ফরিদগঞ্জ উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ফরিদগঞ্জ
উপজেলা
ফরিদগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ফরিদগঞ্জ
ফরিদগঞ্জ
বাংলাদেশে ফরিদগঞ্জ উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৭′১৫″ উত্তর ৯০°৪৪′৪১″ পূর্ব / ২৩.১২০৮৩° উত্তর ৯০.৭৪৪৭২° পূর্ব / 23.12083; 90.74472স্থানাঙ্ক: ২৩°৭′১৫″ উত্তর ৯০°৪৪′৪১″ পূর্ব / ২৩.১২০৮৩° উত্তর ৯০.৭৪৪৭২° পূর্ব / 23.12083; 90.74472 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা চাঁদপুর জেলা
আয়তন
 • মোট ২৩১.৫৪ কিমি (৮৯.৪০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০০১)[১]
 • মোট ৩,৭৪,৭৬০
 • ঘনত্ব ১৬০০/কিমি (৪২০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার(২০০১ জরিপ)
 • মোট

৫৮%

শহর ৬২.৪৬% , গ্রাম ৫৩.৪৬% (২০০১)
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ফরিদগঞ্জ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ এবং চাঁদপুর জেলা এর একটি উপজেলা। ফরিদগঞ্জ এর উত্তরে চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে রায়পুর উপজেলা, পূর্বে রামগঞ্জ উপজেলা, পশ্চিমে হাইমচর ও চাঁদপুর সদর উপজেলা অবস্থিত। ৭ অক্টোবর ১৯১৮ সালে ফরিদগঞ্জ থানা হিসেবে গঠিত হয়। বর্তমানে এটি একটি উপজেলা।

অবস্থান[সম্পাদনা]

ফরিদগঞ্জ উপজেলাটি চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলায় অবস্থিত। সমতল ভূমি এই উপজেলার মধ্য দিয়ে ডাকাতিয়া নদী প্রবাহিত হয়েছে। এ উপজেলার আয়তন ২৩১.৫৪ বর্গ কি.মি.। ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তরে চাঁদপুর সদর উপজেলা, দক্ষিণে রামগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে হাজীগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে হাইমচর উপজেলার অবস্থান।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বর্তমান ফরিদগঞ্জ উপজেলা ১৯১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থানা হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছিল। এ উপজেলার নাম কেন ফরিদগঞ্জ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত আছে। যার মধ্যে রয়েছে-

  • অনেক পূর্বে শেখ ফরিদ নামে একজন বিখ্যাত মুসলিম সাধক এই এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচার করে বহু মানুষকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন। অনেকের মতে, উক্ত সাধকের নামানুসারে এই এলাকার নাম রাখা হয়েছিল ফরিদগঞ্জ।
  • পূর্বে এ এলাকায় তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবসা কেন্দ্র ছিল না। তবে এই এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদী পথে অনেক ব্যবসায়ীর যাতায়াত ছিল। তারা অনেক সময় রাত্রি যাপনের স্থান হিসাবে এই এলাকাটিকে সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য স্থান মনে করে এখানে রাত্রি যাপন করত। এলাকায় তৎকালীন জমিদার স্থানীয় জনগণের সুবিধার্থে এই এলাকায় একটি ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় জনগণকে উৎসাহিত করেছিলেন। তার উৎসাহে সবচেয়ে বেশী উৎসাহিত হয়েছিলেন ফরিদ আলী নামে একজন ব্যবসায়ী। জনসাধারণকে আরো উৎসাহিত করার মানষে জমিদার উক্ত ফরিদ আলীর নামানুসারে বাজারটির নামকরণ করেছিলেন ফরিদগঞ্জ।
  • এই উপজেলার অন্তর্গত তৎকালীন রূপসার জমিদারের প্রতাপ ছিল বেশী। তার পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন ফরিদা বানু। জমিদার স্নেহবশে ফরিদা বানুর নামানুসারে এলাকাটির নামকরণ করেন।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

এখানে মোট ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে; এগুরো হলোঃ ১ নং বালিথুবা (পশ্চিম) ইউনিয়ন,২ নং বালিথুবা (পূর্ব) ইউনিয়ন, সুবিদপুর(পূর্ব) ইউনিয়ন, সুবিদপুর (পশ্চিম) ইউনিয়ন, গুপ্টি (পূর্ব) ইউনিয়ন, গুপ্টি (পশ্চিম) ইউনিয়ন, পাইকপাড়া (উত্তর) ইউনিয়ন, পাইকপাড়া (দক্ষিণ) ইউনিয়ন, গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন, গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন, ১১ নং চরদুঃখিয়া (পূর্ব) ইউনিয়ন, ১২ নং চরদুঃখিয়া(পশ্চিম) ইউনিয়ন ফরিদগঞ্জ (দক্ষিণ) ইউনিয়ন, রূপসা (উত্তর) ইউনিয়ন ও রূপসা (দক্ষিণ) ইউনিয়ন।

প্রশাসনিক স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
  • ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ভবন
  • উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়
  • উপজেলা শিক্ষা অফিস
  • উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস
  • উপজেলা রিসোর্স সেন্টার
  • উপজেলা পোস্ট-ই সেন্টার

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী এ উপজেলার জনসংখ্যা ৩,৭৪,৭৬০ জন। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১৫০৪ জন। এই উপজেলায় হিন্দু, মুসলমান বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান চার সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে। তবে মুসলমানদের সংখ্যা পরিমাণে বেশি। এখানে শতকরা ৯০ ভাগ লোক মুসলমান, ৮ ভাগ হিন্দু, আর বাকী ২ ভাগ বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বাউল বৈষ্ণব সম্প্রদায় এই এলাকায় অতি পরিচিত। তাদের আশ্রমের নাম অধিকারী ঠাকুরের সেবাশ্রম।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় শহর এলাকায় শিক্ষার হার ৬২.৪৬% আর গ্রাম এলাকায় শিক্ষার হার ৫৩.৬৪%। [২]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

চিকিৎসা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

  • উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রঃ- ৪ (চার) টি
১২নং চরদুঃখিয়া(পঃ) [দিঘিরপাড়] উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র।


১৫নং রূপসা (উঃ) রূপসা,উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র।


৮নং পাইকপাড়া (দঃ) কড়ৈতলীউপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র।
।
৫নং গুপ্টি (পূঃ) আষ্টা, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র।
  • কমিউনিটি ক্লিনিক মোট-১১ (এগার) টি
সরখাল, ইউঃ ০২, ওয়ার্ড-১।
শোশাইরচর, ইউঃ ০২, ওয়ার্ড-০২।
দেইচর, ইউঃ ০২, ওয়ার্ড-০৩।
কৃষ্ণপুর, ইউঃ০২, ওয়ার্ড-০৩।
ষোলদানা, ইউঃ ০৬, ওয়ার্ড-০১।
আদসা, ইউঃ ০৬, ওয়ার্ড-০১।
কেরোয়া, ইউঃ ১৩, ওয়ার্ড-০১। 
নোয়াগাঁ, ইউঃ ১৩, ওয়ার্ড-০২। 
সাফুয়া, ইউঃ ১৩, ওয়ার্ড-০৩।
পোঁয়া, ইউঃ১৪, ওয়ার্ড-০১।
চরবড়ালী, ইউঃ ১৪, ওয়ার্ড-০২। [৩]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ফরিদগঞ্জ উপজেলার অর্থনীতি বৈদেশিক রেমিটেন্স এবং কৃষি নির্ভরশীল। জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৪২.৯০%, অকৃষি শ্রমিক ২.৬৪%, শিল্প ০.৮৬%, ব্যবসা ১৫.২৪%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ২.৬৩%, চাকরি ১৩.৮০%, নির্মাণ ৩.৫০%, ধর্মীয় সেবা ০.৪৩%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৫.৩৯% অন্যান্য ১২.৬১%।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক নির্দশন[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  2. http://bn.banglapedia.org
  3. ফরিদগঞ্জ উপজেলা তথ্য অফিস

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]