লামা উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
লামা
উপজেলা
লামার অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য
লামার অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য
লামা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
লামা
লামা
বাংলাদেশে লামা উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২১°৪৬′৩০″ উত্তর ৯২°১২′০″ পূর্ব / ২১.৭৭৫০০° উত্তর ৯২.২০০০০° পূর্ব / 21.77500; 92.20000স্থানাঙ্ক: ২১°৪৬′৩০″ উত্তর ৯২°১২′০″ পূর্ব / ২১.৭৭৫০০° উত্তর ৯২.২০০০০° পূর্ব / 21.77500; 92.20000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাবান্দরবান জেলা
প্রতিষ্ঠাকাল১৯৮৫
সংসদীয় আসন৩০০ পার্বত্য বান্দরবান
সরকার
 • সংসদ সদস্যবীর বাহাদুর উশৈ সিং (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)
 • উপজেলা চেয়ারম্যানমোঃ মোস্তফা জামাল
আয়তন
 • মোট৬৭১.৮৪ বর্গকিমি (২৫৯.৪০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১,০৮,৯৯৫
 • জনঘনত্ব১৬০/বর্গকিমি (৪২০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৩৪%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৪৬৪১ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
২০ ০৩ ৫১
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

লামা বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি বান্দরবান জেলার সবচেয়ে জনবহুল উপজেলা।

আয়তন[সম্পাদনা]

লামা উপজেলার আয়তন ৬৭১.৮৪ বর্গ কিলোমিটার (১,৬৬,০১৫ একর)।[১][২]

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

বান্দরবান জেলায় লামা সহ বিভিন্ন উপজেলার অবস্থান

বান্দরবান জেলার পশ্চিম-মধ্যাংশে ২১°৩৬´ থেকে ২১°৫৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০৪´ থেকে ৯২°২৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে লামা উপজেলার অবস্থান।[২] বান্দরবান জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৯২ কিলোমিটার। এ উপজেলার দক্ষিণে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা, দক্ষিণ-পূর্বে আলীকদম উপজেলা, পূর্বে থানচি উপজেলারুমা উপজেলা, উত্তরে বান্দরবান সদর উপজেলাচট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলা এবং পশ্চিমে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা অবস্থিত।

নামকরণ[সম্পাদনা]

মূলত আহলামা রোয়া বা পাড়া থেকে লামা নামের উৎপত্তি। মাতামুহুরী নদী বিধৌত অঞ্চলে অবস্থিত লামা এর নামকরণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারো কারো মতে লামা শব্দটির অর্থ নিচের দিক বা ভাটি এলাকা। এটি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক শব্দ। পার্বত্য অঞ্চলে মাতামুহুরী নদীর ভাটি এলাকায় অবস্থিত বলেই এ অঞ্চলের নাম লামা। আবার উপজাতীদের কিংবদন্তী অনুসারে জানা যায়, বর্তমানে লামামুখ এলাকায় আহলামা নামক (যার অর্থ পরমা সুন্দরী) এক সভ্রান্ত মার্মা উপজাতি বসবাস করত। ঐ সময়ে তার আর্থিক স্বচ্ছলতার ও প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে আহলামা রোয়া বা পাড়া নামকরণ করা হয়। পরবর্তীকালে লামা খাল, লামা বাজার, মৌজা ইত্যাদি তার নামে নামকরণ করা হয়। লামায় অবস্থানরত সকল উপজাতি ও অউপজাতির বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেরা শেষোক্ত মতটি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাক-মোগল আমল[সম্পাদনা]

১৫১৪ খ্রীষ্টাব্দে ত্রিপুরা রাজা ধন মানিক্য চট্টগ্রাম দখল পূর্বক লামার পার্শ্ববর্তী চকরিয়া পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করেন। রাজা ধন মানিক্যের নামে চকরিয়ার একটি এলাকা নামকরন করা হয় মানিকপুর। এ মানিকপুরে অবস্থানরত চকরিয়া ও সাতকানিয়া এলাকার বাঙালিসহ বিভিন্ন উপজাতি সম্প্রদায় মাতামুহুরী নদীর অববাহিকা দিয়ে লামায় প্রবেশ করে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তীতে ইন্দো-মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত নৃগোষ্ঠীগুলো আমাদের প্রতিবেশী মিয়ানমারের আরাকান এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে পার্বত্যাঞ্চলে প্রবেশ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। দুটি দেশ নবম শতাব্দী হতে ষোড়শ শতাব্দী পর্যমত্ম বৃহত্তর চট্টগ্রামের উপর আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়। [৪]

মোগল আমল[সম্পাদনা]

১৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান বোমাং রাজার পূর্ব বংশধরের এক নৃপতি আরকান রাজা কর্তৃক চট্টগ্রাম গর্ভনর নিযু্ক্ত হন। ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ের কৃতিত্বস্বরূপ আরকান রাজা তাঁকে বোমাং উপাধিতে ভূষিত করেন। বোমাং অর্থ সেনাপতি বা সেনানায়ক। ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ও তার পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁ এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম দখল করে নিলে বোমাং এবং তার অনুসারীরা আরকানে প্রত্যাবর্তন করেন। চাকমা উপজাতীয় লোকজন আরাকানের মগ জাতি দ্বারা বিতাড়িত হয়ে তাদের রাজাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস শুরু করে। [৫]

ব্রিটিশ আমল[সম্পাদনা]

বার্মিজ রাজা বোধোপায়া কর্তৃক ১৭৮২ সালে আরাকান দখল করেন। মগ জনগণ(মারমারাখাইন) বার্মারাজ কর্তৃক অত্যাচারিত ও বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়ে নালিশ জানায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে। পরে তারা আরাকান থেকে বিতাড়িত হয়ে পালোংক্ষি(বর্তমান কক্সবাজার)সহ বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নেয়। তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিট্রিশ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সকে পালোংক্ষিতে পাঠানো হয় । তখন কোম্পানী পর্যায়ক্রমে তাদের সাম্রাজ্যের বিস্তার করে মাতামুহুরী নদী উপত্যকা (চকরিয়া,লামা,আলীকদম),রামু ,ঈদগাঁও,মহেশখালী (১৮০৪খ্রি.) পর্যন্ত। অপরদিকে বোমাং রাজার বংশধরেরা বান্দরবানে এসে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন এবং মারমাদের একটা বড় অংশ বৃহত্তর লামার বাসিন্দা হন । এ সময়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রায় ৫১০০ বর্গমাইল অঞ্চলকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে যথাক্রমে চাকমা সার্কেল, মং সার্কেলবোমাং সার্কেল নামকরণ করেন এবং পরবর্তীতে ১৮৬০ সালে এসব এলাকার সমন্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গঠন করা হয়। বৃহত্তর লামা বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং লামা শহরস্থ রাজবাড়ি এলাকায় তাদের প্রথম বোমাং রাজাদের প্রথম আবাস ছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে বান্দরবান সদর হচ্ছে বোমাং সার্কেল চীফ এর সদর দপ্তর। এ সার্কেলের আয়তন ১৬৬৫ বর্গমাইল এলাকা। বোমাং রাজার নিযুক্ত মৌজার হেডম্যান ও পাড়ার কারবারীর মাধ্যমে ভূমি রাজস্ব আদায় ও জনসাধারণের বিচার আচার সম্পন্ন এবং শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখা হতো। হেডম্যান কারবারীর ক্ষমতা সীমিত করা হলেও অদ্যাবধি সরকারি প্রশাসনের পাশাপাশি এ প্রথা বিরাজমান। অনেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বা প্রকৃতি পূজারী। এরা পেশায় সবাই পাহাড়ের গাত্রে/ঢালে চাষাবাদে অভ্যস্ত কৃষক। এ চাষাবাদ পদ্ধতিকে বলা হয় জুম চাষ। এতে সুবিধা অনেক। পাহাড়ের ঢালের চাষাবাদে একসাথে বেশ কয়েকটি ফসলের চাষ করা হয়ে থাকে। যেমন: ধান, তুলা, ঘষ্য, মার্ফা (এক ধরণের শশা) আদা, হলুদ আরও কতক কি শাকসবজি। প্রধানত এই পেশার জড়িত থাকার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম এর পাহাড়ি জনগণকে বলা হয় জুমিয়া বা জুম্ম জনগোষ্ঠী। প্রকৃতি পূজারীদের অনেকেই ইদানিংকালে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। এদের মধ্যে ত্রিপুরারা অগ্রগামী। লামার পার্শ্ববর্তী আলীকদমের সাথে মায়ানমারের আরাকানের সীমান্ত রয়েছে। সে সীমান্ত দিয়ে জুমচাষ উপযোগী উর্বর পাহাড়ী ভূমির সন্ধানে আলীকদম হয়ে এখানে এসে বসতি গড়ে তোলেন। পরবর্তী পর্যায়ে লোকজন বৃদ্ধি পেতে থাকলে কক্সবাজারের চকরিয়া, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা থেকে বাঙালিরা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতে এসে এখানে স্থায়ী হয়। ক্রমশ জনবসতি বৃদ্ধি পেলে ঊনিশ শতকের শুরুর দিকে গজালিয়া, লামা ও আলীকদম নিয়ে থানা প্রতিষ্ঠা হলে এতদাঞ্চল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়ার আওতায় আসে। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর লামা থানা গঠিত হয়।[৫]

পাকিস্তান আমল[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালের দেশভাগ হওয়ার পর ষাটের দশকে ভারত সরকার কর্তৃক বিতাড়িত হওয়া ত্রিপুরা রাজ্য থেকে কিছু বাঙালি পরিবারকে আলী মিয়ার নেতৃত্বে প্রথমে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, আজিজনগর ও ফাইতং এবং পরে সদর এলাকায় পুনর্বাসিত করা হয়। এরপর কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির কারণে রাঙামাটির উচ্ছেদ হওয়া লোকজনদের মধ্যে কিছু লামামুখ এলাকায় এসে পুনর্বাসিত হন। ১৯৭০ সালের ৯ অক্টোবর লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারীগজালিয়া থানাকে নিয়ে লামা মহকুমা গঠিত হয়।[৬]

স্বাধীন বাংলাদেশ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২-৭৩ সালের দিকে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার কিছু ভূমিহীন লোক এখানে বনজ দ্রব্য আহরণ করতে এসে এলাকার প্রতি মুগ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে বসতি শুরম্ন করে। ১৯৭৯-৮০ সালের দিকে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নদী ভাঙ্গা গৃহহীন ও দরিদ্র ভাসমান প্রায় ৫ হাজার পরিবারকে এখানে প্রথম পর্যায়ে পুনর্বাসিত করেন। এ সুযোগে আরও প্রায় ২ হাজার পরিবার নিজ উদ্যোগে তাদের আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় পুনর্বাসিত হন। সে থেকে দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে এখানের জনসংখ্যা। একই সাথে লামার শিক্ষা ও সংস্কৃতি, যোগাযোগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় লামার পরিচিতি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি একটি সম্ভাবনাময় উপজেলায় পরিণত হয়েছে।

১৯৭৯ সালের ৯ আগস্ট শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লামায় আগমন করে এক জনসভা শেষে টি.টি এন্ড ডি.সিস্থ লামা জেলা রেস্ট হাউসে রাত্রী যাপন করেছিলেন। তিনি লামা থানাকে বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণের জন্য জরুরী ভিত্তিতে লামা-আলীকদম সড়ক দ্রুত নির্মান, বিদ্যুতায়ন, হাসপাতাল, মহকুমা কমপ্লেক্স, হাই স্কুল সরকারী করণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের ঘোষণা দেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, ১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকার শাসনামলে প্রশাসন বিকেন্দ্রিকরণের আওতায় দেশের সকল মহকুমাকে বিলুপ্ত করে জেলা ঘোষণা করার সরকারি প্রজ্ঞাপনে লামাকে জেলা ঘোষণা করা হলেও একটি মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে তা মাত্র ৩ দিন স্থায়ী হয়। পরে লামা জেলা উপজেলা পর্যায়ে একধাপ নেমে যায়। একই সাথে বাইশারী ও গজালিয়া থানা বিলুপ্ত হয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রূপান্তরিত হয়। এতে জনমনে ক্ষোভ ও হতাশার পাশাপাশি জনগন তাদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়।[৪]

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী[সম্পাদনা]

মুক্তিযুদ্ধের সময় লামা উপজেলা ১নং সেক্টরের অধীনে ছিল। অন্যান্য এলাকার পাকবাহিনীর ব্যাপক গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের কথা জানা যায় না, কারণ লামায় পাকিস্তানের নিয়মিত বাহিনীর তেমন সক্রিয়তা ছিল না। তবে রাজাকার বাহিনী ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে গঠিত পাকিস্তান সমর্থক ফুরুইক্ষা বাহিনী ব্যাপক অত্যাচার ও হত্যাকান্ড চালিয়েছিল।[২] পার্শ্ববর্তী বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ ইপিআর এবং নিজের দল নিয়ে লামা থানা আক্রমণ করে বিরাট সাফল্য অর্জন করেন। শত্রুসেনার সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র তাদের হস্তগত হয়। এই অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে ছিল ৩৮টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল ও ৩৭০০ রাউন্ড গুলি। ওই অপারেশনে ১ জন রাজাকার নিহত ও ২ জন পুলিশ ধৃত হয়। পরে সেই পুলিশ সদস্যরাও তাদের দলে যোগ দেন।[৭] পরবর্তীতে আবদুল হামিদ ধরা পড়ে ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তাকেসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে তৎকালীন লামা থানার দক্ষিণ পাশে চাম্পাতলী প্রাইমারি স্কুল ঘরে এনে যারপরনাই অত্যাচার করা হয়। বর্তমানে লামা থানা ভবন অন্যত্র সরিয়ে ফেললেও সাবেক থানা কমপ্লেক্সের কঙ্কাল ও স্কুলের সেই নির্যাতন কক্ষ এখনও বিদ্যমান।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

১৯২৩ সালে লামা থানা গঠিত হয় এবং ১৯৮৫ সালে থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়।[২] লামা উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ লামা উপজেলা এলাকা লামা থানার আওতাধীন।

পৌরসভা[সম্পাদনা]

ইউনিয়নসমূহ[৮][সম্পাদনা]

লামা উপজেলা মানচিত্র

লামা উপজেলা ভেঙে গজালিয়া, সরই, আজিজনগর, ফাইতং নিয়ে সরই উপজেলা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।[৯]

জেলা ঘোষণার দাবি[সম্পাদনা]

আশির দশকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের আমলে দেশের ৪৭টি মহকুমাকে পুর্নাঙ্গ জেলা ঘোষণা করা হয়। সে সাথে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে গণমুখী করতে বেশ কয়েকটি এলাকাকে থানায় রপান্তরিত করা হয়। ১৯৮২-৮৩ সালে পুর্নাঙ্গ জেলা ঘোষণা করা হয় দেশের এক দশমাংশ ভূ-আয়তন পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির, কাপ্তাই, খাগড়াছড়ি, রামগড়, বান্দরবান ও লামা মহকুমাকে। একই বিবেচনায় তৎকালীন সরকার বান্দরবানের লামা মহকুমাধীন আলীকদম, গজালিয়ানাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নকে থানা ঘোষণা করে।

জনসংখ্যার সল্পতার কারণ দেখিয়ে সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত এসব জেলা ও থানা তার কিছুদিন কার্যক্রম চলার পর স্থগিত হয়ে যায়। পাশাপাশি পার্বত্য এলাকায় শুধুমাত্র আলীকদমকে থানা হিসেবে বহাল রেখে, জনবহুল বাইশারী ও গজালিয়া থানার কর্মকান্ড স্থগিত করে পুলিশ ফাঁড়িতে পরিণত করে তৎকালীণ সরকার। একই কারণে নতুন করে জেলা ঘোষিত ৪৭টি মহকুমার মধ্যে ৪২ টি মহকুমাকে পুর্ণাঙ্গ জেলা বহাল রেখে বাকি ৫টির জেলা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির কাপ্তাই, খাগড়াছড়ির রামগড় ও বান্দরবানের লামা মহকুমায় সরকার ঘোষিত জেলা কার্যক্রম স্থগিত হয়। প্রকৃতপক্ষে লামাকে জেলা না করার জন্য একটি মহলের ষড়যন্ত্রই দায়ী।

লামা জেলা ঘোষণার উদ্দেশ্য লামা পৌর এলাকার টিটিএন্ডডিসিতে ১৯৭৯ সালে ‘লামা জেলা রেস্ট হাউস’ নামে একটি রেস্ট হাউজও নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি এখন শুধুই জেলার স্মৃতি বহন করছে। ১৯৮২ সালে সরকার লামা মহকুমাকে জেলা করার জন্য স্থানীয়দের থেকে অনেক জমি অধিগ্রহণও করেছিল। জেলা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে ওই সব জমির বেশিরভাগ বেহাত হতে চলেছে।

কেবল লামা উপজেলাতেই ২-৩ লক্ষ লোকের বসবাস। এটি বান্দরবানের জনসংখ্যা ও আয়তন-উভয় দিক দিয়েই বৃহত্তম উপজেলা। উপযুক্ত আয়তন, যথেষ্ট সমতল ভূমি এবং লোকবল থাকা সত্বেও লামাকে জেলা ঘোষণা না করায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাঁচ লাখ মানুষ। এর কারণ হচ্ছে, লামা উপজেলা থেকে বান্দরবান জেলা সদরের দূরত্ব ৯৮ কিলোমিটার, আলীকদম উপজেলা থেকে ১২১ কিলোমিটার ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। এ তিন উপজেলা থেকে দুর্গম পাহাড়ি পথ বেয়ে মামলার আসামি আনা-নেয়ার কাজে পুলিশকে চরম ভোগান্তিসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভূগতে হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত কাজে এ ভোগান্তি ও আর্থিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা লামার অতি সন্নিকটে হওয়ায় সাবেক মহকুমা লামাকে জেলা ঘোষণা করা হলে এ ভোগান্তি থেকে রেহাই পাওয়ার আশা রাখে এই অঞ্চলের মানুষ। লামা জেলা বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে আসছে জনগুরুত্বপূর্ণ লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি- সকল সম্প্রদায়ের জনসাধারণ।

জেলা ঘোষণার দাবিতে লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটি,লামা নাগরিক ফোরাম,চট্টগ্রাম ও ঢাকাস্থ লামা ফোরাম প্রভৃতি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। [১০] [১১]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী লামা উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১,০৮,৯৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৬,৬১০ জন এবং মহিলা ৫২,৩৮৫ জন। মোট পরিবার ২২,৪৪৭টি।[১] মোট জনসংখ্যার ৭০.৫২% মুসলিম, ০.৩১% হিন্দু, ১৯.৬৬% বৌদ্ধ এবং ৯.৫১% খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।[২] এ উপজেলায় মার্মা, ত্রিপুরা, মুরং, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও খেয়াং উপজাতির বসবাস রয়েছে।[১২]

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী লামা উপজেলার সাক্ষরতার হার ৩৪%।[১] এ উপজেলায় ১টি ডিগ্রী কলেজ, ১টি ফাজিল মাদ্রাসা, ৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি দাখিল মাদ্রাসা, ৩টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  • কলেজ
  1. সরকারি মাতামুহুরী কলেজ
  • উচ্চ বিদ্যালয়
  1. লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  2. লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  3. লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়
  4. গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
  5. সরই উচ্চ বিদ্যালয়
  6. ফাঁসিয়াখালি উচ্চ বিদ্যালয়
  7. হায়দারনাশি উচ্চ বিদ্যালয়
  8. ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়
  • স্কুল ও কলেজ
  1. কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ
  2. চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ
  3. হলি চাইল্ড স্কুল ও কলেজ
  • নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  1. রূপসীপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  2. ফাইতং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  3. হারগাজা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
  • মাদ্রাসা
  1. লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা
  2. লাইনঝিরি মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, লামা পৌরসভা
  3. তামিরে মিল্লাত ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা,আজিজনগর
  4. হায়দারনাশী ইসলামিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা,ফাঁসিয়াখালি

[১৩] [১৪]

অর্থনীতি ও সম্ভাবনা[সম্পাদনা]

লামায় প্রায় ১৫শটি রাবার বাগান ও সাড়ে ৭শ বিভিন্ন ফলফলাদির হর্টিকালচার বাগান রয়েছে। এসব রাবার বাগান থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমান রাবার উৎপন্ন হয়। যাহা জাতীয় রাজস্ব আয়ে ব্যাপক অবদান রাখছে। এটিকে নিয়ে রাবার শিল্প গড়ে এখানে তোলা সম্ভব ফাঁসিয়াখালীর ইয়াংছা এলাকার মিজ্ঝিরিতে গ্যাস ও রূপসীপাড়ায় কয়লার খনি আছে। যা থেকে কয়লা ও গ্যাস উত্তোলন সম্ভব। এছাড়া এখানের পাহাড়গুলোতে বিপুল পরিমাণ উন্নত মানের খনিজ পাথর ও বালু সম্পদ রয়েছে। যা দিয়ে সিমেন্ট কারখানাসহ সিরামিক শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। এখানে রয়েছে অসংখ্য পাহাড় ও ঝিরি। এসব এলাকায় দুই পাহাড় ও ঝিরিতে কৃত্রিম জলাশয় সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যাপক মৎস্য চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। যা দ্বারা দেশে আমিষ সংকট নিরসন সম্ভব। তাছাড়াও এখানের পতিত পাহাড়ী ভূমি রয়েছে। এসব পতিত পাহাড়ি ভূমিতে প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। পাহাড়ে হাজার হাজার একর ভূমি জুড়ে প্রাকৃতিকভাবে রয়েছে বাঁশ, বেত ও বৃক্ষ। এসব বনজ সম্পদ দিয়ে স্থানীয়ভাবে কাগজ ও ফানির্চার শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। এখানে আখ, ভূট্টা, কাসাপা, পাম অয়েল, কপি, কমলা ও চা চাষের জন্য এখানের পাহাড়ি মাটি ও জলবায়ু খুবই উপযোগী। এসব উৎপাদনের মাধ্যমে লামায় শিল্প কারখানা গড়ে উঠার সম্ভাবনা থাকলেও সরকারের পৃষ্টপোষকতার অভাবে তা হয়ে বানিজ্যিক ভাবে গড়ে উঠেনি। এতদাঞ্চলে উৎপাদিত মৌসুমী ফল, আদা, হলুদ, রাবার, বাঁশ ও কাঠ কেন্দ্রীক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে এখানকার উৎপাদিত পন্য যেমন কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারত; তেমনি এলাকার হাজার হাজার শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থানের সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরম্নত্বপূর্ণ ভুমিকা রখতে সক্ষম হত। দেশের একটি অর্থকারী ফসল তামাক। উপজেলায় রবি মৌসুমে প্রচুর পরিমানে তামাক চাষ হয়। শতকরা ৯০ জন চাষী তামাক চাষ করে থাকেন। এখানে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির(BATB), জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (JTI) এর তামাক ব্যবসা রয়েছে। অপরদিকে লামার পাহাড় ও নদী ঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্যে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। এখানকার প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্য এবং উপজাতীয় জনগোষ্টির জীবনধারাকে পূঁজি করে এখানে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে পাহাড়ী জনপদ লামার পরিচয় ছড়িয়ে পড়তে পারে দেশে থেকে বিদেশে। বর্তমানে লামার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকা, সাবেক বিলছড়ি মহামুনি বৌদ্ধ বিহার, সরই এলাকার কোয়ান্টাম শিশু কানন এবং পাহাড়ের গা দিয়ে বয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদীর সৌন্দর্য আগন্তুকদের মুগ্ধ করে। সরকারি সহযোগিতায় এসকল পর্যটন এলাকাগুলো আধুনিকায়ন করা হলে তা নিশ্চিত এতদাঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাবে। [১৫]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

মাতামুহুরী নদী পথেই লামার সাথে দেশের অন্যান্য এলাকাবাসীর প্রথম যোগাযোগের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে মরহুম জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৬ ইসিবি গঠন করে লামা আলীকদম ও ফাঁসিয়াখালী সড়কের নির্মান কাজ শুরু করেন। তখন প্রথম অধিনায়ক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান লে. জেনারেল(অব.) মাহাবুবুর রহমান। ১৯৮৭ সালে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। পরবর্তীতে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ আলীকদমে এক জনসভার মাধ্যমে সড়কের শুভ উদ্ভোধন করেন। এরশাদ সরকারের আমলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য আজিজনগর-গজালিয়া, গজালিয়া-লামা ও ফাইতং-লামা সড়ক নির্মাণ করা শুরম্ন করা হলেও এখনো শেষ হয়নি। এর পাশাপাশি ১৯৯১সালে বিএনপি সরকারের আমলে লামা-সুয়ালক সড়কটি এলজিইডির মাধ্যমে নির্মিত হয়। যাহা এখনো অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বর্তমানে উপজেলায় ৩৬২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে কার্পেটিং ৫১ কিঃ মিটার, এইচবিবি ৬৮ কিঃ মিটার ও কাঁচা ২৪৩ কিঃ মিটার। লামা উপজেলায় বর্তমানে যোগাযোগের প্রধান প্রধান সড়কগুলো হল বান্দরবান-লামা এবং চকরিয়া-লামা সড়ক। প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম পূর্বাণী চেয়ারকোচ এবং জীপগাড়ি। [৪]

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

লামা উপজেলায় ৩৫টি মসজিদ, ৫টি মন্দির ও ১৮টি বিহার ও ১৫টি গীর্জা রয়েছে।[২]

নদ-নদী[সম্পাদনা]

মাতামুহুরী নদী ও পাহাড়ের মিতালি

লামা উপজেলার মধ্যাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মাতামুহুরী নদী। এছাড়া রয়েছে লামা খাল এবং ইয়াংছা খাল।[১৬]

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

লামা উপজেলায় মোট ১৭টি হাট-বাজার রয়েছে। এর মধ্যে লামা সদর বাজার, লামামুখ বাজার, লাইনঝিরি বাজার, গজালিয়া বাজার, রূপসীপাড়া বাজার, ইয়াংছা বাজার, আজিজনগর বাজার উল্লেখযোগ্য।[১৭]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

লামা ও মাতামুহুরী নদী

লামা উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে:[১৮]

  • কোয়ান্টাম শিশু কানন, সরই
  • নুনার বিলপাড়া পালিটুল বৌদ্ধ বিহার
  • ফাঁসিয়াখালী রাবার বাগান
  • ভিউ পয়েন্ট অফ লামা উপজেলা
  • মাতামুহুরী নদী ও সেতু
  • মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স
  • শীলের তুয়া স্থিত চংবট ম্রো পাড়া ও পাহাড়
  • সাবেক বিলছড়ি বৌদ্ধ বিহার

জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন[সম্পাদনা]

সংসদীয় আসন
সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[১৯] সংসদ সদস্য[২০][২১][২২][২৩][২৪] রাজনৈতিক দল
৩০০ পার্বত্য বান্দরবান বান্দরবান জেলা বীর বাহাদুর উশৈ সিং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন
ক্রম নং পদবী নাম
০১ উপজেলা চেয়ারম্যান[২৫] মো. মোস্তফা জামাল
০২ ভাইস চেয়ারম্যান[২৫] মো. জাহেদ উদ্দিন
০৩ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান[২৫] মিল্কি রানী দাশ
০৪ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা[২৬] নুর ই জান্নাত রুমি

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি[সম্পাদনা]

  1. মরহুম আলী মিয়া চেয়ারম্যান: লামা উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান, মাতামুহুরী কলেজসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা, ষাটের দশকে তাঁর নেতৃত্বে ত্রিপুরা থেকে বাঙালি উদ্বাস্তুরা লামায় বসতি স্থাপন করে।
  2. মরহুম নুর আহমদ পোস্টমাস্টার:লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ,সমাজসেবক,রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠক, লামায় প্রথম দিকে বসতি স্থাপন করা বাঙালির একজন।
  3. প্রয়াত বাবু ম্রা থোয়াই অং চৌধুরী:গজালিয়া ইউনিয়নের টানা তিন দশকের বেশি সময়ের চেয়ারম্যান, সমাজসেবক।
  4. মরহুম মোহাম্মদ ইসমাইল চেয়ারম্যান:লামা পৌরসভার প্রথম মেয়র ও লামা উপজেলার সাবেক ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান,সমাজসেবক।
  5. আনোয়ারা বেগম আনু:বিশিষ্ট উন্নয়নকর্মী, একতা মহিলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক।
  6. রুহুল আমিন:বিশিষ্ট লেখক সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, সামাজিক সংগঠক,লামা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং লেখক "অরণ্যরানী লামা"।

[২৭]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ইউনিয়ন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত জাতীয় তথ্য" (PDF)web.archive.org। Wayback Machine। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৯ 
  2. "লামা উপজেলা - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org 
  3. "নামকরণ - লামা উপজেলা - লামা উপজেলা"lama.bandarban.gov.bd 
  4. http://lama.bandarban.gov.bd/site/page/d866aa26-2144-11e7-8f57-286ed488c766/%E0%A6%87%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%20%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87%20%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE
  5. http://lama.bandarban.gov.bd/site/page/9314a4ce-2144-11e7-8f57-286ed488c766/%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A6%9F%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%AE%E0%A6%BF
  6. http://lama.bandarban.gov.bd/site/page/9314b034-2144-11e7-8f57-286ed488c766/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%20%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC
  7. শহীদ আবদুল হামিদ 'যার রক্তে মুক্ত এ দেশ' (এ. কে. এম গিয়াসউদ্দীন), বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবদুল হামিদ স্মারকগ্রন্থ, সম্পাদনাঃ নাজমা ইয়াছমীন, প্রথম প্রকাশ ২৩ নভেম্বর ২০০৭
  8. "ইউনিয়ন সমূহ - লামা উপজেলা - লামা উপজেলা"lama.bandarban.gov.bd 
  9. http://gmnewsbd.com/archives/5339
  10. https://ctgpratidin.com/%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%98%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%80-%E0%A6%89/
  11. https://archive.bbarta24.net/whole-country/2016/09/20/51344
  12. "জনসংখ্যা - লামা উপজেলা - লামা উপজেলা"lama.bandarban.gov.bd 
  13. "Schools/Colleges in LAMA - Bangladesh School, College Directory"edu.review.net.bd 
  14. "অরণ্য রানী লামা"। লেখকঃ মোঃ রুহুল আমিন
  15. http://lama.bandarban.gov.bd
  16. "নদ নদী - লামা উপজেলা - লামা উপজেলা"lama.bandarban.gov.bd 
  17. "হাটবাজার - লামা উপজেলা - লামা উপজেলা"lama.bandarban.gov.bd 
  18. "দর্শনীয় স্থান - লামা উপজেলা - লামা উপজেলা"lama.bandarban.gov.bd 
  19. "Election Commission Bangladesh - Home page"www.ecs.org.bd 
  20. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (PDF)ecs.gov.bdবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। ২ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  21. "সংসদ নির্বাচন ২০১৮ ফলাফল"বিবিসি বাংলা। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  22. "একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল"প্রথম আলো। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  23. "জয় পেলেন যারা"দৈনিক আমাদের সময়। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  24. "আওয়ামী লীগের হ্যাটট্রিক জয়"সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  25. "জন প্রতিনিধি - লামা উপজেলা - লামা উপজেলা"lama.bandarban.gov.bd 
  26. "খিন ওয়ান নু - লামা উপজেলা - লামা উপজেলা"lama.bandarban.gov.bd 
  27. বাংলা একাডেমি বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালাঃবান্দরবান। প্রকাশকালঃ জুন ২০১৪। ISBN 9 840-7-5320-7

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]