দোহাজারী পৌরসভা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দোহাজারী
পৌরসভা
দোহাজারী পৌরসভা
দোহাজারী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দোহাজারী
দোহাজারী
বাংলাদেশে দোহাজারী পৌরসভার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৯′৫৩″ উত্তর ৯২°৩′৪৯″ পূর্ব / ২২.১৬৪৭২° উত্তর ৯২.০৬৩৬১° পূর্ব / 22.16472; 92.06361স্থানাঙ্ক: ২২°৯′৫৩″ উত্তর ৯২°৩′৪৯″ পূর্ব / ২২.১৬৪৭২° উত্তর ৯২.০৬৩৬১° পূর্ব / 22.16472; 92.06361 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাচট্টগ্রাম জেলা
উপজেলাচন্দনাইশ উপজেলা
প্রতিষ্ঠাকাল১১ মে, ২০১৭ইং
আয়তন
 • মোট৪০.৭৪ কিমি (১৫.৭৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট৫৬,৬৩৩
 • ঘনত্ব১৪০০/কিমি (৩৬০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট৪৯.৬০%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৪৩৮২ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

দোহাজারী পৌরসভা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার অন্তর্গত একটি পৌরসভা

আয়তন[সম্পাদনা]

দোহাজারী পৌরসভার আয়তন ১০,০৬৭ একর (৪০.৭৪ বর্গ কিলোমিটার)।[১]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দোহাজারী পৌরসভার লোকসংখ্যা ৫৬,৬৩৩ জন।[১]

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

চন্দনাইশ উপজেলার সর্ব-দক্ষিণে দোহাজারী পৌরসভার অবস্থান। চট্টগ্রাম জেলা সদর থেকে এ পৌরসভার দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার এবং চন্দনাইশ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার। এ পৌরসভার উত্তরে ধোপাছড়ি ইউনিয়ন, হাশিমপুর ইউনিয়নসাতবাড়িয়া ইউনিয়ন; পশ্চিমে হাশিমপুর ইউনিয়ন, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন, সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নধর্মপুর ইউনিয়ন; দক্ষিণে সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়ন, কালিয়াইশ ইউনিয়ন, ধর্মপুর ইউনিয়নবাজালিয়া ইউনিয়ন এবং পূর্বে ধোপাছড়ি ইউনিয়নসাতকানিয়া উপজেলার পুরাণগড় ইউনিয়ন অবস্থিত।

প্রতিষ্ঠাকাল[সম্পাদনা]

দোহাজারী ইউনিয়ন পূর্বে পটিয়া উপজেলাধীন ২৪নং দোহাজারী ইউনিয়ন পরিষদ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে এটি চন্দনাইশ উপজেলাধীন ৯নং দোহাজারী ইউনিয়ন পরিষদ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সালের ১১ মে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে পৌরসভা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৮ নং আইন) এর ধারা ৪ এর উপ-ধারা (২) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার দোহাজারী ইউনিয়নকে পৌরসভায় উন্নীত করেছে।[২][৩]

নামকরণ[সম্পাদনা]

এ এলাকায় দুইটি ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবার ছিল, যার একটি হাজারী পরিবার আর একটি খাঁন পরিবার। দুই পরিবারই ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের হাজারী মানসবদার। এই দুই পরিবার থেকেই দোহাজারী নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে শোনা যায়।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

বর্তমান দোহাজারী পৌরসভা পূর্বে চন্দনাইশ উপজেলার আওতাধীন ৯নং ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে দোহাজারী ইউনিয়নকে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড সহ অন্তর্ভুক্ত করে দোহাজারী পৌর এলাকা ঘোষণা করা হয়।[৪] এটি দেশের ৩২৭তম পৌরসভা। এ পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম চন্দনাইশ থানার আওতাধীন। এটি জাতীয় সংসদের ২৯১নং নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১৪ এর অংশ। এ পৌরসভার আওতাধীন গ্রাম/এলাকাসমূহ হল:

  • দোহাজারী
  • চাগাচর
  • ঈদ পুকুরিয়া
  • জামিরজুরী
  • দিয়াকুল
  • রায়জোয়ারা
  • হাতিয়াখোলা
  • কিল্লাপাড়া
  • বারুদখানা
  • হাছনদণ্ডী (পূর্বে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল)

[৫]

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

দোহাজারী পৌরসভার স্বাক্ষরতার হার ৪৯.৬০%।[৬] এ ইউনিয়নে ২টি ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা, ১টি আলিম মাদ্রাসা, ১টি দাখিল মাদ্রাসা, ২টি স্কুল এন্ড কলেজ (১টি কারিগরি সহ), ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি কওমী মাদ্রাসা, ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা, ৩টি কিন্ডারগার্টেন ও ৩টি নূরানী কিন্ডারগার্টেন রয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

দোহাজারী পৌরসভায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। যে কোন যানবাহনে যোগাযোগ করা যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। নৌ পথে ভ্রমণ পিয়াসুদের জন্য সাঙ্গু নদী হয়েও দোহাজারীতে নির্বিঘ্নে খুব সহজে আসা-যাওয়া করা যায়।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

দোহাজারী পৌরসভায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ১টি হাসপাতাল, ১টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

দোহাজারী পৌরসভায় ৫৩টি মসজিদ, ১টি ঈদগাহ, ৭টি মন্দির ও ৪টি প্যাগোডা রয়েছে।

খাল ও নদী[সম্পাদনা]

দোহাজারী পৌরসভার দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সাঙ্গু নদী। এছাড়া পৌরসভার দক্ষিণ-পশ্চিমে চাগাচর এলাকার পাশ দিয়ে "ভরাট সাঙ্গু" এবং উত্তর পাশে জামিরজুরী ও হাছনদণ্ডী মৌজার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে "যতরখাল"। যতরখালের উপর দিয়ে ঐতিহ্যবাহী আরকান মহাসড়কের পাঠানীপুল এবং নাসিরপুল।[৭]

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারী কাঁচা বাজার হিসেবে পরিচিত দোহাজারী রেলওয়ে মাঠের বাজার। দক্ষিণ চট্টগ্রামের শস্যভাণ্ডার খ্যাত শঙ্খ চরে উৎপাদিত শাক-সবজি এ বাজারে বিক্রি হয়। দোহাজারী শহরে স্থায়ী ভাবে বসে হাজারী বাজার।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • সাঙ্গু নদী
  • দিয়াকুল সাধু আশ্রম
  • লালটিয়া রিজার্ভ ফরেস্ট

[৮]

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী[সম্পাদনা]

  • ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন: আলোকিত দোহাজারী
  • বুলেটিন: কালের আলো

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]