শহীদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

'শহীদ' (আরবি: شهيد‎‎ šahīd, বহুবচনে: شُهَدَاء শুহাদাʾ ; স্ত্রীবাচক: শাহীদা) শব্দটি হলো পবিত্র কুরআনের তথা আরবি শব্দ। যার অর্থ হলো সাক্ষী। এছাড়াও এর অন্য অর্থ হলো আত্ম-উৎসর্গ করা।

শহীদ শব্দটির আরবি অর্থ সাক্ষী হলেও গ্রিক শব্দ martyrs (গ্রিক: μάρτυς – "সাক্ষী", নতুন টেস্টমেন্ট এ "martyr") এর কাছাকাছি। নিউ টোস্টামেন্ট বা বাইবেল এ একই কথা উল্লেখ্য আছে। শহীদ কুরআনের শব্দগত মূল অর্থ সাক্ষী হলেও হাদীসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী বিশ্বাসের জন্য আত্ম-উৎসর্গকে বুঝানো হয়েছে।

ইসলামিক বিশ্বাসের সাক্ষ্যদানে যে সচেতনভাবে গ্রহণযোগ্য মৃতু কামনা করে এবং আত্ম-উৎসর্গ করে তার উপাধি স্বরুপ শহীদ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। বিংশ শতাব্দির martyrs এর মত 'শহীদ' শব্দটি ধর্মীয় ও অ-ধর্মীয় উভয়েই সধারণভাবে ব্যবহার করছে। অ-ধর্মীয় আদর্শগত কেউ মৃতুবরণ করলেও তাকে শহীদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তবে মুসলিম বিশ্ব শহীদের কোন নির্দিষ্ট ও স্থায়ী সংজ্ঞা দেননি।

কুরআনের রেফারেন্স[সম্পাদনা]

পবিত্র কুরআনুল কারিমের নিম্নোক্ত আয়াতে শহীদের অবস্থান জান্নাত বলে আল্লাহ্‌ উল্লেখ করেছেন-


পবিত্র কুরআনুল কারিমে মুসলিম শহীদের জন্য জান্নাতের অঙ্গীকার করা হয়েছেঃ

হাদিস[সম্পাদনা]

নিম্নের হাদিসগুলির মাধ্যমে শহীদদের গুরত্ব স্পষ্ট হয়-

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, যদি কেউ একনিষ্টভাবে শহীদ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, অবশ্যই এর প্রতিদান পাবে; যদিও তা সে অর্জন করতে পারবে না।

— সংগ্রহে মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ, "সহিহ মুসলিম"[১]

এ হাদিস দিয়ে শুধু শহীদগণ স্বর্গে বা জান্নাতে অবস্থান করবেন এটা বুঝানো মূখ্য নয়, বরং শহীদ হওয়ার উদ্দেশ্য বুঝানো হয়েছে। তাসত্ত্বেও, হাদিসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী শহীদেরকে সম্মানের চূড়ায় রাখা হয় এবং তাদের প্রতিদান স্বরুপ জান্নাত দেয়া হবে বলে ইসলামে প্রচলিত রয়েছে।

ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) শহীদ সম্পর্কে বলেছেন-

যার হাতে আমার জীবন সেই সত্ত্বার শপথ, আমি আল্লাহ্‌র পথে শহীদ হতে চাই, যদি আমাকে পুনরুত্থাপিত করা হয়, আমি শহীদ হবো, পুনরায় জীবিত করা হলে আবার শহীদ হবো, তারপর পুনরুত্থাপিত হবো এবং শহীদ হবো

— সংগ্রহে মুহাম্মাদ আল-বুখারি, বুখারী শরীফ[২]

রাসুলুল্লাহ হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন- একমাত্র মুজাহিদ ব্যতিত কোন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশের পর পৃথিবীর সবকিছু বিনিময়ে পৃথিবীতে ফিরে আসতে চায় না; মুজাহিদরা বার বার পৃথিবীতে ফিরে আসতে চায় এবং আরো দশবার শহীদ হতে চায়; কারণ তারা জান্নাতে (আল্লাহ্‌র নিকট থেকে) সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হয়।

— সংগ্রহে মুহাম্মাদ আল-বুখারিবুখারী শরীফ[৩]

আরো অনেকগুলো হাদিস শহীদের জান্নাতি জীবন সম্পর্কে সুন্দরভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শহীদগণ জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফেরদৌসে অবস্থান করে বলে মনে করা হয়।

বদরের যুদ্ধে হারিছা নামে এক বালক সাহাবি শহীন হন, তার মা রাসুলুল্লাহ হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কাছে আসেন এবং বলেন, "হে আল্লাহ্‌র রাসুল আপনি জানেন আমার পুত্র হারিছা আমার নিকট কত প্রিয়! সে যদি জান্নাতে যায় তাহলে আমি ধৈর্য্য ধারণ করবো এবং আল্লাহ্‌র কাছে প্রতিদান আশা করবো, আর যদি তা না হয় তাহলে আপনি দেখতে পাবেন আমি কি করবো?" তিনি(রাসুলুল্লাহ সা.) বলেন- "আল্লাহ্‌ আপনাকে ক্ষমা এবং করুণা দান করুন, আপনি কি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন? আপনি কি মনে করেন যে, একটিমাত্র জান্নাত রয়েছে! না অনেক জান্নাত আল্লাহ্‌ মুমিনদের জন্য বানিয়েছেন, আপনার পুত্র সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ জান্নাতুল ফেরদৌসে রয়েছে।"'

এছাড়াও সামুরা বর্ণনা করেছেন-

রাসুলুল্লাহ হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন- "গতরাতে(স্বপ্নে) দুজন ব্যক্তি আমার কাছে এসেছিলো, তারা প্রথমে আমকে একটি গাছের চূড়ায় উটিয়ে নেয়, এরপর আমাকে তা থেকেও উচুতে উঠায় ও সর্বোৎকৃষ্ট ঘরে প্রবেশ করায়। এরকম ঘর আমি কখনো দেখিনি।"। তাদের মধ্যে একজন বলে 'এটা হচ্ছে শহীদেদের ঘর। 'সংগ্রহে 'মুহাম্মাদ আল-বুখারিবুখারী শরীফ[৫]

হাদিস অনুযায়ী প্রধানত পাঁচ ধরণের মৃতুকে শহীদ বলে গণ্য করা হয়ঃ-

আল্লাহ্‌র রাসুল(সাঃ) বলেছেন- পাঁচ ধরণের মৃতুকে শহীদ হিসেবে পরিগণিত হয়, যারা প্লেগ রোগে, পেটের অসুখে, ডুবে যাওয়া, বিল্ডিং ধসে পড়ে ইত্যাদি কারণে মৃত্যুবরণ করলে এবং আল্লাহ্‌র পথে যুদ্ধে যে শহীদ হয়। '

— সংগ্রহে মুহাম্মাদ আল-বুখারিবুখারী শরীফ'[৬]

যে ব্যক্তি নিজের সম্পত্তি রক্ষার্থে লড়াই করে মারা যায় সেও শহীদঃ- আমি রাসুলুল্লাহ(সাঃ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি তার সম্পদ রক্ষার জন্য মারা যায় সেও শহীদ হিসেবে গণ্য হয়।

— সংগ্রহে মুহাম্মাদ আল-বুখারিবুখারী শরীফ'[৭]

পবিত্র কুর'আন মাজিদে শহীদের মৃত্যু ও তারপর সমাধিস্থের ক্রিয়া-কর্ম সম্পর্কে কিছু স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তবে হাদিসে এ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। যেমন শুধুমাত্র শহীদেরকে বিনা গোসলে এবং জানাযার নামাজ না পড়িয়ে দাফন সম্পন্ন করা যায়। তাদের রক্তাত্ত জামাসহ বা যে অবস্থায় মৃত্যু হয় সে অবস্থায় কবরে সমাধিস্থ করা হয়। এসম্পর্কে কয়েকটি হাদিস আছে তন্মধ্যে একটি হলো-

উহুদের যুদ্ধে দুজন করে শহীদ ব্যক্তিকে একই কবর এবং একটুরো কাপড়ে জড়িয়ে রাখা হয়েছিলো, রাসুলুল্লাহ(সাঃ) কবরে রাখার সময় সাহাদিদের জিজ্ঞাসা করেছিলেনঃ "দুজনের মধ্যে কে কুরআন শরীফ বেশী জানে?" সাহাবিদের একজন ইশারা করছিলো; তখন তিনি বললেন, "তাকে আগে কবরে রাখ" এবং বলতেন "কিয়ামতের দিন আমি এদের সাক্ষ্য হবো" তিনি আরো নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, " শহীদের রত্তাত্ত কাপড়সহ কবরে দাফন কর।" তাদেরকে গোসল দেয়ার জন্য কিছু বলেননি এমনকি জানাযার নামাজ পড়াননি।

— সংগ্রহে মুহাম্মাদ আল-বুখারি, বুখারী শরীফ[৮]

যুদ্ধে মৃত্যুবরণ[সম্পাদনা]

আধুনিক যুগ পূর্ববর্তী ব্যবহার[সম্পাদনা]

অষ্টাদশ শতাব্দিতে মুসলিম বিশ্বে মাতৃভুমিকে স্বাধীন করার জন্য ঔপনিবাসিক শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো। এসব যুদ্ধে যারা মৃত্যুবরণ করেছিলো। তাদের অধিকাংশকেই শহীদ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

বিংশ শতাব্দিতে ধারণা[সম্পাদনা]

১৯৬৫ সালে ম্যালকম এক্সকে হত্যা অন্যায়ভাবে করা হয় [কার মতে?]। তাকে শতাব্দির শ্রেষ্ট শহীদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিলো।

ইসলামী প্রজাতন্ত্রী ইরানের ইসলামিক বিপ্লব (১৯৭৮/১৯৭৯) এবং ইরাক–ইরান যুদ্ধের (১৯৮০-১৯৮৮) সময়ে শহীদের গুরত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সৈন্যদের সম্মুখে বার বার তুলে ধরা হতো। ফলে বিপ্লবে ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যপক প্রভাব পড়ে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিলো। ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের সময় অনেক সৈন্য, ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ জনগণ যুদ্ধে নিহিত হয়। তাদের প্রত্যেককে বিশেষ কবর স্থানে দাফন করে এবং তারা দেশের পক্ষ থেকে শহীদ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান পায়। ১৯৮০-৮৮ সাল পর্যন্ত ইরানের শিয়া ও ইরাকের সুন্নি মুসলিমদের যুদ্ধে সেনা কমান্ডাররা শাহাদাতের স্বাদ সর্বোচ্চ সম্মানের ও তাদের জন্য আল্লাহ্‌র নিকট জান্নাতুল ফেরদৌস প্রাপ্তি হবে। ইত্যাদিভাবে সৈন্যদের উৎসাহ ও প্রেরণা প্রদান করা হতো। ঐ সময়ে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খমেনি শহীদ হওয়ার জন্য জনগণের ভিতরে ব্যাপক উৎসাহ প্রাদান করতে থাকে। ফলে প্রায় ১০হাজার তরুণ যোদ্ধা ও অনেক সাধারণ জনগণ ও শিশুরা ইরাকের অগ্রাসনকে পবিত্র প্রতিরোধ হিসেবে মানব ঢাল তৈরী করে। সেনা বাহিনীকে সেচ্ছাসেবক দল হিসেবে অস্ত্র বহণে সাহায্য করে। মাঝে-মধ্যে ইরাকি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানব স্রোত ব্যবহৃত হয়। যারা এ যুদ্ধে নিহিত হয় তারা প্রত্যেকে শহীদ হিসেবে গণ্য হয়।

বসনিয়ার যুদ্ধের সময় শহীদ শব্দটি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায়র সেনাবাহিনীর মুসলিম সৈন্যদের মাঝে উৎসাহ ও প্রেরণা যোগাতে ব্যবহার হয়েছিলো।

একবিংশ শতাব্দিতে জিহাদবাদ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Jihadism sidebar

সম্প্রতি জিহাদ ও শহীদ শব্দটির মূল অর্থকে ভিন্নদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শহীদ হওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ(সাঃ) যে শিক্ষা দিয়েছেন তা থেকে আমরা দিন দিন দূরে সরে গিয়েছি। মুসলমান নামধারী কিছু উগ্র ব্যক্তি ইসলামকে কুলসিত করছে। তারা আত্মঘাতি বোমা হামলা করে এবং তা ভিডিও করছে। যা ইসলামে পরিপূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হয়েছ। আত্মহত্যাকারীদের ইসলাম পচন্দ করে না। উহুদের যুদ্ধে এক সাহাবি খুবেই আহত হয়। তার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। সে সহ্য করতে না পেরে নিজের খঞ্জর বুকে ঢুকে দেয়। এবং মারা যায়। ফলে প্রাণপণ যুদ্ধ করা সত্বেও তাকে শহীদ বলা হয়নি। বরং তাকে আত্মহত্যাকারী বলা হয়েছিলো এবং রাসুলুল্লাহ(সাঃ) সেই সাহাবিকে জাহান্নামি বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুতরাং ইসলামে জিহাদের নামে আত্মহত্যা বা আত্মঘাতি হামলার কোন স্থান নেই। বর্তমানে তাদেরকেও শহীদ বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে মুসলমান ও ইহুদীদের দ্বন্দ্বে কিছু অতি উৎসাহী লোক আত্মঘাতি বোমা হামলা করেছে তাদেরকেও শহীদ বলা হচ্ছে। তবে ইহুদীদের অন্যায় আক্রমনে ফিলিস্তিনি মুসলমান নিহিত হলে তারা শহীদ হিসেবে গণ্য হবে। বলে মনে করা হয়। ১৮ই জানুয়ারি ২০০০সালে ১৯ শহীদ শিরোনামে এক ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে নয় এগারো বা ১১ই সেপ্টেম্বর প্লেন ছিনতাই কারিদেরকে শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এসব ভিডিও কোন ইসলামি ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন কারো ছিলো না। বরং উগ্র মানুসিকতার কিছু লোকের ভিডিও। যার কোন আদৌ ভিত্তি নেই। এসব ভিডিওকে তত্ত্বসূত্র ধরে পুরো মুসলিম জাতিকে সন্ত্রাসী ও বোমাবাজ বানানো হয়েছে। ইসলামে সন্ত্রাসী ও মানব জাতি ধংসকারীদের পচন্দ করে না। বরং উত্তম চরিত্র ভালবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হয়। তা সুন্দরভাবে শিক্ষা দেয়। এমনকি আল্লাহ্‌ তার রাসুলকেও জোর করে ইসলামে আনতে নিষেধ করেছেন। আর ইসলাম কবুল করার বিষয়াদি একমাত্র আল্লাহ্‌র হাতে রয়েছে। তিনি যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আফগানিস্থানের তালিবানরা আলকায়েদা নেতা ওসামা-বিন-লাদেনকে প্রথম সারির শহীদ বলে মনে প্রানে বিশ্বাস করে।

ইসলামের কিছু উগ্রবাদি মুসলমান অবিশ্বাসী পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, যুদ্ধ, আত্মঘাতি হামলা পরিচালনা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে বৈধতা দেয়ার জন্য মূলত শহীদ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আইএসআইএল এর বর্ণনা অনুযায়ী, যারা নিয়মিতভাবে অবিশ্বাসী পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, যুদ্ধ ও আত্মঘাতি হামলায় অংশগ্রহণ করবে এবং শত্রুর বিমান হামলায় নিহিত হবে তারা সকলেই শহীদ। বলে উল্লেখ করেছে। ফলস্বরুপ পশ্চিমা গণমাধ্যম গুলো শহীদ শব্দকে ভিত্তি ধরে নতুন নতুন শিরোনাম করছে। সন্ত্রাসীদের প্রতি ইসলামি শ্রদ্ধা নিবেদন শিরোনামে আমেরিকান গণমাধ্যম একসাথে লিখে যাচ্ছে। নারিনা রুস্তজমি জরিপ ও গবেষণা করেছেন। তিনি দ্বাবি করেছেন, আমেরিকান গণমাধ্যম ইসলামিক দুটি শব্দ তথা শহীদ এবং হুরি নিয়ে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। ফলে ইসলামকে সন্ত্রাসীর ধর্ম, অশ্লীলতায় পূর্ণ ও অযৌক্তিক ধর্ম বলে সকলের কাছে পরিচিত করা হচ্ছে। যাতে আমেরিকানরা ইসলাম ধর্ম থেকে দূরে থাকে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় সম্প্রতি আমেরিকায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের হার দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।

অন্যান্য ব্যবহার[সম্পাদনা]

একজন মুসলিম নর বা নারী তার সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেলে তাকে শহীদ বলা হয়। পাকিস্তানে যে আল্লাহ্‌র পথে তথা ইসলাম রক্ষার্থে অথবা পাকিস্তানের ভূখন্ড রক্ষার্থে মৃত্যুবরণ করে তাদেরকে শহীদ বলা হয়। সময়ের পরিক্রমায় অমুসলিম তথা আরবীয় খৃস্টানরা শহীদ শব্দটি তাদের নিজেদের মৃত্যু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে। এছাড়াও দক্ষিণ এসিয়ার হিন্দুধর্মের(সনাতন ধর্ম) লোকেরা শহীদ শব্দটিকে সংস্কৃততে পরিবর্তন করে "হুতাত্মা" করেছে। (ইংরেজিতে "hutātmā" हुतात्मा হলো দেবনাগরী লিপি এবং हुत् (হিন্দি), ইংরেজিতে hut=sacrificing এবং হুত্ এর অর্থ হলো আত্মত্যাগ, आत्मा, ইংরেজিতে ātmā এর অর্থ আত্মা, পূর্ণ অর্থ হলো আত্মত্যাগ করে যে আত্মা বা যাকে শহীদ বলা হয়)। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী এই হুতাত্মাকে শহীদ বলে গণ্য করা হয়। এমনকি শিখ ধর্মাবলম্বাবিরাও শহীদ শুব্দটি গ্রহণ করেছে। যেমন তাদের গুরত্বপূর্ণ নেতা শহীদ হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে শহীদ মতি দাস এবং শহীদ ভগৎ সিং অন্যতম। তাদেরকে শহীদ বলে গণ্য করা হয়।

নারী শহীদা[সম্পাদনা]

একজন মহিলা ইসলামি রীতি অনুযায়ী শহীদ হলে তাকে শাহীদা বলা হয়।(شَهِيدَة [শাহীদা] error: {{transl}}: unrecognized language / script code: আরবি (সাহায্য))। আবার কেউ যদি সন্তান প্রসবের সময় মৃতুয়বরণ করে তাকেও শহীদা বলা হয়ে থাকে। [৯] । ইসলামের সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের মধ্যে নুসাইবা বিনতে কা'ব ছিলো অন্যতম। তবে সুমাইয়া বিনতে কাইয়াত হলো ইসলামের প্রথম শাহীদা। তিনি ইসলাম গ্রহণ করার কারণে শাহীদা করা হয়েছিলো। মক্কার মুসলিম বিদ্বেষী কুরাইশ বংশের ও কাফিরদের নেতা আবু জেহেল তার তলপেটে ছুরি ঢুকিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো। [১০] আধুনিক মুসলিম সাহিত্যে তার নাম ও জিবনী উল্লেখ্য নেই। তবে রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর সময়কার অনেক সাহিত্যে তার নাম ও সংক্ষিপ্ত জীবনী পাওয়া যায়।[১১]

শিখধর্মে শহীদ[সম্পাদনা]

শিখ

তত্ত্বসূত্র ও পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. সহীহ মুসলিম, ০২০:৪৬৯৪ (ইংরেজি)
  2. সহীহ বুখারী, ৪:৫২:৫৪ (ইংরেজি)
  3. সহীহ বুখারী, ৪:৫২:৭২ (ইংরেজি)
  4. সহীহ বুখারী, ৫:৫৯:৩১৮ (ইংরেজি)
  5. সহীহ বুখারী, ৪:৫২:৪৯ (ইংরেজি)
  6. সহীহ বুখারী, ৪:৫২:৮২ (ইংরেজি)
  7. সহীহ বুখারী, ৩:৪৩:৬৬০ (ইংরেজি)
  8. সহীহ বুখারী, ২:২৩:৪২৭ (ইংরেজি)
  9. Lumbard, Joseph E.B. (2004) Islam, Fundamentalism, and the Betrayal of Tradition. World Wisdom Publishing, আইএসবিএন ০৯৪১৫৩২৬০৭ (30)
  10. Cook, David (2007). Martyrdom in Islam. Cambridge University Press. আইএসবিএন ০৫২১৬১৫৫১৮.
  11. Cook, David (2007). Martyrdom in Islam. Cambridge University Press. আইএসবিএন ০৫২১৬১৫৫১৮. p. 14.

অতিরিক্ত সংযোগ[সম্পাদনা]

  • উইকিউক্তিতে Martyrdom in Islam সম্পর্কিত উক্তি পড়ুন