেলাটি ২৩°৫১´- ২৪°৬´ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ৯০°৫৩´- ৯১°১৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।এ উপজেলার উওরে-সরাইল উপজেলা,দক্ষিণে-নবীনগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা,পূর্বে- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ও পশ্চিমে-মেঘনা নদী (ভৈরব ও রায়পুরা উপজেলা)।এ উপজেলার আয়তন ৬৭.৫৯ বর্গকিলোমিটার।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মহাভারত প্রণেতা বেদব্যাসের পদ্ম পুরাণ গ্রন্থে ও জনশ্রুতিতে যে কালিদহ সায়র এর উল্লেখ পাওয়া যায় সেই কালিদহ সায়রের তলদেশ থেকে ধীরে ধীরে স্থল ও জনপদে পরিণত হয় আশুগন্জ। ১৮৯৮ খৃস্টাব্দে আশুগঞ্জ বাজারের গোড়াপত্তন হয় বলে জানা যায়। আশুগঞ্জ প্রতিষ্ঠার পূর্বে এই এলাকার লোকজন পার্শ্ববর্তী ভৈরববাজারে ক্রয়-বিক্রয় তথা ব্যবসা করতেন । ভৈরববাজারের মালিক ভৈরব বাবু কর্তৃক আরোপিত অত্যধিক করভারে জর্জরিত হয়ে মেঘনার পূর্ব পাড়ের ক্রেতা-বিক্রেতারা সোনারামপুর মাঠের উপর হাট বসায়। তৎকালীন সরাইল পরগনার জমিদার কাশিম বাজারের মহারাজা আশুতোষ নাথ রায় আশাব্যঞ্জক এ সংবাদ জানতে পেরে তিনি উদ্যোক্তাদের ডেকে পাঠান। উদ্যোক্তাগণ মহারাজার ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেদের দুর্গতির অবসানের জন্য মহারাজার নামের সাথে মিল রেখে ঐ হাটকে ‘‘আশুগঞ্জ’’ নামকরণ করেন। সময়ের ব্যবধানে ইংরেজরা এখানে অসংখ্য পাটকল স্থাপন করে এবং অচিরেই আশুগঞ্জ দেশ-বিদেশে পরিচিত হয়ে ওঠে । পরবর্তীতে ২০০০ সালের ২৫ জুলাই ৭ টি ইউনিয়ন নিয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়িত হয়।

প্রশাসনিক বিন্যাস[সম্পাদনা]

  • ১৯৮৪ সালের ২৮ নভেম্বর আশুগঞ্জ থানার কার্যক্রম শুরু হয়।
  • ২০০০ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয় উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম।
  • এই উপজেলায় বর্তমানে ৩০টি মৌজা,৪১টি গ্রাম ও ৮ টি ইউনিয়ন রয়েছে। আশুগঞ্জ পৌরসভার অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন।উপজেলাটি জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা ২৪৪(ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)এর অধীন।
  • ইউনিয়ন ৮টি হলো
  1. আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন
  2. চর চারতলা ইউনিয়ন
  3. আড়াইসিধা ইউনিয়ন
  4. তালশহর পঃ ইউনিয়ন
  5. শরীফপুর ইউনিয়ন
  6. লালপুর ইউনিয়ন
  7. দুর্গাপুর ইউনিয়ন
  8. তারুয়া ইউনিয়ন[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অণুযায়ী এখানকার মোট লোকসংখ্যা ১,৮০,৬৫৪ জন। ক)পুরুষ:৮৮,৩৪০ জন। খ)মহিলা:৯২,৩১৪ জন

ঘনত্ব ২৭০০/কিমি২ (৬৯০০/বর্গমাইল) স্বাক্ষরতার হার •মোট ৭৫%

শিক্ষা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এ উপজেলার শিক্ষার হার ৫১.২%। মাধ্যমিক শিক্ষায় আশুগঞ্জের সবচেয়ে প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো আশুগঞ্জ আন্জুমানিয়া ইসলামিয়া হাই স্কুল,তালশহর যা বর্তমানে তালশহর এ.এ.আই উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত। ১৯৪০ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় । ১৯৬৯ সালে স্থাপিত তারুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলার প্রথম নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা শিক্ষায় উপজেলার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো আড়াইসিধা আলিয়া মাদ্রাসা।১৯৩৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হয় ফিরোজ মিয়া কলেজ। কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা,ডিগ্রি পাস কোর্স,৫টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। কলেজটির সরকারিকরণ প্রক্রিয়াধীন। ১৯৬৩ সালে আশুগঞ্জ বন্দরে প্রতিষ্ঠিত সরকারি হাজী আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয় উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষার একমাত্র সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।এখানে রয়েছে -

  • কলেজ-৫ টি

(অনার্স-১টি,ডিগ্রি-১টি,উচ্চমাধ্যমিক-২,কারিগরি-১)

  • উচ্চবিদ্যালয়-১৬ টি

(বালিকা বিদ্যালয়-৩টি,সহ-শিক্ষা:১৩টি)

  • মাদ্রাসা-৫ টি

(দাখিল-২টি,আলিম-১টি,ফাজিল-১টি,কামিল-১টি)

  • প্রাথমিক বিদ্যালয়-১১৭ টি

(সরকারি-৪৭টি,বেসরকারি-৭০টি)

স্বাস্হ্য[সম্পাদনা]

স্বাস্হ্য সেবাদানের জন্য রয়েছেঃ

  • উপজেলা স্থাস্থ্য কেন্দ্র - ১টি;
  • জন্ম নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র - টি;
  • ক্লিনিক - টি;
  • স্যাটেলাইট ক্লিনিক - টি;
  • পশু চিকিৎসা কেন্দ্র - ১টি;
  • দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র - টি;
  • কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র - ১টি।

কৃষি[সম্পাদনা]

এখানকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কৃষক।

  • প্রধান ফসলঃ ধান, গম, বিভিন্ন ধরনের সব্জী।
  • লুপ্ত বা লুপ্ত প্রায় শষ্যাদিঃ কাউন, আউস ও আমন ধান, পাট ও আড়হর ডাল।
  • প্রধান ফলঃ কলা, কাঁঠাল, আম, জাম।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

  • কুটির শিল্প - মৃৎ শিল্প, সূচী-শিল্প।
  • রপ্তানী পণ্য - শাক-সব্জী।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

  • সড়ক পথঃ ২৯৮.০৫ কিলোমিটার
  • নৌ-পথঃ ১৪ কিলোমিটার
  • রেল পথঃ ০৭ কিলোমিটার।

কৃতি ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • কবি আব্দুল কাদির (১৯০৬-১৯৮৪)
  • কবি মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ (১৯৩৬-২০১৩)
  • বিচারপতি আব্দুল জলিল
  • ডাঃ মোঃ ফরিদুল হুদা(১৯৩০-১৯৯৯),সাবেক প্রতিমন্ত্রী
  • অধ্যক্ষ জোবেদা খাতুন পারুল,প্রাক্তন সংসদ সদস্য
  • শফিউল আলম(১৯৩৬-১৯৯৯),সাবেক সচিব
  • মাহবুবুল হুদা ভূইয়া(১৯৩৯-১৯৯০),সাবেক পৌরমেয়র
  • ড.জহিরুল হক ভূইয়া,শিক্ষাবিদ
  • গোলাম মোস্তফা,সাবেক অতি:আইজিপি
  • বিচারপতি রাজিক আল জলিল
  • কবি শিহাব সরকার(১৯৫২- )
  • মুহম্মদ সিরাজ,সাহিত্যিক(১৯৪৭-২০০৩)

উল্লেখযোগ্য স্থান ও স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • আশুগঞ্জ সারকারখানা কোম্পানী লিমিটেড
  • আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেড
  • গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড
  • আশুগঞ্জ খাদ্য গুদাম সাইলো
  • শহীদ আবদুল হালিম রেলওয়ে সেতু
  • রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান ২য় রেলওয়ে সেতু
  • সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু
  • ভাস্কর্য‘জাগ্রত বাংলা’ সারকারখানা গেইট।
  • মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ.পাওয়ার স্টেশন গেইট।
  • সম্মুখ সমর,নাটাল মাঠ,আশুগন্জ।
  • বঙ্গবন্ধু মুরাল,কাচারী বিথীকা,আশুগঞ্জ বাজার।
  • ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মুরাল,ফিরোজ মিয়া কলেজ আশুগঞ্জ।
  • দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার,ফিরোজ মিয়া কলেজ আশুগঞ্জ
  • মেঘনা নদী ও চরসোনারামপুর নান্দনিক দৃশ্য।

বিবিধ[সম্পাদনা]

  • পত্র-পত্রিকা
  • আশুগন্জ সংবাদ
  • একুশে আলো
  • কলমের কথা
  • রুপালী ধারা
  • সোনালী ধারা


  • এনজিও
  • ব্রাক * আশা * গ্রামীণ ব্যাংক * প্রশিকা * পপি * পদক্ষেপ * পান্জেরী * এসাড * সমাজ উন্নয়ন সংস্থা * বুরো বাংলাদেশ * এস.এস এস


  • হাট-বাজার ও মেলা

ক) আশুগন্জ সাপ্তাহিক হাট-বুধবার খ) তালশহর সাপ্তাহিক হাট-সোমবার,শুক্রবার গ) লালপুর সাপ্তাহিক হাট-মঙ্গলবার


  • মেলা:

বিজয় মেলা,আশুগন্জ বৈশাখী মেলা,আশুগন্জ

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "এক নজরে আশুগঞ্জ"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জুন, ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ : ১ জুন ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
   ২.উপজেলার নাম আশুগঞ্জ,মোহাম্মদ কামাল হোসেন,বিকাশ ২০০৮,সমন্বিত সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র,আশুগঞ্জ।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]