লাঠি খেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লাঠি খেলা
Lathi Khela by RAY.jpg
লাঠি খেলার দৃশ্য
কঠোরতা অর্ধ-সংস্পর্শ
উত্পত্তির দেশ Flag of Bangladesh.svg বাংলাদেশ
মূল ঐতিহাসিক
অলিম্পিক খেলা না

লাঠি খেলা একটি ঐতিহ্যগত মার্শাল আর্ট যেটি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কিছু জায়গায় চর্চা করা হয়।[১] 'লাঠি খেলা' অনুশীলনকারীকে 'লাঠিয়াল' বলা হয়।[২]

ব্যুত্পত্তি[সম্পাদনা]

লাঠি একটি প্রাকৃত শব্দ যেটি সংস্কৃত ফর্ম ইয়াস্টি থেকে এসেছে। সুতরাং, লাঠি খেলাকে লাঠির কৌশল বলা যেতে পারে।[৩] দক্ষিণ এশীয় ভাষায় বাংলা সহ হিতোপদেশ আছে যে যার আছে লাঠি তার আছে ক্ষমতা। লাঠি খেলায় যে দক্ষ বা লাঠি খেলা নিয়ে যাদের ​​বসবাস তারাও লাঠিয়াল হিসাবে পরিচিত।[৪]

যন্ত্রপাতি[সম্পাদনা]

লাঠি মুগুর, গদা বা ডাণ্ডা বিশেষ যেটি সাধারণত শক্ত বাঁশ দিয়ে তৈরি হয় এবং কখনও কখনও একটি লোহার রিংয়ের সঙ্গে আবদ্ধ অবস্থায় দুর্দান্ত অস্ত্রে পরিণত হয়।[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

লাঠি খেলা লাঠি দিয়ে আত্মরক্ষা শেখায়। ব্রিটিশ শাসনামলে অবিভক্ত বাংলার জমিদাররা (পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বঙ্গ) নিরাপত্তার জন্য লাঠিয়ালদের নিযুক্ত করত। চরাঞ্চলে জমি দখলের জন্য মানুষ এখনও লাঠি দিয়ে মারামারি করে। মহরম ও পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠানে এই খেলাটি তাদের পরাক্রম ও সাহস প্রদর্শনের জন্য খেলা হয়ে থাকে। এই খেলার জন্য ব্যবহৃত লাঠি সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা, এবং প্রায়ই তৈলাক্ত হয়। অত্যাশ্চর্য কৌশলের সঙ্গে প্রত্যেক খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ লাঠি দিয়ে রণকৌশল প্রদর্শন করে। শুধুমাত্র বলিষ্ঠ যুবকেরাই এই খেলায় অংশ নিতে পারে।[৪] কিন্তু বর্তমানে শিশু থেকে শুরু করে যুবক, বৃদ্ধ সব বয়সের পুরুষেরাই লাঠিখেলায় অংশ নিয়ে থাকেন।[৫] উত্তরবঙ্গে, ঈদের সময়ে চাদি নামক একটি অনুরূপ খেলা খেলা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশে পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠানের সময় "লাঠি খেলা" এর প্রদর্শনী এখনও আছে। পুরু বাংলায় গুরুসাদে দত্ত কর্তৃক ব্রাতাশ্রী আন্দোলনের সময়ও লাঠি খেলা অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল।[৪]

বিধান[সম্পাদনা]

লাঠিয়াল বাহিনী সড়কি খেলা, ফড়ে খেলা, ডাকাত খেলা, বানুটি খেলা, বাওই জাক (গ্রুপ যুদ্ধ), নরি বারী (লাঠি দিয়ে উপহাস যুদ্ধ) খেলা এবং দাও খেলা (ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপহাস যুদ্ধ) খেলা দেখায়। এর মধ্যে ডাকাত খেলার উপস্থাপনা ঈদে জনপ্রিয় খেলা হিসেবে প্রসিদ্ধ। লাঠিখেলার আসরে লাঠির পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ঢোলক, কর্নেট, ঝুমঝুমি, কাড়া ইত্যাদি ব্যবহূত হয় এবং সঙ্গীতের সাথে চুড়ি নৃত্য দেখানো হয়।[৫][৬]

লাঠি খেলা বর্তমানে[সম্পাদনা]

লাঠি খেলার অসাধারণ ইতিহাস আছে কিন্তু এর জনপ্রিয়তা এখন পড়তির দিকে।[৭] ঈদ উপলক্ষে লাঠিখেলার আয়োজন সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, নড়াইল প্রভৃতি জেলায় ভিন্ন নামে দেখা যায়।[৫] লাঠি খেলা নিয়ে বর্তমানে নতুন দল তৈরি হচ্ছে না। এছাড়া পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেও লাঠি খেলা হারিয়ে যেতে বসেছে।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Lathi Khela to celebrate Tangail Free Day"। Tangail: the daily star। ডিসেম্বর ১৩, ২০১১। 
  2. "‘Lathi khela’ at Charukala"। bangladesh2day.com। ২৭ ডিসেম্বর, ২০০৮। সংগৃহীত জুন ০৯, ২০১৩ 
  3. "Three-day cultural fair ended in Barisal"। newagebd.com। ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১২। সংগৃহীত জুন ০৯, ২০১৩ 
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ ৪.৩ Lathial, from Banglapedia.
  5. ৫.০ ৫.১ ৫.২ ঈদ উৎসবের নানা রং,সাইমন জাকারিয়া, দৈনিক প্রথম আলো। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০২, ২০১৩
  6. "Lathi Khela to celebrate Tangail Free Day"। dhakamirror.com। ডিসেম্বর ১৩, ২০১১। সংগৃহীত জুন ০৯, ২০১৩ 
  7. "Two-day long traditional Lathi Khela ended in Kushtia"। thekushtiatimes.com। ডিসেম্বর ১৩th, ২০১০। সংগৃহীত জুন ০৯, ২০১৩ 
  8. হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা, সোনিয়া স্নিগ্ধা, এস,এম,বাবু, একাত্তর.টিভি। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৭, ২০১২

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]