সীতাকুণ্ড উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সীতাকুণ্ড
উপজেলা
সীতাকুণ্ড বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
সীতাকুণ্ড
সীতাকুণ্ড
বাংলাদেশে সীতাকুণ্ড উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৩৭′০০″উত্তর ৯১°৩৯′৪০″পূর্ব / ২২.৬১৬৭° উত্তর ৯১.৬৬১১° পূর্ব / 22.6167; 91.6611স্থানাঙ্ক: ২২°৩৭′০০″উত্তর ৯১°৩৯′৪০″পূর্ব / ২২.৬১৬৭° উত্তর ৯১.৬৬১১° পূর্ব / 22.6167; 91.6611
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম
জেলা চট্টগ্রাম
আয়তন
 • মোট ২৭৩.৪৭ কিমি (১০৫.৫৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ৩,৩৫,১৭৮
 • ঘনত্ব ১২০০/কিমি (৩২০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড ৪৩১০
ওয়েবসাইট [১]

সীতাকুণ্ড বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম জেলা শহরের ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে ২২°২২´ থেকে ২২°৪২´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৩৪´ থেকে ৯১°৪৮´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে এ উপজেলার অবস্থান। এর উত্তরে মীরসরাই উপজেলা; পূর্বে ফটিকছড়ি উপজেলা, হাটহাজারী উপজেলাচট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বায়েজিদ বোস্তামী থানা; দক্ষিণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আকবর শাহ থানাপাহাড়তলী থানা এবং পশ্চিমে সন্দ্বীপ চ্যানেলসন্দ্বীপ উপজেলা অবস্থিত।

আয়তন[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড উপজেলার আয়তন ২৭৩.৪৭ বর্গ কিলোমিটার।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড উপজেলার মানচিত্র

সীতাকুণ্ড থানা গঠিত হয় ১৯৭৯ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৩ সালে।

সীতাকুণ্ড উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আকবর শাহ থানার আওতাধীন। সলিমপুর ইউনিয়নের বাকি অংশ ও সীতাকুণ্ড পৌরসভাসহ এ উপজেলার অন্যান্য সকল ইউনিয়ন সীতাকুণ্ড থানার আওতাধীন।

উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন[সম্পাদনা]

  • উপজেলা চেয়ারম্যান: এস এম আল মামুন
  • ভাইস চেয়ারম্যান: মোহাম্মদ আলাউদ্দীন সাবেরী
  • মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান: নাজমুন্নাহার চৌধুরী নেলী
  • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা: নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া

সংসদীয় আসন[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড উপজেলা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯নং উত্তর পাহাড়তলী ও ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড

নামকরণ[সম্পাদনা]

প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ও ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, প্রাচীন কালে এখানে মহামুণি ভার্গব বসবাস করতেন। অযোদ্ধার রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র তাঁর বনবাসের সময় এখানে এসেছিলেন। মহামুণি ভার্গব তাঁরা আসবেন জানতে পেরে তাঁদের স্নানের জন্য তিনটি কুণ্ড সৃষ্টি করেন এবং রামচন্দ্রের এখানে ভ্রমণ কালে তাঁর স্ত্রী সীতা এই কুণ্ডে স্নান করেন। এই কারণেই এখানকার নাম সীতাকুণ্ড বলে অনেকের ধারণা।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন নব্যপ্রস্তর যুগে সীতাকুণ্ডে মানুষের বসবাস শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়। এখান থেকে আবিষ্কৃত প্রস্তর যুগের আসামিয় জনগোষ্ঠীর হাতিয়ার গুলো তারই স্বাক্ষর বহন করে। ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শতাব্দীতে সম্পূর্ণ চট্টগ্রাম অঞ্চল আরাকান রাজ্যের অধীনে ছিল। এর পরের শতাব্দীতে এই অঞ্চলের শাসনভার চলে যায় পাল সম্রাট ধর্মপাল এর হাতে (৭৭০-৮১০ খ্রিস্টাব্দ)। সোনারগাঁও এর সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ্ (১৩৩৮-১৩৪৯ খ্রিস্টাব্দ) ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চল অধিগ্রহন করেন। পরবর্তীতে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে সুর বংশের শের শাহ্ সুরির নিকট বাংলার সুলতানি বংশের শেষ সুলতান সুলতান গিয়াস উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ্ পরাজিত হলে এই এলাকা আরাকান রাজ্যের হাতে চলে যায় এবং আরাকানীদের বংশধররা এই অঞ্চল শাসন করতে থাকেন। পরবর্তীতে পর্তুগীজরাও আরাকানীদের শাসনকাজে ভাগ বসায় এবং ১৫৩৮ থেকে ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই অঞ্চল পর্তুগীজ ও আরাকানী বংশধররা একসাথে শাসন করে। প্রায় ১২৮ বছরের রাজত্ব শেষে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে মোগল সেনাপতি বুজরুগ উম্মে খান আরাকানীদের এবং পর্তুগীজদের হটিয়ে এই অঞ্চল দখল করে নেন।

পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর এই এলাকাটিও ইংরেজদের দখলে চলে যায়। পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সময় এই অঞ্চলের কর্তৃত্ব স্বদেশীদের হাতে আসে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই এলাকাটি ২ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সীতাকুণ্ড উপজেলার জনসংখ্যা ৩,৩৫,১৭৮ জন।

  • পুরুষ : ১,৮২,২২৩ জন
  • মহিলা : ১,৫২,৯৫৫ জন

এ উপজেলার ৮৬% লোক মুসলিম, ১৩% হিন্দু ও ১% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী রয়েছে।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড উপজেলার শিক্ষিতের হার ৫৪.৬০%।এ উপজেলায় ৬টি কলেজ, ১৪টি মাদ্রাসা, ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০টি স্যাটেলাইট স্কুল, ৮টি কমিউনিটি বিদ্যালয় ও ২১টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

কলেজ[সম্পাদনা]

মাদ্রাসা[সম্পাদনা]

  • সীতাকুণ্ড আলিয়া মাদ্রাসা (১৮৮৬)

মাধ্যমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  • মাদাম বিবিরহাট শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৫)
  • সীতাকুণ্ড সরকারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৩)
  • জাফরনগর অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪)
  • টেরিয়াইল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৭)
  • কুমিরা আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৮)
  • সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৫)

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এছাড়া রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ। এ উপজেলায় সর্বমোট ১১২ কিলোমিটার পাকারাস্তা, ২৫৬ কিলোমিটার কাঁচারাস্তা, ৩৭ কিলোমিটার রেলপথ ও ৬টি রেলস্টেশন রয়েছে। সব ধরণের যানবাহনে যোগাযোগ করা যায়।

ভূগোল ও জলবায়ু[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড রেঞ্জ
সড়ক চিহ্নে সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক ও সহস্রধারা প্রপাত

সীতাকুণ্ড উপজেলা ২৮৩.৭৪ বর্গ কিলোমিটার বা ১০৫.৫৯ বর্গ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যার মধ্যে বনাঞ্চল রয়েছে ৬১.৬১ বর্গ কিলোমিটার বা ২৩.৭৯ বর্গ মাইল । [১]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ২৪.১২%, অকৃষি শ্রমিক ৪.২৭%, শিল্প ২.৮২%, ব্যবসা ১৫.৪৩%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৪.৩২%, চাকরি ২৮.৭৬%, নির্মাণ ১.৫৬%, ধর্মীয় সেবা ০.২৯%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৬.১০% এবং অন্যান্য ১২.৩৩%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৩৫.৩৭%, ভূমিহীন ৬৪.৬৩%।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড উপজেলায় ১টি হাসপাতাল, ১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১টি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ১টি টি বি হাসপাতাল, ১১টি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ২টি ক্লিনিক, ১টি মুক্তিযোদ্ধা চ্যারিট্যাবল স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ১টি পশু চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড উপজেলায় ২৯২টি মসজিদ, ৫০টি হিন্দু মন্দির ও ৩টি বৌদ্ধ বিহার রয়েছে।

নদ-নদী[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড উপজেলার পশ্চিমাংম জুড়ে বঙ্গোপসাগর। এ উপজেলায় বহমান কোন নদী নেই।

হাটবাজার ও মেলা[সম্পাদনা]

সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৩১টি হাটবাজার রয়েছে এবং বাৎসরিক ৩টি মেলা বসে।

উল্লেখযোগ্য হাটবাজারগুলো হল: মোহান্তের হাট, সুকলাল হাট, ফকিরহাট, বড় দারোগার হাট, মীরের হাট, মদন হাট, বাঁশবাড়ীয়া বাজার, কুমিরা বাজার।

বাৎসরিক মেলাগুলো হল শিব চতুদর্শী মেলা, চৈত্রসংক্রান্তি মেলা ও বৈশাখী মেলা।

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী[সম্পাদনা]

  • সাপ্তাহিক:
    • চলমান সীতাকুণ্ড
  • মাসিক:
    • অরণ্য
    • সৃষ্টি
    • সীতাকুণ্ড সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালো রাতের হানাদার বাহিনীর জঘন্যতম হামলা হতে বেঁচে যাওয়া বাঙ্গালী সৈনিক ও ইপিআর জোয়ানেরা পরবর্তীতে ২৬শে মার্চ সকাল বেলা থেকে সীতাকুণ্ড থানা এলাকার দক্ষিণে ওভার ব্রিজ হতে উত্তর দিকে কুমিরা এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে জনতার সহযোগিতায় পাক হানাদার বাহিনীর গতিরোধ করার লক্ষ্যে প্রতিরোধ ব্যুহ গড়ে তোলেন। অপর দিকে নিরস্ত্র জনতা ও সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন বাজারসমূহে মহাসড়ক অবরোধ করার জন্য গাছ কেটে বা দোকান গৃহ ভেঙ্গে মহাসড়কের উপর বসিয়া দিয়ে বেরিকেড সৃষ্টি করে।

২৬শে মার্চ সকালে স্থানীয় জনতার সাথে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজে কর্মরত অবাঙ্গালী কর্মচারীদের উপর হামলা হয়। এতে দুইজন অবাঙ্গালী নিহত হয় এবং ফকির হাটের নুরুল আলম ও হাতিলোটার আবদুল হক শাহাদাত বরণ করেন। ২৭শে মার্চ সকাল ১১ টার দিকে বাড়বকুণ্ড বাজারে পাক হানাদার বাহিনীর কম্ভয়ের উপর সরাসরি আক্রমণ করতে গিয়ে ছাদেকুল্লাহর ছেলে বাদশা মিয়া শাহাদাত বরণ করেন। ২৭শে মার্চ রাত ১০টা হতে ভোর ৪টা পর্যন্ত কুমিরা নামক স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিপাগল প্রতিরোধ যোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ হয়। এতে হানাদার বাহিনীর দুইজন অফিসার সহ বেশকিছু সৈনিক নিহত ও অনেকে আহত হয়। উক্ত প্রতিরোধ যুদ্ধে পরবর্তী ২৮শে মার্চ পর্যন্ত কালু শাহ মাজার হতে কুমিরা পর্যন্ত স্থানে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিরোধ যুদ্ধে ভাটিয়ারী এলাকার মুনাফ দারোয়ান, মাহবুবুল আলম, আমির হোসেন মিস্ত্রী ও তার কন্যা, দায়রা বাড়ীর ছালে আহমদ সহ নায়েক রুহুল আমিন, নায়েক আবুল খায়ের, নায়েক আবদুল ওদুদ সহ অনেক নাম না জানা বীর প্রতিরোধ যোদ্ধা শাহাদাত বরণ বরণ করেন। কালু শাহ মাজারের পূর্ব পাশে, বর্তমান সাঙ্গু রাস্তার পূর্ব পাশে, ভাটিয়ারী শহিদ মিনারের পাশে, কদম রসুল সিটি সিএনজি স্টেশনের পাশে, হাফিজ জুট মিল ও পাক্কা মসজিদ সংলগ্ন স্থানে বার আউলিয়া মাজারের উত্তর পাশে ঐ সকল শহীদদের সমাধির চিহ্ন বিদ্যমান আছে। ৪ঠা এপ্রিল সীতাকুণ্ড মহন্তর হাটে হানাদার বাহিনীর ২টি জঙ্গি বিমান হতে নিরস্ত্র জনতার উপর মেশিনগান দিয়ে আক্রমন চালায়, এতে শত শত সাধারণ জনতা হতাহত হয়। ৫ই এপ্রিল হতে ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত সীতাকুণ্ড অঞ্চল হানাদার মুক্ত থাকে। ১১ই এপ্রিল মুক্তি সেনাদের ডিফেন্সের উপর হানাদার বাহিনী ট্যাঙ্ক, সাজোয়াজান, গানবোট ও বিমান ব্যবহার করে মুক্তি সেনাদের উপর প্রচণ্ড আঘাত হানে। এতে কিছু মুক্তিসেনা হানাদারদের হাতে বন্দী হয়। যাদের হদিস আজও পাওয়া যায় নি। অবশিষ্ট মুক্তিসেনারা পশ্চাদপসারণ করে মীরসরাইয়ের দিকে চলে যায়। তৎসময়ে মুক্তিসেনাদের নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন সুবেদ আলী ভূঁইয়া, ক্যাপ্টেন মতিন সহ অপরাপর সেনা কর্মকর্তাগণ। ২০শে মে হতে ১০ই ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরো সীতাকুণ্ড অঞ্চলে গেরিলা তৎপরতা বৃদ্ধি পায় এবং গেরিলা যোদ্ধাগণ হানাদার বাহিনীর সদস্যদের উপর গ্রেনেট নিক্ষেপ, চুরাগোপ্তা হামলা চালানো, মহাসড়কের সেতু ও রেলপথের সেতু উড়িয়া দেওয়া সহ সীতাকুণ্ড থানা আক্রমন করার মধ্য দিয়ে হানাদার শিবিরে ভীতির সঞ্চার করে ও তাদেরকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে সক্ষম হয়। উক্ত সময়ে শহীদ জলিল ও শহীদ টিপু সহ অসংখ্য পাবলিক শাহাদাত বরণ করেন। ১২ই ডিসেম্বর দিবাগত রাতে সীতাকুণ্ড হেড কোয়ার্টার শত্রু মুক্ত হয়। ১৪ই ও ১৫ই ডিসেম্বর তারিখে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে কুমিরা নামক স্থানে মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনী যৌথ আক্রমণ পরিচালনা করেন। এতে হানাদার বাহিনীর অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলেও আমাদের মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য হতাহত হয় এবং ১৬ই ডিসেম্বর সমগ্র সীতাকুণ্ড অঞ্চল শত্রু মুক্ত হয়। সীতাকুণ্ড রেলওয়ের স্টেশনের পূর্ব পাশে, সীতার মন্দিরের পাশে, গুল আহমদ জুট মিল এলাকা ও কুমিরা টিবি হাসপাতালের পূর্ব পাশের বধ্য ভূমি সমূহে হতভাগ্যদের লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল।

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ[সম্পাদনা]

  • চন্দ্রনাথ মন্দির
  • ব্যাসকুণ্ড (সীতাকুন্ড সদর)
  • বার আউলিয়া দরগাহ শরীফ (সোনাইছড়ি)
  • হারমদিয়া জামে মসজিদ (কুমিরা)

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত
  • উপকুলীয় বনাঞ্চল
  • চন্দ্রনাথ মন্দির ও পাহাড়
  • ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • আলহাজ্ব এবিএম আবুল কাসেম

(সাবেক সংসদ সদস্য ও সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি)

  • ইঞ্জিনিয়ার এল কে সিদ্দিকী

(সাবেক সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী)

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sitakunda Upazila: Census Results at a Glance–2001 (Community Series) (PDF)। Population Census Wing, Bangladesh Bureau of Statistics। সংগৃহীত ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


চট্টগ্রাম জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা: আনোয়ারা | কর্ণফুলি | চন্দনাইশ | পটিয়া | ফটিকছড়ি | বাঁশখালী | বোয়ালখালী | মীরসরাই | রাউজান | রাঙ্গুনিয়া | লোহাগাড়া | সন্দ্বীপ | সাতকানিয়া | সীতাকুণ্ড | হাটহাজারী
মেট্রোপলিটন থানা: আকবর শাহ | ইপিজেড | কর্ণফুলি | কোতোয়ালী | খুলশী | চকবাজার | চান্দগাঁও | ডবলমুরিং | পতেঙ্গা | পাঁচলাইশ | পাহাড়তলী | বন্দর | বাকলিয়া | বায়েজিদ বোস্তামী | সদরঘাট | হালিশহর
থানা: আনোয়ারা | চন্দনাইশ | জোরারগঞ্জ | পটিয়া | ফটিকছড়ি | বাঁশখালী | বোয়ালখালী | ভূজপুর | মীরসরাই | রাউজান | রাঙ্গুনিয়া | লোহাগাড়া | সন্দ্বীপ | সাতকানিয়া | সীতাকুণ্ড | হাটহাজারী
পৌরসভা: চন্দনাইশ | নাজিরহাট | পটিয়া | ফটিকছড়ি | বারৈয়ারহাট | বাঁশখালী | বোয়ালখালী | মীরসরাই | রাউজান | রাঙ্গুনিয়া | সন্দ্বীপ | সাতকানিয়া | সীতাকুণ্ড | হাটহাজারী