শামসুল আলম (অর্থনীতিবিদ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শামসুল আলম
জন্ম (1951-01-01) ১ জানুয়ারি ১৯৫১ (বয়স ৬৯)
জাতীয়তাবাংলাদেশি
মাতৃশিক্ষায়তনবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
পুরস্কারএকুশে পদক (২০২০)

শামসুল আলম (জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৫১) একজন বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগে জ্যেষ্ঠ সচিব পদমর্যাদায় ২০০৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) একজন সিন্ডিকেট সদস্য। অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।[১]

প্রারম্ভিক ও শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

শামসুল ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।[২] তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে ১৯৬৫ সালে কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতক ও ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ও ১৯৯১ সালে ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।[২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

শামসুল কর্মজীবনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন।[৩] তিনি ৪ বছর তিন মাস জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীতে ২০০২ থেকে ডিসেম্বর ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন। ২০০৮ সালে তিনি জার্মানির হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়ামের ঘেণ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং অধ্যাপক এবং নেদারল্যান্ডের ওয়াগিনেঞ্জেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিচার্সে ইরসমাস মুন্ডুস স্কলার হিসেবে কাজ করেন।[৩] এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ১ জুলাই প্রেষণ ছুটিতে সরকার তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।[৪] ২০১৫ সালে কমিশনের সদস্য থাকাবস্থায় তাকে জ্যেষ্ঠ সচিব করা হয়।[৫] ২০১৬ সালে অধ্যাপনা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কমিশন সদস্য হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কয়েকবার তার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২০ জুন পুনরায় সরকার তাকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করে।[৬]

পরিকল্পনা কমিশনে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ‘বাংলাদেশের প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা’ (২০১০-২০২১) ও ‘ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ (২০১১-২০১৫) প্রণয়ন করেন।[৫] তিনি ‘বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র’ (২০১১-২০২১) ও ‘সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র’ (২০১৫-২০২৫) নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জন বিষয়ক বেশ কিছু প্রতিবেদন, অধ্যয়ন ও গবষণা গ্রন্থ সরাসরি তত্ত্বাবধান ও সম্পাদনা করেন।[৫]

গ্রন্থ[সম্পাদনা]

শামসুল অর্থনীতি বিষয়ক ১২টি গ্রন্থ রচনা করেন যার মধ্যে গবেষণা ও পাঠ্যপুস্তক অন্তর্ভূক্ত।[২] এছাড়ও তিনি ১৮টি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন ও তার ৪৮টি গবেষণা প্রতিবেদন বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।[২]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

২০১৮ সালে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকনোমিক মডেলিং তাকে ইকনোমিস্ট অব ইনফ্লুয়েন্স পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়াও একই বছর তিনি বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষণ সোসাইটি কর্তৃক ‘নজরুল ইসলাম স্মৃতি পদক’ লাভ করেন।[২] ২০২০ সালে অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক প্রদান করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "একুশে পদক পাচ্ছেন কিংবদন্তি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. সায়েবা"যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  2. "নিজেকে উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে"যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  3. "BDF 2018"bdf2018.erd.gov.bd। ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  4. "পরিকল্পনা কমিশনে সিনিয়র সচিব মর্যাদায় পদোন্নয়ন পেলেন ড. শামসুল আলম"জনকণ্ঠ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  5. "পদোন্নতি পেলেন ড. শামসুল আলম"কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  6. "সিনিয়র সচিব শামসুল আলমের চুক্তির মেয়াদ বাড়ল ৩ বছর"যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]