বিষয়বস্তুতে চলুন

প্রথম ইয়াজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্রথম ইয়াজিদ
উমাইয়া খিলাফতের খলিফা
উমাইয়া রাজবংশের ২য় খলিফা
দামেস্কের উমাইয়া খলিফা
বসরা টাকশালে প্রথম ইয়াজিদের আরব-সাসানীয় দিরহাম, ৬১ হিজরি (৬৮০/১ খ্রিস্টাব্দ) তারিখে, যে বছর কারবালার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। বিপরীত দিকে সাসানীয় শাহ খসরু দ্বিতীয় (রা. ৫৯০-৬২৮) এর প্রতিকৃতি এবং পাহলভি লিপিতে তার নাম দেখানো হয়েছে
রাজত্ব৬৮০–৬৮৩
পূর্বসূরিপ্রথম মুয়াবিয়া
উত্তরসূরিদ্বিতীয় মুয়াবিয়া
জন্ম২০ জুলাই ৬৪৭ (১১ শাওয়াল ২৬ হিজরি)[১]
মৃত্যু১৪ সেপ্টেম্বর ৬৮৩ (১৫ রবিউল আউয়াল ৬৪ হিজরি)[১]
বংশধরদ্বিতীয় মুয়াবিয়া
খালিদ
আতিকা বিনতে ইয়াজিদ
পূর্ণ নাম
ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান
রাজবংশরাজবংশ
পিতাপ্রথম মুয়াবিয়া
মাতামায়সুন বিনতে বাজদাল আল কুলাবি আল নাসরানিয়া[১]

ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান আরবি: يزيد بن معاوية بن أبي سفيان (২০ জুলাই ৬৪৭ – ১৪ নভেম্বর ৬৮৩) সাধারণভাবে প্রথম ইয়াজিদ বলে পরিচিত, উমাইয়া খিলাফতের দ্বিতীয় খলিফা। উত্তরাধিকার সূত্রে খিলাফত লাভকারীদের মধ্যে সেই সর্বপ্রথম খলিফা হয়। তার পিতার প্রথম মুয়াবিয়া রাঃ 'আনহু এর মৃত্যুর পর ৬৮০ সনের এপ্রি মাসে, ইসলামের প্রচলিত খেলাফতের নিয়ম ভঙ্গণ করে মসনদে আরোহন করে। এই প্রথম ইয়াজিদ ৬৮০ থেকে ৬৮৩ সাল পর্যন্ত তিন বছর শাসন করে। ৬৭৬ খ্রিস্টাব্দে (৫৬ হিজরি) মুয়াবিয়া কর্তৃক ইয়াজিকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করার বিরোধিতা করেন হেজাজ অঞ্চলের বেশ কয়েকজন মুসলিম নেতৃবৃন্দ, যার মধ্যে ছিলেন হুসাইন ইবনে আলী রাঃ 'আনহুমা এবং আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের রাঃ'আনহু। ক্ষমতালাভের পর ইয়াজিদকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং মক্কায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যখন হুসাইন ইবনে আলী রাঃ 'আনহুমা ইরাকের কুফায় যান, তখন ফোরাত নদীর তীরে কারবালার ময়দানে যুদ্ধে ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে হুসাইন রাঃ 'আনহু ও তার পরিবারের সদস্যরা শহীদ হন।

ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়ার শাসনকাল (৬৮০–৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দ)

[সম্পাদনা]

উমাইয়া বংশিয় প্রথম খলিফা মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের (রাঃ 'আনহুমা) মৃত্যুর পর ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর পুত্র ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া ইসলামের প্রচলিত খেলাফতের নিয়ম ভঙ্গণ করে সিংহাসনে আরোহণ করে। তাঁর তিন বছরের সংক্ষিপ্ত শাসনকাল ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত এবং ঘটনাবহুল সময় হিসেবে পরিচিত। ইয়াজিদের শাসনকাল মূলত তিনটি প্রধান ঘটনার জন্য ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে:

১. কারবালার যুদ্ধ (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ)

ইয়াজিদের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই কুফাবাসীদের আমন্ত্রণে, আল্লহর নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাঃ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দৌহিত্র হযরত হোসাইন ইবনে আলী রাঃ 'আনহুমা মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্য (বায়াত) গ্রহণে অস্বীকার করায় ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের বাহিনী হযরত হোসাইন ইবনে আলী রাঃ 'আনহুমা এর কাফেলাকে অবরোধ করে। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই অক্টোবর (১০ মহরম) এক অসম যুদ্ধে হোসাইন (রাঃ) ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ৭২ জন শাহাদাত বরণ করেন। এই ঘটনাটি মুসলিম বিশ্বে ইয়াজিদের শাসনকে তীব্রভাবে সমালোচিত ও অজনপ্রিয় করে তোলে।

২. হাররার যুদ্ধ ও মদিনা আক্রমণ (৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দ)

কারবালার শোকাবহ ঘটনার পর মদিনাবাসী ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বিদ্রোহ দমনে ইয়াজিদ মুসলিম বিন উকবার নেতৃত্বে এক বিশাল সেনাবাহিনী মদিনায় পাঠায়। মদিনার উপকণ্ঠে 'হাররা' নামক স্থানে উভয় পক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত হলে, এই যুদ্ধে মদিনাবাসী পরাজিত হন এবং অসংখ্য সাহাবী ও তাবেয়ী শাহাদাত বরণ করেন। এই ঘটনার পর উমাইয়া বাহিনী মদিনায় ব্যাপক লুটতরাজ ও অমানবিক আচরণ চালায় বলে ইতিহাসে বর্ণিত আছে।

৩. মক্কা অবরোধ

মদিনা অভিযানের পর ইয়াজিদের বাহিনী আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুবায়েরের রাঃ 'আনহুমা এর বিরুদ্ধে মক্কা আক্রমণ করে। জুবায়ের রাঃ 'আনহু ইয়াজিদের খিলাফত মেনে নিতে অস্বীকার করে মক্কায় অবস্থান নিয়েছিলেন। অবরোধ চলাকালীন সময়ে উমাইয়া বাহিনীর ছোঁড়া অগ্নিগোলক ও পাথরের আঘাতে পবিত্র কাবার একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাবা শরিফের গিলাফে আগুন লেগে যায়। এই অবরোধ চলাকালীন ৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরে ইয়াজিদের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে ইয়াজিদ বাহিনী অবরোধ তুলে দামেস্কে ফিরে যায়।

প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম

ইয়াজিদের শাসনকাল মূলত বিদ্রোহ দমনেই অতিবাহিত হলেও, সে তাঁর পিতার শুরু করা কিছু প্রশাসনিক কাজ অব্যাহত রেখেছিল। সে সিরিয়ার সেচ ব্যবস্থার উন্নতি করে এবং জিকরিন (Jikrin) নামক স্থানে কৃষি উন্নয়নে কাজ করে। তাঁর সময়ে উমাইয়া সাম্রাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

মৃত্যু ও উত্তরসূরি

[সম্পাদনা]

৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই নভেম্বর ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া দামেস্কের নিকটবর্তী হুওয়ারিন নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র দ্বিতীয় মুয়াবিয়া খলিফা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন।

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  •  de Goeje, Michael Jan (১৯১১)। "Caliphate s.v. The Ommayad Dynasty; Rule of Yazid"। চিসাম, হিউ (সম্পাদক)। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ। খণ্ড ৫ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ. ২৯–৩০।
প্রথম ইয়াজিদ
রাজত্বকাল শিরোনাম
পূর্বসূরী
প্রথম মুয়াবিয়া
উমাইয়া খলিফা
৬৮০ – ৬৮৩
উত্তরসূরী
দ্বিতীয় মুয়াবিয়া
  1. 1 2 3 Ibn Hajar Al-Asqalani, Ahmad bin Ali. Lisan Al-Mizan: Yazid bin Mu'awiyah.