সন্দ্বীপ উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সন্দ্বীপ
উপজেলা
সন্দ্বীপ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
সন্দ্বীপ
সন্দ্বীপ
বাংলাদেশে সন্দ্বীপ উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°২৯′৫২″উত্তর ৯১°২৯′৪৩″পূর্ব / ২২.৪৯৭৯° উত্তর ৯১.৪৯৫৪° পূর্ব / 22.4979; 91.4954স্থানাঙ্ক: ২২°২৯′৫২″উত্তর ৯১°২৯′৪৩″পূর্ব / ২২.৪৯৭৯° উত্তর ৯১.৪৯৫৪° পূর্ব / 22.4979; 91.4954
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম
জেলা চট্টগ্রাম
আয়তন
 • মোট ৪৮৮.৫২ কিমি (১৮৮.৬২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ৩,৩৪,৪২০
 • ঘনত্ব ৬৮০/কিমি (১৮০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৪৬.৭২%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট [১]


সন্দ্বীপ উপজেলা (ইংরেজি ভাষায়: Sandwip) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত একটি দ্বীপ এবং প্রশাসনিক এলাকা। এটি মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রাচীন একটি দ্বীপ।

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

সন্দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বকোণে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম উপকূল ও সন্দ্বীপের মাঝখানে সন্দ্বীপ চ্যানেল অবস্থিত। সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলের দূরত্ব প্রায় দশ মাইল। নোয়াখালীর মূল ভূখন্ড সন্দ্বীপ থেকে প্রায় ১২ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। সন্দ্বীপের প্রায় বিশ মাইল পশ্চিমে হাতিয়া দ্বীপের অবস্থান। সন্দ্বীপের সীমানা হচ্ছে পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল ও চ্যানেলের পূর্ব পাড়ে সীতাকুণ্ড উপজেলামীরসরাই উপজেলা, উত্তরে বামনী নদী, পশ্চিমে মেঘনা নদী ও তারও পশ্চিমে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।[২][২]

নামকরণ[সম্পাদনা]

সন্দ্বীপের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন মতামত শোনা যায়। কারও কারও মতে বার আউলিয়ারা চট্টগ্রাম যাত্রার সময় এই দ্বীপটি জনমানুষহীন অবস্থায় আবিস্কার করেন এবং নামকরণ করেন শুণ্যদ্বীপ, যা পরবর্তীতে সন্দ্বীপে রুপ নেয়।[৩] ইতিহাসবেত্তা বেভারিজের মতে চন্দ্র দেবতা সোম এর নামানুসারে এই এলাকার নাম সোম দ্বীপ হয়েছিল যা পরবর্তীতে সন্দ্বীপে রুপ নেয়।[৪]

কেউ কেউ দ্বীপের উর্বরতা ও প্রাচুর্যের কারণে দ্বীপটিকে স্বর্ণদ্বীপ আখ্যা প্রদান করেন। উক্ত স্বর্ণদ্বীপ হতে সন্দ্বীপ নামের উৎপত্তি হয়েছে বলেও ধারণা করা হয়।[৩] দ্বীপের নামকরণের আরেকটি মত হচ্ছে পাশ্চাত্য ইউরোপীয় জাতিগণ বাংলাদেশে আগমনের সময় দূর থেকে দেখে এই দ্বীপকে বালির স্তুপ বা তাদের ভাষায় স্যান্ড-হীপ (Sand-Heap) নামে অভিহিত করেন এবং তা থেকে বর্তমান সন্দ্বীপ নামের উৎপত্তি হয়।[৫]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

জে. র‍্যানেল এর তৈরী করা ১৭৭৮ সালের মানচিত্রে সন্দ্বীপ

ইউরোপীয়দের লেখা ইতিহাসে জানা যায় যে সন্দ্বীপে প্রায় তিন হাজার বছরের অধিককাল ধরে লোক বসতি বিদ্যমান। এমনকি এককালে এর সাথে সংযুক্ত থাকা নোয়াখালীতে মানুষের বসতি স্থাপনের পূর্বেই সন্দ্বীপে জনবসতি গড়ে উঠেছিল।[৬][৭]। সন্দ্বীপের লবণ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ কারখানা ও বস্ত্র শিল্প পৃথিবী খ্যাত ছিল। উপমহাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভ্রমণকারীরা এই অঞ্চলে এসে তাদের জাহাজ নোঙ্গর করতেন এবং সহজ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং পরিবহন সুবিধাদি থাকায় এই অঞ্চলে ব্যবসা এবং বসতি স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করতেন। ১৭৭৬ সালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রতি বছর সন্দ্বীপে উৎপাদিত প্রায় এক লক্ষ ত্রিশ হাজার মণ লবণ, তিনশ জাহাজে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হত।[৮][৯]

সন্দ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চলে নৌযান তৈরীর দৃশ্য

সন্দ্বীপ এককালে কম খরচে মজবুত ও সুন্দর জাহাজ নির্মানের জন্য পৃথিবী খ্যাত ছিল। ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় এই জাহাজ রপ্তানি করা হতো। তুরস্কের সুলতান এই এলাকার জাহাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এখান থেকে বেশ কিছু জাহাজ কিনে নেন।[১০][১১] ভারতবর্ষের মধ্যে সন্দ্বীপ ছিল একটি সমৃদ্ধশালী বন্দর। লবণ ও জাহাজ ব্যবসা, শস্য সম্পদ ইত্যাদির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে পর্তুগিজরা সন্দ্বীপে উপনিবেশ স্থাপন করেন।[১২] এছাড়া ভ্রমণ ও ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে ফরাসি ও ওলোন্দাজ পরিব্রাজকরা প্রায়ই সন্দ্বীপে আগমন করতেন।[১৩] ১৬১৫ সালে পর্তুগিজদের সাথে আরকান রাজ্যের যুদ্ধে ২০০ জন সৈন্য সহ পর্তুগীজ সেনাপতি ইমানুয়েল মার্তুস নিহত হয় এবং পর্তুগিজরা সন্দ্বীপ ত্যাগ করলে ১৬১৬ সালে মগরাজ সন্দ্বীপ দখল করে।[১৪] এরপর সন্দ্বীপে আরকান ও মগদের প্রাধান্য থাকলেও তাদের পরাধীনতাকে অস্বীকার করে একে প্রায় অর্ধ শতাব্দী শাসন করেন দেলোয়ার খাঁ। ১৬৬৬ সালে তাঁর রাজত্বের পতন ঘটে এবং মোগল সরকারের অধীনে জমিদারদারী প্রথার সূচনা ঘটে, যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ রাজত্বের অবসানের সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়। [১৫][১৬] রূপে মুগ্ধ হয়ে যুগে যুগে অনেক কবি, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, পর্যটক এসেছেন এখানে। ১৩৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ঐতিহাসিক পর্যটক ইবনে বতুতা সন্দ্বীপে আসেন।[৭] ১৫৬৫ সালে ডেনিশ পর্যটক সিজার ফ্রেডরিক সন্দ্বীপে আসেন এবং এর বহু প্রাচীন নিদর্শনের বর্ননা লিপিবদ্ধ করেন।[১৭] ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ২৮শে জানুয়ারী মোজাফ্‌ফর আহমেদের সাথে সন্দ্বীপে আসেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম[১৮][১৯] সন্দ্বীপ ভ্রমণের সময়কার স্মৃতির পটভূমিকাতেই কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর মধুবালা গীতিনাট্য রচনা করেন। সন্দ্বীপে বৃক্ষের ছায়াতলে বসে নজরুল তাঁর চক্রবাক কাব্যগ্রন্থের অনেকগুলো কবিতা রচনা করেন।[৭]

এ উপজেলায় ১৭৬৭ সালে আবু তোরাবের নেতৃত্বে বাংলার প্রথম কৃষক-বিদ্রোহ এবং ১৯৩০ সালে কংগ্রেস সভাপতি কালী কেশব ঘোষের নেতৃত্বে আইন অমান্য-আন্দোলন সংঘটিত হয়। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এখান থেকে বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফার প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। ১৯৭১ সালে এ উপজেলা ১নং সেক্টরের অধীন ছিল। ১০ মে পাকবাহিনী সন্দ্বীপ শহরে আইনজীবী জাহেদুর রহমানসহ অনেক নিরীহ লোককে গুলি করে হত্যা করে এবং অনেক ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয় ও লুটপাট করে। ৭ ডিসেম্বর সন্দ্বীপ শত্রুমুক্ত হয়।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

  • উপজেলা চেয়ারম্যান: মাস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান
  • ভাইস চেয়ারম্যান: মোহাম্মদ মাইন উদ্দীন
  • মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান: বেগম জেবুন্নেছা চৌধুরী জেসি
  • উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা: মোহাম্মদ গোলাম জাকারিয়া
ছোট জাহাজ ও স্টিমারই সন্দ্বীপ ও অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম
সন্দ্বীপ ফেরী ঘাটের একটি অত্যন্ত মনোরম দৃশ্য

১৯৫৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত সন্দ্বীপ নোয়াখালী জেলার অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তিতে একে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[২] ১৯৮৪ সালে সন্দ্বীপ থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। সন্দ্বীপে একটি পৌরসভা রয়েছে, যা ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। এই দ্বীপে ১টি থানা রয়েছে এবং মৌজার সংখ্যা ৩৯টি। ৭৬২.৪২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় বর্তমানে ১৪টি ইউনিয়ন আছে।

সংসদীয় আসন[সম্পাদনা]

সন্দ্বীপ উপজেলা

বিলুপ্ত এলাকাসমূহ[সম্পাদনা]

১৯৫০ হতে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত সন্দ্বীপের ভাঙ্গন অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল । তখনও পর্যন্ত ন্যায়ামস্তি, দীর্ঘাপাড়, ইজ্জতপুর, বাটাজোড়া, কাঠগড় ও হুদ্রাখালী ইউনিয়ন পুরাপুরি বিদ্যমান ছিল। ১৯ ইউনিয়নের এই থানা বর্তমানে উড়িরচর বাদে ১৩ ইউনিয়নে এসে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে হরিশপুর, রহমতপুর ও আজিমপুর ইউনিয়ন আকারে একটি গ্রামের চেয়েও ছোট। লোকমুখে শোনা যায়, সন্দ্বীপে ১২টি পুর এর অস্থিত্ব ছিল। বর্তমানে ৫টি পুর বিদ্যমান--

  • হরিশপুর
  • রহমতপুর
  • আজিমপুর
  • সন্তোষপুর
  • মুছাপুর

যেসব পুর সাগর গর্ভে হারিয়ে গেছে সেগুলো হল--

  • সুধারামপুর
  • মোহাম্মদপুর
  • সুলতানপুর
  • মোক্তারপুর
  • সৌরভপুর
  • ইজ্জতপুর
  • শফিপুর

সুধারামপুর ও মোহাম্মদপুর যথাক্রমে ইজ্জতপুর ও রুহিনী গ্রামের পশ্চিমে ছিলো ।সুলতানপুর গ্রাম ন্যায়ামস্তির দক্ষিণে ও সারিকাইতের পশ্চিমে ছিল। মোক্তারপুর গ্রাম রুহিনী গ্রামের উত্তর পশ্চিমে ছিল। প্রিন্সিপাল জিয়াউল হক এর বাড়ি মোহাম্মদপুর গ্রামে ছিল, শফিপুর গ্রাম বাটাজোড়া ও কাটগড়ের মাঝামাঝি ছিল। গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সন্দ্বীপের আয়তন ২০০ বর্গমাইলের অধিক ছিল।

আয়তন ও জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

পঞ্চদশ শতাব্দীতে সন্দ্বীপের আয়তন প্রায় ৬৩০ বর্গমাইলের হলেও ক্রমাগত নদী ভাঙনের কারণে বর্তমানে এটি মাত্র ৮০ বর্গমাইলের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপে পরিণত হয়েছে। সন্দ্বীপের দৈর্ঘ্য ২৫ মাইল (৪০ কিলোমিটার) ও প্রস্থ ৩-৯ মাইল (৫-১৫ কিলোমিটার)[২০]। এই অঞ্চলে মোট আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ ৫৬,৫৩০ একর এবং অনাবাদী জমি ২২,৯১১ একর। মোট বনাঞ্চল ১১,২০০ একর।

বিভিন্ন বেসরকারি অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বর্তমানে এই দ্বীপের মোট জনসংখ্যা প্রায় চার লাখ।[২][২১] ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এই দ্বীপের জনসংখ্যা ৩,৩৪,৪২০ জন। পুরুষ ১,৬৭,১৮০ জন ও মহিলা ১,৬৭,২৪০ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিরোমিটারে ৪৩৯ জন।

সন্দ্বীপ পৌরসভার আয়তন প্রায় ৩০.০৩ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ৪২,৮৪২ জন।[২২] সন্দ্বীপ ও দেশের মুল ভুখণ্ডের মধ্যে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হল নৌপথ। দ্বীপ থেকে মূল ভুখণ্ডে যাতায়াতের জন্য রয়েছে বি.আই.ডব্লিউ.টি সি. এর ২টি স্টীমার ঘাট এবং ৫টি জেলা পরিষদ ফেরীঘাট।[২]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

সন্দ্বীপে শিক্ষার হার ৪৬.৭২%। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা:

  • কলেজ - ০৫টি;
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয় - ২৮টি;
  • মাদ্রাসা - ২৩৯টি;
  • প্রাথমিক বিদ্যালয় - ১৫০টি;
  • এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয় - ০৫টি;
  • কমিউনিটি বিদ্যালয় - ০১টি।
    [২৩]

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

কলেজ[সম্পাদনা]

  • সরকারী হাজী এ বি কলেজ (১৯৬৭)
  • মোস্তাফিজুর রহমান ডিগ্রী কলেজ
  • সাউথ সন্দ্বীপ কলেজ

মাদ্রাসা[সম্পাদনা]

  • বশিরিয়া আহমদিয়া আলহাজ্ব আবু বকর ছিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা (১৯০২)
  • কাঠগড় ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা (১৯২৯)

মাধ্যমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  • কার্গিল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০২)
  • সন্দ্বীপ পাবলিক বিদ্যালয়
  • সন্দ্বীপ আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়
  • আজিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়

প্রাথমিক বিদ্যালয়[সম্পাদনা]

  • কার্গিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৮৫০)

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের যে কোন অঞ্চল থেকে সন্দ্বীপ উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। মোট নৌপথ ২২ নটিক্যাল মাইল। এছাড়াও এ উপজেলার অভ্যন্তরে সড়ক যোগাযোগের জন্য ৭৩ কিলোমিটার পাকারাস্তা, ১৯ কিলোমিটার আধা-পাকারাস্তা ও ৮৬২ কিলোমিটার কাঁচারাস্তা রয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

সন্দ্বীপ উপজেলায় ২৭০টি মসজিদ ও ৭৩টি হিন্দু মন্দির রয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

প্রধানত কৃষি, মৎস্য চাষ ও আহরণ। প্রধান ফসল ধান। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের বিভিন্ন স্থান হতে পাঠানো রেমিটেন্স।

শিল্প ও কলকারখানা[সম্পাদনা]

ধানকল, বরফকল, বিড়ি কারখানা, ছাপাখানা, হোসিয়ারী শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প।

কুটিরশিল্প[সম্পাদনা]

তাঁতশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, দারুশিল্প, কাঁসা ও পিতলশিল্প, বাঁশের কাজ, বেতের কাজ।

হাটবাজার ও মেলা[সম্পাদনা]

সন্দ্বীপ উপজেলায় মোট হাট/বাজার ৩৪টি ও বাৎসরিক মেলা ২টি।

উল্লেখযোগ্য হাট/বাজারগুলো হল--

  • আকবর হাট
  • শিবের হাট
  • বক্তার হাট
  • নাজির হাট
  • ধোপার হাট
  • চৌধুরী হাট
  • সওদাগর হাট
  • নন্দির হাট
  • মুন্সির হাট
  • সন্দ্বীপ টাউন বাজার
  • বাংলা বাজার
  • আনন্দ বাজার
  • সালাম বাজার

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য[সম্পাদনা]

ধান, মাছ, পান, সুপারি, শাকসবজি।

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী[সম্পাদনা]

  • দ্বীপ চিত্র
  • দ্বীপ বার্তা
  • সন্দ্বীপ সন্দর্শন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ[সম্পাদনা]

১৯৯১ সালের ঘূর্নিঝড়ে সন্দ্বীপে নিহত কিছু মানুষ

সমূদ্রবেষ্টিত দ্বীপ এলাকা হওয়ায় সন্দ্বীপ প্রায়শই ঘূর্নিঝড়, টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস, ঢল ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সন্দ্বীপে প্রায় প্রতি বছরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শত শত বছর ধরে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সন্দ্বীপে আঘাত হেনেছে। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে এসকল ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ থেকে দেখা যায়- ১৪৮৪, ১৫৮৪, ১৭৭৬, ১৭৯৮, ১৮২২, ১৮২৫, ১৮৩২, ১৮৩৫, ১৮৫৫, ১৮৬৪, ১৮৬৭, ১৮৬৯, ১৮৭০, ১৮৭৬, ১৮৯৩, ১৮৯৫, ১৯০৪, ১৯০৫, ১৯১০, ১৯১৯, ১৯৪০, ১৯৪১, ১৯৫৬, ১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৬৩, ১৯৬৫, ১৯৬৬, ১৯৭০, ১৯৮৫ এবং ১৯৯১ সালে সন্দ্বীপে বড় মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।

অসংখ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে ১৮২৫, ১৮৭৬, ১৯৮৫ এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস সন্দ্বীপের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সাধিত হয়। স্মরনকালের ভয়াবহতম ঘূর্নিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়টি ২৯শে এপ্রিল সন্দ্বীপসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। সন্দ্বীপের ওপর দিয়ে এ ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২২৫ কিলোমিটার বেগে আক্রমণ করে। এই ঘূর্নিঝড়ে সন্দ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চলের কমপক্ষে ৬০ হাজার এবং ঝড়ের পড়ে অনাহারে ও মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া রোগে আরো প্রায় ২০-৩০ হাজার লোক প্রাণ হারায়।[২৪]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

গ্যালারি[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে সন্দ্বীপ"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৫ 
  2. "Sandwip Island"। Ebbd.info। সংগৃহীত ২০১২-১১-০৭ 
  3. History of Sandwip, Sri Rajkumar Chakrabarty & Sri Anangamohan Das, 1924 p. 9
  4. History of Backergunge, Beveridge. P-35
  5. History of Sandwip, Sri Rajkumar Chakrabarty & Sri Anangamohan Das, 1924 p. 8
  6. Noakhali District Gazetteers, 1911 p. 14
  7. :: Dainik Destiny :: সাগরে কি হারিয়ে যাবে সন্দ্বীপ
  8. Purchas p. 313
  9. Noakhali District Gazetteers, 1911 p. 38
  10. A Statistical Account of Bengal, Hunter p. 318
  11. Sandwip Island
  12. Protapaditya p. 450
  13. History of Bengal, Stewart
  14. History of Sandwip p. 37
  15. A Statistical Account of Bengal, Hunter p. 248
  16. Letter of Cook, April 20, 1882
  17. History of Backergunge, Beveridge p. 35
  18. http://timenewsbd.com/literature/2013/05/25/2265
  19. http://www.kaliokalam.com/2012/05/27/একনজরে-বাংলাদেশে-নজরুল/
  20. http://www.britannica.com/EBchecked/topic/522270/Sandwip-Island
  21. কালের কন্ঠ
  22. http://www.sandwippourashava.com/Bangla/profile.html
  23. সন্দ্বীপ
  24. The Yellow page of Sandwip - প্রাকৃতিক দূর্যোগ

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


চট্টগ্রাম জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা: আনোয়ারা | কর্ণফুলি | চন্দনাইশ | পটিয়া | ফটিকছড়ি | বাঁশখালী | বোয়ালখালী | মীরসরাই | রাউজান | রাঙ্গুনিয়া | লোহাগাড়া | সন্দ্বীপ | সাতকানিয়া | সীতাকুণ্ড | হাটহাজারী

মেট্রোপলিটন থানা: আকবর শাহ | ইপিজেড | কর্ণফুলি | কোতোয়ালী | খুলশী | চকবাজার | চান্দগাঁও | ডবলমুরিং | পতেঙ্গা | পাঁচলাইশ | পাহাড়তলী | বন্দর | বাকলিয়া | বায়েজিদ বোস্তামী | সদরঘাট | হালিশহর

থানা: আনোয়ারা | চন্দনাইশ | জোরারগঞ্জ | পটিয়া | ফটিকছড়ি | বাঁশখালী | বোয়ালখালী | ভূজপুর | মীরসরাই | রাউজান | রাঙ্গুনিয়া | লোহাগাড়া | সন্দ্বীপ | সাতকানিয়া | সীতাকুণ্ড | হাটহাজারী

পৌরসভা: চন্দনাইশ | নাজিরহাট | পটিয়া | ফটিকছড়ি | বারৈয়ারহাট | বাঁশখালী | বোয়ালখালী | মীরসরাই | রাউজান | রাঙ্গুনিয়া | সন্দ্বীপ | সাতকানিয়া | সীতাকুণ্ড | হাটহাজারী