ফরিদগঞ্জ উপজেলা

স্থানাঙ্ক: ২৩°৭′১৫″ উত্তর ৯০°৪৪′৪১″ পূর্ব / ২৩.১২০৮৩° উত্তর ৯০.৭৪৪৭২° পূর্ব / 23.12083; 90.74472
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফরিদগঞ্জ
উপজেলা
ফরিদগঞ্জ চট্টগ্রাম বিভাগ-এ অবস্থিত
ফরিদগঞ্জ
ফরিদগঞ্জ
ফরিদগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ফরিদগঞ্জ
ফরিদগঞ্জ
বাংলাদেশে ফরিদগঞ্জ উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৭′১৫″ উত্তর ৯০°৪৪′৪১″ পূর্ব / ২৩.১২০৮৩° উত্তর ৯০.৭৪৪৭২° পূর্ব / 23.12083; 90.74472 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাচাঁদপুর জেলা
আয়তন
 • মোট২৩১.৫৬ বর্গকিমি (৮৯.৪১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট৩,৯৬,৬৮৩
 • জনঘনত্ব১,৭০০/বর্গকিমি (৪,৪০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৫৮.১%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৩৬৫০
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
২০ ১৩ ৪৫
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

ফরিদগঞ্জ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ এবং চাঁদপুর জেলা এর একটি উপজেলা। ৭ অক্টোবর ১৯১৮ সালে ফরিদগঞ্জ থানা এবং ১৯৮২ সালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা হিসেবে গঠিত হয়। বর্তমানে এটি একটি উপজেলা। চাঁদপুর জেলা শহর থেকে মাত্র প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা শহর অবস্থিত।

আয়তন ও অবস্থান[সম্পাদনা]

ফরিদগঞ্জ উপজেলাটি চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলায় অবস্থিত। সমতল ভূমি এই উপজেলার মধ্য দিয়ে ডাকাতিয়া নদী প্রবাহিত হয়েছে। এ উপজেলার আয়তন ২৩১.৫৬ বর্গ কিলোমিটার (৫৭,২২০.৬০ একর)।[২] ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমে হাইমচর উপজেলাচাঁদপুর সদর উপজেলা, উত্তরে চাঁদপুর সদর উপজেলাহাজীগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে হাজীগঞ্জ উপজেলালক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা এবং দক্ষিণে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলারায়পুর উপজেলা অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বর্তমান ফরিদগঞ্জ ১৯১৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থানা এবং ১৯৮২ সালে সয়ংসম্পূর্ণ উপজেলা হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছিল। এ উপজেলার নাম কেন ফরিদগঞ্জ হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত আছে। যার মধ্যে রয়েছে-

  • অনেক পূর্বে শেখ ফরিদ নামে একজন বিখ্যাত মুসলিম সাধক এই এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচার করে বহু মানুষকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন। অনেকের মতে, উক্ত সাধকের নামানুসারে এই এলাকার নাম রাখা হয়েছিল ফরিদগঞ্জ।
  • পূর্বে এ এলাকায় তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবসা কেন্দ্র ছিল না। তবে এই এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদী পথে অনেক ব্যবসায়ীর যাতায়াত ছিল। তারা অনেক সময় রাত্রি যাপনের স্থান হিসাবে এই এলাকাটিকে সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য স্থান মনে করে এখানে রাত্রি যাপন করত। এলাকায় তৎকালীন জমিদার স্থানীয় জনগণের সুবিধার্থে এই এলাকায় একটি ব্যবসা কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় জনগণকে উৎসাহিত করেছিলেন। তার উৎসাহে সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত হয়েছিলেন ফরিদ আলী নামে একজন ব্যবসায়ী। জনসাধারণকে আরো উৎসাহিত করার মানষে জমিদার উক্ত ফরিদ আলীর নামানুসারে বাজারটির নামকরণ করেছিলেন ফরিদগঞ্জ।
  • এই উপজেলার অন্তর্গত তৎকালীন রূপসার জমিদারের প্রতাপ ছিল বেশি। তার পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন ফরিদা বানু। জমিদার স্নেহবশে ফরিদা বানুর নামানুসারে এলাকাটির নামকরণ করেন।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ফরিদগঞ্জ থানার আওতাধীন।

পৌরসভা:[সম্পাদনা]

ইউনিয়নসমূহ:[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক স্থাপনা[সম্পাদনা]

  • উপজেলা পরিষদ কার্যালয়
  • ফরিদগঞ্জ থানা
  • উপজেলা ভূমি অফিস
  • উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর
  • উপজেলা মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ কার্যালয়
  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
  • উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়
  • উপজেলা শিক্ষা অফিস
  • উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস
  • উপজেলা রিসোর্স সেন্টার
  • উপজেলা পোস্ট-ই সেন্টার

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ফরিদগঞ্জ উপজেলার মোট জনসংখ্যা ৩,৯৬,৬৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৮২,৩৬০ জন এবং মহিলা ২,১৪,৩২৩ জন। মোট পরিবার ৮৫,৬৭৮টি।[২] হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বাউল বৈষ্ণব সম্প্রদায় এই এলাকায় অতি পরিচিত। তাদের আশ্রমের নাম অধিকারী ঠাকুরের সেবাশ্রম।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাক্ষরতার হার ৫৮.১%।[২]

ফরিদগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা বিষয়ক তথ্য [৩]
ক্রমিক নং প্রতিষ্ঠান মোট সংখ্যা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮৯ টি
বেসরকারি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ০১ টি
কিন্ডার গার্টেন ৮১ টি
মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৬ টি
নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ০৪ টি
মহাবিদ্যালয় ০৮ টি
উচ্চ বিদ্যালয় ০৬ টি (কারিগরি ০২ টি)
ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় ০২ টি
দাখিল মাদ্রাসা ২৬ টি
১০ সিনিয়র মাদ্রাসা(আলিম) ১২ টি
১১ কামিল মাদ্রাসা ০১টি
১২ সিনিয়র মাদ্রাসা(ফাজিল) ১৩টি
১৩ কওমী মাদ্রাসা ১০টি
১৪ এবতাদায়ী (মাদ্রাসা) ৫২টি
১৫ নূরানী স্বতন্ত্র মাদ্রাসা ২৫টি
১৬ কিন্ডারগার্টেন (মাদ্রাসা) ১০টি
১৭ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ৩০টি
১৮ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ৭০টি
১৯ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ০২টি

১১ নং ইউনিয়নে কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই।[সম্পাদনা]

  • উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ৪টি:-

১২নং চরদুঃখিয়া(পঃ) [দিঘিরপাড়] উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৫নং রূপসা (উঃ) রূপসা,উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৮নং পাইকপাড়া (দঃ) কড়ৈতলীউপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৫নং গুপ্টি (পূঃ) আষ্টা, উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

পৌরসভা- ফরিদগন্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

  • কমিউনিটি ক্লিনিক মোট ১১টি:-

সরখাল, ইউঃ ০২, ওয়ার্ড-১। শোশাইরচর, ইউঃ ০২, ওয়ার্ড-০২। দেইচর, ইউঃ ০২, ওয়ার্ড-০৩। কৃষ্ণপুর, ইউঃ০২, ওয়ার্ড-০৩। ষোলদানা, ইউঃ ০৬, ওয়ার্ড-০১। আদসা, ইউঃ ০৬, ওয়ার্ড-০১। কেরোয়া, ইউঃ ১৩, ওয়ার্ড-০১। নোয়াগাঁ, ইউঃ ১৩, ওয়ার্ড-০২। সাফুয়া, ইউঃ ১৩, ওয়ার্ড-০৩। পোঁয়া, ইউঃ১৪, ওয়ার্ড-০১। চরবড়ালী, ইউঃ ১৪, ওয়ার্ড-০২। [৪]

★হাসপাতাল

১. ফরিদগঞ্জ ডায়বেটিক সেন্টার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল (আয়েশা ফিল্ডিং স্টেশন সংলগ্ন, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর)

২. সেন্ট্রাল হাসপাতাল, ফরিদগঞ্জ (ফরিদগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড)

৩. ইসলামিয়া হাসপাতাল, ফরিদগঞ্জ (ফরিদগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড)

৪. আল-মদিনা হাসপাতাল, ফরিদগঞ্জ (ফরিদগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড রোড)

৫. লাইফ জেনারেল হাসপাতাল (কালির বাজার চৌরাস্তার সন্নীকটে - ফরিদগঞ্জ)

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ফরিদগঞ্জ উপজেলার অর্থনীতি বৈদেশিক রেমিটেন্স এবং কৃষি নির্ভরশীল। জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৪২.৯০%, অকৃষি শ্রমিক ২.৬৪%, শিল্প ০.৮৬%, ব্যবসা ১৫.২৪%, পরিবহন ও যোগাযোগ ২.৬৩%, চাকরি ১৩.৮০%, নির্মাণ ৩.৫০%, ধর্মীয় সেবা ০.৪৩%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৫.৩৯% অন্যান্য ১২.৬১%।

কৃতি ব্যক্তি[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক নির্দশন[সম্পাদনা]

জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[৫] সংসদ সদস্য[৬][৭][৮][৯][১০] রাজনৈতিক দল
২৬৩ চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুহম্মদ শফিকুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৫ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "ইউনিয়ন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত জাতীয় তথ্য" (PDF)web.archive.org। Wayback Machine। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  3. "এক নজরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা"faridgonj.chandpur.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০২০ 
  4. ফরিদগঞ্জ উপজেলা তথ্য অফিস
  5. "Election Commission Bangladesh - Home page"www.ecs.org.bd 
  6. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (PDF)ecs.gov.bdবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  7. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  8. "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"প্রথম আলো। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  9. "জয় পেলেন যারা"দৈনিক আমাদের সময়। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  10. "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]