থানচি উপজেলা

স্থানাঙ্ক: ২১°৪৭′১০″ উত্তর ৯২°২৫′৩৫″ পূর্ব / ২১.৭৮৬১১° উত্তর ৯২.৪২৬৩৯° পূর্ব / 21.78611; 92.42639
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
থানচি
উপজেলা
রেমাক্রী খাল
রেমাক্রী খাল
থানচি চট্টগ্রাম বিভাগ-এ অবস্থিত
থানচি
থানচি
থানচি বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
থানচি
থানচি
বাংলাদেশে থানচি উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২১°৪৭′১০″ উত্তর ৯২°২৫′৩৫″ পূর্ব / ২১.৭৮৬১১° উত্তর ৯২.৪২৬৩৯° পূর্ব / 21.78611; 92.42639 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাবান্দরবান জেলা
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৭৬
সংসদীয় আসন৩০০ পার্বত্য বান্দরবান
সরকার
 • সংসদ সদস্যবীর বাহাদুর উশৈ সিং (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)
আয়তন
 • মোট১,০২০.৮২ বর্গকিমি (৩৯৪.১৪ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২৩,৫৯১
 • জনঘনত্ব২৩/বর্গকিমি (৬০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট২৬.৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৪৬৩০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
২০ ০৩ ৯৫
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
নাফাখুম-রেমাক্রি ট্রেইল

থানচি বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

আয়তন[সম্পাদনা]

থানচি উপজেলার আয়তন ১০২০.৮২ বর্গ কিলোমিটার (২,৫২,২৫০ একর)।[১][২] এটি আয়তনের দিক থেকে বান্দরবান জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা।[৩]

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

বান্দরবান জেলার দক্ষিণ-পূর্বাংশ জুড়ে ২১°১৫´ থেকে ২১°৫৭´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°২০´ থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে থানচি উপজেলার অবস্থান।[২] বান্দরবান জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার।[৪] এ উপজেলার উত্তর-পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলা, উত্তরে রুমা উপজেলা; পশ্চিমে লামা উপজেলা, আলীকদম উপজেলামায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ; দক্ষিণে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ এবং পূর্বে মায়ানমারের চিন প্রদেশ অবস্থিত।

নামকরণ[সম্পাদনা]

মার্মা শব্দ থাইন চৈ বা বিশ্রামের স্থান থেকে থানচি নামটির উৎপত্তি। ধারণা করা হয়, ১৯৫০ সালে বা তার পূর্বে নৌপথে চলাচল কালে যাত্রীগণ বিশ্রামের জন্য এ স্থানে থামতেন বলে থাইন চৈ নামে স্থানটি পরিচিত ছিল, পরে তা থানচি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।[৫]

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

১৯৭৬ সালে থানচি থানা প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৮৩ সালে থানাকে উপজেলায় প্রতিস্থাপন করা হয়।[২] এ উপজেলায় বর্তমানে ৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ থানচি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম থানচি থানার আওতাধীন।

ইউনিয়নসমূহ:[৬]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮২৪ সালে বার্মা-ব্রিটিশ যুদ্ধের পর থানচি উপজেলা আরাকান ব্রিটিশ-ভারতের প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে থানচি ও এর প্রতিবেশী অঞ্চলে আরাকানীদের অভিবাসন সহজ হয়। অভিবাসীরা এ অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে এবং ১৯০০-এর রেগুলেশন-১ (পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়াল) এদের স্থায়ী বাসিন্দার স্বীকৃতি দেয়।[২]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী থানচি উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২৩,৫৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২,৩৪৪ জন এবং মহিলা ১১,১৪৭ জন। মোট পরিবার ৪,৮৭২টি।[১] মোট জনসংখ্যার ৭.৬৫% মুসলিম, ২.২৬% হিন্দু, ৫৪.৬৮% বৌদ্ধ, ২৬.৭৫% খ্রিস্টান এবং ৮.৬৬% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।[২] এ উপজেলায় মার্মা, চাকমা, খেয়াং, ত্রিপুরা, খুমী, খিও, ম্রো ও বম উপজাতি গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।[৪]

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী থানচি উপজেলার সাক্ষরতার হার ২৬.৯%।[১] এ উপজেলায় ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।[৪]

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

থানচি উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক হল বান্দরবান-থানচি সড়ক। প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম বাস।

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

থানচি উপজেলায় ৩টি মসজিদ, ২টি মন্দির, ৩১টি বিহার এবং ২৯টি গীর্জা রয়েছে।[৪]

নদ-নদী[সম্পাদনা]

থানচি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সাঙ্গু নদী[৭] এছাড়া রয়েছে রেমাক্রী খাল।

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

থানচি উপজেলার প্রধান হাট-বাজার ২টি, থানচি বাজার এবং বলিপাড়া বাজার।[৮]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

থানচি উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:[৯]

আমিয়াখুম জলপ্রপাত
আমিয়াখুম জলপ্রপাত

জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

সংসদীয় আসন
সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[১০] সংসদ সদস্য[১১][১২][১৩][১৪][১৫] রাজনৈতিক দল
৩০০ পার্বত্য বান্দরবান বান্দরবান জেলা বীর বাহাদুর উশৈ সিং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন
ক্রম নং পদবী নাম
০১ উপজেলা চেয়ারম্যান[১৬] ক্যহ্লাচিং মার্মা
০২ ভাইস চেয়ারম্যান[১৬] চসাথোয়াই মার্মা
০৩ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান[১৬] বেগম বকুলী মারমা
০৪ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা[১৭] জাহাঙ্গীর আলম

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ইউনিয়ন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত জাতীয় তথ্য" (PDF)web.archive.org। Wayback Machine। সংগ্রহের তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০১৯ 
  2. "থানচি উপজেলা - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org 
  3. https://web.archive.org/web/20151208044832/http://www.bbs.gov.bd/WebTestApplication/userfiles/Image/National%20Reports/Union%20Statistics.pdf
  4. "এক নজরে থানচি - থানচি উপজেলা - থানচি উপজেলা"thanchi.bandarban.gov.bd। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  5. "উপজেলা পটভূমি - থানচি উপজেলা - থানচি উপজেলা"thanchi.bandarban.gov.bd। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  6. "ইউনিয়নসমূহ - থানচি উপজেলা - থানচি উপজেলা"thanchi.bandarban.gov.bd। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  7. "নদ নদী - থানচি উপজেলা - থানচি উপজেলা"thanchi.bandarban.gov.bd। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  8. "হাট বাজার - থানচি উপজেলা - থানচি উপজেলা"thanchi.bandarban.gov.bd। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  9. "থানচি উপজেলার ঐতিহ্য - থানচি উপজেলা - থানচি উপজেলা"thanchi.bandarban.gov.bd। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  10. "Election Commission Bangladesh - Home page"www.ecs.org.bd 
  11. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (PDF)ecs.gov.bdবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  12. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  13. "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"প্রথম আলো। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  14. "জয় পেলেন যারা"দৈনিক আমাদের সময়। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  15. "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  16. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  17. "জনাব জাহাঙ্গীর আলম - থানচি উপজেলা - থানচি উপজেলা"thanchi.bandarban.gov.bd। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]