কচুয়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(কচুয়া উপজেলা, চাঁদপুর থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
কচুয়া
উপজেলা
কচুয়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কচুয়া
কচুয়া
বাংলাদেশে কচুয়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°২০′৪৫″ উত্তর ৯০°৫৩′১৭″ পূর্ব / ২৩.৩৪৫৮৩° উত্তর ৯০.৮৮৮০৬° পূর্ব / 23.34583; 90.88806স্থানাঙ্ক: ২৩°২০′৪৫″ উত্তর ৯০°৫৩′১৭″ পূর্ব / ২৩.৩৪৫৮৩° উত্তর ৯০.৮৮৮০৬° পূর্ব / 23.34583; 90.88806 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা চাঁদপুর জেলা
আয়তন
 • মোট ২৩৮ কিমি (৯২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ৩,৮২,১৩৯
 • ঘনত্ব ১৬০০/কিমি (৪২০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৬৩.৮%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

কচুয়া উপজেলা বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

অবস্থান[সম্পাদনা]

এই উপজেলাটির উত্তরে দাউদকান্দিচান্দিনা উপজেলা, দক্ষিণে হাজীগঞ্জশাহরাস্তি উপজেলা, পূর্বে বরুড়াচান্দিনা উপজেলা, পশ্চিমে মতলবদাউদকান্দি উপজেলা অবস্থিত।

ভৌগলিক অবস্থান[সম্পাদনা]

কচুয়া উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান উত্তর অক্ষাংশের ২৩°২৯' এবং ২৩°৪২' এর মধ্যে ৯০°৫৯' এবং ৯১°০৫' দ্রাঘিমাংশের মধ্যে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে কচুয়া থানা দাউদকান্দি থানার অর্ন্তভূক্ত ছিল। মহারানী ভিক্টোরিয়া রাজত্বকালে কচুয়া থানা ছিল হাজীগঞ্জের অন্তভূর্ক্ত। ১৯১৮ সনের ২৫জানুয়ারী হাজীগঞ্জ হতে পৃথক হয়ে কচুয়া থানা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমানে কচুয়া বাজার এক সময়ে ওলিয়ে কামেল হযরত শাহ নেয়ামত শাহ এর বাজার নামে পরিচিত ছিল। কচুয়া বাজারের তারিনীর দিঘীর পাড়ে ছিল হযরত শাহ নেয়ামত শাহ (রাঃ) এর আস্তানা। তারিনীর দির্ঘীর পাড়ে ওলি আল্লার নিকট ছুটে আসত দূরে দূরান্তের মানুষ। এতে করে গড়ে ওঠে তারিনীর দির্ঘীর পাড় এলাকাকে ঘিরে বাজার। এই বাজারের নাম করন হয় ওলিয়া কামেলের নাম অনুসারে হযরত শাহ নেয়ামত শাহ এর বাজার। পরবর্তীতে এ নাম লোক মূখে পরিবর্তিত হয়ে কচুয়া থানার কচুয়া নামানুসারে কচুয়া বাজার নামে পরিচিতি লাভ করে।

কচুয়া থানার কচুয়া নাম করনের সঠিক তথ্য পাওয়া না গেলেও জনশ্রুতি হিসাবে দুটি তথ্য পাওয়া যায়। প্রথমটি হচ্ছে সেনিটিক ভাষায় উপশহরকে কাচওয়া বলে। এ কাচওয়া শব্দ কালক্রমে লোকমূখে লোকান্তরিত হয়ে কচুয়া শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।

অন্যটি হচ্ছে- ১৯০৫ সালে হাজীগঞ্জ থানাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ২টি থানায় রুপান্তরিত করার জন্য সীমানা নির্নয়ের জন্য জরীপ কাজ চালানো হয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এ জরিপ কাজ পরিচালিত হয়। জরিপ কাজ শুরু হয় দাউদকান্দি থানায় দক্ষিণ সীমানা থেকে অর্থাৎ কচুয়া থানা উত্তর প্রান্ত থেকে। জরিপ কাজ চলার এক পর্যায়ে কাজে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য লোকজন বর্তমানে কচুয়া বাজার সংলগ্ন উল্টর পার্শ্বের গ্রামের দক্ষিণাংশে এসে কয়েকটি তালগাছের সন্ধান পেয়ে তালগাছ এলাকার উঁচু স্থানে তাবু খাটিয়ে কয়েক দিন অবস্থান করেন। । এ গ্রামের জনৈক মৌলভী আলী আকমত পুলিশ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন আপনাদের জরীপ কাজ শেষ হয়েছে কি? উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন কুচ হুয়া। উর্দুতে কুচ মানে কিছু এবং হুয়া মানে হয়েছে। অর্থাৎ কিছু অংশ হয়েছে। এ কুচ- হুয়া শব্দ হতে কচুয়া নামের উৎপত্তি হয়।


১৯৭১-এর অগ্নিঝরা মার্চ এর কচুয়া[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার প্রদীপ্ত সূর্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের উত্তাল ভাষণে সর্বস্তরের মানুষ যখন মুক্তির উম্মাদনায় আর স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত। কচুয়া মুক্তি পাগল ছাত্র জনতা তখনই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগ্রাম বাস্তবায়নে প্রতিরোধের আগুনে প্রজ্জলিত। ১১ই মার্চ স্বাধীন বাংলা কচুয়া থানা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তৎকালীন চাঁদপুর মহাকুমা ছাত্রলীগ ও স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধকালীন কচুয়া উপজেলা সম্মিলিত বাহিনীর অধিনায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম ওয়াহিদুর রহমান। ১৫ই মার্চ কচুয়া থানা আওয়ামী লীগ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক কচুয়া ও বরুড়া নির্বাচনী এলাকা হতে নির্বাচিত এম.এন.এ মরহুম এডভোকেট মোঃ আউয়াল। আঃ রশিদ প্রধান (রশিদ কন্ট্রাকটর) উপজেলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মনোনিত হয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মোবারক সাহেব সহ তড়িৎ গতিতে ইউনিয়ন সংগ্রাম কমিটি গঠন করেন। তখন চলছে অসহযোগ আন্দোলনসহ বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন। মোঃ আনোয়ার হোসেন সিকদার ২৩ শে মার্চ পাকিস্তান প্রজাতন্ত্র দিবসে পাকিস্তানী জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে নামিয়ে পুড়িয়ে দেয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। সর্ব প্রথম কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ পরে অফিস আদালতসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়তে থাকে। ২৫ শে মার্চ দিবাগত রাত্রে মহান ২৬ শে মার্চ এর প্রথম প্রহরে কচুয়া ডাকবাংলায় অ্যাডভোকেট আউয়ালের সাথে সংগ্রাম পরিষদের শলা-পরামর্শ মিটিং চলা অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর চিঠি নিয়ে বিশেষ দূতের আগমন। আউয়াল সাহেব ও রশিদ প্রধান বিষন্ন চেহারায় আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদেশ অনুশাসন মেনে চলার পরামর্শ দিলেন। তাৎক্ষনিক প্রতিরোধের (বেরিগেট) ব্যবস্থার নির্দেশে আমরা সালাউদ্দিন, তরিকুল ইসলাম, তাহের, হাবিব, মজিব, শহীদ সহ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ হতে কচুয়া-কালিয়াপাড়া একমাত্র পাকা রাস্তায় ডাকবাংলার পূর্ব পাশে ব্রীজ ভাঙ্গা সহ (বর্তমানে ব্রীজটি নাই) লুন্তি গ্রাম পয়েন্ট সহ উল্লেখিত পাকা রাস্তা কাটা ও বিভিন্নভাবে বেরিগেট তৈরী করে কচুয়ায় সু-মহান মুক্তিযুদ্ধের শুভ সূচনা করি। পরবর্তীতে উল্লেখিত রাস্তায় হোসেনপুর বাজারের উত্তর পাশের ব্রীজটি এক্সক্লোসিভ দিয়ে গুড়িয়ে ছিলেন যুদ্ধকালীন বি.এল.এফ ডেপুটি কমান্ডার মোঃ জাবের মিয়া, জেলা ইউনিট কমান্ডার দপ্তর ইয়াকুব আলী মাষ্টার, উপজেলা সাংগঠনিক কমান্ডার শফিকুর রহমান, প্লাটুন কমান্ডার হেদায়েত উল্যা, কচুয়া আঞ্চলিক কমান্ডার সৈয়দ আহম্মেদসহ অনেকে। অগ্নিঝরা মার্চের ২৭ তারিখে কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ। বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ পাইলট ফজলুল করিম ও দেওয়ান আ. গফুর প্রশিক্ষণ পরিচালনায় ছিলেন। সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে থানার রাইফেল ছিনিয়ে নিয়ে কচুয়া, সাচার, রহিমানগর সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ জায়গায় শুরু করা হয়। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ডেপুটি কমান্ডার জাবের মিয়া মুক্তাঞ্চলে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

ইউনিয়ন সমূহ[সম্পাদনা]

  • ১নং সাচার ইউনিয়ন পরিষদ
  • ২নং পাথৈর ইউনিয়ন পরিষদ
  • ৩নং বিতারা ইউনিয়ন পরিষদ
  • ৪নং সহদেবপুর (পূর্ব) ইউনিয়ন পরিষদ
  • ৫নং সহদেবপুর (পশ্চিম) ইউনিয়ন পরিষদ
  • ৬নং কচুয়া (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ(তেতাইয়া)
  • ৭নং কচুয়া (দক্ষিণ) ইউনিয়ন পরিষদ
  • ৮নং কাদলা ইউনিয়ন পরিষদ
  • ৯নং কড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদ
  • ১০নং গোহট (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদ
  • ১১নং গোহট(দক্ষিণ) ইউনিয়ন পরিষদ
  • ১২নং আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ

জনসখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

আদম শুমারী ২০১১ অনুযায়ী

  • মোট জনসংখ্যা ৩৮২১৩৯ জন (প্রায়)
  • পুরুষ ১৮০৭৩৬ জন (প্রায়)
  • মহিলা ২০১৪০৩ জন (প্রায়)
  • লোক সংখ্যার ঘনত্ব ১৬২১ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে)
  • মোট ভোটার সংখ্যা ২০৯৪৮৬ জন
  • পুরুষভোটার সংখ্যা ৯৯৮৬৪ জন
  • মহিলা ভোটার সংখ্যা ১০৯৬২২ জন
  • মোট পরিবার(খানা) ৬৭৬৪২ টি

শিক্ষা[সম্পাদনা]

বর্তমানে একটি সরকারি কলেজ কচুয়াতে, ১ টি সরকারি পলিটেকনিক ইনিস্টিউট: চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট । শিক্ষা বিস্তারে রয়েছে ডিগ্রি কলেজ ৩টি, কামিল মাদ্রাসা ১টি, ফাজিল মাদ্রাসা ৬টি, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রায় ৩০টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ১৬৬টি এবং বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে প্রায় একশতটি। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান গুলো হল : কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, আল ফাতেহা মাদ্রাসা, সাচার উচ্চ বিদ্যালয়, তেতাইয়া আদর্শ স্কুল।রহিমানগর বি এ বি উচ্চ বিদ্যালয়,শাহার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

মূলত কৃষি নির্ভর অর্থনীতি । জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৪৫.৪৭%, অকৃষি শ্রমিক ৩.৫৩%, শিল্প ৫.৭৬%, ব্যবসা ১২.৭৪%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৩.৯৯%, চাকরি ১৩.৯৫%, নির্মাণ ২.০৭%, ধর্মীয় সেবা ০.৫২%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৪.৯৬% এবং অন্যান্য ৭.০১%।

কৃষিভুমির মালিকানা ভূমিমালিক ৬৮.৫৯%, ভূমিহীন ৩১.৪১%। শহরে ৫৭.৩৭% এবং গ্রামে ৬৫.০৭% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।

শিল্প ও কলকারখানা আটা কল, হিমাগার, বরফ কল, ওয়েল্ডিং কারখানা আছে ।কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, বাঁশের কাজ, কাঠের কাজ, বিড়ি শিল্প, রেশম শিল্প।মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এ উপজেলায় মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি খামার রয়েছে।প্রধান কৃষি ফসল ধান, গম, আলু, সরিষা, তিল। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি পাট, কাউন, অড়হর। প্রধান ফল-ফলাদিব আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, কুল।এখানে প্রচুর কুল বা বরই হয়। এখানে বিভিন্ন রকমের শাক-সব্জি উৎপাদিত হয় যা এখানের চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র রপ্তানি করা হয়। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ , কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা উপজেলার অর্থনীতির প্রধান চাবিকাঠি।

  • রপ্তানিযোগ্য দ্রব্য :

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য কুল, কলা, আলু।

  • কচুয়া উপজেলার বিভিন্নহাট-বাজার :


কচুয়া বাজার, সাচার বাজার, বঢ়দৈল বাজার, বায়েক বাজার, শুয়ারুল গরু বাজার, মাঝিগাছা বাজার, নন্দনপুর বাজার, আলীয়ারা বাজার, মধুপুর বাজার, তুলপাই বাজার, ফতেপুর বাজার, সিংআড্ডা বাজার, বাইছারা বাজার, বায়েক বাজার, কাদলা বাজার, রঘুনাথপুর বাজার, চৌমুহনী বাজার, উজানী বাজার, তেতইয়া বাজার, হোসেনপুর বাজার, ডুমুরিয়া বাজার, নলুয়া বাজার, রহিমানগর বাজার, মিয়ার বাজার, মাসনীগাছা বাজার।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

  • পোষ্ট অফিস: ২৭টি
  • হাট বাজার: ৩০টি
  • ব্যাংক: ১২টি (তফসিলভূক্ত)

পর্যটন ও ঐতিহ্য[সম্পাদনা]

  • পালগিরি মসজিদ (কচুয়া)  :
     এখানে একটি এক গম্বুজ মসজিদ রয়েছে। মসজিদটি পাঁচশ’ বছরের প্রাচীন। এখানে রয়েছে বিরাট আকারের অসম্পূর্ণ দিঘি। দিঘির পাড়ে থানা বিবি ও দুলাল রাজার কবর, পাকাঘাট। মসজিদের অদূরে রয়েছে দু’টি প্রাচীন পাকা কবর। অনুমান করা হয় এটি নির্মাতার কবরই হবে। দুলাল রাজার দিঘিটি ১৯ একর। মসজিদের পূর্ব পাশে একটি প্রাচীন নৌপথ ছিলো। ক্যাঃ আঃ রব খন্দকারের দাদা জাহনী খন্দকার ১৮০২ সালে মসজিদটি ঝোঁপের মধ্যে দেখতে পেয়ে পুনঃসংস্কার করেন। ক্যাঃ আঃ রব ৯৮ সালে ৮১ বছর বয়সে মারা যান। দুলাল রাজা ও থানা বিবি সম্পর্কে মামা শ্বশুর ও ভাগ্নে বউ ছিলেন। প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও তাদের বিয়ে হয়নি বলে জনশ্রুতি আছে।
  • দারাশাহী তুলপাই মসজিদ (কচুয়া):

কচুয়া উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দারাশাহী তুলপাই গ্রামে রয়েছে নাগরাজ কন্যা রামেশ্বরী দেবী ও হযরত দারাশাহের অমর প্রেমের স্মৃতিতে নির্মিত তিন গম্বুজ মসজিদ, শেখ দারা রামেশ্বরীর ত্রিতল ভগ্নপ্রাসাদ। ষোড়শ’ শতাব্দীতে সুদূর আরব দেশীয় এক যুবক প্রশাসক দিল্লীর সম্রাট কর্তৃক নিয়োজিত হয়ে বর্তমান কচুয়ার তুলপাই অঞ্চলে আসেন। তিনি নাগরাজ কন্যা রামেশ্বরী দেবীর প্রেমে পড়েন এবং এক যুদ্ধের পর নাগরাজাকে পরাজিত করে রামেশ্বরী দেবীকে বিয়ে করেন। বর্তমানে দারাশাহী তুলপাই গ্রামে তার মাজার রয়েছে। প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর মাহ্ফিল হয়। দারাশাহের স্মৃতিতে তার মৃত্যুর দু’শ বছর পর নির্মিত মসজিদের শিলালিপিতে আছে, ‘‘মহান আল্লাহর নামে শুরু করিতেছি। আল্লাহ্ এক। মোহাম্মদ তার রাসূল। নুরুজ্জামান দ্বারা মসজিদটি ১২০২ হিজরী সনে স্থাপিত।’’

  • আশ্রাফপুর মসজিদ (কচুয়া):

আশ্রাফপুরের তিন গম্বুজ মসজিদ। যেখানে রয়েছে আরবদেশীয় বণিকদের কবর। এখানে রয়েছে নিমাই দিঘি। মসজিদটি বাংলার স্বাধীন সুলতানদের আমলে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এখানে রয়েছে অনেকগুলো প্রাচীন পাকা কবর। জনশ্রুতি রয়েছে, এগুলো আরবীয় বণিকদের তৈরি।

  • শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরশ্রী গঙ্গাগোবিন্দ সেন:
এই মন্দির ১২৭৭ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় লোকদের নিকট হতে জানা যায়, গঙ্গা গোবিন্দ সেন রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ দেবকে দর্শন করার জন্যে ভারতের শ্রীক্ষেত্রে যান। অনেক চেষ্টা করার পরেও তিনি জগন্নাথ দেবকে দেখতে না পেয়ে মনের দুঃখে কান্নাকাটি করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েন এবং স্বপ্নে দেখেন ‘তুমি দুঃখ করিও না, আমি নিজেই তোমার আবাসস্থল সাচারে নিজ বাড়িতে আবির্ভূত হইব’। তখন গঙ্গা গোবিন্দ বাড়িতে আসেন এবং কয়েকদিন পর তার বাড়ির দিঘিতে অলৌকিকভাবে ভেসে আসা নিম কাঠ দেখতে পান, যা’ দ্বারা কচুয়ার বিখ্যাত সাচারের রথ এবং দেব-দেবী নির্মিত হয়। 
  • মনসামুড়া ঃ

এই মুড়া কচুয়া থানায় অবস্থিত। বর্তমানে উক্ত স্থানে ১৩টি বাঁশঝাড় আছে। উক্ত ঝাড়ের চারদিকে অনেক সাপের গর্ত আছে। জানা যায়, হিন্দুদের মনসা দেবীর সেখানে অবস্থান। হিন্দুরা প্রতি বছর চৈত্র মাসে এই মুড়ায় পূজা-অর্চনা করে। এই উপলক্ষে মেলা বসে। হিন্দুরা অনেক মানত করে এবং দুধ-কলা দিয়ে পূজা করে। শুধু তাই নয়, এই বাঁশ ঝাড়ের বাঁশ কেউ কাটে না।

  • সাহার পাড়ের দিঘি ঃ

কচুয়া উপজেলার রহিমানগর বাজার হতে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে কচুয়া-কালিয়াপাড়া সড়কের পূর্ব পার্শ্বে এই দিঘি অবস্থিত। ৬১ একর আয়তন বিশিষ্ট এই দিঘির সুউচ্চ পাড় এবং পাড়ের ওপর সুবৃহৎ বৃক্ষরাজির চমৎকার দৃশ্য, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জানা যায়, বহুকাল পূর্বে এই এলাকায় ছিলো কড়িয়া রাজা নামে এক প্রতাপশালী রাজা। তার আমলে কড়ির মুদ্রা প্রচলিত ছিলো। একদা কড়িয়া রাজা ব্যাপক আয়োজনভিত্তিক এক পূজা অনুষ্ঠান উপলক্ষে পানীয় জলের সঙ্কট নিরসনকল্পে এবং নিজের নামকে কালজয়ী রাখার মানসে কড়ির বিনিময়ে একটি দিঘি খনন করেন এবং দিঘির নাম কড়িয়া রাজার দিঘি নামকরণ করেন। তার ইচ্ছা পূরণার্থে তার মন্ত্রী সাহাকে এই দিঘি খনন করার নির্দেশ প্রদান করেন। মন্ত্রী সাহা নির্দেশ পেয়ে দিঘি খনন করান। দিঘি খনন কাজে অংশ নেয় বহু নর-নারী। যারা খনন কাজে অংশ নেয় তাদেরকে প্রতি খাঞ্চি মাটি কাটার বিনিময়ে এক খাঞ্চি করে কড়িমুদ্রা দেয়া হয়। দিঘি খনন শেষে মন্ত্রী সাহা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে তার নামে দিঘির নাম প্রচার করেন। দিঘি নামকরণে মন্ত্রীর চাতুরিপনার খবর পেয়ে কড়িয়া রাজা ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে প্রাণদন্ডে দন্ডিত করেন। মন্ত্রীকে প্রাণদন্ড দেয়া হলেও এই দিঘির নাম মন্ত্রীর নামে অর্থাৎ সাহার পাড়ের দিঘিই লোকমুখে থেকে যায়।

  • উজানী বখতিয়ার খাঁ মসজিদ ঃ

কচুয়া উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে উজানী গ্রাম। বর্তমানে এ গ্রামে আছে একটি বিখ্যাত মাদ্রাসা। মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে আছে একটি দিঘি। তার পশ্চিম পাড়ে আছে এক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি সুদৃশ্য মসজিদ। এটি বক্তার খাঁ শাহী মসজিদ নামে খ্যাত। এক সময় উজানী গ্রামটি বনজঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিলো। ক্বারী ইব্রাহিম সাহেব বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে এখানে বসবাস করতে শুরু করেন। তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত কামেল পুরুষ। তিনি এ মসজিদটিকে ব্যবহার্য করে তোলেন। মসজিদে প্রাপ্ত একটি শিলালিপিতে আছে, ‘‘পরম দয়ালু আল্লাহ্তায়ালার নামে আরম্ভ করিতেছি। আল্লাহ্ এক, তাহার কোনো শরীক নাই। মোহাম্মদ তাহার রাসূল। বাদশাহ বাহাদুর শাহ্ গাজীর শাসনামলে খাদেম আবুল হোসেন খাঁর পুত্র ইলিয়াস খাঁর পৌত্র’’।উল্লেখ্য যে, এই উজানী গ্রামেই আছে হযরত নেয়ামত শাহের দরগাহ। যিনি হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর একজন সঙ্গী ছিলেন। উজানী গ্রামে একজন বিখ্যাত ফৌজদার ছিলেন। তার নাম ছিলো বখতিয়ার খাঁ। তিনি মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। নির্মাণ সাল ১৭৭২। উজানী একটি প্রাচীন গ্রাম। এ গ্রামের নাম পাওয়া যায় মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যে ‘উজানী নগর’ হিসেবে। শোনা যায়, বেহুলা লখিন্দরের লোহার তৈরি বাসরঘর এ গ্রামে ছিলো। যা মাটির নিচে দেবে গেছে। বেহুলার শীল নোড়ার কথিত অংশবিশেষ এখনো এ গ্রামে রয়ে গেছে। লোকজন এখনো এগুলো দেখতে আসে।

মেলা

  • নাউলা হরিসভার মেলা,
  • আইনগিরী মেলা,
  • গোহট মেলা,
  • কড়ইয়া বটতলা মেলা,
  • মেঘদাই মেলা উল্লেখযোগ্য।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রঘুনাথপুর বাজারে স্থানীয় রাজাকারদের হামলায় ১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ১৪ জন নিরীহ লোক নিহত হয়।

  • হোটেল
  • কচুয়া জেলা পরিষদ ডাক বাংলো -মোট কক্ষ ০৪ টি-(০১টি ভিআইপি,০৩টি সাধারন)
* উপজেলা পরিষদ রেষ্ট হাউজ  উপজেলা পরিষদ , কচুয়া   ০১টি ভিআইপি( এসি), ০১টি সাধারন
        জেলা পরিষদ ডাক বাংলো -সাচার     জেলা পরিষদ, চাঁদপুর ।   ০৩টি কক্ষ( ০১টি ভিআইপি,০২টি সাধারন)
        
  • মজুমদার আবাসিক বোর্ডিং আবদুল ওয়াদুদ মজুমদার ১০ টি সাধারন বেড
  • শাওন কনফেকশনারী -গৌতম চন্দ্র সরকার -খাবার হোটেল
  • হোসেন কনফেকশনারী -মোঃ আবুল হোসেন -খাবার হোটেল
  • মুন কনফেকশনারী -মোতাহার হোসেন নয়ন -খাবার হোটেল
  • জনতা হোটেল -আবুল হাশেম- খাবার হোটেল
  • হোটেল রিযিক আল হালাল -আবদুর রাজ্জাক -খাবার হোটেল
  • নিউ সৌদিয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট -আলী আশ্বাদ মজুমদার -খাবার হোটেল
  • হোটেল আবদুর রহিম -আবদুর রহিম -খাবার হোট::

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে কচুয়া"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৫