পদ্মা নদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
পদ্মা নদী
পদ্মা
পদ্মা নদীতে নৌকা চলাচল।
পদ্মা নদীতে নৌকা চলাচল।
দেশসমূহ বাংলাদেশ, ভারত
অঞ্চল ময়মনসিংহ বিভাগ
জেলাসমূহ নবাবগঞ্জ রাজশাহী পাবনা কুষ্টিয়া, ফরিদপুর রাজবাড়ি চাঁদপুর
উত্স গঙ্গা
 - অবস্থান পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মোহনা মেঘনা নদী
দৈর্ঘ্য ১২১ কিলোমিটার ( মাইল)

পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী। এটি হিমালয়ে উৎপন্ন গঙ্গানদীর প্রধান শাখা এবং বাংলাদেশের ২য় দীর্ঘতম নদী। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী এই পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত। পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা ১,৫৭১ ফুট (৪৭৯ মিটার) এবং গড় গভীরতা ৯৬৮ফুট (২৯৫ মিটার)।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বাংলাদেশে নদীটির দৈর্ঘ্য ১২১ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১০ কিলোমিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা "পাউবো" কর্তৃক পদ্মা নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ৩২।[১]

রাজা রাজবল্লভের কীর্তি পদ্মার ভাঙ্গনের মুখে পড়ে ধ্বংস হয় বলে পদ্মার আরেক নাম কীর্তিনাশা।[২]

গতিপ্রকৃতি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে প্রধান নদীসমূহ

হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে থেকে উৎপন্ন গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় (মানাকোসা ও দুর্লভপুর ইউনিয়ন) বাংলাদেশে প্রবেশ করে, এখান থেকে নদীটি পদ্মা নাম ধারণ করেছে। গঙ্গার অন্য শাখাটি ভাগীরথী নামে ভারতে হুগলীর দিকে প্রবাহিত হয়। উৎপত্তিস্থল হতে ২২০০ কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মিলিত প্রবাহ পদ্মা নামে আরো পূর্ব দিকে চাঁদপুর জেলায় মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। সবশেষে পদ্মা-মেঘনার মিলিত প্রবাহ মেঘনা নাম ধারণ করে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়।[৩]

দৈর্ঘ্য[সম্পাদনা]

পদ্মা নদীর নৈসর্গিক দৃশ্য
পদ্মা নদীতে খেয়া পারাপারের দৃশ্য

পদ্মা বাংলাদেশের ২য় দীর্ঘতম নদী, এর দৈর্ঘ্য ৩৬৬ কিলোমিটার।[২]

উপনদী এবং শাখানদী[সম্পাদনা]

পদ্মানদীর রাড়বাড়ী অংশে সূর্যাস্ত

পদ্মার প্রধান উপনদী মহানন্দাপুনর্ভবা। মহানন্দা উপনদীটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এবং পুনর্ভবা বাংলাদেশভারতের পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার বিভিন্ন শাখানদীর মধ্যে গড়াই, আড়িয়াল খাঁ, কুমার, মাথাভাঙ্গা, ভৈরব ইত্যাদি অন্যতম। আবার পদ্মার বিভিন্ন প্রশাখা নদীসমূহ হলো- মধুমতী, পশুর, কপোতাক্ষ ইত্যাদি। এই নদীগুলো কুষ্টিয়া,রাজবাড়ী,যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর বরিশাল, পটুয়াখালি ইত্যাদি জেলার উপর দিয়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে।[৩]

রাজশাহী জেলা[সম্পাদনা]

পদ্মানদীর তীরে যে শহরগুলো অবস্থিত তাদের মধ্যে রাজশাহী শহর সবচেয়ে বড়। শহরটার আয়তন ৯৬.৬৮ বর্গকি.মি. যা বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী। এটা উত্তর বঙ্গের অন্যতম প্রধান নগরী। রাজশাহীতে পদ্মার বাঁধ ফুলের গাছে সাজানো সৌন্দর্যে সুসজ্জিত। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরোনো বিদ্যালয়গুলোর একটি, পদ্মার তীর ঘেঁষে অবস্থিত। জানা যায় ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিদ্যালয়টি তিন বার পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়ে। পদ্মা ফুড গার্ডেন, এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, বড়কুঠি নন্দন পার্ক, মুক্তমঞ্চ এবং টি বাঁধ পদ্মার তীরে গড়ে ওঠা রাজশাহীর প্রধান পর্যটন এলাকা।

বর্ষায় ফেঁপে ওঠা পদ্মা, মুক্তমঞ্চ, রাজশাহী

সাহিত্যে পদ্মা নদী[সম্পাদনা]

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বিখ্যাত উপন্যাস পদ্মা নদীর মাঝি এই নদীর তীরের মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করেই লেখা। পদ্মার নৈসর্গিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নানাভাবে প্রভাবিত করেছে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। তাঁর বিখ্যাত কিছু গানে পদ্মার হারানো ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য্য ফুটে উঠেছে।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মোহাম্মদ রাজ্জাক, মানিক (ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী"। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি (প্রথম সংস্করণ)। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃ: ২৫৭-২৫৮। আইএসবিএন 984-70120-0436-4 
  2. Hossain ML, Mahmud J, Islam J, Khokon ZH and Islam S (eds.) (2005) Padma, Tatthyakosh Vol. 1 and 2, Dhaka, Bangladesh, p. 182 (in Bengali).
  3. [১]
  4. বাংলাদেশের নদীঃ মোকাররম হোসেন; পৃষ্ঠা ৭১ ও ৭২; কথাপ্রকাশ; দ্বিতীয় সংস্করণঃ আগস্ট ২০১৪

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]