বাঙালি জাতি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাঙালি
মোট জনসংখ্যা
৩০ কোটি[১][২]
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চলসমূহ
~ এই দেশগুলিতে বৃহত্তর জনসংখ্যা রয়েছে: বাংলাদেশভারতে (পশ্চিমবঙ্গ)।
 বাংলাদেশ১৮ কোটি[৩][যাচাই প্রয়োজন]
 ভারত১০ কোটি[৪][যাচাই প্রয়োজন]
 পাকিস্তান২,০০০,০০০[৫][৬][৭][৮]
 সৌদি আরব১,৩০৯,০০৪[৯]
 সংযুক্ত আরব আমিরাত১,০৮৯,৯১৭[১০]
 যুক্তরাজ্য৪৫১,০০০[১১]
 কাতার২৮০,০০০[১২]
 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র২৫৭,৭৪০[১৩][১৪]
 মালয়েশিয়া২২১,০০[১৫]
 কুয়েত২০০,০০০[১৬]
 ইতালি১৩৫,০০০[১৭]
 সিঙ্গাপুর১০০,০০০[১৮]
 বাহরাইন৯৭,১১৫[১৯]
 কানাডা৬৯,৪৯০[২০]
 অস্ট্রেলিয়া৫৪,৫৬৬[২১]
   নেপাল২১,০৬১[২২]
 দক্ষিণ কোরিয়া১৩,৬০০[২৩]
 জাপান১২,৩৭৪[২৪]
ভাষা
বাংলা (প্রধান), রাঢ়ী উপভাষা,প্রমিত বাংলা (প্রাথমিক) , বাংলার উপভাষাসমূহ-চাঁটগাঁইয়া ভাষা,নোয়াখালীয় উপভাষা (নোয়াখালী), ময়মনসিংহী, বরিশালি,খুলনাইয়া,ফরিদপুরি, বরেন্দ্রি, সিলেটি, রংপুরী, ঢাকাইয়া,রাঢ়ি উপভাষা,ঝাড়খন্ডী উপভাষা (আঞ্চলিক), আরবি,সংস্কৃৃত (পবিত্র ও সংরক্ষিত)ইংরেজি (বিশেষ ও দাপ্তরিক)
ধর্ম
ইসলাম (১৯.৮ কোটি), হিন্দু (১০কোটি), বৌদ্ধ ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্ম
সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী
ইউরোপীয়,ইরানীয়,ইন্দো-আর্য,তিব্বতীয় বার্মা,প্রোটো অস্ট্রালয়ড,অসমীয়,বিহারি,দ্রাবিড়ীয়,উড়িয়া,ত্রিপুরি

বাঙালি জাতি বা বাঙ্গালি জাতি একটি সংকর জাতি ও দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসকারী আদিতম মানবগোষ্ঠীসমূহের মধ্যে একটি। প্রায় ১৫০০ বছর আগে আর্য-অনার্য মিশ্রিত প্রাকৃত ভাষা থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক বাংলা ভাষা এবং ব্রাহ্মী লিপি থেকে সিদ্ধম লিপির মাধ্যমে আধুনিক বাংলা লিপির সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীকালে অষ্ট্রিক ও নিগ্রিটো জাতির মানুষ এসে মিশেছে। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়খন্ড, আসাম, ত্রিপুরা, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বাইরেও, মধ্যপ্রাচ্য, জাপান, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি সহ সারাবিশ্বে অনেক প্রবাসী বাঙালি আছেন।

নামের ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

চর্যাপদ, বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন।

"বাঙ্গালী" শব্দটি বর্ণনা করে এমন একজন যার ভাষাগত​, বংশগত ও তামাদ্দুনিক পরিচ​য় মূলত বাংলার জমীন থেকে। এই ইন্দো-আর্য বাঙ্গালী জাতি বাংলার অন্য অনার্য জাতিগুলো থেকে আলাদা। বাঙ্গালী এবং বাংলা, উভ​য় শব্দের উৎপত্তি হচ্ছে বাঙ্গালা শব্দে থেকে, যা ছিল ফার্সী ভাষায় এই অঞ্চলের নাম। মুসলমানদের প্রসারের আগে, বাঙ্গালা বা বাংলা নামে কোন অঞ্চল ছিল না কারণ এই অঞ্চলটি অসংখ্য ভূরাজনৈতিক উপরাজ্যে বিভক্ত ছিল। যেমন দক্ষিণাঞ্চলের বঙ্গ (যার নাম থেকে বাঙ্গালা শব্দ এসেছে বলে মনে করা হয়), পশ্চিমাঞ্চলের রাঢ়, উত্তরাঞ্চলের পুণ্ড্রবর্ধনবরেন্দ্র, এবং পূর্বাঞ্চলের সমতটহরিকেল। প্রাচীন কালে, এই অঞ্চলের মানুষ এসব বিভাগগুলির নাম দিয়ে তাদের তামাদ্দুনিক পরিচ​য় দিতে। যেমন মহাভারতের মত বৈদিক গ্রন্থগুলিতে পুণ্ড্র নামের একটি জাতির উল্লেখ আছে।

ইব্রাহিমীয়ভারতীয় ধর্মগুলির ইতিহাসবিদরা মনে করে যে প্রাচীন বঙ্গ রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে বঙ্গ নামক এক ব্যাক্তি যিনি এই অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছিলেন। ইব্রাহিমীয় বংশবিজ্ঞানীরা ধারণা করতেন যে বঙ্গ ছিল নূহের ছেলে হামের নাতি।[২৫][২৬][২৭] 'ঐতরেয় আরণ্যক' গ্রন্থে সর্বপ্রথম 'বঙ্গ'শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায় খ্রিস্টপুর্ব ৩০০০ বছর পুর্বে।

মোঘল সম্রাট আকবরের সভাসদ আবুল ফজল ইবনে মুবারক তার আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে দেশবাচক বাঙ্গালা (বাংলা) শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি বাঙ্গালা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে দেখিয়েছেন যে, প্রাচীন নাম বঙ্গের সাথে বাধ বা জমির সীমানাসূচক শব্দ 'আল/আইল' প্রত্যয়যোগে বাঙ্গালা শব্দ গঠিত হয়। ভারতের ইতিহাসবিদ গোলাম হোসেন সেলিমের রিয়াজুস সলাতীনেও এই উৎপত্তির বর্ণনা আছে।[২৫]

১৩৫২ খ্রীষ্টাব্দে শামসুদ্দীন ইলিয়াস নামে একজন মুসলিম অভিজাত শাহী বাংলা নামে একটি সালতানাত প্রতিষ্ঠা করে এই বিভক্ত অঞ্চলকে প্রথম একত্র করেছে। ইলিয়াস শাহে বাঙ্গালিয়ান উপাধী গ্রহণ করে,[২৮] এই যুগে বাংলা ভাষা প্রথমেই রাষ্ট্রীয় সমর্থন পেয়ে সাহিত্যিক উন্নয়ন প্রতিপাদন করে।[২৯][৩০] এভাবে, ইলিয়াস শাহ "বাঙ্গালী" নামে এই অঞ্চলের মানুষদের সামাজিক ও ভাষাগত পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে রূপান্তরিত করে।[৩১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাঙালি জাতির ইতিহাসকে আদি বা প্রাচীন, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগে ভাগ করা যায়।

প্রাচীন ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন বঙ্গীয় রাজনৈতিক মানচিত্র

আগে এদেশের সভ্যতাকে অনেকেই অর্বাচিন বলে মনে করলেও বঙ্গদেশে চার হাজারেরো বেশি প্রাচীন তাম্রা শ্মাশন (chalcolithic) যুগের সভ্যতার নির্দশন পাওয়া গেছে [৩২][৩৩] যেখানে দ্রাবিড়, তিব্বতী-বর্মীঅস্ট্রো-এশীয় নরসম্প্রদায়ের বাস ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বঙ্গ বা বাংলা শব্দটির সঠিক ব্যুৎপত্তি জানা নেই তবে অনেকে মনে করেন এই নামটি এসে থাকতে পারে দ্রাবিড় ভাষী বং নামক একটি গোষ্ঠী থেকে যারা এই অঞ্চলে আনুমানিক ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ বসবাস করত। [৩৪] ডঃ অতুল সুরের মতে "বয়াংসি" অর্থাৎ পক্ষী এদের টোটেম ছিল। আর্যদের আগমনের পর বাংলা ও বিহার অঞ্চল জুড়ে মগধ রাজ্য সংগঠিত হয় খ্রীষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে। বুদ্ধের সময় মগধ ছিল ভারত উপমহাদেশের চারটি মহাশক্তিশালী রাজত্বের অন্যতম ও ষোড়শ মহাজনপদের একটি। মৌর্য রাজবংশের চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজত্বের সময় মগধের বিস্তার হয় দক্ষিণ এশিয়ার এক বিশাল অঞ্চলে। খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে সম্রাট অশোকের সময় আফগানিস্তানপারস্যের কিছু অংশও মগধের অধিকারভুক্ত ছিল। বৈদেশিক রচনায় বাংলার প্রথম উল্লেখ দেখা যায় গ্রিকদের লেখায় ১০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি। তাতে বর্ণিত আছে গাঙ্গেয় সমতলভুমিতে বাসকারী গঙ্গাঋদ্ধি নামে জাতির শৌর্যবীর্যের কথা যা শুনে মহাবীর আলেক্সান্ডার তার বিশ্ববিজয় অসম্পূর্ণ রেখে বিপাশার পশ্চিম তীর থেকেই প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। গঙ্গারিডি শব্দটি হয়ত গ্রিক Gangahrd (গঙ্গাহৃৎ) থেকে এসে থাকবে— গঙ্গা-হৃৎ অর্থাৎ গঙ্গা হৃদয়ে যে ভুমির।[৩৫] খ্রীষ্টীয় তৃতীয় শতকে মগধে গুপ্ত রাজবংশের পত্তন হয়।

মধ্যযুগ[সম্পাদনা]

গাজী পীর সম্ভবত ১২-১৩তম শতাব্দীতে সুন্দরবনে থাকতেন।
খ্রিষ্টীয় ১৫ শতাব্দীকালে বাঙ্গালীদের ছবি যা পর্তুগিজদের দ্বারা আঁকা

সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে বিহারের মাগধ থেকে আগত রাজা শশাঙ্ক গৌড় শহরকে কেন্দ্র করে একটি স্বাধীন রাজ্য স্থাপন করে।[৩৬] তারপর কিছুদিন অরাজকতার পর বৌদ্ধধর্মাবলম্বী দেশী পাল বংশ এখানে চারশো বছর রাজত্ব করে। পাল সাম্রাজ্য সুসম্পর্ক রেখেছিল শ্রীবিজয়া রাজ্য, তিব্বত সাম্রাজ্য, ও আরব আব্বাসী খেলাফতের সাথে। ইসলামধর্ম বাংলায় প্রথম এসেছিল পাল রাজত্বের কালে, মধ্যপ্রাচ্যের সাথে সওদা করার ফলে।[৩৭] দশম শতাব্দীতে দক্ষিণপূর্ব বাংলার সমতটের বাসিন্দারা বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী ছিলেন। এসময়ে, আরব ভূগোলবিদমুরূজুজ্জহব বইয়ের লেখক আল-মাসুদী বাংলায় সফর করেছিলেন যেখানে উনি একটি মুসলমান সমাজকে দেখতে পারলেন।[৩৮] সওদা ছাড়াও, বহুত বহুত সুফীদের দ্বারা বাংলায় ইসলামের প্রচার করা হয়েছিল। প্রথম পরিচিত সুফীরা ছিলেন ১১তম শতাব্দীর সৈয়দ শাহ সুর্খুল আন্তিয়া ও তাঁর শাগরেদগণ, যার মাঝে শাহ সুলতান রূমী সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। শাহ সুলতান রূমী নেত্রকোনার মদনপুরে বসবাস করেছিলেন যেখানে উনি সামন্ত রাজা ও তাঁর নাগরিকদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার দাওয়াত দিয়েছিলেন।

পাল বংশের পর অপেক্ষাকৃত কম সময় রাজত্ব করে ব্রাহ্মণ্য হিন্দু সেন রাজবংশ যারা দক্ষিণ ভারত থেকে এসেছিলে। পরবর্তীতে বাংলা ইসলামী রাজত্বের অধিকারভুক্ত হলে বাংলায় প্রায় সব অঞ্চলেই দ্রুত ইসলামের প্রসার ঘটে।[৩৯] তুর্কী সেনাপতি বখতিয়ার খলজী সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলার এক বিশাল অংশ দখল করেন। অতঃপর বিভিন্ন সুলতানরা ও সামন্ত মালিকরা বাংলায় রাজত্ব করে শত শত বছর ধরে। খলজীর প্রাথমিক বিজয়ের ফলে ইসলাম প্রসারকদের মহাপ্রবাহ ঘটে। সুলতান বলখীশাহ মখদূম রূপস উত্তর বাংলায় বসবাস করে সেখানকার কওমের সাথে প্রচার করেন। উত্তরপূর্বের হিন্দুশাসিত নগরী শ্রীহট্টেও ১৩ মুসলমান পরিবারের উপস্থিতি ছিল। ১৩০৩ সালে, শত শত সুফী-দরবেশ শাহ জালালের নেতৃত্বে বাংলার মুসলিম সুলতান শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহকে শ্রীহট্টের বিজয়ে সহায়তা দেন, যার ফলে এই নগরী শাহ জালালের ধর্মীয় কার্যক্রমের সদর হয়ে ওঠে। বিজয়ের বাদে, জালাল তাঁর শাগরেদগণকে বাংলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করার নির্দেশ দেন এবং উনার নাম বাঙ্গালীদের মধ্যে মহাপরিচিত হ​য়।[৪০]

১৩৫২ সালে শাহী বাংলা নামে স্বাধীন একত্র বাংলার প্রতিষ্ঠায়, শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ঐ দেশের মানুষদের সামাজিক ও ভাষাগত পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে রূপান্তরিত করে "বাঙ্গালী" নাম দিয়ে।[৪১] সুলতানি আমল দুই শতাব্দীরও বেশি সময় স্থায়ী হয়েছিল। ইলিয়াস শাহী রাজবংশ ইসলামী বৃত্তি স্বীকার করেছিল, এবং জাতি নিয়ে কোন ভেদাভেদ ছিল না। উসমান সিরাজুদ্দীন, যিনি আখি সিরাজ বাঙ্গালী নামেও পরিচিত, ছিলেন উত্তর বাংলার গৌড়ের অধিবাসী এবং ইলিয়াস শাহের শাসনকালে উনি শাহী বাংলার রাষ্ট্রীয় আলিম নিযুক্ত হন।[৪২][৪৩][৪৪] ফার্সী ও আরবীর পাশাপাশি, এই সুন্নি মুলুকটি বাঙ্গালী জাতির মুখের ভাষাকে স্বীকৃতি ও সমর্থন প্রদান করে (পূর্ববর্তী মুলুকদের বিপরীতে, যারা শুধুমাত্র সংস্কৃত, পালি ও ফার্সী ভাষাগুলোকে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকার করতেন)।[২৯][৩০] হিন্দু-জন্মা সুলতান জালালুদ্দীন মুহম্মদ শাহ মধ্যপ্রাচ্যের মক্কামদিনায় ইসলামী বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ অর্থায়ন করেছিলেন। আরবের মানুষ এই বিদ্যাল​য়গুলিকে "আল-মদারিস আল-বঙ্গালিয়া" (অর্থাৎ বাঙ্গালী মাদ্রাসাগুলো) নামে ডাকতেন।

ষোড়শ শতকে মুঘল সেনাপতি ইসলাম খান বাংলা দখল করেন। কিন্তু ধীরে ধীরে দিল্লির মুঘল সরকারের নিযুক্ত শাসকদের হাত ছাড়িয়ে আপাত-স্বাধীন মুর্শিদাবাদের নবাবদের রাজত্ব শুরু হয়, যাঁরা দিল্লির মুঘল সরকারের শাসন কেবল নামে মাত্র মানতেন।

বাংলার নবজাগরণ[সম্পাদনা]

বাংলার নবজাগরণ বলতে বোঝায় ব্রিটিশ রাজত্বের সময় অবিভক্ত ভারতের বাংলা অঞ্চলে ঊনবিংশ ও বিংশ শতকে সমাজ সংস্কার আন্দোলনের জোয়ার ও বহু কৃতি মনীষীর আবির্ভাবকে। মুলত রাজা রামমোহন রায়ের (১৭৭৫-১৮৩৩) সময় এই নব জাগরণের শুরু এবং এর শেষ ধরা হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) সময়ে, যদিও এর পরেও বহু জ্ঞানীগুণী মানুষ এই সৃজনশীলতা ও শিক্ষাদীক্ষার জোয়ারের বিভিন্ন ধারার ধারক ও বাহক হিসাবে পরিচিত হয়েছেন[৪৫]। ঊনবিংশ শতকের বাংলা ছিল সমাজ সংস্কার, ধর্মীয় দর্শনচিন্তা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, দেশপ্রেম ও বিজ্ঞানের পথিকৃৎদের এক অনন্য সমাহার যা মধ্যযুগের যুগান্ত ঘটিয়ে এদেশে আধুনিক যুগের সূচনা করে[৪৬]

নবজাগরণ ভাবাপন্ন ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রামমোহন রায় , এইচ.এল.ভি ডিরোজিও ও তার বিপ্লবী শিষ্যবৃন্দ, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তার অনুসারীগণ, অক্ষয়কুমার দত্ত , ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর , মাইকেল মধুসূদন দত্ত , বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল (প্রতিষ্ঠিত, ১৭৮৪), শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন (১৮০০), ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০), হিন্দু কলেজ (১৮১৭), ক্যালকাটা স্কুল-বুক সোসাইটি (১৮১৭), কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (১৮৩৫), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর (১৮৫৭) মতো প্রতিষ্ঠানগুলি বাংলার নবজাগরণে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখে।

বাংলার নবজাগরণ দুই ধারায় প্রসার লাভ করে যথা, (১) ঐ সময়ে বহু সংখ্যক সংবাদপত্র ও সাময়িকী প্রকাশিত হয় এবং (২) বহু সমিতি, সংগঠন ও সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এগুলি পর্যায়ক্রমে নবজাগরণর দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন সংলাপ ও বিতর্কের মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। তবে নবজাগরণের সবচেয়ে দর্শনীয় বহিঃপ্রকাশ ঘটে কতকগুলি সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এসব আন্দোলন ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক। নবজাগরণর আরও বড় ধরনের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় যুক্তিভিত্তিক মুক্তচিন্তার সপক্ষে পরিচালিত ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনের মাধ্যমে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের উন্মেষ, পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ধ্যান-ধারণার প্রসার ও বিভিন্নমুখী বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানানুসন্ধান এ সবই ছিল নবজাগরণর সুফল। বাংলার নবজাগরণ বা নবজাগরণের ফলে জাতীয়তাবাদ জাগ্রত হয় এবং পরবর্তী সময়ে এ জাতীয়তাবাদ দেশের পরাধীনতার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন[সম্পাদনা]

বাঙালিরা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদৌল্লার পরাজয়ের ফলে শাসন ক্ষমতা যে এদেশীয়দের কাছ থেকে বিদেশিদের হাতে চলে গিয়েছিল, এটা বুঝতে এখানকার জনগণের বেশ সময় লেগেছিল। ১৭৬০ সালে চট্টগ্রামের এবং ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি লাভের সাথে শাসন ক্ষমতাও তারা কুক্ষিগত করতে অগ্রসর হয়। পলাশীর যুদ্ধের পর এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন জনমনে বিশেষ রেখাপাত করেনি।

দেরিতে হলেও এদেশীয়রা ইংরেজদের অভিসন্ধি যখন বুঝতে পারলো, তখনই তারা রাজস্ব দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ইংরেজদের দেওয়ানি রাজস্ব দিতে প্রথম অস্বীকৃতি জানায় পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা জনগোষ্ঠী। ১৭৭২ সাল থেকে ১৭৯৮ সাল পর্যন্ত তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকে। অবশেষে ইংরেজরা তাদের সেনাবাহিনী দিয়ে প্রতিরোধ করে। তারপর দুর্জন সিংহের নেতৃত্বে চেয়ার বিদ্রোহ হয় ১৭৯৯ সালে, তাও সেনাবাহিনীর সাহায্যে দমন করা হয়।

বাঙালি জনগোষ্ঠীর ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা হয় ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ১৭৬০-১৮০০। সময়মত খাজনা দিতে না পারায় জমি থেকে উৎখাতকৃত কৃষকেরা তাদের সাথে যোগ দিয়ে সন্ন্যাসী বিদ্রোহকে গণবিদ্রোহের রূপদান করেছিলেন। ইংরেজ কর্তৃপক্ষ ফকির সম্প্রদায়কে 'ডাকাত' আখ্যায়িত করে তাদের সংগ্রামকে দমিয়ে দেয়। এই আন্দোলন প্রশমিত হওয়ার পূর্বেই সৈয়দ আহমদের নেতৃত্বে উত্তর-পশ্চিম ভারতে দুর্নিবার ধর্মভিত্তিক ওয়াহাবি আন্দোলন শুরু হলে ইংরেজদের বেকাদায় পড়তে হয়। তাই ইংরেজরা কৌশল অবলম্বন করে মুসলমানদের সাথে শিখদের সংঘর্ষ বাঁধিয়ে দেয়। এতে করে এই আন্দোলন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ওয়াহাবি আন্দোলনের পরপরই আরম্ভ হয় তিতুমীরের নেতৃত্বে মুসলিম সাধারণ সমাজ বিশেষ করে রায়তের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ১৮৩০-৩২। মক্কায় তিতুমীর হজ্ব করতে গেলে সেখানে তিনি সৈয়দ আহমদের সংস্পর্শে আসেন। উত্তর চব্বিশ পরগনায় অবস্থিত নারকেলবাড়িয়ায় তিতুমীর বাঁশের কেল্লা নামে একটি দেশীয় দুর্গ নির্মাণ করেই ইংরেজদের আক্রমণ প্রতিরোধ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিতুমীর নিহত হলে তার দলের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। প্রায় একই সময়ে আরম্ভ হয়েছিল দক্ষিণ-মধ্য বঙ্গে ফরায়েজি আন্দোলন। এই আন্দোলনও ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের রূপ পরিগ্রহ করেছিলো। হাজী শরিয়তুল্লাহ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলে তার পুত্র দুদু মিঞা পরবর্তীতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কুফল ছিলো চাষীদের নিকট ভয়ংকর। জমিদারদের অন্যায় কর আদায়ের ব্যাপারে জমিদারদের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিলো। বাংলার জমিদারদের অধিকাংশই ছিল হিন্দু আর চাষী বা রায়তদারের অধিকাংশই ছিল মুসলিম, যে কারণে সাম্প্রদায়িকতার মনোভাব দেখা দেয়। ইংরেজদের দ্বারা সৃষ্ট চিরস্থায়ী বন্দোবস্তই যে এই বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার বীজ রোপণ করেছিল তা অস্বীকার করা যায় না।

ব্রিটিশ আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে সর্বশেষে এবং সর্বাপেক্ষা রক্তক্ষয়ী প্রয়াস ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ। উত্তর ভারতের প্রায় সমস্ত বড় বড় শহরে এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল শ্বেতাঙ্গরা।সিপাহি বিদ্রোহ অনেকটা আকস্মিক ছিল, ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীর এই বিদ্রোহে অংশ গ্রহণের সুযোগ ছিল না। এই সীমাবদ্ধতা যদি না থাকতো, তবে নিঃসন্দেহে এর ফলাফল অন্যরূপ হতো।


ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রথম সূত্রপাত করেন কিছু শিক্ষিত বাঙালি বুদ্ধিজীবী, যাঁদের পুরোধা ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস, সত্যেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় ইত্যাদি নরমপন্থীরা, এবং পরবর্তীতে বিপ্লবাত্মক ভূমিকায় ঋষি অরবিন্দ ঘোষ, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, রাসবিহারী বসু, ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, সূর্য সেন প্রমুখ বীর বিপ্লবীবর্গ।

বঙ্গভঙ্গ[সম্পাদনা]

বঙ্গভঙ্গ ইতিহাসে ঘটে দু'বার: ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ রাজত্বকালে বঙ্গভঙ্গ, যাতে উদ্বেলিত বাঙালির প্রবল প্রতিবাদস্বরূপ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন হলে ১৯১১ সালে এই বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। দ্বিতীয়বার বাংলা ভাগ হয় ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হবার সময় — বাংলার মুসলিমপ্রধান পূর্ব ভাগ পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পাকিস্তানের অন্তর্গত হয় ও হিন্দুপ্রধান পশ্চিম ভাগ পশ্চিমবঙ্গ নামে ভারতের অংশ থাকে। পূর্ব পাকিস্তান এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর হয় অধুনা স্বাধীন বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জন্ম[সম্পাদনা]

এই বিষয়ের জন্য দেখুন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভাষা আন্দোলন নিবন্ধ গুলি।

ভাষা ও সামাজিক গঠন[সম্পাদনা]

বাঙ্গালীদের সামাজিক স্তরায়নের প্রধান একটি নির্ধারক হচ্ছে আঞ্চলিক ভাষাসমূহ

বাঙ্গালিদের একটি জরূরী ও একত্রীকারী বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তারা বেশীরভাগ বাংলা ভাষা মাতৃভাষা হিসাবে এস্তেমাল করে, যা ইন্দো-ইরানী ভাষাসমূহ থেকে আগত।[৪৭] ২২.৬ কোটি দেশী ও বিশ্বব্যাপী ৩০ কোটি মোট বাংলাভাষী আছে, তাই বাংলা হচ্ছে দুনিয়ার ষষ্ঠতম চলমান ভাষা।[৪৮][৪৯][৫০] বাংলা ভাষা বেশী অংশে বাংলা লিপি দিয়ে লেখা হ​য়, এবং প্রায় ১০০০-১২০০ খ্রীষ্টাব্দে মাগধী প্রাকৃত থেকে প্রকাশ হলো। বহুরূপে এই ভাষা আজ প্রচলিত, এবং এটা বাঙ্গালী সংহতির জন্য একটি জরূরী প্রভাব সরবাহ করে। এসব ভিন্ন রূপ তিন বিভাগে বিভক্ত করা যায়:

  1. সাধু ভাষা - একটি ঐতিহাসিক রূপ যা বিশেষ করে স্রেফ সাহিত্যের জন্য এস্তেমাল করা হতো।
  2. প্রমিত/চলিত ভাষা - একটি আধুনিক সাহিত্যিক রূপ যা বৃহত্তর নদিয়ার (যা এখন বৃহত্তর কুষ্টিয়ানদিয়া জেলায় বিভক্ত​) ভাষার উপর উদিত। এটা প্রতিদিন আনুষ্ঠানিকভাবে এস্তেমাল করা হ​য়, যেমন ভাষণে, রেডিওতে বা সংবাদে।
  3. আঞ্চলিক ভাষা - সবচেয়ে বিশাল রূপ মোট ভাষী হিসাবে। বাংলার বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে।

বাঙ্গালীদের মধ্যে উপদল রয়েছে প্রধনত ভাষাগত ও উপতামাদ্দুনিক কারণে।

সংস্কৃৃতি ও লোকাচার[সম্পাদনা]

বাঙালিরা শিল্প-সংস্কৃতিতে কৃতিত্বের জন্য বিখ্যাত। নানা বাঙালি লেখক, নাট্যকার, সুরকার, চিত্রকর এবং চলচ্চিত্রকাররা ভারতে শিল্প ও কলাচর্চার উন্মেষ ও বিকাশে মুখ্য ভুমিকা রাখেন। ঊনবিংশ শতকের বাংলার নবজাগরণ মূলে ছিল কিছু ব্রিটিশদের দ্বারা এদেশে পাশ্চাত্যের শিক্ষার ও পাশ্চাত্য আধুনিকমনস্কতার অনুপ্রবেশ। অন্যান্য ভারতীয়দের তুলনায় বাঙালিরা অপেক্ষাকৃত দ্রুত ব্রিটিশদের প্রথা শিখে ফেলেছিল ও ব্রিটিশদেরই নিজেদের দেশে ব্যবহৃত প্রশাসনব্যবস্থা ও আইনকানুন ইত্যাদির জ্ঞান পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দলনে কাজে লাগিয়েছিল। বাংলার নবজাগরণের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল জায়মান রাজনৈতিক ভারতীয় জাতীয়তার বীজ ও আধুনিক ভারতের কলা ও সংস্কৃতির প্রথম উন্মোচন। বাঙালি কবি ও ঔপন্যাসিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার জয় করে এশিয়ায় সাহিত্যে প্রথম নোবেল বিজয়ী হন।

বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০ বাঙালী[সম্পাদনা]

ক্রম নাম
প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
দ্বিতীয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তৃতীয় কাজী নজরুল ইসলাম
চতুর্থ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
পঞ্চম নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু
ষষ্ঠ বেগম রোকেয়া
সপ্তম জগদীশ চন্দ্র বসু
অষ্টম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
নবম মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
দশম রাজা রামমোহন রায়
একাদশ শহীদ তিতুমীর
দ্বাদশ লালন শাহ
ত্রয়োদশ সত্যজিৎ রায়
চতুর্দশ অমর্ত্য সেন
পঞ্চদশ ভাষা শহীদগণ
ষোড়শ ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সপ্তদশ স্বামী বিবেকানন্দ
অষ্টাদশ অতীশ দীপঙ্কর
ঊনবিংশ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
বিংশ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী

অতীতের শাসকবৃন্দ[সম্পাদনা]

সমুদ্র সেন ও চন্দ্র সেন (মহাভারত)

স্বাধীনতা সংগ্রামী[সম্পাদনা]

ভাষাসৈনিক[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা[সম্পাদনা]

বাঙালি বীরশ্রেষ্ঠ[সম্পাদনা]

ক্রম নাম পদবী সেক্টর গ্যাজেট নম্বর মৃত্যুবরণের তারিখ
০১ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ক্যাপ্টেন বাংলাদেশ সেনা বাহিনী ০১ ডিসেম্বর ১৪, ১৯৭১
০২ হামিদুর রহমান সিপাহী বাংলাদেশ সেনা বাহিনী ০২ অক্টোবর ২৮, ১৯৭১
০৩ মোস্তফা কামাল সিপাহী বাংলাদেশ সেনা বাহিনী ০৩ এপ্রিল ১৮, ১৯৭১
০৪ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসিয়ার বাংলাদেশ নৌ বাহিনী ০৪ ডিসেম্বর ১০, ১৯৭১
০৫ মতিউর রহমান ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ০৫ আগস্ট ২০, ১৯৭১
০৬ মুন্সি আব্দুর রউফ ল্যান্স নায়েক বাংলাদেশ রাইফেলস ০৬ এপ্রিল ৮, ১৯৭১
০৭. নূর মোহাম্মদ শেখ ল্যান্স নায়েক বাংলাদেশ রাইফেলস ০৭ সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৭১

রাজনীতিক[সম্পাদনা]

নোবেলজয়ী বাঙালী[সম্পাদনা]

কবি[সম্পাদনা]

সাহিত্যিক[সম্পাদনা]

লেখক[সম্পাদনা]

ইতিহাসবিদ[সম্পাদনা]

বাঙালি বিজ্ঞানী[সম্পাদনা]

নট ও নাট্যকার[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্র পরিচালক[সম্পাদনা]

সত্যজিৎ রায়

জহির রায়হান

ঋত্বিক ঘটক

তপন সিনহা

চাষী নজরুল ইসলাম

সৃজিত মুখোপাধ্যায়

ঋতুপর্ণ ঘোষ

কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়

অপর্ণা সেন

মৃনাল সেন

রাজ চক্রবর্তী

গায়ক ও সঙ্গীতজ্ঞ[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "General Assembly hears appeal for Bangla to be made an official UN language"। United Nations। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ 
  2. "Countries and Their Cultures"। Everyculture। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৫ 
  3. "Total Population Of Bangladesh in 2021"। 2021 Bangladesh Bureau of Statistics। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০২১ 
  4. "List of languages by number of native speakers in India"। 2021 Wikipedia। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  5. "Five million illegal immigrants residing in Pakistan"Express Tribune 
  6. "Homeless In Karachi"Outlook। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১০ 
  7. "Falling back"Daily Times। ১৭ ডিসেম্বর ২০০৬। ৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১৫ 
  8. van Schendel, Willem (২০০৫)। The Bengal Borderland: Beyond State and Nation in South Asia। Anthem Press। পৃষ্ঠা 250। আইএসবিএন 9781843311454 
  9. Migration Profile - Saudi Arabia
  10. Migration Profile - UAE
  11. "2011 Census: Ethnic group, local authorities in the United Kingdom"। Office for National Statistics। ১১ অক্টোবর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  12. "Population of Qatar by nationality - 2017 report"। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  13. US Census Bureau American Community Survey (2009-2013) See Row #62
  14. "ASIAN ALONE OR IN ANY COMBINATION BY SELECTED GROUPS: 2015"। U.S. Census Bureau। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৫ 
  15. Aina Nasa (২৭ জুলাই ২০১৭)। "More than 1.7 million foreign workers in Malaysia; majority from Indonesia"New Straits Times। সংগ্রহের তারিখ ২২ অক্টোবর ২০১৭ 
  16. "Kuwait restricts recruitment of male Bangladeshi workers"Dhaka Tribune। সংগ্রহের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ 
  17. "In pursuit of happiness"Korea Herald। ৮ অক্টোবর ২০১২। 
  18. "Bangladeshis in Singapore"High Commission of Bangladesh, Singapore। ৩ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  19. "Bahrain: Foreign population by country of citizenship"gulfmigration.eu। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জানুয়ারি ২০১৫ 
  20. "NHS Profile, Canada, 2011, Census Data"Government of Canada, Statistics Canada। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  21. "Census shows Indian population and languages have exponentially grown in Australia"SBS Australia। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৭ 
  22. "Population Monograph of Nepal Volume II (Social Demography)" (PDF)www.nepal.unfpa.org 
  23. "K2WebWizard"www.k2web.co.kr (কোরীয় ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-১৮ 
  24. "バングラデシュ人民共和国(People's Republic of Bangladesh)"Ministry of Foreign Affairs (Japan) (জাপানি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১৭ 
  25. গোলাম হোসেন সেলিম (১৯০২)। RIYAZU-S-SALĀTĪN: A History of BengalCalcutta: The Asiatic Society। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  26. Firishta (১৭৬৮)। Dow, Alexander, সম্পাদক। History of Hindostan। পৃষ্ঠা 7–9। 
  27. Trautmann, Thomas (২০০৫)। Aryans and British IndiaYoda Press। পৃষ্ঠা 53। 
  28. এ.বি.এম শামসুদ্দীন আহমদ (২০১২)। "ইলিয়াস শাহ"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  29. Eaton, Richard M. (১৯৯৩)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204–1760বিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। University of California। আইএসবিএন 978-0-520-20507-9। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুলাই ২০১৭What is more significant, a contemporary Chinese traveler reported that although Persian was understood by some in the court, the language in universal use there was Bengali... It also points to the survival, and now the triumph, of local Bengali culture at the highest level of official society. 
  30. Rabbani, AKM Golam (৭ নভেম্বর ২০১৭)। "Politics and Literary Activities in the Bengali Language during the Independent Sultanate of Bengal"Dhaka University Journal of Linguistics1 (1): 151–166। ১১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০১৭ – www.banglajol.info-এর মাধ্যমে। 
  31. গোলাম মুরশিদ (২০১২)। "বাঙ্গালি সংস্কৃতি"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  32. "History of Bangladesh"। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। ১৯ ডিসেম্বর ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১০-২৬ 
  33. বাংলাদেশে ৪০০০ বছর পুরোনো মানব বাসস্থানের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের খনন, জিনহুয়া সংবাদ সংস্থা, মার্চ ২০০৬
  34. (১৯৮৯) প্রাচীন ইতিহাস, ১০০০ খ্রীঃপূঃ-১২০২ খ্রীঃ, জেমস হাইৎস্মান ও রবার্ট এল ওয়ার্ডেন: বাংলাদেশ:এ কান্ট্রি স্টাডি. লাইব্রেরি অফ কংগ্রেস
  35. চৌধুরী, এ.এম.। "Gangaridai"বাংলাপিডিয়া। এশিয়াটিক সোসায়টি অফ বাংলাদেশ। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-০৮ 
  36. পি.কে ভট্টাচার্য (২০১২)। "শশাঙ্ক"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  37. রাজ কুমার (২০০৩)। Essays on Ancient India। Discovery Publishing House। পৃষ্ঠা 199। আইএসবিএন 978-81-7141-682-0 
  38. আল-মাসুদী, trans. Barbier de Meynard and Pavet de Courteille (১৯৬২)। "1:155"। Pellat, Charles। Les Prairies d'or [Murūj al-dhahab] (ফরাসি ভাষায়)। Paris: Société asiatique। 
  39. আবদুল করিম (২০১২)। "ইসলাম, বাংলায়"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  40. ইশফাক কুরায়শী (২০১২)। "বুরহান উদ্দিন ও নূরউদ্দিন প্রসঙ্গ"। শাহজালাল(রঃ) এবং শাহদাউদ কুরায়শী(রঃ) 
  41. গোলাম মুরশিদ (২০১২)। "বাঙ্গালি সংস্কৃতি"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  42. আবদুল হক দেহলভীআখবারুল আখিয়ার 
  43. আবদুল করিম (২০১২)। "শেখ অাঁখি সিরাজউদ্দীন উসমান (রঃ)"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  44. নঃ হানিফ (২০০০)। Biographical Encyclopaedia of Sufis: South Asia। প্রভাত কুমার শর্ম্মা, for Sarup & Sons। পৃষ্ঠা 35। 
  45. History of the Bengali-speaking People নিতিশ সেনগুপ্ত, পৃ ২১১, ইউবিএস পাব্লিশার্স' ডিস্ট্রিবিউটার্স প্রাইভেট. লিমিটেড. আইএসবিএন ৮১-৭৪৭৬-৩৫৫-৪
  46. Calcutta and the Bengal Renaissance - সুমিত সরকার Calcutta, the Living City-তে, সম্পাদকঃ সুকন্ত চৌধুরী, ভলিউম ১, পৃ ৯৫।
  47. সারা আঞ্জুম বারী (১২ এপ্রিল ২০১৯)। "A Tale of Two Languages: How the Persian language seeped into Bengali"The Daily Star (Bangladesh) 
  48. "What are the top 200 most spoken languages?"Ethnologue (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১০-০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-১৮ 
  49. Islam, Sirajul (২০০৩)। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ। Dhaka, Bangladesh: Asiatic Society of Bangladesh। আইএসবিএন 978-984-32-0576-6 
  50. Asiatic Society of Bangladesh (২০০৮)। Banglapedia: national encyclopedia of Bangladesh. (Bengali ভাষায়)। Dhaka: Asiatic Society of Bangladesh। ওসিএলসি 883871743 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]