আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস
আরবি: عبد الله ابن عباس‎‎
উপাধি হিবর-উল-উম্মাহ,রইসুল মুফাস্‌সিরিন
জন্ম 'আবদুল্লাহ ইবনে আল- আব্বাস'
৬১৯ খ্রি.
মক্কা, হেযাজ[১]
মৃত্যু ৬৮৭ খ্রি.
তায়েফ, সৌদি আরব
অন্য নাম আল -হিবর, (চিকিৎসক); আল -বাহর, (সমুদ্র)
জাতিভুক্ত আরব
পেশা তাফসির, কুরআন এবং সুন্নাহ, হাদিস[১] ইসলামি স্বর্ণযুগে
উল্লেখযোগ্য ধারণা কুরআরনর ব্যাখ্যা
শিষ্য ছিলেন মুহাম্মদ
দাম্পত্য সঙ্গী যাহরা বিনতে মিসরাহ
সন্তান

ছেলে:আল -আব্বাস, আলী ইবনে আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ, আল-ফাদলএবং সাদ

কণ্যা: লুববা এবং আসমা
পিতা-মাতা

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (আরবি :عبد اللہ ابن عباس ইংরেজি :Abdullah ibn-Abbas) হযরত নবী করিম (সা.) এর একজন বিখ্যাত সাহাবী । মহানবী (সা.) এর ' আবদুল্লাহ ' নামক চার জন বিশিষ্ট সাহাবী - যাদেরকে একত্রে ' عبادلۃ اربعۃ 'বলা হয়, তিনি তাদের অন্যতম । তিনি কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখার সন্তানহযরত রাসুলুল্লাহ (দ.) এর সর্বকনিষ্ঠ চাচা ' হযরত আব্বাস (রা.) 'এর জ্যেষ্ঠ ছেলে। তিনি নবী করিম (সা.) এর প্রিয় পাত্র ছিলেন । আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ছিলেন একজন বিশিষ্ট সুবিজ্ঞ ফকিহ ও পবিত্র আল-কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় মুফাস্‌সির [২][৩]মুসলিম বিশ্বে তাকে রইসুল মুফাস্‌সিরিন বা সাইয়্যিদুল মুফাস্‌সিরিন বলা হয় ।

উপাধি[সম্পাদনা]

আল হিবর বা হিবরুল উম্মাহ্‌ অর্থাৎ মহাজ্ঞানী বা আল-বাহ্‌র অর্থাৎ সাগর। কারণ যে কোন দ্বীনি জিজ্ঞাসার জবাব তিনি প্রজ্ঞার সাথে উপস্থাপন করতেন । এক অনন্য ইসলাম ধর্মবিশারদ বলে তাকে মনে করা হতো । আর এ জন্যেই তার উপাধি হিবরুল উম্মাহ্‌

নসবনামা[সম্পাদনা]

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশেম ইবনে আবদে মান্নাফ ।

জন্ম তারিখ[সম্পাদনা]

তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর হিজরতের তিন বছর পূর্বে মক্কায় ' শিআবে আবি তালিব '-এ জন্ম গ্রহণ করেন । কারো কারো মতে, হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন । তবে প্রথম মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য ও সঠিক ।[৪]

জন্মের পূর্বাপর বৃত্তান্ত[সম্পাদনা]

আল্লামা ইবনে কাসির বলেন,- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) স্বীয় জন্মের ওয়াকিয়া এভাবে বর্ণনা করেন যে, যখন হযরত নবি করিম (দ.) শিআবে আবু তালিবে অন্তরীণ অবস্থায় জীবন যাপন করছিলেন - সে সময় একদিন আমার পিতা নবীজির খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললেন, "হে মুহাম্মাদ (দ.)! উম্মুল ফজল তো সন্তান প্রসবা-গর্ভবতী ।" নবী করিম (দ.) এই খবর শুনে বললেন, " চাচা, আল্লাহ আপনাদের চক্ষুদ্বয় শীতল করুক (অর্থাৎ চোখ জুড়ানো সন্তান দান করুক) ।" ইবনে আব্বাস বলেন - যখন আমার সম্মানিত মা-এর পবিত্র গর্ভ থেকে জন্ম গ্রহণ করলাম তখন আমার পিতা আমাকে এক টুকরো কাপড়ে জড়িয়ে কোলে করে নবীজির কাছে নিয়ে গেলেন । নবি করিম (দ.)আমার মুখে উনার একটু থুথু মোবারক দিয়ে 'তাহ্‌নিক' করলেন ।[৫] অন্য বর্ণ্নায় এসেছে যে,- নবীজি শিশু আবদুল্লাহর মুখে একটু থুথু মোবারক দিয়ে তাহ্‌নিক করেন এবং এই বলে দোয়া করেন -" اللھم فقھہ فی الدين و علمہ التآويل " (আল্লাহুম্মা ফাক্কিহহু ফিদ্দিন ওয়া আল্লিম হুত তাবিল) অর্থাৎ- " হে আল্লাহ! আপনি তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করুন এবং তাকে তাফসিরের অগাধ জ্ঞান দান করুন !"[৬]

ইসলাম গ্রহণ[সম্পাদনা]

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এর জননী হিজরতের পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন বিধায় তকে আশৈশব মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হয় ।

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

হাদিস অর্জন[সম্পাদনা]

বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা[সম্পাদনা]

তিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীদের অন্যতম । আল্লামা আইনির মতে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ১৬৬০ টি । কারো মতে ২৬৬০ টি । বুখারী শরিফেমুসলিম শরিফে যৌথভাবে ৯৫ টি, এককভাবে বুখারীতে ১২০ টি এবং মুসলিমে ৪৯ টি হাদিস উল্লেখ রয়েছে।[৬]

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

তার সম্পর্কে সাহাবিদের উক্তি[সম্পাদনা]

ইন্তিকাল[সম্পাদনা]

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বার্ধক্য জীবনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন । তিনি ইবনে জুবায়েরের শাসনামলে ৬৮ হিজরি, ৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে তায়েফে ইন্তিকাল করেন । মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর । মুহাম্মদ ইবনে হানাফিয়্যা তার নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন ।

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. biography on the MSA West Compendium of Muslim Texts
  2. "'Abd Allah ibn al-'Abbas"। Encyclopedia Britannica। I: A-Ak - Bayes (15th সংস্করণ)। Chicago, IL: Encyclopedia Britannica, Inc.। ২০১০। পৃষ্ঠা 16। আইএসবিএন 978-1-59339-837-8 
  3. Ludwig W. Adamec (2009), Historical Dictionary of Islam, p.134. Scarecrow Press. আইএসবিএন ০৮১০৮৬১৬১৫.
  4. الاصابہ فی تمیز الصحابہ : ابن حجر عسقلانی - تذکرہ ابن عباس - جلد اول - صفحہ ۳۲۲ ۔
  5. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া (উর্দু) ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯৫
  6. আসমাউর রিজাল বা রাবি চরিত - আ.ন.ম.মাঈন উদ্দিন সিরাজী,এম.এম; এম.এফ; এম.এ প্রথম শ্রেণি, প্রধান মুহাদ্দিস-দুর্বাটি এম.ইউ আলিয়া মাদরাসা; প্রাক্তন মুহাদ্দিস আলম শাহ পাড়া আলিয়া মাদরাসা, চট্টগ্রাম । পরিবেশয়নায়ঃ আল-বারাকা লাইব্রেরি, ৩৪ নর্থব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ ।
  7. تفسير ابن عباس (اردو) ۔ جلد اول ۔ موءلف: ابو طاھر محمد بن يعقوب الفروز آبادی ۔ مترجم :مولانا پرو فيسر محمد سعيد احمد عاطف ۔ ناشر :مکی دارالکتب ، ۳۷ مزنگ روڈ ، لاھور