শালিক
| শালিক | |
|---|---|
| হিলডাব্রান্টের শালিক, Lamprotornis hildebrandti | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ: | Animalia |
| পর্ব: | কর্ডাটা |
| শ্রেণী: | পক্ষী |
| বর্গ: | Passeriformes |
| উপবর্গ: | Passeri |
| পরিবার: | Sturnidae Rafinesque, 1815 |
| গণ | |
|
প্রায় ৩০টি। | |
শালিক পাখি Sturnidae (স্টার্নিডি) গোত্রের অন্তর্গত সকল পাখি। এরা ছোট ও মাঝারি আকারের বৃক্ষচর পাখি। স্টার্নিডি নামটি লাতিন Sturnus থেকে এসেছে যার অর্থ শালিক। অধিকাংশ বড় আকৃতির এশীয় শালিক প্রজাতি ময়না নামে পরিচিত। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং বিষুবীয় অঞ্চলের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোতে শালিক দেখা যায়। কয়েক প্রজাতির এশীয় ও ইউরোপীয় শালিক প্রজাতিকে উত্তর আমেরিকা, হাওয়াই ও নিউজিল্যান্ডে অবমুক্ত করা হয়েছে।
শালিক বেশ কয়েক ধরনের হয়। সাদা-কালো শালিককে ডাকা হয় গো-শালিক বা গোবরে-শালিক নামে। এদের ঠোঁটের রং গাঢ় কমলা-হলুদ এবং চোখের মণি হালকা হলুদ রঙের। অন্যদিকে ঝুঁটি-শালিকও সাদা-কালো রঙের হয় কিন্তু এর মাথায় একটি ঝুঁটি রয়েছে। গাঢ় বাদামি শালিককে বলা হয় ভাত শালিক। এদের ঠোঁট ও পা উজ্জ্বল হলুদ রঙের। এর বাইরেও রয়েছে গাঙশালিক, বামন-শালিক ইত্যাদি।
শালিকের স্বরতন্ত্রী বেশ জটিল হওয়ায় এদের ডাক বিচিত্র ও বিভিন্ন স্বরে ওঠানামা করে। এরা খুব সহজেই আশেপাশের আওয়াজ আর মানুষের কথা অনুকরণ করতে পারে। এরা মানুষের গলার স্বর শুনে নির্দিষ্ট কাউকে চিনতে সক্ষম এবং বর্তমানে এরা মানব ভাষা বিষয়ক গবেষণার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।[১] গায়ক পাখি হিসেবেও শালিকের সুনাম রয়েছে, তবে কাঠ-শালিক সবচাইতে ভালো গাইতে পারে। প্রায় সব প্রজাতির শালিকই বিভিন্ন স্বরে ডাকতে পারে এবং অন্য শালিকের কণ্ঠ নকল করতে পারে।
সামাজিক পাখি হিসেবে শালিকের সুনাম রয়েছে। এরা দলবেঁধে ডাকে ও ঝগড়াঝাঁটিও করে।
বংশবিস্তার করার সময়, বেশিরভাগ প্রজাতি গর্তে বাসা বাঁধতে পছন্দ করে, যেমন গাছের ফাঁপা অংশে বা ভবনের ফাটলে। সাধারণত এরা নীল বা সাদা ডিম পাড়ে। শালিক সাধারণত ইংরেজি এপ্রিল মাস অথবা বাংলা বৈশাখ মাসে ডিম পাড়ে। সাধারণত শালিকের বাসা বাঁধতে সময় লাগে ৫-৭ দিন; তবে গো-শালিক ১০-১৫ দিন সময় নেয়। শালিক একবারে ৩-৭টি ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটতে বাচ্চা শালিক জন্ম নিতে সময় লাগে ১৫-২১ দিন। বাচ্চা শালিকগুলো সাধারণত ১৯-২৭ দিন সময় হয় উড়তে শেখার জন্য। শালিকের জীবনকাল ৫ থেকে ৭ বছর হয়ে থাকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নয় বছরও বাঁচে।
এই পাখিদের পা খুব শক্তিশালী, যা তাদেরকে সহজে মাটিতে হাঁটতে ও ডালে ভালোভাবে বসতে সাহায্য করে। তাই তাদের উড়ানও শক্তিশালী ও সোজাসুজি হয়, অর্থাৎ তারা সাধারণত বাতাসে ভেসে বা চক্কর না মেরে সরাসরি ও দ্রুত উড়ে যায়। এরা আবার খুবই সামাজিক (দলবদ্ধ), তাই বেশিরভাগ সময় দল বেঁধে থাকে, একা নয়।
তাদের প্রিয় বাসস্থান হলো খোলা জায়গা, যেমন মাঠ, তৃণভূমি বা অল্প গাছপালা-ঘেরা এলাকা। খাবারের দিক দিয়ে এরা পোকামাকড় ও ফল খায়। আবার কিছু প্রজাতি মানুষের বসতির কাছাকাছি থাকে এবং প্রায় সব ধরনের খাবার খায়, ফলে এরা কার্যত সর্বভুক (omnivores)। সামাজিক পাখি হিসেবে শালিকের খাদ্য তালিকায় বেশ কিছু পরিচিত খাবার রয়েছে যেমন: সমাজের উচ্ছিষ্ট খাবার ভাত চাল তরিতরকারির উৎকৃষ্ট খাবার খায়, এছাড়াও শালিক বিভিন্ন পোকামাকড় খায়।
তাদের খাবার খোঁজার একটি বিশেষ কৌশল আছে। অনেক প্রজাতি গ্রাব (পোকামাকড়ের শূককীট বা লার্ভা) ধরতে একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে যাকে বলে “ওপেন-বিল প্রোবিং”। এই কৌশলে পাখি প্রথমে তার বন্ধ ঠোঁট ফাটল বা গর্তে ঢুকিয়ে দেয়, তারপর হঠাৎ জোরে ঠোঁট খুলে দেয়। এর ফলে গর্তটা প্রশস্ত হয় এবং ভেতরে লুকিয়ে থাকা শিকার বেরিয়ে আসে। জার্মান ভাষায় এই আচরণকে বলা হয় “zirkeln” (উচ্চারণ: [ˈtsɪʁkl̩n])।[২]
সকল ময়নাই শালিক পাখির অন্তর্গত, কিন্তু সকল শালিক ময়না নয়।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Zimmer, Carl. "Starlings' Listening Skills May Shed Light on Language Evolution". The New York Times, May 2, 2006. Accessed 14 January 2009.
- ↑ East, R.; Pottinger, R.P. (১ নভেম্বর ১৯৭৫)। "Starling (Sturnus vulgaris L.) predation on grass grub (Costelytra zealandica (White), Melolonthinae) populations in Canterbury"। New Zealand Journal of Agricultural Research। ১৮ (4): ৪১৭–৪৫২। ডিওআই:10.1080/00288233.1975.10421071। আইএসএসএন 0028-8233।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Starling videos ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে the Internet Bird Collection.
- A murmuration of starlings (ভিডিও)
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |