বিষয়বস্তুতে চলুন

তঞ্চঙ্গ্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তঞ্চঙ্গ্যা
𑄖𑄧𑄐𑄴𑄌𑄧𑄁𑄉𑄴𑄡
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চল
সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে তঞ্চঙ্গ্যারা বাস করে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ভারতমিয়ানমার
ভাষা
তঞ্চঙ্গ্যা ভাষা
ধর্ম
থেরবাদ বৌদ্ধ

তঞ্চঙ্গ্যা বা 𑄖𑄧𑄐𑄴𑄌𑄧𑄁𑄉𑄴𑄡 পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যার দিক থেকে এদের স্থান ৫ম। ১৯৭৪ সালের আদমশুমারি অনুসারে এদের জনসংখ্যা ১৪,৭১৬ জন[], ১৯৮১ সালে ২০,০০০ জন[],১৯৯১ সালে ২১,০৫৭ জন[], ২০০১ সালে ৩১,১৬৪ জন, ২০১১ সালে ৪৪,২৫৪ জন এবং ২০২২ সালে ৪৫,৯৭২ জন। ১৯৯১ সালে এদের পরিবার সংখ্যা ছিল ৪,০৪৩টি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় পাহাড়ি জাতির মতো তঞ্চঙ্গ্যাদের আবাসভূমিও গড়ে ওঠে নদী সংলগ্ন উপত্যকায়। চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পার্বত্য চট্টগ্রাম সংলগ্ন জঙ্গল দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে, রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে, বিলাইছড়ি উপজেলার সদর ও ফারুয়া এলাকায়, রাঙ্গামাটি সদরের বালুখালি, সদর, মগবান ও ঝগড়াবিল এলাকায়, জুরাছড়ি জেলার বিলাইছড়ি সীমান্তবর্তী এলাকায় ও কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা, হরিণছড়া, আরাছড়ি, ভালুক্যা ও চন্দ্রঘোনার আশেপাশের এলাকায়, বান্দরবান জেলার সদর, কুহালং, রোয়াংছড়ি, রমতিয়া, রাজভিলা, সদর, আলীকদম ও নাক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলাটেকনাফ উপজেলা তঞ্চঙ্গ্যা জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। এছাড়াও ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্যের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলেও তঞ্চঙ্গ্যাদের আবাসভূমি রয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য এবং চিন রাজ্য এবং ইয়াংগুন শহরেও তঞ্চঙ্গ্যা রয়েছে। মায়ানমারে বসবাসকারী তঞ্চঙ্গ্যারা ‘দাইনাক’ নামে পরিচিত।

উৎপত্তি

[সম্পাদনা]

নৃতাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় তঞ্চঙ্গ্যারা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর লোক। তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠী ভারতীয় আর্য ভাষার অন্তর্গত পালি, প্রাকৃত, আদিবাংলা ভাষায় কথা বলে।

তঞ্চঙ্গ্যাদের পেশা মূলত কৃষি। বিভিন্ন পাহাড়ে, টিলায় বা উঁচু ভূমিতে প্রস্তুত করা বাগান-বাগিচায় বৃক্ষ রোপণ করেও কেউ কেউ জীবিকা নির্বাহ করে। অতীতে তারাও ব্যাপকভাবে জুম চাষ করতো যা বর্তমানেও অব্যাহত, তবে তুলনামূলকভাবে অনেকটা কম। তঞ্চঙ্গ্যাদের মধ্যে স্বাক্ষরতার হার খুব বেশি নয়। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কেউ কেউ চাকরি করে।

সংস্কৃতি

[সম্পাদনা]

তঞ্চঙ্গ্যাদের ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব পোশাক রয়েছে। তঞ্চঙ্গ্যা পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হল জামা,সাদা শার্ট কিন্তু বর্তমানে পুরুষরা তাদের পছন্দমত প্যান্ট, শার্ট, লুঙ্গি ইত্যাদি পরিধান করেন। নারীদের পোশাক পাইত্ কাবর্ নামে পরিচিত। নিম্নাংগে পরিধেয় পোশাককে পিনোইন বলে।নারীদের তাদের নিজস্ব পোশাক দেখতে খুবই আকর্ষণীয় লাগে।পাহাড়ি নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোশাক-পরিচ্ছদ ও অলংকার পরিধান করে তঞ্চঙ্গ্যা নারী। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদে বৈচিত্র্যও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তঞ্চঙ্গ্যা রমণীর পরনে থাকে প্রথমত সাত রঙের পিনুইন বা পিনন। পিননের দুই প্রান্তে লম্বালম্বি স্ট্রাইপ, মাঝখানে দুই প্রান্তে রঙের লম্বালম্বি স্ট্রাইপ এবং সমগ্র পিনোইনে বিভিন্ন রঙের সুতার স্ট্রাইপ থাকে। তঞ্চঙ্গ্যা রমণীরা অতীতে নানা ধরনের অলংকার পরত। তাদের ব্যবহৃত অলংকারের মধ্যে কানে রাজ্জুর ও ঝংকা, কবজিতে বাঘোর, কুচিখারু, বাহুতে তাজ্জুর, গলায় চন্দ্রহার, হাচুলি, সিকছড়া, জানছড়া প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এসব অলংকার সাধারণত রুপা দিয়ে তৈরি।

সাহিত্য ও সাহিত্যিক

[সম্পাদনা]

তঞ্চঙ্গ্যা ভাষার আদি-সাহিত্য গসাইন লামা। এর অর্থ স্রষ্টার আখ্যান। লিখেছিলেন সাধক কবি শিব চরণ। তাঁর পরে রাজকবি পমলাধন তঞ্চঙ্গ্যা[]। তাঁর পরবর্তী সময়ে কবিরত্ন কার্ত্তিক চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা পাহাড়ি বাংলা কবি হিসেবে স্বনামধন্য কবি ছিলেন।

বিখ্যাত ব্যক্তি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. যোগেশ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা : তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতি (১৯৮৫), পৃ. ৯।
  2. যোগেশ চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা : তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতি (১৯৮৫), পৃ. ৯।
  3. বাংলাদেশের আদিবাসী, পৃ. ৫৩।
  4. চাকমা রাজা কর্তৃক স্বীকৃত তাঁর রাজসভার সভাকবি। তিনি চাকমা রাজা ভুবন মোহন রায় ও রাজা নলিনাক্ষ রায় নামক দুই রাজার সভাকবি ছিলেন।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]