দুটি ভারী বস্তুর হাদিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দুটি ভারী বস্তুর হাদিস
Arabicحديث الثقلين
RomanizationHadith at-Thaqalayn
Literal meaningদুটি ভারী বস্তুর হাদিস

দুটি ভারী বস্তুর হাদিস বা হাদিসে সাকালাইন (আরবি: حديث الثقلين‎, প্রতিবর্ণী. Hadith at-Thaqalayn‎) বলতে ইসলামের নবী মুহাম্মদের একটি উক্তিকে (হাদিস) বোঝায়। মুহাম্মদের হাদিস অনুসারে কুরআনআহলে বাইতকে ("বাড়ির লোক", মুহাম্মদের পরিবার) দুটি ভারী জিনিস হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল। এই হাদিসের প্রসঙ্গে মুহাম্মদের পরিবার আলী, ফাতিমা (মুহাম্মদের কন্যা) এবং তাদের দুই সন্তান (হাসানহোসাইন) ও তাদের বংশধরকে বোঝায়। এই হাদীসটি শিয়াসুন্নি উভয় সূত্রে ব্যাপকভাবে বর্ণিত হয়েছে।[১][২][৩][৪]

বর্ণনা[সম্পাদনা]

"যুহায়র ইবনু হারব ও শুজা ইবনু মাখলাদ (রহঃ) ... ইয়াযীদ ইবনু হায়্যান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি, হুসায়ন ইবনু সাবুরা এবং উমার ইবনু মুসলিম-- আমরা যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) এর নিকট গেলাম। আমরা যখন তার কাছে বসি, তখন হুসায়ন বললেন, হে যায়দ! আপনি তো বহু কল্যাণ প্রত্যক্ষ করেছেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন, তাঁর হাদীস শুনেছেন, তার পাশে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং তাঁর পেছনে সালাত আদায় করেছেন। আপনি বহু কল্যাণ লাভ করেছেন, হে যায়দ! আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন, তা আমাদের বলুন না। যায়দ (রাঃ) বললেন, ভ্রাতূষ্পূত্র! আমার বয়স হয়েছে, আমি পুরানো যুগের মানুষ। সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে যা আমি সংরক্ষণ করোছিলাম, এর কিছু অংশ ভুলে গিয়েছি। তাই আমি যা বলি, তা কবুল কর আর আমি যা না বলি, সে ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিও না।

তারপর তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী “খুম্ম” নামক স্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা বর্ণনা শেষে ওয়ায-নসীহত করলেন। তারপর বললেন, সাবধান, হে লোক সকল! আমি একজন মানুষ, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ফিরিশতা আসবে, আর আমিও তাঁর ডাকে সাড়া দেব। আমি তোমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দুটো জিনিস রেখে যাচ্ছি। এর প্রথমটি হলো, আল্লাহর কিতাব। এতে হিদায়াত এবং নূর রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে অবলম্বন কর, একে শক্ত করে ধরে রাখো। এরপর কুরআনের প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা দিলেন।

তারপর বললেনঃ আর দ্বিতীয়টি হলো আমার আহলে বাইত। আর আমি আহলে বাইতর ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বাইতর ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আহলে বাইতর ব্যাপারে তোমাদের আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। হুসায়ন বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর 'আহলে বাইত' কারা, হে যায়দ? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবিগণ কি আহলে বাইতর অন্তভুক্ত নন? যায়দ (রাঃ) বললেন, বিবিগণও আহলে বাইতর অন্তর্ভুক্ত; তবে আহলে বাইত তাঁরাই, যাদের উপর যাকাত গ্রহণ হারাম। হুসায়ন বললেন, এ সব লোক কারা? যায়দ (রাঃ) বললেন, এরা আলী, আকীল, জাফরআব্বাস (রাঃ) এর পরিবার-পরিজন। হুসায়ন বললেন, এদের সবার জন্য যাকাত হারাম? যায়দ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ।" (সহীহ মুসলিম, অধ্যায় ৪৬, পরিচ্ছেদ ৪, হাদীস ৬০০৭)[৫]

গ্রহণযোগ্যতা[সম্পাদনা]

বিশ্লেষণ[সম্পাদনা]

আহলে বাইত[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; SUNY নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. Ayatollah Sobhani, Ja'far (২৭ সেপ্টেম্বর ২০০১)। The Doctrines of Shi'ism: A Compendium of Imami Beliefs and Practices। I.B.Tauris। পৃষ্ঠা 103। আইএসবিএন 978-1860647802 
  3. Hadith Thaqalayn al-islam.org
  4. Dakake, Maria Massi (৩ জানুয়ারি ২০০৮)। The Charismatic Community: Shi'ite Identity in Early Islam। SUNY Press। আইএসবিএন 978-0791470343 
  5. "পরিচ্ছেদঃ ৪. আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) এর ফযীলত"Hadithbd.comইসলামিক ফাউন্ডেশন। ২০ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০২১