রাজবংশী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাজবংশী
রাজবংশী
Koch Rajbongshi Traditional Costume.jpeg
পাটানী পরিহিতা রাজবংশী নারী
মোট জনসংখ্যা
আনু. ১৬ – আনু. ১৮ মিলিয়ন
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চল
 ভারত

 বাংলাদেশ

   নেপাল
ভারতআসাম = ৬৯,০০,০০০[১]

পশ্চিমবঙ্গ = ৭০,০০,০০০ উত্তরবঙ্গের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০% বিহার = ৬০,০০,০০

মেঘালয় = ২১,৩৮১[২]
বাংলাদেশ৫০০০+ (১৯৯১)[৩]
নেপাল১১৫,২৫২ (২০১১)[৪]
ধর্ম
হিন্দু, ইসলাম[৫] [৬]
সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী
কোচ মেচ গারো রাভা

রাজবংশী বা কোচ রাজবংশী বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল, রাজশাহী অঞ্চল ও ,ভারতের পশ্চিমবঙ্গর ছয় জেলা, তথা কোচবিহার, জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার জেলা, দার্জিলিং জেলার সমতল অঞ্চল, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুরমালদহ জেলার কিছু অংশে এরা বিদ্যামান বর্তমানে সমগ্র রাজ্যেই এদের দেখতে পাওয়া যায়। তাছাড়া, অসম এর গোয়ালপাড়া, ধুবড়ী, মেঘালয় ও নেপালের ঝাপা জেলাতেও এদের উল্লেখ পাওয়া যায়।[৩][৭] কিছু সংখ্যায় এই গোষ্ঠীর লোকেরা বগুড়াময়মনসিংহ জেলাতেও আছে। ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে এদের মোট জনসংখ্যা পাঁচ হাজারের একটু বেশি।[৩] কিছু ঐতিহাসিকদের মতে, রাজবংশী এবং কোচ একই, কিন্তু অনেক ঐতিহাসিকরা মনে করেন কোচ ও রাজবংশীরা আলাদা । ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, ভারতের কোচবিহার অঞ্চল থেকে আগত মঙ্গোলীয় নৃ-গোষ্ঠী কোচ জাতির অংশ।[৮][৯]। মধ্য যুগে উত্তরবঙ্গের রাণী ফুলটুসী বর্মন ভূটান রাজাকে পরাস্ত করে যুদ্ধজয়ের কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পদাধিকারী কৈবর্ত বাঙালীদের রাজাদের বংশজাত বা রাজবংশী বলে সম্মানিত করেছিলেন ৷[১০] এ থেকে তারা রাজবংশী নামে পরিচিত হয়। রাজবংশীরা খর্বকায়, লম্বা, চ্যাপ্টা নাক, ছোটো চোখ, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ। এরা প্রধানত শিবভক্ত ও বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী, এবং পিতৃ-প্রধান পরিবার। অনেকে প্রকৃতি উপাসক এবং পাহাড়, নদী, বন ও মাটি পূজা করে থাকে।এক কথায় এরা জড়োপাসক বা প্রকৃতির উপাসক। খরা, অনাবৃষ্টি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হুদুমা পূজা, ব্যাঙের বিয়ে, প্রভৃতি রাজবংশীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান।[৩] পেশায় এরা প্রধানত কৃষক ও স্বাধীন কর্মের বিশ্বাসী। এরা সরল প্রকৃতির এবং স্বাধীনচেতা মনভাবের মানুষ।[১১]

রাজবংশীদের জাতির মানুষ জনের নিজস্ব ভাষা এবং সংস্কৃতি রয়েছে । এদের ভাষা হল কামতাপুরী-রাজবংশী ভাষা। । পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ভাষাকে স্বীকৃতি দিলেও, এই ভাষাটি ভারতের অষ্টম তপশিলে এখনও স্থান পায়নি । এদের ভাওয়াইয়া সংগীত ভারতবর্ষের অন্যতম সুনামধন্য সংগীত।[৩] ভারতের কোচবিহার থেকে রাজবংশী ভাষায় দোতরার ডাং নামের সাময়িকী প্রকাশ হয় ১৪১৭ বঙ্গাব্দ থেকে। রাজবংশীদের পদবি গুলি হল রায়,বর্মা,দাস,বর্মন,ঘোষ,মন্ডল,সরকার, রাজবংশী,কর্ম,অধিকারী। [১২] পশ্চিমবঙ্গে রাজবংশী ভাষা একাডেমী গঠন হয়েছে।[১৩] কামতাপুরী- রাজবংশী ভাষায় লেখা কবিতা , গল্প , গান রচনা ক্রমশ বৃদ্ধি চলছে । রাজবংশী গান ক্রমশ এতত এলাকার মানুষের হৃৎস্পন্দন হয়ে উঠেছে । রাজবংশীর জাতির সমস্তরকম অনুষ্ঠানেই বাজে এসব মনোরম গান । তবে আজকাল বেশ কিছু আধুনিক গান সৃষ্টি হয়েছে যেগুলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে । যেমন - 'ও মাই সুন্দরী ' , 'ও মুই পাটানি পিন্ধিয়া ', , 'ভূমিপুত্র' , 'হামার উত্তরবাংলা আসিয়া যাও' , 'মনের হাউসে পিন্ধিনু পাটানি', 'সোনার জীবন', 'নদীর পাড়ত ঘর বান্দিয়া ', 'পিরিত নামের ফুল ফোটালু' "পরান কান্দে","কি সুন্দর মুখখান তোর" ।রাজবংশী

== উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ==<ref=http://www.bbc.co.uk/bengali/multimedia/2015/02/150220_mb_gaangolpo_indramohan_rajbangshi%7Cওয়েবসাইট=বিবিসি বাংলা|সংগ্রহের-তারিখ=৬ এপ্রিল ২০১৫|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20150314041540/http://www.bbc.co.uk/bengali/multimedia/2015/02/150220_mb_gaangolpo_indramohan_rajbangshi%7Cআর্কাইভের-তারিখ=৬ এপ্রিল ২০১৫}}</ref>

  • চিলারায়, কোচ রাজবংশের সেনাপতি
  • পঞ্চানন বর্মা, রাজবংশী নেতা ও সমাজসংস্কারক
  • স্বপ্না বর্মণ, ভারতীয় এ্যাথলেট
  • ললিত রাজবংশী, নেপালি ক্রিকেটার
  • গায়ত্রী দেবী, জয়পুরের মহারানী
  • মৌনী রায়, ভারতীয় অভিনেত্রী
  • শরৎ চন্দ্র সিংহ, ভারতীয় রাজনীতিবিদ
  • ধনেশ্বর রায়, বঙ্গরত্ন প্রাপক ভাওয়াইয়া শিল্পী ।
  • অতুল রায় কেপিপি-র প্রতিষ্ঠাতা, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ।
  • বংশীবদন বর্মন GCPA-র প্রতিষ্ঠাতা এবং রাজবংশী ভাষা একাডেমির প্রথম সভাপতি, ভারতীয় রাজনীতিবিদ।
  • পার্থ প্রতিম রায় কুচবিহার কনস্টিটিউশন এর প্রাক্তন সাংসদ, নর্থবেঙ্গল বাস ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বর্তমান সভাপতি, কোচবিহার জেলার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি এবং ভারতীয় রাজনৈতিকবিদ।
  • নিশীথ প্রামানিক বর্তমান কোচবিহার লোকসভা আসনের সংসদ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ভারতীয় রাজনীতিবিদ।
  • সুনীল চন্দ্র বর্মন প্রাক্তন পঞ্চায়েত (কুচনী), বিরোধীদলীয় নেতা (বড়শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েত), সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ।
  • হিতেন বর্মন কোচবিহারের লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ, শীতলকুচি বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক, বর্তমানে কোচবিহার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি, সমাজসেবক, ভারতীয় রাজনীতিবিদ।
  • বিনয় কৃষ্ণ বর্মন প্রাক্তন স্কুল শিক্ষক, প্রাক্তন বনমন্ত্রী, মাথাভাঙ্গা বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক, কুচবিহার জেলার তৃণমূল কংগ্রেস দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি, সমাজসেবক, ভারতীয় রাজনীতিবিদ।
  • ধর্মনারায়ন বর্মা পদ্মশ্রী প্রাপক,কামতাপুরি ভাষা ও সাহিত্য গবেষক,কোচবিহার জেলা।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Kaushik Deka (২৭ মে ২০১৬)। "Narendra Modi may turn Assam into a tribal state"India Today। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৯ 
  2. "Census 2011 – Meghalaya" (PDF)Registrar General and Census Commissioner of India। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৯ 
  3. আহমদ রফিক (২০১২)। "রাজবংশী"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743 
  4. "www.indigenousvoice.com indigenous peoples rajbansi"। ১৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ 
  5. Marginal Muslim Communities in India edited by M.K.A Siddiqui pages 74-89
  6. Haque, Md. Jarirul (২০১৭)। "SOCIO-CULTURAL TRANSITION OF THE MUSLIMS IN COOCH BEHAR FROM THE REIGN OF THE KOCH KINGS TO MODERN AGE"International Journal of Interdisciplinary Research in Arts and Humanities2: 211–216। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. চক্রবর্তী, সঞ্জয় (২ ফেব্রুয়ারি)। "মমতার আসন্ন সফরে লক্ষ্য রাজবংশী-আদিবাসীরা"। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |year= / |date= mismatch (সাহায্য)
  8. "সম্প্রদায় এক, দাবি ভিন্ন"banglanews24.com। ২০১৫-১১-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-০৮ 
  9. "রাজবংশী জাতিগোষ্ঠী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়, বাঙালি"Jugantor (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১০-০৮ 
  10. "রাজবংশী, কামতাপুরী কি আলাদা ভাষা"notunprithivi.com। ২০২১-০৮-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-২৪ 
  11. হানিফ, রানা (২২ মার্চ ২০১৪)। "ধলেশ্বরী ও রাজবংশী বিলুপ্তির পথে"। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৫ 
  12. "রাজবংশী ভাষার পত্রিকা 'দোতরার ডাং'"। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৫ 
  13. সংবাদদাতা, নিজস্ব। "রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতিতে আশা"www.anandabazar.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৮-২৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]