শিয়া ইসলাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Shia Islam থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

শিয়া ইসলাম (আরবি: شيعة‎‎) বা আহল আত-তাশাইয়ু (আরবি: اهل التشيع‎‎) হল ইসলামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শাখা। এই মতবাদ অনুসারে নবী মুহাম্মদ ঐতিহাসিক গাদীর খুমের ভাষণে আলী ইবনে আবী তালিবকে তাঁর পরবর্তী নেতা বা ইমাম হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করে যান,[২] কিন্তু সকীফার ঘটনার ফলস্বরূপ আলীকে তাঁর ন্যায্য খিলাফত থেকে বঞ্চিত করা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি সুন্নি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গির সম্পূর্ণ বিপরীত। সুন্নি মুসলমানেরা বিশ্বাস করে যে মুহম্মদ কাউকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করে যাননি এবং তারা সকীফায় একদল মুসলমান কর্তৃক নির্বাচিত আবু বকরকে নবীর পরবর্তী প্রথম ন্যায়নিষ্ঠ খলিফা হিসেবে বিবেচনা করে।[৩] শিয়া ইসলামের অনুসারী ব্যক্তিকে শীʿঈ বলে অবিহিত করা হয়।[৪][৫]

শিয়ারা আলীকে ঐশ্বরিকভাবে নিযুক্ত নবীপরবর্তী নেতা ও প্রথম ইমাম হিসবে গণ্য করে। তারা এই ইমামতকে নবীর পরিবার বা আহল আল-বাইত ও তাঁর বংশোদ্ভূত কতিপয় ইমাম পর্যন্ত বিস্তৃত করে।[৬] শিয়া বিশ্বাসমতে তাঁরা মুসলিম সমাজের উপর বিশেষ আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব এবং নিষ্পাপতা, অভ্রান্ততা প্রভৃতি ঐশী বৈশিষ্ট্য ধারণ করেন।[৭] যদিও শিয়া ইসলামের অসংখ্য শাখা ও উপদল রয়েছে, আধুনিক যুগে শিয়ারা প্রধানত দ্বাদশী, ইসমাইলিজায়েদি — এই তিনটি দলে বিভক্ত। ইসনা আশারিয়া বা দ্বাদশীরা বর্তমানে বৃহত্তম ও সবচেয়ে প্রভাবশালী শিয়া সম্প্রদায়।[৮][৯][১০]

শিয়া ইসলাম ইসলামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শাখা এবং বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ অবধি গোটা মুসলিম বিশ্বের ১০–১৫% ছিল শিয়া মুসলমান।[১১] দ্বাদশীরা শিয়া ইসলামের বৃহত্তম উপশাখা[১২] এবং ২০১২ সালের একটি জরিপমতে শিয়া মুসলমানদের ৮৫% হল দ্বাদশী বা ইসনা আশারিয়া।[১৩]

“শিয়া” হল ঐতিহাসিক শব্দবন্ধ “শিয়াতু আলী” (شيعة علي)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ যার অর্থ “আলীর অনুসারী” বা “আলীর দল”।[১৪][১৫][১৬][১৭][১৮] শিয়া মতবাদের মূল ভিত্তি হল, আলী এবং ফাতিমার বংশের মাধ্যমে নবীপরিবারের সদস্যরাই হলেন ইমামত বা নেতৃত্বের প্রধান দাবিদার। তাই আলী খিলাফতের প্রশ্নে আবু বকর, উমরউসমানের তুলনায় অগ্রাধিকারী। শিয়ারা বিশ্বাস করে ইসলামের সর্বশেষ নবী গাদির খুমের ঘটনার মাধ্যমে তাকেই খিলাফতের জন্য মনোনীত করে গিয়েছিলেন।[১৯] আবু বকর ছিলেন বনু তাইম গোত্রের, উমর বনু আদি গোত্রের, উসমান বনু উমাইয়া গোত্রের, কিন্তু আলী ছিলেনমুহাম্মদের হাশেমি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া আলী একাধারে প্রথম পুরুষ মুসলিম, রসুলের চাচাতো ভাই ও জামাতা, রসুলের দৌহিত্র হাসান ও হোসেনের পিতা ও রসুলের সেনাপতি ছিলেন। মুহাম্মদের কোনো পুত্রসন্তান ছিল না এবং দৌহিত্র (হাসান ও হোসেন) শিশু ছিল। এসব দিক বিবেচনায় রাসুলের ইন্তেকালের পর আলীই নেতৃত্বের সর্বাধিক যোগ্য বলে শিয়া মতাবলম্বীরা মনে করেন। তারা আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধেও আলীকে সমর্থন করেন। পরবর্তীতে মুয়াবিয়ার পুত্র ইয়াজিদের সেনাবাহিনী কারবালার যুদ্ধে আলীর পুত্র হোসেনকে হত্যা করলে শিয়ারা খিলাফতের প্রতি পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং হোসেনপুত্র জয়নুল আবেদিনের মাধ্যমে আলী ও ইসলামের রাসুলের বংশধরদের মধ্যে থেকে ইমামতের নীতি অনুসরণ করতে থাকে।

ইসলামের অন্যান্য ঘরানার মতো শিয়ারা আসমানী কিতাব, পবিত্র কুরআন এবং ইসলামের সর্বশেষ নবীর[৪] জীবনাদর্শের উপর গুরুত্ব দেয়।[২০] তবে তারা আব্বাসীয় শাসনামলে (হিজরি ৩য় শতকে) সংকলিত কুতুব আল-সিত্তাহ হাদিসের তুলনায় আহলে বাইতের নিকট থেকে প্রাপ্ত কুতুব আল-আরবাহ হাদিসসমূহকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে করে। শিয়া মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে, শুধুমাত্র আল্লাহই ইসলাম, কুরআন এবং শরিয়াত রক্ষা করার জন্য একজন প্রতিনিধি (নবী এবং ইমাম) নির্বাচন করতে পারেন[২১], সাধারণ মুসলমানেরা পারে না। যে কারণে শিয়ারা ইসলাম এবং কুরআনের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত আবু বকর, উমর এবং উসমানকে অনুসরণ করে না। এই জন্য শিয়ারা আলিকে চতুর্থ খলিফা হিসেবে বিবেচনা না করে বরং প্রথম ইমাম হিসেবে বিবেচনা করে। শিয়ারা বিশ্বাস করে যে, অনেক বর্ণনা রয়েছে যেখানে ইসলামের নবী তার উত্তরাধিকারী হিসাবে আলীকে নির্বাচিত করেছিলেন।[২২][২৩]

ইরান, ইরাক, বাহরাইন, আজারবাইজান, লেবানন, ইয়েমেন ইত্যাদি দেশে শিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাছাড়া সিরিয়া, কুয়েত, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সউদি আরব, ভারত, পাকিস্তানেও প্রচুর শিয়া মুসলমানদের বসবাস রয়েছে।

পরিভাষা[সম্পাদনা]

সামগ্রিকভাবে শিয়া ইসলামের অনুসারীদের শীʿআ (شِيعَة; /ˈʃiːʕə/) বলা হয়, যা শীʿআতু ʿআলীর (شِيعَة عَلِيّ; /ˈʃiːʕatu ˈʕaliː/) সংক্ষিপ্ত রূপ যার অর্থ “আলীর অনুসারী”, “আলীর অনুগামী” বা “আলীর দল”;[১৪][২৪] শীʿঈ (شِيعِيّ) বলতে একবাচক বিশেষ্য এবং বিশেষণ উভয়ই বোঝায়, অন্যদিকে শিয়াʿ (شِيَاع) শব্দটি দ্বারা বহুবাচক বিশেষ্যকে বোঝানো হয়।[২৫] শীʿআ হল শিয়া শব্দের একটি বিকল্প বানান। ইংরেজিতে Shiʻa, Shia, Shiʻism, Shiʻite, Shiism বা Shiite শব্দগুলো শিয়া ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কিত জনগোষ্ঠী, উপসনালয় ও জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।[২৬][২৭]

শিয়া শব্দটি মহানবীর জীবদ্দশায় প্রথম ব্যবহৃত হয়।[২৮] বর্তমানে শব্দটি দ্বারা সেইসব মুসলমানদের বোঝানো হয় যারা বিশ্বাস করে যে মুহম্মদের মৃত্যুর পর কেবল আলী ও তার বংশধরেরাই মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্বের দাবিদার। নওবখতির মতে শিয়া শব্দটি দ্বারা মুসলমানদের একটি গোষ্ঠীকে বোঝানো হত যারা মুহম্মদের সময়ে এবং তার মৃত্যুর পরে আলীকে ইমাম ও খলিফা গণ্য করত।[২৯] আলী শহরস্তানী বলেন যে, শিয়া বলতে তাদেরকেই বোঝানো হয় যারা আলীকে মুহম্মদের মনোনীত উত্তরাধিকারী, ইমাম ও খলিফা হিসেবে বিবেচনা করে[৩০] এবং আলীর এই কর্তৃত্ব তার উত্তরসূরীদের মাধ্যমে বংশপরম্পরায় জারি থাকবে বলে বিশ্বাস করে।[৩১] শিয়াদের মতে এই প্রতীতি পবিত্র কোরআনইসলামের ইতিহাসে অন্তর্নিহিত। শিয়া পণ্ডিতেরা জোর দিয়ে বলেন যে কর্তৃত্বের ধারণাটি পয়গম্বরদের পরিবারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কারণ কোরআনের সূরা আল-ইমরানের ৩৩ ও ৩৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আদাম ও নূহকে এবং ইবরাহীমের ও ইমরানের গোত্রকে বিশ্বজগতের উপর মনোনীত করেছেন। এরা একে অন্যের বংশধর এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।” (কোরআন ৩:৩৩–৩৪)[৩২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

শিয়া ইসলামের উৎপত্তি সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। অনেক পশ্চিমা পণ্ডিতেরা ধারণা করেন যে শিয়া মতবাদ প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় আন্দোলন আকারে নয় বরং একটি রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়েছিল।[৩৩][৩৪] অন্যন্য পণ্ডিতেরা এর সঙ্গে দ্বিমত করে বলেন যে, এই রাজনৈতিক-ধর্মীয় পৃথকীকরণ মূলত পশ্চিমা জ্ঞানকাণ্ডের কালাতিক্রমিক প্রয়োগ।[৩৫]

আলীর অভিষেক[সম্পাদনা]

শিয়া মুসলমানেরা বিশ্বাস করে যে, নবীগণ যেমন একমাত্র আল্লাহ কর্তৃক নিযুক্ত হন, তেমনি নবীদের উত্তরসূরীদের নিযুক্ত করার বিশেষ ক্ষমতাও একমাত্র আল্লাহরই আছে। তারা বিশ্বাস করে যে স্বয়ং আল্লাহ পাক আলীকে মুহম্মদের উত্তরাধিকারী, অভ্রান্ত ও ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে বাছাই করেছিলেন। শিয়াদের মতে মুহম্মদ আল্লাহর নির্দেশে (গাদীর খুমে) আলীকে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।[৩৬][৩৭]

আলী ছিলেন মুহম্মদের চাচাতো ভাই, নিকটতম জীবিত পুরুষ আত্মীয় এবং তাঁর জামাতা তথা ফাতিমার স্বামী।[৩৮][৩৯]

আলীর দল[সম্পাদনা]

মুহম্মদের জীবদ্দশাতেও সাহাবিদের মধ্যে ভাঙনের লক্ষণ দৃশ্যমান ছিল। সালমান আল-ফারসি, আবু যার আল-গিফারী, মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির ছিলেন আলীর সবচেয়ে প্রবল ও বিশ্বস্ত সমর্থক।[৪০][৪১]

জুল আশীরার ঘটনা[সম্পাদনা]

কথিত আছে যে আনুমানিক ৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে কোরআনের ২৬ তম সূরা আশ-শুআরা নাজিলের সময়[৪২] মুহম্মদ প্রাক-ইসলামি ধর্মীয় অনুশীলনসমূহের বিরুদ্ধে তার পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করবার ব্যাপারে নির্দেশনা পেয়েছিলেন। এই সতর্কীকরণের বিভিন্ন বিবরণ রয়েছে। একটি সংস্করণে বলা হয়েছে যে মুহম্মদ তার আত্মীয়দের খাবারের নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন (পরবর্তীতে জুল আশীরার উৎসব হিসেবে অভিহিত) যেখানে তিনি একটি বক্তব্য পেশ করেছিলেন।[৪৩] ইবনে ইসহাকের মতে বক্তব্যটির কিছু অংশ নিম্নরূপ:

আল্লাহ আমাকে তাঁর দ্বীনের দিকে আপনাদের আহ্বান করার জন্য এই বলে আদেশ করেছেন: ‘আর আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।’ অতএব, আমি আপনাদের সতর্ক করছি এবং সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান করছি যে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং আমি তার রসুল। হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্রগণ, আমি আপনাদের নিকট যে জিনিস নিয়ে এসেছি এরচেয়ে ভালো কিছু আগে আর কেউ কখনও আপনাদের কাছে নিয়ে আসেনি। এটি গ্রহণের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে আপনাদের কল্যাণ নিশ্চিত হবে। আপনাদের মধ্যে কে এই গুরুদায়িত্ব পালনে আমাকে সমর্থন করবেন? কে আমার সাথে এই কাজের বোঝা ভাগ করে নেবেন? আমার ডাকে কে সাড়া দেবেন? কে আমার প্রতিনিধি, সহকারী ও উজির হবেন?[৪৪]

জমায়েত লোকেদের মধ্যে কেবল আলীই তাতে সম্মতি জানান। কিছু সূত্র, যেমন মুসনাদে আহমাদ, এতে মুহম্মদের প্রতিক্রিয়া নথিভুক্ত করেনি। যদিও ইবনে ইসহাকের সূত্রে তিনি এরপর আলীকে তার ভাই, উত্তরাধিকারী ও স্থলাভিষিক্ত ঘোষণা করেন।[৪৫] অন্য বর্ণনায় এসেছে যে মুহম্মদ আলীর সম্মতি গ্রহণের পর তাঁকে “আলিঙ্গন করেন” এবং বলেন, “তাকিয়ে দেখুন, আমার ভাই, আমার উজির, আমার প্রতিনিধি… সবাই যেন তার কথা শোনে ও তাকে মান্য করে।”[৪৬]

এই সংস্করণে নবীর উত্তরাধিকারী হিসেবে আলীর সরাসরি মনোনয়ন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কারণ এটি আলীর প্রতিনিধিত্বের অধিকার মুহাম্মদের নবুওতি কর্মকাণ্ডের একেবারে শুরুতেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সপক্ষে যুক্তি দেয়। কোরআনের একটি আয়াত নাজিল হওয়ার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততাও প্রামাণিক মনোনয়নের পাশাপাশি ঐশী অনুমোদনের সপক্ষে যৌক্তিকতা প্রদান করে।[৪৭]

গাদীর খুমের ঘটনা[সম্পাদনা]

গাদীর খুমে আলীর অভিষেক (আবু রায়হান আল বিরুনির কিতাবুল আসারুল বাকিয়া ‘আন আল-কুরুনুল খালিয়া গ্রন্থের ইলখানাত পাণ্ডুলিপির চিত্রালঙ্কার)

গাদীর খুমের হাদিসের অসংখ্য সংস্করণ রয়েছে এবং এটি সুন্নি ও শিয়া উভয় সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাগুলোতে সাধারণভাবে বলা হয়েছে যে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে হজরত মুহম্মদ (স.) তাঁর বিপুল সংখ্যক অনুসারী ও সাহাবার সঙ্গে বিদায় হজ্জ থেকে ফেরার পথে গাদীর খুম মরুদ্যানে এসে থেমে যান। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সমবেত করে তাদের উদ্দেশ্যে একটি খুৎবা পেশ করেন। খুৎবার এক পর্যায়ে তিনি আলীর হাত উর্ধ্বে তুলে ধরে ঘোষণা করেন, “মান কুনতু মওলা ফাহাজা আলীউন মওলা।” অর্থাৎ, “আমি যার মওলা, আলীও তার মওলা।” কোনো কোনো সূত্রে অতিরিক্ত একটি বাক্য এসেছে যেখানে নবী বলেন, “হে আল্লাহ! যে আলীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে আপনি তাকে বন্ধুজ্ঞান করুন আর যে আলীর সঙ্গে শত্রুতা করে আপনিও তার সঙ্গে শত্রুতা করুন।”[৪৮]

আরবি ভাষায় মওলা শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে। এখানে শব্দটি মুহম্মদ কোন অর্থে ব্যবহার করেছেন সে ব্যাপারে সুন্নি ও শিয়াদের ভিন্ন ব্যাখ্যা বিদ্যমান। সুন্নিদের মতে এর অর্থ বন্ধু, বিশ্বস্ত বা ঘনিষ্ঠ এবং শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে মুহম্মদ আলীর প্রাপ্য বন্ধুত্ব ও সম্মানকে সমর্থন করছিলেন।[৪৯] এর বিপরীতে শিয়াদের মতে শব্দটির অর্থ নেতা বা শাসক[৫০] এবং এই ঘোষণাটি ছিল পরিস্কারভাবে মুহম্মদ কর্তৃক আলীকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মনোনয়ন। শিয়া সূত্রসমূহ এই ঘটনাটির আরও বিস্তৃত ও বিশদ বর্ণনা প্রদান করে যেখানে উপস্থিত জনতা আলীর প্রতি অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন এবং তাঁকে আমীরুল মুমিনীন বা বিশ্বাসীদের নেতা সম্বোধনপূর্বক জয়ধ্বনি করেন।[৪৮]

বৃহস্পতিবারের বিপর্যয়[সম্পাদনা]

মুহম্মদ ৬৩২ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এক বৃহস্পতিবার তাঁর স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতি ঘটে। কথিত আছে যে তিনি মুসলিমদের “চিরতরে পথভ্রষ্ট” হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে এমন একটি বিবৃতি প্রদান করার করার জন্য তাঁকে লেখার উপকরণ দিতে আদেশ করেন।[৫১][৫২]

কিন্তু তাঁর কক্ষে উপস্থিত লোকজন এই আদেশ মানবেন কিনা তা নিয়ে বাদানুবাদ শুরু করেন। ইবনে সা‘দের মতে, যিনি এই ঘটনার একাধিক সংস্করণ সরবরাহ করেছেন, উপস্থিত লোকেদের মধ্যে একজন মুহম্মদকে বিকারগ্রস্ত বলাতে এই বিবাদের সূত্রপাত ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করলে মুহাম্মদ তাদের তাঁর কক্ষ ত্যাগ করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীকালে কিছুই লেখেননি। কিছু সূত্রমতে, মুহম্মদ তাঁর বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর বলেছিলেন যে তিনি এর পরিবর্তে উম্মাহর নিকট তিনটি সুপারিশ জারি করবেন। ইবনে সা’দের একটি সূত্রমতে, এর মধ্যে দুটি ছিল:[৫৩]

  • মুশরিকদের আরব থেকে বিতাড়ন।
  • তিনি যেভাবে প্রতিনিধিদল নিয়োগ করতেন ঠিক সেভাবে তা গ্রহণ।

তৃতীয় সুপারিশটি অনুপস্থিত। ইবনে সা‘দ বলেন যে, এর কারণ হয় মুহাম্মদ সুপারিশটি উল্লেখ করেননি নতুবা হাদীসটির বর্ণনাকারী তা ভুলে গিয়েছিলেন। আত তাবারিইবনে কাসিরের মতো লেখকেরাও এই ঘটনাটিকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন। অন্য একটি বিকল্প সূত্রমতে, সুপারিশ তিনটি ছিল নামাজ, জাকাত এবং মা মালাকাত আইমানুকুম। এই সংস্করণটি মুহম্মদের চূড়ান্ত নির্দেশ শাহাদা প্রদানপূর্বক তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সমাপ্ত হয়।[৫৩]

বর্ণনাকারীদের পক্ষপাত অনুসারে হাদীসটির বিভিন্ন পুনরাবৃত্তি উপস্থিত লোকেদের পরিচয়ের— যেমন: জয়নব বিনতে জাহশ, উম্মে সালামাআবদুল্লাহ ইবনে আবু বকরের মতো ব্যক্তিত্বদের সন্নিবেশ বা অপসারণ—পাশাপাশি পরিবর্তিত হয়। একটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে মুহাম্মদ আলীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকাবস্থায় এই ঘটনাগুলি ঘটে।[৫৩] প্রসিদ্ধ সুন্নি হাদীসগ্রন্থ সহীহ বুখারী অনুসারে মুহম্মদকে বাধাদানকারী ব্যক্তি ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব, যিনি বলেছিলেন যে কোরআনের বাইরে অন্য কোনো নির্দেশনার প্রয়োজন নেই।[৫১][৫২]

ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে এল, তখন ঘরের মধ্যে অনেক মানুষের সমাবেশ ছিল। যাদের মধ্যে উমর ইবনু খাত্তাব (রা.)-ও ছিলেন। তখন তিনি (রোগ যন্ত্রনায় কাতর অবস্থায়) বললেন, “লও, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেব, যাতে পরবর্তীতে তোমরা বিভ্রান্ত না হও।” তখন উমর (রা.) বললেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর বেশি যাতনা তীব্রতর হয়ে উঠেছে। আর তোমাদের নিকট কুরআন বিদ্যমান। আর আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট।” এ সময়ে আহলে বাইতের মধ্যে মতানৈক্যের সৃষ্টি হল। তাঁরা বাদানুবাদে প্রবৃত্ত হলেন।

তারপরে কেউ কেউ বলতে লাগলেন, “নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কাগজ পৌঁছিয়ে দাও এবং তিনি আমাদের জন্য কিছু লিখে দেবেন, যাতে পরবর্তীতে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট না হও।” আবার তাঁদের মধ্যে অন্যরা উমর (রা.) যা বললেন তা বলে যেতে লাগলেন। এভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁদের বাকবিতণ্ডা ও মতানৈক্য বেড়ে চলল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমরা উঠে যাও।” উবায়দুল্লাহ (রহ.) বলেন, ইবনু আব্বাস (রা.) বলতেন, “বড় মুসীবত হল লোকজনের সেই মতানৈক্য ও তর্ক-বিতর্ক, যা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সেই লিখে দেওয়ার মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করেছিল।” (সহীহ বুখারী, অধ্যায় ৬২/রোগীদের বর্ণনা, পরিচ্ছেদ ২২৬৬, হাদীস ৫২৬৭)[৫৪]

এই নিঃশব্দ আদেশটির প্রকৃতি সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তী রাজনৈতিক তর্কগুলিতে—বিশেষত মুহম্মদের স্থলাভিষেক বিষয়ক সংকটে—ব্যবহৃত হয়েছিল। আল-শেখ আল-মুফীদের মতো শিয়া পণ্ডিতেরা দাবি করেন যে, এর মাধ্যমে মুহম্মদ আলীকে তাঁর পরবর্তী খলিফা হিসেবে সরাসরি নিযুক্ত করতেন। অন্যদিকে আল বালাযুরির মতো সুন্নি পণ্ডিতেরা মনে করেন যে মুহম্মদ এর মাধ্যমে আবু বকরকে মনোনীত করতে চেয়েছিলেন।[৫৩]

আলীর খিলাফত[সম্পাদনা]

৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মুহম্মদের প্রয়াণের পর আলী এবং মুহম্মদের নিকটাত্মীয়রা তাঁর জানাজার বন্দোবস্ত করেন। যখন তারা তাঁর লাশের গোসল দিচ্ছিলেন ও জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন আবু বকর, উমরআবু উবাইদাহ ইবন আল-জাররাহ মদিনার গোত্রপতিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং আবু বকরকে খলিফা হিসেবে নির্বাচিত করেন। আলী আবু বকরের খিলাফত মেনে নেওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে অস্বীকৃতি করেন। এই ঘটনাটি সুন্নি ও শিয়া উভয় সূত্রে সহীহ ও প্রামাণিক হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। ৯ম শতাব্দীর সুন্নি ইসলামি পণ্ডিত ইবনে কুতাইবা আলী থেকে বর্ণনা করেন যে আলী বলেছিলেন:

“আমি আল্লাহর বান্দা এবং আল্লাহর রসুলের ভাই। আমি এই পদের জন্য আপনার চেয়ে অধিক যোগ্য। আমি আপনাদের [আবু বকর ও উমর] প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করব না যেখানে আপনাদের উচিত আমার নিকট বায়াত প্রদান করা। নবীর সঙ্গে আপনাদের গোষ্ঠীগত সম্পর্ককে একটি যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করে আপনারা আনসারদের কাছ থেকে এই পদাধিকার দখল করেছেন। আপনারা কি এখন জোর করে এই পদাধিকার আমাদের, আহল আল-বাইতের, কাছ থেকে কেড়ে নেবেন? আপনারা কি আনসারদের সামনে এই দাবি করেননি যে খিলাফতের জন্য আপনারা তাদের তুলনায় বেশি যোগ্য কারণ রসুলুল্লাহ আপনাদের গোত্রের লোক (কিন্তু নবীজী আবু বকরের গোত্রভুক্ত ছিলেন না) — এবং ফলস্বরূপ তারা কি আপনাদের নিকট নেতৃত্ব ও আজ্ঞা সমর্পণ করেনি? এখন আমি আপনাদের সঙ্গে একই যুক্তির ভিত্তিতে তর্ক করছি… জীবিত বা মৃতদের মধ্যে আমরাই (আহল আল-বাইত) রসুলের সর্বাধিক নিকটাত্মীয় ও তাঁর যোগ্য উত্তরাধিকারী। যদি আপনারা সত্যিই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখেন তবে আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিন, নতুবা স্বেচ্ছায় অন্যায় করার দায়ভার বহন করুন… হে উমর, আমি আপনার আপনার আদেশ মানব না; আমি তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করব না।” অবশেষে আবু বকর বললেন, “হে আলী, যদি আপনি বায়াত দিতে না চান, তবে আমি আপনাকে এ ব্যাপারে জোরাজোরি করব না।”

কুফার মহামসজিদ, এখানে নামাজরত অবস্থায় আলী গুপ্তহত্যার শিকার হন

আলীর স্ত্রী ও মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা আবু বকরের প্রতি আনুগত্য প্রকাশে অস্বীকার করেন এবং তাঁর মৃত্যু অবধি ফাদাক ও রসুলের নিকট থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আবু বকরের প্রতি ক্ষুব্ধ থাকেন। আয়িশা হতে বর্ণিত:

নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতেমাহ (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি মদিনা্ ও ফাদাক-এ অবস্থিত ফাই (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এবং খাইবারের খুমুসের (পঞ্চমাংশ) অবশিষ্ট থেকে মিরাসী স্বত্ব চেয়ে পাঠালেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) উত্তরে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, আমাদের (নাবীদের) কোন ওয়ারিশ হয় না, আমরা যা ছেড়ে যাব তা সদাকাহ হিসেবে গণ্য হবে। অবশ্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরগণ এ সম্পত্তি থেকে ভরণ-পোষণ চালাতে পারবেন। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সদাকাহ তাঁর জীবদ্দশায় যে অবস্থায় ছিল আমি সে অবস্থা থেকে এতটুকুও পরিবর্তন করব না। এ ব্যাপারে তিনি যেভাবে ব্যবহার করে গেছেন আমিও ঠিক সেভাবেই ব্যবহার করব। এ কথা বলে আবূ বাকর (রাঃ) ফাতেমাহ (রাঃ)-কে এ সম্পদ থেকে কিছু দিতে অস্বীকার করলেন। এতে ফাতিমাহ (রাঃ) (মানবোচিত কারণে) আবূ বাকর (রাঃ)-এর উপর নাখোশ হলেন এবং তাঁর থেকে সম্পর্কহীন থাকলেন। তাঁর মৃত্যু অবধি তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বলেননি। নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। তিনি ইন্তিকাল করলে তাঁর স্বামী ‘আলী (রাঃ) রাতের বেলা তাঁকে দাফন করেন। আবূ বাকর (রাঃ)-কেও এ খবর দিলেন না এবং তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করে নেন। […] (সহীহ বুখারী, পরিচ্ছেদ ৬৪/৩৯, হাদীস ৪২৪০–৪২৪১)[৫৫]

খিলাফত ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফাতিমার সাথে উমরেরও তর্ক হয় এবং এক পর্যায়ে উমর ফাতিমার গৃহে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেন।[৫৬][৫৭][৫৮][৫৯][৬০][৬১] কোনো কোনো সূত্রমতে উমর ফাতিমার ঘরের দরজা ভেঙে ফেলেন।[৬২][৬৩] এই ঘটনাদ্বয়ের বিবরণ প্রামাণিক সুন্নি হাদিসগ্রন্থ সহীহ বুখারীসহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।[৬৪] মুহম্মদের গোত্র বনু হাশিমের প্রায় সকলে তাঁর মৃত্যুর পর আলীর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, অন্যরা আবু বকরের পক্ষে সমর্থনে জানিয়েছিলেন।[৬৫][৬৬][৬৭][৬৮][৬৯][৭০][৭১][৭২][৭৩]

৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফানের হত্যাকাণ্ডের পর মদিনার মুসলমানেরা মরিয়া হয়ে শেষ ভরসাস্থল হিসেবে আলীকে চতুর্থ খলিফা হওয়ার আহ্বান জানায়। আলী খলিফা হবার পর তাঁর রাজধানী কুফায় (অধুনা ইরাক) স্থানান্তর করেন।[১৪]

নাজাফে ইমাম আলী মসজিদে আলীর কবর

মুসলিম উম্মাহর উপর আলীর শাসন ছিল প্রায়শই কলহপূর্ণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে অনেক যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়। ফলে তাঁকে তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখতে যারা তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশপূর্বক বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল বা তাঁর পদ কেড়ে নিতে চেয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে লড়তে হয়। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে প্রথম ফিতনা সংঘটিত হয় যা ছিল ইসলামি খিলাফতের অভ্যন্তরীণ প্রথম বৃহৎ গৃহযুদ্ধ। আলীর রাজনৈতিক পূর্বসূরি উসমান ইবনে আফফানের গুপ্তহত্যাকে কেন্দ্র করে আলীর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহ এই ফিতনার সূত্রপাত ঘটায়। উসমানের শাসনামলে যেসব বিদ্রোহী তাঁকে স্বজনপ্রীতির দায়ে অভিযুক্ত করেছিল তারা আলী ইবনে আবী তালিবের খিলাফত মেনে নেয়ে, কিন্তু পরবর্তীতে তারাই আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে।[৩৮] আলী ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন।[৩৮] তিনি নামাজে সেজদারত অবস্থায় আততায়ীর গুপ্তঘাতের শিকার হন এবং পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।[৩৯] আলীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান এরপর খিলাফতের দাবি করেন।[৭৪]

হাসান ইবনে আলী[সম্পাদনা]

আলীর মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র হাসান ইবনে আলী কুফার মুসলমানদের নেতা হন। কুফার মুসলমান ও প্রথম মুয়াবিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে বেশি কিছু খণ্ডযুদ্ধের পর হাসান মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মুয়াবির সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি করেন। তিনি নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে মুয়াবিয়ার নিকট খিলাফত হস্তান্তর করতে সম্মত হন:[৭৫][৭৬]

  1. নামাজের সময় আলীর প্রতি অভিসম্পাত বর্ষণের উমাইয়া রীতি বর্জন করতে হবে
  2. মুয়াবিয়া ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জনগণের করের টাকা ব্যবহার করতে পারবেন না
  3. শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং হাসানের অনুসারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে
  4. মুয়াবিয়া কখনোই আমীরুল মুমিনীন খেতাব ধারণ করতে পারবেন না
  5. মুয়াবিয়া তাঁর স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করতে পারবেন না

এরপর হাসান কুফা থেকে মদিনায় চলে যান এবং সেখানে ৬৭০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর স্ত্রী জা‘দা বিনতে আল-আশ‘আত ইবনে কায়েস কর্তৃক বিষপ্রয়োগে মৃত্যুবরণ করেন। হাসানের হত্যাকাণ্ডে মুয়াবিয়ার ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয় কারণ তিনি তাঁর পুত্র প্রথম ইয়াজিদকে তাঁর উত্তরসূরী নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন আর হাসান ছিলেন সেক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।[ক][খ][৭৮][৭৯][৮০][৮১][৮২]

হোসেন ইবনে আলী[সম্পাদনা]

ব্রুকলিন জাদুঘরে কারবালার যুদ্ধ সংক্রান্ত চিত্রকর্ম

আলীর ছোট কনিষ্ঠ পুত্র ও হাসানের ভাই হোসাইন ইবনে আলী প্রাথমিকভাবে মুয়াবিয়াকে প্রতিহত করতে মুসলমানদের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ও খিলাফত পুনরুদ্ধারের জন্য আহ্বান জানান। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে মুয়াবিয়া মৃত্যুবরণ করেন এবং হাসানের সঙ্গে তাঁর করা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে স্বীয় পুত্র প্রথম ইয়াজিদকে পরবর্তী খলিফা নিযুক্ত করে যান। ইয়াজিদ হোসেনকে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনস্বরূপ বাইয়াত গ্রহণ করতে বলে।

আলীর দল, যারা প্রত্যাশা করেছিল মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর খিলাফত আলীবংশীয়দের কাছে ফিরে আসবে, এটাকে বিশ্বাসঘাতকতা ও শান্তিচুক্তির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখে এবং হোসেন ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে প্রত্যাখ্যান করেন৷ কুফায় হোসেনের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন ছিল যেন তিনি সেখানে যান এবং খলিফা ও ইমাম হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন। ফলে হোসেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও অনুসারীদের নিয়ে মদিনা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে কারবালার প্রান্তরে (অধুনা ইরাক) ইয়াজিদের বাহিনী (যাদের মধ্যে কুফার অধিবাসীরাও ছিল) তাঁদের পথরোধ করে। অতঃপর কারবালার যুদ্ধে হোসেন এবং তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের ৭২ জন নিহত হন।

বাঁদিকে: ইমাম হোসেনের মাজার; ডানদিকে: আরবাঈনের সময় আল হোসেন মসজিদের প্রাঙ্গণ।

শিয়ারা হোসেনকে একজন শহীদ হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাঁকে আহল আল-বাইতের একজন ইমাম হিসেবে গণ্য করে। তারা হোসেনকে ইসলামের রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখে যিনি ইয়াজিদের হাতে ধ্বংস হওয়া থেকে ইসলামকে রক্ষা করেছিলেন। হোসেন আলীর পর শেষ ইমাম যাঁকে সকল শিয়া উপশাখা পরস্পর সমানভাবে স্বীকৃতি দেয়।[৮৩] কারবালার যুদ্ধকে প্রায়শই ইসলামে সুন্নি ও শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যকার চূড়ান্ত ভাঙন হিসেবে উদ্ধৃত করা হয় এবং প্রতি বছর আশুরার দিনে শিয়ারা এই ঘটনাকে স্মরণ করে থাকে।

আহলুল বাইতের ইমামত[সম্পাদনা]

ঢালযুক্ত ও ঢালবিহীন জুলফিকার। আলীর তলোয়ারের ফাতিমীয় রূপায়ন। সা‘দ ইবনে জায়েদ আল-আশহানীর অভিযানের সময় পৌত্তলিক বহুত্ববাদী ঈশ্বর মানাতের মন্দির থেকে দুটি তলোয়ার উদ্ধার করা হয়। মুহম্মদ তলোয়ার দুটি আলীকে উপহার দেন। এর একটি ছিল জুলফিকার যা পরবর্তীতে আলীর বিখ্যাত তলোয়ার এবং শিয়াবাদের প্রতীক হিসেবে পরিচিত লাভ করে।[৮৪]

দ্বাদশী ও ইসমাইলিসহ অধিকাংশ শিয়ারা পরবর্তীতে ইমামি হয়ে পড়ে। ইমামি শিয়ারা বিশ্বাস করে যে ইমামগণ হলেন মুহম্মদের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক উত্তরসূরী। ইমামেরা হলেন সেইসব ব্যক্তিত্ব যাঁরা ন্যায়বিচারের সহিত সমাজ পরিচালনার পাশাপাশি ঐশী আইন জারি রাখতে এবং এর গূঢ় অর্থ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। মুহম্মদ ও ইমামদের কথা ও কাজ জনসমাজের জন্য অনুসরণীয় পথপ্রদর্শক ও আদর্শ; ফলে তাদের অবশ্যই ত্রুটি ও পাপমুক্ত হতে হবে এবং অবশ্যই মুহম্মদের মাধ্যমে ঐশী ফরমান বা নাস দ্বারা মনোনীত হতে হবে।[৮৫][৮৬]

এই মতাদর্শ অনুসারে, প্রত্যেক যুগের একজন ইমাম রয়েছেন, যিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও আইন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে ঐশ্বরিকভাবে মনোনীত কর্তৃপক্ষ। আলী ছিলেন এই পরম্পরার প্রথম ইমাম, মুহাম্মদের ন্যায্য উত্তরসূরী, এরপর তাঁর কন্যা ফাতিমা ও আলীর বংশোদ্ভূত পুরুষদের মধ্য দিয়ে যা বহাল থেকেছিল।

আহলুল বাইত (নবীর পরিবার ও বংশধর) কিংবা খলিফা আবু বকরকে অনুসরণ করার এই পার্থক্যটি কোরআনের কিছু আয়াত, হাদিস (মুহাম্মদের কথা, কাজ ও সম্মতি) এবং ইসলামের অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতে শিয়া ও অ-শিয়া দৃষ্টিভঙ্গিকে রূপ প্রদান করেছে৷ শিয়া মুসলমানদের দ্বারা অনুসৃত হাদিস সংগ্রহটি আহলে বাইতের সদস্য ও তাঁদের সমর্থকদের থেকে বর্ণিত হাদিসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে, আহলে বাইতের সদস্য বা সমর্থক নন এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণিত হাদিস এর অন্তর্ভুক্ত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, ইবিনে আসাকির তাঁর তারিখ কবীর মুত্তাকি ও কানজুল উম্মার বিবরণীতে বলেছেন যে খলিফা উমর আবু হুরায়রাকে আঘাত ও তিরস্কার করেছিলেন এবং হাদিস বর্ণনা করতে নিষেধ করেছিলেন। উমর বলেছিলেন: “যেহেতু আপনি মহানবী (স.)-এর নিকট থেকে বহু সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করেছেন, আপনি তাঁর প্রতি কেবল মিথ্যা আরোপের জন্যই উপযুক্ত (অর্থাৎ, আপনার মতো একজন ধূর্ত লোকের কাছ থেকে একজন নবী সম্পর্কে কেবল মিথ্যাই প্রত্যাশা করতে পারে)। সুতরাং, আপনাকে অবশ্যই হাদিস বর্ণনা করা বন্ধ করতে হবে; নইলে আমি আপনাকে দুস ভূমিতে (ইয়েমেনের একটি গোত্র যেখানে আবু হুরায়রা জন্মেছিলেন) পাঠিয়ে দেব।” সুন্নিদের মধ্যে আলী ছিলেন চতুর্থ খলিফা, অন্যদিকে শিয়াদের মতে আলী ছিলেন দৈবিকভাবে মনোনীত প্রথম ইমাম বা মুহম্মদের স্থলাভিষিক্ত। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে আলীর পুত্র হোসেনের শাহাদাতবরণ ছিল শিয়া ইতিহাসের একটি প্রভাববিস্তারকারী ঘটনা। হোসেন তৎকালীন বেপরোয়া খলিফা ইয়াজিদের বশ্যতা অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন এবং ৭১ জন অনুসারী সমতে শহীদ হন। দ্বাদশী ও ইসমাইলি শিয়া মতবাদে বিশ্বাস করা হয় যে, নবী ও ইমামদের আত্মার উৎস ছিল আকল বা ঐশী প্রজ্ঞা যা তাঁদের হিকমত তথা গূঢ় জ্ঞান প্রদান করেছিল এবং তাঁদের কষ্টভোগ ছিল তাঁদের ভক্তদের জন্য ঐশী অনুগ্রহ লাভের একটি উপায়।[৮৭][৮৮] যদিও ইমামদের নিকট ওহী নাজিল হত না, তথাপি আল্লাহর সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁদের নির্দেশনা দিতেন এবং ইমামগণ সে অনুযায়ী লোকেদের পথপ্রদর্শন করতেন। ইমামত বা ঐশী নেতৃত্বে বিশ্বাস দ্বাদশী ও ইসমাইলি শিয়া শাখার একটি বুনিয়াদি বিশ্বাস। আল্লাহ কখনও মানবতাকে ঐশী পথপ্রদর্শন থেকে বঞ্চিত করবেন না — এই ধারণার উপর ভিত্তি করে ইমামত তত্ত্বটি দাঁড়িয়ে আছে।[৮৯]

জমানার ইমাম ও সর্বশেষ ইমাম[সম্পাদনা]

মাহদি হলেন ইসলামের ভবিষ্যৎবাণীকৃত মুক্তিদাতা যিনি কিয়ামতের পূর্বে সাত, নয় বা উনিশ বছর (ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা অনুসারে) শাসন করবেন এবং দুনিয়াকে মন্দতা থেকে মুক্ত করবেন।[৯০][৯১] ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, মাহদির শাসনামলটি যীশুখ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমনের সমকালীন হবে এবং যীশু (ঈসা) মাহদিকে মসীহ আদ-দজ্জালের (আক্ষরিক অর্থে “ভণ্ড খ্রীষ্ট” বা “খ্রীষ্টারি”) বিরুদ্ধে সহায়তা করবেন। যীশু, যাঁকে ইসলামে মশীহ ও নবী হিসেবে গণ্য করা হয়, দামেস্কের পূর্বপ্রান্তে একটি সাদা তোরণের পাদদেশে অবতরণ করবেন। তাঁর পরনে থাকবে হলদে পোশাক আর মাথা থাকবে উদ্বর্তিত। এরপর তিনি মাহদির সঙ্গে দজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেবেন, যেখানে মাহদি দজ্জালকে হত্যা করবেন এবং মানবজাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবেন।[৯২] বৃহত্তম শিয়া গোষ্ঠী দ্বাদশবাদীরা বিশ্বাস করে যে তাদের একাদশ ইমাম হাসান আল-আসকারির পুত্র মুহাম্মদ আল-মাহদিই হলেন প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদি যিনি বর্তমানে অন্তর্ধানে রয়েছেন। দাঊদি বোহরাসহ তৈয়িবি ইসমাইলি শিয়ারা বিশ্বাস করে যে ইমাম আত-তৈয়িব আবুল কাসিমের বংশোদ্ভূত একজন ইমামই বর্তমান লুক্কায়িত ইমাম ও মাহদি।[৯৩][৯৪]

রাজবংশ[সম্পাদনা]

কারবালার যুদ্ধের পরবর্তী শতাব্দীতে (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) বিভিন্ন শিয়া-অধিভুক্ত গোষ্ঠী উদীয়মান ইসলামি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে শিয়া নেতৃত্ব বা জনসংখ্যার ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি জাতি গড়ে ওঠে।[৯৫]

ফাতিমীয় খিলাফত[সম্পাদনা]

সর্বোচ্চ ব্যাপ্তিতে ফাতিমীয় খিলাফত
আল হাকিম মসজিদ, কায়রো

সাফাভি সাম্রাজ্য[সম্পাদনা]

সাফাভি রাজবংশের শাহ প্রথম ইসমাইলের প্রারম্ভিক কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল শিয়া ইসলামের দ্বাদশী মতবাদকে তাঁর নবগঠিত রাজ্যের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা করা। ১৫০৮ সালে তিনি সুন্নি ফকীহ আবু হানিফাসুফি দরবেশ আব্দুল কাদের জিলানীর সমাধি ধ্বংস করলে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়।[১০২] ১৫৩৩ সালে উসমানীয়রা ইরাক বিজয়ের পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুন্নি সমাধিস্থল পুনঃস্থাপন করে।[১০৩]

পারস্যে সাফাভি রাজবংশের শাসন (১৫০১–১৭৩৬) ছিল শিয়া ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এর ফলে মুসলিম বিশ্বে কয়েকটি বড় পরিবর্তন সাধিত হয়:

  • মোঙ্গল বিজয়ের পর থেকে সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যকার আপেক্ষিক পারস্পরিক সহনশীলতার অবসান এবং দুই সম্প্রদায়ের মাঝে বৈরিতার উত্থান।
  • রাষ্ট্রের ওপর শিয়া আলেমদের প্রাথমিক নির্ভরতা এবং এরপর উলামাদের একটি স্বতন্ত্র সংগঠনের উত্থান যারা সরকারি নীতি থেকে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিতে সক্ষম।[১০৪]
  • ধর্মীয় শিক্ষার ইরানি কেন্দ্রগুলোর গুরত্ববৃদ্ধি এবং দ্বাদশী শিয়া মতবাদ প্রধানত একটি আরব প্রপঞ্চ হিসেবে পরিচিতির পরিবর্তন।[১০৫]
  • আখবারি চিন্তাধারার প্রসার যার মতে কেবল কোরআনসুন্নাহর ভিত্তিতে রায় প্রদান করা উচিত, যুক্তি ব্যবহার প্রত্যাখ্যান।

সাফাভি সাম্রাজ্যের পতনের পর পারস্যের রাষ্ট্রব্যবস্থা—সরকারের নিযুক্ত বিচারকদের (কাজী) নিয়ে তৈরি আদালত ব্যবস্থাসহ—অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি মুজতাহিদদের নিয়ে গঠিত শরীয়া আদালতগুলোকে আইনি শূন্যতা পূরণের সুযোগ দেয় এবং উলামাদের তাঁদের বিচারিক কর্তৃত্ব আরোপ করতে সক্ষম করে। এই সময় উসুলি চিন্তাঘরানা শক্তিবৃদ্ধি করে।[১০৬]

ধর্মতত্ত্ব[সম্পাদনা]

শিয়া মতবাদ ব্যাপক বিস্তৃত এবং বিভিন্ন উপদল এর অন্তর্গত।[১৪] শিয়াদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও চর্চা সুন্নিদের থেকে কিছুটা আলাদা। সকল মুসলমান যেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, শিয়াদের কাছে যোহরের নামাজের সাথে আসরের নামাজ এবং মাগরিবের নামাজের সাথে এশার নামাজ সমন্বিতভাবে পড়ে ফেলার বিকল্প রয়েছে, কারণ কোরআনে তিনটি পৃথক সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুন্নিরা কেবল কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নামাজের এরকম সমন্বয় করে থাকে।[১০৭][১০৮] শিয়া ইসলামের অন্তর্গত একাধিক ধর্মতাত্ত্বিক ও ফিকহশাস্ত্রীয় ঘরানা রয়েছে। দ্বাদশী শিয়াদের মধ্যে উসুলি, আখবারি, শায়েখি প্রভৃতি তত্ত্বীয় ঘরানা রয়েছে এবং জাফরি হল তাদের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ফিকহি ঘরানা যা ইমাম জাফর আল-সাদিক থেকে উদ্ভূত বলে ধারণা করা হয়। জায়েদি শিয়াদের ধর্মতত্ত্ব মুতাযিলাদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং ফিকহশাস্ত্রীয় দিক দিয়ে তারা সুন্নিদের, বিশেষত হানাফিদের, নিকটবর্তী। ইসমাইলি শিয়া চিন্তাধারায় স্বতন্ত্র ধর্মতাত্ত্বিক ক্রমবিকাশ ঘটেছে এবং আইনশাস্ত্রীয় ক্ষেত্রে তাদের অনেকে জাফরি ফিকহের অনুসরণ করে থাকে। শিয়া ইসলাম মুসলিম বিশ্বে ধর্মীয় ব্যাখা ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটিয়েছে।[১০৯][১১০] ইমাম আলীর অনুসারী হিসেবে শিয়া আত্মপরিচয়ের উৎপত্তি[১১১] ও শিয়া ধর্মতত্ত্ব হিজরি ২য় শতাব্দীতে বা হিজরতের পর (খ্রিষ্টীয় ৮ম শতাব্দীতে) প্রণীত হয়।[১১২] প্রথম শিয়া সরকার ও সমাজগুলো হিজরি ৪র্থ শতাব্দী বা খ্রিষ্টীয় ৯ম শতাব্দীর শেষভাগে গড়ে ওঠে। লুই মাসিনিয়ঁ হিজরি চতুর্থ শতক বা খ্রিষ্টীয় ১০ম শতককে ইসলামের ইতিহাসের ইসমাইলি শিয়া শতাব্দী বলে অবিহিত করেছেন।[১১৩]

হাদিস[সম্পাদনা]

শিয়ারা বিশ্বাস করে যে আলীর মর্যাদা অসংখ্য হাদিস দ্বারা সমর্থিত, যেমন: গাদীর খুমের হাদিস, দুটি ভারী বস্তুর হাদিস, কাগজ ও কলমের হাদিস, নিকটাত্মীয়দের সতর্কীকরণের হাদিস, বারো ইমাম সংক্রান্ত হাদিস ইত্যাদি। বিশেষত আহল আল-কিসার হাদিসটি প্রায়ই সুন্নি ও শিয়া উভয় সম্প্রদায়ের পণ্ডিতদের দ্বারা আলী ও তাঁর পরিবারের প্রতি মুহম্মদের ভাবাবেগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। শিয়ারা আহল আল-বাইত এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ সহচরদের থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং সুন্নিদের প্রসিদ্ধ হাদিস সংকলন কুতুব আল-সিত্তাহের বিপরীতে তাদের নিজস্ব সংকলন কুতুব আল-আরবাহ ব্যবহার করে।[১১৪][১১৫]

বিশ্বাসের ঘোষণা[সম্পাদনা]

মিশরের কায়রোতে ইবনে তুলুন মসজিদের কিবলায় “আলীউন ওয়ালীউল্লাহ” সংবলিত কালেমা

ইসলামের শাহাদা তথা বিশ্বাসের ঘোষণার শিয়া সংস্করণটি সুন্নি সংস্করণ থেকে কিছুটা আলাদা। সুন্নি শাহাদাতে বলা হয় “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” অর্থাৎ “আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ হলেন আল্লাহর রাসুল”। শিয়ারা এর সঙ্গে একটি অতিরিক্ত বাক্য “আলীউন ওয়ালীউল্লাহ” (علي ولي الله) সংযোজন করে যার অর্থ “আলী হলেন আল্লাহর ওয়ালী”। এই বাক্যটি মুহম্মদের বংশধরদের মধ্য দিয়ে কর্তৃত্বের উত্তরাধিকারের শিয়া ধারণার গুরুত্ব বহন করে। এভাবে শিয়া শাহাদার তিনটি বাক্য যথাক্রমে তাওহিদ (একত্ববাদ), নবুয়াত (নবীত্ব) ও ইমামতকে (বিশ্বাসীদের নেতৃত্ব) সম্ভাষণ করে।

শিয়ারা আলীকে “ওয়ালী” হিসেবে গণ্য করার ভিত্তি হিসেবে কোরআনের সূরা আল-মায়িদাহর ৫৫ নং আয়াতটি উদ্ধৃত করে থাকে।[১১৬]

অভ্রান্ততা[সম্পাদনা]

আলীকে ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম পুরুষ হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

ইসমাহ হল ইসলামে অভ্রান্ততা বা ত্রুটি ও পাপমুক্ত থাকার স্রষ্টাপ্রদত্ত স্বাধীনতার ধারণা।[১১৭] মুসলমানেরা বিশ্বাস করে যে মুহাম্মদ এবং ইসলামের অন্যান্য নবীগণ ইসমাহর অধিকারী। দ্বাদশীইসমাইলি শিয়া মুসলমানেরা এই বৈশিষ্ট্যটিকে ইমামগণ ও নবীকন্যা ফাতিমার ওপরও আরোপ করে থাকে। অন্যদিকে জায়েদি শিয়ারা তাদের ইমামদের ওপর ইসমাহ গুণটি আরোপ করে না।[১১৮] প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া সত্ত্বেও ইমামদের অভ্রান্ততা ও পাপহীনতা পরবর্তীতে শিয়া মতবাদের স্বতন্ত্র বিশ্বাস আকারে বিকশিত হয়।[১১৯]

শিয়া ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে, অভ্রান্ততা আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনার জন্য একটি যৌক্তিক অপরিহার্য পূর্বশর্ত হিসাবে বিবেচিত হয়। তারা যুক্তি দেন যে, যেহেতু আল্লাহ এই ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে পরম আনুগত্যের হুকুম দিয়েছেন, অবশ্যই তাঁদের কেবল সঠিক আদেশ দিতে হবে। আহল আল-বাইতের অভ্রান্ততার মর্যাদাটি কোরআনের শুদ্ধির আয়াতের (সূরা আল-আহযাবের ৩৩ নং আয়াত) শিয়া ব্যাখার ওপর নির্ভরশীল।[১২০][১২১] সুতরাং, তাঁরা সর্বাধিক বিশুদ্ধ এবং সর্বপ্রকার অশুচি থেকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ নিষ্কলঙ্ক ব্যক্তিগণ।[১২২] এর অর্থ এই নয় যে অতিপ্রাকৃত শক্তি তাঁদের পাপকাজ করতে বাধা দেয়, বরং আল্লাহর প্রতি তাদের নিখুঁত বিশ্বাস থাকার কারণে তাঁরা যেকোনো প্রকার পাপকর্ম থেকে বিরত থাকেন।[১২৩]

আল্লাহর ইচ্ছা সম্পর্কেও তাঁদের পরিপূর্ণ জ্ঞান রয়েছে। তাঁরা ফেরেশতাদের দ্বারা নবী ও রসুলদের নিকট আনিত সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী। তাঁদের জ্ঞান সর্বকালের সামগ্রিকতাকে ঘিরে থাকে। ফলে তাঁরা ধর্মীয় বিষয়ে ত্রুটিহীনভাবে কাজ করেন।[১২৪] শিয়ারা আলীকে ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনার পাশাপাশি ইসলামি অনুশীলন ও এর গূঢ় অর্থ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম মুহাম্মদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বিবেচনা করে। সুতরাং তাঁকে ত্রুটি ও পাপ থেকে মুক্ত এবং আল্লাহ কর্তৃক ঐশী ফরমান (নাস) দ্বারা নিযুক্ত প্রথম ইমাম হিসেবে গণ্য করা হয়।[১২৫] শিয়া দৃষ্টিকোণ থেকে আলীকে মুহাম্মদের ন্যায় “পূর্ণাঙ্গ মানব” (আল-ইনসান আল-কামিল) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১২৬]

অন্তর্ধান[সম্পাদনা]

অন্তর্ধান বা সমাবরণ হল শিয়া ইসলামের কিছু উপদলের একটি বিশ্বাস যে একজন ত্রাণকর্তা বা মুক্তিদাতা ব্যক্তিত্ব, মাহদী নামে পরিচিত একজন গুপ্ত ইমাম, একদিন ফিরে আসবেন এবং বিশ্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। দ্বাদশী শিয়া ঐতিহ্য অনুসারে মাহদীর মূল লক্ষ্য হবে একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং নবী মুহাম্মদের প্রতি অবতীর্ণ ইসলামি আইন প্রয়োগ করা। দ্বাদশীরা বিশ্বাস করে যে তাদের একাদশ ইমাম হাসান আল-আসকারীর পুত্র মুহাম্মদ আল-মাহদীই হলেন প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী। পবিত্র কোরআনে ইমাম মাহদী সংক্রান্ত কোনো আয়াত নেই, তবে হাদিসে তাঁর উল্লেখ রয়েছে। ইমাম মাহদীর অন্তর্ধান শিয়া ইসলামের একটি মৌলিক বিশ্বাস।[১২৭]

কিছু শিয়া গোষ্ঠী, যেমন জায়েদিনিজারি ইসমাইলিরা, অন্তর্ধান ধারণাটিতে বিশ্বাস করে না। যে দলগুলো এটি বিশ্বাস করে তাদের মধ্যে ইমামতের কোন কোন বংশধারাটি বৈধ এবং কোন ব্যক্তি অন্তর্ধানে গেছেন সে বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তারা বিশ্বাস করে যে বহু লক্ষণ রয়েছে যা তার ফিরে আসার সময়কে ইঙ্গিত করবে।

দ্বাদশী শিয়া মুসলমানেরা বিশ্বাস করে যে ইমাম মাহদী (মুহাম্মদ আল-মাহদী) ইতোমধ্যে পৃথিবীতে বিরাজ করছেন, বর্তমানে অন্তর্ধানে আছেন এবং শেষ জমানায় আবির্ভূত হবেন। ফাতিমীয়, বোহরা ও দাঊদি বোহরারা একই বিশ্বাস তাদের একবিংশ তৈয়িব আবুল কাসিমের প্রতি ধারণ করে। অন্যদিকে সুন্নিরা বিশ্বাস করে যে মাহদী এখনও জন্মগ্রহণ করেননি এবং শেষ জমানায় পৃথিবীতে আবির্ভূত হবেন।[১২৮]

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

শিয়ারা বিশ্বাস করে যে মুহাম্মদসহ সকল নবীর হাতিয়ার ও পবিত্র জিনিসপত্র আহল আল-বাইতের ইমামদের নিকট ক্রমান্বয়ে হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিতাব আল-কাফিতে ইমাম জাফর আল-সাদিক উল্লেখ করেছেন যে, “আমার কাছে আল্লাহর রাসূলের অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। এটি তর্কাতীত।”[১২৯]

তিনি আরও দাবি করেন যে তাঁর কাছে আল্লাহর রসুলের তলোয়ার, কুলচিহ্ন, লামাম (ধ্বজা) এবং ও শিরোস্ত্রাণ রয়েছে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে তাঁর কাছে রয়েছে আল্লাহর রসুলের বিজয়ী পতাকা। তাঁর কাছে আছে মুসার লাঠি, দাউদপুত্র সুলায়মানের আংটি এবং সেই বারকোশ যাতে মুসা তাঁর নৈবেদ্য নিবেদন করতেন। তাঁর কাছে রয়েছে সেই নাম যেটি আল্লাহর রসুল যখনই মুসলমান ও পৌত্তলিকদের মাঝে স্থাপন করতেন তখন পৌত্তলিকদের দিক থেকে কোনো তীর মুসলমানদের কাছে এসে পৌঁছত না। তাঁর কাছে একই জিনিস রয়েছে যা ফেরেশতারা নিয়ে এসেছিলেন।[১২৯]

আল-সাদিক আরও বর্ণনা করেন যে, হাতিয়ার হস্তান্তর করা ইমামত (নেতৃত্ব) প্রাপ্তির সমার্থক, ঠিক যেমন ইস্রায়েলীয়দের গৃহে পবিত্র সিন্দুকটি নবুওতকে ইঙ্গিত করেছিল।[১২৯]

ইমাম আলি আল রিদা বর্ণনা করেন যে, “আমাদের মধ্যে যার কাছেই অস্ত্রশস্ত্র যাবে, জ্ঞানও তাকে অনুসরণ করবে এবং জ্ঞানসম্পন্ন (ইমাম) ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্র কখনোই বিচ্যুত হবে না।”[১২৯]

সম্প্রদায়[সম্পাদনা]

জনমিতি[সম্পাদনা]

দেশ অনুযায়ী ইসলাম              সুন্নি              শিয়া      ইবাদি
মুসলিমবিশ্বের ফিকহশাস্ত্রীয় চিন্তাঘরানাসমূহ[১৩০]

শিয়া মুসলমানদের মতে, শিয়া জনসংখ্যার অনুমানের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হল শিয়া যদি কোনো মুসলিম দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু না হয়ে থাকে তাহলে সমগ্র জনসংখ্যাকে প্রায়শই সুন্নি হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এর বিপরীতে নির্ভরযোগ্য কোনো জরিপ পরিচালনা করা হয়নি যা প্রতিটি সম্প্রদায়ের আকারের যথাযথ অনুমানের অবদান রাখতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯২৬ সালে আরব উপদ্বীপে আল সৌদের উত্থান শিয়াদের বিরুদ্ধে সরকারি বৈষম্য নিয়ে আসে।[১৩১] দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম জনসংখ্যার ২১% শিয়া বলে ধারণা করা হয়, যদিও এই একই কারণে মোট সংখ্যাটি অনুমান করা মুশকিল।[১৩২] ধারণা করা হয় যে মুসলিম বিশ্বের ১৫% হল শিয়া।[১৩৩][১৩৪][১৩৫][১৩৬] ২০০৯ সালের এক জরিপমতে বিশ্বে শিয়া মুসলমানদের সংখ্যা ২০০ মিলিয়নের অধিক।[১৩৫]

শিয়ারা আজারবাইজান, বাহরাইন, ইরানইরাকে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী,[১৩৭][১৩৮] এছাড়া লেবাননে তারা সুন্নি মুসলমানমারোনীয় খ্রিষ্টানদের পাশাপাশি অন্যতম সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়। শিয়ারা মধ্যপ্রাচ্যের মোট জনসংখ্যার ৩৬.৩% এবং মুসলিম সংখ্যার ৩৮.৬%।[১৩৯]

শিয়া মুসলমানেরা লেবাননের জনসংখ্যার ২৭–৩৫%, ইয়েমেনের জনসংখ্যার প্রায় ৩৫% থেকে ৪০%,[১৩৭][১৪০][১৪১] কুয়েতের নাগরিক জনসংখ্যার ৩০–৩৫% (অনাগরিক জনসংখ্যার কোনো হিসেব নেই),[১৪২][১৪৩] তুরস্কের জনসংখ্যার ২০% এর অধিক,[১৩৫][১৪৪] পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫–২০%[১৪৫][১৩৫] এবং আফগানিস্তানের জনসংখ্যার ১০–১৯%।[১৪৬][১৪৭]

সউদি আরবে একাধিক স্বতন্ত্র শিয়া সম্প্রদায়ের উপস্থিতি রয়েছে, যাদের মধ্যে পূর্ব প্রদেশের দ্বাদশী বাহরানা, মদিনার নাখাবিলা এবং নাজরানের ইসমাইলি সুলায়মানি ও জায়েদি সম্প্রদায় উল্লেখযোগ্য। প্রাক্কলন অনুসারে সউদি আরবে শিয়া নাগরিকদের সংখ্যা ২–৪ মিলিয়ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা স্থানীয় জনসংখ্যার প্রায় ১৫%।[১৪৮][ভাল উৎস প্রয়োজন]

ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রার উপকূলবর্তী অঞ্চলে এবং আচেহ প্রদেশে উল্লেখযোগ্য শিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে।[১৪৯] দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যত্র শিয়াদের উপস্থিতি নগন্য, যেখানে মুসলমানেরা মূলত শাফিঈ সুন্নি।

নাইজেরিয়াতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিয়া সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বিদ্যমান, যা আধুনিককালে কানো ও সোকোটো রাজ্যকেন্দ্রিক শিয়া আন্দোলনের ফলস্বরূপ।[১৩৫][১৩৬][১৫০] আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে, যেমন: কেনিয়া,[১৫১] দক্ষিণ আফ্রিকা,[১৫২] সোমালিয়া[১৫৩] ইত্যাদিতে বিভিন্ন শিয়া উপদলের ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। এরা মূলত ঔপনিবেশিক আমলে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগত অভিবাসীদের বংশধরগণ, যেমন: খোজা সম্প্রদায়।[১৫৪]

বৈশ্বিক জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মহাদেশসমূহে বৈশ্বিক শিয়া জনসংখ্যার বিন্যাস

  এশিয়া (৯৩.৩%)
  আফ্রিকা (৪.৪%)
  ইউরোপ (১.৫%)
  আমেরিকাদ্বয় (০.৭%)
  ওশেনিয়া (০.১%)

নিম্নোক্ত প্রথম তিনটি কলামে নির্দেশিত পরিসংখ্যানগুলো পিউ গবেষণা কেন্দ্রের ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসের জনমিতিক গবেষণাপত্র ম্যাপিং দ্য গ্লোবাল মুসলিম পপুলেশনের ওপর ভিত্তি করে প্রদর্শন করা হয়েছে।[১৩৫][১৩৬]

এক লক্ষাধিক শিয়া জনসংখ্যার দেশসমূহ[সম্পাদনা]

নিপীড়ন[সম্পাদনা]

শিয়া ও সুন্নি চিন্তাধারার প্রারম্ভিক বিকাশের সময় থেকে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায়ের সম্পর্কের ইতিহাস প্রায়শই ছিল সহিংসতাপূর্ণ। বিভিন্ন কালপর্বে শিয়া গোষ্ঠীসমূহ নিপীড়নের শিকার হয়েছে।[১৫৫][১৫৬][১৫৭][১৫৮][১৫৯][১৬০]

সামরিকভাবে প্রতিষ্ঠিত উমাইয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বহু সুন্নি শাসকেরা শিয়া সম্প্রদায়কে তাদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব উভয়ের জন্যই হুমকিস্বরূপ বলে মনে করতেন।[১৬১] উমাইয়া শাসনামলে সুন্নি শাসকেরা সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়কে প্রান্তিকীকরণের চেষ্টা চালায় এবং পরবর্তীকালে আব্বাসীয়রা তাদের এককালীন মিত্রশক্তি শিয়াদের প্রতি আচরণ পাল্টে ফেলে এবং প্রচুর শিয়াদের কারাবন্দী, নির্যাতন ও হত্যা করে। শিয়াদের অধিকাংশ ইমামদের উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমলে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়। ইতিহাসজুড়ে সুন্নি সহধর্মবাদীদের দ্বারা শিয়া নিপীড়নকে প্রায়শই পাশবিক ও গণহত্যাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সমগ্র মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০–১৫% অংশ হওয়ায় শিয়ারা আজও বহু সুন্নি অধ্যুষিত দেশে তাদের ধর্ম পালন ও সংগঠনের অধিকার ছাড়াই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করছে।[১৬২]

১৫১৪ সালে উসমানীয় সুলতান প্রথম সেলিম ৪০,০০০ আনাতোলীয় শিয়াদের গণহত্যার নির্দেশ দেন।[১৬৩] জালাল আল-এ-আহমদের মতে, “সুলতান প্রথম সেলিম ব্যাপারটাকে এতদূর পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন যে তিনি ঘোষণা করেন একজন শিয়া হত্যা করলে ৭০ জন খ্রিস্টান হত্যার সমান সওয়াব অর্জিত হয়।”[১৬৪]

১৮০১ সালে সউদি ওয়াহাবি সেনাবাহিনী পূর্ব ইরাকের কারবালায় আক্রমণ ও ধ্বংসসাধন করে যেখানে তৃতীয় ইমাম হুসাইন ইবনে আলীর মাজার অবস্থিত।[১৬৫]

১৯৬৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে ইরাকে শিয়া মুসলমানদের ব্যাপকভাবে গ্রেফতার, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়।[১৬৬]

২০১১ সালের মার্চ মাসে মালয়েশীয় সরকার শিয়া সম্প্রদায়কে একটি “বিচ্যুত” উপদল হিসাবে ঘোষণা করে এবং শিয়াদের অন্যান্য মুসলমানদের কাছে তাদের বিশ্বাস প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তবে তাদের ব্যক্তিগতভাবে এটি চর্চা করতে অনুমোদন দেয়।[১৬৭][১৬৮]

পবিত্র দিনসমূহ[সম্পাদনা]

শিয়ারা নিম্নলিখিত বার্ষিক পবিত্র দিনসমূহ উদ্‌যাপন করে:

তীর্থস্থানসমূহ[সম্পাদনা]

মুসলমানদের নিকট তিনটি পবিত্রতম স্থান হল মক্কা (মসজিদ আল-হারাম), মদিনা (মসজিদে নববী) ও কুদস (আল-আকসা মসজিদ)। এর পাশাপাশি শিয়া মুসলমানদের কাছে নাজাফ (ইমাম আলী মসজিদ), কারবালা (ইমাম হোসাইনের মাজার) ও কুফা (মসজিদ আল-কুফা) অত্যন্ত সম্মানিত স্থান।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানগুলির মধ্যে রয়েছে নাজাফের ওয়াদিউস সালাম কবরস্থান, মদিনার আল-বাকী কবরস্থান, মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার, কাজিমিয়ার আল কাজিমিয়া মসজিদ, সামারার আল-আসকারী মসজিদ, কুফার মহামসজিদ ও সাহলা মসজিদ এবং কোম, সুসা ও দামেস্কের বেশ কয়েকটি স্থান।

সউদি আরবের বেশিরভাগ শিয়া তীর্থস্থানগুলো ইখওয়ান যোদ্ধাদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, এর মধ্যে ১৯২৫ সালে জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে ইমামদের সমাধিসমূহ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।[১৭৩] ২০০৬ সালে একটি বোমা হামলায় আল-আসকারী মসজিদটি ধ্বংস হয়ে যায়।[১৭৪]

শাখাসমূহ[সম্পাদনা]

এক নজরে শিয়া ইসলামের শাখাসমূহ

শিয়া সম্প্রদায় ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে ইমামত ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শাখা বা উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বৃহত্তম শাখাটি হল ইসনা আশারিয়া বা দ্বাদশী, এরপরই আছে জায়েদি ও ইসমাইলি। তিনটি দলই ইমামতের ভিন্ন ভিন্ন ধারা অনুসরণ করে।[১৭৫][১৭৬][১৭৭]

দ্বাদশী[সম্পাদনা]

টোলেভার শিয়া বা ইথনাহিয়ারিয়াহ শিয়া ইসলামের বৃহত্তম শাখা এবং শিয়া মুসলিম শব্দটি প্রায়শই ডিফল্টরূপে টোয়েলভারকে বোঝায়। টোলেভার শব্দটি দ্বাদশ ইমাম হিসাবে পরিচিত বারো divineশ্বরিকভাবে নির্ধারিত নেতাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের মতবাদ থেকে উদ্ভূত। টোলেভার শিয়া ইমামি বা জাফারি নামেও পরিচিত, 6th ষ্ঠ ইমাম জাফর আল-সাদিকের নাম থেকে উদ্ভূত, যিনি টোলেভারের আইনশাস্ত্রটি বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। [১৫3]

টোলেভারস সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ইরানের (90%), [154] আজারবাইজান (85%), [13] [155] বাহরাইন (70%), ইরাক (65%), লেবানন (65% মুসলমান) রয়েছে [ 156] [157] [158]

তত্ত্ব[সম্পাদনা]

টোয়েলভার মতবাদ পাঁচটি নীতির উপর ভিত্তি করে। [১৫৯] উসুল আদ-দ্বীন নামে পরিচিত এই পাঁচটি নীতি অনুসরণীয়: [160] [১1১]

একেশ্বরবাদ, oneশ্বর এক এবং অনন্য। ন্যায়বিচার, নৈতিকতা, ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচারের উপর ভিত্তি করে এই নৈতিকতাগুলির লঙ্ঘনের শাস্তি সহ নৈতিক ন্যায়বিচারের ধারণা। নবুওয়াত, institutionশ্বর মানবজাতির পথনির্দেশ করার জন্য Godশ্বর দূত বা প্রেরিতদের প্রেরণ করেন institution নেতৃত্ব, একটি divineশী প্রতিষ্ঠান যা নবুয়তী প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অর্জন করে। এর নিয়োগকারীরা (ইমামগণ) divineশিকভাবে নিযুক্ত হন। শেষ বিচার, মানবতার God'sশ্বরের চূড়ান্ত মূল্যায়ন। আরও নির্দিষ্টভাবে বলা যায়, টোয়েলভার শিয়া অনুসারে এই নীতিগুলি উসুল আল-মাযহাব (শিয়া সম্প্রদায়ের নীতি) নামে পরিচিত যা দারিরিয়াত আল-দ্বীন (ধর্মের প্রয়োজনীয়তা) থেকে পৃথক, যা মুসলমান হওয়ার জন্য নীতিমালা। ধর্মের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে নেতৃত্ব (ইমামাহ) অন্তর্ভুক্ত নয় কারণ একজন মুসলমান হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য এটি প্রয়োজনীয়তা নয়। তবে আয়াতুল্লাহ আল-খোয়ীর মতো টোয়েলভার পন্ডিতদের মতে এই বিভাগে Godশ্বর, নবুওয়াত, কিয়ামত এবং অন্যান্য "প্রয়োজনীয়তা" (ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাসের মতো) বিশ্বাস করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে, টোয়েলভার শিয়া একদিকে ইসলামের মূল নীতিগুলিতে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে এবং অন্যদিকে ইমামের মতো শিয়া মতবাদগুলিতে বিশেষ পার্থক্যের চিত্র তুলে ধরেছে।

গ্রন্থ[সম্পাদনা]

কুরআন যা সকল মুসলমানের কাছে প্রচলিত রয়েছে তা ছাড়াও শিয়া মুহাম্মাদ এবং দ্বাদশ ইমামের জন্য দায়ী traditionsতিহ্যবাহী বইয়ের ("আদাদ্থ") থেকে দিকনির্দেশনা পান। নীচে এই বইগুলির মধ্যে কয়েকটি বিশিষ্টের একটি তালিকা রয়েছে:

আশ-শরীফ আর-রাধী রচিত নাহজ আল-বালাগা [১ 16২] [১3৩] [১4৪] - শিয়াদের দ্বারা বিবেচিত প্রথম ইমামকে আলি হিসাবে অভিহিত খুতবা, চিঠি এবং বর্ণনার সর্বাধিক বিখ্যাত সংগ্রহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নি রচিত আল-কাফি [১5৫] আল-হুর আল-আমিলির দ্বারা ওয়াসাilল আল-শিয়াহা

বারো ইমাম[সম্পাদনা]

মুহম্মদ ও বারো ইমামের নামের ক্যালিগ্রাফিক উপস্থাপনা

দ্বাদশ ইমামগণ টোয়েলভারদের জন্য মুহাম্মদের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি। [উদ্ধৃতি প্রয়োজন] টোয়েলভার্সের ধর্মতত্ত্ব অনুসারে, মুহাম্মদের উত্তরসূরী এমন এক অনাবৃত মানব ব্যক্তি যিনি কেবল ন্যায়বিচারের দ্বারা সম্প্রদায়কে শাসন করেন না, পাশাপাশি রাখতেও সক্ষম হন এবং divineশিক আইন এবং এর রহস্যজনক অর্থ ব্যাখ্যা করে। মুহাম্মদ এবং ইমামগণের বাণী ও আমল সম্প্রদায়কে অনুসরণ করার জন্য একটি গাইড এবং মডেল; ফলস্বরূপ, তাদের অবশ্যই ত্রুটি ও পাপ থেকে মুক্ত হতে হবে এবং ইমামদের অবশ্যই মুহাম্মদ (সা।) - এর মাধ্যমে divineশিক ডিক্রি বা নাস দ্বারা নির্বাচিত হতে হবে। [৫২] []৩] প্রতিটি ইমাম হুসেইন ইবনে আলীকে বাদ দিয়ে পূর্বের ইমামের পুত্র ছিলেন, যিনি হাসান ইবনে আলীর ভাই ছিলেন। [উদ্ধৃতি আবশ্যক] দ্বাদশ ও চূড়ান্ত ইমাম মুহাম্মদ আল-মাহদী, যাকে টোভলবার্স বিশ্বাস করেন বর্তমানে জীবিত এবং অবাক করা।

১ম আলী ইবনে আবী তালিব ৬০০ - ৬৬১ 'Alī ibn Abī Ṭālib , Amīru al-Mu'minīn নামেও পরিচিত
২য় হাসান ইবনে আলী ৬২৫ – ৬৬৯ Ḥasan ibn 'Alī , Al-Hasan al-Mujtaba নামেও পরিচিত
৩য় হোসাইন ইবনে আলী ৬২৬ – ৬৮০ Ḥusayn ibn 'Alī , Al-Husayn ash-Shaheed নামেও পরিচিত
৪র্থ আলী ইবনে হোসেন জয়নুল আবিদীন ৬৫৮ – ৭১৩ 'Alī ibn Ḥusayn , Ali Zayn al-'Abideen নামেও পরিচিত
৫ম মুহাম্মদ আল-বাকির ৬৭৬ – ৭৪৩ Muḥammad ibn 'Alī , Muhammad al-Bāqir নামেও পরিচিত
৬ষ্ঠ জাফর আস-সাদিক ৭০৩ – ৭৬৫ Ja'far ibn Muḥammad , Ja'far aṣ-Ṣādiq নামেও পরিচিত
৭ম মুসা আল-কাজিম ৭৪৫ – ৭৯৯ Mūsá ibn Ja'far , Mūsá al-Kāżim নামেও পরিচিত
৮ম আলী আর-রিদা ৭৬৫ – ৮১৮ 'Alī ibn Mūsá , Ali ar-Riża নামেও পরিচিত
৯ম মুহাম্মদ আল-জওয়াদ ৮১০ – ৮৩৫ Muḥammad ibn 'Alī , Muḥammad al-Jawad এবং Muḥammad at-Taqi নামেও পরিচিত
১০ম আলী আল-হাদী ৮২৭ – ৮৬৮ 'Alī ibn Muḥammad , Alī al-Ḥādī এবং ""Alī an-Naqī নামেও পরিচিত
১১শ হাসান আল-আসকারী ৮৪৬ – ৮৭৪ Ḥasan ibn 'Alī , Hasan al Askari নামেও পরিচিত
১২শ মুহাম্মদ আল-মাহদী ৮৬৯ – অন্তর্ধান Muhammad ibn Ḥasan , al-Hujjat ibn al-Ḥasan, Imam al-Mahdī, Imam al-Aṣr, ইত্যাদি নামেও পরিচিত

ফিকহশাস্ত্র[সম্পাদনা]

টোয়েলভার আইনশাসনকে জাফারি আইনশাসন বলা হয়। এই আইনশাস্ত্রে সুন্নাহকে মুহাম্মাদ (রা) এর মৌখিক traditionsতিহ্য এবং বারো ইমামের দ্বারা তাদের বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। জাফারি আইনশাস্ত্রের তিনটি বিদ্যালয় রয়েছে: উসুলি, আখবাড়ি এবং শায়খী। উসুলি স্কুল তিনটির মধ্যে এখন পর্যন্ত বৃহত্তম। জাফলি আইনশাস্ত্র অনুসরণ না করে এমন টোয়েলভার গ্রুপগুলির মধ্যে রয়েছে আলেভী, বেকতাশি এবং কিজিলবাশ।

জাফরী আইনশাস্ত্রে ইসলামের পাঁচটি প্রাথমিক স্তম্ভ, যা উসুল আদ-দ্বীন নামে পরিচিত। এগুলি মানক সুন্নী "ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভ" এর সাথে বৈচিত্র্যময়। শিয়া প্রাথমিক "স্তম্ভগুলি" হলেন:

তাওহীদ বা onশ্বরের একত্ব। মুহাম্মদের নুবুওয়া নবুওয়াত। মুআদ কিয়ামত। আদল ন্যায়বিচার (Godশ্বরের) ইমাম শিয়া ইমামদের সঠিক স্থান জাফারি আইনশাস্ত্রে আটটি গৌণ স্তম্ভ রয়েছে, যা ফুরু আদ-দ্বীন নামে পরিচিত, যা নিম্নরূপ: [১ 166]

প্রার্থনা উপবাস মক্কায় তীর্থযাত্রা ভিক্ষা দিচ্ছেন সৎকর্মের জন্য সংগ্রাম অন্যকে ভালোর দিকে পরিচালিত করা অন্যকে মন্দ থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া খুমস) (বার্ষিক সঞ্চয়ের উপর ২০% কর, commercial বাণিজ্যিক ব্যয় কাটার পরে}) টোয়েলভার্সের মতে ইসলামী আইনশাস্ত্রের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা হ'ল মুহাম্মদ ও বারো জন ইমামের দায়িত্ব। দ্বাদশ ইমাম যেহেতু অবহেলিত, তাই আলেমদের কর্তব্য হ'ল কুরআন ও হাদিসের মতো ইসলামী সাহিত্যের উল্লেখ করা এবং ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান বিষয়গুলির মোকাবিলার উপায় সরবরাহ করার জন্য ইসলামী আইনের সীমার মধ্যে আইনী সিদ্ধান্তগুলি চিহ্নিত করা। অন্য কথায়, টোলেভার আলেমরা ইসলামিক আইনশাস্ত্রের অভিভাবকত্ব প্রদান করে, যা মুহাম্মদ এবং তাঁর বারো উত্তরসূরী দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়েছিল। এই প্রক্রিয়াটি ইজতিহাদ নামে পরিচিত এবং আলেমরা মারজা নামে পরিচিত, যার অর্থ রেফারেন্স। আল্লামা ও আয়াতুল্লাহ লেবেলগুলি টোলেভার আলেমদের জন্য ব্যবহৃত।

জায়েদি[সম্পাদনা]

জায়েদিয়া, জায়েদিজম বা জায়েদী একটি শিয়া স্কুল যায়েদ ইবনে আলীর নাম অনুসারে। জায়েদী ফিকহের অনুসারীদের যাইদিস (বা মাঝেমধ্যে ফাইভার্স) বলা হয়। তবে জায়েদী ওয়াস্তেস নামে একটি গ্রুপ রয়েছে যারা টোয়েলভারস (নীচে দেখুন)। ইয়েমেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় –২-–%% জায়েদিস রয়েছে। [১ 167] [১8৮]

তত্ত্ব[সম্পাদনা]

জায়েদিস, টোয়েলভারস এবং ইসমাইলীরা সবাই প্রথম চারটি ইমামকে চিনে; তবে যায়েদীরা জায়েদ ইবনে আলীকে পঞ্চম হিসাবে বিবেচনা করে। জায়েদ ইবনে আলীর সময় হওয়ার পরে যায়েদীরা বিশ্বাস করেছিল যে হাসান ইবনে আলী বা হুসেন ইবনে আলীর যে কোন বংশধর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করার পরে ইমাম হতে পারে। [১ 16৯] ইতিহাসের অন্যান্য সুপরিচিত জায়েদী ইমামরা হলেন ইয়াহিয়া ইবনে জায়েদ, মুহাম্মদ আল-নাফস আল-জাকিয়া এবং ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহ।

ইমামাহর জায়েদী মতবাদ ইমামের অপূর্ণতা বা ইমামগণ divineশিক দিকনির্দেশনা লাভ করে না বলে মনে করে না। জায়েদীরা এও বিশ্বাস করে না যে ইমামতি অবশ্যই পিতা থেকে পুত্রের নিকটে চলে যেতে পারে তবে বিশ্বাস করে যে এটি যে কোনও সাইয়্যেদ হাসান ইবনে আলী বা হুসেন ইবনে আলী (যেমন হাসান ইবনে আলীর মৃত্যুর পরে ঘটেছিল) এর মধ্য থেকে আসা কোন সৈয়দকে ধরে রাখতে পারে। Orতিহাসিকভাবে, জায়েদীদের ধারণা ছিল যে জায়েদ চতুর্থ ইমামের যথাযথ উত্তরসূরি ছিলেন যেহেতু তিনি উমাইয়াদের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। মুহাম্মদ আল-বাকির রাজনৈতিক পদক্ষেপে জড়িত ছিলেন না এবং জায়েদের অনুসারীরা বিশ্বাস করেছিলেন যে সত্যিকারের ইমামকে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

ফিকহশাস্ত্র[সম্পাদনা]

ইসলামী আইনশাস্ত্রের ক্ষেত্রে জায়েদীরা জায়েদ ইবনে আলীর শিক্ষাকে অনুসরণ করে যা তাঁর মাজমু‘আল ফিকাহ গ্রন্থে (আরবি ভাষায়: مجموع الفِقه) লিপিবদ্ধ রয়েছে। ইয়েমেনের জায়েদি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা আল-হাদী ইল-হক-ইয়াহইয়াকে জায়েদী ফিকাহর কোডকার হিসাবে দেখা হয় এবং বর্তমানে বেশিরভাগ জায়েদিরা হাদাউইস নামে পরিচিত।

কালপর্ব[সম্পাদনা]

ইদ্রিসিডস (আরবি: الأدارسة) আরব ছিলেন [১ 170০] জায়েদি শিয়া [১ 17১] [১2২] [১3৩] [১4৪] [১5৫] [১ 17]] পশ্চিম মাগরেব রাজবংশে 8৮৮ থেকে 985 অবধি শাসন করেছিলেন, এর নাম সুলতানের নামানুসারে , ইদ্রিস আই।

আলাভিডস দ্বারা 864 CE খ্রিস্টাব্দে গিলান, ডেলামন এবং তাবারিস্তানে (উত্তর ইরান) একটি জায়েদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; [১ 177] এটি 928 খ্রিস্টাব্দে সামানীদের হাতে তার নেতার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। প্রায় চল্লিশ বছর পরে রাজ্যটি গিলানে পুনর্জীবিত হয়েছিল এবং ১১ 11 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হাসানিদ নেতাদের অধীনে টিকে ছিল। এরপরে, দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত দেইলামান, গিলান এবং তাবারিস্তানের জায়েদিরা এরপরে ইয়েমেনের জায়েদী ইমাম বা ইরানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী জায়েদী ইমামদের স্বীকৃতি দেয়। [১ 17৮]

বৌইদরা প্রথমদিকে জাইদি ছিল [১9৯] যেমন নবম ও দশম শতকে আল ইয়ামামার বানু উখাইদির শাসকরা ছিলেন। [১৮০] জায়েদী সম্প্রদায়ের নেতা খলিফার উপাধি নিয়েছিলেন। এমনিভাবে, ইয়েমেনের শাসক খলিফা হিসাবে পরিচিত ছিলেন, আল-হাদী ইয়াহিয়া বিন আল-হুসেন বিন আল-কাসিম আর-রাসি রাশিদস (আলির পুত্র হাসান ইবনে আলীর বংশধর) যিনি 893 সালে সাদাহে ছিলেন CE– সিই, জায়েদী ইমামতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এই ব্যবস্থাটি বিশ শতকের মাঝামাঝি অবধি অব্যাহত থাকে, যখন সিই ১৯ 19২ এর বিপ্লব জায়েদী ইমামকে পদচ্যুত করে। ইয়েমেনের প্রতিষ্ঠাতা জায়েদিজম ছিল জারুদিয়া গ্রুপের; তবে, সুন্নি ইসলামের হানাফী ও শফিয়ী আচারের সাথে ক্রমবর্ধমান আলাপচারিতার সাথে জারুদিয়া গোষ্ঠী থেকে সুলাইমানিয়া, তাবিরিয়, বুটরিয়া বা সালিহিয়া গ্রুপে স্থানান্তরিত হয়েছিল। [১৮১] জায়েদীরা ইয়েমেনের দ্বিতীয় প্রভাবশালী ধর্মীয় গোষ্ঠী গঠন করেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের জনসংখ্যার প্রায় ৪০-–৫%। জাফারিস এবং ইসমাইলিস 2-5%% [182] সৌদি আরবে এটি অনুমান করা হয় যে সেখানে 10 মিলিয়ন জায়েদী রয়েছে (মূলত পশ্চিম প্রদেশে)।

বর্তমানে সর্বাধিক বিশিষ্ট জায়েদী আন্দোলন হুথিস আন্দোলন, যা শাবাব আল মু'মিনীন (বিশ্বাসী যুবক) বা আনসারআল্লাহ (Partশ্বরের পার্টিসানস) নামে পরিচিত। ২০১৪-২০১৫ সালে হাতিস সানায় সরকার গ্রহণ করেছিলেন, যার ফলে আবদ রাববু মনসুর হাদির সৌদি আরব-সমর্থিত সরকার পতনের দিকে পরিচালিত করেছিল। [১৮৩] হাতিস ও তাদের মিত্ররা ইয়েমেনের ভূখণ্ডের উল্লেখযোগ্য অংশের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছিল এবং হাদিকে পুনরায় ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে চাইলে ইয়েমেনে সৌদি আরব-নেতৃত্বাধীন হস্তক্ষেপকে প্রতিহত করে। হাতিস এবং সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট উভয়ই ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এবং লেভান্ট দ্বারা আক্রমণ করা হয়েছিল। [১৮ 18] [১৮]]

ইসমাইলি[সম্পাদনা]

ইসমাisলীরা জাফর আল-সাদিকের lyশিকভাবে নিযুক্ত আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি (ইমাম) হিসাবে ইসমাইল ইবনে জাফরকে গ্রহণ করার পরে তাদের নাম অর্জন করেছে, যার মধ্যে তারা টুইলভারদের থেকে পৃথক, যারা ইসমাইলের ছোট ভাই মুসা আল-কাদিমকে মেনে নেয় , সত্য ইমাম হিসাবে।

অষ্টম শতাব্দীতে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মৃত্যু বা সংঘর্ষের পরে, ইসমাইলবাদের শিক্ষাগুলি বিশ্বাসের আরও গভীর, রহস্যময় অর্থ (বাইন) এর উপর স্পষ্টভাবে কেন্দ্রীভূত হওয়ার সাথে সাথে এটি আজকের বিশ্বাস ব্যবস্থায় আরও রূপান্তরিত হয়। দ্বৈতবাদকে আরও আক্ষরিক (জহির) কেন্দ্রিক আখবাড়ি এবং পরবর্তীকালে উসুলী চিন্তাধারার বিকাশের সাথে সাথে শিয়া ধর্ম দুটি পৃথক দিকের বিকাশ করেছিল: রূপক ইসমাইলি গোষ্ঠী Godশ্বরের রহস্যময় পথ এবং প্রকৃতি এবং divineশিক প্রকাশের উপর আলোকপাত করে। "Imamশ্বরের চেহারা" হিসাবে "সময়ের ইমাম" ব্যক্তিত্ব, আরও আক্ষরিক টোয়েলভার গ্রুপের সাথে divineশিক আইন (শারিয়াহ) এবং মুহাম্মদ এবং তাঁর উত্তরসূরীদের আমলসমূহ এবং বক্তব্য (সুন্নাহ) উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে (আহলু ল- বায়েত), যিনি আ'মাহরূপে andশ্বরের পথনির্দেশক ও নূর ছিলেন। [186]

যদিও ইসমাইলীদের মধ্যে বেশ কয়েকটি উপ-দলবদ্ধতা রয়েছে, তবুও আজকের স্থানীয় ভাষায় এই শব্দটি সাধারণত শিয়া ইমামি ইসমাইলি মুসলিম (নিজারি সম্প্রদায়) বোঝায় যা সাধারণত আগম খানের অনুসারী এবং ইসমাইলিয়াদের মধ্যে বৃহত্তম গ্রুপ হিসাবে পরিচিত। ইসমা'লের অধীনে থাকা আরেকটি সম্প্রদায় হলেন দাউদি বোহরা, যার নেতৃত্বে একজন দা a-আল-মুতালাক ছিলেন একজন লুকানো ইমামের প্রতিনিধি হিসাবে। যদিও বহির্মুখী বহির্মুখী অনুশীলন সহ আরও অনেক শাখা রয়েছে, তবে আধ্যাত্মিক ধর্মতত্ত্বের বেশিরভাগই বিশ্বাসের প্রাথমিক ইমামের দিনগুলি থেকে একই ছিল। সাম্প্রতিক শতাব্দীতে ইসমাইলিরা মূলত একটি ইন্দো-ইরানীয় সম্প্রদায় হয়েছে, [187] তবে তারা ভারত, পাকিস্তান, সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, সৌদি আরব, [188] ইয়েমেন, চীন, [189] জর্দান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, পূর্ব আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং উত্তর আমেরিকা চলে গেছে। [১৯০]

ইসমাইলি ইমামগণ[সম্পাদনা]

ইসমা'ল ইবনে জাফরের মৃত্যুর পরে অনেক ইসমাইলি বিশ্বাস করেছিলেন যে একদিন মশীহ মাহদী, যাকে তারা মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বলে বিশ্বাস করেছিলেন, ফিরে আসবেন এবং ন্যায়বিচারের একটি যুগে প্রতিষ্ঠা করবেন। একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সহিংস কার্মাতিয়ানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাদের বাহরাইনে একটি দুর্গ ছিল। বিপরীতে, কিছু ইসমাইলি বিশ্বাস করেছিলেন যে ইমামতি অব্যাহত রয়েছে, এবং ইমামগণ অবতারণা করেছেন এবং দাওয়াহ "মিশনারি" এর একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের অনুসারীদের যোগাযোগ ও শিখিয়েছেন।

909 সালে, ইসমাইলি ইমামতের দাবী আবদুল্লাহ আল-মাহদী বিল্লাহ ফাতেমীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই সময়কালে ইমামের তিনটি বংশ গঠিত হয়েছিল। আজ ড্রুজ নামে পরিচিত প্রথম শাখাটি আল-হাকিম দ্বি-আমর আল্লার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। 386 হিজরিতে (985) জন্ম, তিনি এগার বছর বয়সে শাসক হিসাবে আরোহণ করেন। সাধারণ ধর্মীয়ভাবে সহিষ্ণু ফাতিমিড সাম্রাজ্য তাঁর শাসনকালে অনেক তাড়না দেখেছিল। ৪১১ হিজরিতে (1021) তাঁর খচ্চর তাকে ছাড়া রক্তে ভিজিয়ে ফিরে এলেন, তাঁর জীবদ্দশায় যে ধর্মীয় গোষ্ঠীটি মূলধারার ইসমাইলবাদ থেকে বিরত ছিল এবং তার উত্তরসূরিকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরে দ্রুজ হিসাবে পরিচিত হওয়ার পরে তারা আল-হাকিমকে Godশ্বরের অবতীর্ণ এবং ভবিষ্যদ্বাণীিত মাহদী হিসাবে বিশ্বাস করে যারা একদিন ফিরে এসে পৃথিবীতে ন্যায়বিচার আনবে। [১৯১] বিশ্বাসটি ইসমাইলবাদ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কারণ এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক মতবাদ গড়ে তোলে যা প্রায়শই এটিকে ইসমাইলিয়া ও ইসলাম উভয় থেকে পৃথক করে দেয়।

দ্বিতীয় বিভক্তিটি 487 হিজরিতে (1094) মা'দ আল-মুস্তানসীর বিল্লাহর মৃত্যুর পরে ঘটেছিল। তাঁর শাসনব্যবস্থা যে কোনও ইসলামি সাম্রাজ্যের সবচেয়ে খলিফার চেয়ে দীর্ঘতম ছিল। তাঁর মৃত্যুর পরে, তাঁর পুত্ররা, প্রবীণ নিজার এবং ছোট আল-মুস্তাআলি রাজবংশের রাজনৈতিক এবং আধ্যাত্মিক নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করেছিলেন। নিজারকে পরাজিত ও কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল, কিন্তু নিজারি রীতি অনুসারে তার ছেলে পালিয়ে যায় আলমুতের দিকে, যেখানে ইরানী ইসমাইলি তার দাবি মেনে নিয়েছিল। [১৯২] এখান থেকে নিযারী ইসমাইলি সম্প্রদায় বর্তমান জীবিত ইমামের সাথে অব্যাহত রেখেছে।

মুস্তালি লাইনের আবার বিচ্ছিন্নতা তাইয়াবি (দাউদি বোহরা এর প্রধান শাখা) এবং হাফিজীদের মধ্যে রয়েছে। প্রাক্তন দাবী যে আত-তাইয়েব আবী ল-কাসিম (আল-আমির দ্বি-আহকামি ল-লাহর পুত্র) এবং তাঁর অনুসারী ইমামগণ নাম প্রকাশের সময়কালে (দাওর-ই-সাত্তর) গিয়ে একটি দা'আল-আল-নিয়োগ করেছিলেন। সম্প্রদায়কে গাইড করার জন্য মুতালাক, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মৃত্যুর পরে যেমন ইসমাইলি বেঁচে ছিলেন তেমনভাবে। পরবর্তী (হাফিজি) দাবি করেছিলেন যে শাসক ফাতিমিদ খলিফা ইমাম ছিলেন এবং ফাতেমীয় সাম্রাজ্যের পতনের সাথে সাথে তারা মারা যান।

স্তম্ভসমূহ[সম্পাদনা]

ইসমাইলীরা তাদের অনুশীলনগুলিকে শ্রেণীবদ্ধ করেছে যা সাতটি স্তম্ভ হিসাবে পরিচিত:

ওয়ালাহ (অভিভাবকত্ব) তাহারাহ (পবিত্রতা) নামাজ (নামাজ) যাকাত (দাতব্য) সোম (রোজা) হজ (তীর্থস্থান) জিহাদ (সংগ্রাম) আলীর উল্লেখ করার কারণে শিয়া-র শাহাদাদ (ofমানের পেশা) সুন্নিদের থেকে পৃথক। [১৯৩]

সমসাময়িক নেতৃত্ব[সম্পাদনা]

বর্তমান ইমামের অস্তিত্বের কারণে নিজারিস একটি পণ্ডিত প্রতিষ্ঠানে গুরুত্ব দেয়। যুগের ইমাম ফকীহকে সংজ্ঞায়িত করেন এবং বিভিন্ন সময় ও পরিস্থিতির কারণে তাঁর দিকনির্দেশনা তার আগের ইমামের সাথে পৃথক হতে পারে। নিজারী ইসমাইলিসের জন্য ইমাম হলেন করিম আল-হুসেনি আগা খান চতুর্থ। ইমামদের নিজারী লাইনটি আজ অবধি অব্যাহত রেখা হিসাবে অব্যাহত রেখেছে।

"অনিয়ন্ত্রিত মিশনারি" দাই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বোহরা শাখায় ineশিক নেতৃত্ব অব্যাহত রয়েছে। বোহরার traditionতিহ্য অনুসারে, শেষ ইমাম আত-তাইয়িব আবি l-কাসিম একাকীত্বের আগে চলে গিয়েছিলেন, তাঁর পিতা, 20 তম আল-আমির দ্বি-আহকামি ল-লাহ আল-হুররা আল-মালেকাকে মালাইকা (রানির স্ত্রী) নির্দেশ করেছিলেন ) ইয়েমেনে নির্জনতার পরে একজন ভাইসিয়েন্ট নিয়োগের জন্য Un অবিচ্ছিন্ন মিশনারি, যিনি ইমামের সহকর্মী হিসাবে আধ্যাত্মিক ও স্থায়ী উভয় ক্ষেত্রেই সম্প্রদায়কে পরিচালনা করার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন এবং মুস্তালি-তায়েবী ইমামদের বংশও নির্জনতার মধ্যে রয়েছে (দাওর-ই) সাতর)। মুস্তালির তিনটি শাখা, আলাভি বোহরা, সুলাইমানি বোহরা এবং দাউদি বোহরা বর্তমান অনিয়ন্ত্রিত মিশনারি কে এই বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

অন্যান্য তত্ত্বসমূহ[সম্পাদনা]

জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত তত্ত্ব[সম্পাদনা]

আল্লামেহ মোজাফফারের মতে humansশ্বর মানুষকে যুক্তি ও যুক্তির অনুষদ দেন। এছাড়াও, humansশ্বর সমস্ত সৃষ্টিকে তাঁর শক্তি এবং গৌরবের লক্ষণ হিসাবে উল্লেখ করার সময় মনুষ্যকে সৃষ্টির বিষয়ে সাবধানতার সাথে চিন্তা করতে সময় কাটানোর আদেশ দেন। এই লক্ষণগুলি সমস্ত মহাবিশ্বকে ঘিরে রেখেছে। তদ্ব্যতীত, ছোট্ট পৃথিবী এবং বৃহত বিশ্ব হিসাবে মহাবিশ্বের মধ্যে মানুষের মধ্যে একটি মিল রয়েছে। যারা চিন্তা করে এবং কেবল অনুকরণ করেই তাঁকে অনুসরণ করে তাদের বিশ্বাস Godশ্বর গ্রহণ করেন না, তবে suchশ্বর তাদেরকে এই জাতীয় কাজের জন্য দায়ী করেন। অন্য কথায়, মানুষকে যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে মহাবিশ্ব সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে হবে, byশ্বর আমাদের দান করেছিলেন এমন একটি অনুষদ। যেহেতু শিয়া মধ্যে বুদ্ধি অনুষদের উপর আরও জোর রয়েছে, এমনকি যে কেউ ভবিষ্যদ্বাণী দাবি করে তার দাবির মূল্যায়ন বুদ্ধির ভিত্তিতে। [194] [১৯৫]

দোয়া সংক্রান্ত তত্ত্ব[সম্পাদনা]

শিয়াতে প্রার্থনা বা দু‘আর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে কারণ মুহাম্মদ এটিকে বিশ্বাসীর অস্ত্র হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আসলে, দুয়া এমন একটি বিষয় হিসাবে বিবেচিত যা একটি অর্থে শিয়া সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য। শিয়াতে দুআ পারফর্ম করার একটি বিশেষ অনুষ্ঠান রয়েছে। এ কারণে শিয়াদের মধ্যে নামাজ পড়ার শর্ত নিয়ে অনেক বই লেখা রয়েছে। বেশিরভাগ আদায়িয়াহ মুহাম্মদের পরিবার থেকে স্থানান্তরিত করে এবং তারপরে এমন অনেকগুলি বই দ্বারা যেগুলিতে আমরা শিয়া অনুসারে মুহাম্মদ এবং তার পরিবারের সঠিক প্রমাণ পর্যবেক্ষণ করতে পারি। শিয়া নেতৃত্ব সর্বদা তাদের অনুগামীদের দুআ পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, একেশ্বরবাদে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আলী দু'আর বিষয় নিয়ে বিবেচনা করেছেন। [১৯6] [১৯ 197]

কুরান এবং হাদিস প্রসঙ্গে শিয়া ইসলামের মতবাদ[সম্পাদনা]

কুরান : প্রখ্যাত শিয়া মারজা আয়াতুল্লা আবু আল-কাসিম আল-খুয়েইএর মতে আল-কোরান কখনো পরিবর্তিত কিংবা পরিবর্ধিত হয় নি। তিনি তাঁর সংকলিত কিতাব " আল বায়ান ফি তাফসীর আল-কোরান " এ সাম্প্রতিক সময়কার বাইবেল এবং তাওরাতের সাথে তুলনা করে, সেখানকার বিভিন্ন ত্রুটি চিহ্নিত করে কোরানের মর্যাদা হাদিস অনুসারে সমুন্নত করেছেন। এছাড়াও শিয়া মনিষী সাঈদ আলী খামেনি, আয়াতুল্লাহ মাকারিম সিরাজীর মতেও কুরানের তাহরিফ কখনো ঘটে নি। কিছু শিয়া মনিষী ভিন্ন মত পোষণ করলেও তা খুবই নগন্য। [১]

আল-কুরানের তাফসির প্রসঙ্গে শিয়া ইসলাম যে সকল কিতাবের ওপর নির্ভর করে, সেগুলো হলো -

( ১ ) তাফসীরে নূর আল-সাকালাঈন।

( ২ ) তাফসীরে আকা মাহদি পুয়া।

( ৩ ) তাফসীর আল-মিজান।

( ৪ ) তাফসীর আন-নামুনাহ্।

( ৫ ) আল তিবীয়ান ফি তাফসীর আল-কোরান।

( ৬ ) মাজমা আল-বাইয়ান।

( ৭ ) পার্তুভি আয-কোরান।

( ৮ ) বাহার আল-আনোয়ার।

( ৯ ) তাফসীরে রাহনামা। [২]

ইত্যাদি

আল-হাদিস: শিয়া ইসলাম রাসুলুল্লাহ ( সা. ) এর হাদীদের সাথে তাঁর আহলুল বাঈতের হাদিসের প্রতিও গুরত্বারোপ করেন। শিয়াদের মতে আহলুল বাঈতের কাছে রাসুলুল্লাহ ( সা. ) এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবি ও রাসুলদের সুন্নাহ্ সংরক্ষিত আছে। তাঁরাই সুন্নার যোগ্য উত্তরসূরী।

শিয়ারা " সিহাহ সিত্তাহ " বা " কুতুব আল-সিত্তাহ " এ বিদ্যমান ছয়টি হাদিস কিতাবকে গুরত্বারোপ করেন না, তাঁদের মতে এ হাদিস কিতাবে উল্লেখিত রাবীগণ ( যেমন আবু হুরাইরা, আনাস বিন মালিক, উমর ইবনে খাত্তাব, আইশা বিনতে আবু বকর, খালিদ বিন ওয়ালিদ, হাফসা ইত্যাদি ) অগ্রহনযোগ্য।

শিয়ারা ইসলাম সুন্নিদের " কুতুব আল-সিত্তাহ " এর বদলে " কুতুব আল-আর্বাহ্ " কে অধিক গ্রহনযোগ্যতা দেয়। " কুতুব আল-আর্বাহ্ " এর চারটি হাদিস কিতাবের নামসমুহ নিম্নরূপ- [৩]

( ১ ) কিতাব আল-কাফি - ইমাম আল-কুলিয়ানি।

( ২ ) মান লা ইয়াযুরুহু আল-ফাকিহ্ - আল-সাঈখ আস-সাদুক।

( ৩ ) তাহযিব আল-আহকাম - সাঈখ তুসী।

( ৪ ) কিতাব আল-ইস্তিবসার - সাঈখ তুসী।

" কিতাব আল-আর্বাহ্ " এর কিতাবগুলো ছাড়াও যে কিতাবগুলো শিয়া মুসলিমগণ চর্চা করেন, সেগুলো নিম্নরূপ:

( ১ ) নাহজুল বালাঘা - ইমাম আলী ইবনে আবু তালীব।

( ২ ) সাহিফা এ আলাবিয়া - ইমাম আলী ইবনে আবু তালীব।

( ৩ ) সাহিফা আল-কামিলাহ্ ওয়া সাজ্জাদিয়া - ইমাম জয়নুল আবেদীন আল-সাজ্জাদ।

( ৪ ) সহিহ আল-নবি - আল্লেমাহ্ আত-তাবাতাবাই।

( ৫ ) বাসাঈর আদ-দারাজাত- বাকির আল-মাজিসী।

( ৬ ) বাহার আল-আনোয়ার - বাকির আল-মাজিসী।

( ৭ ) ওয়াসাঈল আল-শিয়া - আল-হূর আল-আমিনী।

( ৮ ) কিতাব আল-ইরশাদ - সাঈখ আল-মুফিদ।

( ৮ ) কিতাব আল-মুমিন - আল-হুসাইন ইবনে সাঈদ আল-কুফী আহওয়াযী।

সহ অন্যান্য।

সুন্নি হাদিসগুলোর মতো এ কিতাবগুলোতেও হাদীসের গ্রহনযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য " সহিহ ", " দূর্বল ",  " দাঈফ " ট্যাগগুলো ব্যবহৃত হয়।

শিয়া মুসলিমদের কতিপয় বিশ্বাস সমুহ[সম্পাদনা]

১. ইমামাহ্: ইমামাহ্ শব্দের অর্থ নেতৃত্ব। শিয়া মুসলিমদের মতে নেতৃত্ব বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। এগুলো হলো : হুজ্জাহ্ (আল্লাহ্-এর প্রমাণ), একজন উম্মার নেতা এবং একজন ধর্মীয় নেতা।

বার জন ইমামেরা একই সাথে হুজ্জা, (সমগ্র) উম্মার নেতা এবং ধর্মীয় নেতা ছিলেন। এজন্য বারজন ইমামেরা তিনটা অর্থেই ইমাম। কিন্তু তাঁদের পরে এমন কোন ইমামের আবির্ভাব ঘটে নি যারা তিনটা অর্থেই ইমাম হতে পেরেছেন।

যেমন সাঈদ আলী খামেনি একজন ধর্মীয় নেতা এবং উম্মার নেতৃত্বদানকারী অর্থে ইমাম কিন্তু তিনি কোন হুজ্জা নন। সে ইমামই হুজ্জা হবার যোগ্য যাঁর দ্বারা আল্লাহ শরিয়ত এবং ইসলাম পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং যাঁর দ্বারা আল্লাহ্ নিজের অস্তিত্বকে তুলে ধরেছেন।

শেষ নবি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ এর মতে ধর্ম কখনোই শেষ হবে না যতক্ষন না বার জন ইমামের আবির্ভাব না ঘটে। (ইয়ানাবি আল-মাওয়াদ্দাহ্)

যখনই "হুজ্জা" নামটি তোলা হবে তখনই বার জন ইমামের নাম সামনে এসে যাবে। তাঁরা কেবল মাত্র আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারি। কিন্তু যখন শুধু ধর্মীয় নেতা হিসেবে ইমাম অথবা ওয়ালী শব্দটি ব্যবহৃত হবে তখন বার জন ইমামের সাথে যাদের নাম উল্লেখযোগ্য,তাঁরা হলেন,

১. আয়াতুল্লাহ্ হাসান বুরেজেদি।

২. আয়াতুল্লাহ সাঈদ আলী হুসাঈনি আল-খামেনি।

৩. সাঈদ হাসান নাসরাল্লাহ। (হিজবুল্লাহ্ নামক সশস্ত্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠার জন্য বিখ্যাত)

৪. সাঈদ জাফর মুরতাজা আল-আমিলী। ("আল-সহিহ্ মিন সিরাত আল-নবি আল-আযম" লেখার জন্য বিখ্যাত)

৫. আল্লেমাহ্ আত-তাবাতাবাই। (শিয়া তাফসির কিতাব "আল-মিজান" লেখার জন্য বিখ্যাত)  

৬. সাঈখ আযহার নাসির।

৭. আল্লেমাহ্ বাকির মাজিসি৷ ("বাহার আল আনোয়ার" নামক হাদিস কিতাব সংকলনের জন্য বিখ্যাত)

৮. আয়াতুল্লাহ ইব্রাহিম রাইসি।

৯. আয়াতুল্লাহ উযয়া রুহুল্লাহ্ খুমেনি। ( " ওয়ালাইতে ফাকিহ্ এর ধারণা পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য বিখ্যাত )

১০. আয়াতুল্লাহ্ সাঈদ সিস্তানি।

১১. আয়াতুল্লাহ্ মাকারিম সিরাজি। (তাফসির কিতাব " তাফসিরে নামুনাহ্ " সংকলনের জন্য বিখ্যাত)

এবং আরও অগণিত ধর্মীয় নেতা আছেন যাঁদের নাম লিখে সমাপ্ত করা যাবে না।

যখন "ধর্মীয় নেতা" এর সাথে উম্মার নেতা হিসেবে "ওয়ালী" অথবা "ইমাম" শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তখন যাঁদের নাম সামনে আসে,

১. বার জন ইমামেরা।

২. আয়াতুল্লাহ উযয়া রুহুল্লাহ্ আল-খুমেনি।

৩. সাঈদ আলী খামেনি।

এখানে "ধর্মীয় নেতা" বলতে বোঝানো হয় " মারজা " যার প্রতি একজন শিয়া আনুগত্য পোষণ করেন। তিনি শরিয়তের আইন কানুন, বিধি বিধান, আল-কুরানের তাফসির, হাদিস শাস্ত্র এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে একান্তই পণ্ডিত। [ 1 ]

২. নিকাহ্ মুতাহ (মুতাহ্ বিবাহ) : মুতাহ্ বিবাহ্ বলতে বোঝায় সাময়িক বিবাহ অর্থাৎ কতক্ষন ধরে বিয়েটি বর্তমান থাকবে তাঁর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়কাল ঠিক করে রাখা। [ 2

৩. তাকিয়া: " তাকিয়া " শব্দের মূল অর্থ লুকিয়ে রাখা। ছলনা, মিথ্যে সহ নানা উপায়ে নিজের বিশ্বাসকে রক্ষা করাই তাকিয়ার মূল নীতি।

৪. আল-ঘাইবা: শিয়াদের মতে ইমাম মাহদি নতুনভাবে জন্মগ্রহণ করবেন না বরং তিনি বহু আগেই ইমাম হাসান আল আসকারি (আ.) এর জীবদ্দশায় ইমাম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তিনি এখনো বেঁচে আছেন। আল্লাহ তাঁকে লোকসমাজ থেকে লুকিয়ে রেখেছেন। যাতে অন্যান্য ইমামের মতো তাঁকে উমাঈয়াদ এবং আব্বাসিদদের হাতে হত্যার শিকার না হতে হয়।

ঘাইবাত দুই প্রকার : (১) ঘাইবাতে সুঘরা এবং (২) ঘাইবাতে কুবরা

ঘাইবাতে সুঘরার সময়কালীন সাক্ষীর সংখ্যা চার জন:

(১) জনাব আবু আমর উসমান ইবনে সাঈদ আম্রি ( রা. )।

(২) জনাব আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে সাঈদ আম্রি ( রা. )।

(৩) জনাব আবুল কাসিম হুসাইন ইবনে রাউহ্ নাওবাখতি  ( রা. )।

(৪) জনাব আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মাদ শেইমুরি ( রা. )। [ 4 ]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Badruddīn, Amir al-Hussein bin (20th Dhul Hijjah 1429 AH)। The Precious Necklace Regarding Gnosis of the Lord of the Worlds। Imam Rassi Society।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. Olawuyi, Toyib (২০১৪)। On the Khilafah of Ali over Abu Bakr। পৃষ্ঠা 3। আইএসবিএন 978-1-4928-5884-3। ২২ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  3. "The Shura Principle in Islam – by Sadek Sulaiman"www.alhewar.com। ২৭ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৬ 
  4. Esposito, John. "What Everyone Needs to Know about Islam". Oxford University Press, 2002 | আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১৫৭১৩-০. p. 40 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "Esposito, John 2002. p. 40" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  5. "From the article on Shii Islam in Oxford Islamic Studies Online"। Oxfordislamicstudies.com। ২৮ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১ 
  6. Goldziher, I., Arendonk, C. van and Tritton, A.S. (২০১২)। "Ahl al- Bayt"। P. Bearman; Th. Bianquis; C.E. Bosworth; E. van Donzel; W.P. Heinrichs। Encyclopaedia of Islam (2nd সংস্করণ)। Brill। ডিওআই:10.1163/1573-3912_islam_SIM_0378 
  7. "Lesson 13: Imam's Traits"Al-Islam.org। ১৩ জানুয়ারি ২০১৫। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  8. Tabataba'i (1979), p. 76
  9. God's rule: the politics of world religions, p. 146, Jacob Neusner, 2003
  10. Esposito, John. What Everyone Needs to Know about Islam, Oxford University Press, 2002. আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১৫৭১৩-০. p. 40
  11. "Mapping the Global Muslim Population"। ৭ অক্টোবর ২০০৯। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৪The Pew Forum's estimate of the Shia population (10–13%) is in keeping with previous estimates, which generally have been in the range of 10–15%. 
  12. Newman, Andrew J. (২০১৩)। "Introduction"Twelver Shiism: Unity and Diversity in the Life of Islam, 632 to 1722। Edinburgh University Press। পৃষ্ঠা 2। আইএসবিএন 978-0-7486-7833-4। ১ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০১৫ 
  13. Guidère, Mathieu (২০১২)। Historical Dictionary of Islamic Fundamentalism। Scarecrow Press। পৃষ্ঠা 319। আইএসবিএন 978-0-8108-7965-2 
  14. The New Encyclopædia Britannica, Jacob E. Safra, Chairman of the Board, 15th Edition, Encyclopædia Britannica, Inc., 1998, আইএসবিএন ০-৮৫২২৯-৬৬৩-০, Vol 10, p. 738 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "Britannica738" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  15. "The Term "Shia" in Quran and Hadith"। Al-islam.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৫-০৪ 
  16. "Central Intelligence Agency"। Cia.gov। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৫-০৪ 
  17. "Encyclopedia - Britannica Online Encyclopedia"। Britannica.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৫-০৪ 
  18. "Major Branches of Religions"। Adherents.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৫-০৪ 
  19. ড. আহমদ আমীন (লেখক), আবু তাহের মেসবাহ (অনুবাদক) (২০০৪)। দুহাল ইসলাম (ইসলামী ইতিহাসের কৈশোর) ২য় খণ্ড। বাংলাদেশ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। পৃষ্ঠা ১৮৭–১৯০। আইএসবিএন 9840608045 
  20. "From the article on Shii Islam in Oxford Islamic Studies Online"। Oxfordislamicstudies.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৫-০৪ 
  21. কুরআন 2:30। ""I will create a vicegerent on earth."", কুরআন 38:26। ""O David! We did indeed make thee a vicegerent on earth"", কুরআন 28:68। ""Thy Lord does create and choose as He pleases: no choice have they (in the matter)""
  22. সহীহ বুখারী, “"...The Prophet Muhammad said to 'Ali, "Will you not be pleased from this that you are to me like Aaron was to Moses?"” ৫:৫৭:৫৬ (ইংরেজি), কুরআন 19:53। "And, out of Our Mercy, We gave him his brother Aaron, (also) a prophet."
  23. Tarikh at-Tabari, vol. 2, pp. 62-63; Tarikh al-Kamil, vol. 2, pp. 40-41; Musnad Ahmad ibn Hanbal, vol. 1, p. 111; Ibn Abi'l-Hadid, Sharh Nahj al-Balaghah, vol. 13, pp. 210-212, "(Prophet Muhammad said) Verily, he ('Ali) is my brother, the executor of my will and my successor among you. So, listen to him and obey him."
  24. Duncan S. Ferguson (২০১০)। Exploring the Spirituality of the World Religions: The Quest for Personal, Spiritual and Social Transformation। Bloomsbury Academic। পৃষ্ঠা 192। আইএসবিএন 978-1-4411-4645-8 
  25. Wehr, Hans। "Dictionary of Modern Written Arabic"Archive.org। পৃষ্ঠা 498। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৯ 
  26. Shiʻa is an alternative spelling of Shia, and Shiʻite of Shiite. In subsequent sections, the spellings Shia and Shiite are adopted for consistency, except where the alternative spelling is in the title of a reference.
  27. "Difference Between The Meaning Of Shia And Shiite?"English forums। ৩১ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৯ 
  28. Tabataba'i 1977, পৃ. 34
  29. Sobhani ও Shah-Kazemi 2001, পৃ. 97
  30. Sobhani ও Shah-Kazemi 2001, পৃ. 98
  31. Vaezi, Ahmad। Shia political thought। London: Islamic Centre of England। পৃষ্ঠা 56। আইএসবিএন 978-1-904934-01-1ওসিএলসি 59136662 
  32. Cornell 2007, পৃ. 218
  33. See: Lapidus p. 47, Holt p. 72
  34. Francis Robinson, Atlas of the Islamic World, p. 23.
  35. Jafri, S.H. Mohammad. "The Origin and Early Development of Shiʻa Islam,", Oxford University Press, 2002, p. 6, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৭৯৩৮৭-১
  36. Momen 1985, পৃ. 15
  37. Ehsan Yarshater (সম্পাদক)। "Shiʻite Doctrine"। Iranicaonline.org। ১৭ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১৯ 
  38. Merriam-Webster's Encyclopedia of World Religions, Wendy Doniger, Consulting Editor, Merriam-Webster, Incorporated, Springfield, MA 1999, আইএসবিএন ০-৮৭৭৭৯-০৪৪-২, LoC: BL31.M47 1999, p. 525
  39. "Esposito, John. "What Everyone Needs to Know about Islam" Oxford University Press, 2002. আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১৫৭১৩-০. p. 46
  40. Ali, Abbas (সম্পাদক)। "Respecting the Righteous Companions"A Shi'ite Encyclopedia। Ahlul Bayt Digital Islamic Library Project। ৩ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা – al-islam.org-এর মাধ্যমে। 
  41. Ja'fariyan, Rasul (২০১৪)। "Umars Caliphate"History of the Caliphs। পৃষ্ঠা 290। আইএসবিএন 9781312541085 – books.google.com-এর মাধ্যমে। lay summaryalseraj.netAbu Hatin al-Razi says, "It is the appellation of those who were attached to Ali during the lifetime of the Messenger of Allah, such as Salman, Abu Dharr Ghifari, Miqdad ibn al-Aswad and Ammar ibn Yasir and others. Concerning these four, the Messenger of Allah had declared, 'The paradise is eager for four men: Salman, Abu Dharr, Miqdad, and Ammar.'" 
  42. Zwettler, Michael (১৯৯০)। "A Mantic Manifesto: The Sura of "The Poets" and the Qur'anic Foundations of Prophetic Authority"Poetry and Prophecy: The Beginnings of a Literary Tradition। Cornell University Press। পৃষ্ঠা 84। আইএসবিএন 0-8014-9568-7 
  43. Rubin, Uri (১৯৯৫)। The Eye of the Beholder: The life of Muhammad as viewed by the early Muslims। Princeton, New Jersey: The Darwin Press Inc.। পৃষ্ঠা 135–38। আইএসবিএন 9780878501106 
  44. Razwy, Sayed Ali Asgher। A Restatement of the History of Islam & Muslims। পৃষ্ঠা 54–55। 
  45. Rubin (1995, p. 137)
  46. Irving, Washington (১৮৬৮), Mahomet and His Successors, I, New York: G. P. Putnam and Son, পৃষ্ঠা 71 
  47. Rubin (1995, pp. 136–37)
  48. Amir-Moezzi, Mohammad Ali (২০১৪)। Kate Fleet; Gundrun Krämer; Denis Matringe; John Nawas; Everett Rowson, সম্পাদকগণ। ""Ghadīr Khumm" in: Encyclopaedia of Islam THREE"। ডিওআই:10.1163/1573-3912_ei3_COM_27419 
  49. Tahir-ul-Quadri, Muhammad। The Ghadir Declaration 
  50. "The Event of Ghadir Khumm in the Qur'an, Hadith, History"islamawareness.net। ২০০৬-০১-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৫-০৯-০২ 
  51. Hayaat al-Qulub, Volume 2। পৃষ্ঠা 998। 
  52. সহীহ বুখারী, ৭:৭০:৫৭৩ (ইংরেজি)
  53. Miskinzoda, Gurdofarid (২০১৪)। Farhad Daftary, সম্পাদক। The Story of Pen & Paper and its interpretation in Muslim Literary and Historical Tradition। The Study of Shi‘i Islam: History, Theology and Law। I.B.Tauris। আইএসবিএন 978-0-85773-529-4 
  54. ফাউন্ডেশন, ইসলামিক (26-09-2020)। "পরিচ্ছেদঃ ২২৬৬. তোমারা উঠে যাও, রোগীর এ কথা বলা"Hadithbd.com। সংগ্রহের তারিখ 26-09-2020আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেব, যাতে পরবর্তীতে তোমরা বিভ্রান্ত না হও।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  55. "সহীহ বুখারী, পরিচ্ছেদ ৬৪/৩৯, হাদীস ৪২৪০–৪২৪১"Hadithbd.com। 19-09-2020। সংগ্রহের তারিখ 19-09-2020আবূ বাকর (রাঃ) ফাতেমাহ (রাঃ)-কে এ সম্পদ থেকে কিছু দিতে অস্বীকার করলেন। এতে ফাতিমাহ (রাঃ) (মানবোচিত কারণে) আবূ বাকর (রাঃ)-এর উপর নাখোশ হলেন এবং তাঁর থেকে সম্পর্কহীন থাকলেন। তাঁর মৃত্যু অবধি তিনি আবূ বাকর (রাঃ)-এর সঙ্গে কথা বলেননি।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  56. Sahih Bukhari, Arabic-English, Volume 8, Tradition 817Umar said: "And no doubt after the death of the Prophet we were informed that the Ansar disagreed with us and gathered in the shed of Bani Sa'da. 'Ali and Zubair and whoever was with them, opposed us, while the emigrants gathered with Abu Bakr." 
  57. History of Tabari, Volume 1। পৃষ্ঠা 1118–1120। 
  58. Ibn Qutaybah। al-Imamah wa al-Siyasah, Volume 1। পৃষ্ঠা 3। 
  59. Ibn Abi Shayba (235 AH / 849 CE) (১৯৮৯)। al-Musanaf7। Beirut: Dar al-Taj। পৃষ্ঠা 432। Umar came to the house of Fatima and said: "O' Daughter of the Prophet of God! I swear by God that we love no one more than your father, and after him we love no one more than you. Yet I swear by God that that won't stop me from gathering these people and commanding them to burn this house down! 
  60. Kanz al-Ummal, Volume 3। পৃষ্ঠা 140। 
  61. Ibn Qutaybah। al-Imamah wa al-Siyasah, Volume 1। পৃষ্ঠা 3। 
  62. Ibn Qutaybah। al-Imamah wa al-Siyasah, Volume 1। পৃষ্ঠা 19–20। 
  63. Khetia, Vinay (২০১৩)। Fatima as a Motif of Contention and Suffering in Islamic Sources। Concordia University। পৃষ্ঠা 32। 
  64. "After the death of Allah 's Apostle Fatima the daughter of Allah's Apostle asked Abu Bakr As-Siddiq to give her, her share of inheritance from what Allah's Apostle had (p. 1) – Sunnah.com – Sayings and Teachings of Prophet Muhammad (صلى الله عليه و سلم)"। ১০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  65. "Lesson 8: The Shiʻah among the Companions {sahabah}"Al-Islam.org। ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ২৯ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  66. "Chapter 3: State of Affairs in Saqifah after the Death of the Prophet"Al-Islam.org। ২১ এপ্রিল ২০১৬। ২৯ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  67. "Did Imam Ali Give Allegiance to Abu Bakr?"। Islamic Insights। ৮ ডিসেম্বর ২০০৯। ২৮ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  68. Riz̤vī, Sayyid Sa'eed Ak̲h̲tar. Slavery: From Islamic & Christian Perspectives. Richmond, British Columbia: Vancouver Islamic Educational Foundation, 1988. Print. আইএসবিএন ০-৯২০৬৭৫-০৭-৭ pp. 35–36
  69. "Archived copy" (PDF)। ৩০ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৭ 
  70. Shaikh, Asif. Sahaba: The Companion. n.p., n.d. Print. pp. 42–45
  71. Peshawar Nights
  72. A list composed of sources such as Ibn Hajar Asqalani and Baladhuri, each in his Ta'rikh, Muhammad Bin Khawind Shah in his Rauzatu's-Safa, Ibn Abdu'l-Birr in his Isti'ab
  73. Muhammad ibn Jarir al-Tabari, vol. 3, p. 208; Ayoub, 2003, 21
  74. The New Encyclopædia Britannica, Jacob E. Safra, Chairman of the Board, 15th Edition, Encyclopædia Britannica, Inc., 1998, আইএসবিএন ০-৮৫২২৯-৬৬৩-০, Vol 10, p. tid738
  75. ""Solhe Emam Hassan"-Imam Hassan Sets Peace"। ১১ মার্চ ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  76. تهذیب التهذیب। পৃষ্ঠা 271। 
  77. Madelung 1997, পৃ. 331.
  78. Donaldson, Dwight M. (১৯৩৩)। The Shi'ite Religion: A History of Islam in Persia and Irak। Burleigh Press। পৃষ্ঠা 66–78। 
  79. Jafri, Syed Husain Mohammad (২০০২)। "Chapter 6"। The Origins and Early Development of Shi'a Islam। Oxford University Press। আইএসবিএন 978-0195793871 
  80. Madelung 1997.
  81. Tabåatabåa'åi, Muhammad Husayn (১৯৮১)। A Shi'ite Anthology। Selected and with a Foreword by Muhammad Husayn Tabataba'i; Translated with Explanatory Notes by William Chittick; Under the Direction of and with an Introduction by Hossein Nasr। State University of New York Press। পৃষ্ঠা 137। আইএসবিএন 9780585078182 
  82. Lalani, Arzina R. (৯ মার্চ ২০০১)। Early Shi'i Thought: The Teachings of Imam Muhammad Al-Baqir। I. B. Tauris। পৃষ্ঠা 4। আইএসবিএন 978-1860644344 
  83. Discovering Islam: making sense of Muslim history and society (2002) Akbar S. Ahmed
  84. Religious trends in pre-Islamic Arabic poetry, By Ghulam Mustafa (Hafiz.), p. 11 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে, Author writes: Similarly, swords were also placed on the Idols, as it is related that Harith b. Abi Shamir, the Ghassanid king, had presented his two swords, called Mikhdham and Rasub, to the image of the goddess, Manat....to note that the famous sword of Ali, the fourth caliph, called Dhu-al-Fiqar, was one of these two swords
  85. Nasr (1979), p. 10
  86. Momen 1985, পৃ. 174
  87. Corbin 1993, pp. 45–51
  88. Nasr (1979), p. 15
  89. Gleave, Robert (২০০৪)। "Imamate"। Encyclopaedia of Islam and the Muslim world; vol.1। MacMillan। আইএসবিএন 978-0-02-865604-5 
  90. "Hadith – Chapters on Al-Fitan – Jami' at-Tirmidhi – Sunnah.com – Sayings and Teachings of Prophet Muhammad (صلى الله عليه و سلم)"sunnah.com। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৭ 
  91. Martin 2004: 421
  92. Shahzad Bashir Messianic Hopes and Mystical Visions: The Nūrbakhshīya Between Medieval and Modern Islam Univ of South Carolina Press 2003 আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৭০-০৩৪৯৫-৪ page 24
  93. Glassé, Cyril, সম্পাদক (২০০১)। "Mahdi"The new encyclopedia of Islam। Walnut Creek, CA: AltaMira (Rowman & Littlefield)। পৃষ্ঠা 280। আইএসবিএন 0-7591-0190-6 
  94. Momen, Moojan (১৯৮৫)। An introduction to Shiʻi Islam : the history and doctrines of Twelver Shiʻism। G. Ronald। পৃষ্ঠা 75,166–168। আইএসবিএন 9780853982005 
  95. leadership https://medium.com/opinion-by-juravin/juravin-fights-for-the-truth-in-islam-exposes-imam-and-good-quran-c2e0e9b531c0 leadership |url= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  96. "The Five Kingdoms of the Bahmani Sultanate"। orbat.com। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০০৭ 
  97. Ansari, N.H. "Bahmanid Dynasty" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে Encyclopædia Iranica
  98. Pollard, Elizabeth (২০১৫)। Worlds Together Worlds Apart। 500 Fifth Ave, NY: W.W. Norton Company Inc। পৃষ্ঠা 313। আইএসবিএন 978-0-393-91847-2 
  99. Chodorow, Stanley; Knox, MacGregor; Shirokauer, Conrad; Strayer, Joseph R.; Gatzke, Hans W. (১৯৯৪)। The Mainstream of Civilization। Harcourt Press। পৃষ্ঠা 209। আইএসবিএন 978-0155011977The architect of his military system was a general named Jawhar, an islamicized Greek slave who had led the conquest of North Africa and then of Egypt 
  100. Fossier, Robert – Sondheimer, Janet – Airlie, Stuart – Marsack, Robyn (১৯৯৭)। The Cambridge illustrated history of the Middle Ages। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 170আইএসবিএন 978-0521266451When the Sicilian Jawhar finally entered Fustat in 969 and the following year founded the new dynastic capital, Cairo, 'The Victorious', the Fatimids ... 
  101. Saunders, John Joseph (১৯৯০)। A History of Medieval Islam। Routledge। পৃষ্ঠা 133আইএসবিএন 978-0415059145Under Muʼizz (955-975) the Fatimids reached the height of their glory, and the universal triumph of isma ʻilism appeared not far distant. The fourth Fatimid Caliph is an attractive character: humane and generous, simple and just, he was a good administrator, tolerant and conciliatory. Served by one of the greatest generals of the age, Jawhar al-Rumi, a former Greek slave, he took fullest advantage of the growing confusion in the Sunnite world. 
  102. Gábor Ágoston; Bruce Alan Masters (২০১০)। Encyclopedia of the Ottoman Empire। Infobase Publishing। পৃষ্ঠা 71। আইএসবিএন 978-1-4381-1025-7। ১৬ মে ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৫ 
  103. Stanford J. Shaw; Ezel Kural Shaw (১৯৭৬)। History of the Ottoman Empire and Modern Turkey: Volume 1, Empire of the Gazis: The Rise and Decline of the Ottoman Empire 1280–1808। Cambridge University Press। আইএসবিএন 978-0-521-29163-7। ১১ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  104. Francis Robinson, Atlas of the Muslim World, p. 49.
  105. Momen 1985, পৃ. 123
  106. Momen 1985, পৃ. 191, 130
  107. "Learn to do Shia Prayer – Islamic Prayer – Shia Salat"। Revertmuslims.com। ১১ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১ 
  108. "Joining Prayers and Other Related Issues"। Al-islam.org। ২২ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১ 
  109. "Druze and Islam"। americandruze.com। ১৪ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১০ 
  110. "Ijtihad in Islam"। AlQazwini.org। ২ জানুয়ারি ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০১০ 
  111. "Shiʻite Islam," by Allamah Sayyid Muhammad Husayn Tabataba'i, translated by Sayyid Husayn Nasr, State University of New York Press, 1975, p. 24
  112. Dakake (2008), pp. 1–2
  113. In his "Mutanabbi devant le siècle ismaëlien de l'Islam", in Mém. de l'Inst Français de Damas, 1935, p.
  114. "The Complete Idiot's Guide to World Religions," Brandon Toropov, Father Luke Buckles, Alpha; 3rd edition, 2004, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৯২৫৭-২২২-৯, p. 135
  115. "Shiʻite Islam" by Allamah Sayyid Muhammad Husayn Tabataba'i (1979), pp. 41–44
  116. কোরআন ৫:৫৫
  117. Dabashi, Theology of Discontent, p. 463
  118. Francis Robinson, Atlas of the Muslim World, p. 47.
  119. "Shīʿite"Britannica। ২০ জুলাই ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৯ 
  120. কুরআন 33:33
  121. Momen 1985, পৃ. 155
  122. Corbin (1993), pp. 48 and 49
  123. Dabashi (2006), p. 463
  124. Corbin (1993), p. 48
  125. "Part 1: The Perfect Man"Al-Islam.org। ২৭ জানুয়ারি ২০১৩। ১৭ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  126. How do Sunnis and Shias differ theologically? ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে Last updated 2009-08-19, BBC religions
  127. Nasr, Sayyed Hossein. "Expectation of the Millennium : Shiìsm in History,", State University of New York Press, 1989, p. 19, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৮৭০৬-৮৪৩-০
  128. "Comparison of Shias and Sunnis"। Religionfacts.com। ২৯ এপ্রিল ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১ 
  129. Al-Kulayni, Abu Jaʼfar Muhammad ibn Yaʼqub (২০১৫)। Kitab al-Kafi। South Huntington, NY: The Islamic Seminary Inc.। আইএসবিএন 9780991430864 
  130. Jurisprudence and Law – Islam Reorienting the Veil, University of North Carolina (2009)
  131. "Discrimination towards Shia in Saudi Arabia"। Wsws.org। ৮ অক্টোবর ২০০১। ১২ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১ 
  132. Momen 1985, পৃ. 277
  133. "Religions"CIAThe World Factbook। ২০১০। ৪ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১০ 
  134. "Shīʿite"Encyclopædia Britannica Online। ২০১০। ৯ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১০ 
  135. "Mapping the Global Muslim Population: A Report on the Size and Distribution of the World's Muslim Population"Pew Research Center। ৭ অক্টোবর ২০০৯। ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১০ 
  136. Miller, Tracy, সম্পাদক (অক্টোবর ২০০৯)। Mapping the Global Muslim Population: A Report on the Size and Distribution of the World's Muslim Population (PDF)Pew Research Center। ১৩ জানুয়ারি ২০১০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০০৯ 
  137. "Foreign Affairs – When the Shiites Rise – Vali Nasr"। Mafhoum.com। ১৫ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০১৪ 
  138. "Quick guide: Sunnis and Shias"BBC News। ১১ ডিসেম্বর ২০০৬। ২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  139. Atlas of the Middle East (Second সংস্করণ)। Washington, DC: National Geographic। ২০০৮। পৃষ্ঠা 80–81। আইএসবিএন 978-1-4262-0221-6 
  140. "International Religious Freedom Report 2010"। U.S. Government Department of State। ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১০ 
  141. "How many Shia?"। Islamicweb.com। ২৫ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১ 
  142. "International Religious Freedom Report for 2012"US State Department। ২০১২। 
  143. "The New Middle East, Turkey, and the Search for Regional Stability" (PDF)Strategic Studies Institute। এপ্রিল ২০০৮। পৃষ্ঠা 87। ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  144. Shankland, David (২০০৩)। The Alevis in Turkey: The Emergence of a Secular Islamic Tradition। Routledge। আইএসবিএন 978-0-7007-1606-7 
  145. "Country Profile: Pakistan" (PDF)Library of Congress Country Studies on PakistanLibrary of Congress। ফেব্রুয়ারি ২০০৫। ১৭ জুলাই ২০০৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০১০Religion: The overwhelming majority of the population (96.3 percent) is Muslim, of whom approximately 95 percent are Sunni and 5 percent Shia. 
  146. "Shia women too can initiate divorce" (PDF)Library of Congress Country Studies on Afghanistan। আগস্ট ২০০৮। ৮ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১০Religion: Virtually the entire population is Muslim. Between 80 and 85 percent of Muslims are Sunni and 15 to 19 percent, Shia. 
  147. "Afghanistan"Central Intelligence Agency (CIA)The World Factbook on Afghanistan। ২৮ মে ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১০Religions: Sunni Muslim 80%, Shia Muslim 19%, other 1% 
  148. al-Qudaihi, Anees (২৪ মার্চ ২০০৯)। "Saudi Arabia's Shia press for rights"। BBC Arabic Service। ৭ এপ্রিল ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০০৯ 
  149. Leonard Leo। International Religious Freedom (2010): Annual Report to Congress। Diane Publishing। পৃষ্ঠা 261–। আইএসবিএন 978-1-4379-4439-6। ১ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১২ 
  150. Paul Ohia (১৬ নভেম্বর ২০১০)। "Nigeria: 'No Settlement With Iran Yet'"This Day। ১৮ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  151. Helene Charton-Bigot, Deyssi Rodriguez-Torres. Nairobi Today. the Paradox of a Fragmented City. African Books Collective, 2010. আইএসবিএন ৯৯৮৭-০৮-০৯৩-৬. p. 239
  152. Heinrich Matthée (২০০৮)। Muslim Identities and Political Strategies: A Case Study of Muslims in the Greater Cape Town Area of South Africa, 1994–2000। kassel university press GmbH। পৃষ্ঠা 136–। আইএসবিএন 978-3-89958-406-6। ৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০১২ 
  153. Mohamed Diriye Abdullahi. Culture and customs of Somalia. Greenwood Publishing Group, 2001. আইএসবিএন ০-৩১৩-৩১৩৩৩-৪. p. 55
  154. Yasurō Hase; Hiroyuki Miyake; Fumiko Oshikawa (২০০২)। South Asian migration in comparative perspective, movement, settlement and diaspora। Japan Center for Area Studies, National Museum of Ethnology। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০১৫ 
  155. (Ya'qubi; vol. III, pp. 91–96, and Tarikh Abul Fida', vol. I, p. 212.)
  156. Stevan Lars Nielson, PhD; E. Thomas Dowd, PhD, ABPP (২০০৬)। The Psychologies in Religion: Working with the Religious Client। Springer Publishing Company। পৃষ্ঠা 237। আইএসবিএন 978-0-8261-2857-7 
  157. "Basra handover completed"। Inthenews.co.uk। ১ আগস্ট ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১ 
  158. Maddox, Bronwen (৩০ ডিসেম্বর ২০০৬)। "Hanging will bring only more bloodshed"The Times। London। ২৯ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১০ 
  159. "Al-Ahram Weekly | Region | Shiʻism or schism"। Weekly.ahram.org.eg। ১৭ মার্চ ২০০৪। ৪ এপ্রিল ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১ 
  160. The Shia, Ted Thornton, NMH, Northfield Mount Hermon ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৩ আগস্ট ২০০৯ তারিখে
  161. "The Origins of the Sunni/Shia split in Islam"। Islamfortoday.com। ২৬ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১ 
  162. Nasr, Vali (2006). The Shia Revival: How Conflicts Within Islam Will Shape the Future. W.W. Norton & Company Inc. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩৯৩-০৬২১১-৩ pp. 52–53
  163. George C. Kohn (2007). Dictionary of Wars. Infobase Publishing. p. 385. আইএসবিএন ০-৮১৬০-৬৫৭৭-২
  164. Al-e Ahmad, Jalal. Plagued by the West (Gharbzadegi), translated by Paul Sprachman. Delmor, NY: Center for Iranian Studies, Columbia University, 1982.
  165. Saudi Arabia – The Saud Family and Wahhabi Islam ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২১ জুলাই ২০১১ তারিখে Library of Congress Country Studies.
  166. Gritten, David (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৬)। "Long path to Iraq's sectarian split"BBC News। ২৭ জুলাই ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১৫ 
  167. "Malaysian government to Shia Muslims: Keep your beliefs to yourself"। globalpost.com। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৪ 
  168. "Malaysia" (PDF)International Religious Freedom Report। United States Department of State Bureau of Democracy, Human Rights and Labor। ২০১১। ২৮ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৪ 
  169. Paula Sanders (1994), Ritual, politics, and the city in Fatimid Cairo, p. 121
  170. Bernard Trawicky, Ruth Wilhelme Gregory, (2002), Anniversaries and holidays, p. 233
  171. "Mawlid al-Nabi (the Prophet's birthday)"Islamqa.info। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  172. "Lady Fatima inspired women of Iran to emerge as an extraordinary force"। ১৮ মার্চ ২০১৭। ২৫ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৮ 
  173. Laurence Louėr (2008), Transnational Shia politics: religious and political networks in the Gulf, p. 22
  174. Karen Dabrowska, Geoff Hann, (2008), Iraq Then and Now: A Guide to the Country and Its People ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে, p. 239
  175. See
    • "Mapping the Global Muslim Population: A Report on the Size and Distribution of the World's Muslim Population"Pew Research Center। ২০০৯-১০-০৭। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৯-২৪The Pew Forum's estimate of the Shia population (10–13%) is in keeping with previous estimates, which generally have been in the range of 10–15%. Some previous estimates, however, have placed the number of Shias at nearly 20% of the world's Muslim population. 
    • "Shia"। Berkley Center for Religion, Peace, and World Affairs। ডিসেম্বর ১৫, ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ৫, ২০১১Shi'a Islam is the second largest branch of the tradition, with up to 200 million followers who comprise around 15% of all Muslims worldwide... 
    • "Religions"The World Factbook। Central Intelligence Agency। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৮-২৫Shia Islam represents 10–20% of Muslims worldwide... 
  176. Miller, Tracy, সম্পাদক (অক্টোবর ২০০৯)। Mapping the Global Muslim Population: A Report on the Size and Distribution of the World's Muslim Population (PDF)Pew Research Center। ২০০৯-১০-১০ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-১০-০৮ 
  177. "Shi'ite – Islam" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি, বা বন্ধকরণ </ref> দেয়া হয়নি