উল্লাসকর দত্ত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
উল্লাসকর দত্ত
জন্ম ১৬ এপ্রিল, ১৮৮৫
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ১৭ মে, ১৯৬৫
জাতিসত্তা বাঙালি
আন্দোলন ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন
ধর্ম হিন্দু

উল্লাসকর দত্ত (জন্ম: ১৬ এপ্রিল ১৮৮৫ - মৃত্যু: ১৭ মে ১৯৬৫) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

উল্লাসকরের জন্ম হয় তদানিন্তন অবিভক্ত বাংলার ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ গ্রামে। তাঁর পিতার নাম দ্বিজদাস । তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ এর ছাত্র ছিলেন, এবং পরে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় হতে কৃষিবিদ্যায় ডিগ্রি অর্জন করেন। তবে কলেজে পড়ার সময় ইংরেজ অধ্যাপক রাসেল বাঙালিদের সম্পর্কে কটূক্তি করার দরুন উল্লাসকর তাঁকে আঘাত করেন, এজন্য উল্লাসকরকে কলেজ হতে বহিষ্কার করা হয়েছিল । এই সময় থেকে তাঁর জীবনে পরিবর্তন আসে।

বিপ্লবী কর্মকান্ড[সম্পাদনা]

উল্লাসকর যুগান্তর দলে যোগ দেন। তিনি বিস্ফোরক নির্মাণে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তার ফরমূলায় তৈরী বোমা পরীক্ষা করার জন্যে একদল বিপ্লবী বেছে নেন দেওঘরের নিকট নির্জন দীঘারিয়া পাহাড়। ১ মে, ১৯০৮ সালে সেই পরীক্ষার দিন বোমা ছোড়ার সময় আহত হয়ে মারা যান বিপ্লবী প্রফুল্ল চক্রবর্তী ও উল্লাসকর মারাত্মক জখম হন। গোপনে কলকাতায় তার চিকিৎসা করেন ডাক্তার ও বিজ্ঞানী ইন্দুমাধব মল্লিক। উল্লাসকরের তৈরি বোমাই ক্ষুদিরাম বসুহেমচন্দ্র দাস ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে আক্রমণে ব্যবহার করেছিলেন।[১] তবে এই হামলা বানচাল হয়ে যায়, এবং পুলিশ উল্লাসকর দত্ত সহ যুগান্তর দলের অনেক সদস্যকে গ্রেফতার করে।

বিচার ও সাজা[সম্পাদনা]

উল্লাসকর ২ মে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে মুরারিপুকুর বাগানে ধরা পড়েন । ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে আলিপুর বোমা মামলা নামের এই বিখ্যাত মামলায় উল্লাসকর এবং বারীন ঘোষকে ফাঁসীর আদেশ দেয়া হয়। তবে পরবর্তীকালে এই সাজা রদ করে তাঁকে আন্দামানের সেলুলার জেলে যাবজ্জ্বীবন দ্বীপান্তরের সাজা দেয়া হয়।

জেল খাটা[সম্পাদনা]

আন্দামানের কুখ্যাত সেলুলার জেলে উল্লাসকর দত্তকে শারীরিক নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়। এর ফলে তিনি সাময়িকভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ১৯২০ সালে তাঁকে মুক্তি দেয়া হলে তিনি কলকাতা শহরে ফেরৎ আসেন।

পরবর্তী জীবন[সম্পাদনা]

উল্লাসকরকে পরে ১৯৩১ সালে আবারও গ্রেফতার করা হয়, ও ১৮ মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়। ১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের পর তিনি গ্রামের বাড়ি কালিকাছাতে ফেরৎ যান।

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ৬৩ বছর বয়েসে বিশিষ্ট নেতা বিপিনচন্দ্র পালের বিধবা মেয়েকে বিয়ে করেন । সেখানে ১০ বছর কাটানোর পর তিনি ১৯৫৭ সালে কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করেন। উল্লাসকর তাঁর শেষ জীবন শিলচরে কাটান এবং সেখানেই ১৯৬৫ সালের ১৭ই মে মৃত্যুবরণ করেন। [২][৩] [৪][৫]

প্রকাশিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

উল্লাসকর দত্ত রচিত দুটি গ্রন্থ হল,

  • দ্বীপান্তরের কথা এবং
  • আমার কারাজীবন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Government of India, Home Political Department A. Proceedings, May 1908, Nos. 112-150
  2. Official report, Assam Legislative Assembly
  3. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ১০২, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  4. "অগ্নিযুগের বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত"। Dhaka,Bangladesh।  line feed character in |title= at position 19 (সাহায্য)
  5. "বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত : ইতিহাসের স্মৃতি-বিস্মৃতি"। Dhaka,Bangladesh। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]