আল মাহমুদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আল মাহমুদ
Al Mahmud.jpg
আল মাহমুদ
পেশা কবি, সম্পাদক, সাংবাদিক
জাতীয়তা ব্রিটিশ ভারতীয় (১৯৩৬-১৯৪৭)
পাকিস্তানী (১৯৪৭-১৯৭১)
বাংলাদেশী (১৯৭১-বর্তমান)
জাতি বাঙালি
নাগরিকত্ব ব্রিটিশ ভারত (১৯৩৬-১৯৪৭)
পাকিস্তান (১৯৪৭-১৯৭১)
বাংলাদেশ (১৯৭১-বর্তমান)
সময়কাল বিংশ শতাব্দী
ধরন কবিতা, গল্প, উপন্যাস
বিষয় গ্রামীণ জীবন, নারী
উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ

লোক লোকান্তর
কালের কলস
সোনালি কাবিন
মায়াবী পর্দা দুলে উঠো
কাবিলের বোন (উপন্যাস)

পানকৌড়ির রক্ত (গল্পগ্রন্থ)
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার একুশে পদক ,ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কার ইত্যাদি।
দাম্পত্যসঙ্গী সৈয়দা নাদিরা বেগম


আল মাহমুদ (জন্ম : ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দ) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তিনি একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক।[১] বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়াংশে সক্রিয় থেকে তিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাক্‌ভঙ্গীতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছেন। তিনি সরকার বিরোধী দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।

জন্ম ও বাল্যকাল[সম্পাদনা]

আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই[১] ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।[২] কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলের পড়াশোনা করেন। মূলত এই সময় থেকেই তার লেখালেখির শুরু। । আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। আজীবন আত্মপ্রত্যয়ী কবি ঢাকায় আসার পর কাব্য সাধনা করে একের পর এক সাফল্য লাভ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে কবি ঢাকা আসেন ১৯৫৪ সালে। সমকালীন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র/পত্রিকার মধ্যে কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। তিনি পাশাপাশি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। ১৯৫৫ সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর(১৯৬৩) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস(১৯৬৬),সোনালি কাবিন(১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো(১৯৬৯) কাব্যগ্রন্থগুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। ১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোটগল্প গ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল। আল মাহমুদ সাংবাদিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং যুদ্ধের পরে দৈনিক গণকণ্ঠ নামক পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এই পত্রিকায় সামসুদ্দিন পেয়ারা, মরহুম আসফউদ দৌলা, ফজলুল বারী প্রমুখ রিপোর্টার হিসাবে কাজ করেন। তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক বছরের জন্য একবার জেল খাটেন । পরে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু তাকে শিল্পকলা একাডেমীর গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। [৩]

সাহিত্যজীবন[সম্পাদনা]

১৯৫৪ সাল অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স থেকে তার কবিতা প্রকাশ পেতে থাকে। এ সময় তিনি ঢাকা আসেন এবং পত্রিকায় কাজ নেন ও সাহিত্যে পুরোদমে মনযোগী হন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকা এবং কলকাতার নতুন সাহিত্য, চতুষ্কোণ, ময়ূখ ও কৃত্তিবাস ও বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত বিখ্যাত 'কবিতা' পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা-কলকাতার পাঠকদের কাছে তার নাম সুপরিচিত হয়ে ওঠে এবং তাকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার শহরমুখী প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তার কবিতায় অবলম্বন করেন। আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।

১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে মাত্র দুটি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর সবচেয়ে সাড়া জাগানো সাহিত্যকর্ম সোনালি কাবিন

১৯৯০-এর দশক থেকে তাঁর কবিতায় বিশ্বস্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস উৎকীর্ণ হতে থাকে; এর জন্য তিনি প্রগতিশীলদের সমালোচনার মুখোমুখি হন। তবে ঈশ্বরানুগত্যের কারণে তার কবিতার কাব্যগুণ আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি আদৌ।

প্রকাশিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:কাব্যগ্রন্থ

  • লোক লোকান্তর (১৯৬৩)
  • কালের কলস (১৯৬৬)
  • সোনালী কাবিন (১৯৬৬)
  • মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৭৬)
  • আরব্য রজনীর রাজহাঁস
  • বখতিয়ারের ঘোড়া
  • অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না
  • Al Mahmud In English
  • দিনযাপন
  • দ্বিতীয় ভাঙ্গন
  • একটি পাখি লেজ ঝোলা
  • পাখির কাছে ফুলের কাছে
  • আল মাহমুদের গল্প
  • গল্পসমগ্র
  • প্রেমের গল্প
  • যেভাবে বেড়ে উঠি
  • কিশোর সমগ্র
  • কবির আত্নবিশ্বাস
  • কবিতাসমগ্র
  • কবিতাসমগ্র-২
  • পানকৌড়ির রক্ত
  • সৌরভের কাছে পরাজিত
  • গন্ধ বণিক
  • ময়ূরীর মুখ
  • না কোন শূন্যতা মানি না
  • নদীর ভেতরের নদী
  • পাখির কাছে , ফুলের কাছে
  • প্রেম ও ভালোবাসার কবিতা
  • প্রেম প্রকৃতির দ্রোহ আর প্রার্থনা কবিতা
  • প্রেমের কবিতা সমগ্র
  • উপমহাদেশ
  • বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ
  • উপন্যাস সমগ্র-১
  • উপন্যাস সমগ্র-২
  • উপন্যাস সমগ্র-৩
  • তোমার গন্ধে ফুল ফুটেছে
  • ছায়ায় ঢাকা মায়ার পাহাড় (রূপকথা)
  • ত্রিশেরা[৪]
  • উড়াল কাব্য[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. পয়েমহান্টার.কম। "আল মাহমুদ (১১ জুলাই, ১৯৩৬ - ব্রাহ্মণবাড়ীয়া/বাংলাদেশ)"। পয়েমহান্টার.কম। সংগৃহীত ১৭ জানুয়ারি, ২০১৩ 
  2. http://www.boiwala.com/writer.php?lang=bn&id=7
  3. http://priyokobita.wordpress.com/talents/almahmud/
  4. http://www.worldlingo.com/ma/enwiki/en/Al_Mahmud
  5. http://www.banglainternet.com/legends_al_mahmud.php

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]