দিঘীনালা উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(দীঘিনালা উপজেলা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
দীঘিনালা
উপজেলা
দীঘিনালা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দীঘিনালা
দীঘিনালা
বাংলাদেশে দিঘীনালা উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১৫′৪১″ উত্তর ৯২°৩′২৭″ পূর্ব / ২৩.২৬১৩৯° উত্তর ৯২.০৫৭৫০° পূর্ব / 23.26139; 92.05750স্থানাঙ্ক: ২৩°১৫′৪১″ উত্তর ৯২°৩′২৭″ পূর্ব / ২৩.২৬১৩৯° উত্তর ৯২.০৫৭৫০° পূর্ব / 23.26139; 92.05750 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা খাগড়াছড়ি জেলা
আয়তন
 • মোট ৬৯৪.১১ কিমি (২৬৮.০০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ১,০৭,৩৬৩
 • ঘনত্ব ১৫০/কিমি (৪০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৪৬%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

দীঘিনালা বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাপানছড়ি উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

দীঘিনালা উপজেলায় মোট ৫ টি ইউনিয়ন আছে ।যথাঃ

বাবুছড়া, বোয়ালখালী, দীঘিনালা, কাবাখালী, মেরুং

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দীঘিনালার বড় আদামে প্রায় দুই একরের মতো জায়গাজুড়ে অবস্থিত গোবিন্দ মাণিক্যের দিঘি। গাছপালা শোভিত স্বচ্ছ জলের এই দিঘির সঙ্গে জড়িয়ে অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী ত্রিপুরার মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্যের স্মৃতি। নিজ রাজ্য ত্যাগ করে দীঘিনালায় স্বেচ্ছা নির্বাসন বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তখন এ অঞ্চলের নাম ছিল রিয়াংদেশ। এলাকার বাসিন্দারা গোবিন্দ মাণিক্যের স্মৃতি অক্ষয় করে রাখতে খনন করেন এই দিঘি। জনশ্রুতি আছে, দিঘির কারণে এই অঞ্চলের নাম বদলে রাখা হয় দীঘিনালা। দিঘির তীরে নেই কোনো নামফলক। পুররঞ্জন প্রসাদ চক্রবর্তীর ত্রিপুরা রাজমালা, প্রভাংশু ত্রিপুরার ত্রিপুরা জাতির মাণিক্য উপাখ্যান এবং হিস্ট্রি অব হিন্দুস্তান গ্রন্থের তথ্যসূত্র অনুযায়ী—মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য ছিলেন ত্রিপুরার ১৮৪তম রাজা। তিনি রাজর্ষি খেতাব পেয়েছিলেন। ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে ত্রিপুরার সিংহাসনে আরোহণ করেন তিনি। এ সময় রাজ্যের ভুবনেশ্বরী মন্দিরে পূজার নামে ব্যাপক বলিদান প্রচলন ছিল। মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য রাজ্যভার গ্রহণের পর এক আদেশে বলিদান প্রথা বন্ধ করে দেন। তখন তাঁর বৈমাত্রেয় ছোট ভাই নক্ষত্র নারায়ণ ও রাজ পুরোহিত রঘুপতি বলিদান বন্ধের রাজ আদেশের বিরুদ্ধে প্রজাদের মধ্যে প্রচার চালাতে থাকেন। রাজ আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করার অপরাধে রাজ পুরোহিত রঘুপতি চোন্তাইকে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নির্বাসন ও বৈমাত্রেয় ছোট ভাই নক্ষত্র নারায়ণকে বঙ্গদেশের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করেন গোবিন্দ মাণিক্য। নক্ষত্র নারায়ণ বঙ্গদেশে গিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বড় ভাই গোবিন্দ মাণিক্যকে হটিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের সিংহাসন দখলের ষড়যন্ত্র করেন। মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য এই ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে বৈমাত্রেয় ভাই নক্ষত্র নারায়ণকে রাজ্যভার দিয়ে ত্রিপুরা রাজ্যের রিয়াংদেশে (বর্তমানে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মাইনী নদীর তীরে) স্বেচ্ছা নির্বাসনে আসেন। মহারাজা গোবিন্দ মাণিক্য রিয়াংদেশে নির্বাসন জীবন কাটাচ্ছেন জেনে রিয়াংবাসীরা মহারাজার সামনে উপস্থিত হয়ে তাঁর বৈমাত্রেয় ভাই নক্ষত্র নারায়ণের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণের অভিপ্রায় জানান। তখন মহারাজা তাঁদের জানিয়েছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় নক্ষত্র নারায়ণের হাতে ত্রিপুরা রাজ্যের শাসনভার তুলে দিয়ে নির্বাসনে এসেছেন। তিনি তাঁর আনুগত্যের নিদর্শন প্রকাশের জন্য রিয়াংবাসীকে দিঘি খনন করতে বলেন। তখন মহারাজার নির্দেশ মেনে রিয়াংবাসীরা ১২টি দিঘি খনন করেন। তার মধ্যে দীঘিনালার এ দিঘিটি অন্যতম। ১৯১৬ সালে দীঘিনালাকে থানা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। দীঘিনালা পার্বত্য চট্টগ্রাম এর একটি প্রাচীনতম থানা। ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর দীঘিনালাসহ আটটি এলাকাকে উপজেলায় রূপান্তরিত করে খাগড়াছড়ি জেলা ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ইতিহাসের সাক্ষী দীঘিনালার দিঘিটি চাকমা সার্কেলের (চাকমা রাজা) অধীনে রয়েছে।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

কলেজ রয়েছে : ৩ টি

  • দীঘিনালা ডিগ্রী কলেজ
  • বাবুছড়া কলেজ
  • কুজেন্দ্র মল্লিকা মর্ডান কলেজ

উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ৭ টি

  • দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • দীঘিনালা মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়
  • অনাথ আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয়

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

  • তামাক
  • জুম চাষ
  • হলুদ
  • কলা
  • বাঁশ

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • তৈদুছড়া ঝর্ণা (এলাকায় "শিবছড়ি ঝর্ণা" নামে পরিচিত )
  • দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রীজ
  • দীঘিনালা জোন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে দিঘীনালা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]