নোয়াখালী সদর উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নোয়াখালী সদর উপজেলা
বিভাগ
 - জেলা
চট্টগ্রাম বিভাগ
 - নোয়াখালী জেলা
আয়তন ৫৫২.৪৬ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (২০১১)
 - ঘনত্ব
৩,৩১,৪৯৩ জন
 - 

নোয়াখালী সদর বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা, এটি মাইজদি নামেই অধিক পরিচিত। সদর উপজেলা ৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। শহরের মোট জনসংখ্যা ৭৪,৫৮৫; এর মধ্যে ৫১.৫০% পুরুষ এবং ৪৮।৫০% মহিলা; জনসংখ্যার গনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫৯১৫। শহুরে লোকদের মধ্যে শিক্ষিতের হার প্রায় ৬০.৭০%। নোয়াখালী সদরের আদি নাম হচ্ছে সুধারাম। সুধারাম মজুমদার নামে এক জনহিতৈষী ব্যবসায়ীর নামানুসারে ১৮৬১ সালে সুধারাম থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ সালে যখন উপজেলা হেডকোয়ার্টার মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তখন তা ৮ কিলোমিটার উত্তরে সরিয়ে বর্তমান মাইজদিতে স্থানান্তর করে হয়। ১৯৮৩ সালে সুধারাম থানাকে নোয়াখালী সদর থানা হিসেবে নামকরণ করা হয়, যা বর্তমানের নোয়াখালী সদর উপজেলা।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

আয়তন: ৫৫২.৪৬ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২২°৩৮´ থেকে ২২°৫৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫৪´ থেকে ৯১°১৫´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে বেগমগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে সুবর্ণচর উপজেলা, পূর্বে কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) ও কবিরহাট উপজেলা, পশ্চিমে কমলনগর ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল পাকবাহিনী এ উপজেলায় প্রবেশ করে। ১৮ জুন সোনাপুর এলাকার শ্রীপুর গ্রামে পাকসেনারা ৭০ জন নিরীহ গ্রামবাসিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ৭ ডিসেম্বর এ উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  • নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ
  • খলিল ভূঁইয়া জামে মসজিদ
  • কবির পাটোয়ারী জামে মসজিদ এবং
  • শ্রীরাম ঠাকুরের মন্দির উল্লেখযোগ্য।

অন্যান্য[সম্পাদনা]

  • পাবলিক লাইব্রেরি (১৮৯৫)
  • মাইজদি কোর্ট, (১৮৪১)

প্রাকৃতিক দুর্যোগ[সম্পাদনা]

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকার বহুসংখ্যক লোকের প্রাণহানি ঘটে।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা ৩৩১৪৯৩; পুরুষ ১৬৪১০৯, মহিলা ১৬৭৩৮৪। মুসলিম ৩২৩৬৬১, হিন্দু ৭৩০১, বৌদ্ধ ৫১৫ এবং অন্যান্য ১৬।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হারঃ গড় হার ৫৯.৯০%; পুরুষ ৬২.৭৯%, মহিলা ৫৭%।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ কলেজ ১১, আইন কলেজ ১, মেডিকেল এসিস্টেন্ট ট্রেনিং স্কুল ১, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ২, পুলিশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউিট ১, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৮, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৫, মাদ্রাসা ৩১। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: নোয়াখালী সরকারি কলেজ (১৯৬৩), ব্রাদার আন্দ্রে উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৫৭), আহমদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৬), অরুণচন্দ্র আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪), নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৪), পৌরকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪০), নোয়াখালী জেলা স্কুল (১৮৫৩)।[১]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৪৯.১৫%, অকৃষি শ্রমিক ৪.৫৯%, শিল্প ০.৯৭%, ব্যবসা ১৩.৪৪%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৩.৬৭%, চাকরি ১৪.৪৬%, নির্মাণ ১.৬২%, ধর্মীয় সেবা ০.৩৪%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ২.৭৯% এবং অন্যান্য ৯.৪৫%। কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৬.৩০%, ভূমিহীন ৪৩.৭০%। শহরে ৪১.২৫% এবং গ্রামে ৫৮.৭৬% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে। প্রধান কৃষি ফসল ধান, আখ, ডাল, চীনাবাদাম, সয়াবিন, শাকসবজি। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি তিল, তিসি, পাট। প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, নারিকেল, পেঁপে, সুপারি। মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার গবাদিপশু ৩৭, হাঁস-মুরগি ৬৬। প্রধান রপ্তানিদ্রব্য নারিকেল, সুপারি, ধান, মাদুর, শুটকিমাছ।

শিল্প কারখানা[সম্পাদনা]

শিল্প ও কলকারখানা সুয়েটার কারখানা, ব্রেড ও বিষ্কুট কারখানা, কোমলপানীয় প্রস্ত্তত কারখানা, ওয়েল্ডিং কারখানা, চালকল, আটাকল, বরফকল, তেলকল। কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, তাঁতশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, বাঁশের কাজ, বেতের কাজ।

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

সদর উপজেলায় প্রায় ৫৫ টি হাটবাজার রয়েছে, উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল- মেলা ৩।

  • মাইজদী পৌরবাজার,
  • ওদয় সাদুর হাট,
  • ঠেকার হাট,
  • সোনাপুর দত্তের হাট,
  • খাসের হাট,
  • বাঁধের হাট,
  • খলিফার হাট,
  • কালা মুন্সির হাট

মেলা ও পার্বন[সম্পাদনা]

উপজেলায় বছরের বিভিন্ন সময় মোট তিনটি মেলা উদযাপিত হয়। এর মধ্যে লক্ষ্মী নারায়নপুর গ্রামের মেলা (পহেলা মাঘ) উল্লেখযোগ্য।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

ইউনিয়ন[সম্পাদনা]

নোয়াখালী সদর উপজেলায় ১৩ টি ইউনিয়ন আছে

  • চর মটুয়া ইউনিয়ন
  • আন্ডার চর ইউনিয়ন
  • অশ্বদিয়া ইউনিয়ন
  • বিনোদপুর ইউনিয়ন
  • দাদপুর ইউনিয়ন
  • ধর্মপুর ইউনিয়ন
  • এওজবালিয়া ইউনিয়ন
  • কাদির হানিফ ইউনিয়ন
  • কালাদরফ ইউনিয়ন
  • নিয়াজপুর ইউনিয়ন
  • নোয়াখালী ইউনিয়ন
  • নোয়ান্নাই ইউনিয়ন
  • পূর্ব চর মটুয়া ইউনিয়ন

বিবিধ[সম্পাদনা]

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী দৈনিক: নোয়াখালী বার্তা;

সাপ্তাহিক: আজকের উপমা, অবয়ব, নয়াবার্তা, জাতীয় নূর, দিশারী; অবলুপ্ত: নোয়াখালী হিতৈষী, ছোলতান, তানজিন, উপকূল বার্তা, পূর্ব বাঙ্গালী।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ৪, টাউন হল ১, ক্লাব ৫, সিনেমা হল ২।

বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ১৮.৬১% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৬৯.৩২%, ট্যাপ ১০.২০%, পুকুর ১৫.০৩% এবং অন্যান্য ৫.৪৫%। এ উপজেলার অগভীর নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৩৩.৪১% (গ্রামে ২৭.৪৮% ও শহরে ৬৯.৬২%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৫৩.২১% (গ্রামে ৫৭.৯৫% ও শহরে ২৪.২৮%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ১৩.৩৭% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল ৬, টিবি ক্লিনিক ১, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৫, পৌর চিকিৎসাকেন্দ্র ১, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ১৮, ক্লিনিক ৬, পশুচিকিৎসালয় ১।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ১৯৪ কিমি; নৌপথ ৩০ নটিক্যাল মাইল; রেলপথ ১০ কিমি। রেলস্টেশন ৪।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি, মহিষের গাড়ি।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


নোয়াখালী জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা/থানাঃ বেগমগঞ্জ | কোম্পানীগঞ্জ | চাটখিল | সেনবাগ | নোয়াখালী সদর | হাতিয়া | সোনাইমুড়ি | কবিরহাট | সুবর্ণচর |
  1. বাংলাপিডিয়া