ইসলামি চারুলিপি

| আরব সংস্কৃতি |
|---|
| একটি সিরিজের অংশ |
| চারুলিপি |
|---|
ইসলামি ক্যালিগ্রাফি বা চারুলিপি হলো লিপিশৈলী ও সুন্দর হস্তলিপির শিল্পচর্চা, যা আরবি লিপি অথবা সেখান থেকে উদ্ভূত লিপিসমূহে সম্পাদিত হয়। এটি একটি উচ্চমানের রূপসজ্জিত এবং নিয়মবদ্ধ লেখার ধারা, যা নির্দিষ্ট শৈল্পিক নীতিমালা অনুসরণ করে। এই ক্যালিগ্রাফি প্রায়শই ধর্মীয় লেখাসমূহ, ইসলামি স্থাপত্য, ও ইসলামি অলঙ্করণ-এ ব্যবহৃত হয়।[২]
এটি আরবি ক্যালিগ্রাফি, ফারসি ক্যালিগ্রাফি, অটোমান তুর্কি লিপি, এবং উর্দু ক্যালিগ্রাফিকে অন্তর্ভুক্ত করে।[৩][৪] আরবিতে একে বলা হয় khatt Arabi (خط عربي), যার অর্থ—‘রেখা’, ‘নকশা’ বা ‘গঠন’।
ইসলামি ক্যালিগ্রাফির বিকাশ ঘনিষ্ঠভাবে কুরআনের সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ এই শিল্পকলার ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কুরআনের সূরা ও আয়াত। যদিও কুরআনে স্পষ্টভাবে প্রাণী বা মানুষের ছবি আঁকার নিষেধাজ্ঞা নেই, ইসলামি ঐতিহ্যে ধর্মীয় পাঠ্যে চিত্রায়ন সীমিত রাখা হয়েছে মূর্তিপূজা এড়ানোর জন্য। অনেক পণ্ডিতের মতে, কুফি লিপি ৭ম শতাব্দীর শেষভাগে ইরাকের কুফা শহরে বিকশিত হয়, যা থেকে এর নামকরণ। এই প্রাথমিক শৈলী পরবর্তীতে নানা উপধারায় রূপ নেয়, যেমন—পুষ্পল, পাতাযুক্ত, বিন্যস্ত, সীমাবদ্ধ এবং চতুষ্কোণ কুফি।
তবে প্রাচীন ইসলামি শিল্পীরা কখনো কখনো আকৃতি নিরুৎসাহিত করার বিধিনিষেধকে পাশ কাটিয়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম লিপিতে জটিল চিত্র ও আকৃতি তৈরি করতেন। ক্যালিগ্রাফিকে একটি সম্মানজনক শিল্পরূপ হিসেবে দেখা হতো—যা ছিল একইসঙ্গে নান্দনিক এবং নৈতিক চর্চা। এই ধারণার প্রতিফলন ঘটে একটি প্রাচীন আরবি প্রবাদে: ‘‘লিপির বিশুদ্ধতা হলো আত্মার বিশুদ্ধতা’’।[৫]
ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ছাড়াও ইসলামি ক্যালিগ্রাফি ব্যাপকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ শিল্প, স্থাপত্য ও অলঙ্করণে ব্যবহৃত হয়।[৬] ইসলামি সংস্কৃতিতে লেখালেখি ও লিখিত শব্দের গুরুত্ব থাকায় ক্যালিগ্রাফির গুরুত্ব শুধুমাত্র চিত্রবর্জনের কারণে নয়।[৭]
ইসলামি ক্যালিগ্রাফি মূলত দুটি প্রধান শৈলী থেকে বিকশিত হয়েছে: কুফি ও নাসখ। পরবর্তীতে এগুলো থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও শৈল্পিক রূপের উদ্ভব ঘটে। আধুনিক যুগে, আরবি ও ফারসি ক্যালিগ্রাফি আধুনিক শিল্পকলার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে উপনিবেশোত্তর মধ্যপ্রাচ্যে। এখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে উঠেছে ক্যালিগ্রাফিটি নামক এক সংকর শিল্পরীতি।[৮]
যন্ত্র ও মাধ্যম
[সম্পাদনা]ইসলামি ক্যালিগ্রাফির ঐতিহ্যবাহী লেখার যন্ত্র হলো কলম—যা সাধারণত শুকনো নাল বা বাঁশ দিয়ে তৈরি হয়। ব্যবহৃত কালি প্রায়শই রঙিন হয় এবং এমনভাবে নির্বাচন করা হয় যাতে তার ঘনত্বে বৈচিত্র আনা যায়। এতে অক্ষরগুলোর গঠনে গতি ও প্রাণবন্ততা সৃষ্টি হয়। কিছু ধারার ক্যালিগ্রাফি ধাতব নিবযুক্ত কলম দিয়েও লেখা হয়।

- নাসখ
- নস্তালিক
- দিওয়ানি
- সুলুস
- রিকা
ইসলামি ক্যালিগ্রাফি শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি টালি, পাত্র, গালিচা, এমনকি পাথরের মতো নানাবিধ অলঙ্করণ মাধ্যমেও ব্যবহৃত হয়।[৪] কাগজ প্রচলনের পূর্বে লেখার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতো প্যাপিরাস ও পার্চমেন্ট। ৯ম শতকে চীন থেকে কাগজ আগমনের ফলে ইসলামি ক্যালিগ্রাফিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটে। সে সময় মুসলিম বিশ্বের গ্রন্থাগারগুলোতে শত শত, এমনকি হাজার হাজার গ্রন্থ সংরক্ষিত থাকত।[৩]:২১৮
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, লেখার শিল্প ইসলামি শিল্পকলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।[৯] যদিও এই ক্যালিগ্রাফির প্রাতিষ্ঠানিক ধারা শুরু হয়েছিল বাগদাদে—যা প্রাথমিকভাবে ইসলামি সাম্রাজ্যের কেন্দ্র ছিল—পরবর্তীতে তা ছড়িয়ে পড়ে ভারত থেকে শুরু করে স্পেন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।
মুদ্রাও ক্যালিগ্রাফির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহক ছিল। ৬৯২ সাল থেকে ইসলামি খেলাফত নিকটপ্রাচ্যের মুদ্রা ব্যবস্থায় সংস্কার আনে এবং বাইজান্টাইন খ্রিস্টীয় চিত্রাবলির পরিবর্তে আরবি ভাষায় ইসলামি বাণী সংযোজন করে। বিশেষ করে দিনার—মূল্যবান স্বর্ণমুদ্রা—তে এই রূপান্তর স্পষ্ট ছিল। এসব মুদ্রায় সাধারণত কুরআনের বিভিন্ন বাণী খোদাই করা হতো।
দশম শতকে ইসলামধর্ম গ্রহণকারী পার্সিরা তাদের জটিল নকশার রেশমী বস্ত্রে আরবি লিপি বুনতে শুরু করে। এসব আরবি লেখা বিশিষ্ট বস্ত্র এতটাই মূল্যবান ছিল যে ক্রুসেডাররা সেগুলো ইউরোপে নিয়ে যেত অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ হিসেবে। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো Suaire de Saint-Josse, যা ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কাঁ শহরের কাছের সাঁ-জোস-সুর-মের অ্যাবেতে সেন্ট জোসের দেহাবশেষ আবৃত করতে ব্যবহার করা হয়েছিল।[৩]:২২৩–২২৫
ইসলামি ক্যালিগ্রাফিকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। ফলে অধিকাংশ শিল্পকর্মেই সুপ্রতিষ্ঠিত ক্যালিগ্রাফারদের অনুসরণ করা হয়। ব্যতিক্রম কেবল ধর্মনিরপেক্ষ বা আধুনিক ক্যালিগ্রাফিতে। ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, একজন ক্যালিগ্রাফারকে স্বীকৃতি লাভের জন্য তিনটি ধাপে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ নিতে হতো। এর মধ্যে শিক্ষকের ক্যালিগ্রাফিক নিদর্শন অধ্যয়ন ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।[১০]
শৈলীসমূহ
[সম্পাদনা]

কুফি
[সম্পাদনা]কুফি শৈলীর বৈশিষ্ট্য হলো কঠোর ও কৌণিক স্ট্রোক বা আঁচড়। এটি সপ্তম শতাব্দীতে নাসখ লিপির পাশাপাশি বিকশিত হয়।[১১][১২] যদিও এই বিষয়ে কিছু মতভেদ আছে, অনেক গবেষকের মতে কুফি লিপি ৭ম শতাব্দীর শেষভাগে ইরাকের কুফা শহরে উদ্ভূত হয়, এবং এর নামকরণও সেই স্থান থেকেই।[১৩]
পরবর্তীকালে এই শৈলী থেকে নানা ধরনের কুফি লিপির সৃষ্টি হয়, যেমন পুষ্পলতা যুক্ত (floral), পাতা সদৃশ (foliated), জড়ানো বা বিন্যস্ত (plaited/interlaced), সীমানাবদ্ধ (bordered), এবং চতুর্ভুজ (square kufic)। এর সরল ও সুশৃঙ্খল প্রকৃতির কারণে এটি প্রায়ই অলঙ্করণমূলক পাথর খোদাই ও মুদ্রায় ব্যবহৃত হতো।[১৪] ৮ম থেকে ১০ম শতাব্দী পর্যন্ত কুরআন লিপিবদ্ধ করার প্রধান লিপি ছিল কুফি, তবে ১২শ শতাব্দীতে যখন প্রবাহময় নাসখ লিপি আরও ব্যবহারিক হয়ে ওঠে, তখন কুফির ব্যবহার হ্রাস পায়। তবুও, এটি অলঙ্করণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে অন্যান্য লিপির তুলনামূলক বৈচিত্র্য প্রদর্শনের জন্য।[১৫]
কুফি লিপি ব্যবহারে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম ছিল না; এর একমাত্র সাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল অক্ষরগুলোর কৌণিক ও রেখাশৈলীর গঠন। প্রারম্ভিক কুফির মানদণ্ড না থাকায় অঞ্চলভেদে এর রূপ ব্যাপকভাবে ভিন্ন হয়েছে—কখনও একেবারে চতুর্ভুজ ও কঠোর, কখনও আবার সুশোভিত ও শৈল্পিক।[১৩]
এর প্রচলিত ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে চতুর্ভুজ কুফি (square kufic), যা বান্না’ই নামে একটি কৌশল হিসেবে পরিচিত।[১৬] আধুনিক অলঙ্করণেও এই ধারা জনপ্রিয়।
মধ্যযুগ ও রেনেসাঁ যুগের ইউরোপে কুফি লিপির অনুকরণে ছদ্ম-কুফি (pseudo-kufic) অলঙ্করণ তৈরি হতো। বিশেষ করে রেনেসাঁ শিল্পে পবিত্র ভূমির মানুষদের চিত্রায়ণে এ ধরনের ছদ্মলিপির ব্যবহার দেখা যায়। এর নির্দিষ্ট কারণ পরিষ্কার নয়, তবে অনুমান করা হয় যে ইউরোপীয় শিল্পীরা ১৩-১৪ শতকের মধ্যপ্রাচ্যের লিপিকে প্রাচীন যুগের লিখন-পদ্ধতি বলে ভুল করতেন, এবং সেই সূত্রে প্রাথমিক খ্রিষ্টানদের সঙ্গে এই রীতি সংযুক্ত করতেন।[১৭]
নাসখ
[সম্পাদনা]

কুফি লিপির পাশাপাশি প্রবাহময় লেখার ধারা বা কার্সিভ লিপিও ব্যবহৃত হতো, যা প্রথাগতভাবে অনানুষ্ঠানিক লেখায় ব্যবহৃত হতো।[১৮] নাসখ লিপির সূচনা ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রথম শতাব্দীতেই হয়।[১৯] 'নাসখ' শব্দের অর্থ 'অনুলিপি', কারণ এই লিপি বই ও পান্ডুলিপি লেখার মানদণ্ডে পরিণত হয়।[২০]
এই লিপি কুরআন, সরকারি ডিক্রি এবং ব্যক্তিগত চিঠিপত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো, এবং এটি আধুনিক আরবি মুদ্রণশৈলীর ভিত্তি গঠনে সহায়ক হয়েছে।[২১]
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী কুফি লিপি নাসখের আগের, তবে ইতিহাসবিদরা দেখিয়েছেন যে এই দুই লিপি অনেক আগেই একসঙ্গে প্রচলিত ছিল, এবং উভয়ই ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো।[২২] কুফি মূলত অলঙ্করণে ব্যবহৃত হতো, আর নাসখ ছিল দৈনন্দিন লেখালেখির কাজে ব্যবহৃত সাধারণ লিপি।[২৩]
সুলুস
[সম্পাদনা]
সুলুস লিপি ১৫শ শতকে বিকশিত হয় এবং পরে উসমানীয় ক্যালিগ্রাফারদের হাতে এটি আরও পরিপূর্ণতা লাভ করে। এই শৈলী পরিপক্ব রূপে পৌঁছাতে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুস্তাফা রাকিম, শায়খ হামদাল্লাহ প্রমুখ।
এই লিপিতে অক্ষরগুলোর লম্বা উল্লম্ব রেখা এবং প্রশস্ত ফাঁকফোকর থাকে। 'সুলুস' শব্দের অর্থ ‘এক-তৃতীয়াংশ’, যা সম্ভবত এই ইঙ্গিত দেয় যে—একটি অক্ষরের উচ্চতার এক-তৃতীয়াংশ হলো তার 'আলিফ', অথবা ব্যবহৃত কলমের প্রস্থের এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করা হয় স্বরচিহ্ন ও অলংকরণে।[২৪]
রিকা (রিকাʻ)
[সম্পাদনা]রিকা লিপি দেখতে অনেকটাই সুলুসের মতো, তবে এর গঠন অপেক্ষাকৃত সহজ। এটি ১০ম শতকে প্রথম প্রচলিত হয়। এই লিপিতে অক্ষরের আঁচড়গুলো সংক্ষিপ্ত এবং অলংকরণও সীমিত থাকে। ইয়াকুত আল-মুস্তাসিমি এই শৈলী ব্যবহারকারী অন্যতম ক্যালিগ্রাফার ছিলেন।[২৫][২৬] অনেকের মতে, আরব ক্যালিগ্রাফার ইবন আল-বাওয়াব-ই এই লিপির প্রবর্তক ছিলেন।
মুহাক্কাক
[সম্পাদনা]মুহাক্কাক হলো একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং সুবিন্যস্ত লিপিশৈলী, যা দক্ষ ক্যালিগ্রাফারদের জন্য উপযোগী। এটি সুলুস লিপির একটি উন্নততর রূপ। সুলুসের মতোই, মুহাক্কাককেও অতিপ্রশংসিত এবং একইসঙ্গে জটিলতম শৈলীর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই লিপি বিশেষভাবে মামলুক সালতানাত (কায়রো) আমলে ব্যবহৃত হতো। তবে ১৮শ শতক থেকে এর ব্যবহার সীমিত হয়ে পড়ে মূলত সংক্ষিপ্ত বাক্যাংশ বা শিরোনাম—যেমন বিসমাল্লাহ—লিখতে।[২৭]
আঞ্চলিক শৈলীসমূহ
[সম্পাদনা]
ইসলামের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আরবি লিপি একটি বিস্তৃত ভূগোলজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অঞ্চল তাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা আলাদা ক্যালিগ্রাফিক শৈলী গড়ে তোলে। ১৪শ শতক থেকে তুরস্ক, পারস্য ও চীনে নানা ধরনের কার্সিভ (প্রবাহময়) লিপিশৈলীর বিকাশ ঘটে।[২১]
- মাগরিবি লিপিশৈলী মাঘরেব (উত্তর আফ্রিকা) ও আল-আন্দালুস (আইবেরীয় উপদ্বীপ) অঞ্চলে কুফি লিপি থেকে উদ্ভূত। এই লিপিতে সাধারণত সূচালো নিব (القلم المذبب) ব্যবহার করা হয়, যার ফলে লেখার রেখাগুলো সমান পুরু হয়। মাগরিবি ধারার অন্তর্ভুক্ত লিপির মধ্যে রয়েছে ‘মুজাওহির’ নামক কার্সিভ শৈলী এবং আনুষ্ঠানিক শৈলী ‘মাবসুত’।
- সুদানি শৈলী পশ্চিম আফ্রিকার বিলাদ আস-সুদান (সাহেল অঞ্চল) থেকে বিকশিত হয়। এটি মাগরিবি লিপির একটি উপধারা হিসেবে বিবেচিত।
- দিওয়ানি একটি প্রবাহময় আরবি লিপিশৈলী, যা ১৬শ ও ১৭শ শতকের গোড়ার দিকে প্রথম উসমানীয় যুগে বিকশিত হয়। এটি হুসাম রুমি আবিষ্কৃত করেন এবং সুলেমান মহান (১৫২০–১৫৬৬) আমলে এর সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।[২৮] এই শৈলীতে অক্ষরের মাঝে ফাঁক কম থাকে এবং লেখা ডান থেকে বাঁ দিকে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়। এর বৃহত্তর রূপ ‘জালি’ নামে পরিচিত, যেখানে ঘনভাবে বিন্যস্ত বিন্দু ও স্বরচিহ্ন দিয়ে অলঙ্করণ করা হয়। জটিল শৈলী হওয়ায় দিওয়ানি পড়া ও লেখা কঠিন, ফলে এটি রাজদরবারের নথিপত্রে ব্যবহৃত হতো যাতে গোপনীয়তা বজায় থাকে ও জালিয়াতি রোধ হয়।[২৯]
- নস্তালিক একটি প্রবাহময় লিপি যা মূলত ফারসি ভাষা লিখতে উদ্ভাবিত হয়।[৩০] এটি নাসখ ও পূর্ববর্তী তালিক লিপি থেকে গঠিত একটি পরবর্তী পর্যায়ের বিকাশ।[৩১] দক্ষিণ এশিয়াতেও এই শৈলী দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। 'তালিক' শব্দের অর্থ ‘ঝুলন্ত’, যা লেখার সামান্য ঢালু প্রকৃতিকে বোঝায়। এই লিপির উল্লম্ব রেখা ছোট এবং অনুভূমিক রেখা প্রশস্ত ও বাঁকানো হয়। এর অক্ষরগুলো গভীর, হুক-আকৃতির এবং উচ্চ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।[৩০] ১৭শ শতকে এই শৈলীর একটি আনুষ্ঠানিক রূপ ‘শিকস্তে নস্তালিক’ গড়ে ওঠে।
- সিনি চীনে বিকশিত একটি শৈলী। এর গঠন চীনা ক্যালিগ্রাফি দ্বারা প্রভাবিত এবং এতে প্রচলিত কলমের পরিবর্তে ঘোড়ার লোম দিয়ে তৈরি তুলি ব্যবহৃত হয়। এই ধারার একজন খ্যাতিমান সমসাময়িক শিল্পী হলেন হাজ্জি নূরুদ্দীন মি গুয়াংজিয়াং।[৩২]
আধুনিক
[সম্পাদনা]উপনিবেশোত্তর যুগে উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের শিল্পীরা আরবি ক্যালিগ্রাফিকে আধুনিক শিল্পরূপে রূপান্তর করেন, যা হরূফিয়া আন্দোলন নামে পরিচিত।[৩৩] এই ধারার শিল্পীরা ক্যালিগ্রাফিকে সমসাময়িক শিল্পকর্মে গ্রাফিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেন।[৩৪]
‘হরূফিয়া’ শব্দটি এসেছে আরবি হর্ফ (অক্ষর) থেকে। ঐতিহ্যগতভাবে এই শব্দটি সুফি দর্শনের সাথে যুক্ত ছিল এবং এতে নিহিত ছিল গূঢ় আধ্যাত্মিক অর্থ।[৩৩] মধ্যযুগীয় এক তত্ত্বগত পদ্ধতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই চিন্তাধারায় অক্ষরগুলোকে বিশ্বসৃষ্টির মূল উপাদান ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখা হতো।[৩৫]
হরূফিয়া শিল্পীরা পশ্চিমা আধুনিক শিল্পধারার সঙ্গে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত চেতনার মিশ্রণ ঘটান। তারা ইসলামি চিত্রশৈলী, বিশেষ করে ক্যালিগ্রাফির উপাদান, এবং আধুনিক শিল্পরীতিকে সমন্বিত করে এক ধরনের সমসাময়িক সংকর শিল্পকর্ম নির্মাণ করেন।[৩৬] যদিও এই শিল্পীরা প্রাথমিকভাবে জাতীয়তাবাদী কাঠামোর মধ্যে নিজেদের পরিচয় নির্ধারণে সংগ্রাম করেন, তবুও তারা এমন একটি শৈল্পিক প্রকাশ খোঁজেন যা জাতীয় সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর ইসলামি পরিচয়কে উপস্থাপন করে।[৩৩]
হরূফিয়া আন্দোলনের সূচনা সম্ভবত উত্তর আফ্রিকায় আনু. ১৯৫৫ সালে ইব্রাহিম আল-সালাহির কাজের মাধ্যমে হয়।[৩৩] তবে ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বতন্ত্রভাবে ক্যালিগ্রাফি-ভিত্তিক আধুনিক শিল্প গড়ে ওঠে, এবং এসব শিল্পীরা প্রায়শই একে অপরের কাজ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন। ফলে অঞ্চলভেদে এই ধারার বিভিন্ন স্বতন্ত্র রূপ দেখা যায়। যেমন—সুদানে ক্যালিগ্রাফির সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম আফ্রিকার মোটিফও শিল্পকর্মে যুক্ত হয়।[৩৭]

হরূফিয়া আন্দোলন শুধুমাত্র চিত্রশিল্পেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মরত শিল্পীরাও এই ধারার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।[৩৮] উদাহরণস্বরূপ, জর্ডানের মৃৎশিল্পী মাহমুদ তাহা ক্যালিগ্রাফির ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যকে নৈপুণ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। যদিও হরূফিয়া আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, আধুনিক শিল্পী শিরিন নেশাত তাঁর সাদা-কালো আলোকচিত্রে আরবি পাঠ সংযোজনের মাধ্যমে আলো ও অন্ধকারের দ্বৈততা তৈরি করেন। ইরাকে এই আন্দোলন আল-বু'দ আল-ওয়াহিদ (একমাত্রিকতা গোষ্ঠী) নামে পরিচিত ছিল,[৩৯] এবং ইরানে এর নাম ছিল সাক্কাখানা আন্দোলন।[৩৩]
আরবি ক্যালিগ্রাফি পশ্চিমা শিল্প দ্বারা অন্যভাবেও প্রভাবিত হয়েছে, যেমন—ক্যালিগ্রাফিটি। এই ধারায় ক্যালিগ্রাফি ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা সামাজিক বার্তা দেওয়া হয়, কিংবা শহরের দেয়াল, ভবন ও জনস্থান অলংকরণ করা হয়।[৪০] ক্যালিগ্রাফিটির উল্লেখযোগ্য শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন: লেবাননের ইয়াজান হালওয়ানি[৪১], ফ্রান্স ও তিউনিসিয়ায় সক্রিয় ইএল সিড এবং তেহরানে কাজ করা A1one।[৪২]
২০১৭ সালে ওমান সরকার মুশাফ মুসকাত প্রকাশ করে—এটি একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্যালিগ্রাফিক কুরআন, যা ওমানের ধর্ম মন্ত্রণালয়র তত্ত্বাবধানে ও ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম-এর সহযোগিতায় তৈরি হয়।[৪৩]
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]কুফি
[সম্পাদনা]- ১১শ শতকের কুরআনের কুফি লিপি
- ৯ম বা ১০ম শতকের নীল কুরআন-এ মাগরিবি কুফি লিপি
- ইরানের ইয়াজদ শহরের একটি স্কোয়ার কুফি নকশাযুক্ত টাইল
- ১১শ শতকের নিশাপুরের একটি টেরাকোটা পাত্র, নিচে আঁকা কুফি লিপি
- ১০শ শতকের সিরিয়ায় নির্মিত একটি স্বর্ণ দিনার
- ভারতের ছোটা ইমামবাড়ায় একটি কুফি ক্যালিগ্রাফির উদাহরণ
নাসখ ও সুলুস
[সম্পাদনা]- ১৫শ শতকের তুরস্কের একটি কুরআনে মুহাক্কাক লিপি
- ১৩শ শতাব্দীর কুরআনে মুহাক্কাক লিপির ব্যবহার
- ১৬শ শতকের গোড়ার উসমানীয় পান্ডুলিপিতে নাসখ লিপি
- সুলুস ও নাসখ লিপিতে লেখা ক্যালিগ্রাফি প্রশিক্ষণ সনদ (ইজাযা)
- সামারকান্দের টাইল শৈলীতে সুলুস লিপি
- হায়া সোফিয়ায় আলির নামাঙ্কিত সুলুস ক্যালিগ্রাফি
আঞ্চলিক রূপভেদ
[সম্পাদনা]- মাবসুত মাগরিবি লিপিয় লেখা একটি মরক্কোর কুরআন
- জিরিদ যুগের তিউনিসিয়ায় লেখা মুশাফ আল-হাদিনা, কুফি লিপিতে
- বিসমিল্লাহ শব্দটি সুলুস জালি লিপিতে অলঙ্করণ
- সিনি লিপিতে লেখা চীনা অনুবাদসহ কুরআন
আধুনিক উদাহরণ
[সম্পাদনা]- সুলুস জালি লিপিতে লেখা বিসমিল্লাহ ক্যালিগ্রাফি
- মুহাম্মদ নামের ক্যালিগ্রাফি
- স্বর্ণালঙ্কিত বিসমিল্লাহ ক্যালিগ্রাফি
- একটি জুমরফিক ক্যালিগ্রাফির উদাহরণ (পাখির আকৃতিতে)
শিল্পনৈপুণ্য
[সম্পাদনা]- একজন শিক্ষানবিশ ক্যালিগ্রাফার ও তার লেখার যন্ত্রপাতি
- মালয়েশিয়ার এক মুসলিম ক্যালিগ্রাফার চর্চার খসড়া প্রস্তুত করছেন
ক্যালিগ্রাফারদের তালিকা
[সম্পাদনা]কিছু প্রাচীন ও আধুনিক খ্যাতিমান ক্যালিগ্রাফার:
- মধ্যযুগীয় যুগ
- ইবন মুকলা (মৃ. ৯৩৯/৯৪০)
- ইবন আল-বাওয়াব (মৃ. ১০২২)
- ফাখরুন্নিসা (১২শ শতাব্দী)
- ইয়াকুত আল-মুস্তাসিমি (মৃ. ১২৯৮)
- মীর আলি তাবরিজি (১৪শ–১৫শ শতাব্দী)
- উসমানীয় যুগ
- শায়খ হামদাল্লাহ (১৪৩৬–১৫২০)
- আহমদ কারাহিসারি (১৪৬৮–১৫৬৬)
- সেইয়্যিদ কাসিম গুবারি (মৃ. ১৬২৪)
- হাফিজ ওসমান (১৬৪২–১৬৯৮)
- মুস্তাফা রাকিম (১৭৫৭–১৮২৬)
- মেহমেদ শেভকি ইফেন্দি (১৮২৯–১৮৮৭)
- সামী (ইসমাইল হাক্কি) ইফেন্দি (১৮৩৮–১৯১২)
- হামিদ আইতাচ (১৮৯১–১৯৮২)
- আধুনিক যুগ
- মোহাম্মদ হোসনি (১৮৯৪–১৯৬৪), সিরিয়া
- মাদিহা ওমর (১৯০৮–২০০৫), ইরাকি-মার্কিন
- হাশেম মুহাম্মদ আল-বাগদাদি (১৯১৭–১৯৭৩), ইরাক
- শাকির হাসান আল সাঈদ (১৯২৫–২০০৪), ইরাক
- জিয়াদ জুক্কারি (১৯২৬–২০১৪), সিরিয়া
- সাদিকাইন নক্কাশ (১৯৩০–১৯৮৭), পাকিস্তান
- ইব্রাহিম আল-সালাহি (জ. ১৯৩০), সুদান
- আব্দুল জলিল পিরুস (এ. ডি. পিরুস নামে পরিচিত) (জ. ১৯৩৩), ইন্দোনেশিয়া
- উসমান তাহা (জ. ১৯৩৪), সিরিয়া
- হাসান চেলেবি (জ. ১৯৩৭), তুরস্ক
- চার্লস হোসেইন জেন্দেরৌদি (জ. ১৯৩৭), ইরান
- আলি আজ্জালি (জ. ১৯৩৯), ইরানি ক্যালিগ্রাফি শিল্পী, চিত্রকর, কবি ও শিক্ষাবিদ
- উইজদান আলি (জ. ১৯৩৯), জর্ডান
- মাহমুদ তাহা (জ. ১৯৪২), জর্ডান
- মোহাম্মদ জাকারিয়া (জ. ১৯৪২), যুক্তরাষ্ট্র
- হাসান মাসউদী (জ. ১৯৪৪), ইরাক
- ফুয়াদ হোন্ডা (জ. ১৯৪৬), জাপান
- আব্বাস বাগদাদি (জ. ১৯৫১), ইরাক
- আবদুর রউফ বাইদুন (জ. ১৯৫৬), সিরিয়া
- হাজ্জি নূরুদ্দীন মি গুয়াংজিয়াং (জ. ১৯৬৩), চীন
- আমির কামাল (জ. ১৯৭২), পাকিস্তান
- মুসান্না আল-ওবাইদি (জ. ১৯৭২), ইরাক
- সোরাইয়া সাইয়েদ (জ. ১৯৭৬), যুক্তরাজ্য
- নুরিয়া গার্সিয়া মাসিপ (জ. ১৯৭৮), স্প্যানিশ ক্যালিগ্রাফার
- অনিল কুমার চৌহান, ভারতীয় ক্যালিগ্রাফার
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Khalili Collections | Islamic Art | Part 15 of a 30-part Qur'an"। Khalili Collections (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২৩।
- ↑ Gruber, Christiane (২০০৯)। "Sheila Blair, Islamic Calligraphy (Edinburgh: Edinburgh University Press, 2006). Pp. 679. $150.00 cloth."। International Journal of Middle East Studies। ৪১ (3): ৪৮৬–৪৮৭।
- 1 2 3 Blair, Sheila S.; Bloom, Jonathan M. (১৯৯৫)। The art and architecture of Islam : 1250–1800 (Reprinted with corrections সংস্করণ)। New Haven: Yale University Press। আইএসবিএন ০-৩০০-০৬৪৬৫-৯।
- 1 2 Chapman, Caroline (2012). Encyclopedia of Islamic Art and Architecture, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৯-০৯৯-৬৩১-১
- ↑ Lyons, Martyn (২০১১)। Books : a living history। Los Angeles: J. Paul Getty Museum। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬০৬০৬-০৮৩-৪।
- ↑ Blair, Sheila S. (Spring 2003). "The Mirage of Islamic Art: Reflections on the Study of an Unwieldy Field". The Art Bulletin. 85: 152–184
- ↑ Allen, Terry (1988). Five Essays on Islamic Art. Sebastopol, CA: Solipsist Press. pp. 17–37. আইএসবিএন ০৯৪৪৯৪০০০৫.
- ↑ Erzen, Jale Nejdet (ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "Reading Mosques: Meaning and Architecture in Islam"। The Journal of Aesthetics and Art Criticism। ৬৯ (1): ১২৫–১৩১।
- ↑ Tabbaa, Yasser (1991). "The Transformation of Arabic Writing: Part I, Qur'ānic Calligraphy". Ars Orientalis. 21: 119–148.
- ↑ Roxburgh, David J. (2008). ""The Eye is Favored for Seeing the Writing's Form": On the Sensual and the Sensuous in Islamic Calligraphy". Muqarnas. 25: 275–298
- ↑ Flood, Necipoğlu (২০১৭)। A Companion to Islamic Art and Architecture। খণ্ড I। Hoboken: John Wiley & Sons। পৃ. ১০৯–১১০। আইএসবিএন ৯৭৮১১১৯০৬৮৫৭০।
- ↑ Schimmel, Annemarie (1984). Calligraphy and Islamic Culture. New York: New York University Press. p. 4. আইএসবিএন ০৮১৪৭৭৮৩০৫.
- 1 2 Kvernen, Elizabeth (2024). "Kufic", calligraphyqalam.com.
- ↑ Ul Wahab, Zain; Yasmin Khan, Romana (2016). "The Element of Mural Art and Mediums in Potohar Region". Journal of the Research Society of Pakistan. Vol. 53; No. 1.
- ↑ "Kūfic script"। Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২২।
- ↑ Jonathan M. Bloom; Sheila Blair (২০০৯)। The Grove encyclopedia of Islamic art and architecture। Oxford University Press। পৃ. ১০১, ১৩১, ২৪৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৩০৯৯১-১।
- ↑ Mack, Rosamond E. Bazaar to Piazza: Islamic Trade and Italian Art, 1300–1600, University of California Press, 2001 আইএসবিএন ০-৫২০-২২১৩১-১
- ↑ Mamoun Sakkal (১৯৯৩)। "The Art of Arabic Calligraphy, a brief history"।
- ↑ بىاض, Anjuman-e-Farsi, ১৯৭৭, পৃ. ৭৭
- ↑ Blair, Sheila S. (2006). Islamic Calligraphy. Edinburgh University Press. pp. 158, 165.
- 1 2 "Library of Congress, Selections of Arabic, Persian, and Ottoman Calligraphy: Qur'anic Fragments"। International.loc.gov।
- ↑ Ali, A. K. M. Yaqub (১৯৮৪)। "Muslim Calligraphy: Its Beginning and Major Styles"। Islamic Studies। ২৩ (4): ৩৭৩–৩৭৯।
- ↑ Khatibi, Abdelkebir (১৯৯৬)। The Splendor of Islamic Calligraphy। Sijelmassi, Mohamed। Thames and Hudson। আইএসবিএন ০৫০০০১৬৭৫৫।
- ↑ Kvernen, Elisabeth (২০০৯)। "Thuluth"। CalligraphyQalam। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "خط الرقاع"। example.ampproject.org। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২১।
- ↑ Kvernen, Elizabeth (২০০৯)। "Riqa'"। CalligraphyQalam। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ Mansour, Nassar (2011). Sacred Script: Muhaqqaq in Islamic Calligraphy. New York: I.B. Tauris & Co Ltd. আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৮৮৫-৪৩৯-০
- ↑ "Diwani script"। Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২২।
- ↑ Kvernen, Elizabeth (২০০৯)। "Divani"। CalligraphyQalam। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- 1 2 Kvernen, Elizabeth (২০০৯)। "Nasta'liq"। CalligraphyQalam। সংগ্রহের তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Ta'liq Script"। Encyclopædia Britannica। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২২।
- ↑ "Browse Gallery", hajinoordeen.com
- 1 2 3 4 5 Flood, Necipoğlu (2017). A Companion to Islamic Art and Architecture. Volume II. Hoboken: John Wiley & Sons. pp. 1294. আইএসবিএন ১১১৯০৬৮৬৬৫.
- ↑ Tuohy, Andy, Masters, Christopher, A–Z Great Modern Artists, Hachette UK, 2015, p. 56
- ↑ Mir-Kasimov, O., Words of Power: Hurufi Teachings Between Shi'ism and Sufism in Medieval Islam, I.B. Tauris and the Institute of Ismaili Studies, 2015
- ↑ Lindgren, A. and Ross, S., The Modernist World, Routledge, 2015, p. 495
- ↑ Flood, Necipoğlu (2017). A Companion to Islamic Art and Architecture. Vol. II. Hoboken: John Wiley & Sons. pp. 1298–1299.
- ↑ Mavrakis, N., "The Hurufiyah Art Movement in Middle Eastern Art"
- ↑ "Shaker Hassan Al Said," Darat al Funun
- ↑ Grebenstein, M., Calligraphy Bible: A Complete Guide to More Than 100 Essential Projects and Techniques, 2012, p. 5
- ↑ Alabaster, Olivia. "I like to write Beirut as it's the city that gave us everything", The Daily Star, 9 February 2013
- ↑ Vandalog। "A1one in Tehran IRAN"। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১২।
- ↑ Martin Lejeune, 15 June 2017, Oman unveils world's 1st interactive calligraphic Quran