মিজোরাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মিজোরাম
ভারতের রাজ্য
মিজোরামের অফিসিয়াল সীলমোহর
সীলমোহর
ভারতে মিজোরামের অবস্থান (লাল রঙে চিহ্নিত)
ভারতে মিজোরামের অবস্থান (লাল রঙে চিহ্নিত)
স্থানাঙ্ক (আইজল): ২৩°২২′উত্তর ৯২°৪৮′পূর্ব / ২৩.৩৬° উত্তর ৯২.৮° পূর্ব / 23.36; 92.8স্থানাঙ্ক: ২৩°২২′উত্তর ৯২°৪৮′পূর্ব / ২৩.৩৬° উত্তর ৯২.৮° পূর্ব / 23.36; 92.8
দেশ  ভারত
অঞ্চল উত্তর-পূর্ব ভারত
গঠন ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭
রাজধানী আইজল
বৃহত্তম শহর আইজল
জেলা 8
সরকার
 • রাজ্যপাল আজিজ কোরেশি [১]
 • মুখ্য মন্ত্রী Pu Lalthanhawla (কংগ্রেস)
 • আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট (৪০ সিট)
 • সংসদীয় আসন
 • হাইকোর্ট গৌহাটি হাইকোর্ট
আয়তন
 • মোট ২১০৮৭ কিমি (৮১৪২ বর্গমাইল)
এলাকার ক্রম ২৪তম
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ১০,৯১,০১৪
 • ক্রম ২৭তম
 • ঘনত্ব ৫২/কিমি (১৩০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চল IST (ইউটিসি+০৫:৩০)
আইএসও ৩১৬৬ কোড IN-MZ
সাক্ষরতা ৯১.৫৮%[২](৩য়)২০১১ আদমশুমারি
রাষ্ট্রভাষা মিজো[৩]
ওয়েবসাইট mizoram.gov.in
এটি মিজোরামের রাজ্য আইন, ১৯৮৬ কর্তৃক একটি পূর্ণ রাজ্যাবস্থায় উন্নীত করা হয়।


মিজোরাম (ইংরেজি উচ্চারণ: শুনুনi/ˌmɪzrəm/) উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি রাজ্যআইজল মিজোরামের রাজধানী। মি (জাতি), জো (পাহাড়) এবং রাম (ভূমি), এই তিনটি শব্দ থেকে উদ্ভুত মিজোরাম বলতে "পাহাড়ি জাতির ভূমি" বোঝায়।[৪] ভারতের উত্তর-পূর্বে, এটি সর্বদক্ষিণের স্থলবেষ্টিত রাজ্য এবং ভারতের সাতভগিনী রাজ্যের ত্রিপুরা, আসাম, মণিপুর এই তিনটি রাজ্যের সাথে যার সীমানা রয়েছে। এর আয়তন ২১০৮৭ বর্গকিলোমিটার। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের প্রায় ৭২২ কিলোমিটার একালা নিয়ে মিজোরামের ষীমানা অবস্থিত।[৫] এর সর্বমোট আয়তন ২১,০৮৭।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মিজোদের উৎপত্তি, ভারতের উত্তর-পূর্বের অন্যান্য আদিবাসীদের মতো রহস্যময়।

ভূগোল[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: মিজোরামের ভূগোল
চিম্পটুইপুই (উপরে) এবং টুইপুই নদী

মিজোরামের উত্তর-পূর্ব ভারত একটি একটি স্থলবেষ্টিত রাজ্য যার দক্ষিণাংশে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের প্রায় ৭২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা রয়েছে, এবং উত্তরাংশের সীমানায় মণিপুর, আসাম ও ত্রিপুরা অবস্থিত। এটি ২১.০৮৭ কিমি (৮,১৪২ বর্গ মাইল) বিষিষ্ট ভারতের পঞ্চম ক্ষুদ্রতম রাজ্য। এটি ২১°৫৬'উত্তর থেকে ২৪°৩১'উত্তর, এবং ৯২°১৬'পূর্ব থেকে ৯৩°২৬'র্পর্ব পর্যন্ত বিস্তৃত।[৬] কর্কটক্রান্তি প্রায় এ রাজ্যের মাঝখান দিয়ে সঞ্চালিত হয়েছে। সর্বাধিক উত্তর-দক্ষিণ দূরত্ব ২৮৫ কিমি, এবং সর্বোচ্চ পূর্ব-পশ্চিমে প্রসারিত ১১৫ কিমি. পর্যন্ত।

জলবায়ু[সম্পাদনা]

মিজোরামের হালকা জলবায়ু বিরাজমান, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৯° সে (৬৮ থেকে ৮৪° ফা) থাকে, এবং শীতকালে তাপমাত্রা পরিসীমা থেকে ৭ থেকে ২২°সে (৪৫ থেকে ৭২° ফা) তাপমাত্রা। এই অঞ্চল মৌসুমী বায়ু দ্বারা প্রভাবিত, শুষ্ক (ঠান্ডা) মৌসুমে সামান্য বর্ষণের পাশাপাশি মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হয়ে থাকে।

আইজল, মিজোরামের রাজধানী-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
সর্বোচ্চ °সে (°ফা) গড় ২০٫৪
(৬৯)
২১٫৭
(৭১)
২৫٫২
(৭৭)
২৬٫৮
(৮০)
২৬٫৩
(৭৯)
২৫٫৫
(৭৮)
২৫٫৩
(৭৮)
২৫٫৫
(৭৮)
২৫٫৭
(৭৮)
২৪٫৭
(৭৬)
২৩٫০
(৭৩)
২১٫০
(৭০)
২৪٫২৬
(৭৫٫৬)
সর্বনিম্ন °সে (°ফা) গড় ১১٫৪
(৫৩)
১২٫৮
(৫৫)
১৫٫৬
(৬০)
১৭٫৫
(৬৪)
১৮٫১
(৬৫)
১৮٫৯
(৬৬)
১৯٫১
(৬৬)
১৯٫১
(৬৬)
১৯٫২
(৬৭)
১৮٫০
(৬৪)
১৫٫১
(৫৯)
১২٫২
(৫৪)
১৬٫৪২
(৬১٫৬)
গড় অধঃক্ষেপণ মিমি (ইঞ্চি) ১৩٫৪
(০٫৫৩)
২৩٫৪
(০٫৯২)
৭৩٫৪
(২٫৮৯)
১৬৭٫৭
(৬٫৬)
২৮৯٫০
(১১٫৩৮)
৪০৬٫১
(১৫٫৯৯)
৩২০٫৪
(১২٫৬১)
৩২০٫৬
(১২٫৬২)
৩০৫٫২
(১২٫০২)
১৮৩٫৭
(৭٫২৩)
৪৩٫২
(১٫৭)
১৫٫৩
(০٫৬)
২,১৬১٫৪
(৮৫٫০৯)
উৎস: [৭]

ভাষা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: মিজো ভাষা

মিজোরামের রাষ্ট্রভাষা এবং মৌখিক পারস্পরিক ক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ভাষা হল মিজো, কিন্তু শিক্ষা, প্রশাসন, আনুষ্ঠানিকতা এবং র্রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য ব্যাপকভাবে ইংরেজি ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও লুশাই নামে পরিচিত, দুহলিয়ান উপভাষা ছিল মিজোরামের প্রথম ভাষা যা মিজো ভাষা হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। হ্মার, মারা, লাই, পেইত, গাঙতে ইত্যাদি উপভাষায় সাথেও এই ভাষা মিশ্রিন ঘটেছে। খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের মিজো লিপি উন্নত করে। রোমান লিপির সংমিশ্রণে এবং একটি ধ্বনিবিজ্ঞান-ভিত্তিক বানান পদ্ধতি বিশিষ্ট ট্রেসের সাথে হান্তরিয়ান লিপ্যন্তর পদ্ধতিতে এই ভাষার লিখন পদ্ধতি গড়ে ওঠে। মিজো বর্ণমালার ২৫টি অক্ষর রয়েছে: A, AW, B, CH, D, E, F, G, NG, H, I, J, K, L, M, N, O, P, R, S, T, Ṭ, U, V, Z। মিজো ভারতের রাষ্ট্রভাষাসমূহের (রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে) মধ্যে একটি। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হিন্দি সকল শিক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যিক বিষয় এবং এখানে এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার রয়েছে।[৮] এছাড়াও রাজ্যের নেপালি অভিবাসী কর্তৃক নেপালি ভাষা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ধর্ম[সম্পাদনা]

thumb|ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ তিনটি খৃস্টান রাজ্যের মধ্যে মিজোরামের একটি। মিজোরামে একটি গির্জা বড়দিন ২০১৩ উপলক্ষে সজ্জিত। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুসারে মিজোরামের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ (৮৭%) মিজো খৃস্টান ধর্মালম্বী যারা প্রধানত প্রেসবিটারিয়ান,[৯] বাকি জনসংখ্যার ৮.৩% বৌদ্ধ, ৩.৬% হিন্দু ধর্মালম্বী। কয়েক হাজার মানুষ রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নৃতাক্তিক মিজো, যারা ইহুদী ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় ১.১% মুসলিম। মিজোরামে বেশিরভাগ মুসলমান জাতিগতভাবে রোহিঙ্গা। অবশিষ্ট ৩,০০০ মানুষ শিখ, জৈন এবং অন্যান্য ধর্মালম্বী।[৯]

মিজোরামে ধর্ম[৯]
ধর্ম শতকরা হার
খ্রিস্ট ধর্ম
  
৮৭.৯৭%
বৌদ্ধ ধর্ম
  
৬.৯৩%
হিন্দুধর্ম
  
৩.৫৫%
ইসলাম
  
১.১৩%
অন্যান্য
  
০.৩৩%
খ্রিস্ট ধর্ম
এটিসি, মিজোরাম

মিজোরাম প্রেসবিটারিয়ান গীর্জার প্রধান খৃস্টান সম্প্রদায়, যা একজন ওয়েলশ ধর্মপ্রচারক রেভারেন্ড ডি.ই. জোন্স কর্তৃক ১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।[১০] ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের সময়, লুশাই আদিবাসী জাতির ৮০% খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়।[১১]

বৌদ্ধ ধর্ম

২০০১ সালের আদমশুমারি প্রতিবেদন অনুযায়ী মিজোরামের জনসংখ্যার প্রায় ৭০.৪৯৪ জন মানুষ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।

হিন্দুধর্ম

২০০১ সালের আদমশুমারি প্রতিবেদন অনুযায়ী মিজোরামের প্রায় ৩১.৫৬২ জন হিন্দু ধর্মের অনুসারী, যা মোট জনসংখ্যার শতকারা ৩.৫৫%।

অন্যান্য

এছাড়াও মিজোরামের কিছু সংখ্যক মানুষ ইহুদি ধর্ম অনুশীলন করে থাকে, ২০০১ সালের আদমশুমারি প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের সংখ্যা প্রায় ৮৬৬ জন।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

জেলা[১২] জনসংখ্যা
(২০১১)
জনসংখ্যা ঘনত্ব
কিমি প্রতি
আইজল ৪০০,৩০৯ ১১৭
লুংলেই ১৬১,৪২৮ ৩৫
চাম্ফাই ১২৫,৭৪৫ ৩৭
Lawngtlai ১১৭,৮৯৪ ৩৯
Mamit ৮৬,৩৬৪ ২৯
কোলাসিব ৮৩,৯৫৫ ৫৬
Serchhip ৬৪,৯৩৭ ৪৭
Saiha ৫৬,৫৭৪ ৫২

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://mizoram.nic.in/gov/governor.htm
  2. "Census Population"Census of India। Ministry of Finance India। সংগৃহীত ৭ আগস্ট ২০১২ 
  3. Commissioner, Linguistic Minorities, 41st report: July 2002 - June 2003, পৃ: paras ২৮.৪, ২৮.৯, আসল থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৭-এ আর্কাইভ করা, সংগৃহীত ১৬ জুলাই ২০০৭ 
  4. Sajnani, Encyclopaedia of Tourism Resources in India, Volume 1, ISBN 81-78350173, page 241
  5. About Mizoram DIRECTORATE OF INFORMATION & PUBLIC RELATIONS, Government of Mizoram
  6. Rintluanga Pachuau,pagal Mizoram: A Study in Comprehensive Geography, ISBN 978-81-7211-264-6, Chapter 3
  7. "Monthly mean maximum & minimum temperature and total rainfall based upon 1901–2000 data" (PDF)। India Meteorology Department। পৃ: ৮। সংগৃহীত ২০ জুন ২০১৪ 
  8. "It’s time to learn Hindi in Mizoram"indegenousherald.com (Agartala)। জুলাই ২০০৮। সংগৃহীত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 
  9. ৯.০ ৯.১ ৯.২ "Mizoram", Population by religious communities, IN: Census, ২০০১ .
  10. T Raatan, Encyclopaedia of North-east India: Arunachal Pradesh, Manipur, Mizoram; ISBN 978-8178350684
  11. C. Nunthara (2002), Mizoram: Society and Polity, ISBN 978-8173870590, pp 59-63
  12. জেলা মিজোরাম সরকার

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  1. B. Hamlet, Encyclopaedia of North-East India: Mizoram, Volume 5, ISBN 8170997925
  2. C. Nunthara, Mizoram: Society and Polity, ISBN 978-8173870590
  3. T. Raatan, Encyclopaedia of North-east India: Arunachal Pradesh Manipur Mizoram, ISBN 978-8178350684
  4. Zoramdinthara, Mizo Fiction: Emergence and Development, ISBN 978-93-82395-16-4

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]