উখিয়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
উখিয়া
উপজেলা
উখিয়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
উখিয়া
উখিয়া
বাংলাদেশে উখিয়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২১°১৭′১২″ উত্তর ৯২°৫′৫১″ পূর্ব / ২১.২৮৬৬৭° উত্তর ৯২.০৯৭৫০° পূর্ব / 21.28667; 92.09750স্থানাঙ্ক: ২১°১৭′১২″ উত্তর ৯২°৫′৫১″ পূর্ব / ২১.২৮৬৬৭° উত্তর ৯২.০৯৭৫০° পূর্ব / 21.28667; 92.09750 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা কক্সবাজার জেলা
আয়তন
 • মোট ২৬১.৮০ কিমি (১০১.০৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ২,০৭,৩৭৯
 • ঘনত্ব ৭৯০/কিমি (২১০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৩৬.৬%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

উখিয়া উপজেলা বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।

অবস্থান[সম্পাদনা]

কক্সবাজার সদর হতে প্রায় ২৯ কিঃমিঃ দূরত্বে উপজেলাটির অবস্থান। টেকণাফ, রামু ও নাইক্ষাংছড়ি উপজেলার সাথে উখিয়ার সীমান্ত রয়েছে। উপজেলার প্রান্ত ছুঁয়েছে মায়ানমার সীমান্ত। উপজেলার পাশ দিয়ে আছে বঙ্গপোসাগর। উপজেলাটি অতীতে গভীর জঙ্গলে পূর্ণ ছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রেকর্ডপত্র “উখিয়া” শব্দের ব্যবহার ব্যাপকভাবে দেখা যায়। সি এস রেকর্ডে “উখিয়া” নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির রেকর্ড-পত্রে উখিয়ার ঘাট শব্দের উদ্ভব। অনেকেই মনে করেন, “উখিয়া ঘাট” থেকে ঘাট শব্দ বাদ দিয়ে উখিয়া শব্দের উতপত্তি।

এই উপজেলার মানুষ সাধারনত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। ঐতিহাসিক ভাবে এ অঞ্চলের মানুষের সাথে বর্তমান মায়ানমার পুর্বে যাকে আরাকান নামে অভিহিত করা হতো তাদের সাথে ব্যাপক গমনাগমনের সর্ম্পক ছিল যা এখনও সীমিত আকারে হলেও অটুট রয়েছে। এ কারণে আরকানের ভাষার কিছু কিছু উপাদান কথ্য ভাষায় মিশ্রিত হয়ে গেছে। এই উপজেলায় নৃতাত্বিক রাখাইন জনগোষ্ঠী বসবাস করে। যাদের ভাষার প্রভাব স্থানীয় ভাষায় লক্ষ্য করা যায়।

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে উখিয়া উপজেলা ছিলো এক নম্বর সেক্টরভুক্তরেরে অধীনে ১১ নম্বর উপ-সেক্টর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উখিয়ায় উল্লেখযোগ্য অপারেশনগুলো হচ্ছে :

ক) মরিচ্য অপারেশন।

ক) উখিয়া থানা অপারেশন।

গ) পালং উচ্চ বিদ্যালয় অপারেশন।

ঘ) বালুখালী রাজাকার বিরোধী অপারেশন।

ঙ) পাতাবাড়িতে বার্মা বিদ্রোহী বিতাড়ন ও অস্ত্র উদ্ধার।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

উপজেলার মোট আয়তন ২৬১.৮০ বর্গকিলোমিটার (১০১.০৮ বর্গমাইল)। উখিয়া উপজেলায় ৫ টি ইউনিয়ন আছে। ইউনিয়ন গুলো হলঃ

শিক্ষা[সম্পাদনা]

স্বাক্ষরতার হার ৩৫%

যোগাযোগ[সম্পাদনা]

কক্সবাজার -টেকণাফ সড়ক এই উপজেলার মাঝখান দিয়ে চলে গেছে। কক্সবাজার বাস টামিনার্ল থেকে প্রতিনিয়ত লোকাল বাস উখিয়ায় যাতায়াত করে। এছাড়া ঢাকা থেকে টেকণাফগামী বাসে করেও উখিয়া আসা যায়। উখিয়া থেকে ঢাকা, চট্ট্রগ্রামে যাতায়তের জন্য এস আলম, শ্যামলী, সৌদিয়া বাস সাভিসের এসি/নন এসি বাস রয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

উখিয়ার অধিবাসীদের প্রধান পেশা কৃষি। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার মানুষ নিয়মিত মাছ ধরতে গভীর সমুদ্রে চলাচল করে। এ এলাকার বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী হওয়ায় রেমিটেন্স প্রবাহ মন্দ না। অতীতে ঘন জঙ্গল থাকায় কাঠের বিশেষ করে সেগুন কাঠের ভালো ব্যবসা কেন্দ্র ছিল উখিয়া। উপজেলায় বেশ কিছু লবণের মাঠ রয়েছে।

কৃষি[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য ফসল ধান, পান, সুপারি, তরমুজ, গোল আলু। মোট আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ ১০,৮৫১ হেক্টর (২৬,৮১০ একর)। বিশেষ করে সোনারপাড়া সুপারি তার স্বাদ ও অাকারের জন্য কক্সবাজার অন্ঞলে বিথ্যাত।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

ইনানী সমুদ্র সৈকত উপজেলায় অবস্থিত। মেরিন ড্রাইভ ওয়ের পর এলজিইডির তৈরী রাস্তা দিয়ে সমুদ্র কোল ঘেঁষে চলাচল করা যায় টেকণাফ পর্যন্ত। উপজেলাটিতে বেশ কিছু দুগর্ম পাহাড়ী এলাকা আছে যা থেকে প্রায়শই বন্যহাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসে। এক সময় হরিনের সংথ্যা যথেষ্ট থাকলেও এখন পাহাড়ী অঞ্চলে তা প্রায় বিলুপ্তের পথে। দর্শনীয় স্থানের ভেতর আছে ইনানী সী বীচ, কানা রাজার গুহা, পাতাবাড়ী বৌদ্ধ বিহার, কুমিরের খামার। সংরক্ষনের অভাবে কানা রাজার গুহার মুখ বর্তমানে বন্ধ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে উখিয়া"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]