দিলদার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দিলদার
দিলদার (১৩ জানুয়ারি ১৯৪৫-জুলাই ১৩, ২০০৩).jpg
দিলদার
জন্ম
দিলদার

(১৯৪৫-০১-১৩)১৩ জানুয়ারি ১৯৪৫
চাঁদপুর, বাংলাদেশ
মৃত্যু১৩ জুলাই ২০০৩(2003-07-13) (বয়স ৫৮)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
জাতিসত্তাবাঙালি
নাগরিকত্ববাংলাদেশী
শিক্ষামাধ্যমিক
পেশাঅভিনেতা
পরিচিতির কারণকৌতুক অভিনয়
পুরস্কারজাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২০০৩)

দিলদার (১৩ জানুয়ারি ১৯৪৫-জুলাই ১৩, ২০০৩) ছিলেন একজন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র কৌতুক অভিনেতা। তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কেন এমন হয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে।[১][২] তিনি ২০০৩ সালে সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে তুমি শুধু আমার চলচ্চিত্রের জন্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।[৩]

চলচ্চিত্র জীবন[সম্পাদনা]

বাংলা চলচ্চিত্রে অম্যতম কৌতুক অভিনেতা দিলদার। কৌতুক অভিনেতা হিসেবেই তার পরিচিতি ছিল। বাংলা চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি হাস্যরস ফুটিয়ে তোলার মানুষটির নাম দিলদার। দিলদার চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন ১৯৭২ সালে[৪]। তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র 'কেন এমন হয়'। এই ছবির মাধ্যমেই অভিনয়ে অভিষেক। ধীরে ধীরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌতুক অভিনেতার আসন দখল করে নেন তিনি। দিলদারের জনপ্রিয়তা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, তাকে নায়ক করেই নির্মাণ করা হয়েছিল ‘আব্দুল্লাহ’ নামে একটি চলচ্চিত্র। এমন অনেক ছবি ছিল শুধু তার জন্য ছবির স্ক্রিপ্ট আলাদা ভাবে লেখা হত। দিলদারের সম সামায়িক কৌতুক অভিনেতাদের মধ্যে ছিল টেলি সামাদ। দিলদারের অভিনীত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘কন্যাদান’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুন্দর আলী জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’গাড়িয়াল ভাই,অচিন দেশের রাজকুমার,প্রেম যুমুনা,বাশিওয়ালা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ২০০৩ সালে সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে 'তুমি শুধু আমার' চলচ্চিত্রের জন্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই তারিখে মারা যান অসম্ভব জনপ্রিয় এই মানুষটি। পরে তাকে ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত সানারপাড় এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

দিলদার চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দিলদারের স্ত্রীর নাম রোকেয়া বেগম। এই দম্পতির দুই কন্যা সন্তান। বড় মেয়ের নাম মাসুমা আক্তার। পেশায় তিনি দাঁতের ডাক্তার।[৪] বিয়ে করেছেন অনেক আগেই। তার ছেলে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়য়ে পড়ছে আর মেয়ে পড়ছে ক্লাস সেভেনে। ছোট মেয়ে জিনিয়া আফরোজ। বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠন জিয়া সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি ছিলেন দিলদার। কিন্তু মারা যাওয়ার পর প্রথম তিন-চার বছর সংগঠনটি দিলদারের মৃতুবার্ষিকী পালন করত। [৫]

চলচ্চিত্র তালিকা[সম্পাদনা]

দিলদার অভিনীত বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে ব্যবসাসফল সিনেমা বেদের মেয়ে জোসনা সিনেমার পোস্টার (১৯৮৯)
বছর চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকা পরিচালক টীকা সূত্র
১৯৮৮ বীর পুরুষ
১৯৮৯ বেদের মেয়ে জোসনা
১৯৯৪ বিক্ষোভ
১৯৯৪ অন্তরে অন্তরে
১৯৯৫ কন্যাদান
১৯৯৬ চাওয়া থেকে পাওয়া
১৯৯৬ সুন্দর আলী জীবন সংসার
১৯৯৬ অজান্তে
১৯৯৬ দূর্জয়
১৯৯৬ স্বপ্নের পৃথিবী
১৯৯৬ এই ঘর এই সংসার
১৯৯৬ প্রিয়জন
১৯৯৬ বিচার হবে
১৯৯৭ শুধু তুমি
১৯৯৭ স্বপ্নের নায়ক
১৯৯৭ আনন্দ অশ্রু
১৯৯৮ শান্ত কেন মাস্তান
১৯৯৮ আব্দুল্লাহ
২০০০ গুন্ডা নাম্বার ওয়ান
২০০৯ তুমি কি সেই
নাচনেওয়ালী
খাইরুন সুন্দরী

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "দিলদার"। BMDB। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৪ 
  2. "'দিলদার তৈরি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না নতুন কৌতুক অভিনেতারা'"NTV Online (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-০৪ 
  3. glitz.bdnews24.comচার দশকে আমাদের সেরা চলচ্চিত্রগুলো ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখেরাশেদ শাওন
  4. "তাঁদের খবর রাখেনি কেউ"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১০-০৬ 
  5. "যেমন আছে দিলদারের পরিবার, কন্যা-সন্তান"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ১৩ জুলাই ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]