মশীহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শমূয়েল কর্তৃক দায়ূদের উদ্বর্তন, দুরা ইউরোপোস, সিরিয়া, খ্রিষ্টীয় ৩য় শতাব্দী

মশীহ বা মসীহ (হিব্রু ভাষায়: מָשִׁיחַmāšîaḥ; গ্রিক: μεσσίας messías, আরবি: مسيح‎, প্রতিবর্ণী. masîḥ‎) হলেন ইব্রাহিমীয় ধর্ম অনুসারে একটি জনগোষ্ঠীর ত্রাণকর্তা বা রক্ষাকারী।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

ইব্রাহিমীয় ধর্মসমুহে[সম্পাদনা]

ইহুদি ধর্মে[সম্পাদনা]

ইহুদি ধর্ম অনুযায়ী তিনিই মসিহ হিসেবে গন্য হবেন যিনি পবিত্র ভূমিগুলো পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। যিনি সমগ্র বিশ্বের নেতৃত্ব লাভ করবেন। তাদের মতে যিশু তথা ইসা (আ) ছিলেন একজন ভন্ড মসিহ (নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক)। কারন তিনি মসিহ হবার শর্তগুলো পূরণ করতে পারেননি। তারা বিশ্বাস করে যে তিনি ছিলেন [[খ্রিস্টারী]] অর্থাৎ দাজ্জাল এবং তাকে তারা [[ক্রুশবিদ্ধ ]] করে হত্যা করেছে (নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক)।

খ্রিস্ট ধর্মে[সম্পাদনা]

খ্রিষ্টধর্ম মতে মসিহ হচ্ছেন যিশুখ্রিস্ট তথা হযরত ইসা (আ)। তাদের বিশ্বাসমতে তিনি ছিলেন পিতারূপী ইশ্বরের পুত্র যাকে তারা পুত্ররূপী ইশ্বর বলে। তাদের বিশ্বাস মতে তিনি ট্রিনিটির দ্বিতীয় স্বত্বা। যদিও সমগ্র বাইবেলে এমন কোনো কথা বলা হয়নি। এছাড়াও তিনি সমগ্র মানবজাতির পাপের বোঝা নিয়ে তিনি ক্রুশে প্রাণ দিয়েছেন। কেউ যদি এই কথা মেনে নেন তবে তিনি সকল পাপ থেকে দায়মুক্ত হয়ে যাবেন বলেই তাদের বিশ্বাস। সর্বপ্রথম এই মতবাদ প্রবর্তন করেন সেন্ট পল। এছাড়াও কিছু খ্রিস্টান বিশ্বাস করেন তিনি ইশ্বরের পুত্র নন বরং একজন দূত বা নবি। তবে তিনি যে মসিহ এ ব্যাপারে সমস্ত খ্রিস্টান মণ্ডলী একমত।

খ্রিস্টধর্মমতে, যিশু কুমারী মেরির গর্ভে জন্মগ্রহন করেন। তিনি শেষ সময়ে পৃথিবীতে পুনরায় আগমন করে খ্রিস্টারীকে হত্যা করবেন। এরপর পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।

ইসলাম ধর্মে[সম্পাদনা]

ইসলাম ধর্ম যিশু বা হযরত ইসা (আ) হচ্ছেন মসিহ। যদিও ইসলামে তার মসিহ হবার কোনো কারন বলা হয়নি। তবে ধারনা করা হয় তিনি পুনরায় পৃথিবীতে এসে দাজ্জালকে হত্যা করে এমন কিছু করবেন যার ফলে তার মসিহ উপাধিটি তার জন্য সার্থক হবে।

মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে ইহুদীরা যাকে মসিহ মনে করে সে মূলত খ্রিস্টারী বা দাজ্জাল। এই দাজ্জাল ইমাম জাহজাহর শাসনামলে আবির্ভূত হবে। সে সমগ্র বিশ্বে তাণ্ডব সৃষ্টি করবে। সে নিজেকে মসিহ দাবি করবে। যদিও মূলত সে শয়তানের একজন বিশ্বস্ত অনুচর। সে পৃথিবীতে শয়তানের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করবার জন্যই আগমন করবে।

দাজ্জাল ৪০ দিন পৃথিবীতে অবস্থান করবে। যার প্রথম দিনটি হবে এক বছরের সমান। দ্বিতীয় দিনটি হবে এক মাসের সমান। তৃতীয় দিনটি হবে এক সপ্তাহের সমান। এবং বাকি দিনগুলি হবে স্বাভাবিক দিনগুলির মতোই। সে নানান অলৌকিক নিদর্শন দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে।

এমন সময় এক বিকেলে ইমাম জাহজাহ দামেস্কের একটি মসজিদে মুসলিমদেরকে নিয়ে আসরের সালাত আদায়ের প্রস্তুতি নেবেন। এমন সময় হযরত ইসা (আ) দুই ফেরেশতার কাধে ভর দিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন। তখন ইমাম জাহজাহ তাকে বলবেন, ইয়া রসুলুল্লাহ, আপনি ইমামতি করুন। জবাবে তিনি বলবেন, এ দায়িত্ব তোমাকেই দেয়া হয়েছে। সালাত শেষে খ্রিষ্টানরা তার সামনে প্রভু প্রভু বলে সিজদায় পড়ে যাবে। তখন ইসা (আ) বলবেন, আমিতো আল্লাহর রসুল মাত্র। নিশ্চয়ই তোমরা সীমালঙ্ঘন করেছ। এরপর তিনি সব খুলে বলবেন। ফলে সকল খ্রিষ্টান ইসলাম গ্রহণ করবে।

তারপর তিনি মুসলিমদের নিয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন এবং পরিশেষে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এরপর বিশ্বের সকল মানুষ ইসলাম গ্রহণ করবে।

আগেই বলা হয়েছে যে ইসলামে ইসা (আ) কে মসিহ বলার কোনো কারনের কথা বলা হয়নি।তবে তার আগমনের পর পৃথিবীতে শুধু শান্তি বিরাজ করবে। শিশুরা বাঘের পিঠে চড়বে অথচ বাঘ তার কোনো ক্ষতি করবে না। সম্পদের প্রাচুর্য দেখা দেবে। সম্ভবত এ কারণেই তাকে মসিহ বলা হয়েছে।

এর কিছুকাল পরেই ইয়াজুজ মাজুজের আগমন ঘটবে। তখন তিনি মুসলিমদের নিয়ে তুর পর্বতে আশ্রয় নেবেন। অতঃপর আল্লাহ একপ্রকার পতঙ্গ পাঠাবেন যার ফলে ইয়াজুজ মাজুজ ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর পুনরায় বিশ্বে শান্তি ফিরে আসবে।

ইসা (আ) পৃথিবীতে আগমন করে ৩৩ মতান্তরে ৪০ বছর রাজত্ব করবেন। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করে বিয়ে করবেন এবং সংসার করবেন। অত:পর তিনি ইন্তেকাল করবেন।

মোটামুটি এটিই হচ্ছে ইসলামে মসিহ সম্পর্কে ধারণা।

এছাড়াও ইসলাম বিশ্বাস করে ইমাম মাহদির আগমনকে। তিনি যদিও মসিহ হবেন না কিন্তু তিনি ইসলামে অতি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

ইসলাম ধর্মমতে ইসা (আ) কুমারী মরিয়মের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। এই মতানুসারে পবিত্র আত্মা তথা জিবরাইল (আ) এসে তার গর্ভে রুহ ফুঁকে দেন। যার প্রভাবে মরিয়ম গর্ভবতী হন।

ইসলাম আরো বিশ্বাস করে যে তিনি পৃথিবীতে অবস্থানকালে অনেক অলৌকিক কাজ করেছেন। যেমন তিনি আল্লাহর আদেশে মৃতকে জীবিত করতেন। মাটি দিয়ে পাখির পুতুল বানিয়ে তাতে প্রাণ সঞ্চার করতেন। কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করতেন। অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দান করতেন। এছাড়াও তিনি সি অফ গ্যালিলি বা তাবারিয়া হ্রদের উপর দিয়ে হেঁটেছিলেন।

বাহাই ধর্মে[সম্পাদনা]

রাস্তাফারিবাদে[সম্পাদনা]

অন্যান্য ধর্মে[সম্পাদনা]

মসিহ হবার দাবীকারীগণ[সম্পাদনা]

প্রাচীন কাল[সম্পাদনা]

  • জুডাস, হেজেকিয়াস এর পুত্র। (খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ সাল ৪)
  • পেরিয়া অঞ্চলের সিমন। (খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ সাল ৪)
  • মেষপালক অ্যাথ্রংগেস। (খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ সাল ৪ )
  • জুডাস, দ্য গ্যালিলিয়ান। (খ্রিষ্টাব্দ ৬ )
  • নাজারেথ এর যিশু (যিশু খ্রিষ্ট)। (খ্রিষ্টাব্দ ৩০ )
  • জনৈক সামারিটান নবী।( খ্রিষ্টাব্দ ৩৬ )
  • রাজা হেরড আগ্রিপ্পা।( খ্রিষ্টাব্দ ৪৪ )
  • থেউডাস। (খ্রিষ্টাব্দ ৪৫)
  • সিমন বার গিওরা। (খ্রিষ্টাব্দ ৬৯-৭০)
  • সিমন বেন কসিবা। (খ্রিষ্টাব্দ ১৩২-১৩৫)
  • ক্রীট এর মোসেস। (খ্রিষ্টাব্দ ৪৪৮)

মধ্য যুগ[সম্পাদনা]

  • আবু ইসা' আল ইস্ফাহানী। (খ্রিষ্টাব্দ ৭০০)
  • মোসেস আল-দার'ঈ। (খ্রিষ্টাব্দ ১১২৭ )
  • ড্যাভিড অ্যাল্‌রয়।( খ্রিষ্টাব্দ ১১৪৭)
  • জনৈক ইয়েমেন বাসী ।( খ্রিষ্টাব্দ ১১৭২ )
  • আব্‌রাহাম বেন সামুয়েল আবু' লাফিয়া (খ্রিষ্টাব্দ ১২৩০-১২৯১ )

পরবর্তী দাবীদ্বারগণ[সম্পাদনা]

  • আশার লামলিন । (খ্রিষ্টাব্দ ১৫০০)
  • আইজ্যাক লুরিয়া। (খ্রিষ্টাব্দ ১৫৩৪-১৫৭৩)
  • হায়ীম ভিতাল (১৫৪২)
  • সাব্বাথাই জুই' ই ( খ্রিষ্টাব্দ ১৬২৬-১৬৭৬)
  • ইয়াকপ ফ্র্যঙ্ক ( খ্রিষ্টাব্দ ১৭২৬-১৭৮৬)
  • মোসেস গুইব্বরি (খ্রিষ্টাব্দ ১৮৯৯-১৯৮৫)
  • মেনাশেম মেন্ডেল শ্নিয়ার্সন (১৯০২-১৯৯৪)

মুসলিম মসিহ হবার দাবীদ্বারগণ[সম্পাদনা]

এরা মূলত নিজদের মাহদি হিসেবে দাবী করে। ইসলামিক ধর্মীয় বিশ্বাসে মাহদি এর কথা উল্লেখ আছে।