আব্দুল কাদের জিলানী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বড়পীর, গাউসুল আজম

আব্দুল কাদের জিলানী
Abdul Qadir Gilani (calligraphic, transparent background).png
উপাধিশাইখুল ইসলাম
ব্যক্তিগত
জন্ম২৩ মার্চ ১০৭৮
(১ রমজান, ৪৭০ হিজরি)
মৃত্যু২১ ফেব্রুয়ারি ১১৬৬
(১১ রবিউস সানি ৫৬১ হিজরী)
(বয়স ৮৭)
সমাধিস্থলবাগদাদ, ইরাক
ধর্মইসলাম
সন্তানআব্দুর রাজ্জাক জিলানী
যুগইসলামি স্বর্ণযুগ
অঞ্চলবাগদাদ
আখ্যাসুন্নি
ব্যবহারশাস্ত্রহানবালি[১][২]
প্রধান আগ্রহফিকহ, সুফিবাদ
তরিকাকাদেরিয়া (প্রতিষ্ঠাতা)
মুসলিম নেতা

আব্দুল কাদের জিলানী হলেন ইসলাম ধর্মে অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ইসলামের অন্যতম প্রচারক হিসাবে সুবিদিত। সূফীরা তাকে 'বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী ' নামে ব্যক্ত করেন। আধ্যাত্মিকতায় উচ্চমার্গের জন্য বড়পীর, ইরাকের অন্তর্গত 'জিলান' নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করায় জিলানী, সম্মানিত হিসাবে আবু মোহাম্মদ মুহিউদ্দীন প্রভৃতি উপাধি ও নামেও তাকে সম্বোধন করা হয়।[৭]

জন্ম

আব্দুল কাদের হিজরি ৪৭০ সনের রমজান মাসের ১ তারিখে বাগদাদ নগরের জিলান শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আবু সালেহ মুছা জঙ্গী এবং মাতার নাম সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। তার মাতা ছিলেন হাসান ইবনে আলীর বংশধর।

ধর্ম প্রচার

শিক্ষা-দীক্ষায় পূর্ণতা অর্জনের পর তিনি নিজেকে পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের কাজে নিয়োজিত করেন। বিভিন্ন মাহফিলে তিনি ইসলামের আদর্শ যুক্তিপূর্ণ ভাষায় বর্ণনা করতেন। তার মহফিলে শুধু মুসলমান নয়, অনেক অমুসলিমও অংশগ্রহণ করতো। তার বক্তব্য শুনে অনেক অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।[৭]

বই

তিনি কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ের পণ্ডিত ছিলেন। তার রচিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে ফতহুল গায়ের গুনিয়াতুত তালেবীন, ফতহুর রবযানী, ক্বসীদায়ে গাউসিয়া উল্লেখযোগ্য।[৭]

মৃত্যু

আবদুল কাদের জিলানীর সমাধি

হিজরী ৫৬১ সালের ১১ রবিউসসানী আব্দুল কাদের পরলোক গমন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তার ওফাত দিবস সারা বিশ্বের সূফীরা প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকেন এবং তার মৃত্যুবার্ষিকী ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহাম হিসেবে পরিচিত। প্রতি আরবি মাসের ১০ তারিখ দিবাগত রাত গেয়ারভী শরীফ পালন হয়।[৭]

জন্মদিন এবং মৃত্যুবার্ষিকী উদ্‌যাপন

রমজান আবদুল কাদের জিলানীর জন্মদিন হিসাবে উদযাপিত হয় এবং তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী ১১ রবিউস সানিতে পালিত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে, তাঁর ওরশ বা মৃত্যুবার্ষিকীকে গেয়ারভী শরীফ বা সম্মানিত দিবস বলা হয়।[৮]

শায়খ আবদুল কাদের জিলানীর মাজার গম্বুজ, বাগদাদ, ইরাক

টীকা

তথ্যসূত্র

  1. জন রেনার্দ, দ্য এ টু জেড অফ সুফজম। পৃষ্ঠা ১৪২। আইএসবিএন ০৮১০৮৬৩৪৩X
  2. জুয়ান এডুয়ার্ডো ক্যাম্পো, এনসাইক্লোপিডিয়া অফ ইসলাম, পৃ. ২৮৮। আইএসবিএন ১৪৩৮১২৬৯৬৪
  3. আব্দুল-কাদির আল-জিলানি (২০ জানুয়ারি ২০১৯)। জামাল আল-দিন ফালেহ আল-কিলানি, সম্পাদক। "ফুতুহ আল-গাইব ("অদৃশ্যের প্রকাশ")"গুগল বই (আরবি ভাষায়)। وقد تأثر به القائد صلاح الدين الأيوبي، والشيخ معين الدين الجشتي، والشيخ شهاب الدين عمر السهروردي رحمهم الله 
  4. তাজকরে খানওয়াদে হজরত ঈশান, মুহাম্মদ ইয়াসিন কাসওয়ারি, কুপেরাতিস লাহোরিন, এডারে তালিমত নকশবান্দিয়া রচিত, পৃষ্ঠা ২৮১
  5. Burton, Isabel (১৮৯৮)। The Life of Captain Sir Richard Burton Volume 1। Charles Scribner's Sons। পৃষ্ঠা ১২১। আইএসবিএন 9783752405637 
  6. Reese, Scott S. (২০০১)। "The Best of Guides: Sufi Poetry and Alternate Discourses of Reform in Early Twentieth-Century Somalia"জার্নাল অফ আফ্রিকান কালচারাল স্টাডিজ১৪ (1 Islamic Religious Poetry in Africa): ৪৯–৬৮। এসটুসিআইডি 162001423জেস্টোর 3181395ডিওআই:10.1080/136968101750333969 
  7. বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ], মোঃ নুরুজ্জামান শাহরিয়ার, দৈনিক ইনকিলাব। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ২৩ ফেব্রেুয়ারি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ।
  8. "Ghousia" 

বহিঃসংযোগ