রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এই নিবন্ধটি বাঙালি সাহিত্যিক সম্পর্কিত। অন্যান্য ব্যবহারের জন্য, দেখুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (দ্ব্যর্থতা নিরসন)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ সাদাকালো আলোকচিত্র
১৯১৫ সালে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথ
জন্ম (১৮৬১-০৫-০৭)মে ৭, ১৮৬১
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, কলকাতা, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
মৃত্যু আগস্ট ৭, ১৯৪১(১৯৪১-০৮-০৭) (৮০ বছর)
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, কলকাতা, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
সমাধিস্থল কলকাতা
ছদ্মনাম ভানুসিংহ ঠাকুর (ভণিতা)
জীবিকা
ভাষা বাংলা, ইংরেজি
জাতীয়তা Flag of India.svg ভারতীয়
জাতি বাঙালি
সময়কাল বঙ্গীয় নবজাগরণ
সাহিত্য আন্দোলন প্রাসঙ্গিক আধুনিকতা
উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ গীতাঞ্জলি (১৯১০), রবীন্দ্র রচনাবলী
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার
(১৯১৩)
দম্পতি মৃণালিনী দেবী (বি. ১৮৭৩–১৯০২)
আত্মীয় ঠাকুর পরিবার

স্বাক্ষর Close-up on a Bengali word handwritten with angular, jaunty letters.


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ই মে, ১৮৬১ - ৭ই আগস্ট, ১৯৪১)[১] (২৫ বৈশাখ, ১২৬৮ - ২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)[১] ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক।[২] তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়।[৩] রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরুবিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়।[৪] রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ,[৫] ৩৮টি নাটক,[৬] ১৩টি উপন্যাস[৭] ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন[৮] তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প[৯] ও ১৯১৫টি গান[১০] যথাক্রমে গল্পগুচ্ছগীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে।[১১] রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত।[১২] এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন।[১৩] রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।[১৪]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[১৫][১৬][১৭][১৮] বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেননি; গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।[১৯] আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।ক[›][২০] ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-এ তাঁর "অভিলাষ" কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা।[২১] ১৮৭৮ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান।[২২] ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়।[২২] ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন।[২২] ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন।[২৩] ১৯০২ সালে তাঁর পত্নীবিয়োগ হয়।[২৩] ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।[২৩] ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন।[২৩] কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন।[২৪] ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।[২৫] ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়।[২৬] দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন।[২৫] ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনেই তাঁর মৃত্যু হয়।[২৭]

রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা।[২৮] রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক।[২৯] ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তাঁর রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল।[৩০] কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন।[৩১] সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন।[৩২] এর পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।[৩৩] রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে; রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন।[৩৪] সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন।[৩৫] রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি।[৩৬] তাঁর রচিত আমার সোনার বাংলাজনগণমন-অধিনায়ক জয় হে গানদুটি যথাক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত।[৩৭]

জীবন

প্রথম জীবন (১৮৬১–১৯০১)

শৈশব ও কৈশোর (১৮৬১ - ১৮৭৮)

কিশোর রবীন্দ্রনাথ, ১৮৭৭; জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্কেচ অবলম্বনে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক অঙ্কিত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭–১৯০৫)[৩৮] এবং মাতা ছিলেন সারদাসুন্দরী দেবী (১৮২৬–১৮৭৫)।[৩৯] রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পিতামাতার চতুর্দশ সন্তান।খ[›][৪০] জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার ছিল ব্রাহ্ম আদিধর্ম মতবাদের প্রবক্তা।[৪১][৪২] রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষেরা খুলনা জেলার রূপসা উপজেলা পিঠাভোগে বাস করতেন।[৪৩] ১৮৭৫ সালে মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের মাতৃবিয়োগ ঘটে।[২২] পিতা দেবেন্দ্রনাথ দেশভ্রমণের নেশায় বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে অতিবাহিত করতেন। তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে।[৪৪][৪৫] শৈশবে রবীন্দ্রনাথ কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্ম্যাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন করে পড়াশোনা করেছিলেন।[৪৬] কিন্তু বিদ্যালয়-শিক্ষায় অনাগ্রহী হওয়ায় বাড়িতেই গৃহশিক্ষক রেখে তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।[৪৭] ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুরপানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করতেন রবীন্দ্রনাথ।[৪৮][৪৯]

১৮৭৩ সালে এগারো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের উপনয়ন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[২১] এরপর তিনি কয়েক মাসের জন্য পিতার সঙ্গে দেশভ্রমণে বের হন।[২১] প্রথমে তাঁরা আসেন শান্তিনিকেতনে[৫০] এরপর পাঞ্জাবের অমৃতসরে কিছুকাল কাটিয়ে শিখদের উপাসনা পদ্ধতি পরিদর্শন করেন।[৫০] শেষে পুত্রকে নিয়ে দেবেন্দ্রনাথ যান পাঞ্জাবেরই (অধুনা ভারতের হিমাচল প্রদেশ রাজ্যে অবস্থিত) ডালহৌসি শৈলশহরের নিকট বক্রোটায়।[৫০] এখানকার বক্রোটা বাংলোয় বসে রবীন্দ্রনাথ পিতার কাছ থেকে সংস্কৃত ব্যাকরণ, ইংরেজি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞানইতিহাসের নিয়মিত পাঠ নিতে শুরু করেন।[৫০] দেবেন্দ্রনাথ তাঁকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী, কালিদাস রচিত ধ্রুপদি সংস্কৃত কাব্য ও নাটক এবং উপনিষদ্‌ পাঠেও উৎসাহিত করতেন।[৫১][৫২] ১৮৭৭ সালে ভারতী পত্রিকায় তরুণ রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা প্রকাশিত হয়। এগুলি হল মাইকেল মধুসূদনের "মেঘনাদবধ কাব্যের সমালোচনা", ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী এবং "ভিখারিণী" ও "করুণা" নামে দুটি গল্প। এর মধ্যে ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই কবিতাগুলি রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলির অনুকরণে "ভানুসিংহ" ভণিতায় রচিত।[৫৩] রবীন্দ্রনাথের "ভিখারিণী" গল্পটি (১৮৭৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।[৫৪][৫৫] ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তথা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কবিকাহিনী[৫৬] এছাড়া এই পর্বে তিনি রচনা করেছিলেন সন্ধ্যাসংগীত (১৮৮২) কাব্যগ্রন্থটি। রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতা "নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ" এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।[৫৭]

যৌবন (১৮৭৮-১৯০১)

Black-and-white photograph of a finely dressed man and woman: the man, smiling, stands akimbo behind a settle with a shawl draped over his shoulders and in Bengali formal wear. The woman, seated on the settle, is in elaborate Indian dress and shawl; she leans against a carved supporting a vase and flowing leaves.
স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, ১৮৮৩

১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে যান রবীন্দ্রনাথ।[৫৮] প্রথমে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন।[৫৮] ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু সাহিত্যচর্চার আকর্ষণে সেই পড়াশোনা তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি।[৫৮] ইংল্যান্ডে থাকাকালীন শেকসপিয়রঅন্যান্য ইংরেজ সাহিত্যিকদের রচনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ঘটে। এই সময় তিনি বিশেষ মনোযোগ সহকারে পাঠ করেন রিলিজিও মেদিচি, কোরিওলেনাস এবং অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা[৫৯] এই সময় তাঁর ইংল্যান্ডবাসের অভিজ্ঞতার কথা ভারতী পত্রিকায় পত্রাকারে পাঠাতেন রবীন্দ্রনাথ। উক্ত পত্রিকায় এই লেখাগুলি জ্যেষ্ঠভ্রাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমালোচনাসহ[৫৮] প্রকাশিত হত য়ুরোপযাত্রী কোনো বঙ্গীয় যুবকের পত্রধারা নামে।[২২] ১৮৮১ সালে সেই পত্রাবলি য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র নামে গ্রন্থাকারে ছাপা হয়। এটিই ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রথম গদ্যগ্রন্থ তথা প্রথম চলিত ভাষায় লেখা গ্রন্থ।[৫৮] অবশেষে ১৮৮০ সালে প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে কোনো ডিগ্রি না নিয়ে এবং ব্যারিস্টারি পড়া শুরু না করেই তিনি দেশে ফিরে আসেন।[৫৮]

১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর (২৪ অগ্রহায়ণ, ১২৯০ বঙ্গাব্দ) ঠাকুরবাড়ির অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায়চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিবাহ সম্পন্ন হয়।[৬০] বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী (১৮৭৩–১৯০২ )।[৬০] রবীন্দ্রনাথ ও মৃণালিনীর সন্তান ছিলেন পাঁচ জন: মাধুরীলতা (১৮৮৬–১৯১৮), রথীন্দ্রনাথ (১৮৮৮–১৯৬১), রেণুকা (১৮৯১–১৯০৩), মীরা (১৮৯৪–১৯৬৯) এবং শমীন্দ্রনাথ (১৮৯৬–১৯০৭)।[৬০] এঁদের মধ্যে অতি অল্প বয়সেই রেণুকা ও শমীন্দ্রনাথের মৃত্যু ঘটে।[৬১]

শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, বর্তমান চিত্র

১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে নদিয়া (নদিয়ার উক্ত অংশটি অধুনা বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলা), পাবনারাজশাহী জেলা এবং উড়িষ্যার জমিদারিগুলির তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ।[৬২] কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছিলেন। জমিদার রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে "পদ্মা" নামে একটি বিলাসবহুল পারিবারিক বজরায় চড়ে প্রজাবর্গের কাছে খাজনা আদায় ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে যেতেন। গ্রামবাসীরাও তাঁর সম্মানে ভোজসভার আয়োজন করত।[৬৩]

১৮৯০ সালে রবীন্দ্রনাথের অপর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ মানসী প্রকাশিত হয়। কুড়ি থেকে ত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে তাঁর আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও গীতিসংকলন প্রকাশিত হয়েছিল। এগুলি হলো প্রভাতসংগীত, শৈশবসঙ্গীত, রবিচ্ছায়া, কড়ি ও কোমল ইত্যাদি।[৬৪] ১৮৯১ থেকে ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত নিজের সম্পাদিত সাধনা পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু উৎকৃষ্ট রচনা প্রকাশিত হয়। তাঁর সাহিত্যজীবনের এই পর্যায়টি তাই "সাধনা পর্যায়" নামে পরিচিত।[৪৪] রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ গ্রন্থের প্রথম চুরাশিটি গল্পের অর্ধেকই এই পর্যায়ের রচনা।[৫৪] এই ছোটগল্পগুলিতে তিনি বাংলার গ্রামীণ জনজীবনের এক আবেগময় ও শ্লেষাত্মক চিত্র এঁকেছিলেন।[৬৫]

মধ্য জীবন (১৯০১–১৯৩২)

Black-and-white photograph of a bearded middle-aged man dressed in dark robes. He is seated on the floor of an elegantly appointed room and is in front of a plush sofa; he gazes fixedly away to the right, away from the camera.
১৯১২ সালে হ্যাম্পস্টেডে রবীন্দ্রনাথ; বন্ধু উইলিয়াম রোদেনস্টাইনের শিশুপুত্র জন রোদেনস্টাইন কর্তৃক গৃহীত ফটোগ্রাফ।

১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে[৬৬] এখানে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৮ সালে একটি আশ্রম ও ১৮৯১ সালে একটি ব্রহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।[৬৭] আশ্রমের আম্রকুঞ্জ উদ্যানে একটি গ্রন্থাগার নিয়ে রবীন্দ্রনাথ চালু করলেন "ব্রহ্মবিদ্যালয়" বা "ব্রহ্মচর্যাশ্র" নামে একটি পরীক্ষামূলক স্কুল।[৬৮] ১৯০২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে কবিপত্নী মৃণালিনী দেবী মারা যান।[৬৯] এরপর ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কন্যা রেণুকা,[৭০] ১৯০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর[৭১] ও ১৯০৭ সালের ২৩ নভেম্বর কনিষ্ঠ পুত্র শমীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়।[৭১]

এসবের মধ্যেই ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন।[৭২] ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠান আধুনিক কৃষি ও গোপালন বিদ্যা শেখার জন্য।[৭৩] ১৯০৭ সালে কনিষ্ঠা জামাতা নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়কেও কৃষিবিজ্ঞান শেখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।[৭৪]

এই সময় শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মবিদ্যালয়ে অর্থসংকট তীব্র হয়ে ওঠে। পাশাপাশি পুত্র ও জামাতার বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ভারও রবীন্দ্রনাথকে বহন করতে হয়।[৭৪] এমতাবস্থায় রবীন্দ্রনাথ স্ত্রীর গয়না ও পুরীর বসতবাড়িটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।[৭৫]

ইতোমধ্যেই অবশ্য বাংলা ও বহির্বঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কবিখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৯০১ সালে নৈবেদ্য ও ১৯০৬ সালে খেয়া কাব্যগ্রন্থের পর ১৯১০ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হয়।[৫][৭৬] ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি (ইংরেজি অনুবাদ, ১৯১২) কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য সুইডিশ অ্যাকাডেমি রবীন্দ্রনাথকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে।গ[›][৭৭] ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে 'স্যার' উপাধি (নাইটহুড) দেয়।[৭৮]

১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনের অদূরে সুরুল গ্রামে মার্কিন কৃষি-অর্থনীতিবিদ লেনার্ড নাইট এলমহার্স্ট, রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শান্তিনিকেতনের আরও কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রের সহায়তায় রবীন্দ্রনাথ "পল্লীসংগঠন কেন্দ্র" নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।[৭৯] এই সংস্থার উদ্দেশ্য ছিল কৃষির উন্নতিসাধন, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগ নিবারণ, সমবায় প্রথায় ধর্মগোলা স্থাপন, চিকিৎসার সুব্যবস্থা এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা।[৭৯] ১৯২৩ সালে রবীন্দ্রনাথ এই সংস্থার নাম পরিবর্তন করে রাখেন "শ্রীনিকেতন"।[৮০] শ্রীনিকেতন ছিল মহাত্মা গান্ধীর প্রতীক ও প্রতিবাদসর্বস্ব স্বরাজ আন্দোলনের একটি বিকল্প ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথ, গান্ধীর আন্দোলনের পন্থা-বিরোধী ছিলেন।[৮১] পরবর্তীকালে দেশ ও বিদেশের একাধিক বিশেষজ্ঞ, দাতা ও অন্যান্য পদাধিকারীরা শ্রীনিকেতনের জন্য আর্থিক ও অন্যান্য সাহায্য পাঠিয়েছিলেন।[৮২][৮৩]

১৯৩০-এর দশকের প্রথম ভাগে একাধিক বক্তৃতা, গান ও কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ভারতীয় সমাজের বর্ণাশ্রম প্রথা ও অস্পৃশ্যতার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।[৮৪][৮৫]

শেষ জীবন (১৯৩২-১৯৪১)

An old bearded man garbed in a dark mantle is reading from a slim book perched in his hands. He is sitting at a dark-toned desk cleared of everything but a neat stack of papers at left; in the background is a light-coloured curtain.
১৯৩০ সালে বার্লিনে রবীন্দ্রনাথ

জীবনের শেষ দশকে (১৯৩২-১৯৪১) রবীন্দ্রনাথের মোট পঞ্চাশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।[৮৬] তাঁর এই সময়কার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পুনশ্চ (১৯৩২), শেষ সপ্তক (১৯৩৫), শ্যামলীপত্রপুট (১৯৩৬) – এই গদ্যকবিতা সংকলন তিনটি।[৫] জীবনের এই পর্বে সাহিত্যের নানা শাখায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফসল হলো তাঁর একাধিক গদ্যগীতিকা ও নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা (১৯৩৬; চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২) কাব্যনাট্যের নৃত্যাভিনয়-উপযোগী রূপ) [৮৭], শ্যামা (১৯৩৯) ও চণ্ডালিকা (১৯৩৯) নৃত্যনাট্যত্রয়ী।[৮৮] এছাড়া রবীন্দ্রনাথ তাঁর শেষ তিনটি উপন্যাসও (দুই বোন (১৯৩৩), মালঞ্চ (১৯৩৪) ও চার অধ্যায় (১৯৩৪)) এই পর্বে রচনা করেছিলেন।[৭] তাঁর অধিকাংশ ছবি জীবনের এই পর্বেই আঁকা।[১৩] এর সঙ্গে সঙ্গে জীবনের শেষ বছরগুলিতে বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বিজ্ঞান-বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন বিশ্বপরিচয়[৮৯] এই গ্রন্থে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের আধুনিকতম সিদ্ধান্তগুলি সরল বাংলা গদ্যে লিপিবদ্ধ করেছিলেন।[৮৯] পদার্থবিদ্যাজ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে তাঁর অর্জিত জ্ঞানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তাঁর কাব্যেও।[৯০] সে (১৯৩৭), তিন সঙ্গী (১৯৪০) ও গল্পসল্প (১৯৪১) গল্পসংকলন তিনটিতে তাঁর বিজ্ঞানী চরিত্র-কেন্দ্রিক একাধিক গল্প সংকলিত হয়েছে।[৯১]

জীবনের এই পর্বে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্রতম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশ বিহার প্রদেশে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুকে গান্ধীজি "ঈশ্বরের রোষ" বলে অভিহিত করলে, রবীন্দ্রনাথ গান্ধীজির এহেন বক্তব্যকে অবৈজ্ঞানিক বলে চিহ্নিত করেন এবং প্রকাশ্যে তাঁর সমালোচনা করেন।[৯২] কলকাতার সাধারণ মানুষের আর্থিক দুরবস্থা ও ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের দ্রুত আর্থসামাজিক অবক্ষয় তাঁকে বিশেষভাবে বিচলিত করে তুলেছিল। গদ্যছন্দে রচিত একটি শত-পংক্তির কবিতায় তিনি এই ঘটনা চিত্রায়িতও করেছিলেন।[৯৩][৯৪]

জীবনের শেষ চার বছর ছিল তাঁর ধারাবাহিক শারীরিক অসুস্থতার সময়।[৯৫] এই সময়ের মধ্যে দুইবার অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল তাঁকে।[৯৫] ১৯৩৭ সালে একবার অচৈতন্য হয়ে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থা হয়েছিল কবির।[৯৫] সেবার সেরে উঠলেও ১৯৪০ সালে অসুস্থ হওয়ার পর আর তিনি সেরে উঠতে পারেননি।[৯৫] এই সময়পর্বে রচিত রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলি ছিল মৃত্যুচেতনাকে কেন্দ্র করে সৃজিত কিছু অবিস্মরণীয় পংক্তিমালা।[৯৫][৯৬] মৃত্যুর সাত দিন আগে পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টিশীল ছিলেন।[২৭] দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৯৪১ সালে জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।[৯৭][৯৮]

বিশ্বভ্রমণ

A moustached man in a lounge suit and necktie (left) sits next to a white-haired, bearded man dressed in robes (right). Both look toward the camera.
আইনস্টাইনের সঙ্গে, ১৯৩০

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট বারো বার বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন।[৯৯] ১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে তিনি পাঁচটি মহাদেশের ত্রিশটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন।[১০০] প্রথম জীবনে দুই বার (১৮৭৮ ও ১৮৯০ সালে) তিনি ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন।[৯৯] ১৯১২ সালে ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য তৃতীয়বার ইংল্যান্ডে গিয়ে ইয়েটস প্রমুখ কয়েকজন ইংরেজ কবি ও বুদ্ধিজীবীদের কাছে সদ্যরচিত গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ পাঠ করে শোনান।[৯৯] কবিতাগুলি শুনে তাঁরাও মুগ্ধ হয়েছিলেন।[৯৯] ইয়েটস স্বয়ং উক্ত কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকাটি লিখে দিয়েছিলেন।[১০১] এই ভ্রমণের সময়েই "দীনবন্ধু" চার্লস ফ্রিয়ার অ্যান্ড্রুজের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ঘটে।[১০২] ১৯১৩ সালে সুইডিশ অ্যাকাডেমি তাঁকে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করে।[৯৯] ১৯১৬-১৭ সালে জাপানমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ সাম্রাজ্যবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কতকগুলি বক্তৃতা দেন।[১০৩][১০৪][১০৫] এই বক্তৃতাগুলি সংকলিত হয় তাঁর ন্যাশনালিজম (১৯১৭) গ্রন্থে।[৯৯][১০৬] তবে জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মতামত উক্ত দুই দেশে সেই সফরকালে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।[৯৯] ১৯২০-২১ সাল নাগাদ আবার ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান কবি।[৯৯] এই সফরের সময় পাশ্চাত্য দেশগুলিতে তিনি সংবর্ধিত হয়েছিলেন।[৯৯] ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথ যান চীন সফরে।[৯৯] এরপর চীন থেকে জাপানে গিয়ে সেখানেও জাতীয়তাবাদবিরোধী বক্তৃতা দেন কবি।[৯৯] ১৯২৪ সালের শেষের দিকে পেরু সরকারের আমন্ত্রণে সেদেশে যাওয়ার পথে আর্জেন্টিনায় অসুস্থ হয়ে কবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর আতিথ্যে তিন মাস কাটান।[১০৭] স্বাস্থ্যের কারণে পেরু ভ্রমণ তিনি স্থগিত করে দেন।[১০৮] পরে পেরু ও মেক্সিকো উভয় দেশের সরকারই বিশ্বভারতীকে ১,০০,০০০ মার্কিন ডলার অর্থসাহায্য প্রদান করেছিল।[১০৯] ১৯২৬ সালে বেনিতো মুসোলিনির আমন্ত্রণে ইতালি সফরে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।[১১০] প্রথমে মুসোলিনির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলেও, পরে লোকমুখে তাঁর স্বৈরাচারের কথা জানতে পেরে, মুসোলিনির কাজকর্মের সমালোচনা করেন কবি। এর ফলে উভয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ছেদ পড়ে।[১১১] এরপর রবীন্দ্রনাথ গ্রিস, তুরস্কমিশর ভ্রমণ করে ভারতে ফিরে আসেন।[৯৯]

Group shot of dozens of people assembled at the entrance of an imposing building; two columns in view. All subjects face the camera. All but two are dressed in lounge suits: a woman at front-center wears light-coloured Persian garb; the man to her left, first row, wears a white beard and dark-coloured oriental cap and robes.
তেহরানের মজলিশে, ১৯৩২[১১২]

১৯২৭ সালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ চার সঙ্গীকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ গিয়েছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে। এই সময় তিনি ভ্রমণ করেন বালি, জাভা, কুয়ালালামপুর, মালাক্কা, পেনাং, সিয়ামসিঙ্গাপুর[১১৩] ১৯৩০ সালে কবি শেষবার ইংল্যান্ডে যান অক্সফোর্ডে হিবার্ট বক্তৃতা দেওয়ার জন্য।[৯৯] এরপর তিনি ভ্রমণ করেন ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সোভিয়েত রাশিয়ামার্কিন যুক্তরাষ্ট্র[১১৪][১১৫][১১৬] ১৯৩২ সালে ইরাকপারস্য ভ্রমণে গিয়েছিলেন কবি।[৯৯] এরপর ১৯৩৪ সালে সিংহলে যান রবীন্দ্রনাথ। এটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ বিদেশ সফর।[১১৭][১১৮]

রবীন্দ্রনাথ যেসকল বইতে তাঁর বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাগুলি লিপিবদ্ধ করে রাখেন সেগুলি হল: য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্র (১৮৮১), য়ুরোপ-যাত্রীর ডায়ারি (১৮৯১, ১৮৯৩), জাপান-যাত্রী (১৯১৯), যাত্রী (পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারিজাভা-যাত্রীর পত্র, ১৯২৯), রাশিয়ার চিঠি (১৯৩১), পারস্যে (১৯৩৬) ও পথের সঞ্চয় (১৯৩৯)।[৯৯] ব্যাপক বিশ্বভ্রমণের ফলে রবীন্দ্রনাথ তাঁর সমসাময়িক অরিঁ বের্গসঁ, আলবার্ট আইনস্টাইন, রবার্ট ফ্রস্ট, টমাস মান, জর্জ বার্নার্ড শ, এইচ জি ওয়েলস, রোম্যাঁ রোলাঁ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন।[১১৯][১২০] জীবনের একেবারে শেষপর্বে পারস্য, ইরাক ও সিংহল ভ্রমণের সময় মানুষের পারস্পরিক ভেদাভেদ ও জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে তাঁর বিতৃষ্ণা আরও তীব্র হয়েছিল মাত্র।[১২১] অন্যদিকে বিশ্বপরিক্রমার ফলে ভারতের বাইরে নিজের রচনাকে পরিচিত করে তোলার এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক মতবিনিময়ের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি।[৯৯]

সৃষ্টিকর্ম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন মূলত এক কবি। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কাব্যরচনা শুরু করেন। তাঁর প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫২। তবে বাঙালি সমাজে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রধানত সংগীতস্রষ্টা হিসেবে। রবীন্দ্রনাথ প্রায় দুই হাজার গান লিখেছিলেন। কবিতা ও গান ছাড়াও তিনি ১৩টি উপন্যাস, ৯৫টি ছোটগল্প, ৩৬টি প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ এবং ৩৮টি নাটক রচনা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সমগ্র রচনা রবীন্দ্র রচনাবলী নামে ৩২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর সামগ্রিক চিঠিপত্র উনিশ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রবর্তিত নৃত্যশৈলী "রবীন্দ্রনৃত্য" নামে পরিচিত।[১২২]

কবিতা

Three-verse handwritten composition; each verse has original Bengali with English-language translation below: "My fancies are fireflies: specks of living light twinkling in the dark. The same voice murmurs in these desultory lines, which is born in wayside pansies letting hasty glances pass by. The butterfly does not count years but moments, and therefore has enough time."
কবির হস্তাক্ষরে কবিতা, হাঙ্গেরিতে লিখিত, ১৯২৬: বাংলা ও ইংরেজিতে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম জীবনে ছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তীর (১৮৩৫-১৮৯৪) অনুসারী কবি।[১২৩] তাঁর কবিকাহিনী, বনফুলভগ্নহৃদয় কাব্য তিনটিতে বিহারীলালের প্রভাব সুস্পষ্ট।[১২৪] সন্ধ্যাসংগীত কাব্যগ্রন্থ থেকে রবীন্দ্রনাথ নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে শুরু করেন।[১২৪] এই পর্বের সন্ধ্যাসংগীত, প্রভাতসংগীত, ছবি ও গানকড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু ছিল মানব হৃদয়ের বিষণ্ণতা, আনন্দ, মর্ত্যপ্রীতি ও মানবপ্রেম।[১২৪] ১৮৯০ সালে প্রকাশিত মানসী এবং তার পর প্রকাশিত সোনার তরী (১৮৯৪), চিত্রা (১৮৯৬), চৈতালি (১৮৯৬), কল্পনা (১৯০০) ও ক্ষণিকা (১৯০০) কাব্যগ্রন্থে ফুটে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের প্রেম ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত রোম্যান্টিক ভাবনা।[১২৪] ১৯০১ সালে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার পর রবীন্দ্রনাথের কবিতায় আধ্যাত্মিক চিন্তার প্রাধান্য লক্ষিত হয়। এই চিন্তা ধরা পড়েছে নৈবেদ্য (১৯০১), খেয়া (১৯০৬), গীতাঞ্জলি (১৯১০), গীতিমাল্য (১৯১৪) ও গীতালি (১৯১৪) কাব্যগ্রন্থে।[১২৪] ১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটলে বলাকা (১৯১৬) কাব্যে রবীন্দ্রনাথের কবিতায় আধ্যাত্মিক চিন্তার পরিবর্তে আবার মর্ত্যজীবন সম্পর্কে আগ্রহ ফুটে ওঠে।[১২৪] পলাতকা (১৯১৮) কাব্যে গল্প-কবিতার আকারে তিনি নারীজীবনের সমসাময়িক সমস্যাগুলি তুলে ধরেন।[১২৪] পূরবী (১৯২৫) ও মহুয়া (১৯২৯) কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ আবার প্রেমকে উপজীব্য করেন।[১২৪] এরপর পুনশ্চ (১৯৩২), শেষ সপ্তক (১৯৩৫), পত্রপুট (১৯৩৬) ও শ্যামলী (১৯৩৬) নামে চারটি গদ্যকাব্য প্রকাশিত হয়।[১২৪] জীবনের শেষ দশকে কবিতার আঙ্গিক ও বিষয়বস্তু নিয়ে কয়েকটি নতুন পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।[১২৪] এই সময়কার রোগশয্যায় (১৯৪০), আরোগ্য (১৯৪১), জন্মদিনে (১৯৪১) ও শেষ লেখা (১৯৪১, মরণোত্তর প্রকাশিত) কাব্যে মৃত্যু ও মর্ত্যপ্রীতিকে একটি নতুন আঙ্গিকে পরিস্ফুট করেছিলেন তিনি।[১২৪] শেষ কবিতা "তোমার সৃষ্টির পথ" মৃত্যুর আট দিন আগে মৌখিকভাবে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।[১২৪]

রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলি, উপনিষদ্‌, কবীরের দোঁহাবলি, লালনের বাউল গান ও রামপ্রসাদ সেনের শাক্ত পদাবলি সাহিত্যের প্রভাব লক্ষিত হয়।[১২৫][১২৬][১২৭] তবে প্রাচীন সাহিত্যের দুরূহতার পরিবর্তে তিনি এক সহজ ও সরস কাব্যরচনার আঙ্গিক গ্রহণ করেছিলেন। আবার ১৯৩০-এর দশকে কিছু পরীক্ষামূলক লেখালেখির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতা ও বাস্তবতাবোধের প্রাথমিক আবির্ভাব প্রসঙ্গে নিজ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছিলেন কবি।[১২৮] বহির্বিশ্বে তাঁর সর্বাপেক্ষা সুপরিচিত কাব্যগ্রন্থটি হল গীতাঞ্জলি। এ বইটির জন্যই তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন।[১২৯] নোবেল ফাউন্ডেশন তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটিকে বর্ণনা করেছিল একটি "গভীরভাবে সংবেদনশীল, উজ্জ্বল ও সুন্দর কাব্যগ্রন্থ" রূপে।[১৩০]

ছোটগল্প

চিত্র:The Hero Illustration.jpg
১৯১৩ সালে ম্যাকমিলান প্রকাশিত দ্য ক্রেসেন্ট মুন (শিশু ভোলানাথ) অনুবাদগ্রন্থের দ্য হিরো (বীরপুরুষ) আখ্যানকবিতার নন্দলাল বসুকৃত অলংকরণ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্পকার।[১৩১][১৩২] মূলত হিতবাদী, সাধনা, ভারতী, সবুজ পত্র প্রভৃতি মাসিক পত্রিকাগুলির চাহিদা মেটাতে তিনি তাঁর ছোটগল্পগুলি রচনা করেছিলেন।[১৩৩] এই গল্পগুলির উচ্চ সাহিত্যমূল্য-সম্পন্ন।[১৩৩] রবীন্দ্রনাথের জীবনের "সাধনা" পর্বটি (১৮৯১–৯৫) ছিল সর্বাপেক্ষা সৃষ্টিশীল পর্যায়। তাঁর গল্পগুচ্ছ গল্পসংকলনের প্রথম তিন খণ্ডের চুরাশিটি গল্পের অর্ধেকই রচিত হয় এই সময়কালের মধ্যে।[৫৪] গল্পগুচ্ছ সংকলনের অন্য গল্পগুলির অনেকগুলিই রচিত হয়েছিল রবীন্দ্রজীবনের সবুজ পত্র পর্বে (১৯১৪–১৭; প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নামানুসারে) [৫৪] তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গল্প হল "কঙ্কাল", "নিশীথে", "মণিহারা", "ক্ষুধিত পাষাণ", "স্ত্রীর পত্র", "নষ্টনীড়", "কাবুলিওয়ালা", "হৈমন্তী", "দেনাপাওনা", "মুসলমানীর গল্প" ইত্যাদি।[১৩৩] শেষ জীবনে রবীন্দ্রনাথ লিপিকা, সেতিনসঙ্গী গল্পগ্রন্থে নতুন আঙ্গিকে গল্পরচনা করেছিলেন।[১৩৪]

রবীন্দ্রনাথ তাঁর গল্পে পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলি বা আধুনিক ধ্যানধারণা সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করতেন। কখনও তিনি মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বৌদ্ধিক বিশ্লেষণকেই গল্পে বেশি প্রাধান্য দিতেন।[১৩৫]

রবীন্দ্রনাথের একাধিক ছোটগল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র, নাটক ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মিত হয়েছে। তাঁর গল্পের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রায়ণ হল সত্যজিৎ রায় পরিচালিত তিন কন্যা ("মনিহারা", "পোস্টমাস্টার" ও "সমাপ্তি" অবলম্বনে)[১৩৬]চারুলতা ("নষ্টনীড়" অবলম্বনে) [১৩৭], তপন সিংহ পরিচালিত অতিথি, কাবুলিওয়ালাক্ষুধিত পাষাণ[১৩৮], পূর্ণেন্দু পত্রী পরিচালিত স্ত্রীর পত্র[১৩৯] ইত্যাদি।

উপন্যাস

Black-and-white close-up photograph of a piece of wood boldly painted in unmixed solid strokes of black and white in a stylized semblance to "ra" and "tha" from the Bengali syllabary.
কাঠের সিলে খোদিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামের আদ্যক্ষরদ্বয় ("র-ঠ")। প্রাচীন হাইদা খোদাই লিপির সঙ্গে এর শৈলীগত মিল লক্ষণীয়। রবীন্দ্রনাথ প্রায়ই তাঁর পাণ্ডুলিপিগুলিতে এই ধরণের নকশা অঙ্কন করতেন।[১৪০]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট তেরোটি উপন্যাস রচনা করেছিলেন।[১৩৩] এগুলি হল: বৌ-ঠাকুরাণীর হাট (১৮৮৩), রাজর্ষি (১৮৮৭), চোখের বালি (১৯০৩), নৌকাডুবি (১৯০৬), প্রজাপতির নির্বন্ধ (১৯০৮), গোরা (১৯১০), ঘরে বাইরে (১৯১৬), চতুরঙ্গ (১৯১৬), যোগাযোগ (১৯২৯), শেষের কবিতা (১৯২৯), দুই বোন (১৯৩৩), মালঞ্চ (১৯৩৪) ও চার অধ্যায় (১৯৩৪)।[১৩৩] বৌ-ঠাকুরাণীর হাটরাজর্ষি ঐতিহাসিক উপন্যাস। এদুটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস রচনার প্রচেষ্টা।[১৩৩] এরপর থেকে ছোটগল্পের মতো তাঁর উপন্যাসগুলিও মাসিকপত্রের চাহিদা অনুযায়ী নবপর্যায় বঙ্গদর্শন, প্রবাসী, সবুজ পত্র, বিচিত্রা প্রভৃতি পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।[১৩৩]

চোখের বালি উপন্যাসে দেখানো হয়েছে সমসাময়িককালে বিধবাদের জীবনের নানা সমস্যা।[১৩৩] নৌকাডুবি উপন্যাসটি আবার লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।[১৩৩] গোরা রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।[১৩৩] এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধের হিন্দু ও ব্রাহ্মসমাজের সংঘাত ও ভারতের তদানীন্তন সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলি।[১৩৩] ঘরে বাইরে উপন্যাসের বিষয়বস্তু ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নারী ও পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা।[১৪১][১৪২][১৪৩] স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের জটিলতা আরও সূক্ষ্মভাবে উঠে এসেছে তাঁর পরবর্তী যোগাযোগ উপন্যাসেও।[১৩৩] চতুরঙ্গ উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের “ছোটগল্পধর্মী উপন্যাস”।[১৩৩] স্ত্রীর অসুস্থতার সুযোগে স্বামীর অন্য স্ত্রীলোকের প্রতি আসক্তি – এই বিষয়টিকে উপজীব্য করে রবীন্দ্রনাথ দুই বোনমালঞ্চ উপন্যাসদুটি লেখেন।[১৩৩] এর মধ্যে প্রথম উপন্যাসটি মিলনান্তক ও দ্বিতীয়টি বিয়োগান্তক।[১৩৩] রবীন্দ্রনাথের শেষ উপন্যাস চার অধ্যায় সমসাময়িক বিপ্লবী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি বিয়োগান্তক প্রেমের উপন্যাস।[১৩৩]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্যজিৎ রায়ের ঘরে বাইরে)[১৪৪]ঋতুপর্ণ ঘোষের চোখের বালি

প্রবন্ধ ও পত্রসাহিত্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন। [৩১] এইসব প্রবন্ধে তিনি সমাজ, রাষ্ট্রনীতি, ধর্ম, সাহিত্যতত্ত্ব, ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব, ছন্দ, সংগীত ইত্যাদি নানা বিষয়ে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করেন।[৩১] রবীন্দ্রনাথের সমাজচিন্তামূলক প্রবন্ধগুলি সমাজ (১৯০৮) সংকলনে সংকলিত হয়েছে।[৩১] রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন সময়ে লেখা রাজনীতি-সংক্রান্ত প্রবন্ধগুলি সংকলিত হয়েছে কালান্তর (১৯৩৭) সংকলনে।[৩১] রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও আধ্যাত্মিক অভিভাষণগুলি সংকলিত হয়েছে ধর্ম (১৯০৯) ও শান্তিনিকেতন (১৯০৯-১৬) অভিভাষণমালায়।[৩১] রবীন্দ্রনাথের ইতিহাস-সংক্রান্ত প্রবন্ধগুলি স্থান পেয়েছে ভারতবর্ষ (১৯০৬), ইতিহাস (১৯৫৫) ইত্যাদি গ্রন্থে।[৩১] সাহিত্য (১৯০৭), সাহিত্যের পথে (১৯৩৬) ও সাহিত্যের স্বরূপ (১৯৪৩) গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যতত্ত্ব আলোচনা করেছেন।[৩১] রবীন্দ্রনাথ ধ্রুপদি ভারতীয় সাহিত্য ও আধুনিক সাহিত্যের সমালোচনা করেছেন যথাক্রমে প্রাচীন সাহিত্য (১৯০৭) ও আধুনিক সাহিত্য (১৯০৭) গ্রন্থদুটিতে।[৩১] লোকসাহিত্য (১৯০৭) প্রবন্ধমালায় তিনি আলোচনা করেছেন বাংলা লোকসাহিত্যের প্রকৃতি।[৩১] ভাষাতত্ত্ব নিয়ে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনা লিপিবদ্ধ রয়েছে শব্দতত্ত্ব (১৯০৯), বাংলা ভাষা পরিচয় (১৯৩৮) ইত্যাদি গ্রন্থে।[৩১] ছন্দ ও সংগীত নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন যথাক্রমে ছন্দ (১৯৩৬) ও সংগীতচিন্তা (১৯৬৬) গ্রন্থে।[৩১] বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথ তাঁর শিক্ষা-সংক্রান্ত ভাবনাচিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা (১৯০৮) প্রবন্ধমালায়।[৩১] ন্যাশনালিজম (ইংরেজি: Nationalism, ১৯১৭) গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ উগ্র জাতীয়তাবাদের বিশ্লেষণ করে তার বিরোধিতা করেছেন।[৩১] অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দর্শন বিষয়ে যে বিখ্যাত বক্তৃতাগুলি দিয়েছিলেন সেগুলি রিলিজিয়ন অফ ম্যান (ইংরেজি: Religion of Man, ১৯৩০; বাংলা অনুবাদ মানুষের ধর্ম, ১৯৩৩) নামে সংকলিত হয়।[৩১] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা জন্মদিনের অভিভাষণ সভ্যতার সংকট (১৯৪১) তাঁর সর্বশেষ প্রবন্ধগ্রন্থ।[৩১] জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বপরিচয় (১৯৩৭) নামে একটি তথ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছিলেন।[৩১] জীবনস্মৃতি (১৯১২), ছেলেবেলা (১৯৪০) ও আত্মপরিচয় (১৯৪৩) তাঁর আত্মকথামূলক গ্রন্থ।[৩১]

রবীন্দ্রনাথের সামগ্রিক পত্রসাহিত্য আজ পর্যন্ত উনিশটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।[১২] এছাড়া ছিন্নপত্রছিন্নপত্রাবলী (ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণীকে লেখা), ভানুসিংহের পত্রাবলী (রানু অধিকারীকে (মুখোপাধ্যায়) লেখা) ও পথে ও পথের প্রান্তে (নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা) বই তিনটি রবীন্দ্রনাথের তিনটি উল্লেখযোগ্য পত্রসংকলন।[১২]

নাট্যসাহিত্য

বাল্মীকি-প্রতিভা নাটকের দৃশ্য, কলকাতার একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপের দেওয়ালচিত্রে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে ছিলেন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা।[১৪৫] জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির পারিবারিক নাট্যমঞ্চে মাত্র ষোলো বছর বয়সে অগ্রজ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত হঠাৎ নবাব নাটকে (মলিয়ের লা বুর্জোয়া জাঁতিরোম অবলম্বনে রচিত) [১৪৬] ও পরে জ্যোতিরিন্দ্রনাথেরই অলীকবাবু নাটকে নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।[১৪৫] ১৮৮১ সালে তাঁর প্রথম গীতিনাট্য বাল্মীকি-প্রতিভা মঞ্চস্থ হয়।[১৪৫][১৪৭] এই নাটকে তিনি ঋষি বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।[১৪৫][১৪৭] ১৮৮২ সালে রবীন্দ্রনাথ রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে কালমৃগয়া নামে আরও একটি গীতিনাট্য রচনা করেছিলেন।[১৪৫][১৪৭] এই নাটক মঞ্চায়নের সময় তিনি অন্ধমুনির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।[১৪৫][১৪৭]

গীতিনাট্য রচনার পর রবীন্দ্রনাথ কয়েকটি কাব্যনাট্য রচনা করেন।[১৪৫][১৪৭] শেকসপিয়রীয় পঞ্চাঙ্ক রীতিতে রচিত তাঁর রাজা ও রাণী (১৮৮৯)[১৪৮]বিসর্জন (১৮৯০)[১৪৯] বহুবার সাধারণ রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হয় এবং তিনি নিজে এই নাটকগুলিতে অভিনয়ও করেন।[১৪৫] ১৮৮৯ সালে রাজা ও রাণী নাটকে বিক্রমদেবের ভূমিকায় অভিনয় করেন রবীন্দ্রনাথ।[১৪৫] বিসর্জন নাটকটি দুটি ভিন্ন সময়ে মঞ্চায়িত করেছিলেন তিনি।[১৪৫] ১৮৯০ সালের মঞ্চায়নের সময় যুবক রবীন্দ্রনাথ বৃদ্ধ রঘুপতির ভূমিকায় এবং ১৯২৩ সালের মঞ্চায়নের সময় বৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথ যুবক জয়সিংহের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।[১৪৫] কাব্যনাট্য পর্বে রবীন্দ্রনাথের আরও দুটি উল্লেখযোগ্য নাটক হল চিত্রাঙ্গদা (১৮৯২)[১৫০]মালিনী (১৮৯৬)।[১৪৫][১৫১]

কাব্যনাট্যের পর রবীন্দ্রনাথ প্রহসন রচনায় মনোনিবেশ করেন।[১৪৫] এই পর্বে প্রকাশিত হয় গোড়ায় গলদ (১৮৯২), বৈকুণ্ঠের খাতা (১৮৯৭), হাস্যকৌতুক (১৯০৭) ও ব্যঙ্গকৌতুক (১৯০৭)।[১৪৫] বৈকুণ্ঠের খাতা নাটকে রবীন্দ্রনাথ কেদারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।[১৪৫] ১৯২৬ সালে তিনি প্রজাপতির নির্বন্ধ উপন্যাসটিকেও চিরকুমার সভা নামে একটি প্রহসনমূলক নাটকের রূপ দেন।[১৪৫][১৫২]

তাসের দেশ নাটকের একটি আধুনিক উপস্থাপনা

১৯০৮ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ রূপক-সাংকেতিক তত্ত্বধর্মী নাট্যরচনা শুরু করেন।[১৪৫] ইতিপূর্বে প্রকৃতির প্রতিশোধ (১৮৮৪) নাটকে তিনি কিছুটা রূপক-সাংকেতিক আঙ্গিক ব্যবহার করেছিলেন।[১৪৫] কিন্তু ১৯০৮ সালের পর থেকে একের পর এক নাটক তিনি এই আঙ্গিকে লিখতে শুরু করেন।[১৪৫] এই নাটকগুলি হল: শারদোৎসব (১৯০৮), রাজা (১৯১০), ডাকঘর (১৯১২), অচলায়তন (১৯১২), ফাল্গুনী (১৯১৬), মুক্তধারা (১৯২২), রক্তকরবী (১৯২৬), তাসের দেশ (১৯৩৩), কালের যাত্রা (১৯৩২) ইত্যাদি।[১৪৫] এই সময় রবীন্দ্রনাথ প্রধানত শান্তিনিকেতনে মঞ্চ তৈরি করে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে অভিনয়ের দল গড়ে মঞ্চস্থ করতেন।[১৪৫] কখনও কখনও কলকাতায় গিয়েও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করতেন তিনি।[১৪৫] এই সব নাটকেও একাধিক চরিত্রে অভিনয় করেন রবীন্দ্রনাথ।[১৪৫] তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ১৯১১ সালে শারদোৎসব নাটকে সন্ন্যাসী এবং রাজা নাটকে রাজা ও ঠাকুরদাদার যুগ্ম ভূমিকায় অভিনয়; ১৯১৪ সালে অচলায়তন নাটকে অদীনপুণ্যের ভূমিকায় অভিনয়; ১৯১৫ সালে ফাল্গুনী নাটকে অন্ধ বাউলের ভূমিকায় অভিনয়; ১৯১৭ সালে ডাকঘর নাটকে ঠাকুরদা, প্রহরী ও বাউলের ভূমিকায় অভিনয়।[১৪৫] নাট্যরচনার পাশাপাশি এই পর্বে ছাত্রছাত্রীদের অভিনয়ের প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথ পুরোন নাটকগুলি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ করে নতুন নামে প্রকাশ করেন।[১৪৫] শারদোৎসব নাটকটি হয় ঋণশোধ (১৯২১), রাজা হয় অরূপরতন (১৯২০), অচলায়তন হয় গুরু (১৯১৮), গোড়ায় গলদ হয় শেষরক্ষা (১৯২৮), রাজা ও রাণী হয় তপতী (১৯২৯) এবং প্রায়শ্চিত্ত হয় পরিত্রাণ (১৯২৯)।[১৪৫]

১৯২৬ সালে নটীর পূজা নাটকে অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে নাচ ও গানের প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ।[১৪৫] এই ধারাটিই তাঁর জীবনের শেষ পর্বে “নৃত্যনাট্য” নামে পূর্ণ বিকাশ লাভ করে।[১৪৫] নটীর পূজা নৃত্যনাট্যের পর রবীন্দ্রনাথ একে একে রচনা করেন শাপমোচন (১৯৩১), তাসের দেশ (১৯৩৩), নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা (১৯৩৬), নৃত্যনাট্য চণ্ডালিকা (১৯৩৮) ও শ্যামা (১৯৩৯)।[১৪৫] এগুলিও শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীরাই প্রথম মঞ্চস্থ করেছিলেন।[১৪৫]

সংগীত ও নৃত্যকলা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্ঠে তবু মনে রেখো গান[১৫৩]

এই ফাইলটি শুনতে অসুবিধা হচ্ছে? মিডিয়া সাহায্য দেখুন।
মূল নিবন্ধ: রবীন্দ্রসংগীত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৫টি গান রচনা করেছিলেন।[১০] ধ্রুপদি ভারতীয় সংগীত, বাংলা লোকসংগীত ও ইউরোপীয় সংগীতের ধারা তিনটিকে আত্মস্থ করে তিনি একটি স্বকীয় সুরশৈলীর জন্ম দেন।[১৫৪] রবীন্দ্রনাথ তাঁর বহু কবিতাকে গানে রূপান্তরিত করেছিলেন।[১৫৫] রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ সুকুমার সেন রবীন্দ্রসংগীত রচনার ইতিহাসে চারটি পর্ব নির্দেশ করেছেন।[১৫৬] প্রথম পর্বে তিনি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্ট গীতের অনুসরণে গান রচনা শুরু করেছিলেন।[১৫৬] দ্বিতীয় পর্যায়ে (১৮৮৪-১৯০০) পল্লীগীতি ও কীর্তনের অনুসরণে রবীন্দ্রনাথ নিজস্ব সুরে গান রচনা শুরু করেন।[১৫৬] এই পর্বের রবীন্দ্রসংগীতে ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট সংগীতস্রষ্টা মধুকান, রামনিধি গুপ্ত, শ্রীধর কথক প্রমুখের প্রভাবও সুস্পষ্ট।[১৫৬] এই সময় থেকেই তিনি স্বরচিত কবিতায় সুর দিয়ে গান রচনাও শুরু করেছিলেন।[১৫৬] ১৯০০ সালে শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু করার পর থেকে রবীন্দ্রসংগীত রচনার তৃতীয় পর্বের সূচনা ঘটে।[১৫৬] এই সময় রবীন্দ্রনাথ বাউল গানের সুর ও ভাব তাঁর নিজের গানের অঙ্গীভূত করেন।[১৫৬] প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রবীন্দ্রনাথের গান রচনার চতুর্থ পর্বের সূচনা হয়।[১৫৬] কবির এই সময়কার গানের বৈশিষ্ট্য ছিল নতুন নতুন ঠাটের প্রয়োগ এবং বিচিত্র ও দুরূহ সুরসৃষ্টি।[১৫৬] তাঁর রচিত সকল গান সংকলিত হয়েছে গীতবিতান গ্রন্থে।[৩৬] এই গ্রন্থের "পূজা", "প্রেম", "প্রকৃতি", "স্বদেশ", "আনুষ্ঠানিক" ও "বিচিত্র" পর্যায়ে মোট দেড় হাজার গান সংকলিত হয়।[৩৬] পরে গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, নাটক, কাব্যগ্রন্থ ও অন্যান্য সংকলন গ্রন্থ থেকে বহু গান এই বইতে সংকলিত হয়েছিল।[৩৬] ইউরোপীয় অপেরার আদর্শে বাল্মীকি-প্রতিভা, কালমৃগয়া গীতিনাট্য এবং চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, ও শ্যামা সম্পূর্ণ গানের আকারে লেখা।[৩৬]

রবীন্দ্রনাথের সময় বাংলার শিক্ষিত পরিবারে নৃত্যের চর্চা নিষিদ্ধ ছিল।[১২২] কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীর পাঠক্রমে সংগীত ও চিত্রকলার সঙ্গে সঙ্গে নৃত্যকেও অন্তর্ভুক্ত করেন।[১২২] ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের লোকনৃত্য ও ধ্রুপদি নৃত্যশৈলীগুলির সংমিশ্রণে তিনি এক নতুন শৈলীর প্রবর্তন করেন।[১২২] এই শৈলীটি "রবীন্দ্রনৃত্য" নামে পরিচিত।[১২২] রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্য ও নৃত্যনাট্যগুলিতে গানের পাশাপাশি নাচও অপরিহার্য।[১২২] বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর যে আধুনিক ভারতীয় নৃত্যধারার প্রবর্তন করেছিলেন, তার পিছনেও রবীন্দ্রনাথের প্রেরণা ছিল।[১২২]

চিত্রকলা

A painting, dominated by angry or fiery strokes of red and orange, of a stylised depiction of (from bottom) feet and legs, a woman's dress, a bust, and a head partly obscured by wavy tapering lines—arms—reaching upward. The figure is alive with motion; a mostly brown background behind.
"ড্যান্সিং গার্ল", রবীন্দ্রনাথ অঙ্কিত একটি তারিখবিহীন চিত্র

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়মিত ছবি আঁকা শুরু করেন প্রায় সত্তর বছর বয়সে।[১৩] চিত্রাঙ্কনে কোনো প্রথাগত শিক্ষা তাঁর ছিল না।[১৩] প্রথমদিকে তিনি লেখার হিজিবিজি কাটাকুটিগুলিকে একটি চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করতেন।[১৩] এই প্রচেষ্টা থেকেই তাঁর ছবি আঁকার সূত্রপাত ঘটে।[১৩] ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ কালপরিধিতে অঙ্কিত তাঁর স্কেচ ও ছবির সংখ্যা আড়াই হাজারের ওপর, যার ১৫৭৪টি শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে।[১৫৭] দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উৎসাহে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয় প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে।[১৫৮] এরপর সমগ্র ইউরোপেই কবির একাধিক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।[১৩] ছবিতে রং ও রেখার সাহায্যে রবীন্দ্রনাথ সংকেতের ব্যবহার করতেন।[১৩] রবীন্দ্রনাথ প্রাচ্য চিত্রকলার পুনরুত্থানে আগ্রহী হলেও, তাঁর নিজের ছবিতে আধুনিক বিমূর্তধর্মিতাই বেশি প্রস্ফুটিত হয়েছে। মূলত কালি-কলমে আঁকা স্কেচ, জলরং ও দেশজ রঙের ব্যবহার করে তিনি ছবি আঁকতেন।[১৩] তাঁর ছবিতে দেখা যায় মানুষের মুখের স্কেচ, অনির্ণেয় প্রাণীর আদল, নিসর্গদৃশ্য, ফুল, পাখি ইত্যাদি। তিনি নিজের প্রতিকৃতিও এঁকেছেন।[১৩] নন্দনতাত্ত্বিক ও বর্ণ পরিকল্পনার দিক থেকে তাঁর চিত্রকলা বেশ অদ্ভুত ধরণেরই বলে মনে হয়।[১৩] তবে তিনি একাধিক অঙ্কনশৈলী রপ্ত করেছিলেন।[১৩] তন্মধ্যে, কয়েকটি শৈলী হল- নিউ আয়ারল্যান্ডের হস্তশিল্প, কানাডার (ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশ) পশ্চিম উপকূলের "হাইদা" খোদাইশিল্প ও ম্যাক্স পেকস্টাইনের কাঠখোদাই শিল্প।[১৪০]

রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক দর্শন অত্যন্ত জটিল। তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের সমর্থন করতেন।[১৫৯][১৬০][১৬১] ১৮৯০ সালে প্রকাশিত মানসী কাব্যগ্রন্থের কয়েকটি কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তাভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়।[১৬২] হিন্দু-জার্মান ষড়যন্ত্র মামলার তথ্যপ্রমাণ এবং পরবর্তীকালে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ গদর ষড়যন্ত্রের কথা শুধু জানতেনই না, বরং উক্ত ষড়যন্ত্রে জাপানি প্রধানমন্ত্রী তেরাউচি মাসাতাকি ও প্রাক্তন প্রিমিয়ার ওকুমা শিগেনোবুর সাহায্যও প্রার্থনা করেছিলেন।[১৬৩] আবার ১৯২৫ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে স্বদেশী আন্দোলনকে "চরকা-সংস্কৃতি" বলে বিদ্রুপ করে রবীন্দ্রনাথ কঠোর ভাষায় তার বিরোধিতা করেন।[১৬৪] ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তাঁর চোখে ছিল "আমাদের সামাজিক সমস্যাগুলির রাজনৈতিক উপসর্গ"। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বৃহত্তর জনসাধারণের স্বনির্ভরতা ও বৌদ্ধিক উন্নতির উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ভারতবাসীকে অন্ধ বিপ্লবের পন্থা ত্যাগ করে দৃঢ় ও প্রগতিশীল শিক্ষার পন্থাটিকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান রবীন্দ্রনাথ।[১৬৫][১৬৬]

At a formal function, an aged bald man and an old women are humbly dressed and seated side-by-side with legs folded on a rug-strewn dais at right; the man looks at a bearded, robed, and garlanded old man seated on another dais at left, who is reading from a sheet of paper held in his left hand. In the foreground, various dishes and ceremonial objects are arrayed; in the background, a half-dozen dignitaries and dozens of ordinary people observe.
শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের আতিথেয়তায় মহাত্মা গান্ধী ও তাঁর পত্নী কস্তুরবা গান্ধী, ১৯৪০।

রবীন্দ্রনাথের এই ধরনের মতাদর্শ অনেককেই বিক্ষুব্ধ করে তোলে। ১৯১৬ সালের শেষ দিকে সানফ্রান্সিসকোয় একটি হোটেলে অবস্থানকালে একদল চরমপন্থী বিপ্লবী রবীন্দ্রনাথকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ উপস্থিত হওয়ায় তাঁদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল।[১৬৭] ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি নাইটহুড বর্জন করেন।[১৬৮] নাইটহুড প্রত্যাখ্যান-পত্রে লর্ড চেমসফোর্ডকে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, "আমার এই প্রতিবাদ আমার আতঙ্কিত দেশবাসীর মৌনযন্ত্রণার অভিব্যক্তি।" রবীন্দ্রনাথের "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য" ও "একলা চলো রে" রাজনৈতিক রচনা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। "একলা চলো রে" গানটি গান্ধীজির বিশেষ প্রিয় ছিল।[১৬৯] যদিও মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক ছিল অম্লমধুর। হিন্দু নিম্নবর্ণীয় জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গান্ধীজি ও আম্বেডকরের যে মতবিরোধের সূত্রপাত হয়, তা নিরসনেও রবীন্দ্রনাথ বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। ফলে গান্ধীজিও তাঁর অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।[১৭০][১৭১]

রবীন্দ্রনাথ তাঁর "তোতা-কাহিনী" গল্পে বিদ্যালয়ের মুখস্ত-সর্বস্ব শিক্ষাকে প্রতি তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। এই গল্পে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছিলেন, দেশের ছাত্রসমাজকে খাঁচাবদ্ধ পাখিটির মতো শুকনো বিদ্যা গিলিয়ে কিভাবে তাদের বৌদ্ধিক মৃত্যুর পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।[১৭২][১৭৩] ১৯১৭ সালের ১১ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা বারবারা ভ্রমণের সময় রবীন্দ্রনাথ শিক্ষা সম্পর্কে প্রথাবিরুদ্ধ চিন্তাভাবনা শুরু করেন। শান্তিনিকেতন আশ্রমকে দেশ ও ভূগোলের গণ্ডীর বাইরে বের করে ভারত ও বিশ্বকে একসূত্রে বেঁধে একটি বিশ্ব শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও এই সময়েই গ্রহণ করেছিলেন কবি।[১৬৭] ১৯১৮ সালের ২২ অক্টোবর বিশ্বভারতীη[›] নামাঙ্কিত তাঁর এই বিদ্যালয়ের শিলান্যাস করা হয়েছিল। এরপর ১৯২২ সালের ২২ ডিসেম্বর উদ্বোধন হয়েছিল এই বিদ্যালয়ের।[১৭৪] বিশ্বভারতীতে কবি সনাতন ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ব্রহ্মচর্যগুরুপ্রথার পুনর্প্রবর্তন করেছিলেন। এই বিদ্যালয়ের জন্য অর্থসংগ্রহ করতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন তিনি। নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ তিনি ঢেলে দিয়েছিলেন এই বিদ্যালয়ের পরিচালন খাতে।[১৭৫] নিজেও শান্তিনিকেতনের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক হিসেবেও অত্যন্ত ব্যস্ত থাকতেন তিনি। সকালে ছাত্রদের ক্লাস নিতেন এবং বিকেল ও সন্ধ্যায় তাদের জন্য পাঠ্যপুস্তক রচনা করতেন।[১৭৬] ১৯১৯ সাল থেকে ১৯২১ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে তিনি একাধিকবার ইউরোপ ও আমেরিকা ভ্রমণ করেন।[১৭৭]

প্রভাব

A cylindrical wood-trimmed plinth supports a bust of a bearded man in his sixties. On the plinth, a plate reads "Rabindranath Thakur".
প্রাগের রবীন্দ্রমূর্তি

বিংশ শতাব্দীর বাঙালি সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তথা দার্শনিক অমর্ত্য সেন রবীন্দ্রনাথকে এক "হিমালয়প্রতিম ব্যক্তিত্ব" ও "গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক ও বহুমাত্রিক সমসাময়িক দার্শনিক" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।[১৭৮] বত্রিশ খণ্ডে প্রকাশিত রবীন্দ্র রচনাবলী বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয়। রবীন্দ্রনাথকে "ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি" হিসেবেও বর্ণনা করা হয়ে থাকে।[১৭৯] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী "পঁচিশে বৈশাখ" ও প্রয়াণবার্ষিকী "বাইশে শ্রাবণ" আজও বাঙালি সমাজে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়ে থাকে। এই উপলক্ষ্যে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, শান্তিনিকেতন আশ্রমশিলাইদহ কুঠিবাড়িতে প্রচুর জনসমাগম হয়। শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ-প্রবর্তিত ধর্মীয় ও ঋতুউৎসবগুলির মাধ্যমেও তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদনের রীতি অক্ষুন্ন আছে। এছাড়াও বিভিন্ন উৎসবে ও অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া বা রবীন্দ্ররচনা পাঠের রেওয়াজও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এগুলি ছাড়াও কবির সম্মানে আরও কতকগুলি বিশেষ ও অভিনব অনুষ্ঠান পালন করা হয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের আরবানাতে আয়োজিত বার্ষিক "রবীন্দ্র উৎসব", কলকাতা-শান্তিনিকেতন তীর্থ-পদযাত্রা "রবীন্দ্র পথপরিক্রমা" ইত্যাদি।[১০৩][১৭৮][১৮০]

A brick-red mansion in the background, shaded by a row of large trees; in the foreground, a manicured lawn with a perimeter of trimmed round bushes.
জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, বর্তমানে কবির নামাঙ্কিত রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাপ্রাঙ্গন

জীবদ্দশাতেই ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়ায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ইংল্যান্ডে ডার্টিংটন হল স্কুল নামে একটি প্রগতিশীল সহশিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপনে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তিনি।[১৮১] অনেজ জাপানি সাহিত্যিককে তিনি প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে ইয়াসুনারি কাওয়াবাতার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।[১৮২] রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাবলি অনূদিত হয় ইংরেজি, ওলন্দাজ, জার্মান, স্প্যানিশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায়। চেক ভারততত্ত্ববিদ ভিনসেন্স লেনসি সহ একাধিক ইউরোপীয় ভাষায় তাঁর গ্রন্থ অনুবাদ করেন।[১৮৩] ফরাসি নোবেলজয়ী সাহিত্যিক আন্দ্রে জিদ্, রাশিয়ান কবি আনা আখমাতোভা [১৮৪], প্রাক্তন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বুলেন্ত একেভিত[১৮৫], মার্কিন ঔপন্যাসিক জোনা গেইল সহ অনেকেই অনুপ্রেরণা লাভ করেন রবীন্দ্রনাথের রচনা থেকে। ১৯১৬-১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া তাঁর ভাষণগুলি বিশেষ জনপ্রিয়তা ও প্রশংসা পায়। তবে কয়েকটি বিতর্ককে কেন্দ্র করে ১৯২০-এর দশকের শেষদিকে জাপান ও উত্তর আমেরিকায় তাঁর জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কালক্রমে বাংলার বাইরে রবীন্দ্রনাথ "প্রায় অস্তমিত" হয়ে পড়েছিলেন।[১৮৬]

চিলিয়ান সাহিত্যিক পাবলো নেরুদাগ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল, মেক্সিকান লেখক অক্টাভিও পাজ ও স্প্যানিশ লেখক হোসে অরতেগা ওয়াই গ্যাসেৎ, থেনোবিয়া কামপ্রুবি আইমার, ও হুয়ান রামোন হিমেনেথ প্রমুখ স্প্যানিশ-ভাষী সাহিত্যিকদেরও অনুবাদের সূত্রে অনুপ্রাণিত করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯১৪ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে হিমেনেথ-কামপ্রুবি দম্পতি রবীন্দ্রনাথের বাইশটি বই ইংরেজি থেকে স্প্যানিশে অনুবাদ করেছিলেন। দ্য ক্রেসেন্ট মুন (শিশু ভোলানাথ) সহ রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু রচনার বিস্তারিত পর্যালোচনা ও স্প্যানিশ সংস্করণ প্রকাশও করেছিলেন তাঁরা। উল্লেখ্য, এই সময়েই হিমেনেথ "নগ্ন কবিতা" (স্প্যানিশ: «poesía desnuda») নামে এক বিশেষ সাহিত্যশৈলীর উদ্ভাবন ঘটান।[১৮৭]

রবীন্দ্রনাথের মূল বাংলা কবিতা পড়েননি এমন বহু পাশ্চাত্য সাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচক রবীন্দ্রনাথের গুরুত্ব অস্বীকারও করেছিলেন। গ্রাহাম গ্রিন সন্দিগ্ধচিত্তে মন্তব্য করেছিলেন, "ইয়েটস সাহেব ছাড়া আর কেউই রবীন্দ্রনাথের লেখাকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন না।"[১৮৬] রবীন্দ্রনাথের সম্মানের কিছু পুরনো লাতিন আমেরিকান খণ্ডাংশ সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে। নিকারাগুয়া ভ্রমণের সময় সালমান রুশদি এই জাতীয় কিছু উদাহরণ দেখে অবাক হন।[১৮৮]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামাঙ্কিত স্মারক ও দ্রষ্টব্যস্থল

পাদটীকা

  • ^ ক:  তাঁর প্রথম রচনা, "মীনগণ দীন হয়ে ছিল সরোবরে / এখন তাহারা সুখে জলে ক্রীড়া করে।"
  • ^ খ: রবীন্দ্রনাথের জন্ম হয়েছিল ৬ নং দ্বারকানাথ লেনের জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির মূল বাসভবনে। এই বাড়িতেই বাস করতেন ঠাকুর পরিবারের জোড়াসাঁকো শাখাটি। পারিবারিক বিবাদের কারণে এই শাখাটি মূল পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জোড়াসাঁকো বর্তমানে উত্তর কলকাতার রবীন্দ্র সরণির (তৎকালীন চিৎপুর রোড) নিকটস্থ।[১৯১]
  • ^ গ:  স্টকহোমে সুইডিশ একাডেমী নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ১৩ নবেম্বর ১৯১৩ তারিখে।[১৯২]
  • ^ ঘ:  যেমন বেহাগ বা খাম্বাজ রাগিনীতে কোমল ধৈবত প্রয়োগ সিদ্ধ হয় না ; কিন্তু "আমার নিশীথ-রাতের বাদল-ধারা / এসো হে গোপনে / আমার স্বপন-লোকে দিশাহারা" গানটিতে রবীন্দ্রনাথ উদ্দীষ্ট আবেগ ফুটিয়ে তুলতে কোমল ধৈবত লাগিয়েছেন।

তথ্যসূত্র

  1. ১.০ ১.১ "সংক্ষিপ্ত রবীন্দ্র-বর্ষপঞ্জি", রবীন্দ্রজীবনকথা, প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৩৮৮ ব. সংস্করণ, পৃ. ১৯১ ও ১৯৭
  2. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, অধ্যাপক শুভঙ্কর চক্রবর্তী সম্পাদিত, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা, ১৪১২ ব., পৃ. ৭
  3. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, চতুর্থ খণ্ড, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৯৬ সংস্করণ, পৃ. ১
  4. বঙ্গসাহিত্যাভিধান, তৃতীয় খণ্ড, হংসনারায়ণ ভট্টাচার্য, ফার্মা কেএলএম প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ১৯৯২, পৃ. ৫০
  5. ৫.০ ৫.১ ৫.২ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ২৫
  6. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ২৮
  7. ৭.০ ৭.১ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৩১
  8. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৩৩
  9. "গ্রন্থপরিচয়", গল্পগুচ্ছ, চতুর্থ খণ্ড, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিশ্বভারতী গ্রন্থণবিভাগ, কলকাতা, ১৩৭০ সং, পৃ. ৮৭৭-৭৯
  10. ১০.০ ১০.১ "রবীন্দ্রনাথের গানের সংখ্যা", গীতবিতানের জগৎ, সুভাষ চৌধুরী, প্যাপিরাস, কলকাতা, ২০০৬, পৃ. ১৭১
  11. সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী, ড. শিশিরকুমার দাশ, সাহিত্য সংসদ, ২০০৩, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, পৃ. ১৮৫
  12. ১২.০ ১২.১ ১২.২ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৩৪-৩৫
  13. ১৩.০০ ১৩.০১ ১৩.০২ ১৩.০৩ ১৩.০৪ ১৩.০৫ ১৩.০৬ ১৩.০৭ ১৩.০৮ ১৩.০৯ ১৩.১০ ১৩.১১ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৪১
  14. O'Connell, KM (December ২০০৮), "Red Oleanders (Raktakarabi) by Rabindranath Tagore—A New Translation and Adaptation: Two Reviews", Parabaas, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  15. Datta, Pradip Kumar (২০০৩), "Introduction", Rabindranath Tagore's The Home and the World: A Critical Companion, Orient Longman, পৃ: ২, আইএসবিএন 8-1782-4046-7 
  16. Kripalani, Krishna (১৯৭১), "Ancestry", Tagore: A Life, Orient Longman, পৃ: 2–3, আইএসবিএন 8-1237-1959-0 
  17. Kripalani, Krishna (১৯৮০), Dwarkanath Tagore (1st সংস্করণ), পৃ: 6, 8  |reprint= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  18. Thompson 1926, পৃ. 12
  19. "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর", প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, ভারতকোষ, পঞ্চম খণ্ড, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, কলকাতা, ১৯৭৩, পৃ. ৪০৫
  20. Some Songs and Poems from Rabindranath Tagore, East-West Publications, ১৯৮৪, পৃ: xii, আইএসবিএন 0-8569-2055-X 
  21. ২১.০ ২১.১ ২১.২ রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ১৯১
  22. ২২.০ ২২.১ ২২.২ ২২.৩ ২২.৪ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৮
  23. ২৩.০ ২৩.১ ২৩.২ ২৩.৩ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৯
  24. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ১০
  25. ২৫.০ ২৫.১ ভারতকোষ, পঞ্চম খণ্ড, পৃ. ৪০৬
  26. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ১৯৫
  27. ২৭.০ ২৭.১ রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ১৮৫-৮৬
  28. বঙ্গসাহিত্যাভিধান, তৃতীয় খণ্ড, পৃ. ৪৯-৫০
  29. বঙ্গসাহিত্যাভিধান, তৃতীয় খণ্ড, পৃ. ৫০
  30. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৪৩-৪৪
  31. ৩১.০০ ৩১.০১ ৩১.০২ ৩১.০৩ ৩১.০৪ ৩১.০৫ ৩১.০৬ ৩১.০৭ ৩১.০৮ ৩১.০৯ ৩১.১০ ৩১.১১ ৩১.১২ ৩১.১৩ ৩১.১৪ ৩১.১৫ ৩১.১৬ ৩১.১৭ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৩২
  32. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৪৫
  33. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৪৬
  34. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৪৭-৪৮
  35. রবীন্দ্রনাথের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাদর্শে সঙ্গীত ও নৃত্য, শান্তিদেব ঘোষ, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৭৮, পৃ. ৯
  36. ৩৬.০ ৩৬.১ ৩৬.২ ৩৬.৩ ৩৬.৪ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৩৬
  37. রবীন্দ্র-সঙ্গীত-কোষ, সুরেন মুখোপাধ্যায়, সাহিত্যপ্রকাশ, কলকাতা, ১৪১৬, পৃ. ৪৮ ও ১৫৪
  38. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ২০০২, পৃ. ২১৯
  39. রবিজীবনী, প্রথম খণ্ড, প্রশান্তকুমার পাল, ভুর্জপত্র, কলকাতা, ১৩৮৯, পৃ. ২১ ও ২৫
  40. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 37
  41. "ব্রাহ্মধর্ম, ব্রাহ্মসমাজ", প্রভাত বসু, ভারতকোষ, পঞ্চম খণ্ড, পৃ. ১৯৬-৯৭
  42. "দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর", রবিজীবনী, প্রথম খণ্ড, প্রশান্তকুমার পাল, পৃ. ১৯
  43. Archeologists track down Tagore’s ancestral home in Khulna, The News Today,, ২৮ এপ্রিল ২০১১ http://www.newstoday.com.bd/index.php?option=details&news_id=26140&date=2011-04-29, সংগৃহীত ২০ জুলাই ২০১১, "Archeologists tracked down the ancestral home of Nobel Laureate Rabindranath Tagore at Pithabhog village under Rupsha Upazila of Khulna, Bangladesh."  |tittle= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  44. ৪৪.০ ৪৪.১ Thompson 1926, পৃ. 20
  45. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনস্মৃতি (অধ্যায়: "ভৃত্যরাজক তন্ত্র"), বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, পৃ. ২১-২৪
  46. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৭
  47. ভারতকোষ, পঞ্চম খণ্ড, পৃ. ৪০৫
  48. Thompson 1926, পৃ. 21–24
  49. Das, S (02 August ২০০৯), Tagore’s Garden of Eden, সংগৃহীত ১৪ আগস্ট ২০০৯, "[...] the garden in Panihati where the child Rabindranath along with his family had sought refuge for some time during a dengue epidemic. That was the first time that the 12-year-old poet had ever left his Chitpur home to come face-to-face with nature and greenery in a Bengal village."  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  50. ৫০.০ ৫০.১ ৫০.২ ৫০.৩ রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ১০-১১
  51. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 55–56
  52. Stewart ও Twichell 2003, পৃ. 91
  53. Stewart ও Twichell 2003, পৃ. 3
  54. ৫৪.০ ৫৪.১ ৫৪.২ ৫৪.৩ Chakravarty 1961, পৃ. 45
  55. Dutta ও Robinson 1997, পৃ. 265
  56. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ১৬
  57. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ২৩
  58. ৫৮.০ ৫৮.১ ৫৮.২ ৫৮.৩ ৫৮.৪ ৫৮.৫ রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ১৮-১৯
  59. Thompson 1926, পৃ. 31
  60. ৬০.০ ৬০.১ ৬০.২ "জীবনপঞ্জি: মৃণালিনী দেবী", চিঠিপত্র, প্রথম খণ্ড, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলকাতা, ১৪০০ সং, পৃ. ১৭৯-৮১
  61. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 373
  62. শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ, প্রমথনাথ বিশী, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ১৩৯৫ সংস্করণ, পৃ. ১৮
  63. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 109–111
  64. Scott, J., (২০০৯.), Bengali Flower, পৃ: ১০, আইএসবিএন 144863931X, "In 1890 Tagore wrote Manasi, a collection of poems that contains some of his best known poetry. The book has innovations in Bengali forms of poetry, as well as Tagore's first social and political poems. He published several books of poetry while in his 20s." 
  65. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 109
  66. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ৫৬-৫৭
  67. "শান্তিনিকেতন", প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, ভারতকোষ, পঞ্চম খণ্ড, পৃ. ৪৭৮-৭৯
  68. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 133
  69. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ৫৯-৬০
  70. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ১৯৩
  71. ৭১.০ ৭১.১ রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ১৯৪
  72. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ৬৩-৬৬
  73. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ৬৭ ও ১৯৪
  74. ৭৪.০ ৭৪.১ রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ৬৯
  75. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 139–140
  76. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ২০২-০৪
  77. Hjärne, H (10 December ১৯১৩), The Nobel Prize in Literature 1913:Presentation Speech, The Nobel Foundation, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯, "Tagore's Gitanjali: Song Offerings (1912), a collection of religious poems, was the one of his works that especially arrested the attention of the selecting critics."  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  78. Rabindranath Tagore - Calcuttaweb
  79. ৭৯.০ ৭৯.১ শ্রীনিকেতনের গোড়ার কথা, সত্যদাস চক্রবর্তী, সুবর্ণরেখা, কলকাতা, ২০০১, পৃ. ২-১২
  80. অনাথনাথ দাস, শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন: সংক্ষিপ্ত পরিচয়, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, ১৯৮৮, পৃ. ৫৩
  81. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 239–240
  82. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 242
  83. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 308–309
  84. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 303
  85. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 309
  86. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ২০৬-০৮
  87. "Chitra at Project Gutenberg"
  88. সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ২৭
  89. ৮৯.০ ৮৯.১ বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, চতুর্থ খণ্ড, পৃ. ৪১৫
  90. রবীন্দ্রকল্পনায় বিজ্ঞানের অধিকার, ড. ক্ষুদিরাম দাস, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৮৪, পৃ. ৪-৫
  91. "Tagore, Rabindranath", Banglapedia (Asiatic Society of Bangladesh), সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯ 
  92. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 312–313
  93. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 335–338
  94. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 342
  95. ৯৫.০ ৯৫.১ ৯৫.২ ৯৫.৩ ৯৫.৪ Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 338
  96. "Recitation of Tagore's poetry of death", Hindustan Times (Indo-Asian News Service), ২০০৫ 
  97. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 367
  98. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 363
  99. ৯৯.০০ ৯৯.০১ ৯৯.০২ ৯৯.০৩ ৯৯.০৪ ৯৯.০৫ ৯৯.০৬ ৯৯.০৭ ৯৯.০৮ ৯৯.০৯ ৯৯.১০ ৯৯.১১ ৯৯.১২ ৯৯.১৩ ৯৯.১৪ ৯৯.১৫ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ২০-২২
  100. Dutta & Robinson 1995, pp. 374–376
  101. Dutta & Robinson 1995, pp. 178–179
  102. Chakravarty 1961, pp. 1–2
  103. ১০৩.০ ১০৩.১ "History of the Tagore Festival", Tagore Festival Committee (University of Illinois at Urbana-Champaign: College of Business), সংগৃহীত ২০০৯-১১-২৯ 
  104. Dutta & Robinson 1995, p. 206
  105. Hogan, PC; Pandit, L (২০০৩), Rabindranath Tagore: Universality and Tradition, Fairleigh Dickinson University Press, পৃ: 56–58, আইএসবিএন 0-8386-3980-1 
  106. "Tagore's Works - A Chronology: 1878-1941", The Calcutta Municipal Gazette: Tagore Memorial Special Suppelement, Calcutta Municipal Corporation, 2006 edition, Kolkata, p. 146
  107. Dutta & Robinson 1995, p. 256
  108. রবীন্দ্রজীবনকথা, পৃ. ১২৭
  109. Dutta & Robinson 1995, p. 253
  110. Dutta & Robinson 1995, p. 267
  111. Dutta & Robinson 1995, pp. 270–271
  112. "Photo of Tagore in Shiraz"। 29.616445; 52.542114: Flickr.com। সংগৃহীত ২০১০-০৩-২০ 
  113. Chakravarty 1961, p. 1
  114. Dutta & Robinson 1995, pp. 289–292
  115. Dutta & Robinson 1995, pp. 303–304
  116. Dutta & Robinson 1995, pp. 292–293
  117. Chakravarty 1961, p. 2
  118. Dutta & Robinson 1995, p. 315
  119. Chakravarty 1961, p. 99
  120. Chakravarty 1961, pp. 100–103
  121. Dutta & Robinson 1995, p. 317
  122. ১২২.০ ১২২.১ ১২২.২ ১২২.৩ ১২২.৪ ১২২.৫ ১২২.৬ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৩৭-৩৮
  123. "বিহারীলাল ও রবীন্দ্রনাথ", অলোক রায় সম্পাদিত বিহারীলাল চক্রবর্তীর সারদামঙ্গল ও সাধের আসন, পৃ. ৫৫-৫৬
  124. ১২৪.০০ ১২৪.০১ ১২৪.০২ ১২৪.০৩ ১২৪.০৪ ১২৪.০৫ ১২৪.০৬ ১২৪.০৭ ১২৪.০৮ ১২৪.০৯ ১২৪.১০ ১২৪.১১ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ২৩-২৪
  125. Roy 1977, p. 201
  126. Stewart & Twichell 2003, p. 94
  127. Urban 2001, p. 18
  128. Dutta & Robinson 1995, p. 281
  129. Stewart & Twichell 2003, pp. 95–96
  130. The Nobel Prize in Literature 1913, The Nobel Foundation, সংগৃহীত ১৪ আগস্ট ২০০৯ 
  131. বাংলা সাহিত্য পরিচয়, ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তুলসী প্রকাশনী, কলকাতা, ২০০৮, পৃ. ৫১২
  132. ছোটগল্পের কথা, ভূদেব চৌধুরী, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, কলকাতা, পৃ. ২০০০ মুদ্রণ, পৃ. ৫৬
  133. ১৩৩.০০ ১৩৩.০১ ১৩৩.০২ ১৩৩.০৩ ১৩৩.০৪ ১৩৩.০৫ ১৩৩.০৬ ১৩৩.০৭ ১৩৩.০৮ ১৩৩.০৯ ১৩৩.১০ ১৩৩.১১ ১৩৩.১২ ১৩৩.১৩ ১৩৩.১৪ ১৩৩.১৫ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ৩০-৩১
  134. ছোটগল্পের কথা, পৃ. ৬৪-৬৫
  135. Chakravarty 1961, পৃ. 45–46
  136. সত্যজিৎ রায়: তথ্যপঞ্জি, দেবাশিষ মুখোপাধ্যায়, সৃষ্টি প্রকাশন, ২০০১, পৃ. ২৪-২৫
  137. সত্যজিৎ রায়: তথ্যপঞ্জি, পৃ. ২৬
  138. পশ্চিমবঙ্গ, অগস্ট-সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সংখ্যা, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, পৃ. ২১৮
  139. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ২০০৪, পৃ. ১৮৫
  140. ১৪০.০ ১৪০.১ Dyson, KK (15 July ২০০১), "Rabindranath Tagore and his World of Colours", Parabaas, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  141. Mukherjee, M (25 March ২০০৪), "Yogayog (Nexus) by Rabindranath Tagore: A Book Review", Parabaas, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  142. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 154–155
  143. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 192–194
  144. সত্যজিৎ রায়: তথ্যপঞ্জি, পৃ. ৩০
  145. ১৪৫.০০ ১৪৫.০১ ১৪৫.০২ ১৪৫.০৩ ১৪৫.০৪ ১৪৫.০৫ ১৪৫.০৬ ১৪৫.০৭ ১৪৫.০৮ ১৪৫.০৯ ১৪৫.১০ ১৪৫.১১ ১৪৫.১২ ১৪৫.১৩ ১৪৫.১৪ ১৪৫.১৫ ১৪৫.১৬ ১৪৫.১৭ ১৪৫.১৮ ১৪৫.১৯ ১৪৫.২০ ১৪৫.২১ ১৪৫.২২ ১৪৫.২৩ ১৪৫.২৪ ১৪৫.২৫ ১৪৫.২৬ ১৪৫.২৭ ১৪৫.২৮ ১৪৫.২৯ সর্বজনের রবীন্দ্রনাথ, পৃ. ২৬-২৭
  146. Lago, M (১৯৭৬), Rabindranath Tagore, Twayne's world authors series 402, Twayne Publishers, পৃ: ১৫, আইএসবিএন 0-8057-6242-6 
  147. ১৪৭.০ ১৪৭.১ ১৪৭.২ ১৪৭.৩ ১৪৭.৪ বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, পৃ. ১৯২
  148. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, পৃ. ১৯৬
  149. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, পৃ. ১৯৭
  150. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, পৃ. ২০৩
  151. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, পৃ. ২০৪
  152. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, পৃ. ২০৮-০৯
  153. "Tabu mone rekho" (Bengali ভাষায়)। http://tagoreweb.in/। সংগৃহীত ১১ মে ২০১২ 
  154. Dasgupta, A. (2001-07-15), "Rabindra-Sangeet As A Resource For Indian Classical Bandishes", Parabaas. Retrieved 2009-08-13.
  155. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, পৃ. ৪২১
  156. ১৫৬.০ ১৫৬.১ ১৫৬.২ ১৫৬.৩ ১৫৬.৪ ১৫৬.৫ ১৫৬.৬ ১৫৬.৭ ১৫৬.৮ বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস, পৃ. ৪২৯-৩৩
  157. শিবনারায়ণ রায়, প্রবন্ধ সংগ্রহ, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, ২০০১, পৃঃ ১১৫, ১১৭
  158. Dutta & Robinson 1997, p. 222
  159. Dutta ও Robinson 1997, পৃ. 127
  160. Dutta ও Robinson 1997, পৃ. 210
  161. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 304
  162. Scott, J., (২০০৯.), Bengali Flower, পৃ: ১০  লেখা "ISBN 1-4486-3931-X" উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  163. Brown 1948, পৃ. 306
  164. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 261
  165. Dutta ও Robinson 1997, পৃ. 239–240
  166. Chakravarty 1961, পৃ. 181
  167. ১৬৭.০ ১৬৭.১ Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 204
  168. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 215–216
  169. Chakraborty, SK; Bhattacharya, P (২০০১), Leadership and Power: Ethical Explorations, Oxford University Press, পৃ: ১৫৭, আইএসবিএন 0-1956-5591-5 
  170. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 306–307
  171. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 339
  172. Dutta ও Robinson 1997, পৃ. 267
  173. Tagore, R; Pal, PB (translator) (1 December ২০০৪), "The Parrot's Tale", Parabaas, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯, "The King felt the bird. It didn't open its mouth and didn't utter a word. Only the pages of books, stuffed inside its stomach, raised a ruffling sound."  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  174. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 220
  175. Roy 1977, পৃ. 175
  176. Chakravarty 1961, পৃ. 27
  177. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 221
  178. ১৭৮.০ ১৭৮.১ Hatcher, BA (15 July ২০০১), "Aji Hote Satabarsha Pare: What Tagore Says To Us A Century Later", Parabaas, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  179. Kämpchen, M (25 July ২০০৩), "Rabindranath Tagore In Germany", Parabaas, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  180. Chakrabarti, I (15 July ২০০১), "A People's Poet or a Literary Deity", Parabaas, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  181. Farrell, G (১৯৯৯), Indian Music and the West, Clarendon Paperbacks Series (3 সংস্করণ), Oxford University Press, পৃ: ১৬২, আইএসবিএন 0-1981-6717-2 
  182. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 202
  183. Cameron, R (31 March ২০০৬), "Exhibition of Bengali film posters opens in Prague", Radio Prague, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯, "Lesny was the first European person to translate Rabindranath Tagore from the original into a European language, the first European or westerner ever."  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  184. Sen, A (২০০৬), The Argumentative Indian: Writings on Indian History, Culture, and Identity, Picador, পৃ: ৯০, আইএসবিএন 0-3124-2602-X 
  185. Kinzer, S (05 November ২০০৬), "Bülent Ecevit, who turned Turkey toward the West, dies", The New York Times, সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯, "He published several volumes of poetry and translated the works of T. S. Eliot and Rabindranath Tagore."  |day= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য); |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  186. ১৮৬.০ ১৮৬.১ Sen 1997
  187. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 254–255
  188. Dutta ও Robinson 1995, পৃ. 255
  189. http://onushilon.org/geography/bangladesh/region/shilaidaha.htm
  190. পশ্চিমবঙ্গের দিঘি ও জলাশয়, ধনঞ্জয় রায়, পত্রলেখা, কলকাতা, ২০০৮, পৃ. ১৫৪
  191. Dutta & Robinson 1995, p. 34
  192. The Empire, ১৪ নভেম্বর, ১৯১৩, কলকাতা, পৃ:১।

মূল সূত্র

নিবন্ধ
  • Frenz, H. (editor) (১৯৬৯), Rabindranath Tagore—Biography, Nobel Foundation, সংগৃহীত ২০০৯-১১-২৬  |dateformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Meyer, L. (২০০৪), "Tagore in The Netherlands", Parabaas, সংগৃহীত ২০০৯-১১-২৬  |dateformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Radice, W. (২০০৩), "Tagore's Poetic Greatness", Parabaas, সংগৃহীত ২০০৯-১১-২৬  |dateformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Robinson, A., "Rabindranath Tagore", Encyclopædia Britannica, সংগৃহীত ২০০৯-১১-২৬  |dateformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Sen, A. (1997), "Tagore and His India", New York Review of Books, retrieved 2009-11-26
গ্রন্থ

আরও পড়ুন

  • পাল, প্রশান্তকুমার, রবিজীবনী (১-৯) (বাংলা ভাষায়), কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড 
  • মুখোপাধ্যায়, প্রভাতকুমার, রবীন্দ্রজীবনী (১-৪), কলকাতা: বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ 
  • মুখোপাধ্যায়, প্রভাতকুমার (১৯৮১), রবীন্দ্রজীবনকথা, কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, আইএসবিএন 81-7066-577-9 
  • বন্দ্যোপাধ্যায়, চিত্তরঞ্জন (সম্পাদক), রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ: আনন্দবাজার পত্রিকা (১-৪), কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড 
  • ঘোষ, শুভময় (অনুবাদ ও সম্পাদনা) (১৯৬১)। সোভিয়েত ইউনিয়নে রবীন্দ্রনাথশান্তিনিকেতন: রবীন্দ্রভবন। 
  • ঘোষ, শান্তিদেব (১৯৭২), রবীন্দ্রসঙ্গীত বিচিত্রা, কলকাতা: আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, আইএসবিএন 81-7066-04-X |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  • ভট্টাচার্য, উপেন্দ্রনাথ, রবীন্দ্র-নাট্য-পরিক্রমা (বাংলা ভাষায়), কলকাতা: ওরিয়েন্ট বুক কোম্পানি 
  • চট্টোপাধ্যায়, সুনীতিকুমার (১৯৪০), রবীন্দ্র-সংগমে দ্বীপময় ভারত ও শ্যাম-দেশ, কলকাতা: প্রকাশ ভবন 
  • চৌধুরী, সুভাষ (২০০৪), গীতবিতানের জগৎ, কলকাতা: প্যাপিরাস, আইএসবিএন 81-1875-087-X |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  • আইয়ুব, আবু সয়ীদ (১৯৭৩), পান্থজনের সখা, কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং 
  • আইয়ুব, আবু সয়ীদ (১৯৬৮)। আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ। কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং। 
  • আইয়ুব, আবু সয়ীদ (১৯৭৭), পথের শেষ কোথায়, কলকাতা: দে’জ পাবলিশিং 
  • ভট্টাচার্য, এস., রবীন্দ্র নাট্য ধারার প্রথম পর্যায় (বাংলা ভাষায়), ঢাকা, বাংলাদেশ: জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী 
  • Chaudhuri, A. (২০০৪), The Vintage Book of Modern Indian Literature, Vintage, আইএসবিএন 0-375-71300-X 
  • Deutsch, A.; Robinson, A. (১৯৮৯), The Art of Rabindranath Tagore, Monthly Review Press, আইএসবিএন 0-233-98359-7 
  • Deutsch, A. (editor); Robinson, A. (editor) (১৯৯৭), Selected Letters of Rabindranath Tagore, Cambridge University Press, আইএসবিএন 0-521-59018-3 
  • Som, R. (২০০৯)। Rabindranath Tagore: The Singer and his Song। New Delhi, India: Penguin Books (Viking)। আইএসবিএন 978-067008248-3 
  • Tagore, R. (২০০০), Gitanjali, Macmillan India Limited, আইএসবিএন 0-333-93575-6 
  • Tagore, Rabindranath (১৯৫২), Collected Poems and Plays of Rabindranath Tagore, Macmillan Publishing (প্রকাশিত জানুয়ারি ১৯৫২), আইএসবিএন 978-0-02-615920-3  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore, Rabindranath (১৯৮৪), Some Songs and Poems from Rabindranath Tagore, East-West Publications, আইএসবিএন 978-0-85692-055-4  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; Fakrul Alam (editor); Radha Chakravarty (editor)., Rabindranath; Alam, F. (editor); Chakravarty, R. (editor) (২০১১), The Essential Tagore, Harvard University Press (প্রকাশিত ১৫ এপ্রিল ২০১১), পৃ: ৩২৩, আইএসবিএন 978-0-674-05790-6  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; Amiya Chakravarty (editor)., Rabindranath; Chakravarty, A. (editor) (১৯৬১), A Tagore Reader, Beacon Press (প্রকাশিত ১ জুন ১৯৬১), আইএসবিএন 978-0-8070-5971-5  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; Krishna Dutta (editor); W. Andrew Robinson (editor)., Rabindranath; Dutta, K. (editor); Robinson, A. (editor) (১৯৯৭), Selected Letters of Rabindranath Tagore, Cambridge University Press (প্রকাশিত ২৮ জুন ১৯৯৭), আইএসবিএন 978-0-521-59018-1  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; Krishna Dutta (editor); W. Andrew Robinson (editor)., Rabindranath; Dutta, K. (editor); Robinson, A. (editor) (১৯৯৭), Rabindranath Tagore: An Anthology, Saint Martin's Press (প্রকাশিত নভেম্বর ১৯৯৭), আইএসবিএন 978-0-312-16973-2  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; Mohit K. Ray (editor)., Rabindranath; Ray, M. K. (editor) (২০০৭), The English Writings of Rabindranath Tagore 1, Atlantic Publishing (প্রকাশিত ১০ জুন ২০০৭), আইএসবিএন 978-81-269-0664-2  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore., Rabindranath (১৯১৬), Sādhanā: The Realisation of Life, Macmillan  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore., Rabindranath (১৯৩০), The Religion of Man, Macmillan  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; Devabrata Mukerjea (translator)., Rabindranath; Mukerjea, D. (translator) (১৯১৪), The Post Office, London: Macmillan  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; Palash Baran Pal (translator)., Rabindranath; Pal, P. B. (translator) (২০০৪), "The Parrot's Tale", Parabaas (১ ডিসেম্বর ২০০৪)  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; William Radice (translator)., Rabindranath; Radice, W. (translator) (১৯৯৫), Rabindranath Tagore: Selected Poems (1st সংস্করণ), London: Penguin (প্রকাশিত ১ জুন ১৯৯৫), আইএসবিএন 978-0-14-018366-5  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; William Radice (translator)., Rabindranath; Radice, W (translator) (২০০৪), Particles, Jottings, Sparks: The Collected Brief Poems, Angel Books (প্রকাশিত ২৮ ডিসেম্বর ২০০৪), আইএসবিএন 978-0-946162-66-6  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Tagore; Tony K. Stewart (translator); Chase Twichell (translator)., Rabindranath; Stewart, T. K. (translator); Twichell, C. (translator) (২০০৩), Rabindranath Tagore: Lover of God, Lannan Literary Selections, Copper Canyon Press (প্রকাশিত ১ নভেম্বর ২০০৩), আইএসবিএন 978-1-55659-196-9  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Bhattacharya, S. (২০০১), Translating Tagore, Chennai, India: The Hindu (প্রকাশিত ২ সেপ্টেম্বর ২০০১), সংগৃহীত ৯ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Brown, G. T. (১৯৪৮), "The Hindu Conspiracy: 1914–1917", The Pacific Historical Review (University of California Press, প্রকাশিত আগস্ট ১৯৪৮) 17 (3): 299–310, আইএসএসএন 0030-8684, ডিওআই:10.2307/3634258  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Cameron, R. (২০০৬), "Exhibition of Bengali Film Posters Opens in Prague", Radio Prague (৩১ মার্চ ২০০৬), সংগৃহীত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Chakrabarti, I. (২০০১), "A People's Poet or a Literary Deity?", Parabaas (১৫ জুলাই ২০০১), সংগৃহীত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Das, S. (২০০৯), "Tagore's Garden of Eden", The Telegraph (Calcutta, India, প্রকাশিত ২ আগস্ট ২০০৯), সংগৃহীত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Dasgupta, A. (২০০১), "Rabindra-Sangeet as a Resource for Indian Classical Bandishes", Parabaas (১৫ জুলাই ২০০১), সংগৃহীত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Dyson, K. K. (২০০১), "Rabindranath Tagore and His World of Colours", Parabaas (১৫ জুলাই ২০০১), সংগৃহীত ২৬ নভেম্বর ২০০৯  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Frenz, H. (১৯৬৯), Rabindranath Tagore—Biography, Nobel Foundation, সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Ghosh, B. (২০১১), "Inside the World of Tagore's Music", Parabaas (আগস্ট ২০১১), সংগৃহীত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Harvey, J. (১৯৯৯), In Quest of Spirit: Thoughts on Music, University of California Press, সংগৃহীত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Hatcher, B. A. (২০০১), "Aji Hote Satabarsha Pare: What Tagore Says to Us a Century Later", Parabaas (১৫ জুলাই ২০০১), সংগৃহীত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Hjärne, H. (১৯১৩), The Nobel Prize in Literature 1913: Rabindranath Tagore—Award Ceremony Speech, Nobel Foundation (প্রকাশিত ১০ ডিসেম্বর ১৯১৩), সংগৃহীত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Jha, N. (১৯৯৪), "Rabindranath Tagore", PROSPECTS: The Quarterly Review of Education (Paris: UNESCO: International Bureau of Education) 24 (3/4): 603–19, সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Kämpchen, M. (২০০৩), "Rabindranath Tagore in Germany", Parabaas (২৫ জুলাই ২০০৩), সংগৃহীত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Kinzer, S. (২০০৬), "Bülent Ecevit, Who Turned Turkey Toward the West, Dies", The New York Times (৫ নভেম্বর ২০০৬), সংগৃহীত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Kundu, K. (২০০৯), "Mussolini and Tagore", Parabaas (৭ মে ২০০৯), সংগৃহীত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Mehta, S. (১৯৯৯), The First Asian Nobel Laureate, Time (প্রকাশিত ২৩ আগস্ট ১৯৯৯), সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Meyer, L. (২০০৪), "Tagore in The Netherlands", Parabaas (১৫ জুলাই ২০০৪), সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Mukherjee, M. (২০০৪), "Yogayog ("Nexus") by Rabindranath Tagore: A Book Review", Parabaas (২৫ মার্চ ২০০৪), সংগৃহীত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Pandey, J. M. (২০১১), Original Rabindranath Tagore Scripts in Print Soon, Times of India (প্রকাশিত ৮ আগস্ট ২০১১), সংগৃহীত ১ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • O'Connell, K. M. (২০০৮), "Red Oleanders (Raktakarabi) by Rabindranath Tagore—A New Translation and Adaptation: Two Reviews", Parabaas (ডিসেম্বর ২০০৮), সংগৃহীত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Radice, W. (২০০৩), "Tagore's Poetic Greatness", Parabaas (৭ মে ২০০৩), সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Robinson, A., "Rabindranath Tagore", Encyclopædia Britannica, সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Sen, A. (১৯৯৭), "Tagore and His India", The New York Review of Books, সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Sil, N. P. (২০০৫), "Devotio Humana: Rabindranath's Love Poems Revisited", Parabaas (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৫), সংগৃহীত ১৩ আগস্ট ২০০৯  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Ayyub, A. S. (১৯৮০), Tagore's Quest, Papyrus  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Chakraborty, S. K.; Bhattacharya, P. (২০০১), Leadership and Power: Ethical Explorations, Oxford University Press (প্রকাশিত ১৬ আগস্ট ২০০১), আইএসবিএন 978-0-19-565591-9  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Dasgupta, T. (১৯৯৩), Social Thought of Rabindranath Tagore: A Historical Analysis, Abhinav Publications (প্রকাশিত ১ অক্টোবর ১৯৯৩), আইএসবিএন 978-81-7017-302-1  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Datta, P. K. (২০০২), Rabindranath Tagore's The Home and the World: A Critical Companion (1st সংস্করণ), Permanent Black (প্রকাশিত ১ ডিসেম্বর ২০০২), আইএসবিএন 978-81-7824-046-6  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Dutta, K.; Robinson, A. (১৯৯৫), Rabindranath Tagore: The Myriad-Minded Man, Saint Martin's Press (প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৯৯৫), আইএসবিএন 978-0-312-14030-4  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Farrell, G. (২০০০), Indian Music and the West, Clarendon Paperbacks Series (3 সংস্করণ), Oxford University Press (প্রকাশিত ৯ মার্চ ২০০০), আইএসবিএন 978-0-19-816717-4  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Hogan, P. C. (২০০০), Colonialism and Cultural Identity: Crises of Tradition in the Anglophone Literatures of India, Africa, and the Caribbean, State University of New York Press (প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারি ২০০০), আইএসবিএন 978-0-7914-4460-3  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Hogan, P. C.; Pandit, L. (২০০৩), Rabindranath Tagore: Universality and Tradition, Fairleigh Dickinson University Press (প্রকাশিত মে ২০০৩), আইএসবিএন 978-0-8386-3980-1  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Kripalani, K. (২০০৫), Dwarkanath Tagore: A Forgotten Pioneer—A Life, National Book Trust of India, আইএসবিএন 978-81-237-3488-0  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Kripalani, K. (২০০৫), Tagore—A Life, National Book Trust of India, আইএসবিএন 978-81-237-1959-7  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Lago, M. (১৯৭৭), Rabindranath Tagore, Boston: Twayne Publishers (প্রকাশিত এপ্রিল ১৯৭৭), আইএসবিএন 978-0-8057-6242-6  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Lifton, B. J.; Wiesel, E. (১৯৯৭), The King of Children: The Life and Death of Janusz Korczak, St. Martin's Griffin (প্রকাশিত ১৫ এপ্রিল ১৯৯৭), আইএসবিএন 978-0-312-15560-5  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Prasad, A. N.; Sarkar, B. (২০০৮), Critical Response To Indian Poetry in English, Sarup and Sons, আইএসবিএন 978-81-7625-825-8  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Ray, M. K. (২০০৭), Studies on Rabindranath Tagore 1, Atlantic (প্রকাশিত ১ অক্টোবর ২০০৭), আইএসবিএন 978-81-269-0308-5, সংগৃহীত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Roy, B. K. (১৯৭৭), Rabindranath Tagore: The Man and His Poetry, Folcroft Library Editions, আইএসবিএন 978-0-8414-7330-0  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Scott, J. (২০০৯), Bengali Flower: 50 Selected Poems from India and Bangladesh (প্রকাশিত ৪ জুলাই ২০০৯), আইএসবিএন 978-1-4486-3931-1  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Sen, A. (২০০৬), The Argumentative Indian: Writings on Indian History, Culture, and Identity (1st সংস্করণ), Picador (প্রকাশিত ৫ সেপ্টেম্বর ২০০৬), আইএসবিএন 978-0-312-42602-6  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Sigi, R. (২০০৬), Gurudev Rabindranath Tagore—A Biography, Diamond Books (প্রকাশিত ১ অক্টোবর ২০০৬), আইএসবিএন 978-81-89182-90-8  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Som, R. (২০১০), Rabindranath Tagore: The Singer and His Song, Viking (প্রকাশিত ২৬ মে ২০১০), আইএসবিএন 978-0-670-08248-3  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Thompson, E. (১৯২৬), Rabindranath Tagore: Poet and Dramatist, Pierides Press, আইএসবিএন 978-1-4067-8927-0  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Urban, H. B. (২০০১), Songs of Ecstasy: Tantric and Devotional Songs from Colonial Bengal, Oxford University Press (প্রকাশিত ২২ নভেম্বর ২০০১), আইএসবিএন 978-0-19-513901-3  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Daruwalla, K. N. (২০০৭), Poetry Magic, Ratna Sagar P.Ltd. (প্রকাশিত ২০০৬), আইএসবিএন 81-8332-175-5  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • Photo of Tagore in Shiraz, 29.616445; 52.542114: Flickr (প্রকাশিত ১৬ মার্চ ২০০৬), ২০০৬, সংগৃহীত ৩০ আগস্ট ২০১১ 
  • Harding, M. (২০০৮), Where the Hell is Matt?, YouTube (প্রকাশিত ২০ জুন ২০০৮), সংগৃহীত ২৬ নভেম্বর ২০০৯  |authorformat= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  • "68th Death Anniversary of Rabindranath Tagore", The Daily Star (Dhaka, প্রকাশিত ৭ আগস্ট ২০০৯), ২০০৯, সংগৃহীত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  • "Recitation of Tagore's Poetry of Death", Hindustan Times (Indo-Asian News Service), ২০০৫ 
  • Archeologists Track Down Tagore's Ancestral Home in Khulna, The News Today (প্রকাশিত ২৮ এপ্রিল ২০১১), ২০১১, সংগৃহীত ৯ সেপ্টেম্বর ২০১১ 
  • The Nobel Prize in Literature 1913, The Nobel Foundation, সংগৃহীত ১৪ আগস্ট ২০০৯ 
  • Tagore and Einstein—A Conversation, School of Wisdom (প্রকাশিত ২৮ জুন ২০১০), ২০১০, সংগৃহীত ৭ জুলাই ২০১৩ 
  • "History of the Tagore Festival", Tagore Festival Committee (University of Illinois at Urbana-Champaign: College of Business), সংগৃহীত ২৯ নভেম্বর ২০০৯ 

বহিঃসংযোগ