সানা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সানা (এছাড়া সানা'য়া; আরবি: صنعاء‎‎ Ṣan‘ā’ উচ্চারণ [sˤɑnʕaːʔ], ইয়েমেনি আরবি: [ˈsˤɑnʕɑ]) হল ইয়েমেনের বৃহত্তম শহর ও সানা গভর্নরেটের কেন্দ্রবিন্দু। সানা শহর গভর্নরেটের অংশ নয়, বরং এটি পৃথক প্রশাসনিক জেলা "আমানত আল-আসেমাহ" এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ইয়েমেনের সংবিধান অনুযায়ী সানা দেশটির রাজধানী, যদিও ২০১৪-১৫ ইয়েমেনি অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের সকল প্রশাসনিক দপ্তর এডেনে স্থান্তরিত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে মার্চে রাষ্ট্রপতি মানসুর হাদি কর্তৃক এডেনকে অস্থায়ী রাজধানী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

সানা পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম শহরগুলোর একটি। এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে একটি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ২,৩০০ মিটার (৭,৫০০ ফুট)। সানার আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় ১,৯৩৭,৫০০ জন (২০১২), যা তাকে ইয়েমেনের সর্ববৃহৎ শহরে পরিনত করেছে।

পুরাতন সানা শহর হল ইউনেস্কো ঘোষিত একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০১৭ সালের মে মাসে, রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটর তথ্য অনুসারে কলেরা মহামারীটিতে ১১৫ জন নিহত এবং ৮,৫০০ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।[১] ২০১৭ এর শেষের দিকে, সানায় আর একটি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা হাতিস এবং নিহত সাবেক রাষ্ট্রপতি সালেহের অনুগত বাহিনীর মধ্যে শুরু হয়েছিল।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

কর্মসংস্থান এবং উন্নত মানের জীবনযাত্রার সন্ধানে গ্রামীণ জনসংখ্যার অভিবাসনের ফলে ১৯৬০ এর দশক থেকে শহরের জনসংখ্যা ব্যপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সানাসা হল বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল রাজধানী শহর, যার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৭% ছিল, এবং সামগ্রিকভাবে দেশটির বৃদ্ধির হার ৩.২%। জনসংখ্যার প্রায় ১০% পুরাতন শহর এলাকাতে বাস করে, বাকি অংশটি বাইরের জেলাগুলিতে বাস করে।

ইহুদি সম্প্রদায়[সম্পাদনা]

ইহুদিরা খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দী থেকে ইয়েমেনে বসবাস করছে এবং এটি অন্যতম ঐতিহাসিক ইহুদি প্রবাস গঠন করেছিল।[২] সানায় ইহুদিরা প্রথমে ঘামদান প্যালেস নামে পরিচিত পুরাতন টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষের নিকটবর্তী আল- ক’র নামে পরিচিত প্রাচীরের মধ্যে বসতি স্থাপন করেছিল, কিন্তু ৬ষ্ঠ শতাব্দীর শেষদিকে শাসক রাজা কর্তৃক সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল এবং শহরের অন্যদিকে চলে গিয়েছিল, যা আল-মারবাাকি নামে পরিচিত (এটি ফালাহী কোয়ার্টার নামেও পরিচিত)। সেখান থেকে তারা আবার উপড়ে পড়ে এবং আল-কোজালি নামে পরিচিত শহরের অংশে বসতি স্থাপন করে এবং অবশেষে সেখান থেকে সরে যায় এবং আল-সায়িলার আশেপাশে স্থায়ী হয়। ১৬৭৯ সালে মাওজা প্রবাস চলাকালীন তাদের আবার তাদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। ১৬৮০ সালে শহরে ফিরে এসে তাদেরকে শহরের দেয়ালের বাইরে জমি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তারা নতুন ইহুদি কোয়ার্টার আল-কিউ (বর্তমানে কিউ-আল-উলুফি ) তৈরি করেছিল এবং যেখানে তারা এই সম্প্রদায়ের অবসান না হওয়া অবধি, ২০ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছিল।[৩] ১৯৪৮ সালে ইস্রায়েলের রাজনৈতিক রাজ্য গঠনের পরে, প্রায় ৪৯,০০০ (আনুমানিক ৫১,০০০) ইয়েমেনি ইহুদিদের ইস্রায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে প্রায় ১০,০০০ সানা থেকে এসেছিলেন (দেখুন নীচের ইয়েমেনের ইংরাজী ভাষার বইটি ইহুদি ও মুসলমান: ক সুরক্ষা এবং সংযম অধ্যয়ন, ১৯১৮-১৯৪৯ ) ২০০৪ সালে উত্তর ইয়েমেনে শিয়া বিদ্রোহ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সানয় মূলত ইহুদিদের সংখ্যা ছিল না। ২০০৭ সালে হাতিসরা ইহুদি সম্প্রদায়কে সরাসরি হুমকি দিয়েছিল, রাষ্ট্রপতি সালেহ সরকারকে তাদের সানায় আশ্রয় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। ২০১০ মোতাবেক সরকারি সুরক্ষায় রাজধানীতে প্রায় ৭০০ জন ইহুদি বাস করত।[৪]

প্রশাসনিক বিভাগ[সম্পাদনা]

সাধারণভাবে সানা দুটি অংশে বিভক্ত: সানা পুরাতন শহর (আল কাদিমা) এবং নতুন শহর (আল জাহিদ)। পুরাতন অংশটি ছোট ও অনুন্নত, যা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং নতুন অংশটি বড় বড় ইমারতসহ আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ। ১৯৬০ এর দশকে, যখন সানা প্রজাতন্ত্রের রাজধানীর স্বীকৃতি পায়, তখন এর ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।

সানার জেলাসমূহ:

পরিবহন[সম্পাদনা]

পুরাতন শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ১,০০০ বছরের পুরনো বব আল-ইয়েমেন (ইয়েমেন গেট)

ইয়েমেনের জাতীয় বিমান সংস্থা ইয়েমেনীয়া এর সদরদপ্তর সানায় অবস্থিত।[৫] সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল ইয়েমেনের প্রধান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বর্তমানে সেখানে কোন রেলওয়ে পরিবহন নেই, তবে ভবিষ্যতে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ শহরের প্রাথমিক পর্যায়ের পরিবহন ব্যবস্থা হল দাবাবস ও মিনিবাস, যা ১০ ভাগ যাত্রী পরিবহন করে। এছাড়া ট্যাক্সি একটি কমন পরিবহন ব্যবস্থা। সানার সাথে এডেন, তাজ সহ প্রধান প্রধান শহরসমুহের কোচ সার্ভিস চালু রয়েছে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Houthis declares state of emergency in Sanaa over cholera outbreak"Al Arabiya। ১৪ মে ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৭ 
  2. Jacob Saphir, in his ethnographic work Iben Safir (vol. 1 – ch. 43), Lyck 1866, p. 99 – folio A (Hebrew), states that the Jews of Yemen have a tradition that there settlement in Yemen began 42 years before the destruction of the First Temple. Bear in mind here that the Jewish year for the destruction of the First Temple is traditionally given in Jewish computation as 3338 AM or 421/2 BCE. This differs from the modern scientific year, which is usually expressed using the Proleptic Julian calendar as 587 BCE.
  3. Yosef Tobi (ed.), Studies in ‘Megillat Teman’ by Yiḥyah Salaḥ, The Magnes Press: Hebrew University, Jerusalem 1986, p. 67
  4. Persecuted Yemeni Jews to be given sanctuary in Britain, The Independent, 14 April 2010.
  5. "Yemenia ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে." Arab Air Carriers Organization. Retrieved 26 October 2009.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]